Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫১

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫১

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫১
Maha Aarat

সন্ধ্যার পর তিলাওয়াত শেষে মাত্র নিচে নামলো হাফসা।এসে দেখে আরহাম উপস্থিত।আজ এতো তাড়াতাড়ি চলে আসায় খানিক আনন্দিত হলো সে।সে ছুটলো কিচেনে আর আরহাম নিজ কক্ষে।
ড্রয়িং রুমে উপস্থিত হলেন আব্বুও।বাজার থেকে তাজা ইলিশ আর বোয়াল মাছ নিয়ে আসছেন এই অসময়ে।আম্মু একটু মন কাড়াকাড়ি করলেও ভদ্রলোককে বুঝতে দিলেন না।আরহাম আসার পর হাফসা নাস্তা পরিবেশন করলো।ড্রয়িং রুমের আনন্দঘন পরিবেশ নীরব হয়ে গেলো আরহামের আওয়াজে।পরশু শুক্রবার ভোরবেলা উনার ফ্লাইট।আম্মু আর মাইমুনা মন ভার করে থাকলেও আব্বু যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ সেরে নিচ্ছেন।মাইমুনার চোখ ছলছল।চোখের সামনের মানুষটা হুট করে এত দূরে চলে যাবেন ভাবতেই কান্না পাচ্ছে তাঁর।ভীষণ রকম কান্না।তাঁর থেকে বেশী ভারী অনুভূতি হচ্ছে হাফসার নিজের।সম্পর্কের দূরত্বটুকু সুতোয় জটিল করে বাঁধাই রইলো।তবে এটা সে বেশ ভালো বুঝতে পেরেছে,ভালোবাসায় যেমন আরহাম কার্পণ্য করেন না,তেমনি নিজের জেদে অটল থাকতেও কার্পন্য করেন না।কারন গত কয়েকদিনে সে যতবারই চেষ্টা করেছে নিজ থেকে সবকিছু ঠিক করে নিতে,আরহাম ততোবার তাঁর বিনিময় শোধ করেছেন।প্রাপ্যের খাতায় যেখানে হিসেব বাকি নেই,সেখানে শেষের পাতা কেবল শূন্যই থাকে।

‘শাহ,এত দীর্ঘ দূরত্ব।কীভাবে চলবে আপনাকে ছাড়া?’
‘আমারও তো খারাপ লাগবে।বাট একটু ধৈর্য ধরুন।চাইলেই তো আমি আপনাকে দেখতে পারবো,কথা বলতে পারবো,আপনি পারবেন।তাহলে!’
মাইমুনা ঠোঁট উল্টে চুপ হয়ে রন।আরহাম তাঁর মুখ দূ হাতের আজলায় মিয়ে কপালে চুমু এঁকে বললেন , ‘আই উইল মিস ইউ,মাই লাভ।আই উইল মিস ইউ অল!’
আরহামের কন্ঠে বিষন্নতা।মাইমুনা বুঝতে পারেন,বুকের বা পাশে থাকা ছোট্ট হৃদয়টা ধুকপুক করছে।আরহামের এই স্বান্তনার পিছনে অশান্ত অনুভূতি টা খুব করে চাইছে বুকচিরে বেরিয়ে আসতে।মাইমুনা হালকা হাসলেন।আরহামের হাতের পিঠে চুমু এঁকে চুপচাপ বসে রইলেন।মনে মনে দিন গুণতে থাকলেন ,ঠিক কতোগুলো দিন প্রিয়তমের থেকে দূরে থাকবেন।
বোয়াল মাছের মাথা কাটতে গিয়ে আম্মুর হাত কেটে যায়।এতো শখ করে আনা মাছগুলো ফ্রিজে রাখতে হলো।আহনাফ তাজওয়ার বেশ দূ:খিত হলেন আম্মুর এক্সসিডেন্টে।অথচ আব্বুর আজকে বোয়াল মাছ,ইলিশ মাছ খাওয়ার ইচ্ছে ছিল ভীষণ।তাই আম্মু যখন নামাজে গিয়েছেন ফ্রীজ থেকে চুপিচুপি মাছ বের করে হাফসা।বিনুদি’কে সর্তকীকরণ ইশারা দিয়ে ছুরি চালাতে যেতেই বাগড়া দেন আরহাম।হাফসাকে কিছু লুকোতে দেখে ভ্রু কুঁচকালেন তিনি।হাফসা ইশারায় বিনুদিকে জিজ্ঞেস করলো তিনি কেন গলা কাশেন নি।
সে ইশারায়ই উত্তর দিলো তাঁর কাশি আসার আগেই আরহাম ডুকে পড়েছেন।

‘হাতে কি?’
‘ন্ না কিছু না।’
আরহাম এগিয়ে এসে ঝুঁকে হাত থেকে ছুরি কেড়ে একবার তাঁর দিকে তাকালেন ,অতপর একবার বড় সাইজের মাছ টার দিকে।
তাকে জিজ্ঞেস করলেন ,’এটা সম্ভব ,উমায়ের?’
হাফসা নখ খুঁটতে খুঁটতে ভাবতে থাকে কি উত্তর দিবে।হ্যাঁ বললেও সমস্যা না বললেও সেইম।মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর দিতেই আরহাম তাঁর হাতে ছুরি দিয়ে বললেন , ‘আচ্ছা।দেখি।’
হাফসা প্রাণপনে চেষ্টা করলো বেশ কিছুক্ষণ।কোনো দিশা করতে না পেরে বোকাচোখে তাকাতেই আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন , ‘এগুলো রান্না করতেই হবে?’
‘আব্বু খাবেন।’
আরহাম আর অপেক্ষা করলেন না।চাদর কাঁধে ফেলে শার্টের হাত গুটিয়ে ছুরি নিয়ে কাটতে আরম্ভ করলেন।হাফসা মসলা গুছিয়ে নিলো।বিনুদি বাসনপাতি পরিষ্কার করে নিলেন।কাজের ফাঁকে হাফসা আরহামের দিকে নজরদারি করছে,ভুলে ছুরি হাতে চালাচ্ছেন না তো।
অবশেষ কাটা সম্পূর্ণ হলো।মাছগুলো সম্পূর্ণ পিস করতে গিয়ে বেশ কসরত করতে হলো আরহামকে।আরহাম কাজ শেষ করে বললেন , ‘কি করবেন এখন?’
‘একটু পরে নামাজ পড়ে এসে রান্না করবো।’
‘আচ্ছা আমার রুমে আসবেন।’

হাফসা গেলো প্রায় মিনিট বিশেক পর।তাকে দেখে আরহাম জায়নামাজ এগিয়ে দিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন।রুমে এক দারুণ খুশবুর সুবাস।আরো মোহিত করছে আরহামের তিলাওয়াতের সুর।হৃদয়ের রঙ্গিন প্রজাপতি গুলো ছুটে বেরিয়ে আসছে অমায়িক সুরের টানে।নামাজ শেষে নির্দিষ্ট তিলাওয়াত শেষে হাফসা জায়নামাজ গুছিয়ে রাখতে গেলে আরহাম হাত ধরে পাশে বসান।বিনা বার্তায় বিনা দ্বিধায় কপালে ঠোঁট ছোঁয়াতেই হাফসার দমবন্ধকর এক অনুভূতি হলো।বুকের মাঝের গুছিয়ে রাখা আর্তনাদ,আর অবহেলাগুলো যেনো ধাম করে জেগে উঠলো।তাঁর ইচ্ছে হলো ইচ্ছেমতো একটু কেঁদে নিতে।আরহামের দীর্ঘ স্পর্শ যখন শেষ হলো প্রথম ফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়লো মেঝেতে।আরহাম স্পষ্ট সাক্ষী হলেন সেই উষ্ণ অশ্রুফোঁটার।তার হাত নিজের হাতে নিয়ে কিছু বলতে যাওয়ার পূর্বেই দরজায় নক হলো।দূজনে দূরে সরে আরহাম অনুমতি দিতেই আইরা এসে হামলে পড়লো।আরহামকে হালকা জড়িয়ে ধরে মন খারাপের সুরে বলল, ‘ভাইয়া কবে আসবে তুমি?’

পরদিন~
ইদানীং মা বাবার সাথে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে।সেদিনের পর থেকে বাবা ঠিকমতো কথা বলেন না,এটা আদওয়া নোটিশ করলেও তাঁর খুব একটা কিছু যায় আসে না।তাদের খুশি রাখতে গিয়ে অপছন্দের কাউকে তো বিয়ে করা যায় না।যতই সে সুপাত্র হোক,আদওয়ার চোখের বিষ সে।
খাবার টেবিলে সায়হান, মিসেস সেমু।আদওয়া এসে চেয়ার টেনে বসতেই মিসেস শেমু পাতে সবজি তুলে দিতে নাকমুখ কুঁচকায় সে।বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘আজকেও সবজি ডাল পাবদা মাছ?আর কিছু নেই?’
‘ব্যবসার বাজার ভালো নয়।সবুর করে এটা খাও,নয়তো কিছু করার সাধ্য থাকলে করো।’
মায়ের সূক্ষ্ম খোঁচাটা বেশ ধরতে পেরেছে আদওয়া।মা বাবার স্বপ্ন সে ইন্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়বে।অথচ হুট করে মোড় ঘুরিয়ে ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নেওয়ায় বেশ কয়েক তরফা বিবাদ বয়ে গেছে।তবে শেষমেশ লাভ হয়নি,আদওয়া স্ট্রং থেকেছে তাঁর সিদ্ধান্তে।
‘সুদ ছেড়ে দিলেই হয়।কাঁচা পাতাও চিবিয়ে খেতে পারবো।’
আয়বীর সাহেব টেবিলে এসে বসলেন।মিসেস শেমু খাবার পতে তুলে দিতে দিচ্ছিলেন।আয়বীর সাহেব সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন ,

‘তুমি কাকে পছন্দ করো?’
আলোচনার টপিক হঠাৎ বদলে যাওয়ায় বেশ ঘাবড়ালো আদওয়া।ভয়ে তাঁর বুক কাঁপতে শুরু করেছে।তবুও গলা ভিজিয়ে নিলো পুরোদমে।এখনই সময় সত্যিটা বলে ফেলার।
‘ছ্ ছোট যেখানে পড়ে সেখানের ওউনার।’
বাবার চোখমুখ গম্ভীর থাকলেও মায়ের চোখমুখ হঠাৎ করেই যেনো চকচক করতে শুরু করলো।মেয়ের পছন্দ খারাপ না তবু জিজ্ঞেস করলেন বেশ রুক্ষস্বরে, ‘তাঁর সম্পর্কে বলো?ফ্যামিলি সম্পর্কে বলো?’
‘বেশি কিছু জানি না।পছন্দ টা একতরফা।উনার বাবা স্পেন,এক বোন আছেন মনে হয়।’
আয়বীর সাহেব এতোক্ষণ চুপ থাকলেও এবার উনার কৌতূহলী আওয়াজ শোনা গেলো।
‘তাঁর নাম?’
‘আ্ আরহাম তাজওয়ার।’
‘আহনাফের ছেলে?’
আদওয়ার মাথা অবনমিত হয়ে এলো নিমেষে।আয়বীর সাহেব ভীষণ উৎসুক স্বরে বললেন , ‘আমি যতটুকু জানি সে বিবাহিত।’

আদওয়া চুপচাপ থাকে কিছুক্ষণ।কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে বলে, ‘জ্বি।’
নীরব পরিবেশে গোলমাল বাঁধলো তখুনি।আম্মু ক্ষেপে গেলো তখুনি।চোখ ছলকে উঠা ক্রোধ নিয়ে বললেন , ‘তোমার মাথা ঠিক তো?একজন বিবাহিত পুরুষকে কবে থেকে পছন্দ করা শুরু করেছো?’
আদওয়া ভয়ে জড়োসড়ো চোখজোড়া বাবার দিকে তুলে।বাবার এমন রণমূর্তি চেহারা ইতোপূর্বে তাঁর দেখা হয়নি তাঁর।তবুও এ মুহুর্তে সে দূবল হয়ে যাওয়া মানে তাদের অসম্মতি মেনে নেওয়া।তাই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে জানালো, ‘অনেক আগে থেকে।আমি জানতাম তিনি বিবাহিত,আর দূই স্ত্রীর স্বামী।তবুও…
আদওয়ার অর্ধেক কথাতেই কাঁচের টেবিলটা বিকট শব্দে কেঁপে উঠলো।সায়হান ভয়ে লুকিয়ে পড়লো মা’র কোলে।আয়বীর সাহেব প্রস্থান করতেই আদওয়া মা’র উদ্দেশ্যে তেজে উঠা কন্ঠে বলে, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিব।এক্ষেত্রে বাঁধা আসাটা তোমাদের অনুশোচনার কারন হবে।’

গত রাতের পর আর বিদায়ের আগ পর্যন্ত হাফসা আরহামের কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়নি।যখনই কথা বলতে চেয়েছে কেউ না কেউ হাজির হয়েছেন।রাতের ডিনার খেতে দেরি হলো বেশ।আর কিছুক্ষণ পরই আরহাম বেরোবেন।খাবার টেবিলেও একসাথে বসার সুযোগ হলো না।আরহামের মামা আসছেন আর তাঁরা পুরুষ একসাথেই খেতে বসেছেন।
হাফসা লুকিয়ে কেঁদে নিচ্ছে।আরহাম দূরে যাচ্ছেন ভেবে তাঁর যতটুক না কষ্ট হচ্ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট হচ্ছে একটা অসম্পূর্ন শেষ সাক্ষাতের জন্য।মাহেরও এসেছেন।আরহাম যাওয়ার আগে খুব গোপনে প্রিয় বন্ধুর সাথে কি আলাপ করলেন বুঝা গেলো না।বিদায় নিতে হয়েছে সবার সামনে।একান্তে মাথায় হাত রেখে একটু ভরসা দেওয়ার মতো নগণ্য সুযোগটাও হয়নি।
আরহাম যখন বিদায় নিচ্ছিলেন হাফসা অশ্রু আড়াল করতে বারবার পলক ফেলছিলো।এজন্যই বোধহয় শেষ দৃষ্টি পর্যন্ত আরহামের একজোড়া অসহায় চোখ দেখেছে সে।
গেট পেরিয়ে যাওয়া গাড়ির দিকে হাফসা ততক্ষণ তাকিয়ে রইলো যতক্ষন না নিয়নের আলোকবাতিতে গাড়ির ছায়া ডুবে না যায়।অতপর রুমে এসে আটকে রাখা কান্নাগুলোকে একটু সুযোগ দিতেই তাঁরা সর্বোচ্চ সুযোগ লুটে নিলো।
এক সপ্তাহ পর~

টেবিলে বসে নুডুলস খাচ্ছে হাফসা।এরই মধ্যে মাহের আসলেন।আইরা দৌড়ে এসে দরজা খুলে আবার দৌড়ে চলে গেলো।হাফসা ভাইয়ের দিকে তূখর দৃষ্টিতে তাকায়।নাহ তার ভাইয়ের আইরার প্রতি কোনোরকম কোনো ভালোবাসাই সে দেখছে না।গলা কেশে বলে, ‘ভাইয়া!’
মাহের চেয়ার টেনে বসতে বসতে জবাব দিলেন, ‘বলো।’
‘আমার একটা অনুরোধ…
অনুরোধ’ শব্দটি কর্ণকুহরে পৌঁছতেই মাহেরের মস্তিষ্ক শতবার সতর্কবার্তা পৌঁছে দিলো যেনো।বোনকে সেখানেই থামিয়ে বললেন, ‘আর কোনো অনুরোধ নয় হাফসা।তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া আমার কাছে এটাই তোমার শেষ অনুরোধ ছিলো…
হাফসা মুখ ফুলিয়ে বসে রয়।সে কি তাঁর নিজের জন্য এতো কিছু বলছে?খানিক সময় পেরোলো।মাহেরের মন খচখচ করছে।যতই হোক,একমাত্র আদরের বোন।আর আরহামের গচ্ছিত আমানত।বারবার সে বলে দিয়েছে,উমায়ের এর মন খারাপ হওয়ার যেনো কোনো পরিস্থিতিও না হয়।
মাহের খাপছাড়া ভঙ্গিতে বললেন, ‘কি আবার?’
‘ভাইপো চাই।ছোট্ট একটা সোনামণি চাই।এখানে আসলে আমার বোর লাগে।একটা ছোট্ট..
মাহের বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন।কেটে পড়ার অজুহাতে টেবিল ছেড়ে উঠতে উঠতে বললেন, ‘কি আবোলতাবোল বলছো!’

মাহের খুব কৌশলে হাফসাকে এড়িয়ে এলেন।রুমে প্রবেশ করতেই দেখলেন,আইরা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।মাহের ভ্রু কুঁচকালেন, কপালে ভাঁজ পড়লো।এই মেয়ে এত দীর্ঘসময় এক দৃষ্টিতে তাকায় না।লজ্জ্বায় মিইয়ে যায়।কিন্তু এখন?
মাহের বামের ভ্রু উপরে তুলে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এনি প্রবলেম?’
আইরা খুব ধীরে হেঁটে এলো।তেজী অথচ ধীরসুরে বলতে লাগলো, ‘আমার থেকে কতকিছু লুকিয়েছেন,আপনার অবজেকশন, বলতে মানা,ইটস ওকে আমি মেনে নিয়েছি।দিনের পর দিন অবহেলা কুড়িয়ে কুড়িয়ে বেঁচে থাকছি।মিস্টার মাহের,আমি এমন ছিলাম না।আমার যা চাইতাম সেটা আমার লাগতোই।বাট আপনার ক্ষেত্রে আমি আমার ষোলোআনা চাওয়া ছেড়েছি।অবহেলা,ইগনোরেন্স,আর আপনার ডোন্ট কেয়ার ভাব এর পরেও আমার একটা খুশি অন্তত ছিলো যে আপনি সেদিন একটু সময় দিয়েছেন।কত খুশি হয়েছি আমি জানেন?এই একটা খুশির মোমেন্টে পূর্বের দূ:খগুলো ভুলেই গিয়েছিলাম।এটাও আপনার বোনের কথায়?’

মাহের আশ্চর্য হলেন।সে শুনে ফেলেছে।এখন এই মেয়েটাকে সামলানোর মতো কোনো কিছু জানা নেই উনার।
‘মানে আমি আপনাকে চেয়েছি বলে এতো ইগো?আমি চেয়েছি বলে?বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কান্না করার প্রতিদানটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে অবহেলা অবহেলা আর অবহেলাই পাচ্ছি।যদি বুঝতে পারতাম,আমাকে গ্রহন না করার সিদ্ধান্তের কষ্টটার চেয়েও বেশী কষ্ট প্রতিনিয়ত পেয়ে যেতে হবে আমাকে,তাহলে এতো ভয়াবহ একটা সিদ্ধান্ত নিতাম না।শেষ আশা নিয়েও থেকেছি,ভালোবাসা নয়,আমার প্রতি একটু করুণা হোক আপনার।করুণা!সেটাও নেই।ওইদিন আপনার বলা কথাটা (আশা করছি তুমি কিছুদিন আগের অতীত ভুলে যাওনি কীভাবে বিয়েটা হয়েছে।আমি কতটুকু অমতে গিয়েও মত দিয়েছি..)আমাকে কতোটা পুড়িয়েছে আপনি অনুমানও করতে পারবেন না।তাও বেহায়ার মতো থেকে গিয়েছি।আর সম্ভব নয়।আমি আপনার সাথে থাকতে চাই না আর।ভাইয়া দেশে আসলে আলাদা হওয়ার আইনী কাজগুলো সম্পন্ন হোক।ততদিনে আর আপনার সাথে দেখা না হোক।’
মাহের নীরব।উনার মনে হচ্ছে এখানে দাঁড়িয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন একটা সিদ্ধান্তের ফয়সালা হয়ে গিয়েছে।যার শোনানি হয়ে গেছে, ফেরানো যায় না আর।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫০

পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একা সে বেরোলো।হাফসার এতো অনুরোধ তাকে টলায়নি।টলানোর কথাও নয়।কারন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জলজ্যান্ত মানুষটা একবারও থামাতে চায়নি।
মাহেরকে ঠেলে হাফসা পাগলের মতো বলে, ‘ভাইয়া যাও।আইরা চলে যাচ্ছেন!’
মাহের তবুও তাকিয়ে রইলেন।উনার কানে কেবল বাজছে, ‘ততদিনে আপনার সাথে আর দেখা না হোক।!’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here