অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১৩+১৪
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
রাজ্যের বিরক্তি এসে জুড়েছে হীরার ছোট্ট মনটাতে। তার মূল্ কারণ হেঁচকি। এই সাত সকালে কোনো কারণ ছাড়া হেঁচকি ওঠার মানে হয়? এই একটা বাজে অভ্যাস তার জীবন থেকে আর গেলো না। ছোটো বেলা থেকেই বেশি অবাক হলে, ভয় পেলে , কান্না করলে এই আজাইরা হেঁচকি এসে হাজির। আর মাঝে মাঝে তো কোনো কারণ ছাড়াই। যেমন আজকে এই মুহুর্তেও হুদাই কোনো কারন ছাড়া এসে হাজির সে। নাজিয়া বেগমের কাজে সাহায্য করছিলো সে। সহসা এভাবে হীরার হেঁচকি ওঠা দেখে তিনি বললেন,
“ পানি খেয়ে আয়। চলে যাবে ”
তার কথায় রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে পানি পান করলো হীরা। তবে ফলাফল স্বরূপ হেঁচকি থামলো না। হঠাৎ কিছু একটা মনে পরতেই তড়িঘড়ি করে উপড়ে উঠতে লাগলো হীরা। সে তো ভুলেই বসেছিলো তাদের ঘরেই এখন ডাক্তার আছে , ফটাফট গিয়ে এই রুগের সমাধান নিয়ে আসা যাক। ভেবেই রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলো সে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাপ্রন পরিধান করছিলো অনিল। এর মাঝেই হেঁচকি তুলতে তুলতে রুমে প্রবেশ করলো হীরা। রুমে ঢুকেই সে ক্লান্ত স্বরে অনিলকে ডেকে উঠলো,
“ ডাক্তার সাহেব ”
বলেই আবারও হেঁচকি তোললো সে। তার নাজেহাল অবস্থা কিছুক্ষন পর্যবেক্ষণ করলো অনিল। তারপর শান্ত অথচ রসিকতা নিয়ে উত্তর করলো,
“ বলুন রুগী সাহেবা ”
তার এমন সম্বোধনে হীরার অবাক হওয়ার কথা থাকলেও হীরা অবাক না হয়ে সোজা অনিলের নিকট গেলো। হয়তো হেঁচকির জন্য অনিলের সম্বোধন টা কানেই পৌঁছায়নি তার। অনিলের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে অসহায় কণ্ঠে বললো,
“ ডাক্তার সাহেব আমার… এই রুগের চিকিৎসা দিন তো। ”
কথার মাঝেও একবার হেঁচকি উঠলো তার। অনিল এইবার কিছুটা চিন্তার ভান করে বললো,
“ এই রুগের প্রতিষেধক তুমি নিতে পারবে তো? ”
“ হুম ”
ফটাফট উত্তর করলো হীরা।
“ ওকে ”
অ্যাপ্রনের হাতা গুটাতে গুটাতে বললো অনিল। তারপর এক পা দু-পা করে হীরার দিকে এগোতে লাগলো। এইদিকে অনিলকে ক্রমে ক্রমে নিজের দিকে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে হীরা পিছাতে পিছাতে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললো,
“ কী…কী করছেন ? ”
হীরার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই অনিলের। সে ক্রমাগত এগোতেই আছে। একসময় পিছাতে পিছাতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলো হীরার। দেয়ালের দু পাশে হাত রেখে তাকে অস্পর্শ বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলো অনিল। তারপর ঝুঁকতে লাগলো হীরার উপর। পরনে থাকা শাড়িটা খামছে ধরলো হীরা। সাথে সাথেই চোখ, মুখ খিচে বন্ধ করে নিলো সে। তার মুখের সামনে এসে থাকা অবাধ্য চুল গুলোকে সরানোর উদ্দেশ্যে হলকা করে ফুঁ দিলো অনিল। থরথর করে কেঁপে উঠলো হীরা, দাঁড়িয়ে গেলো শরীরের সব লোম-কোপ, হৃদয়ে বইতে লাগলো উত্তাল সাগরের ন্যায় জুয়ার।
“ ডান ”
সহসা হীরাকে নিজের বাহুবন্ধনী থেকে মুক্ত করে দিয়ে বলে উঠলো অনিল। কিয়ৎক্ষণ বাদে কাঁপা কাঁপা পাঁপড়ি খুলে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো হীরা। সে তাকাতেই অনিল বললো,
“ সারিয়ে দিলাম আপনার রুগ, আরকিছু? ”
তার কথায় এতক্ষনে নিজের হেঁচকির কথা মনে পড়লো হীরার। তারপর খেয়াল করে দেখলো এখন আর হেঁচকি আসছে না তার। সে অবাক হয়ে বললো,
“ কীভাবে কী করলেন! ”
“ সাইকোলজির মতে মানুষের যখন হেঁচকি উঠে তখন তার সম্পূর্ণ মনোযোগ অন্য কোনো বিষয়ে নিয়ে যেতেই পারলেই সে হেঁচকির কথা ভূলে যায় আর তখন হেঁচকি চলে যায়। ”
“ ইয়া আল্লাহ! কী ব্রিলিয়্যান্ট ডাক্তার আপনি! এখন থেকে আমার হেঁচকি ওঠলেই আমি আপনার কাছে চলে আসবো। ”
কোনো কিছু না ভেবেই বলে ফেললো হীরা। তার কথায় এইবার তীক্ষ্ণ চোখে তার দিক তাকালো অনিল। সাধারণ একটা ফুঁ দিতেই যেভাবে কাঁপছিল এই মেয়ে, অনিলের তো মনে হচ্ছিলো আরেকটু হলে অজ্ঞান ঐ হয়ে যেতো ওঁ। আর এখন কী না বলছে যখনই হেঁচকি ওঠবে তখনই তার কাছে আসবে! অনিলের এমন চাহনি দেখে হীরা প্রথমে একটু অবাক হলেও পরে যখন তার কথার গভীরতা বুঝলো তখন জিহ্বায় কামড় কথা ঘুরাতে বললো,
“ নাহ্ মানে আমি বলতে চাইছিলাম যে, এখন থেকে যারই হেঁচকি উঠবে সেই যেনো আপনার কাছে চলে যায়। ”
“ তুমি বলতে চাইছো আমি সবাইকেই এভাবে চিকিৎসা দেই ? ”
অনিলের কথার মর্মার্থ বুঝতে সময় লাগলো না হীরার। তৎক্ষনাৎ সে প্রবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলে উঠলো,
“ নাহ্, আমি এটা বলতে চাইনি। ”
” তাহলে? ”
“ ধেৎ… সব গুলিয়ে যাচ্ছে আমার। সব দোষ আপনার, আপনি কী আজব চিকিৎসা দিয়েছেন আমায়! আবোল তাবোল কথা বেরোচ্ছে আমার মুখ থেকে ”
“ এমন অসন্তুষ্ট রুগি এই প্রথম দেখলাম। ”
বলেই যাওয়ার জন্য হাঁটা ধরলো অনিল। মাঝপথেই হীরা পিছন থেকে ডেকে উঠলো,
“ শুনুন ”
“ হুম ”
পিছনে ফিরে হীরার দিক তাকিয়ে উত্তর করলো অনিল। সে তাকাতেই হীরা পুরো অধিকার নিয়ে হাতের তর্জনী তুলে বললো,
“ আপনি কিন্তু কাউকে এভাবে চিকিৎসা দেবেন না। ”
তার এমন অবুঝ কথায় মনে মনে ইচ্ছেমতো হাসলো অনিল। বললো,
“ যথাজ্ঞা মিসেস অনিল এহসান ,এই চিকিৎসা শুধু আমার একান্ত রুগি সাহেবার জন্যই বরাদ্দ থাকিবে ”
বলেই রুম ছেড়ে চলে গেলো সে। সে যেতেই নিজের মুখ ঢেকে হেসে ফেললো হীরা। ইয়া আল্লাহ, এতো সুখ সে কোথায় রাখবে? এতো কেন ভালো তার ডাক্তার সাহেব টা। কী সুন্দর করে বললো, “ মিসেস অনিল এহসান” আবার কী বললো সে? তার “একান্ত রুগি সাহেবা” হায়, খুশিতে উড়তে ইচ্ছে করছে তার। কবে যেনো তার আচরণে মুগ্ধ তাকে টুপ করে একটা কিস করে দেয় সে আল্লাহ মালুম।
বিকেলে আনিকা ও হীরা একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। তখনই আনিকা গতকাল পার্কে তোলা হীরা ও অনিলের সবগুলোর ছবি একে একে হীরার সামনে ধরলো। ছবিগুলো দেখে হীরা অবাক হয়ে আনিকার দিক তাকালো। সে তাকাতেই আনিকা চোখের ইশারায় জানতে চাইলো, ” কেমন হয়েছে? ” তার প্রশ্নে হীরা খানিক লজ্জামাখা হাসি দিয়ে বললো,
“ মন্দ নয় ”
হীরাকে এভাবে কথা বলতে দেখে আনিকা হেসে ফেললো। হেসে হেসে হীরাকে নকল করে বললো,
“ আজকাল দেখছি আমার পিচ্ছি ভাবিটাও লজ্জায় লাল হয়ে যায়, মন্দ নয়… । ”
এইবার দুজনেই উচ্চস্বরে হেসে ফেললো। তারপর হীরা বললো,
“ এইগুলো আমার মোবাইল এ পাঠিয়ে দাও। ”
তার কথায় সাথে সাথেই হীরার আইডি তে সেগুলো পাঠিয়ে দিলো সে, সাথে অনিলের আইডিতেও। তবে তা হীরার চোখে পড়লো না। পরপর ঐদিনের শাড়ি পরা ছবিগুলোও অনিলকে পাঠিয়ে দিলো আনিকা। এইদিকে ছবিগুলো দেখতে দেখতে হীরা ভাবছে কোন ছবিটা ওয়ালপেপার দেওয়া যায়। তারপর একটা ছবি সিলেক্ট করলো, যেখানে সে আকাশে বেলুন উড়াচ্ছে আর অনিল তার কাঁধের দিকটায় মুখ রেখে তার বেলুন উড়ানো দেখছে। এই ছবিটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তার কাছে।
রাতে ঘুমানোর সময় অনিল হঠাৎ হীরার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,
“ কালকে থেকে তুমি আর শাড়ি পরবে না। ”
তার কথায় কপাল কুঁচকে গেলো হীরার। জিজ্ঞেস করল,
“ কেন? ”
“ আমি বলেছি তাই। ”
“ আম্মু যে বললো শাড়ি পরতে সবসময়। ”
“ আম্মুকে বলবে আমি নিষেধ করেছি। ”
“ আচ্ছা ”
বাধ্য মেয়ের মতো জবাব দিলো হীরা। তারপর অপরপাশে ফিরে শুয়ে পরল। শুয়ে পড়লো অনিলও। আসলে আজকাল এই মেয়েটার প্রতি অন্যরকম এক নিষিদ্ধ অনুভূতি কাজ করে অনিলের। যা আগে কখনোই হয়নি, আজ সকালেও যখন শাড়ি পরিহিত এই ছোট্ট শরীরটাকে নিজের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করেছিলো সে। হীরার সাথে কেঁপে উঠেছিল তার নিজ সত্ত্বাও। মস্তিষ্ক জুড়ে জাগ্রত হয়েছিলো নিষিদ্ধ অনুভূতিরা। শাড়ি পরিহিত এই রমনীটি আজকাল বড্ডো বেসামাল করে তুলছে তাকে। শাড়ি পরলে বেশ বড়ো মনে হয় মেয়েটাকে। তাই এখন থেকে শাড়িই পরতে দিবে না সে। ওভাবেই থাকবে পিচ্ছি রূপে। তাতেই ওঁর মঙ্গল।
আজ অনেকদিন পর স্কুলে এসেছে হীরা। ঐদিনের ঘটনার পর আর আসা হয়নি। একটু একটু ভয় হচ্ছে তার, ভাবছে আজকে যদি ঐ স্যার টা তাকে ধরে? আবার পরবর্তীতে ভাবছে, সে কেন শুধু শুধু ভয় পাচ্ছে তার ডাক্তার সাহেব তো আছেই। এসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতেই ক্লাসে প্রবেশ করলো সে। তারপর চোখে পড়লো জারা কে, গিয়ে বসলো তার সাথে। সে বসতেই জারা তাকে জিজ্ঞেস করলো,
“ এতোদিন আসোনি কেন? ”
“ একটু সমস্যা ছিলো তাই। ”
“ ওহ। আমিতো ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আর এইখানে পড়বে না। ”
বলেই থামলো সে। পরপর কিছু একটা মনে পরতেই আবারো বললো,
“ আরে জানো, শহীদ স্যার কে তো এই স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। শুনলাম ঐদিন তোমায় অপমান করায় তোমার হাসবেন্ড নাকি এসে উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলো? আর এই কারনেই নাকি স্যার কে বের করে দেওয়া হয়েছে।? ”
তার কথায় চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো হীরা। বললো,
“ আমিতো এসবের কিছুই জানিনা! ঐদিন প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন তিনি যথাযথ ব্যাবস্থা নিবেন, উনি স্যার কে তাড়িয়ে দিবেন আমি তো ভাবতেই পারি নি! ”
“ ভালো হয়েছে একদম। আমরা সবাই অনেক খুশি হয়েছি, এমন শিক্ষক না থাকলেই ভালো। আচ্ছা তোমার হাসব্যান্ড কী করে? ”
“ ডাক্তার এবং শিক্ষক দুটোই। মেডিক্যাল এ ক্লাস নেয়। ”
” ওহ্ , । তোমার স্বামীর প্রশংসা অনেক শুনলাম ঐদিন স্যার দের থেকে। স্যার এর প্রশংসা আর তোমার প্রতি তোমার স্বামীর ভালোবাসা শুনে তো ঐদিন সবাই পুরো ক্লাস শুধু তোমার হাসব্যান্ডের কথাই বলেছে। এমনকি আমিও বাদ যায়নি। আসলেই তুমি অনেক ভাগ্যবতী। আমার তো তোমার হাসব্যান্ড কে দেখার অনেক ইচ্ছে । কখনো আসলে দেখিও। ”
তার কথায় হীরা মিষ্টি হেসে জবাব দিলো,
“ আচ্ছা। ”
অতঃপর ক্লাসে স্যার প্রবেশ করতেই ক্লাসে মনোযোগ দিলো।
সন্ধ্যার পর পড়তে বসেছে হীরা। তবে তার সবটা মনোযোগ গিয়ে আছে অনিলের কাছে। আজকে পুরো দিনটাই তার কেটেছে অনিলকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে। আজকে স্কুলে এক জনের পর এক জন শুধু তার ডাক্তার সাহেবের প্রশংসাই করছিলো, প্রত্যেকে সবশেষে একটাই কথা বলেছে “ তুমি অনেক লাকি ”। আসলেই তার নিজেকে এখন অনেক ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। ভাগ্যবতী না হলে কী আর কেউ এমন জীবনসঙ্গী পায়। নাহ, কখনোই না, তার ডাক্তার সাহেবের মতো আদর্শ স্বামী পাওয়া কী এতোই সোজা! এসব ভাবতে ভাবতেই নিজে নিজে হাসছে সে, কখনো বা হাতের মাঝে লিখছে হাবিজাবি। হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়ালো সে। উঠেই দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা অনিলের অ্যাপ্রন টা নিয়ে নিজে পরে নিলো। পুরো রুমটা একবার ঘুরে নিলো সেটা পরে। তারপর গিয়ে দাঁড়ালো আয়নায় সামনে, দেখলো নিজেকে, হাসলো অমায়িক। ঢিলেঢালা অ্যাপ্রনটা ভালোই মানিয়েছে তার গায়ে। সেটা নিয়েই ঘাটাঘাটি করলো কিছুক্ষন। তারপর আবারো গিয়ে বসলো পরার টেবিলে, গাইতে লাগলো হাবিজাবি গান, হাসতে লাগলো নিজে নিজেই। ইশ কী সুন্দর একটা স্মেল আসছে অ্যাপ্রনটা থেকে। নেশা লেগে যাচ্ছে তার। টেবিলের মাঝে মাথাটা এলিয়ে দিলো। বড্ডো প্রশান্তি অনুভব হচ্ছে। এ যেনো এক অন্য রকম প্রশান্তি। এ প্রশান্তি শুধু ভালোবাসার মাঝেই পাওয়া সম্ভব। সে কী ভালোবেসে ফেললো অনিলকে?
ঘড়িতে তখন রাত দশটা। অনিল বাড়ি ফিরেছে মাত্র। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে হীরার কোনো শব্দ না পেয়ে অবাক হলো খানিকটা। প্রতিদিন তো বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই হীরার পড়ার শব্দ কানে আসে তার, আজ আসছে না কেন? ভাবতে ভাবতেই নিঃশব্দে রুমে প্রবেশ করলো অনিল। সেখানে এসেই নজর আটকালো অ্যাপ্রন পরিহিত ঘুমন্ত কিশোরীর দিকে। এগিয়ে গেলো সেদিকে, দেখলো সেই ঘুমন্ত কিশোরীটি কে। কিয়ৎক্ষণ এভাবেই তাকিয়ে থেকে চলে গেলো ফ্রেস হতে। বেশ সময় নিয়ে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসলো সে। তবে এসেও দেখলো হীরা ঘুমুচ্ছে। এইবার হীরাকে জাগানোর উদ্দেশ্যে ধীর পায়ে তার নিকট গেলো সে। ঘুমন্ত অবস্থায় বড্ডো বেশিই নিষ্পাপ মনে হয় এই মেয়েটাকে। কী আরাম করে বইয়ের উপর হাত রেখে সেখানে মাথা এলিয়ে ঘুমিয়ে আছে। একদম ক্ষীণ স্বরে আসতে করে অনিল ডাকলো,
“ হীরা ”
কোনো উত্তর এলো না হীরার তরফ থেকে। সে এখন ঘুমের রাজ্যে , দিন দুনিয়ার খবর নেই তার। পরপর আরো দুবার হীরাকে ডাকলো অনিল। তবে হীরা জাগলো না। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে হীরাকে কোলে তুলে নিলো অনিল। নড়ে চড়ে উঠলো হীরা, তবে ঘুম ভাঙলো না। অতঃপর হীরাকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো অনিল। বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আসতে নিবে তখনই নজড় পড়লো হীরার হাতের মাঝে। সেখানে ঘুটি ঘুটি অক্ষরে লিখা ” ডাক্তার সাহেব + তার একান্ত রুগি সাহেবা” । কিছুক্ষন লেখাটার দিকে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেললো অনিল। তারপর হীরার উপর ঝুঁকে তার শরীরে কাঁথা টেনে দিতে দিতে বিড়বিড়ালো একটি শব্দ,
“ অবুঝপাখি ”
তারপর রুমের লাইট অফ করে সেও এসে শুয়ে পড়লো হীরার পাশে।
ঘুমের মাঝেই নিজের শরীরের সাথে নরম কিছু অনুভব করলো অনিল। যা আষ্ঠেপৃষ্ঠে ধরে আছে তাকে, নড়তে পারছে না সে। কিছুক্ষন পড়েই ফজরের আযান পরবে। তাই ঘুমটাও হালকা হয়ে গেছে তার। এইবার পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালো সে। চোখ মেলতেই আবিস্কার করলো তার বুকের মাঝে মাথা রেখে তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে ধরে ঘুমিয়ে থাকা একটা ছোট্ট দেহ। স্তব্ধ হয়ে গেলো সে, নড়ে উঠলো তৎক্ষনাৎ। এইদিকে হীরা স্বপ্নে কোলবালিশকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছিলো । সহসা তার কোলবালিশটা নড়ে উঠায় ঘুমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলো তার। ঘুমের মাঝেই সে বিরক্তি নিয়ে শব্দ করে উঠলো,
অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১১+১২
“ উমম…. ”
বলেই আরো শক্ত করে কোলবালিশটাকে জড়িয়ে ধরলো। হীরার এমন কাণ্ড দেখে অনিল ওঁকে একটা রাম ধমক দিবে না হাসবে তাই ভেবে পাচ্ছে না। তার শরীরে রাজত্ব চালাচ্ছে আবার সে নড়েছে বলে এই পিচ্ছি মেয়ে কিনা তার উপরেই বিরক্তি প্রকাশ করছে! নাহ বড্ডো বেড়েছে মেয়েটা আজকাল। ওঁর একটা ব্যাবস্থা নিতেই হচ্ছে। ভেবেই অনিল হীরাকে নিজের থেকে ছাড়াতে নিলে, হীরা আরো তেজ দেখিয়ে পুনরায় একই শব্দ উচ্চারণ করলো। হীরার বিরক্তিতে কুঁচকে যাওয়া মুখপানে তাকিয়ে এইবার অনিল হেসে ফেললো। আর নড়লো না সে, ঘুমুতে দিলো হীরাকে । শুধু অপলক চেয়ে রইলো হীরার নিষ্পাপ মুখ খানায়। তারপর হীরার দিকে তাকিয়েই বললো,
“ শুনো গো ষোড়োশী, তোমার কী বিন্দু পরিমাণ ধারণা আছে?
তোমার এই অবুঝপনামি তোমার সামনে থাকা বুঝদার পুরুষটিকেও আজকাল বেসামাল করে দিচ্ছে। ”
