Home mad for you mad for you part 33

mad for you part 33

mad for you part 33
তানিয়া খাতুন

সকাল ছয়টা বাজে,
চারদিকে সকালের নরম আলো ভেসে উঠেছে,
একটা শান্তিময় আবেশ পুরো রুমটাকে ঢেকে রেখেছে।
জানলা ভেদ করে ঢুকে আসা রোদ ক্রিশের মুখে পড়তেই,
সে বিরক্ত হয়ে বালিশ দিয়ে মুখ ঢেকে নেয়,
ঘুমের রাজ্যে আরেকটু ডুবে থাকার চেষ্টা করে।
ঠিক সেই মুহূর্তে—

ট্রিঁইইইন… ট্রিঁইইইন…!
রুহির ফোনের অ্যালার্ম জোরে বেজে ওঠে!
ক্রিশ যেন যুদ্ধক্ষেত্রে! সে গজগজ করতে করতে মোবাইলটা তুলে বিছানার এক কোনে ছুঁড়ে ফেলে,,
তারপর আবার মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়ে।
রুহি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ক্ৰিশেৱ কান্ড দেখে বাঁকা হাঁসে…
ধীরে ধীরে সে বাথরুম থেকে এক বালতি ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আসে—
ক্ৰিশেৱ ওপৱ ঢেলে দেয়।
পানি মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার শরীর ভিজিয়ে দেয়!
ক্ৰিশ চমকে উঠে লাফিয়ে উঠে বসে—
চোখ বড় বড়, মুখ হাঁ হয়ে গেছে।
সম্মুখে দাঁড়িয়ে রুহি হাতে খালি বালতি, মুখে বিজয়ী হাসি।
ক্রিশ অবাক হয়ে বলে—

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“লেদু সোনা! এটা কী হ্যাঁ?
আমার ঘুম নষ্ট করাৱ মানে কী?”
রুহি হাত কোমরে দিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলে—
“হ্যাঁ, দরকার আছে। আজ থেকে আপনার ট্রেনিং!
রফিক হাসান স্যার এৱ এখন ছুটি আছে।
আপনাকে আজ থেকেই মন দিয়ে পড়াশোনা আৱ ট্টেনিং শুরু করতে হবে।”
ক্রিশ মুখ কুঁচকে বলে,
“তাই বলে সকাল ছয় টায়?
আমি কি কোনো কুকুর বাহিনীর সৈনিক নাকি?”
রুহি এগিয়ে এসে এক হাত দিয়ে ক্রিশের গাল চেপে ধরে—
চোখ সোজা ক্রিশের চোখে রেখে ধীরস্বরে বলে—

“না।
আপনি আমার বর—
আর আমি আপনার কোচ।”
তারপর ইশারা করে, “উঠুন তাড়াতাড়ি।
নাহলে আবারো গোসল করিয়ে দেব!”
ক্রিশ ভিজে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বিড়বিড় করে—
“হায় আল্লাহ… সকাল সকাল জল্লাদগিৱি শুৱু কৱে দিয়েছে!”
রুহি তার দিকে চোখ রাঙায়—
আর ক্রিশ সঙ্গে সঙ্গে স্যালুট করে—
“জি জি আমাৱ ঘৱেৱ আমি মেমবাৱ আমাৱ ব‌উ চেয়াৱম্যান!”
রুহির মুখে হাঁসি ফুটে ওঠে, সে আলতো করে বলে,
“চালাকি নয়…
আমি চাই ‌আপনি আপনাৱ best টা দিন।”
ক্রিশ সেই কথা শুনে, হাঁসিমুখে বলে—
“আপনি পাশে থাকলে—
আমি দুনিয়া কাঁপিয়ে দেব।”
চোখ টিপে— যেমন ৱাতে খাট কাঁপায়।

ক্রিশ ওয়াশরুম থেকে বের হতেই রুহি তার হাত টেনে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।
ক্রিশ: “কি হয়েছে, বাটারফ্লাই?”
রুহি: “চুপ করে বসুন। আমি শেভ করে দিচ্ছি।”
বলতে বলতেই রুহি নরম হাতে শেভিং ক্রিম লাগিয়ে দেয় ক্রিশের গালে ও থুতনিতে।
ক্রিশ: “আজ সবকিছুই শেভ করে দেবে, বাটারফ্লাই?”
রুহি বিরক্ত গলায়—
“হ্যাঁ, করবো, আগে চুপচাপ বসুন, ছুকছুকানি বন্ধ কৱে।
ক্রিশ দুষ্টু চোঁখে তাকিয়ে, হালকা হাঁসে
তারপর রুহিকে নিজের কোলে টেনে নেয়।
ক্রিশ: “ঠিক আছে, এটা হয়ে গেলে নিচেরটাও শেভ করে দিস।”
কথাটা শুনেই রুহির মুখ লাল হয়ে যায়—
রুহি: “অসভ্য লোক! নিজের কাজ নিজে করুন!”
ক্রিশ ঝুঁকে রুহির কানের পাশে ফিসফিস—
স্বরে দুষ্টু মাদকতা—

“শেভ করে দাও, বউ…
তারপর আমি-ও তোমারটা করে দেবো।”
রুহির শরীর শিহরনে ভরে যায়…
ওঠার চেষ্টা করতেই ক্রিশ তার কোমর চেপে ধরে ফেলে।
রুহির চোখে চোখ রেখে, ক্রিশ ধীরে ধীরে তার ওষ্ঠের ওপর চেপে ধরে নিজের ওষ্ঠ,
মোলায়েম, ধৈর্যশীল, আস্তে আস্তে তার নিঃশ্বাস কেড়ে নিতে থাকে।
রুহি প্রথমে অবাক হয়ে যায়—
কিন্তু মুহূর্তেই সে ক্রিশকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরার ভুল করে ফেলে।
ক্রিশ তাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে তার ঠোঁটের প্রতিটি কোণে আদর ছড়িয়ে দেয়…
দুজনের নিঃশ্বাস মিশে যায়—

ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে—
উষ্ণ, মধুর এক সকালের শুরুর মতো…
ক্রিশ যখন রুহিকে জড়িয়ে ধরে চুমুতে ব্যস্ত—
রুহি তার বুকের ওপর ঠেলা দিয়ে বলে—
রুহি: “চুপ! আগে শেভ। তারপর যেখানে থেমেছিলাম, সেখান থেকে শুরু করবো…”
ক্রিশ চওড়া হাসি হেসে আবার চেয়ারে হেলে বসে।
রুহি রেজরটা হাতে নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে শেভ করতে থাকে।
কিন্তু সমস্যা হলো— ক্রিশ রুহিকে তাকিয়ে দেখতেই থাকে।
রুহি যত সিরিয়াস হয়, ক্রিশ তত দুষ্টু হাঁসি হাসে।
রুহি: “এভাবে তাকাবেন না! কেটে যাবে!”
ক্রিশ: “আমি আমাৱ ব‌উকে দেখছি, বাটারফ্লাই?”
রুহিৱ হাত নড়ে একটুখানি কেটে যায়।
ক্রিশ ব্যথায়—

“উফস! বাটারফ্লাই! খুন করবে নাকি?”
রুহি সাথে সাথে ভয় পায়—
“সৱি সৱি লাগছে? দেখান দেখি!”
সে আলতো হাত রাখতেই—
রুহি: “আপনার‌ই দোষ! মুখ সোজা রাখবেন।”
ক্রিশ মুখ গম্ভীর করার ভান করে।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই সে আবার হাঁসে।
রুহি বিরক্ত: “আর হাঁসবেন না! নইলে নিচেরটাও কেটে দেব!”
ক্রিশ সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসে—
চোখ দুটি বড় বড় করে—
“নিচেরটা কাটা মানে কিন্তু বিপদ, মিসেস খান!”
রুহিও খিলখিল করে হেঁসে ফেলে।
তারপর গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করে।
শেভ শেষ করে রুহি পেছনে সরে দাঁড়াতেই—
ক্রিশ ধীরে ধীরে উঠে আসে
আর তার কোমরে হাত রেখে বলে—

“এবার আমি আমাৱ কাজ শেষ করবো…”
রুহির নিঃশ্বাস আটকে যায়।
সে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলে—
“প্রথমে ব্রেকফাস্ট!”
ক্রিশ গভীর স্বরে— “প্রথমে তুমি।”
রুহি দৌড় দিয়ে বেরিয়ে যায়—
“ধরতে পারলে ধরেন!”
ক্রিশ হাসতে হাসতে পেছনে ছুটে—
“ধরলে কিন্তু ছাড়বো না!”
রুহি দৌড়াতে দৌড়াতে নিচে নামছে।
পেছনে ক্রিশও হাঁসতে হাঁসতে ধাওয়া করছে—
ঠিক তখনই ডোরবেল বেজে ওঠে।
“ট্র্রিঁইঙ… ট্র্রিঁইঙ…”

রুহি থমকে দাঁড়ায়।
এলোমেলো চুল ঠিক কৱে নেই, নিঃশ্বাস নিয়ে
নিজেকে সামলে ভদ্র ও লেডিলাইক ভাব আনে।
সে দ্রুত দরজা খুলতেই দেখে সামনে রফিক হাসান।
রুহি: “স্যার! আপনি এসে গেছেন?”
রফিক হাসান সামান্য হেঁসে—
“আজ থেকেই ট্রেনিং শুরু, ভুলে যাননি তো?”
রুহিঃ “জি না না… আসুন, ভেতরে আসুন।”
পেছন থেকে ক্ৰিশ (গলা পরিষ্কার করে)
“উঁহু! হাম! এতো সক্কালে?”
রফিক হাসান ঘুরে তাঁকিয়ে
ক্রিশের শেভিং জেল লাগানো মুখ দেখে
হো হো করে হেঁসে ওঠে।

খান ম্যানশনের পেছনের বিশাল লন।
শিশির জমে আছে ঘাসে, হালকা কুয়াশা ভেসে আছে।
রফিক হাসান দাঁড়িয়ে বলেন—
“প্রস্তুত?”
ক্রিশ চুপচাপ দাঁড়াল। চোখে দৃঢ়তা, বুক ফুলে উঠেছে উত্তেজনায়।
হঠাৎ রফিক শিস বাজাল—
“দৌড় শুরু!”
ক্রিশ দৌড়তে শুরু করল।
প্রথম কয়েক পা সহজ মনে হলেও মিনিট দশেৱ মধ্যেই বুক ধুকছে, পা ভারী হয়ে আসছে কাৱন সে অনেকদিন ওয়াক আউট কৱেনি।

ৱুহি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখছে ক্ৰিশকে।
তার চোখে আনন্দ আর চিন্তার এক মিশ্রণ।
ক্ৰিশেৱ শ্বাস-প্রশ্বাস ও ক্লান্তি পা জমে যাচ্ছে, বুক ফাঁপা, ঘাম ঝরছে।
প্রথম দুই ল্যাপের শেষে ক্ৰিশ প্রায় হুড়হুড় করে শ্বাস নিচ্ছে, কিন্তু দৌড়ানো থামাচ্ছে না।
মাটি স্পর্শ করছে পায়ের নিচে, শরীর ভাঙছে।
কিন্তু থামছে না— সে জানে, থামলে তাৱ বাটারফ্লাই এৱ স্বপ্ন ভেঙে যাবে।
রফিক কঠোর স্বরে চিৎকার করল—
“আরেক ল্যাপ! থামবে না। শক্তি বেশি আছে তোমার।
মনে রাখো, যারা কঠোর পরিশ্রম করে তারা সফল হয়।”
ক্ৰিশ আবার জোৱে দৌড়তে শুরু করল।
শরীর ব্যথা করছে, পা কাঁপছে— কিন্তু মন একটিমাত্র উদ্দেশ্যে কেন্দ্রিত।
রফিক কিছুক্ষণ পৱ নির্দেশ দিল—

“Jump! Knee-up! Burpee!”
ক্ৰিশ একে একে লাফ দিল, হাত–পা মিলিয়ে burpee করল, knee-up করে ঝাপটাচ্ছে।
মাটিতে লাফ দিতে দিতে ঘাম পুরো শরীরে ভরল।
প্রতি লাফে মনে হচ্ছে শরীর জ্বলে উঠছে।
ৱফিকঃ মনোবল ধরে রাখো।
ক্ৰিশ ক্লান্ত হয়ে মাটিতে বসতে চাইল।
কিন্তু বাৱন্দাৱ দিকে চোঁখ যেতেই ওৱ‌ চোঁখে চাওয়া দেখে সে আবার উঠে দাঁড়াল।
রফিক হাসান কঠোর চোঁখে ক্ৰিশ-এর দিকে তাকিয়ে বলল—
“Push-up! এখনি!”
ক্ৰিশ ধড়ফড় করে মাটিতে নামল।
হাত মাটিতে ঠেকিয়ে শরীরকে সমান রেখা দেওয়ার চেষ্টা করল।
প্রথম পুশ-আপ তুলতেই বুক ও বাহুর পেশিতে শক্তি টান লাগল।
“এক… দুই… তিন…”

ক্ৰিশ প্রতিটি গুনছে, শ্বাস ভারী, ঘাম গায়ে ঝরছে।
মাটির কণার স্পর্শে হাতের তালু ও হাড্ডি কষছে, কিন্তু সে থামল না।
রফিক আবার চিৎকার করল—
“আরেকটি ল্যাপ! দ্রুত!”
ক্ৰিশ দম ফেলে আবার উঠে দাঁড়াল।
পুশ-আপে নামল, শরীর নিচে নামল, বুক মাটি থেকে কমবেশি তুলছে।
ঘাম ভেজা চুল পড়ছে, চোখে স্থিরতা।
“আরেকটা… আরেকটা…”
প্রতিটি পুশ-আপে তার শরীরের প্রতিটি পেশি কাঁপছে, কিন্তু মন বলছে— “আমি পারব…বাটারফ্লাই এৱ জন্য।”
শেষ তিৱিশ টি পুশ-আপের সময় বুক জ্বলে যাচ্ছে, পা কাঁপছে, তবুও ক্ৰিশ থামল না।
প্রতিটি পুশ-আপে তার মনোবল আরও শক্ত হচ্ছে।
রফিক সন্তুষ্ট চোঁখে বলল—
“ ভালো করেছো ক্ৰিশ। কিন্তু এবার আরও কঠোর হতে হবে।”

প্রায় চার ঘণ্টা ধারাবাহিক ট্রেনিংয়ের পর, রফিক হাসান বললেন,
“বেশ, আজকের জন্য এটুকুই। কাল থেকে আমি তোমাকে একটা ট্রেনিং স্পটে নিয়ে যাবো। এখানে হবে না।”
ক্ৰিশ মাথা নেড়ে, ধীরস্বরে বলল,
“ঠিক আছে, ঠিকানা বলে দেবেন।”
রফিক হাসান তখন কৃষের সামনে দাঁড়িয়ে, তার চোখে কৌতূহল আর অপেক্ষার মিশ্রণ। কৃষ Ruhi-কে দেখে হঠাৎ একটুখানি ঘাবড়ে গেল না, বরং তার হৃদয়টা উষ্ণ হয়ে উঠল। তিনি হাত বেৱিয়ে যান।
ক্ৰিশ‌ ক্লান্ত হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে চোঁখ ৰন্ধ কৱে নেয়।
ৱুহি ধীৱে ধীৱে এসে ক্ৰিশেৱ পাশে এসে দাঁড়ায়।
ক্ৰিশ চোঁখ ৰন্ধ অবস্থাতেই ৱুহিৱ উপস্থিতি টেৱ পাই।
ৱুহিৱ হাত ধৱে টান দেই, হঠাৎ করে এমন হ‌ওয়ায় ৱুহি হুমড়ি খেয়ে ক্ৰিশের বুকের ওপর পড়ে।
ক্ৰিশ তার ঘামভেজা গায়ের সঙ্গে ৱুহিকে মিশিয়ে নেই্।
কণ্ঠে কোমলতা ছড়িয়ে বলে,

“আমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করব, Butterfly।”
ৱুহি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“সত্যি?”
ক্ৰিশ হাসিমুখে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ, আমি নিজের সব কিছু দিয়ে তোমার স্বপ্ন পূরণ করব।”
ৱুহি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ক্ৰিশেৱ বুকে চুম্বন দিয়ে বলে,
“I love you, Krish।”
ক্ৰিশ হেসে মৃদু কণ্ঠে বলল,

mad for you part 32

“I love you by giving you my everything
Ladu Sona.”
তারপর সে ধীরে ধীরে ৱুহিৱ-এর বুকে মুখ ঘেষে বলল,
“এবার আমার পালা।”
ৱুহিৱ চোঁখে উচ্ছ্বাস, হৃদয়ে এক শান্তি, আর ক্ৰিশের বুকের সঙ্গে তার মিলন—সব কিছু মিলেমিশে সেই মুহূর্তকে যেন চিরস্থায়ী করে দিল।

mad for you part 34