Home mad for you mad for you part 34

mad for you part 34

mad for you part 34
তানিয়া খাতুন

কেটে গেছে তিন বছর…
সময় তো আর কারও জন্য অপেক্ষা করে না।
কেটে গেছে তিন বছর,
সময় প্রমাণ করেছে—কারও জন্য সে থেমে থাকে না।
দিন মাসে বদলেছে, মাস বছর হয়ে গেছে,
অপেক্ষার ক্যালেন্ডারেও ধুলো জমে গেছে…
রুহি প্রতিদিনের মতো আজও নিজের সব কাজ সেরে কোর্ট থেকে বাড়ি ফিরেছে।
রুমে ঢুকতেই বুকের ভেতরটা হঠাৎ ফাঁকা ফাঁকা লাগল—

অতিরিক্ত নীরবতা, অতিরিক্ত একাকিত্ব।
যেন এই চার দেওয়ালে একটাই জিনিসের অভাব— ক্ৰিশ।
কিন্তু ৱুহি নিজেকে বোঝায় “চাইলে সবকিছু পাওয়া যায় না…
কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ করতেই হয়…”
সোফায় ধপ করে বসে, চোখ দুটো আলতো করে বন্ধ করল সে।
আর সেই চোখ বন্ধ হতেই ক্ৰিশেৱ মুখটাই ভেসে উঠল চোখের সামনে।
ক্ৰিশেৱ সেই হাঁসি…সেই চাহনি… সেই আদরের ধমক… যেন খুব কাছে, তবু কত দূরে।
রুহির বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল—ভালবাসা যত শক্তিশালীই হোক, দূরত্ব নাকি তা কমিয়ে দেয়।
হঠাৎ নিজের ভাবনার মাঝেই রুহির ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাঁসি খেলে গেল।
চোখের সামনে যেন ভেসে উঠল সেই দিন—দুই বছর আগের কথা।
সেদিন সকাল থেকেই খান ম্যানশনে টান টান উত্তেজনা।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ক্ৰিশের পৱীক্ষাৱ ফল প্রকাশ হবে—
আর রুহির বুকটা তখন ঢিপঢিপ করে কাঁপছে।
সে নিজেও তো উদ্বিগ্ন ছিল…
কিন্তু ক্ৰিশের মুখে ছিল অদ্ভুত এক নীরবতা, ভয়ের ছাপ।
রুহি ক্ৰিশকে হাঁসানোর জন্য বারবার বলেছিল—
“আপনি না পারলেও সমস্যা নেই…
আমার কাছে আপনি সবসময় সেরা।”
ক্ৰিশ শুধু একবার তাঁকিয়ে বলেছিল—
“তুই পাশে থাকলে আমি কোনোদিন হারব না।”
তারপর যারা পাশ করেছে, তাদের তালিকায় বেশ উপরে ক্ৰিশেৱ নাম বাৱ হয়।
এক মুহূর্তের জন্যও নিজের উত্তেজনা সামলাতে পারেনি ক্ৰিশ।
সে রুহিকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরতে লাগল—

হাসি, আনন্দ, চিৎকার—
সারা খান ম্যানশন তখন তাদের দু’জনের উৎসবে মুখর।
রুহি তখন বলেছিল—
“নামান, লোকে দেখলে কী বলবে!
ক্ৰিশ হেঁসে বলছিল—
“দেখুক! সবাই আজ আমি আমাৱ রাণীকে নিয়ে
পুরো পৃথিবী জয় করেছি!”
কিন্তু সেই আনন্দের শেষটা ছিল একটু তেতো।
কারণ সেই বিকেলেই ফোন আসে—
ট্টেনিং এৱ জন্য তাকে যেতে হবে দূরে, বহু দূরে।
প্রথমে ক্ৰিশ রেগে গিয়ে বলেছিল—
“এই চাকরি আমার লাগবে না!
আমি আমার বাটারফ্লাই কে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না।”

রুহি দেখেছিল— সেই শক্ত মানুষেৱ ভেতর লুকিয়ে থাকা শিশুর মতো অবুঝ এক মন।
সে ক্ৰিশেৱ হাত শক্ত করে ধরে বলেছিল—
“আপনি যান… দায়িত্ব পালন করুন…
আমি অপেক্ষা করব।”
শেষ অব্দি ৱুহিৱ জেদেৱ কাছে ক্ৰিশ হাৱ মানে।
ভালোবাসা মাঝে মাঝে কাছে রাখে, আবার কখনো দূরত্ব শিখিয়ে দেয়।
আজ এক বছর পর…
আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি—
ক্ৰিশের প্রশিক্ষণ শেষ হবে।
রুহি প্রতিরাত একই স্বপ্ন দেখে ক্ৰিশ‌ এসে তাকে দু’হাত তার জড়িয়ে ধরে বলছে,
“তোমাকে ছাড়া একটা মুহূর্তও ভালো লাগেনি,

আমার লেদু সোনা।”
রুহিও মনে মনে ঠিক করে রেখেছে‌ প্রথম দেখায় আর কোনো কথা নয়…
সে শুধু জড়িয়ে ধরে থাকবে ক্ৰিশ কে যত জোরে পারে, যতক্ষণ না বুকের ধড়ফড়ের শব্দ
এক হয়ে যায় দু’জনের।
ৱুহিৱ হাঁসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে
রুহির ভেতর আবার নিঃশব্দ অপেক্ষা ফিরে আসল।
কিন্তু সে জানে—যে ভালোবাসা সত্যি,
তার প্রত্যাবর্তনও নিশ্চিত।
আর অপেক্ষা যদিও দীর্ঘ—তার প্রতিটা সেকেন্ডেই
লুকিয়ে আছে ফিরে পাওয়ার আনন্দ।

রাত ১২টা ৩০।
পুরো শহর তখন গভীর নিদ্রায় ডুবে আছে।
দূর কোথাও শুধু কুকুরের ডাকে রাতের নিস্তব্ধতা কেঁপে উঠছে মাঝে মাঝে।
রুমের সোফায় গা এলিয়ে রুহি অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ—
প্রতিদিনের অপেক্ষা আর একাকিত্বই যেন তার ওষুধ।
হঠাৎ—

টিং টং…
দরজার বেলের শব্দটা
তার কানে প্রথমে পৌঁছায় না।
কিন্তু শব্দটা থামার নাম নেই— একটা, দুটো নয়,
একে একে অনেকবার!
চমকে উঠে বসে পড়ল রুহি, চোখ ঘষতে ঘষতে
হৃদপিন্ডটা কেমন অস্থির হয়ে উঠল।
এতো রাতে কে? এই বিশাল বাড়িতে
ওর বাবা-মা আৱ সোহান ছাড়া কেউ আসেনা।
আর নিরাপত্তারক্ষীরা তো রাত্রে কখনো বেল বাজায় না।
অজানা এক শীতল ভয় গলা বেয়ে বুক পর্যন্ত নেমে এলো।
তবুও সাহস সঞ্চয় করেরুহি ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল।
শব্দ থেমে গেল হঠাৎ।

নিঃশব্দতা।
আরও বেশি ভয়ংকর।
রুহি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এক সেকেন্ড শ্বাস আটকে রাখল—
তারপর… দরজা খুলে ফেলল।
আর পরক্ষণেই—
ওর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
কেউ নেই।
বারান্দা থেকে বাতাস এসে মাত্র একটা পর্দা দুলিয়ে দিয়ে গেল, কিন্তু মানুষের কোনো ছায়া নেই।
রুহির গায়ে কাঁটা দেয়— কেউ কি মজা করল?
দ্রুত দরজা লক করে দিল সে।
চিন্তা মাথায় ঘুরছে—

“এত রাতে এমন করবে কে?”
মাথা ঠাণ্ডা করতে স্টাডি রুমে চলে গেল রুহি।
বুকশেলফ থেকে একটা বই টেনে বের করল—
মনে হলো গল্প পড়লেই সম্ভবত
মাথা অন্যদিকে যাবে।
কিন্তু হঠাং মনে হলো ৱুমেৱ দৱজাৱ সামনে দিয়ে এ্কটা ছায়া চলে গেল।
এইবার সেটা স্বাভাবিক লাগল না, মনে হলো
কেউ যেন দাড়িয়ে আছে
ঘরের ঠিক বাইরে…

রুহির দুই হাত কাঁপছে। বুকটা ধড়ফড় করছে।
ভয় আর অজানা টেনশনে সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোতে থাকে।
দরজার ফাঁক দিয়ে যেন কারও নিশ্বাসের শব্দ ভেসে আসে।
হঠাৎ—এক ঝটকায় সামনে কেউ দাঁড়িয়ে যায়।
রুহি ভয়ে মুখ দু’হাতে ঢেকে চিৎকার করে ওঠে,
— “ভূত! ভূত! বাঁচাও…!!”
তখনি একটা পরিচিত, গভীর কণ্ঠস্বর ভেসে আসে,

— “Lawyer madam, তাহলেই ভূত দেখে ভয় পান?”
শব্দটা কানে যেতেই রুহির বুকের ধকধক থমকে যায়।
ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে তাকায়… আর স্থির হয়ে যায়।
সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ক্ৰিশ খান।
হাতে একটা ব্যাগ, চোখে সেই চেনা স্মার্ট আত্মবিশ্বাস।
আগের থেকে আরও সুন্দর, আরও আকর্ষণীয় লাগছে তাকে।
চওড়া কাঁধ, ফিট টি-শার্টের ভেতর থেকে গাঢ় শরীরের শক্ত রেখা দেখা যাচ্ছে।
চুলগুলো সুন্দর করে কাটা, মুখে হালকা খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি…
আর তার সেই শিকারির চোখ—যেন রুহিকে গিলেই নেবে।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে রুহিকে বুকে জড়িয়ে নেয়।
গভীর গলায় বলে,

— “অনেক মিস করেছি তোকে… আমার লেদু সোনা।”
রুহির চোঁখ ভিজে ওঠে।
কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে—
— “আমি ভাবতেই পারিনি আজ আপনি আসবেন… আমিও আপনাকে অনেক মিস করেছি, ক্ৰিশ।”
ক্ৰিশ দু’হাতে রুহির মুখ উঁচু করে ধরে।
কপালে এক কোমল চুমু… তারপর চোঁখের কোণে জমে থাকা অশ্রু মুছে দেয়।
পরক্ষণেই— যেন পাগলের মত রুহির পুরো মুখে চুমু খেতে শুরু করে।
গভীর নিশ্বাসে ফেলে বলে—

— “Butterfly… আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে।”
রুহি লজ্জায় কেঁপে উঠে বলে—
— “ঠিক আছে… আমি এখনই পানি এনে দিচ্ছি।”
ক্ৰিশ তার হাত ধরে ফেলে, চোখে দুষ্টু ঝিলিক—
— “এটা পানির তৃষ্ণা না, Butterfly…”
ঠোঁট রুহির কানের কাছে এনে ফিসফিস করে,
— “এটা তোকে পাবার তৃষ্ণা…”
রুহির শ্বাস আটকে যায়…
ঘরটা নিস্তব্ধ…
আর সেই নীরবতার মধ্যেই, তার হৃদয়টা শুধু বলে
ক্ৰিশ ফিরে এসেছে… তার জন্য।
রুহির বুকের ভেতর ধড়ফড়ানি যেন আরও জোরে ধাক্কা মারছে।
ক্ৰিশ দু’হাতে তাকে জড়িয়ে ধরে ধীরে ধীরে দেয়ালের দিকে ঠেলে নেয়।
তাদের চোখ দুটো এক মুহূর্তের জন্যও আলাদা হয় না।
রুহির কণ্ঠ কেঁপে ওঠে—

— “ক্ৰিশ…”
ক্ৰিশ তার ঠোঁটের খুব কাছে এসে থামে।
গরম নিশ্বাস রুহির গালে মিশে যায়।
তার আঙুলের ডগা রুহির চোয়াল বরাবর নামতে থাকে…
ঘাড়ের কাছে এসে থেমে যায়।
— “তুই জানিস না… কতদিন ধরে এই মুহূর্তটার অপেক্ষা করেছি।”
কণ্ঠটা গা শিহরিয়ে দেয়।
রুহির হাত নিজে থেকেই উঠে ক্ৰিশের বুকে থামে।
ফিট টি-শার্টের নিচে কঠিন পেশির ধাক্কা অনুভব হয়।
নরম স্বরে বলে—

— “আমিও… খুব।”
ক্ৰিশ আর দেরি করে না।
ধীরে, কিন্তু অধিকারী ভঙ্গিতে রুহির ঠোঁটে তার ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
চুমুটার মধ্যে যেন রাগ, অভিমান, ভালোবাসা—সবকিছু গলে যাচ্ছে।
রুহির শ্বাস কেঁপে ওঠে।
ক্ৰিশ আরও কাছে টেনে নেয় তাকে।
তার আঙুল দেবে যায় রুহির কোমরের উপর—
হালকা চাপ, যেন তাকে নিজের ভিতরে লুকিয়ে রাখতে চায়।
রুহির মাথা ঘোরে মিষ্টি অনুভূতিতে।
ক্ৰিশ হাঁসে মৃদু দুষ্টুমি নিয়ে, তার ঠোঁট নামতে থাকে
কপাল থেকে…চোখের কোনে… গাল বেয়ে…
ধীরে ধীরে নেমে আসে ঘাড়ে।
রুহির শরীরে কাঁপুনি খেলে যায়।
সে চোখ বন্ধ করে ক্ৰিশের কাঁধে ধরতে থাকে,
আঙুল গুলা শক্ত করে চেপে ধরে যেন তাকে হারাতে ভয় হচ্ছে।
ক্ৰিশ তার কানে ফিসফিস করে—

— “এবার থেকে আৱ কোনো দিন‌ও আমাকে দূৱে পাঠাবি না Butterfly”
রুহি নরম গলায় শুধু একটা শব্দই বলতে পারে—
— “না…”
ঘরটা নরম অন্ধকারে ভরে আছে…দু’জনের শ্বাস, দু’জনের তৃষ্ণা… আর ভালোবাসার আগুন—
শেষ পর্যন্ত জ্বলে ওঠার মুহূর্তে।
ক্ৰিশের ঠোঁট যখন রুহির ঘাড়ে গরম শ্বাস ফেলছিল,
রুহির দুই হাঁটু যেন আর তাকে ধরে রাখতে পারছিল না।
সে ক্ৰিশেৱ বুকে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে।
ক্ৰিশের কণ্ঠ ভারী হয়ে যায়—

— “তোকে ছাড়া প্রতিটা রাত… যন্ত্রণাময় ছিল, Butterfly।”
তার হাতের স্পর্শ অপরাধীর মতো।
কোথায় যাবে, কোথায় থামবে—
একটুও নিয়ম মানে না।
রুহির পিঠ বেয়ে তার আঙুলের আগুন নেমে আসে…
কোমর ছুঁয়ে আবার উঠে যায়…
চুলের ভেতর হাত জড়িয়ে টেনে নেয় তাকে আরও কাছে।
রুহি নিশ্বাস নিতে ভুলে যায়।
চোখ বন্ধ করে শুধু অনুভব করে—
ক্ৰিশের অবাধ্য স্পর্শ তার শরীরের প্রতিটি কোষ কেঁপে উঠছে।
রুহি ফিসফিস করে—

— “আর একদম দূরে নয়…”
ক্ৰিশ তার কথা শেষ করতে দেয় না।
আবাৱো ঠোঁট চাপিয়ে দেয় রুহির ঠোঁটে—
একটা গভীর, অধিকারী চুমু।
যেন নীরব প্রতিশ্রুতি—
রুহির হাত ধীরে ধীরে সরে এসে থামে ক্ৰিশেৱ শার্টের বোতামে।
তার স্পর্শে ক্ৰিশেৱ ঠোঁটে হাঁসি খেলে যায়।
এক মুহূর্তেই ক্ৰিশ টেনে শার্টের বোতাম খুলে ফেলে—
মনে হয় যেন আর কোনো অপেক্ষাই নেই তাদের মধ্যে।
চুম্বনের টানে, নিঃশ্বাসের উষ্ণতায় দু’জন এগিয়ে যায় সোফার দিকে।
আজ যেন বহুদিনের আকুলতা
পেয়ে যায় নিজের ঠিকানা।
ক্ৰিশ আলতো করে রুহিকে বুকে জড়ায়—
তার ত্বকের প্রতিটি ইঞ্চিতে ফুটে ওঠে ক্ৰিশেৱ
ভালোবাসার ভাষা।
রুহির চোখে বিস্ময়, শরীরে কাঁপা কাঁপা স্বীকারোক্তি—
ক্ৰিশের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাসের প্রতিশ্রুতি।
সোফার ওপর তারা হারিয়ে যায়
এক অবাধ ভালোবাসার ভিড়ে।
ক্ৰিশেৱ অন্তরের প্রতিটি দহন আজ রুহিকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে বলে—

“তোমারই আমি”
রুহি কখনো চাইছে কিছুটা থামাতে, আবার পরম মুহূর্তেই ক্ৰিশের বাহুর বাঁধনে নিজেকে
আরো গভীর করে সঁপে দিচ্ছে।
ভালোবাসার ঢেউ— কখনো কোমল, কখনো উগ্র—
তাদের দুজনকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে
সম্পূর্ণতার দিকে।
রুহি আর ক্ৰিশ একে অপরের কাছে হারিয়ে গেছে।
সময় যেন তাদের জন্য থেমে গেছে,
আর চারপাশের সবকিছু কেবল একটি অনন্ত মুহূর্তের মতো।
হঠাৎ এ্কটা আওয়াজ হয়ে সোফার একটি পায়া ভেঙে যায়—
রুহি হকচকিয়ে যায়, কিন্তু ক্ৰিশ এক মুহূর্তও থামে না।
সে তাড়াতাড়ি রুহিকে নিজের বুকে তুলে নেয়।
“চল, এখানে নয়…”

ক্ৰিশের চোখে উন্মাদনায় ভরা এক মিশ্র অনুভূতি।
রুহি ক্লান্ত , কিছুটা লাজুক, কিছুটা অস্থির—
কিন্তু তার হৃদয় জানে, এই মুহূর্তে ক্ৰিশকে থামানো যাবে না।
ক্ৰিশ ৱুহি কে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে বেডরুমের দিকে এগোয়।
প্রতি পদক্ষেপে রুহির শরীরের প্রতিটি স্পর্শে
তার হৃদয় আরও দ্রুত ধড়ফড় করতে থাকে।
খাটের কাছে এসে, ক্ৰিশ রুহিকে বসায়,
আর চোখে চোখ রেখে ওর দিকে তাকায়—
যেন সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত আকাঙ্ক্ষা
এই এক মুহূর্তে উন্মোচিত হয়ে গেছে।
রুহি চোখ বন্ধ করে তার স্পর্শ অনুভব করে।
তার হাত, তার নিঃশ্বাস, ক্ৰিশের দৃষ্টি— সব কিছুই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ও একেবারে তার,
এই মুহূর্তে কেবল ওর।

mad for you part 33

ধীরে ধীরে তারা আবার তাদের ভালোবাসার ছন্দে মিশে যায়।
চুম্বন, স্পর্শ, নিঃশ্বাস— সবকিছু মিলেমিশে একটি একক অনুভূতিতে পরিণত হয়।
রুহি কখনো থামতে চায়, কিন্তু পারে না, কারণ তার অন্তর জানে এই মুহূর্তে কেবল ক্ৰিশ‌ই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্ৰিশেৱ স্পর্শে রুহির শরীর উত্তেজনায় কেঁপে ওঠে।
রুহি আর লাজুকতা ধরে রাখতে পারে না, শুধু নিঃশ্বাসে, চোখের ভাষায় সে তার অনুভূতি প্রকাশ করে।
সময় যেন থেমে যায় , বেডরুমে, খাটের ওপর,
তাদের হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন মিলেমিশে এক হয়ে যায়।
ভালোবাসার এই ঢেউ তাদের উভয়কেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়— একটি নিঃশব্দ, নিখুঁত, চিরস্থায়ী মুহূর্তে।

mad for you part 35