Home অপরাহ্নে উপসংহার অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৫৭

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৫৭

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৫৭
তোনিমা খান

জীবনের দৌড়ে তপোবন বহুদূরে এগিয়ে গেলেও জীবনের স্বর্ণালী মুহুর্তে থাকা স্ত্রীর পানে পিছু ফিরে তাকাতে ভুললো না। মেয়েটির বাড়ন্ত বয়সটিকে বেরঙ হতে দিতে নারাজ। যেই মেয়েটি তার জীবনের এই ধূসর, রিক্ত লহমাটুকু রঙিন করে তুলেছে সে কী করে তার জীবনের রঙটুকু ম্লান হতে দেবে! বরং সে আরো একবার জীবনকে রাঙিয়ে তুলবে মেয়েটির রঙে‌
তাই মেয়েটির যুবতী মনের আকাঙ্ক্ষা, চাহিদা, ইচ্ছা, স্বাধীনতায় কোনো রূপ হস্তক্ষেপ না করে, তার প্রতিটি ইচ্ছার সহযাত্রী হয়ে নিজেই পা মেলাল সেই পথে। যেন জীবনের এই শ্রেষ্ঠ সময়গুলো হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ কোনোদিন বিষাদ হয়ে মেয়েটির মনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে না পারে।
রূপকথা নির্নিমেষ চোখে লোকটির কাণ্ডকারখানা দেখছিল। কিছুটা উৎকণ্ঠা নিয়েই শুধাল,

–“আপনার কি মতিভ্রম হয়েছে, তানশানের পাপা?”
ব্যাগ গোছাতে মগ্ন তপোবন মৃদু হেসে বলল,
–“যার ঘরে এমন রূপকথার রাজকুমারী থাকে, তার মতিভ্রম হবে না তো কার হবে?”
পুনশ্চ মানুষটার মুখে এমন অপ্রত্যাশিত মিঠে কথা শুনে রূপকথা পিটপিট করে চাইল। পরক্ষণেই মুখটা থমথমে করে বলল,
–“তানশানের পাপা, আজ কি মাথায় কোনো চোট পেয়েছেন?”
তপোবন এবার কিছুটা হতাশ হয়ে তাকাল,
–“মাথায় চোট পাব কেন?”
–“পাননি?”
–“উঁহু।”
–“তবে আজেবাজে বকছেন কেন? আপনার মুখে এমন অভাবনীয় কথাবার্তা বড় অদ্ভুত লাগছে।”
তপোবন এবার কাজ থামিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল। দৃষ্টিতে কৃত্রিম বিরক্তি নিয়ে শুধাল,

–“অদ্ভুত কী বললাম শুনি?”
তার সেই বিরক্তিকে তোয়াক্কা না করে রূপকথা সোজাসুজি বলল,
–“আপনার মতো রাশভারী মানুষের মুখে এত রোমান্টিক বুলি মানায় না। আপনার মুখে বরং এটাই মানায় যে রূপকথা পড়তে বসো, রূপকথা ড্রাই ফ্রুটস খাও, ভারী শাড়ি পরো না, অহেতুক ছোটাছুটি করো না।”
তপোবন এবার মৃদু অসন্তোষের সুরে বলল, –“রোমান্টিক না হলে বলো বুড়ো লোক, আবার রোমান্টিক হলে বলো এসব আমার মুখে মানায় না! আমি ঠিক কী করব বলতে পারো।
মানুষটা তার জন্য পরিবর্তন হতে চায় এটাই রূপকথার কাছে অভাবনীয় এক পাওয়া। চোখেমুখে আঁছড়ে পড়া সুখের উজ্জ্বলতা নিয়ে রূপকথা মৃদু হাসল। ক্ষীণ স্বরে বলল,
–“যেমন ছিলেন তেমনি থাকবেন সবসময়। আমি আপনার এই সত্তার প্রেমে পড়েছিলাম তাই কখনো কোনোকিছুর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে না।”
মেয়েটির চমৎকার সেই শব্দ বুননে তপোবন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। মেয়েটির মুখশ্রীর ন্যায় চিন্তাভাবনাগুলোও স্বচ্ছ অপার্থিব সৌন্দর্যে মোড়া।
এই স্বচ্ছতাই বোধহয় তাদের অসম বয়সের সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি।
হাতের কাজ পুরোপুরি ছেড়ে তপোবন সোজা হয়ে দাঁড়াল। গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বলল,

–“আমি যেমন ছিলাম তেমনি আছি। শুধু পরিবর্তিত তুমিটাকে ফিরিয়ে আনতে চাইছি।”
–“আমি মোটেই পরিবর্তন হইনি।”, রূপকথার দৃঢ় কণ্ঠে তপোবন মৃদু হেসে বলল,
–“তুমি পরিবর্তন হওনি কিন্তু জীবনের কঠিন পরিস্থিতি তোমায় অচিরেই পরিবর্তন করে দিয়েছে তা তুমি টের পাচ্ছ না।”
–“আমার জীবন কঠিন নয়। যার জীবনে আপনি আছেন তার জীবন কঠিন হতেই পারে না।”
তপোবন স্মিত হাসল তার দৃঢ় কণ্ঠে। মিহি স্বরে বলল,
–“তবে এত তর্ক করছ কেন? চলো জীবনকে আরেকটু সহজ, সরল, সুন্দর ভাবে উপভোগ করি।”
রূপকথা উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
–“আম্মা, আব্বুজান বয়স্ক মানুষ তাদের দেখবে কে?”
–“তারা জীবন নিয়ে আমাদের থেকেও সৌখিন। তারা জীবনকে যতটা সহজ আর সুন্দরভাবে উপভোগ করে তার একভাগ ও তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। তাদের চিন্তা করো না। জবা আর মাজেদা চাচি তাদের দেখে রাখবে।”
তপোবনের কথায় রূপকথা আশ্বস্ত হলেও অন্তঃস্থলে গেঁথে যাওয়া দায়িত্ববোধ তাকে ক্রমাগত খোঁচা দিয়ে যায়। তবুও তপোবনের একরোখা কথায় রাজি না হয়ে উপায় নেই।
–“পাঁচ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে আসো। আমাদের দশটার মধ্যে বের হতে হবে।”
রূপকথা তৈরি হতে গেল। পাঁচ মিনিট নাগাদ বের হতেই দেখলো তপোবন ব্যাগে দুইটা বই ঢোকাচ্ছে। তা দেখে বইবিমুখ পড়াচোর মেয়েটি চেঁচিয়ে উঠল।

–“আরে আরে বই ঢোকাচ্ছেন কেন?”
তপোবন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় স্কাই ব্লু রঙা ফ্রক আর সাদা ঢিলেঢালা সেলোয়ার আর ওড়না পরা মেয়েটির পানে। শাড়ি ব্যতীত অন্য পোশাকে মেয়েটিকে ছোট্ট একটা পিচ্চি মেয়ে লাগে। চিরায়ত বউ বউ স্নিগ্ধতা আর থাকে না, তবে যেটা থাকে সেটা একটু বেশিই মায়াবী আর আকর্ষণীয়!
সে গলা খাঁকারি দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
–“অবসরে পড়তে পারবে।”
সহসা রূপকথা তেতে উঠল,
–“বুড়ো লোক! আপনাকে কী আমি শুধু শুধু বলি যে রোমান্টিক হওয়া ব্যর্থ চেষ্টা কখনো করবেন না? এই দেখুন, সাক্ষাৎ প্রমাণ। বউকে নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছেন সাথে বই নিয়ে? স্বামীর সাথে ঘুরতে গিয়ে কেউ বই পড়ে?”
তপোবনের ভ্রু উঁচিয়ে গেল মেয়েটির কথায়। শানিত কণ্ঠে শুধাল,
–“তবে কী করে স্বামীর সাথে ঘুরতে গিয়ে?”
–“আরে প্রেম করে…প্রেম। কিচ্ছু বোঝে না।”
বলেই রূপকথা বইগুলো ছিনিয়ে নিয়ে লুকিয়ে রাখল। তপোবন থমথমে মুখে আওড়ালো,
–“পড়াচোর মেয়ে!”
দশ মিনিটের মাঝে তারা তৈরি হয়ে নিচে নামতেই দেখল বসার ঘরে নির্জনা বেগম বসে আছেন। তপোবন আগেই মাকে জানিয়েছে। নির্জনা বেগম দু’জনকে দেখতেই মৃদু হাসলেন।

–“তৈরি হয়ে গিয়েছ? বেরিয়ে পড়ো অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। এই অল্প সময়ে ঘুরতে তোমাদের কষ্ট হয়ে যাবে। আরো এক সপ্তাহ থেকে আসতে পারো তো। তানশান আসলে আমরা দেখে রাখব ওকে। বাবা মায়ের উপর ভরসা নেই তোমার তপোবন?”
তপোবন ড্রাইভারের হাতে লাগেজ দিয়ে বলল,
–“এতটুকু সময় যথেষ্ট আম্মা। তানশানের জন্য আমি একটুও চিন্তা করি না। কিন্তু রূপকথার কলেজ আছে, সামনেই পরীক্ষা। আর আমি অফিস পুরোটা আব্বুর উপর দিয়ে রাখছি। আব্বু খুব একটা বুঝে উঠতে পারবে না।”
–“আচ্ছা ঠিক আছে যাও। তবে সাবধানে ড্রাইভ করবে।”
–“আসছি আম্মা। আপনার কিছু প্রয়োজন হলে রাশেদ কে বলবেন, ওকে আমি বলে রেখেছি।”
–“এত চিন্তা করো না।”
মা ছেলের কথা হতেই রূপকথা আড়ষ্ট বদনে শাশুড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
–“আম্মা আসছি।”

নির্জনা বেগম চোখ তুলে তাকালেন। আলগোছে হাত বাড়িয়ে হাত রাখে রূপকথার মাথার উপর। যেই সুখ তাদের ঘরের নারীদের জন্য বিতর্কিত, সেই সব সুখ যেন সৃষ্টিকর্তা এই মেয়েটিকে দেয়…এই প্রার্থনা নিয়েই মিহি স্বরে বলল,
–“সবসময় এমনি সুখে থাকো। সাবধানে যেও, আর ঘরের কথা চিন্তা করো না। যেইটুকু সময় ঘুরবে আনন্দের সাথে ঘুরবে।”
রূপকথার মুখে হাসি ফুটে উঠল। সংসারের চিন্তা নিমিষেই মিলিয়ে গেল। ঘরের বড় বউ হওয়ায় আপনাআপনি ই দায়িত্বগুলো কাঁধে পড়ে যায়। তবে যখন থেকে শাশুড়ি তাকে বুঝতে শিখেছে, তখন থেকে এই ভার একটু কমই ভারী লাগছে।
এরপর? এরপর সংসার দায়িত্ব ছাপিয়েও যে তাদের একটা একান্তই নিজস্ব দুনিয়া রয়েছে তা দিনের আলোতেও একটু একটু করে প্রজ্বলিত হতে লাগলো। যেখানে সমাজ প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বয়সের ফারাক নিয়ে পরিহাস, কটুক্তি করে না, ভালোবাসার বিভেদ করে না।

জীবনে চলারপথে বিব্রতকর মুহুর্তগুলো কী খুব বিরক্তিকর সময়ে এসেই বিবেকের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ায়? এ কেমন সংহতি?
অতি সন্নিকটে থাকা দেহের অসহনীয় উত্তাপে অন্তঃস্থলের অজস্র বিরক্তিকর আর বিব্রতকর অনুভূতি গুলো এ যাত্রায় বিবেকের সাথে দ্বন্দ্বে হেরে গেল। মা ব্যতীত জীবনে প্রথমবার কেউ কাঁধে মাথা রাখার অবর্ণনীয়, অস্থির অনুভূতি নিয়ে তৃশান ঘাড় কাত করে তেরছা চোখে তাকালো কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে থাকা এক সুশ্রী লাবণ্যময় নিস্তেজ মুখপানে।
অন্তঃস্থল বিরক্তিতে কুঁচকে থাকলেও বিবেকের দোহাই দিয়ে এক অজানা অনুভূতি জেঁকে বসেছে। মনের এক কোণ থেকে কে যেন প্রশ্রয়ের সুরে বলছে,

–“মানুষের উপকার করা মহৎ কাজ। তদুপরি মানুষটি যদি হয় অসুস্থ, তাহলে তো কথাই নেই। এই উপকারের উছিলায় অন্তত জান্নাত পাওয়া যাবে।”
কী হাস্যকর যুক্তি! অন্তঃস্থলের এই উদ্ভট চিন্তায় ছেদ পড়ল অচেতনপ্রায় মেয়েটি পুনরায় কাতরে উঠতেই। তৃশানের তীক্ষ্ণ গভীর দৃষ্টি নড়েচড়ে বসল। রোজ জ্বরের ঘোরে কাঁপছে। উষ্ণতার খোঁজে বুকের মাঝে ঢুকে যেতে দেখে এবার আর স্থির থাকা সম্ভব হলো না। তৃশান আলগোছে নড়েচড়ে বসে দুই সিট পেছনে ঘুমন্ত তানশানের দিকে তাকাল। ছেলেটা অঘোরে ঘুমাচ্ছে, অথচ এদিকে তার ফুপির যে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে—সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
শারীরিক অসুস্থতার কাছে পরাজিত রোজ কখন যে জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল, তা নিজেরও জানা নেই। এমনকি কখন সে পাশের সিটে বসা ব্যক্তির কাঁধ দখল করে নিয়েছে, সেই হুঁশটুকুও হারিয়েছে। বিগত এক ঘণ্টা যাবৎ এই অস্বস্তি নীরবে সয়ে যাওয়া তৃশান এবার রোজের পাণ্ডুর মুখের দিকে তাকাল। গুরুগম্ভীর কণ্ঠে ডাকল,

— “রোজ? শুনতে পাচ্ছো? তোমার তো প্রচণ্ড জ্বর।”
অচেতন রোজ নিরুত্তর। নিরুপায় তৃশান দ্রুত কাঁধের ব্যাগে কোনো গরম কাপড় খুঁজল। কিন্তু গোটা কয়েক টি-শার্ট আর তোয়ালে ছাড়া কিছুই মিলল না।
বিরক্তিতে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ করল তৃশান। অগত্যা সে টাওয়াল দিয়েই রোজকে পেঁচিয়ে নিলো। তবুও কেঁপে যাচ্ছে মেয়েটা। দাঁতে দাঁত চেপে তৃশান ইতস্ততা নিয়ে একহাতে জড়িয়ে নিলো অসুস্থ দেহটিকে। রাগে গজগজ করতে করতে আওড়ালো,
–“কেমন কান্ড জ্ঞানহীন মানুষ। এমন অসুস্থ একটা মানুষকে ট্রিপে পাঠিয়ে দিয়েছে। লোকদেখানো ভদ্রতার মুখোশ পড়া একটা সম্ভ্রান্ত পরিবার। ভেতরে ভেতরে সবকটা নিচ। নিজের ঘরে অবিবাহিত আধবুড়ো বোন রয়েছে আর সেখানে আধবুড়ো ভাই বিয়ে করছে বোনের থেকেও ছোট একটা মেয়েকে।”
নেহাৎ ই বুকে জমা ব্যথা, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল তৃশানের বিড়বিড় করা প্রতিটি বাক্যতে।
চলন্ত বাসে তৃশান হাঁক ছেড়ে একজন ম্যামকে ডাকল। তানশানের বায়োলজির শিক্ষিকা মিসেস মুনিরা ফিরে তাকালো,

–“কোনো সমস্যা তৃশান?”
তৃশান হাতের ইশারায় নিজের কাঁধ দেখালো।
–“অসুস্থ মনে হচ্ছে আন্টি‌। কিছু করুন গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। পরিবারের লোকজন কত কান্ড জ্ঞানহীন বলুন, এমন অসুস্থ মানুষকে ট্রিপে কী করে পাঠালো!”
মুনিরা ম্যাম সহ দু’জন টিচার ততক্ষণে ছুটে আসল। ইংরেজি টিচার চিন্তিত কণ্ঠে বললেন,
–“তানশানের পাপা আমায় বলে গিয়েছিল রোজ খানিক অসুস্থ, ওর খেয়াল রাখতে। কিন্তু এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে তা তো বুঝিনি। আমার ই খেয়াল রাখা উচিত ছিল। মুনিরা ম্যাম আপনি একটু ওকে দেখুন, আমার কাছে ওষুধ আছে।”
তৃশান মুনিরা ম্যামের সিটে বসল আর মুনিরা ম্যাম রোজকে জড়িয়ে ধরলেন। ততক্ষণে তানশানের ঘুম ভেঙে গেল। বাবা তাকে ওষুধ দিয়ে দিয়েছিল। তারা খাবার খাইয়ে ওষুধ খাইয়ে দিলে ঘন্টাখানেকের মধ্যে রোজের জ্বর কিছুটা কমলো।
ঢাকায় পৌঁছাতে সাড়ে চার ঘন্টার মতো সময় লাগল তাদের। রোজের যখন হুঁশ ফিরলো তখন সে নিজের পাশে মুনিরা ম্যামকে পেল। রোজকে চোখ খুলতে দেখে মুনিরা ম্যাম মৃদু হেসে বললেন,

–“এখন একটু ভালো লাগছে রোজ?”
রোজ এলোমেলো আড়ষ্ট দৃষ্টি ফেলে বলল
-“ভালো লাগছে ম্যাম। আমি আপনাদের ঝামেলায় ফেললাম! আসলে হঠাৎ করে শরীরটা খারাপ হয়ে যাবে আমি বুঝিনি। দু’দিন যাবৎ আমি সুস্থ ছিলাম তাই ট্রিপে আসার জন্য রাজী হয়েছি কিন্তু…”
তার কথার মাঝেই মুনিরা ম্যাম ব্যগ্র কণ্ঠে বললেন,
–“এত কৈফিয়ত দিতে হবে না মেয়ে। অসুস্থতা কী বলে কয়ে আসবে? এখন তোমার ভাইকে ফোন করে কথা বলোতো। আমাদের মাথা খেয়ে ফেলেছে চিন্তা করতে করতে।”
রোজ তৎক্ষণাৎ ভাইকে ফোন দিল। তানশান এবং তার দু’জনের জানালার কাছে সিট চাই বলে দীর্ঘ এক দ্বন্দ্ব হয়। এর পরেই রেগে দু’জন দুই জানালার সিটে বসে।
একবার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ হলো। ভেসে আসল চিন্তিত এক কণ্ঠ।
–“রোজ ঠিক আছো? শরীর খুব খারাপ করছে? কষ্ট হচ্ছে? ভাইজান কী তোমায় নিতে আসব? ট্রিপে যাওয়ার দরকার নেই।”

–“একটু শরীর খারাপ করেছিল ভাইজান। এখন একদম ঠিক আছি। সকালে ওষুধ খাইনি তাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তুমি কোনো চিন্তা করো না।”
তপোবন ড্রাইভ করতে করতে অনুতাপের সুরে বলল,
–“ভাইজান তোমায় কষ্ট দিচ্ছি, রোজ?”
রোজ থমথমে মুখে বলল,
–“এভাবে কথা বলবে না ভাইজান। কষ্ট কেন দেবে? তানশানের খুশির কাছে কোনো কষ্টই কষ্ট না। তবে যত কষ্টই হোক না কেন আমাদের এভাবেই একসাথে সবার সখ, আনন্দ ধরে রাখতে হবে। আমি একদম ঠিক আছি তুমি চিন্তা করো না তো।”
তপোবন ম্লান হাসল বোনের কথায়। এ জীবনে অনেক বিদঘুটে পরিস্থিতিতে পড়েছে কিন্তু তাদের ভাইবোনের মাঝে কোনো কলুষতা ঢুকতে পারেনি। কেউ বলতেই পারবেনা তারা সৎ ভাই বোন। ভাই বোনের মধ্যে আবার বিভেদ থাকে নাকি!

–“নিজের খেয়াল রেখো।”
ভাই ফোন কাটলে মুনিরা ম্যাম উঠে অন্য সিটে গেলেন। একটা রেস্তোরাঁর সামনে গাড়ি থেমেছে। রোজ চোখ বন্ধ করে জানালায় মাথা ঠেকালো। কিয়ৎকাল বাদ কপালে নমনীয় এক স্পর্শ অনুভব হলো। রোজ চোক খুলে তাকাতেই তানশানের পাণ্ডুর মুখটি ভেসে উঠল। রোজ হাসল।
–“কী হলো জানালার সিট ছেড়ে এখানে আসলে কেন?”
তানশান মাথা টিপতে টিপতে বিমর্ষ মুখে বলল,
–“স্যরি ফুপি। তোমার কষ্ট হয়েছে অনেক? আমি আর কখনো তোমায় একা ছাড়ব না।”
রোজ ম্লান হেসে ভাতিজার হাত আঁকড়ে ধরে বলল,
–“আমার বাপ সাজবে না তানশান। আমি তোমার ফুপি। তুমি আমার ছায়াতলে থাকবে, তা না আমায় নিজের ছায়াতলে রাখতে চাও।”

–“তুমি যাই বলোনা কেন, আমি একটুও ঝগড়া করব না তোমার সাথে। তাই আমায় রাগানোর চেষ্টা করো না।”
রোজ হেসে উঠল। তানশানের মাথা এলোমেলো করে দিয়ে বলল,
–“বোকা ছেলেটা হঠাৎ বুঝদার হয়ে গেল কী করে?”
তানশান হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
–“আজেবাজে কথা বলোনাতো। আমায় বলো কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোমার?”
–“মাথা ব্যথা করছে। মাথা টিপে দাও।”
তানশান বাধ্যগত ছেলের মতো মাথা টিপতে লাগল। কিয়ৎকাল বাদ তাদের জানালায় টোকা পড়ল। রোজ বদ্ধ নেত্রে খুলে তাকাতেই খানিক ভড়কালো তৃশানের গুরুগম্ভীর মুখশ্রী দেখে। অপ্রস্তুত দৃষ্টি ফেলে বলল,
–“জি?”
তৃশান গুরুগম্ভীর মুখে একটা বোতল এগিয়ে দিয়ে বলল,

–“এটা খাও। ভালো লাগবে।”
বলেই সে বোতলটা রোজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে চলে গেল অদূরে। রোজ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল বোতলে থাকা লেবু পানির দিকে। অবুঝ কণ্ঠে শুধাল,
–“উনি আমায় এটা দিল কেন?”
তানশানের মুখশ্রী থমথমে হয়ে আছে। বিগত দিনগুলোতে ঘটে যাওয়া অপ্রাসঙ্গিক কারণবশত তৃশানকে এখন তার পছন্দ নয়। সে থমথমে মুখেই বলল,
–“তুমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে তখন তৃশান চাচু তোমার টেক কেয়ার করেছিল। তাই এটা তোমায় খেতে দিয়েছে।”

রোজ অবাক হলো! সে যখন ঘুমিয়েছিল তখন তার পাশে অন্য একটা স্টুডেন্ট বসাছিল। তৃশান কোত্থেকে আসল? আড়ষ্টতা, কৌতুহল নিয়ে সে চুপটি করে বসল। অন্তঃস্থলে জমে থাকা অজস্র অনুভূতি সময়ের তারতম্যে সমুদ্রের তলদেশে জমতে থাকা পলির স্তরের মতো একে একে থিতিয়ে পড়লেও অন্তঃস্থলে কোথাও সুঁচ ফোটার মতো অদ্ভুত বেদনা অনুভব হলো।
কিশোরি বয়সের উন্মাদনা, আবেগ তীব্রভাবে হানা দিচ্ছে আর ব্যথাটাও ঠিক ততটাই গভীরভাবে অনুভব হচ্ছে। একতরফা ভালোবাসা কতটা বিদঘুটে যন্ত্রনা দিতে জানে—এটা সেদিন বুঝল, যেদিন তার প্রিয় মানুষটা তার কাছের মানুষকে নিয়ে উন্মাদের ন্যায় আচরণ করে।
তার সৌন্দর্য ও তার ভাইদের মতোই। ভাইদের ভাষ্যমতে, দুধে আলতা গায়ের বরন, ধূসর চোখ, লম্বা চুলের অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী সে। কিন্তু একটাসময় এই সৌন্দর্য মূল্যহীন মনে হলো। কারোর ভালোবাসার আশা করা ছেড়ে দিল। কেননা ভালোবাসার সমীকরণে সৌন্দর্য কখনোই ধ্রুবক নয়‌। বরং তা কেবল একটি বাহ্যিক চলক মাত্র, যা হৃদয়ের গভীরতা আর আত্মিক টান ছাড়া শেষ পর্যন্ত কোনো অর্থবহ সমাধান মেলাতে পারে না।
–“শরীর কেমন লাগছে এখন? কিছু খাবে?”

পুনশ্চ পুরুষালী আওয়াজে রোজ হতচকিত ফিরে তাকায় জানালা পানে। সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা তৃশানকে দেখে ঘন ঘন না বোধক মাথা নাড়লো। এবং ভীষণ বিজ্ঞের ন্যায় জানালা আঁটকে দিলো। যেই পথ শুধু বেদনা আর অপ্রাপ্তি দেয় সেই পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াই সুখময়।
জানালা আঁটকে রোজ শক্ত মুখে বসে রইল। সে আত্মকেন্দ্রিক মানুষ। নিজেকে দুঃখ দিতে নারাজ। নিজের সুখের জন্য সে সব করতে পারে। এমনকি নিজের কৈশোর আর যৌবনের আবগকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মুখের উপর জানালা আঁটকে দেয়ায় তৃশানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। মেয়েটা কী তাকে অপমান করল? কিসের জন্য? আগ বাড়িয়ে কনসার্ন দেখানোর জন্য?
অপমানবোধ আর রাগে তৃশান গজগজ করতে করতে বলল,
–“পুরো পরিবারটাই একটা অসভ্য, অভদ্র, আনকালচার। পুলিশে দেয়া উচিৎ এই ভাই বোনকে।”

বিরতিহীন দীর্ঘ এগারো ঘন্টার ড্রাইভিং এর পর রাত নয়টা নাগাদ এক সবুজে ঘেরা, সতেজ, শীতল পরিবেশে এসে পৌঁছাল তপোবন এবং রূপকথা। সাজেক এর কংলাক পাহাড় সংলগ্ন ক্লাউড ক্যাসল রিসোর্ট।
তমসায় নিমজ্জিত ধরণী। চারিদিকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার অবিরত বিরক্তিকর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। রূপকথা তখন বেঘোরে ঘুমাচ্ছে গাড়িতে। পরিচিত মানুষটা ছুটে আসতেই তপোবন হেসে তার সাথে আলিঙ্গন করল। পরিবার, সন্তান নিয়ে আগেও কয়েকবার এখানে আসা। অভিজ্ঞতা আর প্রিয়জনদের কমতি নেই। রুম আগেই বুকিং ছিল, লাগেজ রিসোর্টে নিয়ে যেতেই তপোবন গাড়ির ভেতরে দৃষ্টি ফেললো। ঘুমন্ত স্ত্রীকে দেখে স্বল্প পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষীকে বলল,
–“আপনার ভাবি ঘুমাচ্ছে‌ কিছুক্ষণ আগেই ঘুমিয়েছে, ঘুম ভাঙাতে চাইছি না। এভাবেই নিয়ে যাই।”
লোকটা বিগলিত হেসে বলল,
–“জি জি অবশ্যই। আগেরবার যখন এসেছিলেন তখন একা ছিলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে আপনি কখনো স্ত্রী নিয়ে এখানে আসবেন।”
লোকটার কথায় প্রহসন ছিল নাকি অন্যকিছু কে জানে! তপোবন সরল হাসি নিয়ে বলল,
–“আমিও ভাবিনি।”
–“যাক, সব আল্লাহর ইচ্ছা আসুন ভাই।”
–“আপনি যান, আমি আসছি।”

লোকটা যেতেই তপোবন রূপকথাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিলো। পুরোটা রাস্তা তার মাথা খেয়েছে তানশানকে ছাড়া কেন আসলো। সে ডানে বামে মাথা নেড়ে রিসোর্টে চলে গেল। জার্নির ক্লান্তির ফলে ঘুমটা বোধহয় একটু বেশিই গাঢ় ছিল। রূপকথা দীর্ঘ একটাসময় ঘুমালো।
কিন্তু যখন ঘুম ভাঙলো তখন চোখের সামনে ভেসে উঠল সৃষ্টিকর্তার আশ্চর্যজনক জাদুকরী এক সৃষ্টি।
সদ্য আলো ফোটা ধরণী তখন ছেয়ে আছে তুলোর ন্যায় অজস্র মেঘের সামিয়ানায়। যাকে ক্লাউড অফ সি’ বলা হয়। রেলিং এ পিঠ ছুঁয়ে হেলে পড়া দেহটি নির্বিঘ্নে দুটো হাতের তালুতে নিজের ভার রেখে শুয়ে আছে। সমীরণের ঝাপটায় মেঘের হিমশীতল পরশে আদ্রতা অচিরেই সুশ্রী মুখটি সজীব করে তুললো।
মেঘের ধূসর সামিয়ানার মাঝে রেলিং ঘেঁষে একে অপরকে আগলে দাঁড়িয়ে আছে দুই মানব মানবী। নারীটির কোমর ঠেকেছে রেলিং এ, অর্ধ দেহ হেলে পড়েছে রেলিং ছাপিয়ে ভয়ার্ত শূন্যের মাঝে‌। আর সেই হেলে পড়া দেহটি বড্ড অবলীলায় আঁকড়ে ধরে আছে পুরুষটি।

রেলিং এ কনুই ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তপোবন স্মিত হাসল দুহাতের তালুতে থাকা ভেজা মুখপানে। নিস্তব্ধ নিস্তেজ সেই মুহুর্তে অনুভব হয়, সে একটু একটু করে কারোর তীব্র মায়ায় পড়ছে।
চোখেমুখে আঁছড়ে পড়া উষ্ণ নিঃশ্বাসের বেগ বাড়তেই রেলিং ছাপিয়ে পেছনে হেলে থাকা রূপকথার আধবোজা চোখের পাতা মেলল। চোখ মেলতেই আগের মতো এক স্বর্গীয় ধরণী ভেসে উঠল। চোখের সামনে কোনো দিগন্ত নেই, আছে শুধু তুলোর মতো সাদা মেঘের এক অনন্ত সমুদ্র।
ঝিঁ ঝিঁ পোকার সেই বিরক্তিকর ডাক এখন আর নেই। চারিদিকে এক নিবিড় নিস্তব্ধতা, শুধু মাঝে মাঝে দূর থেকে ভেসে আসা নাম না জানা পাহাড়ি পাখির ডাক সেই নীরবতাকে আরও গভীর করে তুলছে। দূষণমুক্ত সতেজ সমীরণে বুনোফুলের সুগন্ধ, বাতাবী লেবুর কুড়ির গন্ধের আধিপত্য। যেখানে ধরণীর সবচেয়ে অসুখী মানুষটাও বোধহয় সুখ খুঁজে পাবে। অবিশ্বাস্য রূপকথার মুগ্ধ দৃষ্টি স্থির হলো মুখের উপর ঝুঁকে থাকা মুখপানে। সদ্য ঘুম থেকে ওঠার অলসতা কাটিয়ে আঁকড়ে ধরলো পুরুষালী গলদেশ। ক্ষীণ স্বরে বলল,

–“তানশানের পাপা?”
–“হুঁ।”
–“ধন্যবাদ।”
–“কেন?”
–“এটা স্বপ্নের থেকে সুন্দর। ঠিক যেন স্বর্গরাজ্য!”
তপোবন স্মিত হাসল। কালো কুচকুচে চোখের মনিতে চোখ রেখে বলল,
–“কিন্তু আমার স্বর্গরাজ্য এর থেকেও বেশি সুন্দর। সেখানে একটা পরী আছে, একটা রাজকুমার রয়েছে।”
–“রাজকুমারকে আনেননি কেন? তাকে ছাড়া এত সুন্দর দৃশ্য দেখে চোখ জুড়াবে না।”
–“সে অনেকবার দেখেছে।”
–“এর পরের বার ছানাদের নিয়ে একসাথে আসব ঠিক আছে?”
–“ছানাদের?”
তপোবনের হঠাৎ পাল্টা প্রশ্নে রূপকথা আড়ষ্ট হলো। ক্ষীণ স্বরে বলল,
–“তানশান আর শুকতারা দু’জনকে নিয়ে আসব বলেছি।”
রূপকথা দৃষ্টি লুকাচ্ছে। তপোবন মৃদু হাসল মেয়েটিকে একটু লজ্জা দিতে পেরে। তবে অচিরেই কথোপকথনের বিষয়বস্তু ঘুরিয়ে নিতে চাইল তপোবন। দু হাতের তালুতে শুয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখতে দেখতেই হঠাৎ করেই একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করল। সেই প্রশ্ন, যেই প্রশ্ন করতে তার অন্তঃস্থল ভীষণ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
কেউ কেন তার মতো খুঁত যুক্ত মানুষকে ভালোবাসবে? তবে আজ সকল দ্বিধা ভুলে তপোবন প্রশ্ন করল,

–“রূপকথা, ডু ইউ লাভ মি?”
সমীরণের ঝাপটায় মেঘ ছুঁয়ে যাওয়া শীতল পরশ অনুভব করতে থাকা রূপকথার বদ্ধ নেত্র খানিক নড়ে উঠল। তপোবনের অস্থিরতাকে প্রশমিত না করে ক্ষীণ স্বরে বলে উঠল,
–“হুঁ।”
–“কেন?”
রূপকথা চোখ মেললো। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেই ধূম্রজালে বেষ্টিত সারিবদ্ধ পাহাড়ের দিকে। মনে হলো, এই মুহূর্তটা যেন এখানেই থমকে যাক। পৃথিবীর সব কোলাহল থেকে দূরে, মেঘের রাজ্যে তারা দুজনেই কেবল ধ্রুব সত্য।
রূপকথা স্মিত হাসল। পূর্ব দিকে মেঘ ছাপিয়ে সদ্য উঁকি দেয়া সিঁদুর রঙা আলো দেখতে দেখতে মিহি স্বরে বলল,

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৫৬ (৩)

–“প্রেম, ভালোবাসার আসল ব্যখ্যা হলো ‘কবুল’। আর এই শব্দটা যেদিন উচ্চারণ করেছিলাম, সেদিন থেকেই নিজের সকল অনুভূতির মালিক আপনাকেই করে দিয়েছিলাম।”
তপোবনের অস্থিরতা, জড়তা, দ্বিধা সব মিলিয়ে গেল মেয়েটির শক্তিশালী দৃঢ় জবাবে। জগতে ভালোবাসার সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ বোধহয় ওই একটা শব্দ “কবুল”। যেই শব্দের জোড়ে কত অবলীলায় নারীরা অজানা অচেনা এক মানুষের সাথে যুগ যুগ ধরে ঘর করে যায়! রূপকথাও তাদের কাতারে পড়া এক আটপৌরে মেয়ে। যে কি-না ‘কবুল’ শব্দটির শক্তিতেই এই অসম বয়সের মানুষটার প্রেমে পড়ে। যেখানে ছিলনা কোনো চমৎকার গল্প, তবে যেটা ছিল সেটা সুখময় ছিল।

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৫৭ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here