অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৮
Maha Aarat
বিকেলের রোদ তখনো বেলকনিতে খেলা করছে।বেলকনিতে থাকা পর্তুলিকা গাছের পাতাগুলো চকচক করছে।দোলনা দূলছে ধীর গতিতে।রুমের দরজাটা আটকানো ভেতর থেকে।বাইরের আওয়াজ আর হইচই মাড়িয়েও হেডফোনের তিলাওয়াতের সুর আইরার কানে ম্রিয়মান।তাঁর যখন খুব মন খারাপ হয় তখন প্রিয় কয়েকটা নাশিদ বা তিলাওয়াতই যেনো তাঁর অসুখের উপশম।এমন নয় যে,মন ভালো থাকলে এসব মেডিসিনের প্রয়োজন পড়ে না।
হাতটা সামনে আনে আইরা।শুভ্র হাতে চকচক করছে লাল মেহেদীয়ালা নকশা।তাঁর এমন নিঁখুত সাজ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁর জীবনের বিশেষ আয়োজনের কথা।বিশেষ মানুষের কথা।যে মানুষকে সে চেয়েছিলো নিত্যদিনের মোনাজাতে,সাওমের নিয়তে,তাহাজ্জুদের অশ্রুতে।একটা সময় এসে মনে হলো তাঁর অদেখা,অচেনা মানুষটা বোধহয় একজন মানুষ হতে পারেন।মনের আয়নায় ভেসে উঠা কল্পনার রং বা রঙ্গিন স্বপ্নগুলো সে জমিয়ে রেখেছিলো একটা নিষিদ্ধ সুতো দিয়ে।যে সুতা শুদ্ধ হওয়ার অপেক্ষাটুকু হলো ‘শুভ পরিণয়’।
মাহদিন শাহরিয়ারের সাথে ওইদিন সে দেখা করেনি।করেছিলো উনার মায়ের সাথে।চমৎকার একজন মানুষ।অথচ ওই ভদ্রমহিলার সাথে সাক্ষাতের প্রতিটা সেকেন্ড যেনো তাঁর হৃদয়ে সূঁচ ফোঁটাচ্ছিলো।
আজকে বোধহয় ঠান্ডা টা একটু বেশীই।আরহাম সন্ধ্যায় রুম থেকে বেরোনোর আগে বলে দিয়েছিলেন হাফসা যেনো কিচেনে না যায়।বাধ্য মেয়ের মতো সে চুপচাপ রুমে বসে ছিলো অথচ বাঁধ সাধে নুসাইফা।ড্রয়িং এ গল্পের আসর চলছে সাথে ফুচকা-চটপটির আয়োজন।হাফসা এটাসেটা অজুহাত বুঝিয়ে তাকে অগ্রাহ্য করার কোনো চেষ্টা বাকি রাখেনি।অথচ নুসাইফা মান করে বসলো হাফসা ভাবি ছাড়া সে ওখানে যাবেই না।তবুও হাফসা ঠাঁয় নিজের সিদ্ধান্তে অটল।
একসময় মনে হলো মেয়েটা তাঁর জন্য মন খারাপ করছে এটা ভেবে হাফসা মনে মনে ভীষণ দূ:খিত হচ্ছিলো।ড্রয়িং আর কিচেনের তো অনেক দূরত্ব।সে ড্রয়িং এ যাবে কিন্তু কিচেনে পা রাখবে না তাহলেই হয়!
ড্রয়িং এ এসে দেখলো খাবার পরিবেশনের তোড়জোড়।এরই মধ্যে আব্বুকে দেখলো চুপচাপ নিজের রুমে যেতে।এই বেশ কিছুদিন থেকে আব্বু বেশীই চুপচাপ।উনার আদরের কন্যার বিদায়ে বুকের ভেতর বয়ে চলা ঝড়ের বজ্রপাত সম্পর্কে কেউই অবগত নয়।
হাফসা সবার সাথেই বসেছিলো।তাঁর কাজ তাদের গল্প শোনা ,ফুচকা খাওয়া আর মাঝে মাঝে চমৎকার হাসা।এরই মধ্যে হঠাৎ আব্বু তাকে খবর করলেন।দ্রুত উঠে রুমে গিয়ে নক করে সে।পারমিশন পেয়ে প্রবেশ করতেই আব্বু বললেন , ‘তুমি কি আমার জন্য আদা-লং দারুচিনি দিয়ে এক কাপ কড়া লিকারের চা করে দিতে পারবে?’
আব্বুর কন্ঠে যেনো শত বৎসরের জমানো সব ক্লান্তি অথচ কন্ঠে কতো বিনয়!
হাফসা সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে সম্মত হলো।আব্বু হয়তো কিছুটা বিব্রত হলেন প্রয়োজনীয় জিনিস বউমার কাছে চেয়ে নিতে।মিনমিনে সুরে বললেন , ‘আফসানাকে খুঁজে পাইনি।উনি মনে হয় উপরে…
হাফসা জানে আব্বু পারলে এক কাপ চায়ের জন্য তাঁর কাছে ক্ষমাও চাইতে পারেন এতই নম্র তিনি।তাই আব্বুর কথা শেষ করার পূর্বেই সে চটপট ইশারা করে বলল, ‘সে এখনি চা করে নিয়ে আসছে।
বাসায় ফিরতে ফিরতে ঘড়ির কাটা সাড়ে ন’টায়।আরহামের পরনে ব্লেজার।এর উপরে চাদর।ঠান্ডায় জড়োসড়ো হয়ে দূহাত পকেটে গুজে চুপেচাপে রুমের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।এইমুহুর্তে সামনে পড়লো হাফসা।তাঁর হাতে বাবার কড়া লিকারের চা।আরহামকে দেখেই উনার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে পড়ে গেলো তাঁর।হাফসা তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি অবনত করলো।আরহাম কোনো প্রশ্ন না করে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন।হাফসার চোখে দেখা গেলো এক আসমান ভয়।
আব্বু চা’য়ে চুমুক দিয়ে বললেন , ‘চমৎকার হয়েছে মাশাআল্লাহ।যেরকমটা চাইছিলাম।’
হাফসা নম্র হাসে।কিন্তু বুকের ভেতর ভয়ের বাসা।তিনি নির্ঘাত চরমভাবে রেগে আছেন।
সবার ডিনার শেষ হলেও আরহাম আর রুম থেকে বের হোননি।আম্মু যখন বললেন ওকে ডাকো তো হাফসা গিয়ে দেখে আরহাম রুমে নেই।অন্য রুমেও নেই।কোথাও নেই।কিছুক্ষণের জন্য হাফসার অস্থিরতা বাড়তে থাকলো।
আম্মুকে যখন জানালো আরহাম কোথাও নেই আম্মু বললেন তিনি হয়তো ছাদে।রাতের বেলা খানিক ভয় নিয়েই ছাদে উঠে দেখলো আরহাম ছাদের শেষ কিনারায় পা ঝুলিয়ে বসে আছেন।দেখামাত্রই ভয়ে তার কন্ঠ দিয়ে এক অস্ফুট আওয়াজ ফুটলো।যে আওয়াজ টা নীরব ছাদের প্রতিটা কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়লো।আরহাম উঠে এসে জিজ্ঞেস করলেন , ‘ঠিক আছেন?’
মাথা দিয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর দিয়ে উনাকে আশ্বস্ত করলেও হৃদয়ের ঝড় থামলো না।এই যে হেডলাইটের আলোয় উনার চোখের কোণায় চিকচিক করা পানি দেখা যাচ্ছে,হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টির জন্য এটুকুই তো যথেষ্ট।
আরহাম নিজেকে সম্পূর্ণরুপে স্বাভাবিক উপস্থাপন করে বললেন , ‘কেন এসেছেন?’
উত্তর না পেলেও তিনি হয়তো আন্দাজ করে নিলেন।বললেন , ‘ডিনার করবো না।খিদে নেই।’
একদম ঝামেলাবিহীন উত্তর।অথচ উমায়ের কেন যাচ্ছেন না?আর এভাবে কাছে এগিয়ে আসার মানে কি।উনি বোধহয় জানেন না,পুরুষরা সহজে কাঁদে না ঠিক কিন্তু কাঁদতে নিলে মেয়েদের মতো অশ্রু লুকাতে পারদর্শী না।
হাফসা একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।সে অনুভব করতে পারছে তাকে বিদায় দিতে গিয়ে তার ভাই আরও বেশি কষ্ট পেয়েছেন।আরহামের চোখ মুছে দেওয়ার জন্য তো সে আছে কিন্তু তার ভাইয়ের তো কেউ ছিলো না।
আস্তে আস্তে আরহামের গালে হাত রাখে সে।নিজেকে সামলানোর ব্যর্থ চেষ্টায় পরাজিত হয়ে আরহাম হাফসাকে ঝাপটে ধরলেন বুকে।উনার ভেজাকন্ঠে হাফসা বারবার শুনলো, ‘আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে উমায়ের।আমার পিচ্চি বোনটার সত্যি সত্যি বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে! ‘
শুক্রবার!
অন্তিম মুহুর্ত!
নাহ।একবারের জন্য হলেও সত্যি টা সে ভাইকে বলবে।নাহলে যে তার শান্তি হবে না।
আরহাম ছাদে ছিলেন।মাহেরের সাথে কোনো জরুরী আলাপে।এরই মধ্যে ছাদে আসে সে।মুখে নিকাব বাঁধা।শরীরে বড় হিজাব।
আরহাম আচমকা তাকে এখানে দেখে বোনের সামনে এসে দাঁড়ালেন।সাথে সাথে আইরার জমানো সব সাহস অঝোরধারার অশ্রুতে চাপা পড়ে গেলো।মুখে হসত চেপে কাঁদতে লাগলো সে।
চক্ষু তার অশ্রুতে টইটম্বুর।উনার বাচ্চা বোনটাকে দ্বিতীয়বারের মতো কখনো এভাবে কাঁদতে দেখেননি আরহাম।আরহামের বুকটা ফেটে যাচ্ছে বোনের কান্না দেখে।আরহাম দূহাতে তাঁর গাল স্পর্শ করে চোখমুখ মুছে দিয়ে বললেন, ‘কি হয়েছে আইরা?এত কাঁদছো কেন?তুমি তো আমাকে জ্বালাতে থেকে যাচ্ছো তিনমাস।আজই তো চলে যাচ্ছো না!’
আইরার ভেতরটা আরো পুড়তে থাকে।আজকের একটা সিদ্ধান্ত তাঁর সারাজীবনের কান্না।ভাইকে কীভাবে বুঝাবে সে।
‘কিছু বলবে?বলো!’
আইরা মুখে হাত চেপে জলে টইটম্বুর চোখে পেছনের মানুষটাকে দেখে।অতপর আচমকাই নি:শব্দে ধুপধাপ পায়ে চলে যায়।
মাহের উল্টোঘুরে হাঁটা ধরলেন। আরহাম ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলেন তখনো।মাহের বেশ দূরে গিয়ে সিগারেট ধরালেন।আজকে বোধহয় এখানে না আসলে ভালো হতো।কারো এতো কান্নার কারন হতে হতো না।সিগারেট ধরালে ভেতরে কেমন যেনো শান্তি লাগে।তবুও একটা জিনিস উনাকে পোড়াচ্ছে, ‘মেয়েটা একবারের জন্য হলেও আমাকে চেয়েছিলো।’
মাহেরের থেকে চোখ সরিয়ে আরহাম নিচে চলে আসলেন।নিকাহনামার কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে।রেজিস্ট্রি পেপারে ইমাম উনার কাজগুলো সম্পন্ন করে নিচ্ছেন।আরহাম দ্রুতপায়ে ভেতর ঘরে গিয়ে মহিলাদের পেরিয়ে আলগোছে ভেতরে গিয়ে দেখলেন আইরাকে রেডি করা হচ্ছে।আরহাম সবাইকে পেরিয়ে আইরার সামনে গিয়ে আচমকা তাঁর হাত ধরে নিয়ে গেলেন।উপস্থিত সবার প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে আরহামের কিছু যায় আসে না।কিচ্ছু না।
আইরাকে রুমে এনে দরজা টা বেশ শব্দ করে লাগালেন।আইরার হাত ছেড়ে তাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বিয়েতে তুমি খুশি?তুমি সত্যি রাজি,আইরা?’
এতক্ষণে গুছিয়ে নেওয়া নিজেকে সে এক শব্দে এলোমেলো খুঁজে পেলো।অশ্রুসিক্ত কন্ঠে মাথা নাড়তেই আরহাম কেমন যেনো বিরক্ত হলেন।কথা না বাড়িয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘মাহেরকে তুমি পছন্দ করো?আইরা!’
প্রশ্ন শুনে তাঁর পায়ের তলার মাটি যেনো দূভাগ হয়ে গেলো।ভাইয়ের কঠিন মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে ঢুক গিলে তৎক্ষনাৎ মাথা নেড়ে বুঝাল, ‘না।’
বিয়ে বাড়িতে এতো এতো মানুষ অথচ তার জুব্বাওয়ালা কে সে খুঁজে পাচ্ছে না।কি একটা অবস্থা।মা’কে এক জায়গায় বসিয়ে সে মনে মনে খুঁজতে লাগছিলো তাঁর প্রিয় পুরুষকে।অথচ বেখেয়ালে কারো সাথে ধাক্কা লাগে তাঁর।নিজেকে দ্রুত সামলে সামনের মানুষটাকে সরি বলতে গিয়ে তার চোখ ছলকে যায়।কি সুন্দর মানুষ!কি সুন্দর!
‘আ্ আমি সরি।আমি আসলে দেখতে পাইনি।’
হাফসা মুচকি হেসে চলে যেতে নিলে আদওয়া চটপট জিজ্ঞেস করে , ‘আচ্ছা আব্দুল্লাহ আরহাম কোথায়?’
হাফসা ঠোঁট উল্টে ইশারায় বুঝালো সে জানে না।আদওয়া মুখ ফুলিয়ে নখ খুঁটতে লাগলো।হাফসা ইশারায় জানতে চাইলো সে কি হয় আব্দুল্লাহ আরহামের।
হাফসার কথা বুঝতে তার একটু অসুবিধে হলেও বুঝতে পেরে সগর্বে উত্তর দিল, ‘আমি উনার এক শুভাকাঙ্ক্ষী।’
মাহের তখনো ছাদে।এক সিগারেট মুখে ধোঁয়া উড়িয়ে নিচে ফেলা সিগারেট টা পা দিয়ে পিষছেন।মনে মনে ভাবছেন সিগারেটের খোলস টা এতো শক্ত কেন?এগুলো কীভাবে ধোঁয়া হয়ে উড়ে।প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে অশান্তি লাগছে মাহেরের।ব্যস্ততায় বা অন্য কোনো কারনে কি না জানেন না তবে ইদানীং রাতে উনার ঘুম হয়না।আজকে বাসায় গিয়েই শান্তিতে একটা ঘুম দিতে হবে।ভাবতে ভাবতে ঘড়িতে তাকালেন তিনি।এতক্ষণে বোধহয় বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে।যদিও বাসায় মেহমান তবুও সুযোগ করে হাফসার সাথে দেখা করে চলে যাবেন তিনি।
ভাবনার মধ্যেই আরহামকে দেখতে পেয়ে চমকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এখানে কি করছো?সবাই তো তোমাকে খুঁজবে।’
‘মাহের তুমি বিয়ে কেন করছো না এই প্রশ্নটার উত্তর আজ দিবে আমাকে?’
এমন মুহূর্তে আরহামের এমন প্রশ্নে মাহের যেনো আকাশ থেকে পরলেন।উনার চমকানো দেখে আরহাম পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলো কেন?’
মাহের একটু সময় নিয়ে নির্বিকার উত্তর দিলেন, ‘আমার মনে হয় আমি কাউকে ভালো রাখতে পারবো না।আমার গম্ভীরতা,রাগ আমার নিজেরই বিরক্তির কারন।যেখানে বারবার নিজের প্রতিই নিজে বিরক্ত হয়ে যাই সেখানে সারাজীবন কীভাবে একটা মানুষকে ভালো রাখবো?আমার মনে হয় না আমাকে ভালো লাগার মতো কিছু আছে আমার মধ্যে,না সাধ্য আছে কাউকে ভালো রাখার।’
‘আমার পরিবার তোমার কেমন লাগে?’
‘মানে কী?হুট করে এসব জানতে চাচ্ছো?আর তুমি এখানে কেন?’
‘উত্তরটা দাও মাহের।’
‘ভালোই।’
‘আমার বোন তোমাকে পছন্দ করে,জানো?’
মাহের কিছু না জানার ভান করে বললেন, ‘না।’
‘পছন্দ করে তোমাকে।’
‘বাচ্চা মানুষ।এসব কথায় কান দিও না।’
আরহাম জোর গলায় বললেন , ‘মাহের!বি সিরিয়াস।আমি ফান করছি না।’
‘বুঝতে পারছি না কি বলছো?’
‘ও তোমাকে কীভাবে পছন্দ করে?
‘আরহাম তোমার বোন বাচ্চা মানুষ।আমাকে কয়দিন দেখেছেন আর।অল্প সময়ের ভালোলাগা থাকবে না।আর তাঁর আর আমার বয়সের ডিফরেন্স দেখো।আমি উনার জন্য পারফেক্ট না।আর আমার ফ্যামিলি বলতেও শুধু হাফসা।তুমি তোমার বোনের জন্য বেটার অপশন রেখে সামান্য আমার বিষয়ে…
‘বয়স,আর ফ্যামিলি নিয়ে কোনো অবজেকশন নেই।এমনকি মনের এক চুল বিরুদ্ধে গিয়েও সিদ্ধান্ত নিবে না।আমি চাই,আমার বোনের জীবনে যে আসুক,সে আমার বোনকে কষ্ট যেনো না দেয়,আর আল্লাহ’র আরো কাছে নিয়ে যাবে।আমি তোমার ডিসিশন জানতে চাইছি,আমার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। ভেবে বলো কিছু…
‘আরহাম বিয়ে হচ্ছে সারা জীবনের ব্যাপার।আবেগের বশে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না যেটা পরবর্তী জীবনে তোমার বোনের জীবনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।’
‘ উত্তর ‘না’?’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৭
মাহেরের নীরবতায় আরহাম আর প্রশ্ন তুললেন না।মাহের ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলেন রেলিং ঘেষে।কি একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি!কিন্তু এমন তো চাননি তিনি।
নিকাহনামায় তার নামের পাশে মাহদিন শাহরিয়ারের নামটা জ্বলজ্বল করছে।জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে আইরা আর সময় নেয়নি।নতুন মানুষকে তার জীবনে জড়াতে যাওয়ার এক সেকেন্ড আগ পর্যন্তও তার মনে হলো,তার একটা মনের মানুষ ছিল।তবে সে মানুষটা তাঁর তাকদীরে নেই!
