Home অগ্নিশিখার অন্তরালে অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১
YASH

“আমি এতা খেতে চাই”
৪ বছরের ছোট্ট কেয়ারা একটা আইসক্রিম দেখিয়ে কথাটা বললো। কেয়ারার কথা শুনে ওর পাশে দাড়িয়ে থাকা ১২ বছরের ইয়াশ গম্ভীর গলায় বললো__
“আইসক্রিম খেলে ঠান্ডা লাগবে”
কেয়ারা কিছুক্ষণ ইয়াশের দিকে তাকায় তারপর জেদ নিয়ে বলে__
“আমি থাবোই আমাকে তিনে দাও”
ইয়াশ কেয়ারার দিকে কটমট করে তাকিয়ে কিছুটা ধমকের সুরে বললো__
“একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো বললাম না আইসক্রিম খেলে ঠান্ডা লাগবে?”
ছোট্ট কেয়ারা ইয়াশের ধমক শুনে কেঁদে দিলো। আশেপাশের সবাই কেয়ারার কান্না করা দেখছে। ইয়াশ একবার আশেপাশে চোখ বুলিয়ে কেয়ারাকে নরম কন্ঠে বললো__

“আচ্ছা কান্না থামা কিনে দিচ্ছি”
ইয়াশের কথায় কেয়ারা সাথে সাথে কান্না থামিয়ে দিয়ে হাসি দিলো। কেউ বলবে এই মেয়েটা এখনি মরা কান্না জুড়ে দিয়েছিলো?
ইয়াশ আমতা আমতা করে পকেটে হাত দিলো। দেখলো ১০ টাকা পড়ে রয়েছে। ১০ টাকা দিয়েই কেয়ারাকে একটা আইসক্রিম কিনে দিলো।
(পরিচয়ে আসা যাক।)
কেয়ারা হলো ইয়াশের নিজের চাচাতো বোন। ইয়াশের বাবারা দুই ভাই। তারা সবাই একই ফ্যামিলিতে থাকেন। কেয়ারার বাবার নাম আবির মির্জা। এবং ইয়াশের বাবার নাম আদিল মির্জা। কেয়ারার মা জন্মের পরেই মারা গেছেন। আর ইয়াশের মা ওর বাবার সাথে থাকেন না। যখন ইয়াশের ৬ বছর ছিলো তখন উনি ইয়াশের বাবাকে ঠকিয়ে অন্য একটা একজনের সাথে পালিয়ে গেছেন। ইয়াশের কোনো ভাই বোন নেই। তবে কেয়ারার একটা বোন আছে ওর বয়স ও ১৩ বছর। ওর নাম ইনায়া। ইনায়া ইয়াশের থেকে এক বছরের বড়ো। আদিল এবং আবিরের বিশাল বড়ো ব্যবসা রয়েছে। দেশের প্রতিটি নামি দামি জায়গায় তাদের অফিস রয়েছে। এমনকি দেশের বাহিরেও তাদের ব্যবসার কার্যকম করা হয়। কেয়ারার বাবা আবির পাশাপাশি রাজনীতি করে৷
ইয়াশ ছোট থেকেই গম্ভীর স্বভাবের ছেলে। মানে ও হয়েছে ওর দাদুর মতো। প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কোনো কথা বলে না। গায়ের রং ধবধবে সাদা। অনেকটা বিদেশিদের মতো। চোখের রং বাদামী। গালে একটা দাগ রয়েছে। অনেক ছোট দাগ, খুব একটা বোঝা যায় না।

এইদিকে কেয়ারার গায়ের রং হলুদ ফর্সা। কেয়ারা হয়েছে একদম ওর মায়ের মতো। চুল গুলো ছোট থেকেই কোমরের নিচ অব্দি। চোখের মনি কুচকুচে কালো। আর বড়ো। যে কেউ দেখলে মনে করবে ও একটা টেডিবিয়ার। হাসলে দুই গালে টোল পড়ে। কেয়ারা গুলোমুলু। যার কারণে মনে হয় সদ্য একটা পুতুল।
কেয়ারার বোন ইনায়ার গায়ের রং শ্যামলা। চুল গুলো কাধের নিচে৷ থুঁতনিতে টোল পড়ে। অনেক মায়াবী চেয়ারা মেয়েটার।
সকালে…
আজকে ইয়াশ স্কুলের জন্য তৈরি হচ্ছিলো। ইয়াশের বাবা ইয়াশকে স্কুলে নিয়ে যাবে এমন সময় কেয়ারা এসে ওর বাপিকে বললো__
“আমিও ভাইয়াল ইসতুলে যাবো”

কেয়ারা ইয়াশের বাবাকে বাপি বলেই ডাকে। ইয়াশের বাবা আদিল এসে কেয়ারাকে কোলে তুলে নিয়ে বললেন__
“অবশ্যয় আমার মা যখন বলেছে তার ছেলে কি তাকে না নিয়ে গিয়ে পারে?”
কেয়ারা খিলখিল করে হেসে আদিলের গালে চুমু দিলো। ইয়াশ কোনো কথা বললো না। ইয়াশ এমনিতেও কেয়ারাকে পছন্দ করে না। কারণ কেয়ারা বেশি কথা বলে। ইয়াশের বেশি কথা বলা পছন্দ না।
আদিল কেয়ারাকে কোলে নিয়ে ইয়াশের হাত ধরে গাড়িতে উঠলো। স্কুলে পৌঁছাতেই ইয়াশ গাড়ি থেকে নেমে গেলো।
আদিল ও কেয়ারাকে নিয়ে নামলো। কেয়ারা আদিলের গেলা ধরে বললো “বাপি কেয়ালাও ইসতুলে পড়তে চায়”
আদিল কেয়ারার কথায় হেসে বললেন__
“খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে ভর্তি করে দিবো মা”
কেয়ারা আনন্দে শেষ। ইয়াশ কিছু না বলে স্কুলে ডুকে পড়লো। তখনি আদিল ডেকে বললেন__
“ইয়াশ স্টপ”
ইয়াশ থেমে গেলো। আদিল এসে বললেন__
“তুমি একটু কেয়ারার কাছে থাকো আমি দোকান থেকে আসছি”

কথাটা বলেই কেয়ারাকে ইয়াশের কাছে রেখে আদিল চলে গেলো। এরপরই শুরু হয়েছিলো কেয়ারার আইসক্রিম খাওয়ার জেদ। ইয়াশ ওর পকেটে থাকা ১০ টাকা দিয়ে কেয়ারাকে আইসক্রিম কিনে দিলো।
কেয়ারাও মজা করে আইসক্রিম খেতে লাগলো। আইসক্রিম খেতে গিয়ে নাক মুখ সব মাখিয়ে ফেলেছে। ইয়াশ এসব দেখে বিরক্ত হলো। ব্যাগ থেকে একটা রুমাল বের করে কেয়ারার মুখ মুছিয়ে দিলো। এরপর রাগি কন্ঠে বললো
“ভালো করে খেতে জানিস না? থাপ্পড় চিনিস?”
কেয়ারা কাঁদো কাঁদো চোখে ইয়াশের দিকে তাকালো। তখনি আদিল চলে আসলো। কেয়ারাকে কাঁদতে দেখে ইয়াশকে বললেন__
“ইয়াশ তুমি আমার মাকে কাঁদিয়েছো কেনো?”
ইয়াশ রেগে বললো__
“ইচ্ছে হয়েছে তাই”

আদিল কেয়ারাকে কোলে নিয়ে বললো “কাঁদে না মা। ভাইয়া তো এমনি বকেছে। চলো আমি তোমাকে চকলেট কিনে দিবো।
কেয়ারা ইয়াশকে দেখিয়ে বললো ” আমি ভাইয়ার তাছে যাবো”
আদিল অবাক হলো কেয়ারার কথায় ইয়াশ কেয়ারাকে বকা দিলো তারপরেও নাকি ইয়াশের কাছেই যাবে। কেয়ারা আবারও বললো “আমি ভাইয়ার তেলাসে যাবো”
আদিল পড়লো মহা বিপদে ইয়াশ এখনি রেগে যাবে৷ আদিল ইয়াশকে বললো “বাবা দুইমিনিটের জন্য তোমার ক্লাসে ওকে নিয়ে যাও? ক্লাস শুরু হতে তো এখনো অনেক দেড়ি। বাচ্চা মেয়ে আবদার করেছে নিয়ে যাও”
ইয়াশ কোনো কথা না বলেই কেয়ারার হাত শক্ত করে ধরলো। এরমধ্যেই আদিলের অফিস থেকে কল আসলো। আদিল চলে গেলো। ইয়াশ কেয়ারাকে নিয়ে ওর ক্লাস রুমে গেলো।
কেয়ারাকে ইয়াশের সাথে দেখে ইয়াশের বন্ধুরা ইয়াশের কাছে আসলো। ইয়াশ কেয়ারাকে কোলে তুলে নিলো। ইয়াশের একটা বন্ধুর নাম অধীর আরেকজনের নাম কবির। ওরা এসে বললো “কি কিউট এই পিচ্চি এটাই তোর চাচাতো বোন না?”

ইয়াশ কোনো কথার উত্তর দিলো না। ইয়াশ নিজের সিটে বসে পড়লো। এরপর কেয়ারাকেও নিজের কোলে বসালো। কেয়ারা ইয়াশের গলা জড়িয়ে ধরলো। ইয়াশের কেমন যেনো ফিল হলো। প্রথম বার ও কেয়ারাকে কোলে নিয়েছে। ইয়াশ কেয়ারাকে বললো “বাসায় যাবি না?”
কেয়ারা মাথা নাড়িয়ে বললো “না না যাবু না আমি তোমাল সাতে তেলাস তরবো”
ইয়াশের বন্ধুরা কেয়ারার কোথায় হেসে দিলো। কিছুক্ষণ পর দুজন ছেলে আসলো। ওরা ইয়াশকে বললো “কিরে এটা কে হয় তোর?”

ইয়াশ কিছু বললো না। ছেলেটা বললো “অনেক কিউট একটা মেয়ে ভাই আমার কোলে একটু দে”
কথাটা শুনে কটমট করে তাকালো ইয়াশ। মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে নিবে ছেলেটাকে। ছেলেটা বললো “এভাবে তাকানোর কি আছে? দে একটু কোলে”
ইয়াশ গম্ভীর ভাবে বললো “নো”
ছেলেটা এসে জোড় করে কেয়ারার কোমরে হাত দিয়ে ওকে নিজের কোলে তুলে নিবে এমন সময় ইয়াশ ছেলেটার নাক বরাবর একটা ঘুষি মেরে দিলো। কেয়ারাকে এক পাশে বসিয়ে দিয়ে ছেলেটার গালে আরেকটা ঘুষি দিলো।

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ২