Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৩

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৩

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৩
শ্রাবণী ইয়াসমিন

জেভিয়ারের সেই ঠান্ডা কণ্ঠটা শুনেই আনায়ার শরীর জমে বরফ হয়ে গেল। যেন তার সমস্ত রক্তপ্রবাহ থেমে গেছে। খুব ধীরে, যন্ত্রচালিত এক কায়দায় সে পেছনে ঘুরে তাকায়।
দেখে, করিডোরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে জেভিয়ার। চোখে সেই বাকা হাসি, ঠোঁটের কোণে নিঃশব্দ ব্যঙ্গ। তার এক হাতে চাবির রিং ধরা, অন্য হাত আরামে পকেটে। পাশে রাখা টেবিলের ওপর পড়ে আছে স্যুপের সেই বাটি।
— আরে আরে, ভয় পাচ্ছো কেনো লাভ বার্ড?আমি তো তোমাকে চাবিটা দিতেই এলাম। যাতে দরজা খুলে পালাতে সুবিধা হয় তোমার।

চোখে তীব্র ঠান্ডা ঝলক, আর ঠোঁটে সেই চেনা, হাড় কাঁপানো হাসি নিয়ে জেভিয়ার ধীরে ধীরে আনায়ার দিকে এগিয়ে আসে। আনায়া কেঁপে কেঁপে একপা পিছিয়ে যায়। হৃদপিণ্ড বোধহয় বুক ভেঙে উঠে আসতে চাইছে।
জেভিয়ার একেবারে তার সামনে এসে দাঁড়ায়। আনায়া নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন নিশ্বাস এর শব্দ টাও তার কাছে ভিষণ বিব্রতকর ঠেকছে। তারপর জেভিয়ার খুব ধীরে তার মুখের সামনে পড়ে থাকা একগাছি চুল কানের পেছনে গুঁজে দেয়।
স্পর্শটা নরম, কিন্তু আতঙ্ক এত গভীর যে, সারা শরীর অবশ হয়ে যায় আনায়ার। সে কাঁপতে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই ভেতরে কেমন যেন ঢলে পড়ার মতো লাগে, চোখে অন্ধকার নামে। কিন্তু জেভিয়ার চুলটা গুঁজে দিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলে—

— পালানোর প্রচেষ্টা একদমই বাজে ছিলো। তোমার বুদ্ধির আরও ইম্প্রুভমেন্ট প্রয়োজন লাভ বার্ড।
আনায়া নিশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে । চোখে জল জমে উঠেছে, ঠোঁট কাঁপছে অথচ পা যেন জমে গেছে মাটিতে। জেভিয়ার ওর খুব কাছে এসে দাঁড়াল। হঠাৎ করেই সে আনায়ার মাথার পেছন থেকে চুলের এক গোছা মুঠোয় ধরল শক্ত করে।
“আহ্, আনায়ার মুখ দিয়ে এক চাপা শব্দ বেরিয়ে আসে।
জেভিয়ার মুখটা হালকা নামিয়ে আনায়ার কানের খুব কাছে এনে হিসহিস করে ফিসফিস করে বলে উঠে—
— বলেছিলাম না আমার কাছে একবার এলে, ফিরে যাওয়ার আর কোনো পথ থাকে না, তাহলে কেন করছো এই বোকামি?
আনায়া কেপে ওঠে , নিঃশব্দে ঠোঁট কামড়ে ধরে যেন চিৎকার আটকে রাখছে। সে চেষ্টা করে সরে যেতে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। জেভিয়ার ওর দিকে একদম ঝুঁকে পড়ে যেহেতু সে আনায়ার তুলনায় বেশ লম্বা, ওর ছায়া পুরোটা ঢেকে দেয়। ৬’১ উচ্চতার বিশাল ছায়া যেন আনায়ার ৫’৩ এর শরীরটাকে পুরো গিলে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

—তুমি আমাকে ঠকাবে ভেবেছো? আমার খাঁচার পাখি আমার ইচ্ছায় ডানা মেলবে। কিন্তু পালাতে পারবে না, লাভ বার্ড।
জেভিয়ার চুলের মুঠোটা আরও শক্ত করে ধরে, আর আনায়ার চোখে পানি টলটল করতে থাকে আতঙ্কে, কষ্টে, অসহায়ত্বে। জেভিয়ারের হাতে চুলের মুঠোটা তখনও ধরা, তার চোখ তীক্ষ্ণ, ঠোঁট বাঁকা হেসে আবারও বলে উঠে,
— প্রথমবার তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি, লাভ বার্ড। কিন্তু এবার?
— এবার তুমি একটা ছোট… কিন্তু সুন্দর একটা পানিশমেন্ট ডিজার্ভ করো।
আনায়ার চোখ থেকে কান্নার ধারা গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু ঠোঁট কাঁপলেও, কোনো শব্দ বের হয় না। সব কথা যেন তার গলায় গেথে গেছে, আটকে গেছে বুকের ভেতর। সে শুধু কাঁপছে দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।
হঠাৎ জেভিয়ার ওর চুল ছেড়ে দেয়। তারপর দু’আঙুল দিয়ে ওর গাল ছুঁয়ে চোখের কোনায় জমা জলটা মুছে দেয় খুব ধীরে।

—বলো, তুমি কার?
কণ্ঠটা এবার নরম, কিন্তু ভেতরে আগ্নেয়গিরির মত চাপা উত্তাপ। আনায়া তাকাতে পারে না কাঁদতে থাকে চুপচাপ, মাথা নিচু। কোনো শব্দ বের হয় না ঠোঁট থেকে।
জেভিয়ার এবার আবার প্রশ্ন করে, গলায় হালকা খিটখিটে রেশ।
— তুমি কার লাভ বার্ড?
আনায়া এবার চোখ তুলে তাকাতে যাবে কিন্তু পারছে না। কান্না আটকে রাখা যায় না আর। সে ফুপিয়ে উঠতে গিয়েই, জেভিয়ার এবার ধমক দিয়ে বলে উঠলো,
—তুমি কার লাভ বার্ড?
আনায়া এবার কাঁদতে কাঁদতেই ফিসফিস করে বলে,
—ত… তোমার…
শব্দটা অস্পষ্ট। ঠোঁট থেকে ভাঙা ভাঙা বের হয়,
তবু তাতে জেভিয়ারের চোখে হালকা জ্বলজ্বল করে ওঠে দম্ভের আগুন। জেভিয়ার আনায়ার কাঁপতে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে হালকা এক বাঁকা হাসি দিল। সেই ঠোঁটে বাঁকানো দৃষ্টি ঠিক যেন কোন ভয়ঙ্কর আনন্দে মেতে ওঠা শিকারির মতো। সে ঠান্ডা গলায় বলল,

— গুড।
তারপর একটু থেমে আবার আনায়ার কানের কাছে ঝুকে ফিসফিস করে বলে,
— নাও ইটস টাইম ফর ইউর পানিশমেন্ট, লাভ বার্ড।
আনায়ার শরীর এক ঝটকায় জমে গেল। সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু ঠোঁট শুধু কাপতে থাকলো। এরই মাঝে জেভিয়ার হঠাৎ খুব সাবলীলভাবে ওর কব্জি চেপে ধরে।
আনায়া ব্যাথায় হালকা কঁকিয়ে ওঠে, কিন্তু কিছু বলার সুযোগই পায় না। জেভিয়ার ধীরে ধীরে তাকে উপরে নিয়ে যেতে থাকে। তার শক্ত হাতে বন্দী হয়ে কেবল পা টেনে টেনে হাঁটে আনায়া। এই ভিলা’টা তার কাছে এখন জেলখানার চেয়েও খারাপ। প্রতিটা করিডোর, প্রতিটা দেয়ালে যেন জেভিয়ারের চোখ খোদাই করে বসে আছে।
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই জেভিয়ার একটা বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়ায়। দরজার রঙ গভীর কালো, চারপাশ নিঃশব্দ। আনায়ার হৃদস্পন্দন এত জোরে হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল ওটাই যেন চারপাশে বাজছে।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে দরজা খুলে ভেতরে নিয়ে গেল আনায়াকে।
ঘরটা অদ্ভুত। জানালা নেই, দেয়ালজোড়া ধূসর রঙে ঢাকা, কোণে একটা ছোট আলো জ্বলছে কমলা আভায় পুরো ঘরটা যেন রহস্য আর ভয়ের ছায়ায় ডুবে আছে।
মেঝেতে কিছু চামড়ার বেল্ট ঝুলে আছে। একটা ছোট মেটাল টেবিলের ওপর কীসব জিনিস রাখা ধাতব গ্লাভস, বাইনডিং রশি, আর চোখ ঢাকা একটা স্লিক ব্ল্যাক ফ্যাব্রিক।
আনায়া কাঁপতে কাঁপতে বলল,

—প… প্লিজ, জেভিয়ার, আমি ভুল করেছি, আমি আর কখনো…
জেভিয়ার ওর ঠোঁটে আঙুল রেখে বলল,
— শু্‌শ্‌ এখন কথা বলার সময় না লাভ বার্ড , সময় এখন ক্লাসের।
আনায়াকে টানতে টানতে নিয়ে এসে জেভিয়ার দরজা বন্ধ করে দিলো।
রুমটা অদ্ভুত। সাদা দেয়ালের একপাশ জুড়ে একটা লম্বা আয়না। চারপাশে ব্ল, রেড কালারিং লাইট জ্বলছে যেন কুয়াশার ভিতর সবকিছু দপদপ করছে। রুমের মাঝখানে একটা নরম লেদার কাউচ, যেখানে জেভিয়ার গিয়ে বসলো। পায়ের ওপর পা তুলে ধীর, গভীর চোখে তাকিয়ে রইলো আনায়ার দিকে।
জেভিয়ার ঠোঁটের কোণায় এক পশুচিত হেসে বললো,

— গো অ্যান্ড স্ট্যান্ড ইন ফ্রন্ট অফ দ্যা মিরর।
আনায়া আঁতকে উঠলো। মুখ নাড়াতে চাইল, কিন্তু ঠোঁট কাঁপলো শুধু তবে মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোলো না।
জেভিয়ারের মুখ গম্ভীর হলো। একটু ঝুঁকে সামনে এল, গলার স্বর আরও নিচু আর ভয়ানক,
— আই সেইড গো।
এইবার আনায়ার আর কোনো উপায় থাকলো না। কাপাকাপা পায়ে সে সামনে এগোলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে লাগলো। ওর চোখে ক্লান্তি, গালে কান্নার দাগ, চুল এলোমেলো একজন বন্দিনী মেয়ের প্রতিচ্ছবি যেন নিজেকেই দৃষ্টি উপহার দিচ্ছে।
হঠাৎ পেছন থেকে জেভিয়ার এর গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে,
— Undress yourself. Stand completely naked…
আনায়া আতকে উঠে বলে,

— জ…জেভিয়ার আ’ম সরি। আমি আর পালানোর চেষ্টা করব না। প্লিজ জেভিয়ার..
আনায়ার পুরো কথা শেষ করার আগেই জেভিয়ার নিরুপায় ভঙ্গিতে বলে,
— অওহ লাভ বার্ড, এটাই হচ্ছে তোমার পানিশমেন্ট আমার থেকে পালানোর চেষ্টা করার জন্য। নাও ডু ফাস্ট আ’ম ওয়েইটিং বেইবি। এখনো আরও একটু কাজ বাকি আছে তো।
আনায়া চোখ মুছতে মুছতে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জেভিয়ার আবার বলে ওঠে,
— ডু ফাস্ট।
আনায়ার চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে আর ধীরে ধীরে নিজের গায়ের সব পোশাক খুলে ফেলে আয়নায় নিজের দিকে তাকায়। লজ্জায়, ঘৃণায় নিজের থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। জেভিয়ার আরেকটু হেলান দিয়ে বসে আনায়ার দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে বলে,
— ইউ আর লুকিং ড্যাম সে*ক্সি বেইবি। ইউর টি’টস আর ড্রাইভ মি ইনসেইন, সো ফুল, সো পারফেক্ট, সো ফা*কিং টেম্পটিং।
আনায়া নিজেকে আরও গুটিয়ে নেয় হাত আড়াআড়ি করে নিজের বক্ষস্থল ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করে। জেভিয়ার বাকা হেসেই উঠে আনায়ার পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তার দু পাশের কাধে হাত রাখে। আনায়া কেপে ওঠে। জেভিয়ার ঝুকে আনায়ার কাধে নিজের থুতনি রাখে আয়নায় জেভিয়ার আর আনায়ার চোখাচোখি হয়। জেভিয়ার এর হালকা ধূসর রাঙা চোখের অভিব্যক্তি আনায়া বুঝতে পারলো না। তবে জেভিয়ার এর নিখুত চেহারাটার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো। নিজের চেহারা টার পাশে জেভিয়ার এর আকর্ষণীয় চেহারা টা আনায়ার কাছে ঠিক মানানসই লাগলো না। সে মনে মনে ভাবলো,

— পুরুষ মানুষের বুঝি এত সুন্দর হতে আছে?
ঠিক তখনই এক ঝলকে তীব্র একটা জ্বালা পিঠ বরাবর ছড়িয়ে পড়ে। আনায়া কেঁপে ওঠে! চোখ বড় বড় হয়ে যায় তার। আনায়া জেভিয়ার এর দিকে লক্ষ্য করে দেখে তার পিঠে জেভিয়ার সূচালো কিছু দিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে কে যেন আকিঁবুকি করছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জেভিয়ার ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ঠোঁটে এক অদ্ভুত তৃপ্তির রেখা। আনায়ার দৃষ্টি পড়ে তার হাতে,
একটা ধাতব ব্লেড!
— ইউ আর লুকিং সো বিউটিফুল। জেভিয়ার নেশালো কন্ঠে বলে ওঠে। তার চোখে ঘোর লেগে আছে অদ্ভুত।
আনায়া কাপাকাপা গলায় টলমল চোখে জেভিয়ার কে বলে,
— ব্যাথা লাগছে আমার জেভিয়ার, জ্বলছে অনেক। কি করলে ত..তুমি?
— তুমি শুধু আমার। তোমার শরীর শুধু আমার মালিকানায় বন্দি থাকবে। তাই নিজের নাম তোমার শরীরে খোদাই করে রাখলাম।
রক্ত আনায়ার পিঠ বেয়ে পা অবধি নেমেছে চুইয়ে চুইয়ে। জেভিয়ার আনায়ার গায়ের রক্তগুলো তুলো দিয়ে মুছে সেইখানে মেডিসিন লাগিয়ে দেয়।
এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আনায়ার সম্পূর্ণ শরীরে চোখ বুলায়। তার কেমন গলা শুকিয়ে আসছে। সে আনায়ার বুকের ঠিক মাঝ বরাবর নিজের শক্তপোক্ত হাতের একটা আঙুল নিয়ে স্লাইড করতে করতে বলে,

— ক্যান আই ইট দেস টু বাটার বল’স।
আনায়া কেপে উঠছে। সে নিজের ভেতর অনুভূতি গুলোকে দাবিয়ে রাখতে চাইছে তীব্র ভাবে। তবে তার দেহ মানছে না। জেভিয়ার এর ছোয়ায় তার শরীরে অদ্ভুত শিহরণ খেলে যাচ্ছে। তার ছোয়ার ধরণ টাই এমন যে যেকোনো মেয়ে উন্মাদ হতে বাধ্য তার ছোয়ায়।
হঠাৎই জেভিয়ার আনায়াকে কোলে তুলে নিয়ে পাশের টেবিলের ওপর বসিয়ে দেয়। আনায়ার মুখ দিয়ে কোনো
শব্দ বের হওয়ার আগেই সে নিজের বুকের স্পর্শকাতর স্থানটিতে জেভিয়ার এর গরম নিশ্বাস অনুভব করে।
জেভিয়ার সেইখানে নিজের নাক ঘষছে। আনায়ার কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে। তার শরীর তার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। সে চেয়েও জেভিয়ার কে দূরে সরিয়ে দিতে পারছে না।
আনায়ার ঘন ঘন নিশ্বাস এর গতি পেয়ে হঠাৎই জেভিয়ার সেইখানে নিজের মুখ ডোবায়। আনায়া জেভিয়ার এর উষ্ণ ঠোঁটের ছোয়া অনুভব করছে তার বুকে। আনায়া নিজের অজান্তেই জেভিয়ার এর মাথা চেপে ধরে তার চুলগুলো খামচে ধরে। জেভিয়ার উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়। সে আনায়ার বুক থেকে মাথা তুলে নিজের গায়ের শার্ট এর বোতাম খুলতে খুলতে বলে,
— টুডে ইউ আর ফিনিশ বেইবি। এতদিন নিজের থেকে দূরে রেখেছিলি। আজ সে সব কিছুর হিসেব তুলবো। টুডে আই উইল জাস্ট কিল ইউ।

— আরেহ গায়ে জোর নেই নাকি? টাকা তো গুনে গুনে হিসেব করে নিবি অথচ কাজ এমন স্লো ভাবে করছিস যে আমি কোনো ফিলই পাচ্ছি না।
ডেভিড বিরক্ত হয়ে বলল।
দুবাই এ একটি ফাইভস্টার হোটেল এর ৫ তলায় একটি পার্সোনাল বুকড সুইমিংপুলের পাশে সানলঞ্জার এর ওপর শুয়ে আছে ডেভিড এবং সাথে রয়েছে নগ্ন দেহী এক সাদা চামড়ার নারী। যে ডেভিড কে খুশি করতে ব্যস্ত। তবে ডেভিড সন্তুষ্ট হচ্ছে না।
ডেভিডের চোখ দুটো এখন ঠিক তার সামনের নারীর মুখে নয় তার দৃষ্টি যেন কোথাও আটকে আছে, অতীতের কোনো ক্ষতচিহ্নে অথবা ভবিষ্যতের কোনো হিসেব নিকেশে। মেয়েটি চুপ করে যায়। তার চোখে ভয়, কিন্তু অভ্যাসবশত সে নিজের কাজ চালিয়ে যায়। ঠিক তখনই ডেভিড এক হাতে ওয়াইনের গ্লাসটা তুলে নিয়ে কয়েক চুমুক দেয়। তারপর হঠাৎই ঠান্ডা গলায় বলে উঠে,

— তুমি জানো আমি কী চাই। অথচ তুমি দিচ্ছো ঠিক উল্টোটা।
নারীটি কিছু বলার আগেই ডেভিড হালকা হেসে বলে,
— রিল্যাক্স,আমি রাগ করছি না। আমি কেবল বিরক্ত। আর এটা আমার কাছে সবচেয়ে বাজে অনুভূতি কারণ রাগ হলে অন্তত আমি কিছু ভাঙতে পারি। বিরক্ত হলে শুধু ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে সব।
তার ঠোঁটের কোণে সেই হালকা বাঁকা হাসি যেটা দেখতে নরম কিন্তু তাতে লুকিয়ে আছে একটা ভয়ংকর সংকেত।
আচমকা সে উঠে দাঁড়ায়। পেছনে সূর্যের আলো জলরাশি ছুঁয়ে তার মুখে তীক্ষ্ণ ছায়া ফেলেছে।
—তুমি এখন যেতে পারো, ডেভিড ফিসফিস করে বলে।
মেয়েটি দেরি না করে উঠে পড়ে। হোঁচট খেয়ে টাওয়েলটা সামলে নেয়, ডেভিডের চোখের দিকে তাকানোর সাহস হয় না তার।
ডেভিড তখনও তাকিয়ে আছে পানির দিকে চুপচাপ, নিঃশব্দে। হঠাৎই কিছু মনে করে সে কাওকে একটা ফোন করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
— খোজ পেয়েছো ওর?
—………………
— গ্রেট। এখন যত দ্রুত পারবে আমার কাছে ওকে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
—………………

— লিসেন ভিক্টর, আই ওয়ান্ট হার এজ সুন এজ পসিবল। আমার যদি দেশে ফিরতে হয় একবার এর জন্য, তাহলে তো বুঝোই কি হতে পারে। আর এমনি এমনি আমি তোমাদের পেছনে লাখ লাখ টাকা ঢালছি না। আমার কাজ না হলে কি করে গলায় পারা দিয়ে টাকা বের করতে হয় আমার ভালো করেই জানা আছে। প্রয়োজনে জেভিয়ার কেই সরিয়ে দাও।
ওই বলেই ডেভিড ফোন কেটে দিয়ে রুমে গিয়ে বিছানায় বসে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এরপর নিজেই বিরবির করে বলে,

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১২

— শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্য তোমার মা বাবা কেও আমি সরিয়ে দিতে দুবার ভাবিনি। আর সেইখানে একটা ছেলের জন্য তোমাকে ছেড়ে দেবো?
কথা গুলো বলেই ডেভিড পাগলের মত করে হাসতে থাকে।

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৪