Home obsession vs love obsession vs love part 6

obsession vs love part 6

obsession vs love part 6
নিরুর কল্পনারাজ্য

আইয়ুশ ভিডিওটি দেখে ফোনটি অদূরে ছুঁড়ে ফেললো। ফোনটি গিয়ে দেয়ালের সাথে বারি খেয়ে ভেঙে গেলো।।আইয়ুশ বিদ্যুৎবেগে দৌড়ে গাড়িতে গিয়ে উঠে বসলো। কানের ইয়ারপডসের সাহায্যে বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলো। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো কোনোরকম সংযোগ যাচ্ছেনা৷ আইয়ুশ এক এক করে সকলের নাম্বারে ফোন লাগলো। অদ্ভুতভাবে সকলের ফোন-ই বন্ধ। এমনকি মেনশনের প্রতিটি গার্ড, দারোয়ান এবং মেইডদেরও। আইয়ুশের কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে। হৃদপিণ্ড যেনো ভয়ে কাঁপছে। যত জোরে পারলো সে ড্রাইভ করে গেলো। মনস্পটে বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে সেই ভয়ানক ভিডিও। যেখানে কেও একজন–যার সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা ছিলো কালো মাস্কে মাথায় ছিলো কালো হ্যাট। সম্পূর্ণ কালোপোশাকে জড়ানো সেই ব্যক্তি জোরে জোরে হাসতে হাসতে তাদের বেজমেন্টে একটি বোমা ফিট করছে। যেটা রিমোট দ্বারা নিয়ন্ত্রণকৃত একটি বোমা ছিলো। লোকটি সেই রিমোট নিয়ে বারংবার নড়াচড়া করছিলো। হঠাৎ একসময়ে সেই রিমোটের একটি রেড বাটনে বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা চাপ প্রয়োগ করে এবং সাথে সাথে তা বিকট শব্দে……….

নাহ! সে আর ভাবতে পারেনা। আধঘন্টার পথ শুধুমাত্র দশমিনিটে পৌঁছে গেলো। পৌঁছেই কোনোমতে কাঁপা হাতে গাড়ির দরজা খুললো। খুলেই মির্জা’স মেনশনকে একদম অক্ষত দেখে তার হাঁটু ভেঙে এলো। ধপ করে সে নিচে বসে পড়লো। চুলগুলো সব এলোমেলো। কী বিভৎস দেখাচ্ছে তাকে! পুরুষমানুষের কাঁদতে নেই-এমন নিয়মের ধার না ধেরে আইয়ুশ দুহাত দ্বারা চোখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠলো। কাঁদার সাথে সাথে তার গা দুলিয়ে উঠলো। সামনে গেইটের সামনে দাঁড়ানো একজন সিকিউরিটি গার্ড আইয়ুশের গাড়ি দেখে গেইট খুলতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো। তার মনে বারংবার প্রশ্ন এলো,

-‘আইয়ুশ কাঁদছে? এ-কি সত্যি নাকি তার বিভ্রম?’
সে সরাসরি সামনে যেতে পারেনা। আইয়ুশ নিজেই উঠে দাঁড়ায়। তার হৃদপিন্ড এখনো লাফাচ্ছে দ্বিগুণ আওয়াজে। নিজে ধাতস্থ করে দ্রুতপায়ে বাড়িতে ঢুকলো। সরাসরি ওপরতলায় গেলো। ঝিলিকের রুমের সামনে এসে থমকে গেলো তার পা। দরজাটা খোলা। ভেতরে সকলে হাসিমজা করছে। সে যেতে যেতেও যেতে পারেনা। অনেক কথা বলতে চেয়েও বলতে পারেনা। শুধু অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে থাকে হাসতে থাকা ওই রমণীর পানে; ‌যে এখন হাসছে! তাকে হাসতে দেখে আইয়ুশের অশান্ত হৃদয় শান্ত হয়। মোহময়ী চোখে সে নজর দেয় তার দিকে। মনে মনে বলে ওঠে,

—কতদিন তোমায় হাসতে দেখিনা, প্রাণ আমার! তোমাকে পেতে আমি সব করবো। যা যা আমার করা প্রয়োজন সেসব আমি করবো। আই প্রমিজ, আমরা খুব হ্যাপি হবো!
একধ্যানে চেয়ে রয় সে ঝিলিকের পানে। হঠাৎ সাঁঝের ডাকে তার ধ্যান ফেরে। বলে,
—আরে, আপনি ওখানে কী করছেন? ভেতরে আসুন না।
মুহূর্তেই আইয়ুশের নরম অভিব্যক্তি বদলে গেলো। বেরিয়ে এলো তার কঠিন সত্ত্বা। সে কিছু না বলে চলেই যাচ্ছিলো। ফের তিয়া-তোতাও ডেকে ওঠে,
—ভাইয়ু, এসো। এদিকটা এসো।
আইয়ুশ ভেতরে যায়। তাকে দেখে ঝিলিকের হাসি মিইয়ে যায়। সহসাই মুখ কালো হয়ে আসে৷ আইয়ুশ নির্ঝরকে উদ্দেশ্য করে বলে,
—তোকে ফোন করছিলাম না? পাচ্ছিলাম না? কেনো? তিয়া-তোতা, ঐশি তোদের ও তো ফোন করেছি। কী হয়েছে তোদের ফোনের?
নির্ঝর বলে,

—জানিনা ভাইয়া, আমাদের সবার নেটওয়ার্ক হুট করে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে সাথে ওয়াফাই এর রাউটার এও কী জানি হলো। নেটই পাচ্ছিলাম না কোনো।
—সবার একসাথে?
—হ্যাঁ। সবারই।
আইয়ুশ কপালে ভাঁজ পড়লো। নির্ঝর ফের বলে,
—ভাইয়া একটু দেখো তো! আমার একটা ইম্পরট্যান্ট কল করার ছিলো।
আইয়ুশ কিছু বলেনা। বেরিয়ে আসার আগে সাঁঝের স্বর ভেসে আসে,
—শুনুন না, কফি আনবো?
আইয়ুশ আগ্নেয় চোখে তার পানে চায়। চোয়াল শক্ত হয়ে আসে তার। হাত মুষ্টিমেয় করে নিজেকে সামলায়। কিছু না বলেই সেখান থেকে চলে যায়। সাঁঝ ক্ষীণ হাসে। ঝিলিক বিছানার কম্ফোর্টার চেপে ধরে হাতের মাঝে। সাঁঝ পরিস্থিতি সামলাতে বলে,

—টায়ার্ড বেশি হয়তো।
ঐশি কিছুটা আন্দাজ করে। সাথে অবাকও হয়। সে সময় পায়নি আইয়ুশের সাথে আলাদা কথা বলার। বাকিরা নিজেদের মাঝে আলোচনায় মত্ত। সাঁঝ উঠে গিয়ে আইয়ুশের পিছু পিছু যায়। সেদিকপানে চেয়ে ঝিলিকের গলা শুকিয়ে আসে। এরইমাঝে নির্ঝর বলে ওঠে,
—তুই চিন্তা করিসনা বনু, তোর এ-অবস্থার জন্য যে-ই দায়ী হোক না কেনো তাকে আমি দেখিস কী হাল করি!
হুট করেই সম্পূর্ণ মহল ঠান্ডা হয়ে গেলো। সকলেই তার পানে চোখ বড় করে তাকালো। নির্ঝর ভড়কে গেলো। ঐশী ফিসফিসিয়ে বলে,
—ইডিয়েট কোথাকার।
ঝিলিক মলিন হাসে। বলে,
—তার প্রয়োজন নেই ছোট ভাইয়ু। আমি তাকে নিয়ে কিছু বলতেই চাইনা।
তিয়া সবকিছু ঠিক করতে বলে,
—আরে ছাড়। ও তো একটা কাপুরুষ। ওকে নিয়ে কথা বলে আমরা আমাদের টাইম কেনো ওয়েস্ট করছি?
ঝিলিক হাসে। তারা যদি জানতো যে তাদের আদর্শবান ভাই আইয়ুশ মির্জা-ই তার এ অবস্থার জন্য দায়ী তখন তারা কী করতো?

আইয়ুশ রুমে আসতেই তার ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসে। আসা মাত্রই শাওয়ার নিয়ে বেলকনিতে বসে সিগারেট ফুঁকছিলো সে। হঠাৎ ফোনের শব্দে তার বুজে রাখা চোখ খুলে গেলো। সেখানে লিখা,
-‘IT WAS A DEMO, BUT IF YOU WANT I CAN SHOW YOU THE WHOLE PICTURE.’
FROM
MK!
রাগে আইয়ুশের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। সে চেক করে দেখতে চায় এই মেসেজ কোথা থেকে এসেছে। অথচ সে কিছুই পায়না। ওই নাম্বার ততক্ষণে ডিজেবল হয়ে গিয়েছে। সে নাম্বারে ফোন দেয় সে। বন্ধ। চাইলেও সেই নাম্বার ট্র্যাক করা অসম্ভব। কিছুক্ষণ আগের ভিডিওটা-ওটা একটা নকল ভিডিও ছিলো যা সম্পূর্ণ তাকে ভয় দেখাতে তৈরি করা হয়েছিলো। তবে যে জন তাদের মেনশনের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক হ্যাক করেছে সে ঠিক কতটা পাওয়ারফুল তা আইয়ুশের হয়তো ধারণারও বাইরে। অবশ্য পাওয়ারফুল নাহলে কী আর এতো বড়…..
ওয়াইফাই অফিসে ফোন দেওয়ার পরই জেনেছে সে। এখন সব ঠিকঠাক। নেটওয়ার্কও আছে।
সে উঠে যায়। কী করবে তার বুঝে আসেনা। রায়ানকে মেসেজ দিতে গিয়েও দিয়ে উঠতে পারেনা। সাঁঝ এসে তাকে ডাকে,

—আপনি কিছু খাবেন? কফি অথবা স্ন্যাকস? কিছু আনবো?
আইয়ুশ শান্ত চোখে তার দিকে তাকায়। বলে,
—সাঁঝ, তুই কী বড্ড বাড়াবাড়ি করছিস না?
সাঁঝ কাচুমাচু করে। বলে,
—আপনিই তো বলেছিলেন হাসব্যান্ড ওয়াইফের অভিনয় করতে হবে।
—তা বলে কী তুই সত্যি সত্যি বউয়ের মতো বিহেভ করবি যখন-তখন?
—স্যরি।
আইয়ুশ কিছু না বলেই উঠে চলে যায়। সাঁঝের চোখদুটো ভরে আসে। একমাত্র ভালোবাসে বলেই আইয়ুশের এমন উদ্ভট শর্তে সে রাজি হয়েছে। অথচ তবুও তাকে অবহেলা করছে মানুষটা। তবে কী তার মনেও গভীর কেও আছে? হয়তো আছে!

সন্ধ্যের আকাশের মাঝে অস্তগামী সূর্যের লালরশ্মি আকাশকে বেশ বিষন্ন একইসাথে সুন্দর করে তোলে। ঝিলিক তাই দেখছিলো। সে এখন সে সময়ের কথা মনে করছিলো যখন প্রথমবারের মতো সে প্রেমে পড়েছিলো আইয়ুশের। হুট করে একটা মানুষের এতোটাই পরিবর্তন হলো যে-যে পুরুষ একসময় তাকে ছাড়া বাঁচতে না পারার কথা বলতো এখন সে তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই রাজি নয়। এসব ভাবনার মাঝে পেছন থেকে এক রুক্ষ পুরুষালি স্বর ভেসে এলো,
—এতক্ষণে ছাদে কী করছো? নিচে যাও!
ঝিলিক চমকে তাকালো। তার হুট করে মনে হলো এই আইয়ুশ সেই আইয়ুশ যে তাকে খুব যত্নে রাখতো। অথচ তার হুট করে মনে হলো এই পুরুষটাই তাকে মরতে বলেছিলো। এবার তার মন কেমন যেনো নরম হলোনা। আত্মসম্মানবোধ ঝাপ্টে ধরলো তাকে। তাচ্ছিল্য করে বললো,
—এসব আপনাকে মানায় আইয়ুশ মির্জা!
—আপনি?
—তুমি করে বলার মাঝেও আপনজনের একটা ছায়া থাকে যা আপনার মাঝে নেই।
সে চলেই যাচ্ছিলো। আইয়ুশ-ই তাকে থামায়। কন্ঠটা তার কেমন নরম হয়ে আসে,

—ঝিলিক!
ঝিলিকের পা’দুটো থমকে যায়। সে পিছু ফিরে চায়। ভাবে-হয়তো আইয়ুশ এখন ক্ষমা চাইবে। অথচ তাকে সম্পূর্ণ প্রমাণ করে আইয়ুশ বলে,
—আমাকে ভুলে যাও ঝিলিক। আগের মতো আনন্দে বাঁচো!
—অথচ খুনটা আপনিই করেছিলেন।
একটু থামে আইয়ুশ। হঠাৎ রুক্ষ স্বরে বলে ওঠে,
—এবোরশন করে ফেলো। আর…আর নতুন করে বাঁচো।
ঝিলিক চোখ বুজে নেয়। কঠিন হতে গিয়েও এই পুরুষটির সান্নিধ্য পেললই সে ভেঙে পড়ে। কান্না গিলে বলে,
—একটুও মায়া হচ্ছেনা আপনার?
—মায়া কেনো হবে? কে তুমি?
—আমি আপনার কেও না?
—কেও হলে এভাবে ছাড়তে পারতাম?
—বাচ্চার জন্যেও কোনো টান অনুভব করেননি? বিয়ে করার আগে মনে হয়নি কেও একজন সেদিন সকালেই জেনেছিলো সে আপনার সন্তানের মা হবে?
আইয়ুশের বুক কাঁপে। চোখে চোখ না রেখে গম্ভীর স্বরে বলে,

—না, কী অনুভব হবে?
ঝিলিক তাচ্ছ্যিলে হাসে। বলে,
—আফসোস হবেনা তো পরে?
—আফসোস? কিসের আফসোস? আফসোস হওয়ার মতো কিছুই তো করিনি।
—এতো নিখুঁত অভিনয় ও সম্ভব?
—পৃথিবীতে সব সম্ভব।
অতঃপর আইয়ুশ না চাইতেও জিজ্ঞেস করে,
—এবোরশন করে ফেলবে সত্যিই?
ঝিলিক কঠোর হয়। কন্ঠে তেজ ঢেলে বলে,
—শাট আপ মি.মির্জা। আপনার মতো কাপুরুষ নই আমি। আপনি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারলেও আমি নিজের সন্তানের সাথে কখনোই বেঈমানী করতে পারবোনা। সরুন সামনে থেকে। আর কখনো আমার সাথে কথা বলার চেষ্টাও করবেন না৷
সে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। আইয়ুশ পেছন থেকে গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,

—ঝিলিক! স্ট্রং থেকো, ঠিক আগের মতো।
ঝিলিক হাসে। যেতে যেতে উত্তর দেয়,
—ঝিলিক সবসময়-ই স্ট্রং, শুধু আপনিই একটু স্বস্তা মনে করেছিলেন। যান যান, নিজের বউয়ের কাছে যান। আমার ব্যাপারে নাক গলানোর অধিকার আপনি রাখেন না।
ঝিলিক চলে যায়। আইয়ুশ সেদিকপানে চেয়ে থাকে।

obsession vs love part 5

আমেরিকার বিলাশবহুল মেনশনে বসে কেও একজন খুব উল্লাসে হাসে। যেনো সবকিছুই তার হাতের মুঠোয়। পুরুষালি নেশাক্ত স্বর চিঁড়ে বেরিয়ে আসে তার ভয়ানক কয়েকটি শব্দ,
—’LET ME DESTROY EVERYTHING FOR YOU, BABYGIRL’!

obsession vs love part 7