অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩২
Maha Aarat
প্রকৃতিতে এখন ঋতুবদলের আয়োজন।হেমন্তে তখনো বিরাজমান।কিন্তু এখনই প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।সারদিনের তীব্র গরম শেষে গভীর রাত থেকে শুরু হচ্ছে হালকা হিমেল হাওয়া, সঙ্গে নামছে হালকা কুয়াশা।
গায়ে কমফোর্টার মুড়িয়ে হেলান দিয়ে বইয়ে চোখ বুলিয়ে রেখেছে আইরা।পড়াশোনা মোটামুটি চলে যাচ্ছে তাঁর।এছাড়া প্রতি সপ্তাহের শেষে বাড়তি ক্লাস টেস্ট গুলো শিখাকে আরও মজবুত করে দিচ্ছে।লম্বা একটা হাই তুলে নিজের অগোছালো টেবিলে চোখ রাখলো সে।চেয়ারের এক কোণায় পড়ে আছে বোটানি বইটা।গত বেশ কিছুদিন থেকে বইটা অবহেলায় এখানে সেখানে পড়ে আছে।কারনটা হচ্ছে মি. মাহের মুসতাকিম হায়েনা সরি হায়ান বেশ কিছুদিন থেকে ক্লাস নিচ্ছেন না।কোনো একটা বিশেষ ট্রেনিং এর জন্য রাজধানীর বাইরে গিয়েছেন বলে আইরার সকালের ঘুমটা দারুণ হয়।তবে বোটানি ক্লাসটা মিস যাচ্ছে না।অন্য স্যার এসে ঠিকই পড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছেন তবে সেগুলো শুধু নিজের কি কারোও মনো:পূত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।টিচাররা ক্লাসে এসে কেউবা পড়ানোর উছিলায় পুরো ক্লাসটুকু চুটিয়ে আড্ডা দিয়ে চলে যান,কেউবা এসে টুসটাস করে লেসনগুলোতে মারপ্যাঁচ রেখে কমপ্লিট করে দিচ্ছেন অথচ এসব ক্রিটিক্যাল ম্যাটারগুলো তাঁর মাথায় ঢুকেই না।এভাবে পড়া হয় নাকি?
আড়মোড়া ভেঙে হাই তুলতে তুলতে ধীরে ধীরে উঠে বসলো সে।লম্বা মিররে চোখ পড়লে নিজেকে আপাদমস্তক খুঁটিয়ে দেখতে থাকলো।নাহ,প্রতিদিনের থেকে কোনোকিছুই ব্যতিক্রম নয় একটা গ্লাস ছাড়া।মাইগ্রেনের পেইন তাঁর।বেশী প্রেসার বা টেনশন নিলেই ব্যথাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডাক্তার দেখাতে গেলে মিসেস তাকে একটা চশমা ধরিয়ে দিলেন।ইসস দেখতে কি চমৎকার লাগছে তাকে।একটু ভাবসাব নিয়ে গম্ভীর একটা মুড নিয়ে চশমাটা নাকের ডগায় রাখলো।চুলগুলো পেছনে এলিয়ে দিয়ে টান টান পায়ে হেঁটে আসলো মিররের সামনে।ইসস একদম ডাক্তার ডাক্তার একটা লুক আসছে।শুধু একটা স্টেথোস্কোপ মিসিং।এটাও হয়ে যাবে!
টেবিলটা একটু গোছানো দরকার।ভীষণ অবহেলায় আছে বইগুলো।আম্মু এসে এখনো এই অবস্থা দেখলে নিশ্চিত তাঁর পিঠে কয়েক ঘা লাগিয়ে দিবেন।
বইয়ের ওপর কফির কাপ দেখে চট করে সেটাতে হাত বুলিয়ে দেখলো ঠান্ডা হয়ে গেছে।সেই কখন আম্মু দিয়ে গিয়েছেন।এদিকে বাইরে থেকে কারো হাঁটার আওয়াজ আসছে।আম্মু হলে রেহাই নেই ভেবে নাক চেপে পুরো কফিটা খেয়ে নিলো।অমনি নক হলো দরজায়।
‘আপা ভেতরে আইমু?’
ফুস করে একটা শ্বাস ফেললো সে।শুধু শুধু ঠান্ডা কফিগুলো গিলতে হলো তাঁর।
‘আসুন।আগে বলবেন না যে আপনি আসছেন কাজলদি।’
দুই পাটি দাঁত বের করে হাসলেন কাজলদি।বললেন , ‘আমি তো এহনই আইলাম।তোমারে কইতাম কেম্নে?’
‘আর আসতে হলে নক করা লাগবে না।’
‘খালাম্মায় আমনেরে খুঁজছিলেন।’
‘যাচ্ছি।
নাস্তার টেবিলে আইরাকে দেখে একগাল হাসলেন আরহাম।শীত আসার আগেই সুয়েটারে মোড়ানো সে।মাইমুনার পাতে খাবার তুলে দিতে দিতে বারবার পাশের ফাঁকা চেয়ারে একবার আর সিঁড়িতে একবার তাকাচ্ছিলেন।এরই মাঝে আম্মুর সাথে কথা হচ্ছে।আব্বু আসছেন সামনের মাসেই।
আব্বুর প্রসঙ্গ উঠতেই আরহাম বললেন, আব্বু আর ব্যাক করতে হবে না।আমরা সবাই একসাথে আছি অথচ আব্বু পাশে নেই।এখন থেকে একসাথে থাকবো।ফুল ফ্যামিলি উইল বি ডান।
‘এতটুক এতটুক পুঁচকে পুঁচকি ছাড়া ফ্যামিলি ডান হয়না ভাইয়া।কই এতোগুলা বাচ্চাকাচ্চা আসবে ওদের কোলে নিব খেলবো,ঘুরবো তারপরেই না ফ্যামিলি পরিপূর্ণ হবে।’
আরহাম তাঁর কথা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বললেন, ‘তোমার বিয়ে হয়ে গেলেই ফ্যামিলি সম্পূর্ণ হবে।আরেক ভাইয়ের জিনিস এখনো আমাদের ঘরে পড়ে আছে।আম্মু, যার যার জিনিস যার যার ঘরে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে একটু ভাবুন।’
ভাইয়ের সূক্ষ্ণ খোঁচায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো আইরা।তবে এখানে আপাতত তাঁর আপন কেউ নেই।অথচ ছেলেবাবুর মা আছেন।তাঁরা দূজন যথেষ্ট তাঁর ফোঁড়ায় মরিচের শেক দিতে।
ধীর আওয়াজে হাফসা নেমে আসলো।আরহামের পেছনদিকে এসে দাঁড়াতেই আইরা ফিক করে হেসে দিলো।ভাইকে পেছনে তাকানোর ইশারা করতেই আরহাম তাকিয়ে কেবল মুচকি হাসলেন।
‘ভাবি’পুর বেলায় কিছু বলবে না অথচ আমার বেলায় বলতে ছাড়ো না।’
সকাল সকাল বাইরে একটু কুয়াশা সাথে ঠান্ডা বাতাসে একটু ঠান্ডা লাগছিল তাঁর।গায়ে চাদর’ইতো জড়িয়ে রেখেছে সে।কিন্তু লোকটা হাসলেন কেন?
‘কিছুই বলবে না?’
আইরা যেনো দম ফেলতেও নারাজ।মাইমুনা শুধু মুচকি হাসছেন।আরহাম যেনো চিপায় পড়ে গেলেন।হাফসার উদ্দেশ্যে বললেন , ‘আপনারও পৌষ এসে গেছে?এতো ঠান্ডা কোথুকে আসে আপনাদের!’
মাইমুনা আইরা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।ভাইয়ের পরাজয় বেশ মজা পেলো আইরা।নাস্তার টেবিলে পুরো সময়টুকু সবার মুখের আওয়াজ ফুটলো,চুপ থাকলো কেবল হাফসা।কিছু কিছু সময় নীরবতা নিজের দূর্বলতা নয়,বরং নিজের শক্তি,বা কঠিন কিছু গেলার একমাত্র হাতিয়ার।
অগ্রহায়ন আমাদের বেশ ষ্পষ্ট করে জানান দেয় ভোরে শরীরে একটি মৃদু শীতল অনুভূতি।তখনই আমাদের বুঝে নিতে হয় ধরণীতে অগ্রহায়ণের আগমন।সেই সাথে ঘাসের ও ধান গাছের ডগায় জমতে শুরু করা শিশিরের বিন্দু বিন্দু কণা, কুয়াশার চাদর জানান দেয় অগ্রাহায়ণের শক্ত আগমনী বার্তা।
চারিদিকে শিউলি ফুলের সমারোহে আমাদের মন করে আকূল ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা করে প্রকৃতির সব উপঢৌকন, মাঠের সবুজ মাঠ আর গাছের পাতায় শিশিরের আগমনে পাতায় পাতায় শিশিরে মাখানো রোদের এক মন জুড়ানো এক দৃশ্য।
এই অগ্রহায়ণেও বৃক্ষ রাজি থাকে সবুজে ভরা যেন একটা ঘাঢ় সবুজে ছোঁয়া লেগে আছে গাছে গাছে, ভরা খাল-বিল নদী-নালা, বিল জুড়ে সাদা-লাল শাপলার মেলা আর পদ্ম ফুলে ফুলে। বিলে নদীতে পানি বেশ নেমে যায় আর তখন জেলেরা একটি ভিন্ন আনান্দের অনুভূতিতে মাছ ধরা শুরু করে।শান্ত নদীতে ভেসে চলে একটি বা অনেকগুলি নৌকা এমন দৃশ্যে কে না প্রকৃতি পাগল হয়।এসব দেখেই আমরা বুঝতে পারি কত বিচিত্র আমাদের এই ছয় ঋতুর দেশ।
এই অগ্রহায়ণের শীত শীত আবহাওয়া বলে দেয় শীতকাল আসন্ন আর শীত বা তুষার প্রবণ অঞ্চল থেকে দল বেঁধে ছুটে আসতে শুরু করে শীতের অতিথি পাখি কিছুটা উষ্ণতার আশায়, এমনি এক মনোরম আবহাওয়া।
সায়হান,সবে ছয় বছর।মায়ের ইচ্ছায় হিফয খানায় ভর্তি করানো হবে।আর বাচ্চাদের জন্য ভালো সুযোগ সুবিধা আর ভালো শিখনের জন্য এর চেয়ে বেটার অপশন কি হতে পারে।
খুব সকালে ভাইকে নিয়ে কর্তব্যরত টিচারের কাছে আসলো আদওয়া।অথচ এখানে এসে তাকে সম্পূর্ণ হতাশা নিয়ে ফিরতে হবে তাঁর জানা ছিলো না।বছরের মাঝখানে এসে কোনো স্টুডেন্টই তাঁরা এডমিট করায় না।কারন প্রতিটা ক্লাস একটা নির্দিষ্ট সিলেবাসের ওপর চলে।
নিচের ফ্লোর পাড়ি দিতে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো সে।অমনি কোনো পুরুষালি কন্ঠে থমকায় সে।বুকের ভেতর যেনো কালবৈশাখীর বজ্রপাত বয়ে যাচ্ছে।হার্টের ধুকপুকানি বেড়ে গেলো যখন বিশেষ সেই কাঙ্ক্ষিত মুহুর্ত আসছিলো।আশ্চর্য!হার্ট এত তুমুল গতিতে বিট করছে কেন!
‘শাহ আসার সময় মনে করে কয়েক রকম আচার নিয়ে আসবেন।’
কাজের ফাঁকে আচমকা মেসেজ টিউন বাজতে আরহামের নজর গেলো তাতে।মেসেজের উত্তর দিয়ে আবারও নিজের কাজে ডুব দেওয়ার আগে হঠাৎ খুব করে মনে হলো উমায়ের এর কথা।এখন পযন্ত কোনো কিছুই চাননি অথচ মাইমুনা উনার সব প্রয়োজন নিজে থেকে চেয়ে নেন।
আসলেই কি কিছুর প্রয়োজন হয় না?বিশেষ কিছু বা উনার একমুঠো পছন্দের ফুলও না?
উমায়ের তো প্রচন্ড রকমের লাজুক,আর ভীরু।নিজেকে গুটিয়ে রাখার পেছনে শুধুই কি লাজুকতা না জড়তা!
ল্যাপটপ গুটিয়ে রেখে চট করে তাকে একটা মেসেজ দিয়ে বসলেন।আরহাম অপেক্ষা করলেন।বেশ কিছুক্ষণ পরও যখন রিপ্লাই আসছিলো না মনে হচ্ছিলো কিছু একটা ঠিক নেই।বাসা থেকে আসার পর থেকে হাফসার সাথে বিশেষ কোনো কথা হয়নি।প্রথম দূইদিন জ্বরে কাত ছিলেন আর কাল-আজ তো ব্যস্ততায় চলে যাচ্ছে।বাচ্চা মেয়েটা অভিমান করে বসলো না তো!
আম্মুর ফোনে কল দিয়ে উমায়ের এর কথা জিজ্ঞেস করতেই বললেন , ‘ও তো একটু আগেই ঘরে গেলো।’
একটু যেতে পারবেন আম্মু কষ্ট করে?’
আম্মু এসে দেখলেন সে রুমে নেই।বেলকনিতে পড়ে থাকা ঝরা ফুলের কলি নিয়ে কিছু আঁকছে সে।আম্মু উঁকি মেরে দেখলেন সে ‘মা বাবা’ লিখছে।পেছনে দাঁড়ানো আম্মুকে সে খেয়াল করেনি।আরহাম ইশারায় আম্মুকে চলে যেতে বললেন।
আম্মু কিছু টা আন্দাজ করে নিলেন হাফসার মনখারাপ।তাই আরহামের কথা অমান্য করে তাকে সাথে নিয়েই বাইরে বেরোলেন।গার্ডেনের দিকটায় হাঁটতে হাঁটতে তাকে বিভিন্ন আলাপে মাতিয়ে রাখলেন।ঠোঁট চুকো করে কিছু বলার চেষ্টা বা ভ্রু জোঁড়ার কম্পনে হাফসার সৌন্দর্য যেনো অমায়িক লাগছিল।আম্মুর দৃষ্টি বারবার আটকাচ্ছিলো তার দিকে।এমন কোমলমতী স্নিগ্ধ ফুলের মন খারাপ একদম মানায় না।আরহাম বাসায় আসলে খুব কড়া করে কিছু কথা শুনিয়ে দিবেন।স্ত্রীকে সময় দেওয়ার একটুও সময় যেনো তাঁর ইদানিং হয় না।অসুস্থ শরীর নিয়ে সে বাইরে যেতে পারবে ঠিক ,অথচ দায়িত্বে কমবেশি হচ্ছে এদিকে খেয়াল রাখবে না।
শীত শীত আবহাওয়াকে আরেকটু জোড়ালো করে দিতে বিকেলে বেশ জমকালো আয়োজন করে বৃষ্টি নামলো।ভিজে গেলো ধূলোমলিন পিচ,ধুয়েমুছে পরিষ্কার হয়ে গেলো গোটা শহর।হালকা একটা বিজলী চোখের মণিতে খেলে যেতেই আদওয়ার ধ্যান ভাঙ্গে।আজকে সকালের মিষ্টি ঘটনা তাঁর মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।পেটের ভেতর রঙ্গিন প্রজাপতির আনাগোনা বাড়ছে।তাকে বাধ্য করছে এক চমৎকার সুপুরুষ নিয়ে ভাবতে।ইসস নিজের নফস কেনো বেশী বাড় বেড়ে যাচ্ছে!
সায়হানকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছে সে।লিফট শুধু সিনিয়রদের জন্য।তবে কিছুদিন যাবত লিফটে কাজ চলছে,সেজন্য সাময়িকভাবে অফ।আচমকা সিঁড়ির ওপর প্রান্তে দেখা গেলো এক লম্বাটে পুরুষ।যার আপাদমস্তক সাদা জুব্বায় ঘেরা।মাথায় ঝুলছে কালো রুমালের পাগড়ি।কারো সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত তিনি ব্যস্ত ভঙ্গিতে লম্বা কদম ফেলে উপরে উঠছিলেন।সামনে বা পেছনে কে বা কারা তাতে উনার মনোযোগ নেই।তবে আচমকা সালামে উনার মনোযোগে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলো হয়তো।সায়হানের দিকে ফিরে সালামের উত্তর দিয়ে তাঁর মাথায় আদূরে হাত বুলিয়ে চলে গেলেন।সাথে রেখে গেলেন চমৎকার এক খুশবু।আদওয়া ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।তাঁর চক্ষুগোলক আটকে গেলে একজোড়া হাসিতে।কি চমৎকার সেই নূরে চকচক করা চেহারা!
এখনকার এই শিডিউলে কোনো ছুটি বা ব্রেক নেই।এমনকি আজকের বিশেষ ক্লাস সেজন্য কোনো ছুটি মূলতবিও হবে না।অথচ বাচ্চাটার গার্ডিয়ান তাকে নিয়ে যাচ্ছেন কেন এমন প্রশ্ন তুলতেই উত্তর পেলেন কতর্ব্যরত কর্মচারীর থেকে।আরহাম কয়েক সেকেন্ড এর ব্যবধানে কিছু একটা ভেবে নিলেন।অতপর ডেকে আনতে পাঠানো হলো তাদের।
সায়হানের সাথে তিনি নিজেই কিছুক্ষণ আলাপ করলেন।ভীষণ বিলিয়ান্ট সে।চটপট সব উত্তর দিয়ে দিতেই আরহাম চমৎকার হাসলেন।গিফট হিসেবে একটা ছোট্ট আঁতর উপহার দিলেন।
আর গার্ডিয়ানের সাথে আলাপ করলেন অন্য টিচার।তাদের ভাষ্যমতে সে নতুনভাবে শুরু করার আগ পর্যন্ত নিজের বেসিক পড়াগুলো চর্চা করে নিক।এতে তাঁর পড়া সহীহ হবে সাথে মেমোরাইজিং পাওয়ার বাড়বে।এতে আপত্তি নয় বলে জানালেন সায়হানের পরিবার।
এক গাঢ় শীতল স্পর্শে ঘুম ছাড়লো হাফসার।চোখ খুলতে অনুভব করলো অন্ধকার ঘর।সে তো ইশার নামাজ পড়ে শুধু শুয়েছিলো।ঘুমালো কখন?
ঘড়িতে চোখ যেতে দেখে দূইটা বেজে তিন মিনিট।
‘ঘুম হয়েছে?’
হালকা মাথা নাড়াতেই আরহাম বললেন, ‘আচ্ছা খাবার আনছি।’
দ্রুত মাথা নাড়িয়ে মানা করলো সে।কারন জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসলো খিদে নেই তার।আরহাম তবুও বললেন , ‘আপনার সাথে খাব বলে খাইনি।আমারও বেশ খিদে লেগেছিল।’
কিছু একটা চিন্তা করে সে খেতে রাজি হয়।অথচ দূয়েক লোকমা নিয়ে আর খাওয়ানো যায়নি।বাকি খাবারটুকু আরহাম শেষ করতে করতে সে পুনরায় ঘুমোনোর প্রস্ততি নিচ্ছিলো।
আরহাম তাকে সামনে বসিয়ে অনুতপ্ত সুরে বললেন, ‘আমার জান,আমি জানি আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে আছেন আপনি।একয়দিন নিজের শিডিউল থেকে আমি নিজেই সরে গিয়েছি।আপনার খোঁজ খবর ঠিকঠাকমতো নিইনি।ভালোবাসা পাইনা বলে ক্ষমাও পাবো না?’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩১
তার চোখের সামনে তাজা একজোড়া ফুলের বুকে।যেগুলোতে গাঁথা আছে চকলেট।মাঝে হয়তো একটা চিরকুট।তবে এসব কোনোকিছুই হাফসার আগ্রহ পেলো না।আরহাম আহত হলেন তার এমন নীরবতায়।বুকের মাঝে আগলে নিয়ে বুঝলেন ,কেয়ারিং এর চেয়ে বড় উপহার মেয়েদের জন্য আর কিছু হতে পারে না।
