Home mad for you mad for you part 40

mad for you part 40

mad for you part 40
তানিয়া খাতুন

বিকেল পার হয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
হোটেলের রুমের মৃদু আলোয় বিছানার ওপর উল্টে শুয়ে আছে ক্ৰিশ।
রুহি ফ্রেশ হয়ে এসে নিঃশব্দে ক্ৰিশের পাশে বসে—তার চুলে আস্তে হাত বুলিয়ে দেয়।
ক্ৰিশ চোঁখ তুলে তাঁকায়।
কনুইয়ের ভর দিয়ে একটু উঠে রুহির কাছে ঝুঁকে আসে।
ক্ৰিশঃ “আমি যেমন বলেছি ঠিক তেমন করতে পারবে তো, বাটারফ্লাই?”
রুহি ভুরু কুঁচকে বলে—
“মি. ক্ৰিশ খান, আপনি ভুলে যাচ্ছেন—আপনার বউ কিন্তু এক জন ল‌ইয়ার… এইসব আমাৱ ৱোজকাৱ কাজ।”
ক্ৰিশ হালকা হেঁসে আচমকা রুহিকে নিজের বুকে টেনে ফেলে।
রুহি হাঁসতে হাঁসতে ক্ৰিশের ওপরে পড়ে যায়—হৃদস্পন্দন দু’জনেরই মিশে যায় একসাথে।

ক্ৰিশ: “হ্যাঁ… আমার লেদা মাৱকা ল‌ইয়ার বউ!”
রুহি চোখ পাকিয়ে: “আপনি কিন্তু আমার মজা ওৱাচ্ছেন।”
ক্ৰিশ তার নাকে চিমটি কেটে ফিসফিস করে—
“তোমাকে দেখে একটা গান করতে খুব ইচ্ছে করছে, বাটারফ্লাই…”
রুহি তার বুকের মাঝে নাক ঘষে মিষ্টি গলায় বলে—
“গান… শুনি…”
ক্ৰিশ ধীরে রুহিকে বিছানায় শুইয়ে তার উপর ঝুঁকে গলাৱ কাছে মুখ গুজে হাস্কি স্বৱে গান ধরল—
“Rup tera mastana… pyar mera deewana…”
“Bhool koi humsa na ho jaaye…”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ক্ৰিশের কণ্ঠে গান শুনে রুহির মুখে শিশুসুলভ খিলখিল হাসি ছড়িয়ে পড়ে।
হাঁসতে হাঁসতে সে হাত বাড়িয়ে লাইট বন্ধ করে দেয়।
রুমটা অন্ধকারে ডুবে যায়—
শুধু দু’জনার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা…
অন্ধকারে ক্ৰিশ আরও কাছে আসে— ৱুহিৱ ঠোঁটের ফাঁকে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে—
ক্ৰিশঃ “মুড আসছে, বাটারফ্লাই… Are you ready?”
রুহি তার গলা জড়িয়ে ধরে অল্প কাঁপা কণ্ঠে গেয়ে ওঠে—
“Batiyan bujha do… thodi si pila do…”
“Andhero mein jo hoga…”

গানটা শেষ করার আগেই—
ক্ৰিশ তার কথা চুপ করিয়ে দেয়…
রুহির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট আলতো ছুঁইয়ে—
নিঃশব্দে… নিঃশ্বাসে…সবটা প্রেমে ভরে দেয়।
আবারও উত্তেজনার ঢেউ বয়ে যায় ক্ৰিশের শরীরে।
ক্ৰিশেৱ প্রতিটা শ্বাস, প্রতিটা ছোঁয়া ৱুহিকে আরও অস্থির করে তোলে।
রুহি চোখ বন্ধ করে যেন হারিয়ে যায় ক্ৰিশেৱ ভালোবাসার ঘোৱে।
ক্ৰিশ আলতো করে রুহির শরীরকে নিজের কাছে টেনে রাখে—
তার ঠোঁট রুহির গাল, কপাল, চোখের পাশে একে একে সব ছুঁয়ে যায়…
রুহির বুক কেঁপে ওঠে বারবার—

মনে হয় যেন মুগ্ধতার ঘোরে সে একটু একটু করে গলে যাচ্ছে।
ঠিক যখন দু’জনার উত্তেজনা চরমে—
হঠাৎ করে ক্ৰিশের ফোনটা জোরে বেজে ওঠে।
ক্ৰিশ বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে গভীর নিশ্বাস নেয়।
নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে ফোনটা হাতে তোলে।
শেভ নামটা স্ক্রিনে দেখা যায়—
কিন্তু সে কলটা ধরেও কিছু বলে না, শুধু ওপাশের কথা শুনে।
তার মুখে ধীরে ধীরে এক চওড়া বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে।
ক্ৰিশঃ “আসছি…”
বলেই ফোনটা কেটে দেয়।
সে রুহির চোঁখে তাকিয়ে ফিসফিস করে—
“পাখি ফাঁদে পড়তে চাইছে বাটারফ্লাই…”
রুহি দুষ্টু হাঁসি দিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে—
“তাহলে ফাঁদটা ঠিক কৱে পাতাৱ ব্যাবস্থা কৱি।”

মুসকান আর রুহিকে খান ম্যানশনে পৌঁছে দিয়ে
ক্ৰিশ আয়ানকে নিয়ে ভিতরে ঢুকতেই —
ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে।
ক্ৰিশকে দেখেই ফুফা খুশিতে বলে উঠলেন—
“এই তো ক্ৰিশ এসে গেছে!”
“আয়ান, আজ থেকে তুমি এখানেই থাকবে ২-৩ দিন।
অনেক কাজ আছে—সব সামলাতে হবে তোমাকে।”
আয়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে—
“কাজ? কোনো অনুষ্ঠান নাকি?”
ফুফু হাঁসি চেপে উত্তর দেন—
“হ্যাঁ… আমাদের পুষ্পো আর ক্রিশেৱ বিয়ে।”

বাক্যটা শুনতেই—
আয়ানের পৃথিবী থমকে যায়।
তার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে।
পা দুটো কাঁপতে শুরু করে—শ্বাস আটকে আসে।
এতদিনের একতরফা ভালোবাসা…
যেটা শুধু বুকের গভীরে লুকিয়ে রেখেছিল—
সেই স্বপ্নটা কি তবে এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল?
সে কি সত্যিই পুষ্পোকে কখনও পাবে না?
পাশে দাঁড়ানো পুষ্পো লজ্জায় মুখটা নিচু করে—
গাল টকটকে লাল—
শৈশব থেকে বুকে রাখা ছোট্ট স্বপ্নটা
আজ সত্যি হবে ভেবে মন ভরে গেছে তার।
ক্ৰিশ সোফায় বসতে বসতে ধীরে বলে—
“সব বুঝলাম ফুফা… কিন্তু এত তারাতারি?

হঠাৎ করে বিয়ে?”
ফুফাঃ হেসে জবাব দেন—
“তারাতারি? কোথায় তারাতারি!
পুস্পোৱ দাদিৱ অবস্থা ভালো না ওনি তোদেৱ বিয়ে দেখতে চাই।
ফুফুঃ তাই আমি বলে দিয়েছি—আর দেরি নয়।
আগামী ২ দিনের মধ্যেই পুষ্পো আর তোমার বিয়ে হবে।”
ক্ৰিশ মাথা নাড়ে—
“ঠিক আছে। যখন ঠিক করেই ফেলেছেন…
তাহলে আর সমস্যা নেই।”
তারপর হেঁসে পাশে থাকা আয়ানের দিকে তাঁকিয়ে বলে—
“আয়ান সব সামলাবে, তাই তো?”
কিন্তু আয়ানের মুখে কোনো শব্দ নেই।
চোখে পানি জমে উঠেছে—
সে হাঁসতে চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না।
শুধু নিঃশব্দে মাথা নাড়ে…

রাত গভীর।
চারদিকে নিস্তব্ধতা—
চাঁদের নরম আলো ছাড়া কোনো সঙ্গী নেই।
ছাদের এক কোণে একাই বসে আছে আয়ান।
চারপাশ নিঃশব্দ—
কিন্তু তার বুকের ভেতরটা যেন চিৎকার করে ছিঁড়ে যাচ্ছে।
যাকে নিঃশব্দে, নিঃস্বার্থে ভালোবেসেছে—
সেই পুষ্পো…
মাত্র দুই দিনের মধ্যে অন্য কারোর হয়ে যাবে—
এই ভাবনাটাই আয়ানকে শ্বাস নিতে দিচ্ছে না।
রাতটা যেন আয়ানের বুকের ব্যথা শুষে নিয়ে আরও ভারী কৱে দিচ্ছে।
চাঁদটা মাথার ওপর—
কিন্তু তার আলোও যেন আজ শীতল, নির্মম।
পুষ্পো হাসছে…
অন্য কারো সাথে বিয়ে হবে…

এ চিন্তাতেই
তার বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে ।
হয়তো এতদিন ওকে দেখে যেভাবে
চোখে প্রেম লুকিয়ে রেখেছে—
কেউ বুঝতে পারেনি।
ভালবাসা কখনো উচ্চস্বরে চেঁচায় না—
নিঃশব্দেই সবচেয়ে বেশি জ্বালায়।
আয়ানের হাত কাঁপছে—
একটা ছেলে…যে সবসময় দৃঢ় ছিল, হাসিখুশি ছিল
আজ ভেঙে চুরমার।
সামনে বিশাল খোলা আকাশ
আর সে আকাশের দিকে তাকিয়ে
দু’হাত তুলে হাঁটুতে ভর করে দাঁড়ায়—
গলার স্বর কেঁপে ওঠে কান্নায়—
আয়ান: “হে আল্লাহ…
আমি তো বেশি কিছু চাইনি…
শুধু ওকে চেয়েছি…

ওই একটা মানুষকে চেয়েছি…
যে আমার নিঃশ্বাসে মিশে আছে।”
তার কণ্ঠ ফেটে যায়—
“ও যদি অন্য কারোর হয়ে যায়…
তাহলে আমি বাঁচব কি করে?
আমি তো ওকে ছাড়া কল্পনাই করতে পারি না…”
কথা বলতে বলতে গলা আটকে আসে
চোঁখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।
মনে হয় এই কান্নার ফোঁটার মধ্যেই
তার সব আশা ডুবে যাচ্ছে।
“দাও না আল্লাহ…
দাও না ওকে।
ওকে অন্য কারোর হতে দেখতে…
আমি পারব না… আমি একদমই পারব না…”
হঠাৎ—

একটা গভীর কণ্ঠস্বর নিস্তব্ধতাকে ছিঁড়ে ফেলে—
ক্ৰিশ: “যদি পাস…
সারা জীবন আগলে রাখতে পারবি তো ওকে?”
আয়ান থমকে যায়।
চোখ মোছে— শরীর ঘুরাতে গিয়েও দম আটকে যায়…
ক্ৰিশ ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে—
চাঁদের আলোয় তার মুখটা আধা অন্ধকারে দৃঢ়, স্থির।
আয়ান দৌড়ে যায়— ক্ৰিশ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না থামাতে পারে না আর—
আয়ান: “একবার… শুধু একবার দিয়ে দে…
আমি ওকে কষ্ট পেতে দেব না!”
ক্ৰিশ আয়ানের কাঁধে আলতো চাপ দেয়—
চোখে একরাশ শান্তি, এক অদ্ভুত হাঁসি—
ক্ৰিশঃ “পুষ্পো আর তোর বিয়ে—পরশু।”
আয়ান যেন শ্বাস নিতে ভুলে যায়—
চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে—
আয়ান (কাঁপা স্বরে):

“সত্যি…?
সত্যি বলছিস…?”
ক্ৰিশঃ “আমি চরিত্রহীন নই।
বউ-বাচ্চা রেখে আবার বিয়ে করব?”
আয়ান স্তব্ধ… সত্তি তো সে তো ভুলেই গেছিলো ক্ৰিশ এৱ বিয়ে হয়ে গেছে।
আয়ানঃ আমি তোৱ বিয়েৱ কথা।
ক্ৰিশ দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে—
একটু হাঁসে—
“তুই এখনো অনেক কিছুই জানিস না…

mad for you part 39

যখন সব জানবি…
হয়তো প্যান্ট ভিজিয়ে দিবি ভয়ে।”
তারপর আঙুল তুলে বারণের ভঙ্গিতে—
“এখন এক কাজ কর—
এ্কটা হাগিস পড়ে আমাৱ ৱুমে আয়
অনেক কথা আছে।”

mad for you part 41