mad for you part 41
তানিয়া খাতুন
সকাল থেকেই বিয়েবাড়ির আয়োজন জমে উঠেছে।
আকাশে রোদ উঠেছে স্বর্ণালি আলো ছড়িয়ে, চারদিকে প্যান্ডেল সাজানোর শব্দ, রান্নাঘর থেকে মশলার গন্ধ ভেসে আসছে।
হলুদের থালায় গোলাপের মিষ্টি গন্ধ—সব মিলে উৎসবের আবহ।
কিন্তু এই আনন্দের পিছনে চলছে আরেকটা বড় আয়োজন…
যেটা এখনো কাউকে জানানো হয়নি।
আজ ক্ৰিশ আর পুষ্পোর গায়ে হলুদ আর মেহেন্দি, আর কাল তাদের বিয়ে।
কিন্তু এর আড়ালে একটা গুপ্ত পরিকল্পনা করে রেখেছে ক্ৰিশ আর আয়ান—
যেটা জানলে হয়তো বাড়ির সবাই হতবাক হয়ে যাবে!
আত্মীয়-স্বজনেরা ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে।
কেউ সাজসজ্জা ঠিকঠাক হচ্ছে কি না দেখছে,
কেউ রান্নাঘরে চেঁচামেচি করছে—
নাজুক ব্যাপার তো, খাবারের স্বাদ যদি এক চুলও এদিক-ওদিক হয়!
ক্ৰিশ বিছানায় উপুড় হয়ে গভীর ঘুমে ডুবে আছে।
চাদরটা কোমর পর্যন্ত ঢেকে রেখেছে—
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
উপরের অংশটা খোলা, মজবুত বুকটা নিঃশ্বাসের সাথে ধীরে ধীরে উঠছে-নামছে।
আয়ান ঠিক তার পাশেই হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে—
তার একটা পা তো আবার ক্ৰিশেৱ গায়ের ওপরই তুলে রাখা।
গতরাতে পরিকল্পনা করতে করতে
কখন যে দুজনেরই ঘুমিয়ে পড়েছিল বুঝতেই পারেনি।
আজ শুরু হচ্ছে তাদের গোপন গবেষণার বাস্তবায়ন…
হঠাৎই ক্ৰিশের ফোনটা জোরে বাজতে শুরু করলো।
ক্ৰিশ ঘুমের ঘোরেই মুখ কুঁচকে হাত বাড়িয়ে ফোনটা কানেতে নিলো।
ক্ৰিশঃ “কে ৱে সালা?”
কণ্ঠে বিরক্তি, চোখ আধখোলা।
অপর পাশ থেকে উত্তর এল—
— “তোর বউ রে সালা।”
ৱুহিৱ কণ্ঠস্বর শুনতেই ক্ৰিশের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাঁসি খেলে যায়,
ঘুম উড়ে গেল একেবারে।
ক্ৰিশঃ “কি ব্যাপার বউ, সকাল সকাল আগুন লেগেছে দেখছি?
আমি কি ঘি নিয়ে যাবো?”
রুহিও কম যায় না—
তাৎক্ষণিক জবাব দেয়,
— “না না, একদমই না!
আসলে আপনার রেডিওটা আপনার কাছেই রাখতে চাই।
দশ মিনিটেরমধ্যে ওকে আপনার কাছে দিয়ে যাবো।”
ক্ৰিশ কপাল কুঁচকে উঠে বসল—
— “এখানে? কিন্তু—”
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই রুহি ফোন কেটে দিল।
ক্ৰিশ হাই তুলতে তুলতে আয়ানেৱ দিকে তাঁকায়।
বিরক্ত মুখে তাকিয়ে বলে—
— “সালা! আমার গায়ের ওপর পা তুলে মরার মতো ঘুমাস?”
বলে সে আয়ানের পা ধরে এক ঝটকায় নিচে নামিয়ে দিলো।
আয়ান ব্যথায় মুখ বিকৃত করে উঠে বসল—
— “ভাই! হাত না লোহা!
এমনভাবে ফেলার কি আছে?
একটু পা ই তো তুলেছি!”
ক্ৰিশ বুক ফুলিয়ে, চুলে হাত চালিয়ে বলে—
— “তুলবি না!
আমার বউ’র অধিকার আছে শুধু আমার ওপর পা তোলার।”
এই কথা বলে সে বাথরুমে ঢুকে গেল ফ্রেশ হতে।
আয়ান হতবাক হয়ে কয়েক সেকেন্ড ক্ৰিশেৱ দিকে তাঁকিয়ে রইলো।
তারপর ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
— “আমারও তো বউ আসছে!
আমিও কদিন পৱ এৱাকম বলবো ওর মতো… হুঁউউ!”
এটা বলে সে উল্টো হয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে আবার শুয়ে পড়লো—
৫ মিনিট পরে…
ক্ৰিশ বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল।
পরনে নীল শার্ট, কালো প্যান্ট—
চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করে নিতে নিতে
কক্ষের দরজাটা খুলে সোজা বাইরে বেরিয়ে গেল।
ক্ৰিশ বেরিয়ে যাওয়ার পরেই,
পুষ্পো চুপিচুপি ধীরে ধীরে ক্ৰিশের রুমের দরজার কাছে এসে দাঁড়াল।
এদিক-সেদিক তাকিয়ে যখন কাউকে দেখল না,
তখন আস্তে করে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে পড়লো।
বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা আয়ানকে দেখে পুষ্পো ভাবলো — ক্ৰিশ ঘুমোচ্ছে।
সে গুটি গুটি পায়ে গিয়ে আয়ানের পাশে ওঠে বসলো।
হঠাৎ করেই চাদরের ওপর দিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আয়ানের চোখ তো সবে লেগে আসছিল—
এই আচমকা আলিঙ্গনে সে ধড়মড় করে চোঁখ খুলে তাকাল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সে বুঝে গেল —
এটা পুষ্পো।
পুষ্পো চোখ বন্ধ করেই বলে যেতে লাগলো—
“আমি জানতাম, আপনি যতই আমাকে ইগনোর করুন না কেন,
আপনি আমাকেই ভালোবাসেন।
আগে যখন বাইরে ছিলেন,
সব সময় আমার সাথে কথা বলতেন।
খালি বলতেন—
‘একবার আসতে দে,
তারপর তোকে বিয়ে করব,
আমার রাজ্যের রানি বানাবো।’
কিন্তু এখানে আসার পর
আপনি আর আমার সাথে কথা বলতেন না।
আমার খুব রাগ হতো…
ভাবতাম, আপনি আর আমায় ভালোবাসেন না।
কিন্তু কাল যখন আপনি বিয়ের জন্য মেনে নিলেন,
আমি বুঝে গেছি…
আসলেই আপনি এখনো আমাকেই ভালোবাসেন…”
আয়ান (মনে মনে):
“পাগলি আমার… তুই যাকে ভালোবাসতিস
সে আর এই পৃথিবীতে নেই…
কিন্তু তুই ভাবিস না,
আমি তোকে আমাৱ ভালোবাসা দিয়ে
সব ভুলিয়ে দেব…”
পুষ্পো আরও জোরে আয়ানকে জড়িয়ে ধরলো।
এত কাছে যে পুষ্পোৱ গরম নিশ্বাস আয়ানেৱ গায়ে লাগছে—
আয়ানের নিজেরও সংযম ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।
নিজেকে সামলাতে না পেরে আয়ান হঠাৎ
পুষ্পোকে চেপে ধরে উল্টে খাটে ফেলে দিলো।
পুষ্পোর মুখ লজ্জায় টকটকে লাল,
চোখ মুখ কুঁচকে চোঁখ বন্ধ কৱে আয়ান কে আঁকড়ে ধরে আছে—
সে ভাবছিল ক্ৰিশই তাকে জড়িয়ে আছে!
আয়ান তার গলার কাছে মুখ গুঁজে
গভীর নিঃশ্বাস ফেলে কিন্তু কিছুই বলে না।
পুষ্পো শিউরে উঠে ফিসফিস করে—
— “একটা কিস করবেন আমাকে? প্লিজ?”
কথাটা শোনার পর,
আয়ানের নিঃশ্বাস আরও ভারী হয়ে এল।
সে মুখ তুলেই তাকালো পুষ্পোর দিকে—
হলুদের শাড়ি পরা মেয়েটা
এখনও সাজেনি, তবে—এতটাই সুন্দর লাগছে তাকে।
যেন আল্লাহ তাকে
নিজের হাতে সময় নিয়ে গড়ে দিয়েছেন।
পুষ্পো চোঁখ এখনো বন্ধ করে আছে—
ভয় আৱ লজ্বায় তাৱ গাল লাল হয়ে উঠেছে।
আয়ান ধীরে ধীরে নিজের ঠোঁট
তার ঠোঁটের দিকে নিয়ে এল—
এক নিঃশ্বাস দূরত্বে এসে
মুহূর্তটা ধরে রাখল…
আয়ান মুখ এগিয়ে আনতেই
তার নিঃশ্বাস পুস্পোর গালে গরম হাওয়ার মতো লাগল।
পুস্পোর আঙুলগুলো আয়ানের শার্ট মুঠো করে ধরল—
সে আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারছিল না।
এক মুহূর্ত নিঃশ্বাস আটকে থাকল—
তখনই—
আয়ান নিজের ঠোঁট
পুস্পোর নরম ঠোঁটে আলতো করে ছুঁইয়ে দিল।
তারপর—
এক টুকরো কাঁপা চুম্বনে
পুষ্পোর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট রেখে দিলো।
সময় থেমে গেল…
শুধু হৃদস্পন্দন বেজে উঠলো
দু’জনার বুকে—
ধুপ… ধুপ… ধুপ…
পুস্পোৱ চোঁখ বন্ধ…ঠোঁট দুটো সামান্য কাঁপছে…
শ্বাস দ্রুত— তার বুকের ভেতর যেন ঢাক বাজছে।
চুমুটার প্রথম স্পর্শেই
পুস্পোর সমগ্র দেহ কেঁপে উঠল।
মনে হলো—
তার হৃদয় গলা ডিঙিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে।
আয়ান ধীরে ধীরে তার নিচের ঠোঁটটা নিজের ঠোঁটে ধরে—
আরও গভীরে টেনে নিলো।
কেউ যেন সময়কে থামিয়ে রেখেছে।
কিছুক্ষণের জন্য,
বিশ্বে কোনো আওয়াজ নেই—
শুধু শ্বাসের ঘনত্ব,
আর ভালোবাসার কাঁপা কাঁপা ছোঁয়া।
আয়ান চোঁখ খুলে তাঁকাল—
পুস্পো এখনও চোখ বন্ধ,
লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেছে,
ঠোঁটে তার স্পর্শ রয়ে গেছে এখনও।
আয়ান হঠাৎ নিজের অবস্থান বুঝে
অসম্ভব অস্থির হয়ে উঠল।
সে দ্রুত সরে গিয়ে বসে পড়ে নয়তো অনেক বড়ো কিছু হয়ে যাবে—
পুষ্পো তাড়াতাড়ি,
চাদরের ওপর হাত ঠেলে উঠে বসে—
তারপর নিচের ঠোঁট কামড়ে
মাথা নিচু করে নিলো।
এক সেকেন্ডও আর সেখানে থাকতে সাহস হলো না
চোখ না তুলেই,
না পিছনে তাঁকিয়েই—
দৌড় দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল লজ্বায়।
তার পায়ের শব্দ যেন
আয়ানের হৃদয়ে তীর হয়ে বিঁধলো।
দরজাটা ঠাস করে বন্ধ হওয়ার শব্দে
ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল—
আয়ান শুধু বসে রইল,
এক হাত ঠোঁটে…মুখে মৃদু হাঁসি।
ক্রিশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটু এগোতেই রুহির গাড়ি এসে তাৱ সামনে থামে।
গাড়িটা থামতেই মুসকান দৌড়ে আসে, তার ছোট হাতগুলো ক্রিশের দিকে এগিয়ে দেয়।
ক্রিশ হেঁসে তাকে কোলে তুলে নেয়, তার চোখে ভালোবাসার আলো ঝলমল করছে।
মুসকানঃ আই লাব ইউ আব্বু।
ক্রিশও হেঁসে উত্তর দেয়, “আই লাব ইউ টু আমার বাচ্চা।”
ঠিক সেই সময় রুহি গাড়ি থেকে নামতে নামতে বলে, “আপনার রেডিও পার্সেল দিয়ে দিয়েছি।
এবার আসি, আমার অনেক কাজ আছে।”
ক্রিশ ধীরে ধীরে মুসকানকে কোলে নিয়ে রুহির দিকে এগিয়ে যায়।
ক্ৰিশঃ “নিজের খেয়াল রাখবে, আর কোনো দরকার হলে আমাকে কল করবে।”
রুহি হেঁসে মাথা নাড়ে, আর চোখে একটা মিষ্টি মিশ্রণ ফুটে ওঠে।
ক্রিশ মুসকানকে গাড়ির উপরে বসিয়ে দিয়ে বলে, “মুসু, সোনা, একটু চোখ বন্ধ করো তো।”
মুসকানঃ ওফফ আব্বু এতা ৱাত্তা, ৱাত্তায় কে ৱোমান্ত কৱে।
ক্ৰিশঃ just 5 minit মুসু সোনা তোমাৱ আম্মু কে শুধু দেখবো।
মুসকান চোখ ঢেকে হেঁসে বলে, “ওতে কিন্তু শুধু পাঁত মিনিত।”
ওফফ বাপু আৱ কত তি দেততে হবে।
মুসকান চোঁখ বন্ধ করতেই ক্রিশ ধীরে ধীরে রুহির দিকে এগোয় ৱুহিৱ দিকে।
রুহিৱ হাত টেনে, কাছে আনে আর মুহুর্তের মধ্যে তাৱ ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়।
হঠাৎ এৱাকম হওয়ায় রুহি হতভম্ব হয়ে যায়।
রাস্তার পাশে কিছু মানুষ চলাচল করছে, আবাক হয়ে তাদেৱ দেখছে কিন্তু ক্রিশের সেদিকে নজর নেই।
রুহি লজ্জায় ঠেলে ক্ৰিশ কে সৱিয়ে বলে “কি করছেন? লোক দেখছে!”
ক্রিশ হেঁসে বলে, “এখনো দুই মিনিট বাকী বাটারফ্লাই।”
সে আবার ধীরে রুহির ঠোঁট ঠোঁট রাখে।
মনে হয় এই মুহূর্তটাই থেমে গেছে, সময় নিজেই শিথিল হয়ে গেছে।
এই ছোট্ট প্রেমের মুহূর্তে তাদের তিনজনের পৃথিবী যেন একটিমাত্র ভালোবাসার আবরণে ঢেকে গেছে।
মুসকানঃ আব্বু, তাইম আপ। টোমাদের রোম্যান্ত শেত হলে চোঁখ খুলবো।”
ক্ৰিশ হেঁসে সৱে এসে বলে “আমার কাজও শেষ।
চলো মুসু, আমরা বাড়ি যাই।
এই মহিলা খুব খারাপ, আমাকে খালি লোভ দেখায়।”
রুহি একটু ভুরু টেনে বলে, “তাই না।”
mad for you part 40
মুসকান কণ্ঠে একটা ছোট্ট উত্তেজনা নিয়ে বলে, “এতদম, চলো আব্বু।”
ক্রিশ হেসে মুসকানকে কোলে তুলে নেয়।
রুহি কিছুটা লজ্জায় তাঁকিয়ে থাকে, তাৱপৱ
গাড়িতে উঠতে উঠতে বলে “ঠিক আছে, আমি গেলাম মুসুৱ আব্বু।”
গাড়ি শুরু হয়, আর রুহি ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে বেড়িয়ে যায়।
