Home অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৫

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৫

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৫
Sathi

“__ মাথা ঠিক আছে তোর? সেতু আর তুই? আই মিন তুই একটা মেয়ের সাথে এইসব কী?
” স্পষ্ট অবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলে আদনানের । ভ্রু কুঁচকে, চোখ কটমট করে সে তাকিয়ে আছে জেহেফিলের দিকে। পাশে দুইজন ও তাকিয়ে আছে একই ভঙ্গিতে।
__ তোর কি আমাকে ইয়ে মনে হয়? মানে আমি মেয়ের সাথে না থেকে কি তুই বেডার সাথে থাকবো? আস্তাগফিরুল্লাহ, আল্লাহ মাফ করো।
“দুই গালে দুই থা*প্পড় মে*রে নাটকীয় ভঙ্গিতে কথাটা বলে জেহেফিল। মুখে এমন ভাব যেন ভ*য়ংকর অপবাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। আদনান হতভম্ব, সেতু আর পাশে দাঁড়ানো মেয়েটা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে।তার মাঝে দাঁত চেপে আদনান বলল।

__ আমি কি তোকে ইয়ে বলেছি? আমি বলতে চাইছি তুই জেহেফিল, যে কিনা মেয়েদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকিস, সেই জেহেফিল তুই একটা মেয়ের সাথে ১৯/২০ করছিস।
__ আগে ১৯/২০ কাকে বলে শিখে আয়। আমি তো জাস্ট ঘেঁষাঘেঁষি করে চু*মু খাচ্ছিলাম।
“ঠোঁট চুকচুক করে, নিষ্পাপ মুখ বানিয়ে কথাটা বলে জেহেফিল। তিনজনের দিকে চোখ ফিটফাট করে তাকিয়ে থাকে, যেন কিছুই হয়নি।
“রাগে সেতুর মাথা খারাপ হয়ে যায়।ঝড়ের বেগে জেহেফিলের একদম কাছে এসে ঘেঁষে দাঁড়ায়। চোখ লাল করে রাগি কন্ঠে আওড়ায়।
__ আপনার মতো নি*র্লজ্জ আমি দু’টা দেখিনি।
“কথাটা বলে ধুপধাপ পা ফেলে চলে যায়।র হাঁটার শব্দেই বোঝা যায় ভেতরে ভিতরে কত রাগ।পিছন থেকে জেহেফিল চিৎকার করে বলে ওঠে।

__ চু*মুখোর বউ, চুমু* তো দাও!
“কথাটা সেতুর কানে গেলেও সে কিছু না বলে হাঁটা দেয়। কাঁধ শক্ত করে মুখ সোজা সামনে রেখে। একবার আদনান বিরক্ত স্বরে বলে।
__ এইসব কী জেহেফিল?
__ আবার রিভাইস করবো? এই ছাগলের ঠ্যাং, তুমি গিয়ে ওদের সাথে আড্ডা দাও, আমার একটু কথা আছে আদনানের সাথে।
“ঠাট্টা মেশানো সুরে কথাটা বলে জেহেফিল কাঁধ ঝাঁকায়। আদনান তাসুকে ইশারা করে সরে যেতে বলে। তাসু চলে যেতেই দুই বন্ধু পাশের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসে।
“জেহেফিল আরাম করে বসতে বসতে সামনে তাকায়। একটু দূরে সেতু আর তার বান্ধবীরা দাঁড়িয়ে আছে, হয়তো একটু আগের ঘটনাই আলোচনা করছে।জেহেফিল সেদিকে তাকিয়ে সেতুর দিকে আঙুল তুলে উদাস স্বরে বলে।

__ ওকে চিনিস তুই?
__ হ্যাঁ সেতু। শিফার ফ্রেন্ড।
__ ও আমার সেই ছোট্ট যমুনা সেতু।
__ কী? এই সেই মেয়ে?
বিস্ময় নিয়ে আদনান সেতুর দিকে তাকায়। জেহেফিল সেতুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
__ হেঁ আমার ১৬ বছরের কষ্টের ফল।
“কথাটা বলার সময় জেহেফিল ঠোঁটের কোণে তীক্ষ্ণ হাসি লুকিয়ে রাখে।আদনান জেহেফিলের কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে।
__ তুই শিওর?
__ তোর কি মনে হয় আমি ওকে চিনতে ভুল করবো?
__ কী করে চিনলি?
প্রশ্নটা করে আদনান চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকে উত্তরের আশায়। জেহেফিল একটু দূরে হাত নেড়ে কথা বলতে থাকা সেতুর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। জেহেফিলের চোখে অদ্ভুত নরমতা।

__ কী হলো? বলছিস না কেন?
“জেহেফিলের মুখ নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে আদনান। এবার মুখ ফিরিয়ে বন্ধুর দিকে তাকায় জেহেফিল। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে সেদিনের সম্পূর্ণ ঘটনাটা বলে, সেতুর সব কর্মকাণ্ড, প্রথম পরিচয় থেকে সব।
“আদনান হা করে তাকিয়ে থাকে। এত কিছু হয়ে গেছে, সে ভাবতেই পারেনি। তার বন্ধুটি এই ১৬ বছর একটা রাতও ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেনি যে মেয়ের জন্য, সেই মেয়ে আজ সামনে দাঁড়িয়ে।মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করে। কিন্তু সেতুর বাবার কথা মনে হতেই বুকের ভেতর কাঁপন ধরে।আতঙ্কিত স্বরে বলল।
__ আর বাপ?
__ বেঁচে আছে।
জেহেফিলের ঠাণ্ডা গম্ভীর গলায় আদনানের ঊর্ধ্বে কথা শেষ করে দেই।বসা থেকে উঠতে উঠতে বলে।
__ ওর প্রাপ্য শাস্তিটা ওকে দিয়ে আসি। তুই গিয়ে একটু লুতুপুতু কর তোর শিফার সাথে।
মুচকি হেসে কথাটা বলে জেহেফিল সেতুর দিকে হাঁটা দেয়।

সেতু রাগে ফুঁসছে।
__ কোন বান্দরনিবলেছে আমি যে গাছের পিছনে লুকাইছি? ছটফট বললে তার চুল আমি একটাও রাখবো না।
“শ*রীর কাঁপছে রাগে সেতুর। চোখে আ*গুন, সবাই চুপ করে থাকে, ম্যাডামের মাথা যে ভীষণ গরম, বুঝতে অসুবিধা হয় না। তাদের মধ্যে তো কেউ বলেনি। তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। মাঝখান থেকে এরিন ভয়ে ভয়ে বলে ওঠে।
__ আমরা কেউ বলিনি… ভাইয়া নিজে থেকেই এইদিকে গিয়েছিল।
__ ভাইয়া?
“সরু চোখে এরিনের উদ্দেশ্য কথাটা বলে তাকিয়ে থাকে সেতু।এরিন ভয়ে ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল।
__ ওই মানে… বয়সের থেকে তো অনেক বড় হবে। তাই নাম ধরে ডাকাটা ঠিক দেখায় না, তাই ওই ভাইয়া আর কি।
__ তো কী? নাম বলবি না, লু*চ্চা বলবি।
“সেতুর তাচ্ছিল্য করে বলা কথায় বান্ধবীরা চুপ হয়ে যায়।হঠাৎ পিছন থেকে গরম নিশ্বাস কানের পাশে এসে লাগে সেতুর।

__ লু*চ্চামি না করেও লু*চ্চা নাম পাইছি। চলো চু*মুখোর বউ, একটু ১৯/২০ করি। তখন লু*চ্চা বললে না হয় মেনে নিবো। এখন কিছু না করে লু*চ্চা শব্দটা মেনে নিতে পারছি না।
“ফিসফিস করে কথাগুলো বলে জেহেফিল সেতুর হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। চোখে একরাশ জেদ। সেতু হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে ধরে রাখা হাতের দিকে। ছাড়াতে চাইলেও পারে না, বেশ শক্ত করে ধরেছে জেহেফিল। জেহেফিল সোজা এসে গাড়ির পাশে এনে প্রায় ধা*ক্কা মে*রে তুলে দেয়, নিজেও উঠে বসে।
__ হোয়াট দা হেল! এইসবের মানে কী?
রাগে চিৎকার করে ওঠে সেতু। বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। বিপরীতে দুষ্টু হেসে জেহেফিল বলল।
__ মানে গাড়িতে বসো। যেমন নষ্ট করেছো তেমন পরিষ্কার করবে। সাথে চু*মু তো ফ্রি।
“বলতে দেরি, সেতুকে চেপে ধরে একের পর এক চু*মু খেতে দেরি নেই। প্রায় ৪/৫টা চু*মু দিয়ে দেয় মুখের উপর। সেতু হাত দিয়ে ঠেলে সরাতে চাইলেও পারে না। নিজের খায়েশ মিটিয়ে চু*মু খাওয়ার পর মুখ তুলতেই জেহেফিল হঠাৎ ভয় পেয়ে যায়।

__ আল্লাহুমাকফিনাহু বিমা শি”তা। এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন? অর্ধেক বউ খেয়ে ফেলবো নাকি?
বিড়বিড় করে দোয়াটা পড়ে সেতুর দিকে তাকাই।
সেতুর চোখ রাগে চকচক করছে।
__ আমি কেন খাবো? তুই খা, নে শুষে শুষে খা।
__ আল্লাহ তওবা তওবা। এইসব কী ইঁ*দুর বউ।গুনাহ হবে, এমন বিচ্ছিরি কথা বলতে নেই।
আফসোসের সুরে বলে জেহেফিল। চোখে-মুখে অস্বস্তি। সেতু বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকে,এটা মানুষ, না অন্য কিছু। যত বলবে তত বাড়বে বুঝে চুপ থেকে সেতু, গাড়ির জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।
“সেতুকে চুপ থাকতে দেখে জেহেফিল বাঁকা হেসে মনে মনে বলল… ইহে আসছে আমার সাথে লাগতে।”বলেই গাড়ি স্টার্ট দেয়।

“রাস্তায় অর্ধেক আসতেই জ্যামে পড়ে যায়। চারপাশে হর্নের বিকট শব্দ, বিরক্তিতে জেহেফিল দাঁত কিড়মিড় করে তাকিয়ে আছে সামনে। পাশে সেতু সেও বিরক্ত, তবে এখনো মুখ খোলেনি। হঠাৎ গাড়ির গ্লাসে টোকা পড়ে।জেহেফিল গ্লাস নামিয়ে দেখে এক হি*জড়া দাঁড়িয়ে।
__ এই, টাকা দে।
__ না দিলে?
জেহেফিল ভ্রু তুলে তাকায়।
__ কাপড় উল্টে সব দেখায় দিবো।
__ দেখি, নিচে কিছু আছে?
“জেহেফিলের এমন সোজাসাপ্টা কথায় হ*জড়াটা হতবম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। পাশে সেতু যেন কথা বলার শব্দ হারিয়ে ফেলেছে। বিড়বিড় করে কী যেন বলতে বলতে নিজের ব্যাগ থেকে একটা ২০ টাকা বের করে দেয়। টাকা পেয়ে হিজড়াটা “আল্লাহ আল্লাহ” করতে করতে চলে যায়। শব্দটা স্পষ্ট তাদের কানে আসে। জেহেফিল চোখ ছোট করে সেতুর দিকে তাকিয়ে বলল।

__ এতো ইয়ে ধরিদি তুমি, আগে তো জানতাম না।
__ বাজে কথা না বলে গাড়ি চালান। যেখানে গাড়ি পরিষ্কার করবেন নিয়ে যান। জ্যাম ছাড়ছে।
“সেতুর এই ভদ্র স্বরে কথা শুনে জেহেফিল একটু না, অনেক বেশি অবাক হয়।অন্যদিকে সেতু বাঁকা হেসে ব্যাগ থেকে নিজের লিপস্টিক বের করে ঠোঁ*টে ইচ্ছেমতো লাল রঙ লাগায়। আয়নায় তাকিয়ে ঠোঁ*ট টিপে দেখে।জেহেফিলের মাথায় কিছুই আসে না। এই মেয়ে তো চুপ থাকার মেয়ে না। না ছোটবেলায় ছিল, না এখন বড় হয়ে। হঠাৎ কি হলো? এমন চুপ থেকে ভিলেনের মতো হাসার মানে কী?ভাবতে ভাবতে গাড়ি স্টার্ট দেয়।
“সেতু আরাম করে বসে আয়নায় ঠোঁ*ট একটার সাথে আরেকটা ঠুকঠুক করে মিলিয়ে দেখে।
__ এই মেয়ে, মুখটাকে এমন ব্যাঙের ফুটকির মতো করছো কেন বারবার?
__ একদম আমাকে ‘এই মেয়ে’ শব্দটা বলবেন না।
__ কেন? কারো কথা মনে পড়ে?
“গাড়ি চালাতে চালাতে হালকা কৌতুক মেশানো গলায় বলে জেহেফিল। সেতু রাগ হারিয়ে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৪

__ আপনি কী করে জানলেন?
__ তারমানে মনে পড়ে? ওই একটু সন্দেহের বসে বললাম। তুমি যেভাবে বললে, ‘এই মেয়ে’ একদম বলবেন না…
জেহেফিলের ভেঙ্গানো কথায় সেতু চুপ হয়ে যায়। কথা বাড়ায় না।চোখের সামনে ছোটবেলার কিছু দৃশ্য ভেসে ওঠে।বারবার কানে বাজতে থাকে।…..”এই মেয়ে, ফুল ছিঁড়বে না।”

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৬