Home অকস্মাৎ প্রণয় অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৪৫+৪৬

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৪৫+৪৬

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৪৫+৪৬
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

” এই যে শুনুন মিস. ইরাবতী, আমার হবেন? হবেন কী আমার দিবা রাত্রির ঝগড়ার পার্টনার? ”
সাদিকের আইডি থেকে আসা এইটুকু লেখা আনিকার পুরো শরীর অবস করে দিলো। সারাক্ষণ বকবক করা মেয়েটা যেনো নিজের ভাষা হারিয়ে ফেললো। বুক কাপছে তার, হাফরের মতো উঠানামা করছে হৃদস্পন্দন। কিছুক্ষন ওভাবেই ঝিম মেরে বসে রইলো সে। সাদিক মনে হয় বুঝতে পারছে ওর দিকটা। তাই সেও আর মেসেজে না দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।

“ আপনার হবো না, তবে আপনার দিবা রাত্রির ঝগড়ার পার্টনার হবো। ”
কাঁপা কাঁপা হাতে রিপ্লাই করলো আনিকা। তার রিপ্লাই দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো সাদিক। বললো,
“ আগে আমার হন, তারপর পার্টনার তো অনেক ক্ষেত্রেই হতে হবে আপনার। ”
মেসেজটার গভীরতা বুঝতে সময় লাগলো আনিকার। বুঝে আসতেই শিউরে উঠলো সে। কেমন যেন ভিতরে সব গোলমাল পাকিয়ে যেতে লাগলো। নাহ, এই লোকের সাথে আর ফাজলামো করা যাবে না। নয়তো তাকে আজ হার্ট অ্যাটাকে মারিয়ে ছাড়বে ঐ উগান্ডা লোক। এতদিন মন গহীনে লুকিয়ে রাখা কথাটা আজ বলেই দিলো সে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“ হয়ে গেলাম না হয় আপনার। ”
“ আমার হওয়া কিন্তু এতটাও সোজা নয় মিস. ইরাবতী। কারন আপনার পরিবারের সামনে আপনাকে নিজের করতে পারবো ন আমি। আমার হতে হলে আপনাকে পরিবার ছেড়ে আমার কাছে আসতে হবে। ”
পরিবার ছাড়ার কথা শুনতেই বুকটা ধ্বক করে উঠলো আনিকার। কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বললো,
“ মানে! ”
“ মানে আপনাকে পালিয়ে আসতে হবে। আমি আপনাকে জোর করবো না। আপনার হলুদের দিন আমি আপনাদের বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করবো, আপনার মর্জি হলে তবেই আসবেন। ”
এরপর আর কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি আনিকা।
“ আপু লিপস্টিক কী রঙের দেবো? ”

হীরার কথায় অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে এলো আনিকা। মিররে দেখলো হলুদের শাড়ি আর গয়না পরিয়ে তাকে একদম হলুদ পরী বানিয়ে ফেলেছে হীরা। তারপর নজর পরলো নিজের মলিন চেহারা টায়। মাঝের কদিনের চিন্তায় একদম ফ্যাকাসে হয়ে গেছে তার উজ্জ্বল মুখখানা। এইদিকে তাকে কিছু বলতে না দেখে হীরা আবারও অধৈর্য স্বরে বললো,
“ আরে আপু, কী রঙের লিপস্টিক দেবো সেটা তো বলো! ”
সম্বিৎ ফিরল আনিকার। বললো,
“ হ্যাঁ? একটা দিলেই হলো। দিয়ে দাও। ”

হীরা গাঢ় গোলাপি রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে দিলো। আনিকার বিয়েতে তেমন আয়োজন করা হয়নি। তার মূল কারন প্রধানত আনিকার নিষেধাজ্ঞা। সে বড়ো আয়োজন করতে নিষেধ করেছে।শুধু নিকট আত্মীয় রাই অংশগ্রহণ করবে বিয়েতে। নিকট আত্মীয় বলতে আনিকার দুই ফুপির পরিবার ও তাদের নানা বাড়ির সবাই। আর খালামনি তো এখন তার শাশুড়িই হতে যাচ্ছে। ফুফাতো ও মামাতো বোনরা সবগুলো বিবাহিত, বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত সকলে তাই হীরাই আনিকাকে সাজাচ্ছে। আনিকাকে পুরোপুরি ভাবে তৈরি করে হীরা বললো,

“ আমি একটু আসছি তুমি বসো। ”
বলেই রুম ছাড়লো হীরা। সে যেতেই আনিকা নিজের মোবাইলটা হাতে নিলো। বহু কষ্টে নেওয়া সিদ্ধান্তে অটল থেকে সাদিক কে মেসেজ করলো,
“ আপনি কী বাড়ির বাইরে? ”
সাথে সাথেই ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসলো,
“ হুঁ। ”
“ আমি আসছি। ”
বলেই মোবাইল হাতে বারান্দার ধারে আসলো। সেখানে গিয়ে বাড়ির পিছনের দিক টায় নিজের ফোনটা ফেলে দিলো। তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে পরলো। ড্রয়িং রুমের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নিলে তার বড়ো ফুপি প্রশ্ন ছুড়লো,

“ কোথায় যাচ্ছিস? ”
“ বারান্দা দিয়ে ফোনটা হাত থেকে ফসকে পরে গেছে ফুপি। সেটাই আনতে যাচ্ছি। ”
“ কারো কাছে বললেই তো হয়। তোর যেতে হবে না। ”
“ সমস্যা নেই ফুপি। আমিই নিয়ে আসছি। ”
মাত্র ছাদে হলুদের ডেকরেশন দেখে এসে নিচে নামছিলো হীরা। আনিকার সব গুলো কথাই তার কানে পৌঁছেছে। আনিকার বারান্দা থেকে ফোন পড়েছে মানে বাড়ির পিছনের দিকে। আর সেখানে তো অনেক অন্ধকার আর নির্জন। তাই দেরি না করে সেও আনিকার পিছু পিছু ছুটলো। বাড়ির পিছন থেকে নিজের ফোনটা আগে নিলো আনিকা। ফোনে হার্ড কভার থাকায় মাটিতে পড়ে সেটার কিছুই হয়নি। আর আনিকাও এমনভাবে ফেলেছিলো যেনো কিছু না হয়। মাথায় থাকা উড়না টা দিয়ে নিজেকে ভালো ভাবে ঢেকে নিলো সে। তারপর বড়ো বড়ো পা ফেলে গেইট দিয়ে বাড়ির বাইরে যেতে নিবে তখনই সামনে দাঁড়ালো হীরা। ভরকে গেলো আনিকা। আমতা আমতা করে বললো,

“ তুমি এখানে হীরা! ”
“ তুমি আমার পরিণতি তো শুনেছিলে আপু তাহলে কী করে পালানোর চিন্তা মাথায় আসলো তোমার? ”
“ হীরা প্লিজ যেতে দাও আমায়। উনি এমন না আমি জানি। ”
“ ভালো ছেলে হলে নিশ্চই তোমার পরিবারের কাছ থেকে এসে তোমায় চেয়ে নিতো। ”
জবাবে বাক্য খুঁজে পেলো না আনিকা।
“ কার সাথে পালানোর চেষ্টা করছো তুমি, জানতে পারি? ”
মোবাইলটা এগিয়ে দিলো আনিকা। বললো,
“ আশিক ভাইয়ার ফ্রেন্ড সাদিক। ”
চোয়াল ঝুলে পরলো হীরার। বিস্ময় নিয়ে বললো,
“ সাদিক! মানে যেই লোকটাকে তুমি সহ্যই করতে পারতে না। ”
মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো আনিকা। এইবার আনিকার মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখলো হীরা। “ লঙ্কার বান্দর (স্যার) ” নামক আইডি টাতে ঢুকে প্রোফাইল পিক টা নজরে পরতেই হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেলো হীরার। মুখ থেকে বেরিয়ে আসলো একটাই শব্দ,

“ ভাইয়া! ”
আনিকার মাথায় যেনো ছোটখাটো একটা বজ্রপাত পরলো। বললো,
“ কে ভাইয়া? ”
“ ভাইয়া কোথায় অপেক্ষা করছে তোমার জন্য? ”
“ গেটের বাইরে। ”
কোনোকিছু না ভেবেই হীরার অবস্থা দেখে উত্তর করলো আনিকা। সাথে সাথেই বাইরে ছুটে গেলো হীরার। অন্ধকারে আচ্ছন্ন রাস্তাটার কিছু দূর যেতেই চোখের সামনে ধরা দিলো এক পরিচিত অবয়ব। অবস হওয়া পা দুটো নিয়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে। আনিকার জায়গায় হীরার অবয়ব দেখতেই কপাল কুঁচকে গেলো সাদিকের। পা ঘুরিয়ে যেতে নিবে পিছন থেকে ক্লান্ত স্বরে ডেকে উঠলো হীরা,

“ ভাইয়া! ”
ডাকটা কর্ণপাত হতেই পা জোড়া থেমে গেলো সাদিকের। হাজার চেষ্টা করেও এই ডাক টাকে উপেক্ষা করার সাধ্য হলো না তার। সাদিকের একদম নিকটে এলো হীরা। অশ্রুতে টইটুম্বুর হওয়ার নেত্রে বলল,
“ তুমি আমার সেই ভাইয়া, যাকে আমি বীরপুরুষ উপাধি দিয়েছিলাম? ”
“ তুই আমার সেই বোন, যাকে আমি নিজের কলিজার টুকরা বলে জানতাম।”
“ ভাইয়া আমি… ”
কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারলো না হীরা। তার আগেই তাকে থামিয়ে সাদিক বলে উঠলো,
“ ভাইয়া বলে ডাকবি না তুই আমায়। তুই আমার বোন হলে অবশ্যই আমাকে না জানিয়ে আমার চিরশত্রু অনিল এহসান এর সাথে পালিয়ে আসতি না। আরে তুই শুধু একবার বলতি আমায় যে, তুই ঐ রাস্কেল টারে ভালোবাসিস। দরকার হলে আমি সকল শত্রুতা ভূলে ওরে বন্ধু বানায় নিতাম। কিন্তু তুই কী করলি! আমাদেরকে অসম্মানের কাট গোড়ায় দাঁড় করিয়ে ওর সাথে চলে এলি! ”

“ ভাইয়া তুমি কী বলছো আমার মাথায় ঢুকছে না। কিসের শত্রু, কার শত্রু? আর আমি দোষ করেছি আমি জানি তবে উনার এখানে কোনো দোষ নেই। উনাকে কিছু বলো না। উনি তো উল্টো…”
“ আমি ঠিকই বলেছি তুই এখন আর আমার সেই বোন নস, এখন তুই মিসেস. অনিল এহসান। যে নিজের স্বামীর দোষ খুঁজে পায়না। আর আমি দোষ করেছি বলে বীরপুরুষ থেকে কাপুরুষ হয়ে গেলাম! ”
“ ভাইয়া তুমি ভূল বুঝছো। উনি…. ”
এবারও তাকে থামিয়ে দিলো সাদিক। তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো,

“ তুই যার সাফাই গাইছিস সে তোকে কেন বিয়ে করেছে সেটা তো জেনে নে। তোর ঐ সম্মানিত স্বামী আমার থেকে প্রতিশোধ নিতে তোকে ভাগিয়ে এনেছে। আমার সম্মানে আঘাত হানার জন্য এসব করেছে সে। আমার কলেজ লাইফের সবচেয়ে বড়ো শত্রু ছিলো ও। আমি আর ও ছিলাম ক্লাসের সবচেয়ে ব্রাইট স্টুডেন্ট। সবসময় ওর আর আমার মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগে থাকতো। আর এই প্রতিযোগিতা একদিন রূপ নেয় শত্রুতাতে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আনাদিয়া আমায় ছেড়ে ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করেছিল যেটা আমি সহ্য করতে পারি নি। তাই একদিন রাগের বসে ফাইনাল এক্সামে ওর দিকে নকল ছুঁড়ে দিয়েছিলাম আর তখনই উপজেলা পরিষদের লোক ক্লাসে প্রবেশ করেছিল। অনিলের কাছে নকল দেখে ওর খাতা বাতিল করে দিতে নিচ্ছিলো। কিন্তু শিক্ষকরা পরে বিষয়টা সামলে নেয়। আমি নিজেও বুঝতে পারি নি বিষয়টা এভাবে বিগড়ে যাবে। পরবর্তীতে ও যখন জানতে পারে ঐ কাজটা আমি করেছিলাম তখন ও আমাকে বলেছিল,“ এর ফল তোকে এমন ভাবে দেবো যা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।” আমি নিজের ভূল বুঝতে পেরে ওকে “স্যরি” বলেছিলাম। ও কিছুই বলেনি, ভেবেছিলাম ও হয়তো সব ভূলে গেছে। কিন্তু না ও ওর কথাই রেখেছে আমার সাথে এমনটাই করলো যা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। ”

” আর এজন্য তুমি উনার থেকে প্রতিশোধ নিতে আনিকা আপু কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছো? ”
“ হুঁ, তবে ইরাবতী কে….”
কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারল না সাদিক। এর আগেই কানে আসলো গেটের ভেতরে কারো ছুটে যাওয়ার পদধ্বনি। “ব্যাবহার” শব্দ টা কর্ণপাত হতেই আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না আনিকা। ছুট লাগালো বাড়ির ভিতর। পুরো দুনিয়া ঘোলাটে হয়ে গেছে মেয়েটার। গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে নিজের ভিতরের সব কষ্ট উগলে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে তার। হীরাও আর থাকতে পারল না। শুধু সাদিকের দিক তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো,

“ আমি ঠিকই বলেছিলাম তুমি আমার ভাই নও। যে ছেলে নিজের প্রতিশোধের জন্য কোনো কিছু না জেনেই একটা নিষ্পাপ মেয়েকে ব্যাবহার করতে পারে- সে কখনোই আমার ভাইয়া হতে পারে না। আজ আমি তোমার সাথে থাকা আমার সম্পর্ক কে নামহীন করলাম। কাপুরুষ তুমি, তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু এতটুকু বলে রাখি তোমায়, “ যার বোনকে তুমি ব্যাবহার করেছো, সে না থাকলে আজ তোমার বোনের অস্তিত্বই থাকতো না। ”
বলেই হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নিজের চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে গেল সে। সাদিক পিছন থেকে রাগে, দুঃখে গর্জে উঠে বললো,
“ যাহ তোর মতো বোন লাগবে ও না আমার। ”
বলেই হনহন করে চলে গেলো সে। তবে কানে বাজতে লাগলো হীরার শেষের কথাটা। কথাটার অর্থ বুঝতে পারছে না। সব গোলমাল লাগছে! সে কী কোনো ভাবে ভূল করে ফেললো!

বাড়িতে ভিতরে প্রবেশ করেই আনিকা কোনদিক না তাকিয়ে নিজের রুমের দিক ছুটলো। সকলে তার অবস্থা দেখে হকচকিত হয়ে গেলো। মেয়ের চোখমুখ দেখে তার পিছন পিছন ছুটলো নাজিয়া বেগম। আনিকা রুমের ভিতর প্রবেশ করার আগেই তার ছোট ফুপি তাকে ধরলেন। বললেন,
“ কী হয়েছে আম্মু, এভাবে কাঁদছ কেন তুমি? ”
নিজের ফুপিকে জাপ্টে ধরলো আনিকা। বংশের একমাত্র মেয়ে বিধায় সকলের কাছেই সে অনেক আদরের। তিনি আনিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“ কী হয়েছে আম্মু, ফুপিকে বলো। ”
“ আমি এ বিয়ে করতে পারব না ফুপি। আমার এসব ভালো লাগছে না, খুব কষ্ট হচ্ছে আমার, মরে যেতে ইচ্ছে করছে। ”

সাথে সাথেই তাকে বুক থেকে তোলে গালে সবেগে চড় বসিয়ে দিলেন নাজিয়া বেগম। ছিটকে পরলো আনিকা। ঘটনা টা এতটাই তাড়াতাড়ি ঘটলো যে কেউ কিছু বুঝেই উঠতে পারলো না। এর মাঝেই সেখানে উপস্থিত হলো অনিল। নাজিয়া বেগম আবারও মারতে নিবেন তার আগেই বোনকে নিজের সাথে আগলে নিলো সে। নাজিয়া বেগম গর্জে উঠলেন,
“ তোর বোন রঙ তামাশা পেয়েছে এখানে? ওকে আমি ঐদিন বলিনি বিয়ের কথা? এখন ও এমন নাটক করছে কেন? তখন বলতে পারল না। এখন সবাইকে বুঝাতে চাইছে আমি জোর করে ওকে আমার বোনের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি! ”
বলেই আবারও তেড়ে যেতে নিলেন আনিকার কাছে। তবে পারলেন না আসিফ এহসান এর জন্য। তিনি চোখ রাঙিয়ে থামতে বললেন স্ত্রীকে। আনিকা অঝোরে কাদঁছে ভাইকে ধরে। তার কান্নায় চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে হীরার ও। তার জন্যই সব হয়েছে। এ বাড়িতে আসার পর আজ অব্দি আনিকাকে এভাবে কাঁদতে দেখে নি সে। আজ প্রথম এভাবে কাঁদছে মেয়েটা। এইদিকে চিন্তা, দুর্বলতা, কান্না আর মায়ের শক্তপোক্ত চড়ে আস্তে আস্তে পুরো ধরণী ঘোলাটে হয়ে এলো আনিকার। মুহুর্তের মধ্যেই শরীরের ভার ছেড়ে দিলো অনিলের উপর।

থমথমে পরিবেশ, নিলয়ের সামনে গোমড়া মুখে বসে আছে সাদিক। তাকে এতবছর পর হঠাৎ দেখতে পেয়ে চোখ বড়ো বড়ো করে তার দিক তাকিয়ে আছে নিলয়। নীরবতা ভেঙে সেই আগে প্রশ্ন ছুড়লো,
“ কিরে এতো বছর পর হঠাৎ শত্রুপক্ষের কাছে?”
“ অনিলের আর হীরার বিয়ে কীভাবে হয়েছে খুলে বল। ”
সাদিকের উল্টো প্রশ্নে কিছুটা থতমত খেয়ে গেলো নিলয়। বললো,
“ তুই ওসব জেনে কী করবি? ওয়েট তুই আবার হীরাকে পছন্দ করিস নাতো? ”
“ মদন, আমার বোন হয় হীরা। ”
চোয়াল ঝুলে পরলো নিলয়ের। অবাক মিশ্রিত কন্ঠে বললো,

“ কিহ..! ”
“ তুই কী নিয়ম কইরা স্টার জলসার নাটক দেহস নাকি? সবকিছুতে এমন অ্যাকটিং করতাছিস কেন! থাপরাইয়া অ্যাকটিং ছুটায় দিমু, তাড়াতাড়ি আমার প্রশ্নের উত্তর দে। ”
“ দিতাছি তো রে ভাই! ”
বলেই হীরা আর অনিলের বিয়ের সব ঘটনা খুলে বললো নিলয়। প্রথম থেকে শেষ অব্দি সব মন দিয়ে শুনলো সাদিক। সবকিছু শুনার পরেও তাকে একদম স্বাভাবিক দেখালো। তারপর হুট করেই উঠে পরলো সে।
“ ধন্যবাদ। ”
বড়ো বড়ো পা ফেলে স্থান ত্যাগ করতে করতে নিলয়ের উদ্দেশ্যে বললো সে। আর নিলয় বেচারা হা হয়ে তার প্রস্থান দেখলো। এসেছেও হুট করে গেলো ও হুট করে।

রাত থেকে বাড়ি ফেরেনি নিরব। সেই নিয়ে আহাজারি চলছে পুরো সরকার বাড়ি। খুশিতে আত্মাহারা হয়ে পড়া ছেলেটা গতকাল রাতে খালার কাছ থেকে আনিকার বিয়েতে অমত শুনতেই সকল সুখ হারিয়ে গেছে রাতের আঁধারে। সাথে সে নিজেও বিলীন হয়েছে অজানা পথে। রাত থেকে বাব- চাচারা খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। সাহেরা বেগমের অবস্থা বেগতিক, একমাত্র আদরের ছেলের শুকে এই নিয়ে দু- বার জ্ঞান হারিয়েছেন তিনি। ঘড়িতে তখন সকাল দশটা কী এগোরটা সহসা নিচ থেকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে সবাইকে ডাকতে লাগল ইরা,
“ আম্মু, বড়ো চাচি কই তোমরা নিরব ভাইয়া এসেছে। ”
শক্তিহীন শরীরটা নিয়ে ত্রস্ত পায়ে ছুটে আসলেন সাহেরা বেগম। পিছন থেকে ইতির মায়ের দেওয়া সকল সতর্ক বাণী উপেক্ষা করে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ছেলের উপর। নিরবের অবস্থা টালমাটাল, চারপাশ থেকে বন্ধুরা ধরে রেখেছে তাকে। সারারাত যাবৎ সিগারেটে পোড়া ঠোঁট দুটো অত্যধিক কালচে হয়ে আছে তার। শরীর এমন ভাবে ঢুলছে যে, যেকেউ দেখলে বলে দিতে পারবে এই ছেলে রাতভর নেশা করেছে। চোখ গুলো আগুনের লাভার মতো লাল হয়ে গেছে।

“ সারারাত কোথায় ছিলি তুই বাবা আমার? একবার এই ব্যার্থ মায়ের কথা ভাবলি না। ”
মায়ের আহাজারি তে তেমন হুশ হলো না তার। বন্ধুরা তাকে নিয়ে সোফায় বসালো। ধপ করে শুয়ে পড়লো ছেলেটা। এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরে বসলেন সাহেরা বেগম। কানে পৌঁছালো ছেলের মৃদু স্বরে থেমে থেমে বলা প্রত্যেকটা কথা,
“ আমার স্বপ্নগুলো এভাবে কেন ভাঙলো মা, তুমি বলেছিলে ওর বড়ো হওয়া অব্দি অপেক্ষা করতে। তুমি এটা কেন বললে না যে, বড়ো হয়ে ওঁ অন্য কারো হয়ে যাবে। তাহলে তো ওঁকে নিয়ে আমি আর নিয়ম করে স্বপ্ন দেখতাম না। ওঁ কেন আমায় ভালোবাসলো না মা? আমি ওঁর সাথে সবসময় ঝগড়া করি বলে? আমি আর কখনো ঝগড়া করবো না মা, ওঁর সব যুক্তি মেনে নিবো, ওঁকে বলো না আমায় ভালোবাসতে। ”
ছেলের এমন করুণ অবস্থা দেখে হো হো করে উঠলো সাহেরা বেগমের মাতৃসত্ত্বা। ছেলেকে জড়িয়ে ডুকরে উঠলেন তিনি, সব অভিযোগ গিয়ে জমলো ছোটো বোন ও তার মেয়ের প্রতি। তিনি কাঁদতে কাঁদতেই রীতিকে বললেন নিরবকে রুমে নিয়ে যেতে। তারপর কল লাগালেন বোনের উদ্দ্যেশ্যে।

চিন্তিত মুখে ড্রয়িং রুমে বসে আছেন নাজিয়া বেগম। রাতে বোনকে একবার কল করে আনিকার ঘটনা বলার পর এই অব্দি এক বারও তার কল রিসিভ করেননি সাহেরা বেগম। একদিকে বোনরে বাড়ির চিন্তা আরেকদিকে নিজের মেয়ের চিন্তায় বুক ভার হয়ে আছে তার। মেয়েটার অবস্থা ও শোচনীয়, রাত থেকে এখন অব্দি পানি টুকু মুখে পুরে নি সে। রাতে জ্ঞান ফিরার পর একটা কথাও বলেনি কারো সাথে, শুধু বলেছে সে বিয়ে করবে না। আর সবাই কারন জিজ্ঞাসা করাতে জানিয়েছে “ কিছু হয়নি। ” অনিল বারবার জিজ্ঞেস করা সত্বেও মুখ থেকে একটা বাক্যও বের হয়নি তার। মূলত সে চায় না এ বিষয়টা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি হোক। শুধু নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে সে,নিজের প্রাণবন্ত সত্ত্বাকে পরিনত করেছে নির্জীব সত্ত্বাতে। পুরো বাড়ি জুরে এখন নিস্তব্ধতা। এতোগুলো মানুষের একজনের মুখেও রা নেই। নাজিয়া বেগমের ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠতেই শব্দের জুয়ার পরলো নিস্তব্ধ ড্রয়িং রুমটায়। বোনের নাম্বার দেখে ভদ্রমহিলা সাথে সাথেই ফোন রিসিভ করলেন। ফোন রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে ডুকরে উঠলেন সাহেরা বেগম। বললেন,

“ কেন করলি আমার সাথে এমন? কী চেয়েছিলাম আমি তোর কাছে? তোর মেয়ের হাত টাই শুধু চেয়েছিলাম। সেদিন তো বলেছিলি, তোর মেয়েকে আমার ছেলের হাতেই তোলে দিবি। তাহলে আজ এভাবে আমার ছেলেটার স্বপ্নগুলো ধ্বংস করলি? যে ছেলেটা কোনোদিন সিগারেট ছুঁয়ে দেখেনি আমার সেই ছেলেটা আজ কালচে ঠোঁট আর মাতাল দেহ নিয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মা হয়ে সেই বীভৎস দৃশ্য দেখেছি। আমি কোনোদিন ক্ষমা করবো না তোকে, কোনোদিন না। ”
বলেই কল রেখে দিলেন তিনি। এপাশে বোনের এক একটা কথায় ভগ্ন হওয়া ব্যাথিত হৃদয়ের মানুষটাকে টু শব্দ করারও সুযোগ দিলেন না। তিনি কী জানতেন তার মেয়ে অন্য কাউকে পছন্দ করবে! তখন তো জিজ্ঞেস করায় বলেছিলো সে কাউকে পছন্দ করে না। তাই তো তিনি বোনকে শক্ত মনে কথা দিয়েছিলেন। এখন তো পরিস্থিতি সব উলোট পালোট হয়ে গেছে। তার মেয়ে তো আর ইচ্ছে করে নিরবকে কষ্ট দেয়নি। সে তো এসব জানতই না। তার পড়া লেখায় চাপ পড়ার ভয়ে তার বোনেরাই তো নিষেধ করেছিল তাকে কিছু না বলতে। তাই নিজের মেয়েকে ও কিছু বলতে পারবেন না তিনি। এমনিতেই গতকাল তাকে মারার জন্য ঘরে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সকলের থেকে কথা শুনেছেন তিনি এতে তার কোনো দুঃখ নেই, মেয়েকে মেরে তিনি নিজেই কেঁদেছেন সারারাত।

ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে মাত্র নিচে কাউকে পানির জন্য ডাকতে দরজার নিকট গিয়েছিলো আনিকা। ফোন লাউডস্পিকারে থাকায় উপর থেকে সব কথাই কানে গেলো তার। নিচে যাওযার আর শক্তি হলো না মেয়েটার। ওভাবেই দরজা লক করে সেখানে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লো। অশ্রুরা যেনো বাঁধ ভেঙেছে তার। কান্নার তুরে মুহূর্তেই ভিজে চুপচুপে হয়ে গেলো মুখমন্ডল। অস্পষ্ট স্বরে গুঙিয়ে উঠলো সে। শব্দ করে ডুকরে উঠলো এবেলায়। কাঁদতে কাঁদতেই সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে বললো,

“ ওরা পুরুষের বিরহে পোড়া কালচে ঠোঁট দেখে,
অথচ নারীর কোমলতার আড়ালে থাকা বিধ্বস্ত হৃদয় দেখে না।
পুরুষরা তো নিকোটিনের ধোঁয়ার সাথে নিজের কষ্ট গুলো উড়িয়ে দিতে পারে অথচ নারী যে সেই কষ্টগুলো বুকে চেপে মরণ যন্ত্রণায় কাতরায় সেইগুলো ওরা দেখে না, চার দেয়ালের মাঝে করা হাহাকার গুলো ওরা শুনতে পায় না, রাতের অন্ধকারে অশ্রুতে শিক্ত বালিশ গুলো ওরা দেখতে পায় না। ”
বলতেই বলতেই গলাটা ভেঙে আসলো মেয়েটার। নেতিয়ে পড়ল শরীরখানা।

অনিলের পাশে ফোনটা বেজে যাচ্ছে অনবরত। নাম্বারটা আননোউন হলেও সে ধরতে পারল এটা কার নাম্বার। এক পর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে কল ধরতেই হলো তাকে। সাথে সাথেই ওপাশ থেকে ভেসে আসল রাগান্বিত স্বর,
“ এই শত্রু কল ধরিস না কেন? ”
নিরুত্তর অনিল। গমগমে স্বরে বললো,
“ কী চাই? ”
“ তোর বোন কে চাই। ”
“ আমার বোন কে কী তোর কাছে পুতুল মনে হয়? ”
“ পুতুল মনে হলে কী আর তোর কাছে চাইতাম। মানুষ বলেই তো চাইছি। ”
“ নেক্সট টাইম কল করবি না এই নাম্বারে। ”

বলেই কল কাটতে নিচ্ছিলো অনিল। সাথে সাথেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো সাদিকের অসহায় কণ্ঠ,
“ এই শত্রু, তোর বোনরে লাগবো আমার। তোর বোনের সাথে ঝগড়া না করতে পারলে আমি ঘুমাতে পাড়ি না। নিয়ম করে ঝগড়া করার জন্যে হলেও তোর বোনকে আমার চাই। ”
কপালে ভাঁজ পরল অনিলের। নিজের চির শত্রুর মুখে এমন কথা শুনে কী রিয়েকশন দেওয়া যায় সেটাই বোধ হয় খুঁজছে সে। পরপরই বোনের গতকাল রাতের ফ্যাকাশে মুখটা মনে পরতেই কঠোর স্বরে বললো,
“ আমার বোনকে তুই কখনো পাবি না। ”

বলেই টুট টুট করে কল কেটে দিলো সে। সাদিককে আর একটা কথা বলারও সুযোগ দিলো না। কাল রাতে আনিকা কিছু না বললেও হীরার থেকে সব জেনেছে সে। অনিলের ধমকে হীরাকেও বাধ্য হয়ে বলতে হয়েছে সব। আসল ঘটনা জানতেই মাথায় রক্ত চড়ে বসলো অনিলের। শুধু হীরার বাধার জন্য নয়তো কালকেই ঐ রাস্কেল টাকে খতম করে দিতো সে। এটা নিয়ে কাল রাত থেকে এখন অব্দি কথা বলেনি সে হীরার সাথে। আর যাই হোক হীরা নিজের ভাইকে অসম্ভব ভালোবাসে আর ভালোবাসে অনিলকেও। দুটো ভালোবাসার মানুষের কারো কিছু হলেই সহ্য করতে পারবে না সে। আর বাকি রইলো আনিকার বিষয়, ছোটোবেলা থেকে তার ভাইয়ের হাত ধরেই বড়ো হয়েছে সে। তাই এতটুকু বিশ্বাস তার আছে যে, তার ভাইয়া নিশ্চই নিজের ভূল বুঝতে পারবে।

অপরাধী মুখ করে মাত্র আনিকার ঘরের উদ্দেশ্যে পা রাখতে নিচ্ছিলো হীরা। এর আগেই ফোনটা বাজখাঁই কন্ঠে বেজে উঠলো তার। স্ক্রিনে পরিচিত নাম্বার দেখেও কলটা রিসিভ করলো না সে। গুনে গুনে তিনটা কল কেটে যাওয়ার পর চার বারের বেলায় কল রিসিভ করলো সে।
“ এই সমস্যা কিরে তোদের? তোর ননদকে বল কল ধরতে। নয়তো আমি বাসায় এসে ঐ দুটো ভাই বোনকে খু’ন করবো। ”
“ তোমার ফোন ওনারা ধরতে যাবে কোন দুঃখে? ”
“ আমার ফোন ধরবে না তো কার ফোন ধরবে! ”
“ আজকে নিরব ভাইয়ার সাথে আপুর বিয়ে। সুতরাং কোনো পরপুরুষের কল ধরার প্রশ্নই আসে না। ”
“ এক থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দেবো ফাজিল কোনহানের। তুই কী মনে করিস তোর ননদের ব্যাপারে কিছুই জানি না আমি? তোর ননদের বিয়ের কথাটাও ওঁর আগে আমি জেনেছি। তোর কী মনে হয় আমি ওঁর সাথে ভালোবাসার নাটক করেছি! ”

“ তাহলে? ”
“ ওঁর সাথে আমি কোনো নাটক করি নাইরে বোন বিশ্বাস কর, তুই তো গতকাল আমার কথা শুনলিই না। আমার শুধু টার্গেট ছিল অনিলের সম্মানে আঘাত এনে প্রতিশোধ নেওয়া আর সেটাও ছিলো আমার বোকামি, এটার জন্য আমি ক্ষমা চাইবো ওঁর কাছে আর অনিলের কাছে। ”
পরপর আবারও বললো,

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৪৩+৪৪

“ ইরাবতী কে আমি মন থেকেই ভালোবাসছি, ওঁকে বিয়েও করতে চেয়েছি ভালোবেসে, আশিকের বোনের বিয়ের একদম শেষ দিকে আমি তোর আর অনিলের বিয়ের কথা জেনেছি।এরপর জানতে পেরেছি ইরাবতী অনিলের বোন। অথচ এর আগেই একদিন রাস্তায় দেখা হয়েছিলো আমার ওঁর সাথে। সেদিনই রাগান্বিত মুখ খানা দেখে অজান্তেই ওঁকে মনে ধরেছিলো আমার। আর বিয়ের গেটের সেই দ্বিতীয় দেখা ছিলো প্রেমে পড়ার প্রথম ধাপ। তোর ঐ বাঘিনী রূপের ননদিনি সেদিনই মন কেড়েছিল আমার। তোর কী মনে হয় শুধু প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই আমি ওঁর কলেজের লেকচারার হয়েছিলাম? একদিন ওঁর সাথে ঝগড়া না হলে মন খারাপ হওয়াটা ও কী প্রতিশোধ? ওঁর সাথে কথার মাঝে আমার পুরুষ ঠোঁটের হাসিগুলো মিথ্যা ছিলো না রে বইন। তোর বিশ্বাস না হলে মাকে জিজ্ঞেস করে দেখ, আমি আম্মুকেও বলে রেখেছি আমি বউ আনবো। আম্মু ও জানে ওঁর কথা। শুধু এটা জানে না ওঁ তোর ননদ। তবে এটাও আগামীকাল জেনে যাবে, আমি বাড়ির সবাইকে নিয়ে আসছি তোদের বাড়ি। বাকিটা তুই ম্যানেজ করে নে বনু আমার। ”
“ আমি? ”
“ হুঁ বনু প্লিজ। ইরা আর তোর বজ্জাত জামাই ডারে তুই ম্যানেজ কর, বাকিসব ভাইয়ার হাতে। পারবি না। ”
“ আচ্ছা। ”

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৪৭+৪৮