Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৩
Maha Aarat

পেরিয়ে গেছে সপ্তাহ…
হানিয়া,
আমার প্রিয়তম অর্ধাঙ্গিনী,হোন আপনি একটু অসুস্থ,তবুও আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন আপনার নামে কবিতা লিখে যায়।পৃথিবী খুঁজে সেরা সব নারী আমার সামনে হাজির করলেও আমি আপনার থেকে চোখ ফিরাবো না।এমনকি কখনো দ্বিতীয় নারী যদি আমার জীবনে আসেন আমি সমতা করতে পারবো না।কারন আমার হৃদয়ে জমানো সব ইশক্ কেবল আপনার জন্যই।

আপনাকে গ্রহণের পর যে জিনিসের ভয় সবসময় আমাকে তাড়া করতো, এই ভয়টা সত্যি হলো একদিন।আপনাকে বিয়ে করতে একটা মানুষই আমায় সাপোর্ট করছিলেন,আমার বাবা।অথচ মায়ের পছন্দ করা ছিলো ফুপার মেয়ে,আনিফা!বাবা যখন মৃত্যু পথযাত্রী এর এক বছর আগে ফুপা মারা গেলেন।আর্থিকভাবে অসচ্ছল একটা পরিবারের দেখাশোনা করতে আমার আপত্তি ছিলো না কোনোদিনই অথচ আপত্তি ছিলো তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করার।বাবার শেষ অনুরোধ ছিলো আমি যেনো আনিফার মাথায় ছায়া হই যখন বাবাকে হারানোর শোকে,আর যৌথভাবে সম্মিলিত পরিবারের অবহেলায় সে দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছিলো।উনার অসহায়ত্ব আমার মনে উনার জন্য একটুও মায়া আনতে পারেনি।কিন্তু শেষ মুহুর্ত আমি মত দিতে বাধ্য হলাম।আমরা দিনশেষে একবার না একবার রক্তের সম্পর্কের কাছে হেরে যাই!

তাঁর সাথে নিকাহের এগারো মাস পর্যন্ত আমি কথা বলিনি,দেখা করিনি কিন্তু ভয় ঠিক’ই হতো।কারন আল্লাহর কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে।ছয় বছরের সংসারে দূটো সন্তান আমাদের।একজন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্বভাবত যেরকম হয় আমাদের তেমন ছিলো না।
আনিফা মারা যান যেদিন আমি পুনরায় প্রবাসে পাড়ি জমাই।তাঁর মৃত্যুর খবর পাই এক সপ্তাহ পর।আহমাদ সব জানতো।এ শোক আপনি সহ্য করতে পারতেন না তাই ভেবেছি কখনো বলবো না অথচ আপনি জানলেন।আপনার অসুস্থতার জন্য দায়ী আমি নিজেই।আনিফা মারা যান হৃদরোগে।আর আপনি লড়ে যাচ্ছেন মস্তিষ্কের অসুখের সাথে!না পেরেছি আনিফার জীবনের মর্মান্তিক মুহুর্তে উনাকে স্বান্তনা দিতে না আপনাকে ভালো রাখতে।দূ’ভাবেই হেরে গেলাম আমি!

আমি আমার সন্তানদের কাছেও সেরা বাবা হতে পারিনি।আমার আদরের পুত্র, মাহের; সে জানে তাঁর বাবাকে আরও কেউ বাবা বলে ডাকে।আমার ভীষণ লজ্জ্বা হয়।আমি কোনোদিনই তাঁর সাথে এ নিয়ে কথা তুলিনি।আমি তুলিনি অপরাধবোধে,আর সে তুলেনি হয়তো ঘৃণায়।সেই থেকে মাহেরের সাথে আমার দূরত্ব তৈরী হয়েছে।বাবা হয়ে আমি ব্যর্থ।আমাকে দেখে আমার সন্তান যখন তাঁর গন্তব্য পাল্টে নেয় কিংবা খাবারখানায় আমাকে দেখলে সে এড়িয়ে যেতো,তাকে আমি কি করে বুঝাই আমার অশান্ত মনের আহাজারি।কী করে দেখাই আমার পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া হৃদয়!

আপনি আমার আহত হৃদয়ের ওষুধ হানিয়া!আপনাকে কষ্ট দিয়েছি সত্যিটা লুকিয়ে আর আনিফাকে কষ্ট দিয়েছি অবহেলায়।আর সন্তানদের কাছে তো অপরাধী বাবা আমি।আমার পুরো জীবনটায়’ই আফসোসের ছক আঁকা।দিনশেষে উত্তর টা কী?আমি যদি স্বার্থপর বাবা আর স্বার্থপর স্বামী হয়ে থাকি,তবে দিনশেষে আমি কেনো সুখ পেলাম না?❞

দূপুরের দিকে বাবা যখন বাইরে, আর মায়েরও ঘুমের সময় তখন বাবার রুম গুছিয়ে নিচ্ছিলো সে।বাবার রুমে যেনো অদ্ভুত সুন্দর এক খুশবু্।একাজ-অকাজের ফাঁকে যখনই সময় পাওয়া যায় আর বাবাও অবসর থাকেন তখন বাবার সাথে বেশ খোশ আলাপ জমে তাঁর।বাবা আর মেয়ে আলোচনা করতেন রাসুল(সা.) এর শিক্ষা,সুন্নাহ নিয়ে।রাসুলের (সা.) প্রতি সাহাবীদের ভালোবাসা আর সম্মান এতোই বেশী ছিল যে রাসুল(সা.) এর অনুপস্থিতিতে তাঁরা রাসুলের (সা.) সাক্ষাতের জন্য অস্থির থাকতো।কি অমায়িক তাদের ব্যবহার,কি চমৎকার ভালোবাসা।আলোচনা হতো সেরা মহীয়সী সব নারীদের জীবনচিত্র।নারী সাহাবীদের জীবনের ভাঁজে ভাঁজে বিচরণের সময়টুকু হাফসা ভাবতো,আমিও যদি এমন হতে পারি!
সীরাহের পাতায় পাতায় ডুবে থাকতে কখন যে তাদের সন্ধ্যা গড়াতো বা কখনও ঘন অমানিশার জাল পেরিয়ে সুবহ সাদিক এগিয়ে আসতো তাঁরা বুঝতোই না।বাবা কি চমৎকার ভাবে তাকে রাসুলের (সা.) গল্প শোনাতেন,যুদ্ধের গল্প শোনাতেন,সাহাবীদের গল্প শোনাতেন।

এমনই এক বিকেলে বাবার শেলফ ঠিক করতে গিয়ে একটা নোটবুক পায় সে।হাত থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মায়ের এক টুকরো ছবি পাওয়া যায়।কিশোরী হাফসা কৌতূহল দমাতে পারে না।মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার সৌভাগ্য তো তাঁর নেই,মায়ের ডায়েরিতে অন্তত তাঁর অস্তিত্বের একটু গল্প থাকবে।একটু ছুঁয়ে দেখতে মন্দ কী।
এক পাতা এক পাতা করে উল্টায় সে।লিখাগুলোতে চোখ বুলাতে গিয়ে তাঁর চক্ষু ঠিকরে উঠে।বড় বড় দীর্ঘশ্বাস আর আস্তে আস্তে জমে উঠা অশ্রুসহ সে পড়তে থাকে তাঁর মায়ের নামে বাবার ডায়েরি।জানতে শুরু করে তাঁর বাবার দ্বিতীয় পরিবারের কথা।খুব সংক্ষিপ্ত আকারে লিখা বাবার এই দ্বিতীয় জীবনের পান্ডুলিপি।অথচ এই সংক্ষিপ্ত লিখনীর কানায় কানায় লেপ্টে আছে বাবার একেকটা ভারী ভারী দীর্ঘশ্বাস।

রাতের মধ্যাংশ তখন।জোরে এক চিৎকার দিতেই তন্দ্রা কাটে তাঁর।চার বছর আগে জানা সেই মর্মান্তিক দিবসের পুরো স্মৃতিটুকু তাঁর স্বপ্নে এসেছিলো।ডায়েরিতে থাকা প্রতিটা কথা যেনো তাঁর চোখের মণিতে স্পষ্টভাবে ভাসছিলো।এই প্রত্যেক প্যারাগুলো আলাদা আলাদা তারিখের।বিগত বছরের টুকরো টুকরো লিখা।
আরহাম দ্রুত উঠে তাকে আগলে নেন।বেসামাল ভাবে কাঁপছে হাফসাল।একহাতে তাঁর মুখটা বুকে চেপে আছেন তিনি।অথচ বিড়বিড় করে সে মা কে ডাকছে,বাবা কে ডাকছে।আরহাম অবাক হলেন।তাঁর মুখের আধো আধো বুল যতবারই উচ্চারিত হচ্ছে ততবারই যেনো উনার হৃদয়ে হাতুড়ি পেটানোর মতো ধুমধুম আওয়াজ হচ্ছে।উমায়েরের মুখ থেকে কথা ফোটা!এ তো এক আশ্চর্য্যকর আশ্চর্য্য!

হাঁড়কাঁপানো ঠান্ডায়ও তুমুল বৃষ্টি পরিবেশটাকে যেনো আরো উষ্কে দিচ্ছে।মাঘ মাসে বৃষ্টি হওয়াটা আপত্তিকর নয়।একটা প্রবাদ আছে, ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়।’
জানালায় পর্দাটা টেনে দিয়ে বিছানায় পা তুলে কমফোর্টার জড়িয়ে নিলো এশা।তাহাজ্জুদের নামাজ শেষে তাসবিহ কাউন্টার হাতে বসে থাকা তাঁর দৃষ্টির সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিলো পর্দার ফাঁকে।থাই এর ওপাশে দেখা যাচ্ছে তীর্যক বৃষ্টির ছুটোছুটি।এশা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেডশীটে মাথা লাগিয়ে চোখ বুজে রয়।রায়ানের সাথে বিস্তর একদফা ঝগড়া হয়ে গেছে তাঁর।যত সময় যাচ্ছে সে আস্তে আস্তে টের পাচ্ছে, দোষটা বেশীরভাগ তাঁর নিজেরই।আর এর বাইরেও প্রথম দোষ হচ্ছে, স্বামীর সাথে উঁচু গলায় কথা বলা।ইচ্ছেমতো বলেছে সে।রায়ান প্রত্যুত্তর করেননি।শেষ মুহুর্তে চুপচাপ বেরিয়ে গিয়েছেন।সেই সকাল থেকে এখন আরেক সকাল প্রায়।তবুও উনার কোনো দেখা নেই,কথা নেই,ফোন নেই,মেসেজ নেই।সে কি একবার টেক্সট দিবে ভেবে আবারও ফোন রেখে দেয়।সে কেন টেক্সট দিবে?শুধু কি তাঁর দোষ?ইগোতে এতো ভাঁটা পড়েছে না কি?

মাহেরের ছুটি নেই বলে রিসিপশনের পরের দিনই ফিরানিতে আসা তাদের।ওইদিন বিকেলেই আবার বাসায় ফিরে আসছিলেন।বাসার আসার পর থেকে আইরা কাঁদছিলো।অনুভব করছিলো,আম্মু আব্বু থেকে সত্যিই দূরে সে।চাইলেও কি আগের মতো হওয়া যাবে আর?
মাহের সারাপথ তাকে লক্ষ্য করেছেন।রাতের খাবারের সময়ও যখন খেতে খেতে ফুঁপাচ্ছিলো তখন সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আম্মু-আব্বুকে বেশী মিস করছো?বাসায় দিয়ে আসি?’
তাঁর নীরবতা ব্যতীত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।তাঁর চোখে পোষা গাঢ় অভিমান মাহের টেরই পাননি।জলভরা সেই চোখে হয়তো মনের দৃষ্টি দিয়ে তাকাননি।তাকালে দেখতে পেতেন,তাঁর চোখে একটু ভরসা আর ভালোবাসার কতো অভাব!

বিয়ের ষষ্ঠ দিন~
পুরনো স্মৃতি কুড়াতে গিয়ে হুট করে ফিক করে হেসে ফেললো আইরা।ক্লাস চলছে মাহেরের।নীরব ক্লাসে আচমকা হাসির আওয়াজ শুনতেই চশমা নাকে ফেলে মাহের ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকালেন।পুনরায় মনোযোগী হতে গিয়েও আবার তাঁর হাসির শব্দ হলো।
এবার মাহের সোজা হয়ে তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘বাইরে গিয়ে ইচ্ছেমতো হাসুন।গেট লস্ট।’
আইরা চোখ বড়বড় করে তাকালো উনার ধমকানি শুনে।সে তো আর এখন স্টুডেন্ট নয়,সে এখন বউ।তাহলে এখনো আগের মতো রুষ্টাকাষ্টা বিহ্যাভ কেন?
ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ায় কিছুটা মন খারাপ হলো তাঁর।কিন্তু লাজুক হাসিটা তাঁর থামছে না।তাঁর বারবার মনে পড়ছে রিসিপশনের দিনে ঘটা সেই ইন্সিডেন্ট!

ফ্ল্যাশব্যাক____
রিসিপশনের দিন।ছোট্ট একটা এক্সিডেন্ট এর কারনে মেহমান আসতে বেশ দেরী হলো।আসরের আগের ক্ষণ।মেহমান আসতেই খাবার পরিবেশন করা হলো।খাবারের তোড়জোড় শেষেই আরহাম ভেতর ঘরে গেলেন হাফসার সাথে দেখা করতে।এরইমধ্যে মাহেরও আসলেন।পিছু নিয়ে বললেন, ‘তোমার সাথে একটু গুরুত্বপূর্ণ কথা…
আরহাম তাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আগে আমার চোখের শান্তিকে এক নজর দেখে আসি।একটু ইন্তেজার!’
অগত্যা মাহের রুমের সামনে অপেক্ষা করলেন।এরইমধ্যে আইরা হুট করে সামনে আসলো।মাহের যেদিকে উল্টোদিক হয়ে আছেন সেদিক আইরার সামনেই।না চাইতেও তাঁর চোখে একটা আপত্তিকর দৃশ্য ধরা পড়তেই সে হুষ ছেড়ে দম ফাটিয়ে বলে উঠে, ‘ভাইয়া ভাবি’পুকে…
মাহেরের চক্ষু চড়কগাছ।এ মেয়ের মুখ থামাবেন কি করে ভাবতে গিয়ে উপায় না পেয়ে একটা দূর্ঘটনা ঘটে গেলো।কায়ায় হালকা এক স্পর্শ লেগে যেতেই মুখ অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেলো আইরার।কয়েক সেকেন্ড পর আস্তে আস্তে চোখ উপরে তুলে তাকায় সে।সামনে থাকা ব্যাক্তিটি সামনে নেই দেখে লজ্জ্বায় লাল নীল হচ্ছিলো সে।লাজ শরমের মাথা তাঁরও খেয়েছিলো বলেই ভাইয়া ভাবি’পুর কপালে চুমু দেওয়া নজরে আসতেই মুখের ব্রেক ছুটে জোর গলা আসছিলো।কি এক লজ্জ্বাজনক পরিস্থিতি!তাঁর চিৎকারে আরহাম হাফসা রুমের দূই সীমানায়।আইরার হঠাৎ আগমনে তাঁরাও লজ্জ্বিত।মুখে হাত দিয়ে বের হতে হতে বিড়বিড় করে সে, ‘আফওয়ান আফওয়ান আফওয়ান……

গোটা আরেকটা দিন অপেক্ষা করলো এশা।সে মানুষ একটাবারও খোঁজ নেয়নি।সবসময় নিজে সঠিক থাকলে সরি বলেও তাকে জিতিয়ে দেওয়া মানুষটার হুট করে এমন পরিবর্তন এশাকে খুব করে পোড়াচ্ছে।বৃষ্টি মাখা আরেকটা দিন অতিবাহিত হয়েছে।বৃষ্টির সাথে ধরণীতে নেমে আসছে ঘোর অন্ধকার।দিন ফুরোচ্ছে,রাত আসছে তবুও তাঁর মানুষটার কোনো খোঁজ নেই!কেন?
এশা কেবল মোবাইলটা হাতে নিয়েছিল যাবতীয় সবকিছুর জন্য সরি বলতে।তবুও কেন জানি পারা গেলো।রাতের খাবারের জন্য মা ডেকে গেলেও খেতে গেলো না সে।চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে শোয়ার একপর্যায়ে চোখে ঘুম জেঁকে বসে।

হঠাৎ রিং হয় ফোনে।মাত্র কাঁচা ঘুম ভেঙে আসতে নাম্বার না দেখেই ঘুমের মধ্যে একদফা কথা শুনিয়ে দেয়।তবুও তাঁর রাগ কন্ট্রোলে আসছে না।অথচ অপাশ থেকে কোনো উত্তর না আসায় চোখ কচলে ভালো করে নাম্বারে চোখ বুলাতে দেখে রায়ানের ফোন।নিজেকে একদফা গালি দেয়া শুরু করে নিজের এমন আকামের জন্য।রায়ান ততক্ষণে ফোন কেটে দিয়েছেন।এশা ফোন ব্যাক করে। রিং হচ্ছে কিন্তু ফোন তোলা হচ্ছে না।পুর্নবার দিতে রায়ান কল তুললেন।নিচ থেকে বাইকের আওয়াজ আসছে।
এশা সালাম দিতেই তিনি উত্তর দিলেন।অতপর কিছুক্ষণ নীরবতা।
মুখ কাঁচুমাচু করে এশা বলল, ‘আ’ম সরী।’
‘একটু নিচে আসো।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪২

আরহাম অস্থির হয়ে বললেন , ‘ওয়েট ওয়েট,সামহাউ আপনার সাথে আমার বিয়ের সিদ্ধান্ত ছিলো ওটা?’
হাফসা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়াতেই আরহাম চোখ বুজে রেলিং এ জোরে এক আঘাত বসালেন।হাফসা দ্রুত এগিয়ে আসলো।
‘কতোটা রাত কতোটা দিন আমি ছটফটি করেছি।সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে বলতেও পারিনি অথচ….

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৪