Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 22

Mad for you 2 part 22

Mad for you 2 part 22
তানিয়া খাতুন

দিনভর পরিশ্রমের শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় ফিরল নীল।
সন্ধ্যা অনেক আগেই নেমেছে। শহরের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে এলেও তার শরীরের ক্লান্তি যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সকাল থেকে গ্যারেজে এক মুহূর্তের জন্যও অবসর মেলেনি।
একের পর এক গাড়ির কাজ, মালিকদের তাড়া, আর সেই সঙ্গে নিজের পড়াশোনার চিন্তা—সব মিলিয়ে জীবনটা যেন একটানা ছুটে চলা একটি চাকার মতো।
তবুও নীলের কোনো অভিযোগ নেই।
কারণ সে জানে, জীবনে দাঁড়াতে হলে তাকে এই পথ দিয়েই এগোতে হবে।
একটি পুরোনো ভবনের তৃতীয় তলায় ছোট্ট দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকে সে।
জায়গাটা খুব বড় নয়, আসবাবপত্রও সামান্য। তবুও এই ছোট্ট ঘরটুকুই তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন আশ্রয়।
সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পকেট থেকে চাবি বের করল নীল।

দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই যেন কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেল।
সারাদিনের ক্লান্তির পর নিজের ঘরে ফেরার অনুভূতির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না।
দরজা বন্ধ করে সে গায়ের শার্ট খুলে ফেলল। প্রচণ্ড গরমে জামাটা ঘামে ভিজে গেছে।
শার্টটি পাশের সোফার উপর ছুড়ে রেখে ফ্যান চালিয়ে দিল।
ঘরের নিস্তব্ধ বাতাসে ফ্যানের ঘূর্ণনের শব্দ ছড়িয়ে পড়ল।
তারপর একটি চেয়ার টেনে বসে মাথাটা পেছনে হেলিয়ে চোখ বন্ধ করল।
মুহূর্তের জন্য মনে হলো, এভাবেই যদি কিছুক্ষণ বসে থাকতে পারত!
কিন্তু সেই বিশ্রাম বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
চোখ খুলতেই সে দেখতে পেল, তার সামনে একটি ঠান্ডা শরবতের গ্লাস ধরা।
নীল একবার গ্লাসের দিকে, তারপর গ্লাস ধরে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকাল।
পরিচিত মুখটি দেখেই তার ঠোঁটের কোণে বিরক্তির হাসি ফুটে উঠল।
মেয়েটি দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে, যেন এ বাড়িরই একজন সদস্য।
নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— “তোমাকে কতবার বলেছি, আয়েশা, এভাবে যখন-তখন আমার ফ্ল্যাটে আসবে না?”
লোকজন দেখলে খারাপ ভাববে।”
আয়েশা ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ বাঁকাল।
— “আরে, খারাপ ভাবার কী আছে? আমার মনে তো কোনো খারাপ কিছু নেই!”
নীল ভ্রু তুলে তাকাল।
— “তোমার মনে কী আছে, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি।”
আয়েশা মুচকি হেসে শরবতের গ্লাসটা তার হাতে ধরিয়ে দিল।
নীল গ্লাসটা টেবিলে রেখে উঠে দাঁড়াল।
তারপর ধীরে ধীরে আয়েশার দিকে এগিয়ে গেল।
— “তোমার কাছে যে বাড়তি চাবিটা আছে, সেটা ফেরত দাও।”
কথাটা শুনে আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে দুই কদম পিছিয়ে গেল।
— “কেন দেব?”
— “কারণ তোমার যখন-তখন এখানে চলে আসার অভ্যাসটা বন্ধ করা দরকার।”
আয়েশা আরও পিছিয়ে যেতে যেতে বলে,
— “আমি তো কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে আসি না!”
নীল এবার তার সামনে এসে দাঁড়ায়।
দুই পাশে হাত রেখে আয়েশাকে আটকে দেয়।
তারপর সামান্য ঝুঁকে নিচু গলায় বলে,

— “সত্যি?”
আয়েশার বুক ধকধক করতে লাগল।
নীল আরও একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে,
— “একটা অবিবাহিত ছেলের ফ্ল্যাটে তুমি যখন তখন চলে আসো, ইচ্ছেমতো ঘোরাঘুরি করো, রান্নাঘর থেকে শুরু করে আমার ঘর পর্যন্ত সব জায়গায় রাজত্ব করো…”
তার ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
— “আর এখন বলছো তোমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই?”
আয়েশার গাল লাল হয়ে যায়।
কিন্তু সে হার মানার মেয়ে নয়।
দুই হাত তুলে নীলের কাঁধে রাখে।
তারপর চোখে চোখ রেখে বলে,

— “আছে তো।”
নীল বিস্মিত হয়ে ভ্রু তুলল।
— “ওহ? কী উদ্দেশ্য?”
আয়েশা বিন্দুমাত্র লজ্জা না পেয়ে উত্তর দেয়,
— “তোমাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করব।”
কথাটা বলে সে নিজেই হেসে ফেলল।
নীল মাথা নেড়ে হাসল।
— “তোমার চিকিৎসা দরকার।”
— “তোমাকেই তো বিয়ে করে সেই চিকিৎসা করাবো।”
— “আল্লাহ!”
নীল কপালে হাত ঠেকাল।
মেয়েটার সঙ্গে তর্ক করে কোনো লাভ নেই।
সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই—
দরজার বেল বেজে উঠল।
দুজনেই একসঙ্গে চমকে তাকাল।
আয়েশা বিস্মিত হয়ে তাঁকিয়ে থাকে।
এই সময়ে সাধারণত কেউ আসে না।
আর নীলের পরিচিত মানুষের সংখ্যাও খুব বেশি নয়।
সে কৌতূহলী হয়ে বলে,
— “এ সময় আবার কে এলো?”
নীল কিন্তু অবাক হলো না।
বরং তার চোখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি ফুটে উঠল।
যেন সে এই আগমনের অপেক্ষায় ছিল।
ধীরে ধীরে সোফার উপর পড়ে থাকা শার্টটি তুলে গায়ে চাপাল সে।
বোতাম লাগাতে লাগাতে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
আয়েশা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, নীল ইতোমধ্যেই অনুমান করে ফেলেছে বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে।
দরজার সামনে গিয়ে নীল এক মুহূর্ত থামল।
তারপর শান্ত কণ্ঠে বলল,

— “আমি জানি কে এসেছে।”
কথাটি শুনে আয়েশার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল।
সে স্থির দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
দরজার লক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই যা ঘটল, তার জন্য নীল একেবারেই প্রস্তুত ছিল না।
দরজা পুরোপুরি খোলার আগেই ক্ৰিশ এগিয়ে এসে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
এতটাই আকস্মিক ছিল ঘটনাটা যে নীল কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে তার মুখে একটি প্রশান্ত হাসি ফুটে উঠল।
ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা আয়েশা দৃশ্যটা দেখে প্রায় হতবাক হয়ে গেল।
সে চোখ বড় বড় করে ক্ৰিশ আর নীলের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার জানা অনুযায়ী, কলেজ জীবনে ক্ৰিশ আর নীলের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া-মারামারি হয়েছে।
নীলের মুখে সে বহুবার ক্ৰিশের নাম শুনেছে, কিন্তু সেই গল্পগুলোতে কখনো এমন কোনো সম্পর্কের ইঙ্গিত ছিল না।
তাই আজ হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে তার মাথায় কিছুই ঢুকছিল না।
মনে হচ্ছিল, সে যেন কোনো গল্পের মাঝখানে এসে শেষ অধ্যায়টা দেখে ফেলেছে।
নীল হালকা হেসে ক্ৰিশের পিঠে হাত রাখল।

— “ভেতরে আয়।তোর কথাই ভাবছিলাম।”
ক্ৰিশ আলিঙ্গন ছেড়ে সরে দাঁড়াল।
তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রুহির দিকে তাকিয়ে নীলের চোখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
সে সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে,
— “আসসালামু আলাইকুম, ভাবি।”
রুহি মৃদু হেসে সালামের জবাব দিল।
কিন্তু তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ক্ৰিশ সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকে ফেলল।
— “তোর ভাবি হয়!”
নীল একটুও বিচলিত হয়না।
বরং গম্ভীর মুখে বলে,
— “তুই বললে আমি আম্মু ডাকব। এত উত্তেজিত হচ্ছিস কেন?”
কথাটা শুনে রুহি মুখ চেপে হাসল।
আর ক্ৰিশ বিরক্ত মুখে মাথা নাড়ল।
— “একটা থাপ্পড় দেবো চুপ করে যাবি।”
— “অনেক খেয়েছি। নতুন কিছু বল।”
আয়েশা বিস্মিত হয়ে দুজনের কথোপকথন শুনছিল।
এতক্ষণে তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে, এদের সম্পর্ক সাধারণ বন্ধুত্বের চেয়ে অনেক গভীর।
ক্ৰিশ হঠাৎ আয়েশার দিকে তাকায়।
তারপর ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলে,

— “যাই হোক, তুই কি বিয়ে করে ফেলেছিস?”
কথাটা বলে সে চোখের ইশারায় আয়েশার দিকে দেখাল।
আয়েশার গাল মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল।
সে অপ্রস্তুত হয়ে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর দ্রুত প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য রুহির কাছে এগিয়ে যায়।
মুখে মিষ্টি হাসি এনে বলে,
— “তুমি অনেক সুন্দর… মানে, অনেক মিষ্টি। চলো আমার সঙ্গে ।”
রুহি প্রথমে একটু ইতস্তত করল।
তারপর ক্ৰিশের দিকে তাকাল।
ক্ৰিশ চোখের ইশারায় সম্মতি দিতেই সে আয়েশার সঙ্গে পাশের ঘরের দিকে চলে গেল।
দুজন মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় বসে পড়ল।
ক্ৰিশও তার পাশে গিয়ে বসল।
তারপর নীলের কাঁধে হাত রেখে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে বলে,

— “তলে তলে এত কিছু হয়ে গেছে?”
নীল সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে।
— “তুই ভুল ভাবছিস।”
— “তাই নাকি?”
— “হ্যাঁ। ও শুধু আমাকে সাহায্য করে। বন্ধু বলতে যা বোঝায়, সেরকমই।”
ক্ৰিশ সন্দেহভরা চোখে তাকাল।
— “বন্ধু?”
— “হ্যাঁ।”
— “যে মেয়ে তোর ফ্ল্যাটের বাড়তি চাবি নিয়ে ঘোরে?”
নীল কাশতে শুরু করল।
— “যে মেয়ে তোর জন্য শরবত বানিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয়?”
নীল মুখ ঘুরিয়ে নিল।
— “তুই প্রসঙ্গ পাল্টা।”
— “আর যে মেয়ে তোর সামনে দাঁড়িয়ে নির্দ্বিধায় বলে, ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করবে?”
নীল এবার সত্যিই অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

— “সব শুনেছিস নাকি?”
— “দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অর্ধেক শুনেছি।”
ক্ৰিশের হাসি আরও চওড়া হয়ে উঠল।
নীল বিরক্ত হয়ে কুশন ছুড়ে মারল তার দিকে।
— “যা হোক, আমার কথা থাক। ওদিকের খবর বল।”
ক্ৰিশ সোফার পিঠে হেলান দিল।
তার চোখে তখন আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক।
— “সবুর কর।”
— “মানে?”
— “সবে তো হালকা একটা থ্রেট দিয়ে এলাম।”
নীল ভ্রু তুলল।
— “তারপর?”
ক্ৰিশ ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলে,
— “তারপর ধীরে ধীরে খেলা এগোবে।”
কথাটা বলে সে একবার পাশের ঘরের দিকে তাকাল, যেখানে রুহি আর আয়েশার কথা বলার ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছে।

ভাত আর মুরগির ঝোল রান্না করে ছিল ক্ৰিশ আর নীল।
খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই বসে গল্প করছিল।
এই অল্প সময়ের মধ্যেই রুহি আর আয়েশার মধ্যে বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।
দু’জনে পাশাপাশি বসে ফিসফিস করে কী সব কথা বলছে, আর মাঝেমধ্যেই হেসে উঠছে।
তাদের হাসির শব্দে পুরো ঘরটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে নীল আর ক্ৰিশ‌ও নানা বিষয়ে কথা বলছিল।
তবে কথার মাঝেও ক্ৰিশের চোখ বারবার রুহির দিকেই চলে যাচ্ছিল।
রুহি যখন হাসছিল, তখন সে তাকিয়ে থাকছিল।
রুহি যখন কথা বলছিল, তখনও সে তাকিয়ে থাকছিল।
ব্যাপারটা নীলের চোখ এড়াল না।
সে মুচকি হেসে মনে মনে বলে,
— “ভাইয়া তো পুরো শেষ!”
ঠিক তখনই আয়েশার ফোন বেজে উঠল।
ফোনের স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে সে উঠে দাঁড়াল।

— “আচ্ছা রুহি, আজ তাহলে আসি। কাল আবার আসব।”
— “ঠিক আছে, কাল এসো।”
নীল সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে,
— “না আসলে আরও খুশি হবো।”
আয়েশা চোখ রাঙিয়ে তার দিকে তাকাল।
— “আপনার মতামত কেউ চায়নি।”
তারপর ক্ৰিশের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,
— “আসি ভাইয়া।”
ক্ৰিশ‌ও হেসে মাথা নাড়ল।
— “আচ্ছা, কাল আবার এসো। রুহি একা থাকবে।”
এরপর নীলের দিকে তাকিয়ে বলে,
— “ওকে এগিয়ে দিয়ে আয়।”
নীল মুখ কুঁচকে উঠে দাঁড়াল।

— “এই মেয়েটা সাংঘাতিক! পাশের ফ্ল্যাটেই থাকে, তবুও আমাকে দারোয়ানের চাকরি করতে হবে!”
কথাটা বলেই দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
আয়েশা যাওয়ার সময়ও তাকে একটা বিরক্ত দৃষ্টি উপহার দিতে ভুলল না।
দু’জনে বেরিয়ে যেতেই ঘরটা অনেকটা নীরব হয়ে গেল।
ক্ৰিশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।
তারপর উঠে এসে রুহির পাশে বসল।
গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
— “কিছুদিনের জন্য এই বাসাটাই মানিয়ে নাও। তারপর আমি একটা ভালো বাসা খুঁজব।”
রুহি অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।
— “আমার তো এখানে বেশ ভালোই লাগছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।”
ক্ৰিশ মাথা চুলকাল।
মনে হলো অন্য কিছু বলার জন্যই এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল।

— “বলছিলাম কি… তোর কোনটা বেশি পছন্দ?”
— “কী?”
— “স্ট্রবেরি না চকোলেট?”
রুহি আরও অবাক হয়ে গেল।
— “দুটোই। কেন?”
ক্ৰিশ ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে একটু ঝুঁকে এল।
— “রুমে চলো। দুটোই এনেছি।”
রুহি ভ্রু কুঁচকে তার কথার মানে বোঝার চেষ্টা করল।
ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্ৰিশ হঠাৎ তাকে কোলে তুলে নিল।
রুহি চমকে উঠে ক্ৰিশের কাঁধ আঁকড়ে ধরল।
— “কী করছেন? নামান আমাকে!”
ক্ৰিশ নির্বিকার।
— “হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে আমার।”
— “আপনার কষ্ট হচ্ছে বলে আমি কোলে উঠব কেন?”
— “কারণ আমি চাই তাই।”

রুহি বিরক্ত হয়ে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই দরজা খুলে নীল ভেতরে ঢুকল।
আর ঢুকেই সামনে দৃশ্যটা দেখে থমকে গেল।
কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে থেকে ঠোঁট চেপে হাসল।
— “ওহ্… আমি ভুল সময়ে চলে এসেছি মনে হয়।”
নীল দু’হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে বলে,

Mad for you 2 part 21

— “ক্যারি অন। আমি কিছুই দেখিনি।”
কথাটা বলেই নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দিল।
রুহি লজ্জায় ক্ৰিশের বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে ফেলে।
তার কানদুটো লাল হয়ে উঠেছে।
ক্ৰিশ বিজয়ীর হাসি হেসে রুহিকে নিয়ে ধীরে ধীরে শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
ক্ৰিশঃ সব হা করে তাঁকিয়ে আছো কেনো😒 হ্যাঁ তোমাদের কেই বলছি পাঠক পাঠিকারা চোঁখ বন্ধ করো আমার মুড আসছে

Mad for you 2 part 23

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here