Home obsession vs love obsession vs love part 7

obsession vs love part 7

obsession vs love part 7
নিরুর কল্পনারাজ্য

ঝিলিক নিজের প্র্যাগনেন্সি কিটটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলো। ওটা সে সযত্নে রেখে দিয়েছে নিজের ড্রয়ারে। বারংবার তার আইয়ুশের বলা কথাগুলো মাথায় বারি খাচ্ছে। এতে যেনো মাথা সম্পূর্ণ ফেটে যাচ্ছে। অতিরিক্ত চিন্তার ফলে মাইগ্রেনের ব্যাথা জেঁকে আসেছে। ওষুধেও ঠিক হচ্ছেনা। শুয়ে শুয়ে মনে করছে সেসকল দিন। যেদিন তাদের বিয়ে হলো, আইয়ুশ বলেছিলো সবাইকে জানানোর কথা। ঝিলিক-ই আপত্তি জানায়। অথচ এখন? ঝিলিক নিজের পেটে হাত বোলায়। নিজের অংশকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—তোমার বাবা তোমার মাকে কখনো ভালোবাসেনি। তোমাকেও সে চায়না। অথচ তোমার মা চিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছে আর ওদিকে সে নিজের বউ নিয়ে দিব্বি রাত্রি যাপন করছে। তোমার মায়ের কী তা করা উচিত?
ফের তার মাথায় ভাবনারা উঁকি দেয়। আইয়ুশ কী সত্যিই তাকে কোনোদিন ভালোবাসেনি? তবে যে তখন কতো কতো পাগলামো করতো। আবারও মাথায় আসে তার করা সকল অপমান। সে তো তাকে মরে যেতে বলেছিলো৷ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছে সে। তাকে যে দেখতেও যায়নি সে তাকে ঠিক কতটুকু ভালোবেসেছে? উঁহু বাসেনি তো। ঝিলিক হাসে। পাগলের মতো হাসে। হাসতে হাসতে ডুকরে ওঠে। বলে,
—তুমি কেনো আমায় ভালোবাসলেনা আইয়ুশ? আমি কীভাবে সহ্য করবো তোমার শরীরে অন্যকারো স্পর্শ। কীভাবে থাকবো তোমায় ছাড়া? তুমি একবারো ভাবলে না আমার কথা। যারা ঠকায় তারা কেনো ঠকে যাওয়ার মানুষটির কথা একবারও ভাবেনা? তারা কেনো ভুলে যায় যে-তারাও মানুষ। কতটা যন্ত্রণা নিয়ে তারা বাঁচে এটা কেনো ভুলে যায়? তারা কেনো আমাদের মতো মেয়েদের বেছে নিতে পারেনা। কেনো আমরা সবসময় অপশন হয়েই রয়ে যাই? তুমি কীভাবে ভুলে গেলে তুমি আমায় ভালোবাসতে?

যত যাই হয়ে যাক না কেনো ঝিলিক তো জানে আইয়ুশ তার স্বামী। তারই বাচ্চার বাবা। অথচ তার কাছে কোনো পথ নেই এটা প্রমাণ করার। নেই কোনো ইচ্ছে। যে মানুষের সাথে একসময় নিজের সুখ-দুঃখ ভাগ করেছে, কত রাত তার বাহুডোরে কাটিয়েছে সে যখন অন্য নারীকে ছোঁবে? এটা কল্পনা করতেই যেনো ঝিলিকের প্রাণ ছটফট করে ওঠে। সে সহ্য করতে পারেনা। যতই স্ট্রং হওয়ার চেষ্টা করুক না কেনো। ভালোবাসলে ভোলা যায় এতো সহজে? ঝিলিক সিদ্ধান্ত নেয় তবু। সে আর কখনো আইয়ুশের সামনে দূর্বল হবেনা। কখনোই না। উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায় সে। চোখের পানি মুছে নিজে ধাতস্থ করে। কিছু কথা বলার জন্য শাহদাদ মির্জার রুমের দিকে পা বাড়ায়। অথচ দরজা খোলা মাত্রই নজরে আসে আইয়ুশ বেরোচ্ছে। পিছু পিছু সাঁঝ ও। ঝিলিকের হৃদপিণ্ড টা যেনো ধক করে ওঠে। শুকনো ঢোক গিলে সে। অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় সে৷ সাঁঝ তাকে দেখে পিছু ডাকে,

—আরে, মণি? কেমন আছিস এখন?
ঝিলিক স্পষ্ট স্বরে উত্তর দেয়,
—ভালো!
—কিছু লাগবে? এনে দিবো?
ঝিলিক তার দিকে ফিরে তাকায়। আইয়ুশ তখন তার দিকে তাকিয়ে। আইয়ুশের থেকে চোখ ফিরিয়ে বিড়বিড় করে সে,
—যাকে সবথেকে বেশি প্রয়োজন ছিলো তাকে নিয়েই তো বসে আছো আপু; আর কীই-বা লাগতে পারে আমার!
মুখে বলে,
—না, একটু বাবার কাছে যাচ্ছি।
বলেই আবারও এগিয়ে যায়। রুমটা কী তার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো? যার থেকে পালাতে চাইবে এখন সবসময় শুধু তাকেই দেখে যেতে হবে। ঝিলিক নিজেকে সামলে নিচতলায় যায়। শাহদাদ মির্জার রুমে ঠকঠক আওয়াজ করে। শাহদাদ মির্জা ছিলেন না বোধহয়। চৈতী চৌধুরী মেয়েকে দেখেই কেঁদে ফেললেন।ব্যান্ডেজ বাধা হাতে চুমু খেলেন। জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইলেন,

—আমাকে ক্ষমা করে দিস মা, আমি অনেক বেশি রেগে গিয়েছিলাম। আমি তোর জীবনের আগে সম্মানকে বেছে নিয়েছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দে!
ঝিলিক মাকে স্বান্তনা দেয়,
—আমি ঠিক আছি মা। আমাকে নিয়ে ভেবোনা। বাবাকে বলো আমি ডাকছি।
বলেই সে ওপরে চলে আসে। চৈতী বেগম মেয়ের পানে চেয়ে থাকে। না জানি কতটা কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা। তিনি আঁচলে মুখ ঢেকে ডুকরে উঠলেন। কিছুক্ষণ পরই শাহদাদ মির্জা এলেন। কিছুটা চিন্তিত মুখশ্রীতে। তাকে দেখতেই চৈতী চৌধুরী বললেন,
—আপনাকে ঝিলিক ডেকেছে।
শাহদাদ মির্জা তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। হুট করে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। চৈতী মির্জার বুঝতে অসুবিধে হলোনা যে তার স্বামীর মনে এখন হয়তো খুব ঝড় বইছে। তিনিও জড়িয়ে ধরলেন। বললেন,

—সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করবেন না।
শাহদাদ মির্জা মুখ তুলে বললেন,
—তোমার মুখের দিকে তাকালেই আমার সকল দুশ্চিন্তা শেষ হয়ে যায়। তুমি না থাকলে আমার কী যে হতো চৈতী!
তিনি হাসেন। বিয়ের এতো বছর পরও তাদের ভালোবাসা এক চিলতেও কমেনি। প্রেমের বিয়ে ছিলো তাদের। কেও কেও হয়তো আসলেই সারাজীবন আগলে রাখতে জানে।
শাহদাদ মির্জা মেয়ের রুমে গেলেন।
—মা, ডেকেছো?
ঝিলিক তখন বসে ছিলো।
—হ্যাঁ বাবা। এসো, পাশে বসো!
তিনি গিয়ে কাউচে গিয়ে বসলেন। মেয়ের কাধ জড়িয়ে বললেন,
—কী হয়েছে মা?
—বাবা, আমি চাই এই বাচ্চাটাকে রাখতে চাই।
শাহদাদ মির্জা কী বলবেন ভেবে পাননা। বলেন,
—তুমি নিশ্চিত মা? এই সমাজে সিঙ্গেল মাদার হয়ে থাকা খুব বেশিই কঠিন। অনেক কটু কথা শুনতে হবে তোমায়।
—তুমি তো পাশে থাকবে বাবা, থাকবেনা?
শাহদাদ মির্জা হাসেন।

—সবসময় তোমার পাশে থাকবো মা।
—আমার শুধু তুমি হলেই হবে, বাবা!
শাহদাদ মির্জা কিছু বলেন না। ঝিলিক আবারও বলেন,
—বাবা আমি চাইনা এই বাচ্চার বাবা সম্পর্কে কেও কোনো কিছু বলুক আর।
শাহদাদ মির্জা চমকে উঠলেন। বললেন,
—কী বলছো মা? ওই কুলাঙ্গারকে এতো সহজে ছেড়ে দিবো? অসম্ভব।
—তুমি কী চাওনা আমি সুখী হই?
—হ্যাঁ চাই, কিন্তু…..
—তাহলে কোনো কিন্তু নয় বাবা। আমি তার নামটাও শুনতে চাইনা।
শাহদাদ মির্জা আর কিছু বলেননা।

মাগরীবের নামাজ পড়ে সবে মাত্র ফিরেছে আইয়ুশ। গায়ে এখনো সাদা পাঞ্জাবি জড়ানো। মাথার টুপিটা খুলে হাতে রেখেছে। নির্ঝররা সবাই মিলে ঝিলিকের জন্য একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করছে। সারপ্রাইজ বলতে ঝিলিকের পছন্দের সব খাবার। নির্ঝর তার বড় ভাইয়াকে দেখে ডাক দেয়।
—আইয়ুশ ভাই, এদিকে এসো। কী করছি দেখো বনুর জন্য। নিশ্চিত দেখলে খুশি হবে।
সে এগিয়ে যায়। ওখানে অনেক ধরণের স্ন্যাকস রয়েছে। যার মধ্যে ফুচকা দেখে তার মেজাজ চরমে পৌঁছায়। এই সন্ধ্যার সময় যদি ঝিলিক এসব খায় তাও এ অবস্থায় তাহলে তার অবশ্যই ফুড পয়েজন হবে। সে দ্রুত কন্ঠে বলে,
—এসব কী হ্যাঁ? সরা এসব। ও এমনিতেই অসুস্থ। ও এখন এসব খেলে ওর পেটের অবস্থা কী হবে বুঝতে পারছিস?
সকলে থতমত খেয়ে যায়। হুট করে আিয়ুশ এতো হাইপার হলো কেনো? নির্ঝর ক্যাবলামার্কা হাসি দেয়। তাইতো। ঝিলিকের ফুড পয়েজনিং এর সমস্যা আছে। ওলট পালট, অসময়ে কিছু খেলেই পেটের অবস্থা কাহিল হয়ে যায়৷ সে ওখান থেকে ফুচকা, চটপটি, কিছু কোল্ডড্রিংকস সরিয়ে রাখে। আইয়ুশ তবু চোখ রাঙিয়ে তাকায়। এবার সকলেই সবকিছু আবারও প্যাক করে নেয়। সকলের মন খারাপ হয়ে যায়। তারা তো শুধু ঝিলিকের মনটা ভালোই করতে চেয়েছিলো। ঐশীর রাগ আরও বেশি বেরে যায়। বড় ভাইয়ের সাথে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতেও তার যথেষ্ট সংকোচ হচ্ছে। সে তেঁতে ওঠে,

—কী সমস্যা তোমার? নিজেও ভালো রাখবেনা আবার আমাদের ভালো রাখতে দেবেনা?
আইয়ুশ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ঐশী বুঝতে পারে সে কী বলে ফেলেছে। নির্ঝর ওর মাথায় গাট্টা মারে। বলে,
—এই, কাকে কী বলছিস হ্যাঁ?
তিয়া-তোতাও হা করে তাকিয়ে থাকে। সাঁঝ তাদের মাঝে নেই। মূলত ঐশীই ছলে-কলে তাকে একটা কাজ ধরিয়ে দিয়ে এসেছে। সে মুখ সামলে বলে,
—না মানে, ভাইয়া আমাদের প্ল্যান নষ্ট করে দিলো তো তাই আরকি।
নির্ঝর বিরক্ত হয়।
—তুই কী পাগল হলি ঐশী?
ঐশী রেগে যায়।
—পাগল হবে তুমি।
তাদের মাঝে ঝগড়া বেজেই যাচ্ছিলো। আইয়ুশ থামায়। বলে,
—চুপ কর তোরা। আর এসব সরিয়ে রাখ। ওর চোখে যাতে না পড়ে।

যেতে যেতে ফের ফিরে এলো। নির্ঝরের কানে কানে কিছু একটা বলেই চলে গেলো সিড়ি বেয়ে। ঝিলিক সবেই নিচে নামছিলো। পায়ে পা লেগে পড়ে যেতে যেতেও বেঁচে গেলো আইয়ুশের সঠিক সময়ে আগমনের কারণে। ঝিলিক চোখদুটো বুজে ছিলো। পড়েনি দেখে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে চোখ খুলে দেখলো সে আিয়ুশের বলিষ্ঠ বাহুতে আবদ্ধ। ভ্রু কুঁচকে গেলো তার। সে সরে আসার চেষ্টা করতেই আইয়ুশ তার কোমড় ছেড়ে সরে দাঁড়ায়। আইয়ুশের কুঁচকে থাকা ভ্রু উপেক্ষা করেও সে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। আইয়ুশ তাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
—এভাবে বাচ্চার জন্ম দিবি? চলা-ফেরারই তো ঠিক নেই।
ঝিলিক হাসে।

—এসব আবার কে বলছে? যে কিছুক্ষণ আগেই বাচ্চাটাকে মারার কথা বলেছিলো সে?
আইয়ুশ কিছু বলেনা। চোয়াল চক্ত হয়ে আসে তার্ চলে যেতে উদ্যত হয়। ঝিলিকের রাগটুকু যেনো উগড়ে আসে। সে খুব ভালো করেই জানে আইয়ুশ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। তাই সে বলে,
—নামাজ পড়ে কী চাইলেন? নিশ্চয় আমার আর আমার সন্তানের উচ্ছেদের জন্য দোয়া করেছেন যাতে আপনার জীবন একদম পরিষ্কার হয়ে যায়?
আইয়ুশ চেয়ে থাকে তার পানে। চোখদুটো ভরে আসতে চাই। কিছু বলতে গিয়েও আটকে আসে তার কন্ঠ। ততক্ষণে ঝিলিককে তিয়া ডাক দেয়। সে নিচে চলে যায়। আইয়ুশের চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পরতে চায়। অথচ পরে না। বুকের মধ্যে কেমন তীব্র ব্যাথা অনুভব হয়। তবু নিজেকে সামলে ওপরে যায়।
ঝিলিক নামার সময় ওসমান মির্জার দেখা পায়। ঝিলিককে দেখে তিনি একগাল হাসেন। বলেন,

—কেমন আছো মামণি?
—ভালো বড়বাবা।
—কিছু প্রয়োজন তোমার? হাতের ব্যাথা কেমন?
—ঠিক আছি বড়বাবা।
—ঝিলিক মা, একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ঝিলিকের কপালে ভাঁজ পড়ে।
—কী সিদ্ধান্ত বড় বাবা?
—যেহেতু তুমি এখন অসুস্থ সেহেতু তোমার ভার্সিটির প্রফেসর এসে নাহয় তোমায় পড়িয়ে যাক? কী বলো? সামনেই তো তোমার সেমিস্টার শুরু হবে।
ঝিলিকের এই পরামর্শটা খারাপ মনে হলোনা। এসবের থেকে যত নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারবে তত সে ডিপ্রেশন থেকে বাঁচবে। তৎক্ষনাৎ সে রাজি হয়ে গেলো। ওসমান মির্জাও হেসে চলে গেলেন। ঝিলিক ভাবলো তাদের ভার্সিটির কোন প্রফেসর কে আসতে বলেছে জিজ্ঞেস করবে। তাই বলে,

obsession vs love part 6

—প্রফেসরের নাম কী বড়বাবা?
—নামটা…মনে পরছেনা মা।
—আচ্ছা ঠিক আছে।
তবু একটা প্রশ্ন থেকে যায় তার মনে, কোন প্রফেসর উনি?

obsession vs love part 8