Mad for you 2 part 23
তানিয়া খাতুন
ক্ৰিশের মুখখানা তখন একেবারে বাংলার পাঁচের মতো হয়ে আছে।
বিছানার ওপর বই, খাতা, নোট—সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
চারপাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেছে।
আর এই বিশৃঙ্খলার মূল কারণ ক্ৰিশ নিজেই।
নিজের বিষয় ঠিকমতো বলতে না পারায় রুহিকে একের পর এক বই খুঁজে বের করতে হয়েছে।
কোন খাতায় কী আছে, কোন বইয়ে কোন অধ্যায়—সব মিলিয়ে রুহির অবস্থা প্রায় নাজেহাল।
তবুও সে হাল ছাড়েনি।
শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বই-খাতা খুঁজে বের করে ক্ৰিশ কে নিয়ে বসেছে।
তার একটাই লক্ষ্য—যেভাবেই হোক ক্ৰিশ কে সামনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
অন্যদিকে ক্ৰিশের মুখ দেখে মনে হচ্ছে তাকে পড়াশোনা নয়, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পড়াশোনার প্রতি তার অনাগ্রহ নতুন কিছু নয়।
বহু আগেই সে বুঝে গিয়েছিল যে এই জিনিসটি তার জন্য নয়।
নইলে কলেজে এতদিন ধরে পড়ে থেকেও এতবার ফেল করার রেকর্ড গড়তে পারত না!
বিরক্ত হয়ে সে বালিশে হেলান দিয়ে বলে,
— “কী হচ্ছে এসব, বাটারফ্লাই? আমি এখন পড়ার মুডে নেই।
আর আমার পড়ারও দরকার নেই। আমি সব জানি।”
রুহি তখন বইয়ের একটি অংশ বুঝিয়ে দিচ্ছিল।
ক্ৰিশের কথা শুনে সে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “তাই নাকি?”
— “অবশ্যই।”
— “তাহলে বলুন তো, পানিপথের যুদ্ধ কবে হয়েছিল?”
প্রশ্ন শুনে ক্ৰিশের র আত্মবিশ্বাস মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে গেল।
মুখের ভাব দেখে মনে হলো কেউ তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বদলে মহাকাশবিজ্ঞানের প্রশ্ন করে ফেলেছে।
কিছুক্ষণ মাথা চুলকে সে বলে,
— “আচ্ছা মুশকিল তো! আমি কি তখন জন্মেছিলাম যে জানব?”
রুহি এবার চোখ রাঙিয়ে তাকাল।
— “আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি।”
ক্ৰিশ দ্রুত সোজা হয়ে বসল।
তারপর গম্ভীর মুখ করে বলে,
— “শোনো, যেদিন পানির মধ্যে পথ তৈরি হয়েছিল, সেদিনই পানিপথের যুদ্ধ হয়েছিল।
এত সহজ জিনিসও জানো না!”
কথাটা বলেই সে নিজেই নিজের উত্তরে খুশি হয়ে মাথা নাড়ল।
রুহি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর কপালে হাত ঠেকিয়ে বলে,
— “আল্লাহ! আপনি সত্যিই অসাধারণ!”
— “জানি।”
— “না, আপনি যা ভাবছেন সেটা বলিনি।”
ক্ৰিশের হাসি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
রুহি বই বন্ধ করে তার দিকে তাকাল।
— “আপনি কি আমার শর্ত ভুলে যাচ্ছেন?”
আগে পড়া তারপর বাসর…..
শর্তের কথা শুনেই ক্ৰিশের মুখের রঙ পাল্টে গেল।
সে তড়াক করে সোজা হয়ে বসল।
— “না না! ভুলিনি। একদম ভুলিনি।”
— “তাহলে?”
— “আমি পড়ব। মন দিয়ে পড়ব।”
রুহি মুচকি হাসল।
তারপর বইয়ের একটি পাতা খুলে ক্ৰিশের সামনে ধরল।
— “এই নিন। এই দুই পাতা প্রশ্নোত্তর আগে মুখস্থ করুন।”
ক্ৰিশ অসহায় মুখে পাতার দিকে তাকাল।
— “দুই পাতা?”
— “হ্যাঁ।”
— “এক পাতায় হবে না?”
— “না।”
— “অর্ধেক?”
— “না।”
— “এক লাইন?”
রুহি এবার হাসি চেপে রাখতে পারল না।
ক্ৰিশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বই হাতে তুলে নিল।
মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজটি আজ তাকে দিয়েই করানো হচ্ছে।
রুহি খাতা খুলে কিছু নোট লিখতে শুরু করে।
লিখতে লিখতে একসময় সে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে।
অজান্তেই কলমটি ঠোঁটের কাছে তুলে নিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে যায়।
ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্ৰিশের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হয় তার ওপর।
রুহির ঠোঁটের কাছে ধরা কলমটি দেখে ক্ৰিশের মনে অদ্ভুত এক হিংসা জেগে ওঠে।
মুহূর্তের মধ্যেই সে নিজের বইটি পাশে সরিয়ে রেখে রুহির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
তারপর হঠাৎ করেই তার হাত থেকে কলমটি টেনে নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং নিজের অধর দুটি রুহির অধরের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়।
এই আকস্মিক ঘটনায় রুহি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল।
বিস্ময়ে তার শরীর পিছনের দিকে হেলে পড়ে।
ক্ৰিশ সেই সুযোগটুকু হাতছাড়া করল না।
সে রুহিকে আলতোভাবে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার পিঠ জড়িয়ে ধরে রাখল।
তার আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, যেন সে কোনো গভীর মোহে হারিয়ে গেছে।
রুহির শ্বাসপ্রশ্বাস ধীরে ধীরে অস্থির হয়ে উঠল।
সে বিছানার চাদর শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরল।
অন্য হাতটি অজান্তেই গিয়ে জড়িয়ে ধরল ক্ৰিশের চুল।
সম্ভবত এটাই ছিল প্রথমবার, যখন রুহি নীরব সাড়া দিচ্ছে যা আরও সাহসী করে তুলেছিল ক্ৰিশকে।
চারপাশে ছড়িয়ে থাকা বইপত্রগুলো একে একে পাশে সরিয়ে দিতে দিতে সে রুহির আরও কাছে চলে আসে।
ব্যস্ত হাতে রুহির নাইটড্রেসের ফিতেটিতে টান দিতেই ক্ৰিশের চোখের সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়ল নারীত্বের সেই মোহনীয় সৌন্দর্য।
মুহূর্তের জন্য ক্ৰিশ স্থির হয়ে গেল।
তার চোখে যেন নেমে এলো এক অদ্ভুত ঘোর।
কিন্তু তাতেও তার তৃষ্ণা মিটল না।
অবশিষ্ট ফিতেটিও খুলে দিয়ে সে রুহির আরও কাছে ঝুঁকে এল, যেন বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা তাকে সমস্ত সংযম ভুলিয়ে দিয়েছে।
রুহির নিঃশ্বাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছিল।
বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন এমন তীব্র হয়ে উঠেছিল
যে মনে হচ্ছিল সেটি বুঝি বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে।
লজ্জা, সংকোচ, অনুভূতি—সব মিলিয়ে সে এক অদ্ভুত আবেগের ঘূর্ণাবর্তে আটকে গিয়েছে।
কাঁপা কণ্ঠে সে ফিসফিস করে বলে,
— আর এমন করবেন না… প্লিজ…
ক্ৰিশ মুখ তুলে তার চোখের দিকে তাকাল।
সেই দৃষ্টিতে ছিল না কোনো রাগ, না কোনো তাড়াহুড়ো।
বরং সেখানে ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা আকুলতা, অব্যক্ত অনুভূতির ভার, আর প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাওয়ার গভীর বাসনা।
ক্ৰিশের চোখের ভাষা পড়তে পেরে রুহির সমগ্র শরীরে শিহরণ বয়ে গেল।
তার আঙুলগুলো বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরল।
চোখ দুটি বারবার নত হয়ে আসছিল, অথচ ক্ৰিশের দৃষ্টি থেকে নিজেকে সরিয়েও নিতে পারছিল না।
ক্ৰিশ মৃদু স্বরে বলে,
— আজ তোমার এই নীরব সম্মতি পেয়ে নিজেকে ভীষণ বেপরোয়া মনে হচ্ছে, বাটারফ্লাই।
শুধু একবার একবার থামাস না। তারপর তোকে আর কোনো কষ্ট পেতে হবে না।
কথাগুলো শুনে রুহির গাল লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল।
সে ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে ফেলল। তার নীরবতা যেন হাজারো শব্দের চেয়েও বেশি কিছু বলে দিল।
সেই নীরব সম্মতিকেই যেন উত্তর ভেবে ক্ৰিশ আরও কাছে ঝুঁকে এল।
তাদের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমশ মুছে যেতে লাগল। ঘরের নিস্তব্ধতা আরও গভীর হয়ে উঠল, আর চারপাশের পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলল।
রুহির সমস্ত মনোযোগ তখন ক্ৰিশের উপস্থিতিতে আবদ্ধ।
তার শরীরের প্রতিটি স্নায়ু উত্তেজনা আর সংকোচের মিশ্র অনুভূতিতে কেঁপে উঠছিল।
কখনও সে চোখ বন্ধ করছিল, কখনও আবার ক্ষণিকের জন্য চোখ খুলে ক্ৰিশের দিকে তাকাচ্ছিল।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে পকেটে হাত ঢুকিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি বের করে নিল।
তারপর আর কোনো কথা না বলে আবারও নিজের অধর মিলিয়ে দিল রুহির অধরে।
মুহূর্তটি দীর্ঘ হতে লাগল।
চারপাশের নিস্তব্ধতা যেন তাদের দুজনকে ঘিরে আরও গভীর হয়ে উঠল।
ক্ৰিশের দুই হাত ধীরে ধীরে চলে গেল রুহির বক্ষবিভাজনের দিকে।
তার স্পর্শে রুহির সমগ্র দেহ কেঁপে উঠল। এতক্ষণ যে পরিবেশ শান্ত ও স্থির ছিল, তা ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠতে লাগল।
নিস্তব্ধ রাতের মধ্যে শুধু তাদের দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।
ক্ৰিশের হাত বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছিল নারীর দেহের স্পর্শকাতর স্থানগুলো।
প্রতিটি স্পর্শে রুহির ভেতরে এক অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছিল।
লজ্জা, সংকোচ, অস্বস্তি আর অজানা অনুভূতির মিশ্রণে সে যেন নিজেকেই চিনতে পারছিল না।
একসময় ব্যথায় মেয়েটি ক্ৰিশের পিঠ খামচে ধরে কাঁপা কণ্ঠে বলে,
— না… প্লিজ…
তার কণ্ঠে ছিল অনুরোধ, ছিল অসহায়তা। চোখ দুটি শক্ত করে বন্ধ করে সে মাথা নাড়ল।
কিন্তু ক্ৰিশ তখনও আবেগে আচ্ছন্ন।
রুহির কপালের পাশে মুখ এনে মৃদু স্বরে বলল,
Mad for you 2 part 22
— মাঝপথে থামিয়ে দিস না, বাটারফ্লাই।
আমি মরে যাব… আর একটু সহ্য কর…
তার কণ্ঠে ছিল আকুতি, ছিল গভীর আবেগের ছাপ।
বাইরে রাত আরও গভীর হচ্ছিল, আর তাদের মধ্যকার অনুভূতির টানাপোড়েনও ততটাই তীব্র হয়ে উঠছিল।
