Tell me who I am 2 part 5
আয়সা ইসলাম মনি
নিশুতি রাত। চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার মৃদু শব্দ ছাড়া কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই। নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে একফালি চাঁদের আলোও নামছে না। অথচ ঠিক এমনই এক পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন ছায়ামূর্তি।
পলাশ অনুধাবন করল, আজ তার মুক্তির কোনো অবকাশ নেই। শীঘ্রই শাহানাও ওদের করালগ্রাসে আবদ্ধ হবে। OWL দানবরা শাহানাকে তাদের র*ক্তপিপাসু নখরছায়া থেকে নিস্তার দেবে, এমন মিথ্যে স্বপ্ন দেখাও নিতান্তই নির্বোধতা। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিন পুরুষ যেন মৃ*ত্যুদূতের মতো এগিয়ে আসছে। তাদের চোখে-মুখে কোনো আবেগ নেই। পলাশ জানে, এরা ধরলে রেহাই নেই। কারণ তাদের নিখুঁত হ*ত্যা, নিখুঁত গায়েবি, নিখুঁত শয়তানি বুদ্ধির কাছে সবাই হেরে বসে আছে।
পাশের সিটে বসে থাকা শাহানার নিশ্বাস গলার কাছে এসে আটকে যাচ্ছে। সে চোখ বড় করে পলাশের দিকে তাকালো। কাঁপতে কাঁপতে বলল, “সা-সা-স্যার… স্যার, এরা… এরা কারা? এরা কারা, স্যার?”
পলাশ থমকে গেল। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নয়তো তার আর শাহানার লা*শ একসাথেই পড়বে। ঠোঁট কামড়ে পকেট থেকে বন্দুকটা বের করে শক্ত হাতে ধরল। তার কপালে ঘাম নেই, কিন্তু হাতের তালু ভিজে গেছে। মৃ*ত্যু সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সে তার পেশাগত শপথ ভাঙতে চায় না। নিজের মনে বলল, “না, আর নয়। আজকে এই নরপিশাচদের শেষ করেই তবে মর’বো।”
সে শাহানার দিকে একবার তাকাল। মেয়েটার কপাল ঘামে চকচক করছে, চোখ দুটো স্থির হয়ে এসেছে আতঙ্কে, ঠোঁট কাঁপছে। পলাশ নিজেও ভয় পেয়েছে, কিন্তু তার চোখে এখন কেবল প্রতিজ্ঞা।
পলাশ নিচু গলায় বলল, “ভয় পেও না, মেয়ে। আমি থাকতে তোমার কিচ্ছু হতে দিব না। শুধু আল্লাহর নাম নিতে থাকো। এই শয়তানগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসটা জোগাড় করো। আজ হয় ওরা মর’বে, নয়তো আমরা। কিন্তু লড়াইটা করতে হবে।”
শাহানা তার কণ্ঠে দৃঢ়তা টের পেল। কিন্তু এটাও বুঝতে পারল, যেখানে পলাশ নিজে পুলিশ হয়েও বিপন্নচিত্তে কাঁপছে, সেখানে স্পষ্ট—এরা কোনো নগণ্য অপরাধী নয়, বরং ভয়ংকর অপরাধ জগতের কুখ্যাত নরপিশাচ।
শাহানার ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। ঢোক গিলে ফিসফিস করে বলল, “কিন্তু স্যার, প্লিজ বলুন, এরা কারা?”
পলাশ এবার চুপ থাকল না। মৃ*ত্যুর ছায়া মাথার উপর ছড়ানো থাকলে আর কিছু লুকিয়ে লাভ নেই। পলাশ ধরা গলায় বলে উঠল, “এরা… এরা সেই জা*নোয়ার, যারা তোমার ম্যাডামকে শুধু গায়েব করেনি—খু*ন করে টুকরো টুকরো করে ছিঁ’ড়ে খেয়েছে।”
তার কণ্ঠ ক্ষোভে জ্বলে উঠল, “এরা আউল, এরা বিশ্বের সবচেয়ে পেশাদার, সবচেয়ে বিকৃত রে*পিস্ট গোষ্ঠী। ওদের নেশা হলো নারীদের শরীরে ভয় ছড়িয়ে দেওয়া। ওরা শুধু ধ*র্ষণ করে না, ওরা মৃ*ত্যুর আগেই সর্বোচ্চ কষ্ট দিয়ে মে*রে ফেলে আত্মাটাকে।”
তিন ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। তাদের ঠোঁটের কোণে কেবল হালকা বাঁকা হাসি খেলা করছে। তাদের আদলের উদ্দাম প্রশান্তি দেখে মনে হয়, তারা শাহানার দেহকে নিজেদের কবলে করতে মরিয়া।
এদিকে পলাশের কণ্ঠে উচ্চারিত কথাগুলো যেন বজ্রপাতের মতো শাহানার বুকের মধ্যে ঢুকে পড়ল। তার শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। চোখের পাতাগুলো অস্বস্তিতে কাঁপতে লাগল, থুতনি কেঁপে উঠল। কিন্তু ভয় যতটা চেপে ধরল, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পুঞ্জীভূত হলো ক্ষোভ।
ওরা? ওরাই? এই জা*নোয়ারগুলোই তার ম্যাডামকে আর সেই নিষ্পাপ শিশুটিকে মে*রে ফেলেছে? যে সন্তান এখনও পৃথিবীর আলোই দেখেনি, সেই শিশুটিও ছাড় পায়নি ওদের পাশবিকতা থেকে?
শাহানার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, দৃষ্টিতে খেলল আগুন। বুকের কেন্দ্র থেকে ঘূর্ণিঝড় উঠে আসতে লাগল। তর্জনী একটুখানি কেঁপে উঠল, কিন্তু সে ভয়ে কাঁপছিল না, ক্রোধে ফুঁসছিল।
ওদিকে মুখে বিকৃত আত্মতৃপ্তি নিয়ে ডার্ক ঠান্ডা গলায় বলল, “কেন জানি না, আমরা চাই বা না চাই, শিকার নিজেই আমাদের কাছে চলে আসে। হয়ত ভাগ্যও চায় আমরা ওদের নিয়ে খেলি।”
ব্লাডশেড ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপমিশ্রিত কুৎসিত হাসি ঝুলিয়ে, দুই হাত উপরে তুলে আরাম নিয়ে আড়মোড়া ভাঙল। সেও শীতল কণ্ঠে বলল, “আসতেই হবে। আফটার অল, আমাদের মতো হ্যান্ডসাম রে*পিস্ট কয়টাই বা আছে? তাই নারীরা নিজেরাই আমাদের হাতে নিজেকে সারেন্ডার করতে এগিয়ে আসে।”
এই কথা শেষ হতে না হতেই তারা তিনজন একসাথে হো হো করে হেসে উঠল। ব্লাডশেডের ঠান্ডা কণ্ঠে উচ্চারিত এই কথাটা সজোরে এসে শাহানার বুকের মাঝখানে আঘাত করল। তার কানের ভিতর থেকে যেন হাজারো ধ*র্ষিতা, খু*ন হওয়া, কা*টা-ছেঁ*ড়া হয়ে লা*শ হয়ে যাওয়া নারীরা চিৎকার করে উঠল। শাহানার মাথার ভেতর বিস্ফোরণ ঘটল। সে ঠোঁট কামড়ে ধরে ছিল, কিন্তু ওদের সেই উপচে পড়া বিকৃত মুখ দেখে শাহানার আর সহ্য হলো না। কটমট করে বলল, “তোরা… তোরা সেই জা*নোয়ার? আমার ম্যাডামকে… আর তার নিষ্পাপ ভ্রূণকে…”
তার গলা কেঁপে উঠলো। কাঁপা ঠোঁটে চিৎকার করে উঠলো, “তোরা মানুষ না, তোরা নরকের উগড়ে দেওয়া পচা কু*ত্তার বাচ্চা; খা*ন*কির পোলারা আজকে তোদের আমি শেষ কইরা ফালাইবো!”
শাহানা আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। বিদ্যুৎগতিতে পলাশের কাঁপা হাত থেকে বন্দুকটা ছিনিয়ে নিল। তারপর সোজা ট্রিগারে আঙুল চেপে ধরল। জানে না সেই তপোময় সিসার বুলেট ঠিক কোথায় গিয়ে বিদ্ধ হবে, তবু এই মুহূর্তে অগ্নিসঞ্চার করাটা জরুরি, একান্ত প্রয়োজন।
প্রচণ্ড শব্দে বন্দুকের নল থেকে গু*লিটা বেরিয়ে গাড়ির কাচ ভেদ করে তীব্রতায় ছুটে গিয়ে ডার্কের কাঁধের কাছ ঘেঁষে বিদ্ধ হলো। সাথে সাথে এক বিকট আর্তনাদ ফুটে উঠল ডার্কের কণ্ঠে। গু*লি কাঁধের মাংস ছেদ করে হাড়ের কিনার ছুঁয়ে আবার বেরিয়ে গেছে। উষ্ণ র*ক্তকণাগুলো কাচ ও লাইটপোস্টে ছিটকে পড়ল।
ডার্ক হতবিহ্বল হয়ে এক হাত দিয়ে ক্ষ*তচিহ্ন চেপে ধরল, তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেল যন্ত্রণায়। তার চোখে তখন নিখাদ নৃশংসতা আর পিশাচের মতো উন্মত্ততা জেকে বসলো। শাহানার বুকের মধ্যে শক্তির সঞ্চার হলো। ক্রমে ক্রমে সেই অস্পষ্ট প্রতিহিংসার আগুন আনন্দে পরিণত হলো।
এদিকে র*ক্তে ভিজে গেল ডার্কের হুডির একপাশ। অবস্কিউর ছুটে এসে তার কাঁধ চেপে ধরল, কিন্তু কিছুই কাজে আসছিল না। র*ক্ত থামছিল না, বরং তীব্র গতিতে বেরিয়ে আসছিল। তার হাত লাল র*ক্ত লেপ্টে যাচ্ছে। ডার্ক গর্জে উঠলো, “ফা*কিং বি*চ! তুই ম’রবি আজ!”
OWL-দের চোখ মুহূর্তে র’ক্তবর্ণ হয়ে উঠলো। আগের সেই ঠান্ডা শিকারির মুখগুলো মুহূর্তেই হিংস্র বাঘে রূপ নিল। ডার্ক এক পা সামনে বাড়িয়ে বলল, “তোর সুন্দর মুখটা আজ কেটেকুটে রোস্ট বানিয়ে গিলে ফেলব, বেবিগার্ল।”
অবস্কিউর ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি টেনে বলল, “তোর সাহস তো দেখি অনেক বেশি! এবার তোর জ*রায়ু ছিঁ*ড়ে তোরই মুখে গুঁজে দেব, ফা*কিং পিস অফ শি*ট।”
অথচ শাহানার চোখে ভয় ছিল না, কিন্তু রাগ ছিল। তার ঠোঁট সোজা, হাতও কাঁপছিল না। বুক ফুলে ছিল। তাকে ফুঁসে ওঠা কোনো সিংহীর মতো মনে হচ্ছিল।
পাশে বসে থাকা পলাশ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। বন্দুকটা ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তার মুখে বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট হলো। তার চোখ ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠলো।
সে অবিশ্বাসে তাকিয়ে বলল, “এই মেয়ে, তু-তুমি… তুমি পিস্তল চালাতে জানো?”
শাহানা পলাশের দিকে তাকালো না। ঠোঁট ফাঁকা হয়ে নড়ে উঠল। কাঁপা কাঁপা এক হাতে বন্দুক ধরে রেখেছে। ভয়ের ঘাম তার জামা লেপ্টে দিয়েছে শরীরে, কিন্তু দৃষ্টিতে স্পষ্ট ক্রোধ ছিল।
সে পলাশের প্রশ্নের জবাবে ফিসফিস করে বলল, “জানি না, স্যার… চালাতে জানি না। কিন্তু… কিন্তু এদেরকে আমি শেষ করব। শেষ করেই ছাড়ব।”
তার গলার নিচে রাগে ফুলে থাকা শিরা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, এই মেয়েটা আর পলায়নপর নয়।
সে আবারও কয়েকটি গু*লি চালাল। কিন্তু কাঁপা কাঁপা হাতের দুর্বল নিশানায় সেগুলো কাউকে স্পর্শ না করে শূন্যেই ছুটে গেল। এদিকে ক্ষিপ্রতা আর হিংস্র ক্রোধে OWL দের চোয়াল কাঁপছিল। ব্লাডশেড নিজের পকেট থেকে ছু*রি বের করল।
তখনই পলাশ বুঝল, এখানে আজ র*ক্ত ঝরবে। হয় এদের, না হয় নিজেদের। সে দেরি না করে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। বন্দুকটা তুলে ধরল সামনে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে একটা ছু*রি শিস কেটে উড়ে এসে তার বুকে সজোরে ঢুকে গেল।
পলাশ কেঁপে উঠলো, পেছন দিকে হেলে পড়ল।
ব্লাডশেড ঠান্ডা গলায় বলল, “পারফেক্ট নিশানা। ছু’রিটা একদম বডির ভেতর হার্টকে গিয়ে চুমু খেয়েছে।”
তার ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি ফুটে উঠলো।
অবস্কিউর ঠোঁট বাঁকিয়ে শীতল গলায় বলে উঠল, “ব্লাডশেডের টার্গেট মিস করে না, ব্রাদার।”
পলাশ দম নিয়ে বোঝার চেষ্টা করল কী হয়েছে। তার বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে। শার্টটা র*ক্তে টইটম্বুর, আর নিচে পড়তে থাকা র*ক্ত রাস্তার পাথরের ফাঁকে ফাঁকে গিয়ে জমছে।
তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। শ্বাস নিতে গেলে মনে হচ্ছে যেন বুক ফেটে যাবে। দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্ট মনে হচ্ছে। শরীর ভারী হয়ে এসেছে।
তবুও সে পাশ ফিরে তাকাল। দেখল, শাহানা কাঁপছে। ফুঁপিয়ে কান্না করছে, তার চোখে আবার আতঙ্ক ফিরে এসেছে।
OWL-রা এবার শাহানার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। কিন্তু অবস্কিউর হঠাৎ পথ ঘুরিয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে পলাশের দিকে এগিয়ে গেল। তার চোখের হিংস্রতা অবলোকন করে পলাশ বুঝল, শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। সে বুক চেপে ধরে কাঁপতে থাকা আঙুলে আবারো বন্দুক তুলে অবস্কিউরের গায়ে গু*লি ছুড়তে গেল।
কিন্তু তার আগেই একটি গু*লি শিস কেটে ছুটে এসে তার বাম হাতকে ক্ষ*তবিক্ষ*ত করল। গু*লিটা গাড়ির অপর দিক থেকে ডার্কের কালো নলওয়ালা বন্দুক থেকে ছুটে এসে কাচ ছিন্নভিন্ন করে সোজা তার কবজির মধ্যে প্রবেশ করেছে। মুহূর্তের মধ্যে চরম যন্ত্রণা তার স্নায়ু ধরে টান দিতে শুরু করল। আরেকটা গু*লি শাহানার ঠিক এক সেন্টিমিটার সামনে দিয়ে ছুটে গিয়ে পলাশের হাড় চিরে অপর পাশে র*ক্ত মাখা ধাতব টুকরোটা বেরিয়ে গেল।
“আআআঘহ!” পলাশ চিৎকার করে উঠলো।
র*ক্ত লাফিয়ে বেরিয়ে এলো। তার হাত থেকে বন্দুকটা রাস্তায় পড়ে পাথরে ঠোক্কর খেল। গরম র*ক্ত তার আঙুল, কনুই, বাহু বেয়ে নেমে রাস্তা রাঙিয়ে দিল।
ডার্ক এবার ঠোঁট চাটল, র*ক্তের গন্ধে উন্মাদের মতো বলল, “এটা তো সবে শুরু। এখনো তো তোর হাঁটু ভাঙা, চোখ তোলা, দাঁত ফাটানো বাকি।”
অবস্কিউর সামনে এগিয়ে এসে নীচু গলায় বলল, “নিজের ভাগ্যের উপর কৃতজ্ঞ হও, অফিসার। কারণ তোমার মৃ’ত্যুটা সহজ হতে চলেছে।”
কারণটা স্পষ্ট—অতিরিক্ত সময় নষ্ট করলে শাহানাকে পাশবিক লালসার শিকার বানাতে দেরি হয়ে যাবে। পলাশ বুঝে গেল, এই তিনজন নরপিশাচের সঙ্গে র*ক্তক্ষয়ী লড়াইয়েও তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। পলাশের মুখ সাদা হয়ে যাচ্ছে। তার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ কুঁচকে যাচ্ছে ব্যথায়। তার একটাই অনুভব, মৃ’ত্যু আজ খুব কাছে।
গাড়ির ভিতর দরজার ছিটকিনি আঁকড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ছে শাহানা। আর ক্ষীণস্বরে বিড়বিড় করে মোনাজাত করে চলেছে। পলাশ গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার আগে শীতল কণ্ঠে নির্দেশ দিয়েছিল, দরজা লক করে রাখতে। শাহানা তা-ই করেছে। কারণ পলাশ ভালো করেই জানে, শাহানা গাড়ি থেকে বেরিয়ে যতই ছুটুক না কেন, এই হিংস্র শ্বাপদগুলো থেকে মুক্তি নেই—ওরা ঠিকই ক্ষিপ্রতার সাথে পাকড়াও করবে তাকে।
শাহানা কাচের ফাঁক দিয়ে আতঙ্কিত চোখে চারপাশে তাকালো। তিমিরে ঢাকা রাস্তা, হাওয়ার বেগ, গাছের পাতার নড়াচড়া—সবই ওর কাছে অশুভ সংকেত মনে হচ্ছে। বুকের ভেতর আতঙ্কের ঘূর্ণি বয়ে যাচ্ছে, শিরা-উপশিরায় র*ক্ত যেন জমে যাচ্ছে।
শাহানার বুক উঠানামা করছে, ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে ফেটে যাবে মনে হচ্ছে। চোখের নীচ দিয়ে একটা ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল। তার হাতটা ধীরে ধীরে নীচে পড়ে থাকা বন্দুকের দিকে বাড়ছিল।
শাহানা জানত, দরজা খুললেই ওর শরীরটা তিনজনে মিলে ছিঁ*ড়ে টু*করো টু*করো করে ফেলবে। সে একবার গাড়ির দরজার দিকে তাকালো।
দেখল, গাড়ির দরজার কাচে মাথা ঠেকিয়ে তীক্ষ্ণ শকুনের চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে ডার্ক। সেই চোখে খু*নের লালসা, র*ক্তের তৃষ্ণা। একে তো শাহানাকে ছিন্নভিন্ন করে ভো*গ করার ক্ষুধা, তার উপর শাহানা আবার দুঃসাহস দেখিয়ে গু*লি চালিয়ে ডার্কের কাঁধ চি*রে দিয়েছে। সেই ক্ষতে ক্রমে র*ক্ত চুঁইয়ে পড়ছে, আর রাগে তার নাসারন্ধ্র থেকে উঠে আসছে গরম শ্বাস। শাহানা স্পষ্ট বুঝতে পারল, ডার্কের র*ক্তচক্ষুতে এখন একটাই লক্ষ্য— তাকে খেয়ে ফেলা। সেই দৃষ্টি সাপের মতো ঠান্ডা মনে হয়, কিন্তু ভিতরে জ্বলছে দাউদাউ আগুন। সে গলগল করে র*ক্ত খেতে চায়। কান কেটে মুখে পুরে দিতে চায়। শরীরটাকে ছেঁচড়ে কুকুরের মতো জিভের সাহায্যে চাটতে চায়।
ডার্কের কাঁধে গু*লির ক্ষত তীব্র হচ্ছে, কিন্তু তার রাগ সেই ব্যথাকে ঢেকে দিয়েছে। তার ঠোঁটে এক চিলতে বিদ্বেষমাখানো হাসি ফুটলো।
ডার্কের পাশেই গাড়ির দেহে গা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ব্লাডশেড। সে ঠোঁট চাটছে। সেই ঠোঁটের কোণায় বিকৃত হাসি টেনে রেখেছে। তার হাতে ধরা ভারী ছুরির ফলায় র*ক্ত জমে কালচে হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, এরা দু’জনই তাকে ঘিরে রাখা ক্ষুধার্ত শেয়াল, আর সে শুধুই শিকার।
ডানদিকের দরজার খানিক দূরে রা*ম দা হাতে অবস্কিউর দাঁড়িয়ে আছে।
শাহানা কী করবে ভেবে কূলকিনারা পেল না। আতঙ্কে তার স্নায়ুগুলো যেন গিঁট পাকিয়ে যাচ্ছে। সে নিজেকে কাঁচুমাচু করে গুটিয়ে নিল। হাঁটু জড়িয়ে ধরল শক্তভাবে।
ওদিকে পলাশ বুঝে গেল, তার অবশিষ্ট সময় ফুরিয়ে এসেছে। তার বুকের মধ্যে তখনো ছু*রি ঢোকানো। গলা শুকিয়ে কাঠ। তবু একটা শেষ সুযোগ আছে। শাহানাকে ওদের নোংরা ছোঁয়া থেকে বাঁচানোর শেষ একটা সুযোগ আছে। সে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ল। সেই মুহূর্তেই সে পিস্তল তুলে গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে শাহানার দিকে ঘুরিয়ে ধরল।
তৎক্ষণাৎ ট্রিগারে চাপ দিল। গুলির শব্দে কাচ ফেটে গেল। ধোঁয়া ছড়িয়ে এক ঝলকে বেরিয়ে আসা বুলেট শাহানার কপাল ভেদ করে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেল। শাহানার হাত ছুঁয়ে গেল মাথার পেছন, আর মুহূর্তেই ভলভল করে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ল। গাড়ির ছাদ, সিট সব র*ক্তে রাঙিয়ে গেল। মাথার পেছন থেকে র*ক্তে ভেজা মগজ ছিটকে গিয়ে সীটে লেগে থাকল।
তার গলা আধা হাঁ করা, কিন্তু মুখে অচিন শান্তি এখন। র*ক্ত তার মুখ, চুল, কানের পেছনে গড়িয়ে যাচ্ছে। শাহানা চোখ খোলা অবস্থাতেই ধপাস করে সিটের উপর নিস্তেজ দেহে লুটিয়ে পড়ল। হঠাৎ পরে যাওয়ায় তার করোটিতে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছে, মগজ আঘাতে থেঁতলে গেছে। কিন্তু তাতেও বা কী? তার ফুসফুসের শেষ বাতাসটুকু ইতোমধ্যেই নিষ্ক্রান্ত, হৃৎপিণ্ডের চূড়ান্ত স্পন্দনও থেমে গেছে। সে মৃ*ত্যুর করাল আলিঙ্গনে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে।
OWL-রা হতবাক। তাদের চোখের সামনে থেকে একটা গু*লির ঝটকায় শিকারটা চুরি হয়ে গেল।
ব্লাডশেড দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, “শালা, ডি*ক*হে*ড! এই কু*ত্তা আমাদের মুখ থেকে খাবারটা কেড়ে নিল।”
ডার্ক ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, “প্রি*ক! তোর মতো একটা ছুঁচোর জন্য কিনা আজকে আমাদের ক্ষুদার্থ থাকতে হবে!”
পলাশ কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠলো, “মা… মা রে, আমাকে ক্ষমা করে দিস। কারণ আমি… আমি জানি, ওই জা*নোয়ারগুলো তোকে কীভাবে ধ*র্ষণ করে মৃ*ত্যু দিত, তোর শরীর কে’টে র*ক্তে ভাসিয়ে দিত, তার চেয়ে এই মৃ’ত্যুটা অনেক সুন্দর, অনেক শান্তির। আমি… আমি তোকে রক্ষা করতে পার…”
‘পারলাম না’ কথাটা শেষ করার আগেই অবস্কিউরের রা*ম দাটা শব্দ করে পলাশের পেটের মাঝখানে ঢুকে গেল। পলাশ একবার নিচে তাকাল। পেটটা দু’দিকে চি*রে খুলে গেছে, সে নিজেই দেখল তার নাড়িভুঁড়ি কেমনভাবে বেরিয়ে আসছে। এক মুহূর্তেই পলাশের ইউনিফর্মটা নীল রং থেকে র*ক্তাভ লাল হয়ে উঠল। র’ক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে তার কোমরের ভাঁজে জমা হচ্ছে। ভেতর থেকে ঘোলাটে তরল গড়িয়ে তার বুটের ওপর পড়ছে। রাম দা ঢুকে আবার ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো। আর সাথে গরম র*ক্ত, ছি*ন্ন নাড়িভুঁড়ি, আধপচা খাবারের চাটনি আর হলদেটে রঙের গন্ধছড়ানো তরল টেনে আনল।
অবস্কিউর হালকা মাথা কাত করে বলে উঠল, “ইয়াক, থু।”
পলাশের গায়ে থুতু ফেলল সে। তার চোখ ধীরে ধীরে উল্টে যেতে লাগল। মুখ ফাঁকা হয়ে আছে, ঠোঁট কাঁপছে। চিৎকারের সাথে গেঁজলা বেরিয়ে এলো। কিন্তু OWL থামল না।
ডার্ক গম্ভীর কণ্ঠে বলল, “মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি তাপ থাকে লিভারে। গরম থাকতে থাকতে সেটা যদি মুখে ঢুকিয়ে দিই, কেমন লাগবে জানিস?”
বলেই একটানে পলাশের শরীর ছেদ করে তাজা লিভার ছিঁ*ড়ে বের করে আনল, আর গরম র*ক্তমাখা সেই অঙ্গটা পলাশের ঠোঁট ঠেলে গলায় গুঁজে দিল। মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই পলাশ বমি করল। তার মুখ দিয়ে র*ক্ত, পাকস্থলীর শর্করা, আর হলদে তরল গড়িয়ে পড়ল। কিন্তু সে তখনও জীবন্মৃত অবস্থায় কষ্ট ভোগ করছিল। তার আতঙ্কিত চোখের কোণ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। মুখমণ্ডলে গভীর যন্ত্রণার কুঞ্চন স্পষ্ট, ঠোঁট নিস্তেজভাবে কেঁপে উঠছে, কিন্তু কোনো শব্দ বেরোতে পারছে না। শ্বাস টেনে নেওয়ার শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। বুকের ভেতর থেকে করুণ এক ঘড়ঘড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসছিল। আর কয়েকটি মুহূর্ত, তারপরই মৃ*ত্যুর শীতল হাত নিঃশেষে তাকে আঁকড়ে ধরবে।
অবস্কিউর তার দুই পা টেনে মাটিতে ফেলে দিল। রাস্তায় কনুইয়ের হাড়ে ঘষা লাগতেই একটা বিকট শব্দ হলো। তারপর সে একটা লোহার দণ্ড হাতে নিল, একে একে দুই হাঁটুর হাড় চূর্ণ করে দিল।
পলাশ আর্তনাদ করতে পারল না। কারণ ততক্ষণে ডার্ক তার গলায় স্ক্রু ড্রাইভারের মতো একটা সরু ধাতব রড ঢুকিয়ে দিয়ে গলার স্নায়ু ছিঁ*ড়ে দিয়েছে। তার চোখ উলটে গেছে, জিভ বেরিয়ে পড়েছে। নিশ্বাস থেমে থেমে আসছে, কিন্তু মৃ*ত্যু এখনো আসেনি।
ব্লাডশেড ঠোঁটে হিমশীতল হাসি টেনে বলল, “যে আমাদের শিকার মুখ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তার মৃ*ত্যু সহজ হলে তো আমাদের নীতির অপমান হবে, তাই না অফিসার?”
তারপর এক এক করে বাম হাতের আঙুলগুলো ছু*রি দিয়ে চেপে ধরে কেটে ফেলল; প্রতিটি কাটায় কেবল র*ক্তের সাথে হাড়ের গাঁথুনি থেকে সাদা স্নায়ু-ঝুলন্ত মজ্জা ঝরে পড়তে লাগল। সেই কা*টা আঙুলগুলো ঠেসে ঠেসে পলাশের মুখে ঢোকানো হলো। একটা আঙুল ঠোঁট ফুঁড়ে বেরিয়ে গেল, অন্যটা গলার ভিতরে ঢুকে এলো। সে গিলে ফেলতে পারছিল না, মুখ র*ক্তে ভরে উঠছিল।
এরপর ব্লাডশেড রাম দার বাঁকা ফলা দিয়ে তার পিঠ বরাবর তির্যকভাবে কেটে দিল। চামড়ার ফাঁক দিয়ে পাঁজরের হাড় দেখা গেল। একটা ধারালো ছু*রি দিয়ে কাঁধের মাংসের টুকরো কে’টে ছিঁ’ড়ে নিল। তারপর সেটা নিজের গালে ঘষে ঘষে চা*টতে লাগল ডার্ক। তার মুখাবয়ব দেখে মনে হবে, সে বিরিয়ানির গোশত মুখে পুরেছে।
ডার্ক এবার পলাশের চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলল। ব্লাডশেড ছু*রির ফলা শান দিচ্ছে। অবস্কিউর একটা পুরোনো বস্তা থেকে ছোট একটা ব্লো টর্চ বের করল।
এইবার শুরু হলো চূড়ান্ত অত্যাচার।
পলাশের হাতদুটো একটা লোহার খুঁটিতে বেঁধে দেওয়া হলো। তার চোখের কোটরে আঙুল গলিয়ে চোখের বল টেনে ছিঁ*ড়ে ফেলল ব্লাডশেড। ছু*রি দিয়ে কুচি কুচি করল সেই চোখ। গর্তে থেকে এখন কেবল র*ক্ত আর সাদা তরল বেয়ে পড়ছিল। পলাশের মস্তিষ্ক প্রায় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। হয়ত এখনি মৃ*ত্যু ঘটবে।
ব্লাডশেড হেসে বলল, “খুব তো নিজেকে বীর দেখাতে গিয়েছিলি, এখন কেমন লাগছে, সোনা?”
তারপর পলাশের বুকে আরো একখানা ছু’রি ঠুকে দিল, চামড়ার নীচ দিয়ে হাড়ে ঠুকে একটা ঠক করে শব্দ হলো। সেটা বের করে সেই ছু*রির ফলায় ব্লো টর্চের আগুন ধরানো হলো। সেই তপ্ত ছুরির শানিত ফলক নির্মমভাবে পলাশের বুক চি*রে ঢুকে গেল। মাংস পুড়*তে লাগল। তার স্নায়ু এক লহমায় অবশ হয়ে গেল, মস্তিষ্ক আর কোনো সাড়া দিল না। ফলে বুকফাটা আর্তনাদও তার ঠোঁট থেকে বেরোতে পারল না।
পলাশ দম আটকে ছটফট করতে লাগল, তার গলার কাছ থেকে একটা গার্গল ধরা শব্দ হচ্ছিল। কারণ তখনো তার কণ্ঠনালি কা*টা হয়নি। এবার সেই সময়ও এসে গেছে। ডার্ক ছু*রিটা নৃশংসভাবে টেনে এনে এক টানে পলাশের শ্বাসনালি বি*দীর্ণ করে দিল। ক্ষত*বিক্ষত গলার মধ্য দিয়ে তীব্র গতিতে র*ক্ত উথলে উঠল, ছিটকে পড়ল চারপাশে। সেই তপ্ত, লোহিত প্রবাহের মধ্যে জীবনের শেষ সঞ্চারটুকুও নিঃশেষ হয়ে গেল। এখানেই পলাশের অন্তিম পরিসমাপ্তি ঘটলো।
তবে তখন পলাশের বুক চি*রে গরম ছু*রি তার হৃদপিণ্ডে পৌঁছাতেই কার্যত সমস্ত হেমোডাইনামিক সার্কিট ধসে পড়েছিল। লিভার সম্পূর্ণ ছি*ন্ন করার পরও, মস্তিষ্কে পূর্বসঞ্চিত অক্সিজেনের কারণে প্রায় ১০-২০ সেকেন্ড তার নিউরনগুলো সচল ছিল। সেই সময়ে সে কার্যত মৃ*ত্যুর প্রক্রিয়ায় থেকেও কয়েক সেকেন্ডের জন্য বেঁচে ছিল। বোঝাই যাচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত আর নিখুঁত দক্ষতায় তাকে নিষ্প্রাণ করেছে।
পলাশের পো*ড়া হৃৎপিণ্ডটা তখনও ধুকপুক করছিল। অবস্কিউর বুকের হাড় ফাটি*য়ে হার্টটা বের করল। তার আদল দেখে মনে হলো, যুদ্ধের ট্রফি পেয়েছে সে। সে সেটাকে হাতে নিয়ে বলল, “হায়রে পলাশ, হায়রে জীবন! কেন যে মর’তে এলি? মেয়েটাও গেল, তুইও গেলি, লাভ কি হলো?”
তারপর তারা পলাশের পেট, বুক, মাথা, পা কে*টে চার ভাগে ছড়িয়ে দিল। মাথাটা উল্টে ধরে পাথরের ধারালো কোণায় চেপে ধরল। নাক চ্যাপ্টা হয়ে গেল, ঠোঁট ফেটে দাঁত বেরিয়ে গেল, মাথার খুলি ফেটে গিয়ে মাটিতে মস্তিষ্ক গড়িয়ে পড়ল। ডার্ক তখন হাঁটু গেড়ে বসে মুখে লেগে থাকা র*ক্ত আঙুল দিয়ে তুলে নিজ মুখে দিল। তারপর পলাশের দাঁতের মাড়ি ছিঁড়ে দিল।
Tell me who I am 2 part 4 (2)
তাদের পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে সেই গলিত, আঠালো র*ক্ত লেগে আছে। চোখের কোণ, গালের খাঁজ বেয়ে গাঢ় লাল র*ক্তের ধারা অনবরত গড়িয়ে পড়ছে। তিনজনেরই মুখমণ্ডল বিকৃত। অকস্মাৎ সবার নজর গিয়ে ঠেকল গাড়ির ভিতর, যেখানে মৃ*ত শাহানার শরীর পড়ে আছে। কাছের শিকারটা ফসকে গেছে—তাতে তাদের র*ক্তগরম মাথা আরও ক্ষুধার্ত, আরও বন্য হয়ে উঠলো। আরেকটা শিকার, আরেকটা নতুন শিকার চাই-ই চাই।
ডার্ক ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন ছুঁড়লো, “নেক্সট টার্গেট কে?”
ব্লাডশেড তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে হেসে বলল, “মিস মনি।”
অবস্কিউর ভ্রূ কুঁচকে তাকাল, “হু ইজ শি?”
ব্লাডশেড সামনের দিকে তাকিয়ে বলল, “আওয়ার রাইটার।”
