Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৩

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৩

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৩
রুপা

আর্যকে আবারও আগের মতো রেগে যেতে দেখে পুষ্প রীতিমতো ভয়ে কাঁপছে। গত কয়েক দিন আর্য পুষ্পর সাথে উঁচু গলায় কিংবা ধমক দিয়ে কথা বলেনি; উল্টো পুষ্পর খেয়াল রেখেছে, সুবিধা-অসুবিধা দেখেছে। এখন হঠাৎ আর্যকে আবারও আগের মতো রেগে যেতে দেখে হয়তো একটু বেশিই ভয় পেয়েছে সে। এদিকে পুষ্পকে চুপ থাকতে দেখে আর্যর রাগ যেন তরতরিয়ে বাড়ছে।
আর্য বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের রাগ সংবরণ করার চেষ্টা করে, তবে কিছুতেই রাগ কমছে না। তার মনে হচ্ছে পুষ্পও বদলে যাবে, একটু ভালোবাসলেই বদলে যাবে! এই যেমন একটু ভালো ব্যবহার করে যেই না খেয়াল রেখেছে, একটু নরম হয়েছে, অমনি পুষ্প অবাধ্য হচ্ছে, কথা শুনছে না। সে নিজে বারণ করেছে নিচে না যেতে, রুম থেকে বের না হতে; কিন্তু এই মেয়ে তার কথা না শুনে রুম থেকে বের হয়ে নিচে চলে যাচ্ছিল! সে যদি সময়মতো না আটকাত, এই মেয়ে নিচে চলে যেত। ইভান এই মেয়েকে দেখত, আবারও কথা বলত, কমপ্লিমেন্ট দিত।

আর্য আর ভাবতে পারছে না। সে একবার পুষ্পর দিকে তাকিয়ে দেখল—পুষ্পর চোখ থেকে অবিরাম ধারায় গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল। চোয়াল চেপে ধরায় ব্যথায় মেয়েটা চোখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। আর্য একঝটকায় পুষ্পর চোয়াল ছেড়ে, পুষ্পকে ধাক্কা দিয়ে বড় বড় পা ফেলে গটগট করে বারান্দায় চলে গেল।
আর্যর ধাক্কায় পুষ্প একবারে দেয়ালের সাথে লেগে ধাক্কা খেল। পুষ্প এবার হাঁটু গেড়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। আর্য চোয়াল এমনভাবে চেপে ধরেছিল যে এখন ছেড়ে দিতেই ব্যথায় টনটন করছে। কিন্তু পুষ্পর শরীরের এই ব্যথার চেয়ে ভেতরে যেন একটু বেশি ব্যথা লেগেছে। এতদিন আর্যর নরম হয়ে কথা বলা, খেয়াল রাখা, তার ব্যথায় অস্থির হয়ে তাকে সামলানো, গান গেয়ে শুনিয়ে তাকে শান্ত করে ঘুম পাড়ানো—সবকিছুতে পুষ্পর অবচেতন মন কোথাও ভেবেছিল আর্য সব মেনে নিচ্ছে আস্তে আস্তে। তাই তো পুষ্প আর্যর সাথে একটু সহজ হতে শুরু করেছিল, আগের মতো আর্যর সামনে গুটিয়ে যেত না। কিন্তু আজকের ব্যবহারে পুষ্প যতটা সহজ হয়েছিল, ঠিক ততটাই বেশি গুটিয়ে গেল; মনের ভয় যেন আরও তীব্র হয়ে ফিরে এলো।
পুষ্প আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল। সোফার পেছনের দিকে মুখ করে শুয়ে পড়ল। ওড়নাটা জড়িয়ে নিয়েছে, মাঝে মাঝেই কাঁধ কেঁপে উঠছে—হয়তো কাঁদছে সে।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে একের পর এক সিগারেট টানছে আর্য, পুরো বারান্দা নিকোটিনের ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেছে। আর্যর পকেটে থাকা সিগারেট শেষ হয়ে গেছে; হাতের কাছে সিগারেট না পেয়ে খালি প্যাকেটটা ছুড়ে মারে। পাশে থাকা সোফায় দপ করে বসে পড়ে পেছনের দিকে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইল।
কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ খুলে তাকাতেই দেখল ইয়াসার; সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর্যর দিকে। আর্য সেদিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল, সে বুঝতে পারছে তার আবার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে!
– “কেন শুধু শুধু মেয়েটার ওপর রাগ ঝাড়ছিস?”
আর্য কিছু না বলে চুপ করে রইল! ইয়াসার আবারও বলল—
– “অতীত নিয়ে কেন পড়ে আছিস?”
– “আমি অতীত নিয়ে পড়ে নেই, একদম বাজে কথা বলবি না!”
– “তাহলে সব মেয়েকে ওর মতো মনে করছিস কেন?”
আর্য চুপ করে রইল, তারপর তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল—

– “আমি সব মেয়েকে ওর মতো ভাবি না, আসলে সব মেয়েই একই রকম! দেখ না ওই মেয়েকে দেখ, এতদিন রাগ দেখিয়েছি, দূরে রেখেছি, সব ঠিক ছিল। যেই না একটু ভালো ব্যবহার করলাম, একটু নরম হলাম, অমনি অবাধ্য হওয়া শুরু করল! আমি বলার পরেও রুম থেকে বেরিয়ে গেল।”
আর্য একটু থেমে আবারও বলল—
– “আসলে মেয়েরা ভালোবাসার যোগ্যই না! মেয়েদের ভালোবাসলে বিনিময়ে কষ্ট ছাড়া কিছুই মেলে না। মেয়েরা পেছনে ঘুরে ছেলেদের নিজের মায়ায় জড়িয়ে ধ্বংস করতে।”
আর্যর কথা শুনে ইয়াসার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
– “তোকে বুঝতে হবে, সব মেয়ে এক হয় না!”
আর্য কথাটা শুনে দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

– “সব মেয়েই এক, তুই আমাকে মেয়ে চেনাতে আসিস না!”
– “আমি তোকে মেয়ে চেনাচ্ছি না, আমি শুধু বাস্তবতা বলছি। একটা মেয়ের জন্য সব মেয়েকে একই পাল্লায় মাপা বন্ধ কর, না হলে সারাজীবন এরকম নিঃসঙ্গ পথিক হবি।”
– “নিঃসঙ্গই ভালো, অন্তত জীবন নিয়ে বেঁচে তো থাকব; তোর মতো ধ্বংস হব না।”
আর্যর কথা শুনে ইয়াসার হেসে উঠল। সে এবার আর্যকে কটাক্ষ করে বলল—
– “তুই এটাকে বেঁচে থাকা বলিস? নিজের অনুভূতি স্বীকার করতে পারছিস না, ভালোবাসিস অথচ পালিয়ে বেড়াচ্ছিস নিজের অনুভূতি থেকে! এখন নিজেকে সামলানোর জন্য তুই মেয়েটার থেকে দূরে পালিয়ে যেতে চাইছিস? এটাকে বাঁচা বলে না, পালিয়ে বেড়ানো বলে! দেখিস, আবার না নিজের অনুভূতি স্বীকার করতে খুব দেরি হয়ে যায়।”
– “শাটআপ! একদম বাজে কথা বলবি না!”
কিন্তু ইয়াসার নেই, কোথাও নেই—বারান্দা খালি। আর্য জানে সব কল্পনা, তবুও সে পাগলের মতো একা একা কথা বলে।

রাত বারোটা বাজে আর্য রুমে আসে। এতক্ষণে হয়তো সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে গেছে। ইভানও বাড়িতে চলে গেছে। আর্য রুমে এসে দেখল পুষ্প সোফায় শুয়ে পড়েছে, গায়ে ওড়না জড়িয়ে রেখেছে। হয়তো ঠান্ডা লাগছে; আর্য আজকে কমফোর্টার জড়িয়ে দিল না, সোজা বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। কতক্ষণ এপাশ-ওপাশ করল, তবুও ঘুম চোখে ধরা দেয় না। আর্য উঠে বসল, চোখ চলে গেল সোফায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা পুষ্পর দিকে। আর্য বিরক্তিকর শ্বাস ছেড়ে এসির রিমোটটা নিয়ে টেম্পারেচার বাড়িয়ে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুম স্বাভাবিক তাপমাত্রা হয়ে যায়; পুষ্প স্বাভাবিক হলেও আর্যর গরম লাগতে শুরু করে। সে একটানে নিজের টি-শার্ট খুলে ফেলে। মুহূর্তেই উন্মুক্ত হয় জিম করা পেটানো শরীর, যেন ফোলা ফোলা মাংস উঁচু হয়ে আছে সামনে—যাকে বলে সিক্স প্যাক। আর্য এবার কিছু না ভেবে শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমের দেশে পারি জমায়।

সকালে উঠে পুষ্প নিজের কলেজ ড্রেস ও প্রয়োজনীয় সবকিছু সিমরানের রুমে নিয়ে রাখে, যাতে আর্যর সামনে পড়তে না হয়। আর্য ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো জিম করে, শাওয়ার নিয়ে অফিসের জন্য রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে। আর্য একটা বিষয় খেয়াল করে—সকাল থেকে পুষ্প একবারও রুমে আসেনি। আর্য ভাবে হয়তো নিচে আছে, কিন্তু অদ্ভুত বিষয় পুষ্প নিচেও নেই! আর্য নাস্তার টেবিলে বসে এদিক-অদিক তাকিয়ে দেখল, কিন্তু কোথাও নেই মেয়েটা।
আর্যকে নাস্তার টেবিলে বসতে দেখে সোফায় বসে থাকা নিশি গিয়ে আর্যর পাশে বসে পড়ে, তবে আর্যর সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সে বারবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখছে মেয়েটাকে একবার দেখা যায় কিনা। আর্য প্রতিদিন চুপচাপ নাস্তা শেষ করে কিন্তু আজকে শুধু প্লেটে হাত নাড়াচ্ছে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছে, তবুও পুষ্পর দেখা মেলে না। এতে আর্যর বুকে অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করতে শুরু করে। মেয়েটা কোথায়? প্রতিদিন সে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হওয়ার সময় মেয়েটাও কলেজের জন্য রেডি হতো, তাহলে আজকে কোথায়?

নিশি আর্যর মনোযোগ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা করে, কিন্তু আর্যর কোনোদিকে খেয়াল নেই; সে একমনে ভাবছে মেয়েটা কোথায়? আর্য এবার নাস্তা না করে উঠে গেল। অফিসের জন্য বেরিয়ে পড়ে বাড়ি থেকে। আর্য চলে যাওয়ার পরে পুষ্প নিচে নেমে আসে, কলেজের জন্য একেবারে রেডি হয়ে। আর্য চলে যাওয়াতে শেহনাজ সরকার পুষ্পকে বাড়ির ড্রাইভার দিয়ে কলেজে পাঠিয়ে দেন। উনি একটা বিষয় খেয়াল করেছেন—পুষ্প মনমরা ছিল, চোখও ফোলা ছিল, হয়তো রাতে কেঁদেছে। কিন্তু কেন কেঁদেছে? পিরিয়ডের ব্যথায়, নাকি আর্য আবার কিছু করেছে?

পুষ্প কলেজ থেকে আসার পর থেকে শেহনাজ সরকারের সাথে আছে। কিছু না বলে শুধু শেহনাজ সরকারের পিছু পিছু ঘুরেছে। শেহনাজ সরকারও কিছু বলছেন না, শুধু নীরবে পর্যবেক্ষণ করছেন পুষ্পকে। তিনি বুঝতে পারছেন কিছু একটা হয়েছে; হয়তো তিনি জানেন না, তবে তিনি পুষ্পকে জিজ্ঞেসও করলেন না।
কিন্তু পুষ্পকে শেহনাজ সরকারের পিছু পিছু ঘুরতে দেখে মিনারা বেগম কটাক্ষ করে বলে উঠলেন—
– “এটা কেমন মেয়েকে ছেলের বউ করেছো শেহনাজ? শাশুড়ি কাজ করছে আর ছেলের বউ পিছু পিছু ঘুরছে! কোনো কাজকর্ম নেই, শুধু খাচ্ছে আর ঘুমাচ্ছে; যেন নিজের বাপের বাড়ি! রাজারানির মতো যখন ইচ্ছে উঠছে, যখন ইচ্ছে ঘুমাচ্ছে, ডেংডেং করে পড়তে যাচ্ছে। বিয়ের পর এত পড়ে কী হবে শুনি?”
মিনারা বেগমের তীক্ষ্ণ অপমান জনক কথাগুলো শুনে বরাবরের মতো পুষ্প চুপ করে থাকে। কিন্তু শেহনাজ সরকার এমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকান যে সাথে সাথে মিনারা বেগমের কথা বন্ধ হয়ে যায়। শেহনাজ সরকার পুষ্পর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নরম কণ্ঠে বললেন—

– “মানুষের কথায় নিজের ওপর কোনো প্রভাব পড়তে দিবি না। মনে রাখিস, পড়ালেখা একমাত্র উপায় যেটাতে তুই নিজের স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচতে পারবি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবি। এমন হাজারো মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবি নিজে পড়ালেখা করে যোগ্য হয়ে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে। এখন ওপরে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘুমাবি, বেশি কিছু ভাববি না; নিজের ব্রেনকে রেস্ট করতে দিবি!”
পুষ্প শাশুড়ির কথা শুনে বাধ্য মেয়ের মতো ওপরে চলে যায়; তবে প্রতিদিনের মতো আর্যর রুমে যায় না, সিমরানের রুমে চলে গেল। এদিকে পুষ্প যেতেই শেহনাজ সরকার মিনারা বেগমের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বললেন—

– “খালা, আমি আগেও আপনাকে সাবধান করেছি—ভুলেও পুষ্পকে নিয়ে একটাও বাঁকা কথা যেন বের না হয় আপনার মুখ দিয়ে। কেন আপনার প্রতি থাকা সম্মান নিজে শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন? আপনি মেহমান হয়ে এসেছেন, মেহমান হয়ে থাকুন। আমার ছেলের বউকে আমি রাজরানি করে রাখার জন্যই ছেলের সাথে বিয়ে করিয়েছি; তাই ঘুম থেকে দুপুরে উঠুক, ইচ্ছে করলে সারাদিন ঘুমাবে—এইটা আমার মেয়ের ইচ্ছে। আপনাকে কথা বলার সেই অধিকার দিইনি আমি। আর একটা কথা, ওকে পড়ালেখা করাবো নাকি ঘরের রান্নাবান্না করাব, সম্পূর্ণ আমার আর আর্যর ব্যাপার। যেখানে আর্য স্বামী হয়ে তার কোনো সমস্যা নেই, আমি শাশুড়ি হয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই, তাহলে আপনার এত সমস্যা কোথায়?”
– “শেহনাজ, তুমি আমাকে অপমান করছ!” শেহনাজ সরকারের কথা শুনে মিনারা বেগম থমথমে গলায় কথাটা বলে উঠলেন।
মিনারা বেগমের কথা শুনে শেহনাজ সরকার শান্ত চোখে মিনারা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন—
– “আমি আপনাকে অপমান করছি না, সত্যিটা বোঝাচ্ছি। পুষ্প আমার ছেলের বউ; ওর পড়ালেখা নিয়ে, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা নিয়ে বা কাজ না করা নিয়ে যেখানে আমার ছেলের সমস্যা নেই, আমার সমস্যা নেই, এমনকি বাড়ির কারো সমস্যা নেই—তাহলে আপনার এত সমস্যা হচ্ছে কেন? কেন বারবার আমার মেয়েটাকে কটু কথা শুনিয়ে মেয়েটার মনে ভয়ের সৃষ্টি করছেন? কী সমস্যা আপনার?”

আর্য অফিস থেকে ফিরে ড্রয়িং রুমে পুষ্পকে না দেখে সোজা নিজের রুমে চলে যায়। রুমেও পুষ্পকে না দেখে ভ্রু কুঁচকে যায় তার। সে সারাদিন অফিসে এক মুহূর্তও শান্তিতে থাকতে পারেনি; বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে গতকাল রাতে মেয়েটার কান্নারত মুখটা। সে রেগে আবারও মেয়েটাকে হার্ট করেছে—যেটার ভয়ে সে মেয়েটাকে রুমে লক করেছিল!

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২২

সকাল থেকে একপলকও মেয়েটার ওই নিষ্পাপ মুখটা দেখেনি সে। টের পাচ্ছে নিজের মধ্যে তীব্র অশান্তি ও অস্থিরতা, যেটা কমে শুধু মেয়েটার সান্নিধ্যে থাকলে। সে প্রতিদিন অফিস থেকে আসে আরও রাত করে, কিন্তু আজকে অফিসে যেন টিকতেই পারছিল না মেয়েটাকে একটু দেখার জন্য। গতকাল কি বেশি ব্যথা পেয়েছে? অনেক কেঁদেছে নিশ্চয়ই মেয়েটা? সকাল থেকে তার সামনে আসেনি—মেয়েটা কি ইচ্ছে করে তার সামনে আসছে না? তাকে কি আবারও ভয় পাচ্ছে? আর্য আর ভাবতে পারল না। বারান্দায়, ওয়াশরুমে সব জায়গায় চেক করে দেখল; নাহ, মেয়েটা নেই। কোথায় মেয়েটা? ঠিক আছে তো?

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here