obsession vs love part 8
নিরুর কল্পনারাজ্য
—তোর সবচেয়ে পছন্দের মানুষটি কী এখানে আছে?
ঝিলিক আসার পর পরই সকলে মিলে ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলছিলো। মূলত আইয়ুশ কানে কানে তখন নির্ঝরকে এটাই বলেছিলো। ঝিলিকের সবচেয়ে প্রিয় খেলা এটাই। এটাতেই ঝিলিক সবচেয়ে বেশি ইন্টারেস্টেড সাথে এক্সাইটেড থাকে। মন খারাপ নিয়ে আসলেও এখন সকলের সাথে হাসি ঠাট্টার কারণে একমুহূর্তের জন্য সব ভুলে যায় সে। অথচ উপরিউক্ত প্রশ্নটি আবারও তার মনটা ভার করে তোলে। ঝিলিকের মুখখানা গম্ভীর হয়ে ওঠে। সহসাই গম্ভীরতায় জবাব দেয় রমণী,
—না নেই।
নির্ঝর সহ সকলে অবাক হলো। খানিক অভিযোগ নিয়ে তিয়া বললো,
—কেনো রে? আমরা তোর প্রিয় না?
ঝিলিক আমতা আমতা করে। আগে যখন ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলতো সেখানে সর্বদা আইয়ুশের উপস্থিতি বহাল থাকতো। সেখানে এই পছন্দের প্রসঙ্গ উঠলে সে নির্দ্বিধায় জবাব দিতো ‘হ্যাঁ আছে।’ অথচ আজ ভিন্ন উত্তর। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঝিলিক। সময়ের বিবর্তনে এমন কত উত্তরই না পাল্টে যায়। নিজেকে শুধরে ঝিলিক বলে,
—আমি হ্যাঁ বলতে চাইছিলাম। তোমরাই তো আমার সবচেয়ে পছন্দের তাইনা।
অতঃপর আবার শুরু হলো তাদের খেলা। হঠাৎ সাঁঝ এসে সেখানে উপস্থিত হয়। সে-ও এসে তাদের সাথে যুক্ত হয়।
—কিরে, আমাকে ফেলে কী করছিস তোরা? আর মণি, তোর হাতের কী অবস্থা এখন?
—ভালো আপু। এসো, আমার পাশে বসো।
সাঁঝ মুচকি হেসে তাদের পাশে গিয়ে বসলো। এবারে পালা পড়লো সাঁঝের আর ঐশীর। ঐশী তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে অবলোকন করার চেষ্টা করলো সাঁঝকে। ধীরকন্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো,
—ভাইয়ুর সাথে তোমার কতদিনের সম্পর্ক ছিলো?
সবাই ‘ও’ বলে চিৎকার করলেও ঐশী যেনো পরখ করে নিতে চাইলো কিছু। ঝিলিকের কেমন একটা মনে হলো। এসব প্রশ্ন তোলার কী খুব প্রয়োজন ছিলো? হয়তো এখন এমন উত্তর শুনতে হবে যার জন্য ঝিলিক প্রস্তুত-ই থাকবেনা। সাঁঝ আমতা আমতা করলো। নড়েচড়ে বসে হাসলো। এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলবে মাথায় এলোনা সঙ্গেই সঙ্গেই। যা মনে এলো তাই বলে ফেললো,
—ছ..ছয়, ছয় মাস!
ঝিলিক চোখদুটো বুজে নিলো। সে এমন কোনো উত্তরই ধারণায় রেখেছিলো। এরইমাঝে আবারও বোতল ঘোরানো শুরু হলো। দূর্ভাগ্যবশত এবার আবারও নির্ঝর আর সাঁঝের মাঝেই প্রশ্ন উত্তরের পালা এলো। সাঁঝ ফিক করে হেসে ফেললো। নির্ঝর নিভু নিভু চোখে চাইলো। তিয়া-তোতার দিলে চাইতেই তারাও ইশারা করলো। নির্ঝর প্রশ্ন করলো,
—ট্রুথ নিবে নাকি ডেয়ার?
—ট্রুথ!
—এবার ডেয়ার নাওনা প্লিজ!
সাঁঝ অনায়াসেই রাজি হয়ে যায়। নির্ঝর সে সুযোগ লুফে নিয়ে তাকে এক গুরুতর কাজ দেয়,
—যাও, গিয়ে ভাইয়াকে চুমু খেয়ে এসো!
সাঁঝ হতভম্ব হয়ে পড়লো। ঐশী আবারও মনে মনে ‘ইডিয়েট’ আওড়ালো। ঝিলিকের সহ্যক্ষমতা তুলনামূলক কম। এবারে তা সীমা পেরোতেই সে উঠে দাঁড়ালো। সকলে ভ্রু কুঁচকে শুধালো,
—কীরে বনু? উঠলি কেনো?
—ভালো লাগছেনা। তোমরা খেলো!
গম্ভীরমুখে এটুকু এরপর নিশ্চুপে প্রস্থান করলো ঝিলিক। ঐশী নির্ঝরের পানে কড়া চাহুনি নিক্ষেপ করলো। নির্ঝর ভ্যাবাচ্যাকা খেলো। বুঝে উঠতে পারলোনা কী থেকে কী হলো! সাঁঝ তার পিছু গেলো।
-—মণি, এই মণি। কী হলো তোর? হাতে ব্যাথা করছে?
যেতে যেতে থমকে যায় ঝিলিকের পা। চোখদুটো রক্তাব হয়ে আছে। হ্যাজেল রঙা মণিতে যা অশোভনীয়। পাতলা নরম অধরযুগল তিরতির করে কাঁপছে। সাঁঝ এসে সামনে দাঁড়ায়। কুঞ্চিত কপালে প্রশ্ন ছোঁড়ে,
—এই মণি। তোর কী ভালো লাগছেনা?
ঝিলিক হুট করে কেমন করে যেনো চাইলো। হয়তো সে চোখে কেবল অসহায়ত্ব ছিলো। কেমন ভগ্নস্বরে ঝিলিক শুধায়,
—আচ্ছা আপু! আইয়ুশ ভাই তোমায় বুঝি খুব ভালোবাসেন?
সাঁঝ হাসে। উত্তরে বলে,
—হ্যাঁ, অনেক ভালোবাসে।
—তোমায় বুঝি খুব আহ্লাদে রাখে?
—হ্যাঁ। সেসব আর বলতে!
—আর..আর তোমায় বুঝি প্রতিদিন খুব করে আদর করে?
সাঁঝ থমকায়। ঝিলিক হুট করে এমন সব প্রশ্ন কেনো করছে সে ঠিক বুঝে উঠতে পারলোনা। তবু লাজুক হেসে উত্তর দেয়,
—ধূর বোকা। এসব কেও জিজ্ঞেস করে?
ঝিলিকের চোখ-মুখ শক্ত হয় মুহূর্তেই। সাঁঝের লাজরঙা চেহারায় সে যেনো অনেককিছু খুঁজে পেয়েছে। বুকের ভেতরের ধুকপুকানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবারও বেশি ভেবে ফেলছে বোধহয়। মাইগ্রেনের ব্যাথাটা বাড়ছে। ঝিলিক ধীরপায়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে তার বোনকে। ফিসফিস করে বলে,
—তুমি খুব ভাগ্যবতী আপু। খুব ভাগ্যবতী!
অতঃপর ধীরে সুস্থে হেঁটে নিজের রুমে চলে যায়। সাঁঝ দ্বিধান্বিত চোখে চেয়ে থাকে। ঝিলিক রুমে ঢুকেই খট করে দরজাটা বেধে দিলো।
সন্ধ্যায় বেরিয়েছিলো আইয়ুশ। আসতে আসতে রাত হয়েছিলো বেশ। এরইমাঝে সকলে ডিনারে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক এক করে সকলে নিচে নামলো। মালিহা বেগম ছেলেকে দেখেই বললেন,
—আইয়ুশ, যা বাবা। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।
আইয়ুশ মাথা নেড়ে চলে যায়। ওখানে সাঁঝও উপস্থিত ছিলো। যার দরুণ সে ও আইয়ুশকে আসতে দেখে বেশ খুশি হলো। দ্রুত পায়ে একটা পানির গ্লাস উঠিয়ে তাতে পানি ঢেলে আইয়ুশের পিছু পিছু গেলো।
—শুনুন না, পানি খাবেন একটু?
ঝিলিক ডিনারের জন্য নিচে নামছিলো। এসব দেখে তার বিরক্তি আকাশছোঁয়া হলো। যখনই মনোবল বাড়ায় ঠিক তখনি এসব এসে চোখের সামনে পড়ে। ঝিলিক দেখতে পায়–আইয়ুশের ঘর্মাক্ত চেহারা, সুশ্রী মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সাঁঝ এগিয়ে এসে আইয়ুশের সামনে দাঁড়ায়। ঝিলিকের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসে। নিতে না পেরে চোয়াল শক্ত করে সে চলে আসে। আইয়ুশ তার পানে চেয়ে বিরক্ত হয়। সেই বিরক্তি গিয়ে পড়ে সাঁঝের ওপর। হালকা গর্জনে বলে,
—তোকে না বলেছি অতিরিক্ত লোক দেখানো কান্ড না করতে? তবু এসব কেনো করছিস? যা নিচে যা!
সাঁঝের হাস্যরত মুখখানা মিইয়ে গেলো৷ যতটা প্রফুল্লতায় সে পানি দিতে এসেছিলো ততটাই অবহেলায় আইয়ুশ তা অবজ্ঞা করে গেলো। সাঁঝের রাগ বিষন্নতা আকাশচুম্বী হলো। ক্ষোভে-দুঃখে তার হাতে থাকা গ্লাসটা ওমনিই ভেঙে গেলো। ঝরঝর করে ঝরে পড়লো অনেকখানি রক্ত। অথচ সেসবে হুশ নেই তার। তার কেবল ভাবনা আইয়ুশকে নিয়ে। সে নিচে গেলো না। কান্না পেলো তার। সেই কবে থেকে সে আইয়ুশকে ভালোবাসে। অথচ আইয়ুশ? কখনো ফিরেও তাকায়নি। একঘরে থাকছে; একে অপরকে দেখছে তবুও না। অবশ্য থাকছে আর কই? রাতে তো বাড়িতেই ফিরে না। দিনের বেলাতে তাও দু’একবার যা দেখা হয়। সাঁঝের যেনো হুট করে হুশ ফিরে। দ্রুতপায়ে হেঁটে তার নিজের রুমে চলে যায়। এখানে কেও এ অবস্থাতে দেখলে তাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করা হবে। নিজরুমে গিয়ে হাতটা ব্যান্ডেজে মুড়িয়ে নিলো।
আইয়ুশ আর সাঁঝ ছাড়া সকলেই খেতে বসেছে। সার্ভেন্টরা সার্ভ করছে সকলে। ঝিলিক সর্বদা আইয়ুশের পাশের চেয়াটা দখল করে বসতো। অথচ আজ উল্টো হলো। সে গিয়ে বসলো নির্ঝরের পাশটায়। নির্ঝর হতবাক হয়ে বললো,
—তুই আজ আমার পাশে?
ঝিলিক হাসলো কেবল। ততক্ষণে আইয়ুশ এসে বসেছে তার চেয়ারটায়। ঝিলিকের চেয়ারটা খালি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। সাঁঝও এলো পরপরই। এসেই ঝিলিকের চেয়ারটায় বসলো। ঝিলিক দেখলো তা। তার চেয়ারটাতেও জায়গা করে নিয়েছে অন্য কেও। ঝিলিক নিজেকে সামলায়। এসব এখন তাকে রোজ সহ্য করতে হবে। সুতরাং এসবে মন খারাপ না করাটাই ভালো। খাওয়ার মাঝে ওসমান মির্জা বললেন,
—ঝিলিক মামণি, তোমার স্যার আগামীকাল থেকে আসবে। কোনো সমস্যা নেই তো?
ঝিলিক দুপাশে মাথা নাড়ে। আইয়ুশ এমন কথায় ভ্রু কুঁচকায়। খেতে খেতে তার চামচ দুটো থমকে যায়। বাবার পানে চেয়ে শুধায়,
—কিসের স্যার?
—ঝিলিক তো এখন ভার্সিটিতে যেতে পারবেনা। তাই ভেবেছি ওর ভার্সিটির স্যারকেই এখানে নিয়ে আসি। ও আমার বন্ধুর ছেলে। তাই সমস্যা হবেনা। ভালো করেছিনা?
মুহূর্তেই আইয়ুশের মুখমন্ডলের পরিবর্তন দেখা যায়। ক্ষুদ্ধ স্বরে বলে,
—আর তুমি আমাকেই জানানোর প্রয়োজন মনে করলেনা?
ওসমান মির্জা অবাক হয়।
—তোমাকে কী জানাবো?
আইয়ুশের রাগ বাড়লো। রুক্ষ স্বরে দাঁত পিষিয়ে বললো,
—আসবেনা। এ বাড়িতে কোনো প্রফেসর অথবা ছেলে টিচার আসবেনা।
—সমস্যাটা কোথায় আইয়ুশ?
—আমি বলেছি আসবেনা মানে আসবেনা।
বলেই আইয়ুশ উঠে চলে যায়। মালিহা বেগম ছেলেকে ডাকলেন। বাকিরা হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো। কিছুই বুঝলোনা। ঝিলিক নিজেও কিছু বোঝেনি। তাইতো সেও পরপরই বলে,
—আসবে বড়বাবা। আমি পড়বো ওনার কাছে। তুমি আসতে বলবে। খাওয়া শেষ আমার। উঠছি আমি।
অতঃপর সেও পিছু পিছু যায় আইয়ুশের। আইয়ুশ ঝিলিকের কথা শুনেছে তবু কিছু বলেনি। সে সোজা রুমে চলে যায়। দরজাটা আটকাতেই যাবে তার আগেই ঝিলিক এসে দরজা আটকায়। তেঁতে উঠে বলে,
—সমস্যা কী আপনার? কেনো আমাকে ভালোভাবে বাঁচতে দিচ্ছেন না?
আইয়ুশ ভ্রু কুঁচকে বলে,
—বাঁচতে কে মানা করলো তোমাকে?
—আপনি মজা পেয়েছেন? আমার লাইফ নিয়ে ভাবতে কে বলেছে? সে অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে? আমি দিয়েছি? কাল স্যার আসবেন। আসবেন মানে আসবেন।
—আমার কথা কানে যায়নি বোধহয়!
—কেনো এমন করছেন আপনি? নিজের মতো করে বাঁচতে চাইছি যখন তখন বাঁচতে কেনো দিচ্ছেন না? আপনি জানেন না পড়াশোনা নিয়ে আমি কতটা সিরিয়াস?
আইয়ুশ ব্যথিত চোখে তাকায়। এখন ঝিলিককে কীভাবে বলবে যে–ঝিলিককে সে অন্যকারো সাথে দেখতেই পারবেনা।
—আমার ওপর কথা বলবে না একদম। যা বলেছি তাই!
—কে আপনি? আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেও হন না আপনি। আপনার কথা আমি শুনবো কেনো?
—আমি তোমার কেও না তাই।
হাসে ঝিলিক। তাচ্ছিল্যে বলে,
—অধিকার ফলাচ্ছেন?
—হ্যাঁ ফলাচ্ছি।
—কিসের ভিত্তিতে?
আইয়ুশ চুপ থাকে। কিছু বলে উঠতে পারেনা। ঝিলিক দাঁত কিড়মিড় করে ফের বলে,
—যার নিজের স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার সাহস থাকেনা তার মুখে এসব মানায় না। কাপুরুষদের এমন কার্যকলাপ বড্ড বেমানান।
—কাপুরুষ?
—বড়ো আপু বললো তার সাথে তোমার ছ’মাসের সম্পর্ক!
আইয়ুশ অবাক হয়। এমন কিছু বলেছে? কিন্তু কেনো? তবু নিজেকে গম্ভীর রেখে বলে,
— তো?
— আমাদের বিয়ের প্রায় ন’মাস চলছে!
—বাড়তি কথা রাখো আর শুতে যাও।
—এতো সুন্দর করে ঠকালেন? ঠিক কতবার আপুকে মনে রেখে আমাকে ছুঁয়েছেন বলতে পারবেন?
আইয়ুশের কাছে মনে হলো এমন কথা শোনার চেয়ে মরে যাওয়া উচিত ছিলো। ঝিলিক ফের বললো,
— ছি্হ! নিজের ওপরই ঘৃণা হচ্ছে আমার এখন। ইচ্ছে করছে নিজের গায়ে এসিড ঢেলে হলেও আপনি নামক সকল কলঙ্ক মুছে দিই।
চোখে জল নামতে নামতেও সামলায় নিজেকে ঝিলিক। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে আইয়ুশের চোখে চোখ রাখে। তর্জনী আঙুল উঁচিয়ে বলে,
—এখন থেকে আপনি হারে হারে বুঝবেন। ঝিলিক মির্জা কী! ইউ উইল ডেফেনেটলি রিগ্রেট ইট মি.আইয়ুশ মির্জা!
ঝিলিক চলে যায়। আইয়ুশের হুট করে বুকে ব্যাথা শুরু হয়। শ্বাস কষ্টে তার নিঃশ্বাস আটকে আসতে চায়। কী বলে গেলো মেয়েটা? ওর স্পর্শ এসিড দিয়ে হলেও মুছে দিতে চায় ও? কী করে বলতে পারে ও এমন। চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসে ওর। প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের মাঝেও সে বারংবার ঝিলিকের নাম জপতে থাকে যেনো এই নামটাই তাকে বাঁচাবে। ফিসফিসিয়ে নিজেকেই নিজে স্বান্তনা দেয়,
—ঝিলিক! ঝিলিক শুধু আমার।
পরদিন ভীষণ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছে ঝিলিক। বলা চলে ঘুম হয়নি তার। তাই সকাল প্রায় আটটার দিকে বেলকনিতে এসে অনেককিছু ভাবছে সে। হাতে তার গরম কফি। আইয়ুশকে যে করেই হোক একটা শিক্ষা দিতেই হবে। তার সাথে নাটক করার পরিণাম কতটা ভয়াবহ পরিণাম সে দেখাবে। ইতোমধ্যেই অর্ধেকটা প্ল্যান করে ফেলেছে।
—হোয়াট দ্যা হেল!
কারও চিৎকারে সৎবিৎ ফিরে তার। নিচের পানে চোখ যেতেই চোখদুটো বড় বড় হয়ে যায়। তার হাতে থাকা কফি কোনো একটি ব্যক্তির গায়ে পড়েছে। তার ধবধবে সাদা শার্টখানায় কফির দাগ ভালোভাবেই বসেছে। বেখেয়ালে কবে যে কফি ফেলে দিয়েছে খেয়াল করেনি সে। তার দ্বিতীয় বেলকনিটা সোজা তাদের বাড়ির গেইটের দিকে পড়ে। ঝিলিক তড়িঘড়ি নিচে নামলো। লোকটা তখনও সেখানে বিরক্তিমুখে দাঁড়িয়ে নিজের শার্ট ঝারছে। ঝিলিক প্রচন্ড তাড়াহুড়োয় বলে,
—স্যরি স্যরি, আমি ইচ্ছে করে করিনি। আ’ম এক্সট্রেমলি স্যরি।
পুরুষটি এবার ঝিলিকের পানে আরও বেশি বিরক্ত চোখে তাকায়। ততক্ষণে ওসমান মির্জা সেখানে এসে উপস্থিত হন। পুরুষটিকে দেখেই তিনি বলে উঠেন,
—আরে, তুমি এসে পড়েছো? ওখানে কেনো? ভেতরে এসো? ঝিলিকের সাথেও পরিচয় হয়ে গেলো দেখছি। বাহ!
ঝিলিক ভ্রু কুঁচকায়। জিজ্ঞেস করে,
—কে উনি বড় বাবা?
—মামণি উনিই তো তোমার স্যার!
ঝিলিক শকড হয়। এই পুরুষটি তার স্যার? অথচ দেখতে ধবধবে সাদা, নীল রঙা চোখের মণি, বলিষ্ঠ তার দেহগঠন। ঝিলিক ভাবতেই পারেনি তার ভার্সিটির প্রফেসর এমন সুদর্শন কেও হতে পারে। এবার তার অস্বস্তি হয়,
—স্যরি স্যার। আমার ইনটেনশন এমন ছিলোনা।
পুরুষটি তখন রাশভারি কন্ঠে বলে,
—ইটস ওকে!
ওসমান মির্জা ভ্রু কুঁচকান। কিছু না বুঝে বলেন,
—কী হয়েছে ঝিলিক?
পুরুষটি গম্ভীর স্বরে বললো,
—নাথিং সিরিয়াস।
আইয়ুশ তখন বাড়িতে ফিরছিলো। ক্লান্ত শরীরে ;কোট হাতে নিভু নিভু চোখে হঠাৎ করে সকাল সকাল কোনো পুরুষকে তাদের বাড়িতে তাও আবার ঝিলিকের পাশে দেখে তার মুখমন্ডলের পরিবর্তন হয়। ওসমান মির্জা তাকে দেখতেই হেসে ফিরে চাইলেন তার পানে। পরিচয় করিয়ে দিতে দিতে বলেন,
obsession vs love part 7
—আরে আইয়ুশ, তুমিও চলে এলে? দেখো তুমি, ওর কথা-ই বলছিলাম। ও সায়ন, সায়ন চৌধুরী। আর সায়ন ও হলো আমার ছেলে..আইয়ুশ…
তার থেকে কথা কেড়ে নিতে নিতে ঝিলিক বললো,
—ভাই, আইয়ুশ ভাই। আর আইয়ুশ ভাই, উনি আমার সেই নতুন স্যার যাকে আপনি গতকাল আসতে বারণ করেছিলেন।
বলেই কুটকুটে হাসে সে। ওসমান মির্জা কেশে উঠলেন। এভাবে সায়নের সামনে ঝিলিক এটা বলে ফেলবে তা তিনি ভাবেননি। আইয়ুশের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। ভাই? এই ছেলেটার সামনে তাকে ভাই বানিয়ে দিলো?
