Tell me who I am 2 part 4 (2)
আয়সা ইসলাম মনি
শেফ এক দীর্ঘ, গাঢ় নিশ্বাস ছাড়লো। এরপর ধীরপায়ে নিজের দিকে একটি চেয়ার টেনে নিল। অতঃপর চেয়ারে গা এলিয়ে দেহটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রহস্যময় বক্র হাসি হাসল।
তারপর ফিসফিস করে উচ্চারণ করল, “At long last, my girl is safe.”
পরক্ষণেই সে মাথা ঝাঁকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, “মৃ’ত্যু? না। যতক্ষণ না আমার নাম তোমার আত্মায় পো’ড়াতে পারি, তোমার যাওয়ার অনুমতি নেই। এমনিতেই তুমি এত তাড়াতাড়ি ম’রে যাওয়ার মতো মেয়ে নও, লিটল ফায়ার। যদি মৃ’ত্যুর মুখেও দাঁড়াও, আমি ছিনিয়ে নেব তোমাকে। শেষ নিশ্বাসে র’ক্ত ঝরলেও, তোমাকে আমার করেই ছাড়ব। মাইন্ড ইট।”
এক মুহূর্তের নিঃসাড় নীরবতা নামলো। সে আবার এক দৃষ্টিতে ঘুরে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকাল। স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে কম্পিউটারটা মুখের কাছে এনে ধরল। মাথা কাত করে চোখ দুটো কুঁচকে চোয়াল শক্ত করে বলল, “কিন্তু এখন আমি দেখব কীভাবে ঘরের ভিতরে কি হচ্ছে? পারহ্যাপ্স কারান’স ফা*কিং হার উইথ এভরি গডড্যাম টাচ, অ্যান্ড শি লেটস হিম। হোলি, ব্রো… আমার কি জেলাস ফিল করা উচিত?”
ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে হঠাৎ জোরে হেসে উঠল শেফ। তার চোখজোড়া অদ্ভুত উন্মাদনায় জ্বলছিল।
তারপর পাশের টেবিলের ওপর রাখা ধারালো ছু*রিটার দিকে তাকাল। হালকা আলোয় চকচক করছিল ওটা। ছু*রিটা হাতে তুলে এনে কোণায় কোণায় ঘুরিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিল। আঙুলের ডগায় ছু*রির তীক্ষ্ণতার টের নিচ্ছিল বুঝি।
সে চোখের পলক না ফেলেই গলায় চাপা রাগ আর কৌতুকের মিশ্র সুরে বলল, “টেক্সাসের ওই বাড়িটায় যদি একবার সার্ভেইলেন্স ক্যামেরা বসাতে পারতাম… বাট মাই ফা*কিং কারান ব্রো এমনভাবে সিকিউরিটি সিস্টেম বসিয়েছে; মোশন সেন্সর, ফেসিয়াল রিকগনিশন, অ্যালার্ম লিঙ্কড টু পুলিশ সবকিছু এক সঙ্গে! ভার্চুয়াল অ্যাক্সেস প্রায় অসম্ভব; এক্সটারনাল ক্যামেরাগুলোও একদম এয়ারগ্যাপড। একটা ভুলের সুযোগও দেয়নি কারান। কিন্তু সময় এগিয়ে আসছে! তুমি তোমার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্তটা পাবে, যেদিন আমাকে সামনে দেখতে পাবে। তুমি হয়ত ভাবছো সব কিছু তোমার কন্ট্রোলে আছে। কিন্তু যেদিন আমাকে সামনে দেখবে, সেদিন বুঝবে, নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে। কিন্তু… কিন্তু এর পর যদি গেইমটাই ঘুরে যায়!”
শেষ কথাগুলো বলার সময় তার গলার স্বর একটু একটু করে নীচু হচ্ছিল। হঠাৎ থেমে গিয়ে চোখ কুঁচকে বলল, “নো। নো, নো, নো।”
এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল সে। চেয়ারটা পেছনে ঠেলে অসহিষ্ণু এক শব্দ তুলল। তারপর এক চটকানো গতি নিয়ে মাথা উঁচিয়ে ছাদের দিকে তাকাল। তার ঘাড়ের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে, গাল পিচকে গেছে, চোখ দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে জ্বলছে। সে চোয়াল আঁটসাঁট করে উচ্চারণ করল, “হেই রাইটার, ভুলেও ভেবো না তুমি প্লট ঘুরাতে পারবে। গল্পে টুইস্ট আনতে চেয়েছো? এবার দেখো, সেই টুইস্ট-ই কীভাবে গল্পের সাথে সাথে তোমাকেও খু’ন করে। তুমি কলম চালাও, আর আমি ছু’রি। একটা বাক্য যদি আমার বিরুদ্ধে লেখো, আমি তোমার র’ক্তে পুরো চ্যাপ্টার লিখব। এই গেমে তুমি শুধু একটা নামহীন ক্যারেক্টার। তুমি জানো না রাইটার, তুমি কাকে নিয়ে খেলছো। আমি তোমার গল্পের শেষে নয়; আমি শুরু থেকেই ছায়ার মধ্যে ছিলাম। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে থাকি, সেখান থেকে ফেরার রাস্তা থাকে না। তাই গেইম উল্টানোর চেষ্টা করো না, কারণ আমি কোনো ওয়ার্নিং দিয়ে কাজ করি না। মৃ’ত্যু কখন আসবে, সেটা ঠিক করি আমি। মার্ক মাই ওয়ার্ডস, গল্পের শেষ লাইনটা আমি লিখব, ডেডলাইনার চেরি।”
তার ঠোঁট বেঁকে উঠলো। চোখ দুটো অন্ধকারে ঝলকে উঠল আবার। তার হাতের ছু*রিটা এখন বুকের সামনে ধরে রেখেছে। তারপর ঠোঁটচেপে শয়তানি হাসি ছুঁড়ে দিয়ে বলল, “ওয়ান মোর থিং, পি. এস. আই ক্রিস্টেন্ড ইউ ‘ডেডলাইনার চেরি’। আইকনিক, আই নো। নামটা কেমন লাগল তোমার? একটু লিখেও জানিও!”
পরবর্তীতে এগিয়ে এসে ফ্রিজের ভিতর থেকে এক নির্জল আপেল অপসারণ করল। হাতে নিয়ে ধারালো ছু*রির রুক্ষ ধার দিয়ে নিখুঁতভাবে ভাগ করতে শুরু করল। নির্ভীক দৃষ্টিতে আপেলের সূক্ষ্ম টুকরোগুলো গাণিতিক নিখুঁততা নিয়ে পর্যালোচনা করল।
পরবর্তী মুহূর্তে আপেলের এক খণ্ড মুখে নিয়ে গ্রাস করতে করতে গম্ভীর স্বরে উচ্চারণ করল, “আমি মাইন্ড পরিবর্তন করেছি। এত তাড়াতাড়ি তোমার প্রাণ হারাবার তাগিদ নেই, কারান। আমি সেই অনিবার্য মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছি; যেদিন আমি তোমার মুখোমুখি হবো, আর মিরার দৃষ্টিগোচরে তোমার নিষ্পত্তি সাধন করব।”
কিয়ৎক্ষণ পর সামনের দিক থেকে একটা রুক্ষ লোহার চেইন উত্তোলন করল। বাঁ হাতের কব্জিতে সেটি টেনে টেনে যাাচাই করতে থাকল কতটা মজবুত!
তারপর আপেলের আরেকটি টুকরো তুলে মুখে নিল। তীক্ষ্ণ দাঁতের চাপে রসালো ফলটি ধীরেসুস্থে চিবোতে চিবোতে অন্য হাতে ধরা লোহার চেইন শো’টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিরীক্ষা করতে লাগল৷ সবকিছু নিরীক্ষণ করে হালকা এক ঝাঁকুনিতে নিশ্চিত হল, এটি হ*ত্যা করার জন্য যথার্থ প্রস্তুত।
মৃ*ত্যু তার কাছে কোনো তড়িঘড়ি করার মতো বিষয় নয়, বরং তার কাছে নির্ধারিত আয়োজনের মতো, যার জন্য প্রয়োজন সুনিপুণ প্রস্তুতি আর উপযুক্ত সময়।
এরপর সে ঘরের কোণ থেকে তার কালো ট্রেঞ্চ কোট তুলে নিজেকে অন্তরীক্ষিত করল। পরবর্তী মুহূর্তে সেই পূর্বের কালো মুখোশটি তুলে নিখুঁতভাবে মুখে স্থাপন করল। যদিও এটা ধুলোবালি থেকে রক্ষা করার জন্য পরিহিত হয় না, বরং নিজের পরিচয়কে গোপন রাখার জন্য। মুখোশের পেছনে তার ঠোঁটের কোণে তখন রহস্যময় বাঁকা হাসি খেলল। এবার সুনিপুণ প্রতিরূপে দরজার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হল।
কারানের শব্দমালা যেন বজ্রনিনাদের মতো মিরার মস্তিষ্কে আছড়ে পড়ল। নয়নের কোণে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ জলরাশি জমে ছিল বহুক্ষণ—সে সব কোনো সংকোচ না মেনে অবলীলায় ঝরঝরিয়ে গালের বেয়াড়া পথ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। আবেগের ঢেউ বাঁধভাঙা হয়ে উঠল; নিজেকে আর সংযত রাখতে পারল না সে। হঠাৎ করেই ছুটে গিয়ে আঁকড়ে ধরল কারানের বুক। সে মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, এই দুই বাহুর সীমাহীনতায়ই তার সমস্ত যন্ত্রণার বিলয় অনিবার্য।
চোখের প্রান্ত ছাপিয়ে ঝরে পড়া একফোঁটা অশ্রু কারানের কণ্ঠনালি ছুঁয়ে নিচের দিকে নেমে গেল। কারান তা অনুভব করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। এমনকি মিরার আবেগময় স্পর্শটুকু উপলব্ধি করেও নিঃশব্দ রইল।
অথচ মিরা তার কণ্ঠদেশে ঠোঁট ঠেকিয়ে অস্ফুট কণ্ঠে বলল, “ম’রে যাওয়াটা সহজ, কারান। সাহস তো আসলে বেঁচে থাকার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। মৃ’ত্যু তো পালানোর একটা পথ মাত্র, যেখানে সমস্ত যন্ত্রণা, সমস্ত দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বেঁচে থাকলে প্রতিটা দিনে টের পাওয়া যায়, কার কাঁধে কতটা ভালোবাসার ওজন ছিল, কে কাকে কতটা ভরসা দিয়েছিল। একসাথে বেঁচে থাকার যুদ্ধটা নীরব, কিন্তু অসম্ভব দামি। এমন সৌভাগ্য তো সবার হয় না, বলো?”
কারান ক্লান্ত ভঙ্গিতে দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ফেলল। নিজের শরীরটা মিরার বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে করতে বলল, “ছাড়ো, মিরা। তুমি আমাকে একটুও বুঝো না। একটুও না। ছাড়ো।”
কিন্তু মিরা সেই কাতর আবেদনেও অনড় রইল। কিছু মুহূর্ত পর কারানের গলা থেকে মুখ তুলে নিল। তারপর কারানের কপালের ঠিক মাঝখানে গভীর এক চুম্বন রেখে ফিসফিস করে বলল, “বিশ্বাস করো, আর কখনো… কখনো তোমার অবাধ্য হবো না।”
“প্রমিস?”
মিরা মাথা নেড়ে সাড়া দিল, “হ্যাঁ, প্রমিস।”
কারান এবার মিরার মুখমণ্ডল দুহাত দিয়ে আবদ্ধ করে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এতক্ষণ জমে থাকা সব ভয়, অভিমান যেন সেই দৃষ্টির উত্তাপে গলে গেল। সে মৃদু স্বরে বলল, “চলো, শাড়ি পরিয়ে দিই তোমাকে। অনেক রাত হয়ে গেছে, ঘুমাতে হবে সুইটহার্ট।”
“দরকার নেই।”
কারান ভ্রূকুটি করে বলল, “কি দরকার নেই?”
“শাড়ির।”
কারানের ঠোঁটে কিশোরসুলভ হাসি খেলে গেল। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে, চোখে দুষ্টু মমতা নিয়ে নীচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “এভাবেই ঘুমাবে?”
মিরা প্রশান্ত স্নিগ্ধতায় উপর নীচ মাথা নাড়ল। কিন্তু মিরার অনাবৃত দেহরেখার অপরূপ দৃশ্য কারানের ভিতর এক বিস্ফোরিত তরঙ্গ তুলল। তার হৃৎস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত ছন্দে ছুটে চলল, শরীরজুড়ে প্রবাহিত রক্ত যেন আগুনের তাপে উত্তাল হয়ে উঠল। মিরার মসৃণ চর্মপটে বিছিয়ে থাকা কেশরাশির ভাঁজে আলোর প্রতিফলনে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের আভা সৃষ্ট করেছে। কোমরের সূক্ষ্ম বক্রতা এবং উত্তেজনায় উঠানামা করা বক্ষযুগলের দৃশ্য কারানের অস্তিত্বকে আন্দোলিত করল। তার অন্তর মিরার প্রতিটি বিভঙ্গে আত্মস্থ হতে চাইল।
তবু তীব্র সঙ্কর্ষণের মাঝেও নিজের আকাঙ্ক্ষার দহনচিহ্ন উপেক্ষা করে কাঁধের পাশ থেকে চাদর তুলে এনে ধীর গতিতে মিরার গায়ে জড়িয়ে দিল, নিজের গায়েও জড়িয়ে নিল। তারপর মিরার বুকের উপর মাথা রেখে নিশ্বাস ছাড়লো। সেই নিশ্বাসের তীব্রতা অনুভব করে মিরার অন্তরীক্ষ টালমাটাল হয়ে গেল। সে আলতো হেসে নিল৷ কারান চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল, “গুড নাইট, অর্ধাঙ্গিনী।”
মিরা তার চুলে আঙুল বুলিয়ে দিয়ে চুলের ফাঁকে ঠোঁট ছুঁয়ে এক কোমল চুমু রাখল। নরম স্বরে বলল, “গুড নাইট, হানি।”
ঘরের আলো নিভে গেল। জানালার পর্দা বাতাসে ধীরে ধীরে দুলে উঠলো। চারদিকে গভীর নিস্তব্ধতা নামল। বাইরে চাঁদের ম্লান আলো ঘরের ভিতর প্রবেশ করে তাদের মুখ ছুঁয়ে রইল। তারা এক স্বপ্নঘেরা ঘুমে ডুবে গেল, যেখানে কষ্ট নেই, আছে শুধু শান্তি আর একজনের পাশে আরেকজন থাকার অটুট নির্ভরতা।
অবিরাম হাওয়ার প্রবল বেগে টেক্সাসের বিস্তীর্ণ শুষ্ক প্রান্তর আরও নিবিড় শূন্যতায় নিমজ্জিত। গভীর রাত। আকাশে একটিও তারা নেই, শুধু মেঘের আবছায়ায় ঢেকে থাকা চাঁদের ধূসর আভা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন একটা সময় একটি বিবর্ণ ধুলোটে পিকআপ ট্রাক এসে এক বিশাল রিগ ট্রাকের সামনে থামল। রিগটা আগে থেকেই খানিকটা গা ঢাকা দিয়ে পথের ধারের নির্জনতায় দাঁড়িয়ে ছিল। এক বলিষ্ঠ মধ্যবয়সী ব্যক্তি পেছনের টায়ার খুলে নীচু হয়ে কাজ করছিল। সে একজন বন্দুক চোরাকারবারি।
অল্প কিছুক্ষণ পর পিকআপের দরজা ঠাস করে খুলে নামল শেফ। সে ধীরে ধীরে রিগ ট্রাকের দিকে এগিয়ে আসল। তার এক হাতে ধরা চেইন শোটা থেমে থেমে গড়গড় আওয়াজ তুলছিল। মুখোশের আড়ালে তার চোখদুটো অবিকল দহনশিখার মতো প্রজ্বলিত। তখনও ট্রাক ড্রাইভার তার উপস্থিতি টের পায়নি। ঠিক যখন সে টায়ারটি লাগাতে যাচ্ছিল, তখনই সামনে একটি অবয়বের ছায়া পড়ল। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যে চোখ দুটি সে দেখল, তাতে তার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নামল।
সে কাঁপা গলায় ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, “Who… who are you?”
শেফ নীরব। তার চেইন শোটা তখন ঘরর-ঘরর শব্দে ঘুরতে থাকল। তার চোখ দেখে মনে হচ্ছিল, বহু দিন পর আবার তার শিকারের ক্ষুধা জেগে উঠেছে।
ড্রাইভার ঠোঁট কামড়ে ধৈর্য ধরে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করল। ভেতরে ভেতরে তীব্র ভয় জমতে থাকল। কিন্তু তার ট্রাকে লুকিয়ে আছে অবৈধ অস্ত্র, গাঁজা, আর একখানা ৯-মিলিমিটারের পিস্তল। সেই সাহসে সে গলা শক্ত করে চিৎকার করে উঠল, “I said, who the hell are you?”
শেফ তবুও নিশ্চুপ। ঠোঁটের কোণে বিকৃত, কিম্ভূত হাসি ফুটে উঠেছে তার। ড্রাইভার হাড়ে হাড়ে বুঝে গেল, এই চোখ করুণা চেনে না। তার বুকের ভিতর হৃৎস্পন্দন দ্রুত হতে লাগল, কপাল বেয়ে ঘামের বিন্দু বিন্দু কণা গড়িয়ে পড়তে থাকল।
তবু সে হাল ছাড়লো না; এই দুনিয়ায় নবীন নয়—বহুবার পুলিশের দিকে বন্দুক তুলেছে, র*ক্তে রাঙিয়েছে হাত, মৃ*ত্যুর তপোবন থেকে বেঁচে ফিরেছে। তাই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্রাকের দরজা খুলে পিস্তল বের করার চেষ্টা করল।
কিন্তু ঠিক তখনই শেফ তার চেইন শোটা পুরো শক্তিতে চালু করে দিল। বিকট শব্দে আছড়ে পড়ল লোহার ছটা। ড্রাইভারের গলার ঘাম ঘন হয়ে টুপটাপ করে ঝড়ে পড়ছে। সে পকেট থেকে বন্দুক টেনে বের করে ট্রিগারে আঙুল ছোঁয়াল, যদিও তার হাত কাঁপছিল।
সে জানত, এক সেকেন্ডের বিলম্ব মানেই মৃ*ত্যু।
🔺রেড অ্যালার্ট: অতিরিক্ত মানসিক প্রস্তুতি না থাকলে নিচের অংশ না পড়াই উত্তম।
ড্রাইভার ট্রিগারে চাপ দেওয়ার আগেই একটা মোটা, মরিচে ধরা লোহার চেইন তার পেটের জামা ছিঁ*ড়ে ঠিক মাঝ বরাবর ঢু*কে পড়ল। সেই চেইনের শেষে এক বিশেষ কনট্যুর-ডিজাইন্ড ব্লে*ড বসানো ছিল। মুহূর্তেই ব্লে*ডের মাথাটা পাক খেতে খেতে অন্ত্র ছি*ন্ন করতে করতে পেটের গভীরে ঢু*কে পড়ল। ড্রাইভারের চোখ বিস্ফোরিত হলো, ঠোঁট কেঁপে উঠে একবারের জন্য তার গলা থেকে একটা গরগর শব্দ বেরিয়ে এলো। প্রাণপণ কিছু বলতে চাইলেও হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া বেদনার তরঙ্গে ভাষা গিলে নিল।
শেফ ঠান্ডা হাতে চেইনটা ধীরে ধীরে ভেতরে ঠেলে দিল। ব্লে*ড ঘুরতে ঘুরতে ভিতরের টিস্যু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আঁকড়ে ধরল। পে*ট ফুঁ*ড়ে প্রথমে লালচে র*ক্তে ভিজে থাকা এক ঝলক পাতলা, সাদা-নীলাভ অন্ত্র বেরিয়ে এলো। একটার পর একটা টেনে বের করতে করতে অবশেষে আধা-পঁচা খাবারে ভরা, ঘিনঘিনে তরলে সিক্ত পাকস্থলী বেরিয়ে এলো।
শেফ সেটাকে এক ঝাঁকুনিতে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল। থলিটা ফে*টে গিয়ে ভিতরের তরল চারদিকে ছিটকে পড়ল। একটা পচা ডিম আর বাসি মাংসের সংমিশ্রিত গন্ধে গা গুলিয়ে উঠল ড্রাইভারের। এরপর ছিঁ*ড়ে গেল চর্বি, ছি*ন্ন হলো পেশি, ছিঁ*ড়ে গেল মূত্রথলি। এই মুহূর্তেই ড্রাইভারের গলা থেকে একটা চাপা চিৎকার বেরিয়ে এলো। অর্থাৎ এতক্ষণে নিজের অঙ্গ হারানোর প্রথম বোধটা মাথায় পৌঁছেছে।
সে ছটফট করতে লাগল, দু’হাতে পেট চেপে ধরল, কিন্তু আঙুলের ফাঁক গলে আঠালো র*ক্ত, ছেঁ*ড়া অন্ত্র, আধা বি*চ্ছিন্ন লিভার নিচে পড়ছিল। তার নখর আঁকড়ে ধরতে চাইল ভিতরের অঙ্গগুলো, যেন সেগুলোকে শরীরে ফেরত আনা যায়, কিন্তু লাভ করতে পারল না কিছুই। ট্রাকের বাহিরটা তখন র*ক্তে সিক্ত হয়ে চর্বি আর তরলে পিছল হয়ে গেল।
ড্রাইভারের চোখ ঘোলা, মুখ অর্ধখোলা। এমন সময় হাড় ফা*টার এক প্রচণ্ড শব্দ হলো।
অর্থাৎ এখানেই শেষ নয়। শেফ এক নিখুঁত ঝটকায় ব্লে*ডটা পেট থেকে বুক বরাবর ছিঁ*ড়ে তুলল। ধারালো, র*ক্তস্নাত ফলাটা জামার ছেঁ*ড়া কাপড় ঠেলে উঠে এলো। ব্লে*ডের ডগায় ঝুলছিল মাং*স, চর্বি, র*ক্তসিক্ত চামড়া।
এবার ড্রাইভারের চোখ উলটে গেল। সে মুখ হা করে বমি করল, কিন্তু পচা খাদ্যের বদলে এক গাঢ়, জমাট বাঁধা, লালচে কালো র*ক্তের দলা বেরিয়ে এলো। যা ছিটকে গিয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল।
সে কেঁপে কেঁপে শেফের দিকে তাকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল। ফুসফুসের শেষ কোণাগুলো থেকে শ্বাস টেনে নিয়ে ভাঙা গলায় বলতে চাইল, “হো… য়াই ডু ই… ইউহ ওয়া… ওয়ান্ট টু কিল মি? হো… য়াট হ্যাভ আই ডান টুহ… ইউ?”
তবু শেফ নিস্পৃহ রইল। সে শুধুই মাথাটা খানিকটা নীচু করে ড্রাইভারের র*ক্তাক্ত, বি*কৃত মুখটার দিকে চাইল। তার ঠোঁটের কোণে অমানবিক হাসি ফুটে উঠলো।
না, ড্রাইভার তার সঙ্গে কিছুই করেনি। কিন্তু সে ভুল করেছে এমন একজনের সঙ্গে, যার অস্তিত্ব শেফের নিজের র*ক্তচক্রের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শেফের দৃষ্টি শানিত হয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল, যে কোনো মুহূর্তে দৃষ্টির তীব্রতায় চোখজোড়া ফেটে বেরিয়ে আসবে। তার চোয়াল দৃঢ় সংকল্পে আঁটসাঁট হয়ে উঠলো। সে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে চারদিকে মাথাটা ঘোরাতে লাগল। অর্থাৎ মুহূর্তের শ্বাসের ব্যবধানে নিজের ভিতরকার প্রলয়কে সংযত রাখার চেষ্টা করছে।
এদিকে ড্রাইভারের শরীরের ভার শূন্য হয়ে এসেছে, সে কাঁপতে কাঁপতে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। তবুও শেষ শক্তিটুকু দিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “ইফ… ইফ…আই’ভ হার্ট ইউহ…অর ডান সাম… সামথিং রং, আ…আই সিন…সিয়ারলি অ্যাপলজাইজ। প…প্লিজ লেট মিহ গোহ…”
এটা কর্ণগোচর করে শেফ উচ্চস্বরে হেসে উঠল। তার গলার ভয়াবহ হাসি শুনে ড্রাইভারের মনে হল, সে শয়তানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। শেফ এবার সামনের দিকে এক পা এগিয়ে এলো। গভীর কণ্ঠে বলল, “ক্ষমা? ক্ষমা নামের দুর্বলতা আমার ভোকাবুলারি থেকে বহু আগেই নির্বাসিত। ক্ষমা হল দুর্বলদের অস্ত্র, কাপুরুষদের সান্ত্বনা। আমি সে দলে পড়ি না। এ শব্দ আমার ডিকশনারিতে না ছিল, না আছে, না কখনো থাকবে। ক্ষমার ধারণাটাই আমার কাছে অপরাধ মনে হয়।”
শেফ ধীরে ধীরে নীচু হয়ে গেল। ড্রাইভারের কোমর বরাবর সোজা ব্লেডের ছুঁচলো ধার চালিয়ে দিল। তারপর বাঁ হাতে রা*মদা তুলে, পাকস্থলীর দুই প্রান্ত কে*টে দু’পাশে ফাঁ*ক করে ধরল। পেটের ভেতরটায় তখন এক বিধ্বস্ত গুহার মতো গর্ত তৈরি হলো।
সে চুপচাপ ভেতরে হাত ঢুকিয়ে একে একে অন্ত্রনালির সর্পিল পাক উলটে আনতে লাগল।
সেই গ*র্তের ভেতর থেকে ছেঁড়া পাকস্থলী বেরিয়ে এলো। শেফ ওগুলো একের পর এক ছিঁ*ড়ে ছিঁড়ে ট্রা*কের একপাশে ছুড়ে দিচ্ছিল। তবে ওখানেই থামেনি সে।
তারপর আঙুল ঢুকিয়ে চেপে ধরল অগ্ন্যাশয়। এক তীব্র টানেই ছিঁ*ড়ে ফেলল সেটা। সেই মুহূর্তে ড্রাইভারের মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বেরিয়ে এলো, গলা দিয়ে কক কক শব্দ হলো। শেফ নিচু হয়ে দুই আঙুলের ফাঁকে মূত্রথলি টেনে বের করল—ফেটে যাওয়া ফোঁড়ার মতো ছিঁ*ড়ে প্রস্রাব-মল মিশ্রিত নোংরা তরল বেরিয়ে এলো, যেটা ছিটকে তার পায়ের কাছে পড়ল।
পরে দু’হাত দিয়ে পেটের ভেতরটা ফাঁক করে ধরল। ডান পাশে ধরা পড়ল দুটো কিডনি। সে একটাকে তুলে এনে এক নিশ্বাসে কামড়ে ছিঁ*ড়ে ফেলল।
ড্রাইভার তখনো বেঁচে আছে, কিন্তু গলার শ্বাসনালি উলটে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিল। চোখ দুটো আকাশের দিকে তাকিয়ে ছটফট করে শেষ আকুতি জানাচ্ছিল। হয়ত তার ঈশ্বরকে ডাকছে, কিন্তু ঈশ্বরও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তার দেহ খিঁচুনি খেতে খেতে ছটফট করতে লাগল। চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু কণ্ঠ ভেদ করে আওয়াজ বের হলো না।
এদিকে একপাশে কালচে রঙের, গাঢ় তরলে ভেজা ক্লেদাক্ত যকৃৎ পড়ে ছিল। সেটার গায়ের ধমনি তখনো কাঁপছিল।
শেফ সেটা হাতে তুলে চোখের সামনে একবার ঘুরিয়ে দেখল। তারপর সেটায় দাঁত বসিয়ে একদম ধীরভাষ্যে বলল, “তোর লিভারটা টক, এটাই তোর দোষ।”
বলা বাহুল্য, সেসময় চালক উদগ্রীব কণ্ঠে প্রশ্ন করছিল, তাকে আক্রমণের প্রকৃত কারণ কী? সেই প্রশ্নেরই উত্তর উচ্চারণ করল সে। যদিও সে আমেরিকান, বাংলা ভাষার বোধগম্যতা তার নেই। এ সত্য শেফও অবগত, তবু হয়ত কৌতুকপ্রবণ মনোভাবে পরিস্থিতির রস আস্বাদন করতেই এভাবে কথা বলল।
এদিকে চালকের গলা থেকে ভাঙা গোঙানির শব্দ নিঃসৃত হলো। কিন্তু সে চিৎকার করতে পারল না। কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে শেফ তার বুকের মাঝখানে তার শক্ত হাত ঢু*কিয়ে চে*পে ধরল হৃদপিণ্ডটা। তারপর একটা হিংস্রতম টান দিল। ধমনি উপড়ে র*ক্ত ছিটকে ছিঁ*ড়ে গেল অঙ্গটা।
ফোয়ারার মতো গলগল করে র*ক্ত উগরে পড়ল শেফের মুখে, কপালে, চোখের পাতায়। তবু শেফ সেই কাঁপতে থাকা হৃদপিণ্ডের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি এনে সেখানেও দাঁত বসাল—এক কামড়ে চিবিয়ে ছিঁ*ড়ে নিল।
সে একবার ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে র*ক্তাক্ত হৃদপিণ্ডটা তার মুখে গুঁজে দিল। যতক্ষণ না তার গলার নিচে আটকে যায়, ততক্ষণ মুখের মধ্যে ঠেলতে থাকল।
ড্রাইভারের চোখের পাতা কাঁপছিল। দেহ কাঁপছিল। কিন্তু তখনো সে জীবিত ছিল। শুধু চোখ দুটো অসহায়ের মতো তার নিজের ছিঁ*ড়ে-খাওয়া হৃদয়ের বক্ষ স্থানের দিকে তাকিয়ে ছিল।
দেহের ভেতরের প্রতিটি অলিগলি শেফ জানে। সে পিছন দিক থেকে আঙুল চালিয়ে খুঁজে বের করল ডানদিকের কিডনি। একটানে ছিঁড়ে ফেলল সেটাও। স্নায়ুর শেষপ্রান্ত ছিঁ*ড়ে র*ক্ত চুঁইয়ে পড়ল। তার পায়ের নিচে জমে থাকা গাঢ় তরলে কিডনির ছায়া প্রতিফলিত হলো।
ড্রাইভারের চোখে জল এলো। শেফ এবার বাঁ হাত দিয়ে তার বক্ষস্থলে চেপে ধরল। তৎক্ষণাৎ চ্যাৎচাৎ শব্দে বুকের খাঁচা ভেঙে হাড় চুরচুর করে ফে*টে গেল। তারপর ঠান্ডা হাতে রা*মদা বের করল, আর সেই কাঁপতে থাকা বক্ষপিঞ্জর কেটে কেটে মাঝ বরাবর চি*রে দিল।
ধারালো ব্লে*ড হাড় ফুঁড়ে গ্ল্যান্ড ছেদ করে চুঁইয়ে চুঁইয়ে র*ক্ত বেরিয়ে আসল। ড্রাইভারের দেহটা শেষবারের মতো আকস্মিক ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল—মস্তিষ্কের স্নায়ু তীব্র ধাক্কায় দেহের প্রান্তে শেষ স্পন্দন পাঠাল। মাথাটা হঠাৎ করেই দুলে পড়ল একপাশে, ঘাড়ের শিরদাঁড়ার সংযোগ আলগা হয়ে নিথর হয়ে গেল। র*ক্তের লালাভ রেখা চুঁইয়ে পড়ল নাকে, গালে, চোয়ালের কিনার ধারে। তারপর নিস্তব্ধতা।
তবু শেফের খেলা এখানেই শেষ হয়নি। সে ঠান্ডা মুখে ঝুঁকে এলো। এক নিশ্বাসে কোমর বরাবর তার দেহটিকে ব্লে*ডের ধারালো টান দিয়ে চি*রে ফেলল। ড্রাইভারের ট্রাউজারের ভাঁজ ফে*টে গিয়ে চামড়া, স্নায়ু আর মাংস হড়হড় করে ছিঁ*ড়ে গেল। সেই চি*রে ফেলা দেহপিণ্ডের নিচে তখন একজোড়া অ*ণ্ড*কো*ষ লটকে ছিল।
শেফ এবার নিচু হয়ে বসল। হাতের র*ক্তমাখা ব্লে*ডটাকে ঘষে ঘষে আরও শানিত করল। তারপর প্রথমবার ডান অ*ণ্ড*কো*ষে ব্লে*ড বসাল, কিন্তু তা একটানে কা*টল না। মাংস ছিঁ*ড়ল, ধমনি ছিঁ*ড়ল, সাদা স্নায়ুর নলগুলি কেঁপে কেঁপে ওঠা শুরু করল। সে এবার ধীরে ধীরে খোঁচাতে খোঁচাতে ছেঁচড়ে পুরোটা কে*টে ফেলল। হঠাৎ একটি ফাটল থেকে ছিটকে দুধের মতো সাদা তরল বেরিয়ে এলো। পাশের কংক্রিট র*ক্ত আর শুকিয়ে যাওয়া শুক্রাণুর মিশেলে কালচে ভিজে উঠল।
Tell me who I am 2 part 4
এরপর তীক্ষ্ণ, নীলাভ ব্লেড দিয়ে ধীরে ধীরে মাংসপেশি ছিঁ*ড়তে ছিঁ*ড়তে বাম অ*ণ্ড*কো*ষটাও কা*টল।
পিছলিয়ে একসাথে ধমনি, স্নায়ু আর জমাট র*ক্তের দলা বেরিয়ে এলো। তারপর সেটাকে উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে তীক্ষ্ণ চোখে কণ্ঠে বিকৃত কোমলতা এনে বলল, “ছিন্ন পু*রুষত্বের এই টুকরোগুলোকে একটার সাথে একটা গেঁথে যদি একটা গলার অলংকার বানিয়ে ব্ল্যাকরোজের গলায় পরিয়ে দিই, তবে কি তাকে আরো ভয়াবহ সুন্দর লাগবে?”
