Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৪

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৪

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৪
রুপা

ফার্মহাউসে আজকে আর্য ও পুষ্পর আলাদা সংসারের আট দিন। সূর্য মামা পূব আকাশের উষা কাটিয়ে কমলা রঙের আলোয় আলোকিত করছে ধরণীর বুক। সকালের মিষ্টি রোদ গলে বারান্দার আঙিনা আলোকিত করেছে; ইতিমধ্যে পাখিরা একঝাঁক দল বেঁধে উড়ছে কিচিরমিচির ডাক দিয়ে পুরো পৃথিবীকে জানান দিচ্ছে—সকাল হয়ে গেছে।
তবে বিলাসবহুল রুমের কিংসাইজ বেডে একান্তে শুয়ে থাকা এক কপত-কপতির যেন কোনো খবরই নেই যে সকাল হয়ে গেছে! আর্যর বুকে বিড়ালছানার মতো গুটিসুটি মেরে লেপ্টে শুয়ে আছে পুষ্প। আর্য ঘুমের মধ্যেই সাপের মতো পেঁচিয়ে রেখেছে রমণীকে—যেন ঘুমের মধ্যেও সে তার থেকে দূরত্ব বাড়াতে না পারে। কিছুক্ষণ পরে পুষ্প পিটপিট করে ঘুমঘুম চোখ খুলে তাকাতেই সবার প্রথমে নজরে এল আর্যর উন্মুক্ত লোমযুক্ত প্রশস্ত বুক, যা গত সাত দিনের রুটিনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুষ্প মাথা উঁচু করতে চাইলেই আর্যর থুতনির সাথে রমণীর মাথার ঘর্ষণ হলো। আর্য একটু নড়ে আবার ঘুমে তলিয়ে গেল। এদিকে আর্যকে নড়তে দেখে রমণী চুপ করে বুকে ঘাপটি মেরে রইল। আর্যর নড়াচড়া বন্ধ হতেই রমণী খুব সাবধানে, আস্তে করে মাথা উঁচু করে গম্ভীর মুখপানে চাইল। সাথে সাথে রমণীর চোখে মুগ্ধতা ছড়াল—সবসময় গম্ভীর করে রাখা মুখটা এখন একদম নিষ্পাপ দেখাচ্ছে, আদুরে নিষ্পাপ ভাবটা! একদম তার তুলতুলের মতো। আর্যর ঘুমন্ত মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে রমণীর অধরে অকারণে হাসি ফুটে উঠল।
রমণী খুব সন্তর্পণে একহাতে আর্যর কপালে লেপ্টে থাকা একগুচ্ছ চুল সরিয়ে দিল, আলতো হাতে ছুঁয়ে দিল আর্যর কপাল। আস্তে আস্তে হাত নেমে এল নাকে; রমণী এত দিনে খেয়াল করেছে, তার সরকার সাহেবের নাকের একটু বাঁ দিকে খুব ছোট একটা লাল তিল আছে, যা দূর থেকে বোঝা মুশকিল। রমণী আলতো হাতে সেই লাল তিলটাও ছুঁয়ে দিল। রমণীর এই মুহূর্তে আর্যকে ভীষণ আদুরে লাগছে; তার ‘তুলতুল’কে যেরকম সে আদর করে চুমু খায়, সেরকম সরকার সাহেবকেও চুমু খেতে ইচ্ছে করছে তার! রমণী আর্যর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বলল—

– “আচ্ছা সরকার সাহেব, আমি যদি তুলতুলের মতো আপনাকে আদর করে চুমু খাই, তাহলে কি আপনি রাগ করবেন? আবার আগের মতো ধমক দেবেন?”
রমণী ঘুমন্ত পুরুষকে প্রশ্ন করে উত্তরের আশায় চেয়ে রইল, তবে অপরপাশ থেকে কোনো উত্তর এল না। আসবে কী করে? তার সরকার সাহেব তো ঘুম! তাই তো রমণী এতটা সাহস দেখাতে পারছে। শত ভাবনার মাঝেও রমণী নিজের মনের ইচ্ছে দমাতে পারল না—ওই ছোট লাল তিলটা যেন তাকে চুম্বকের মতো টানছে! রমণী আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না, তাই তো হুট করে একটু ঝুঁকে নাকের বাঁ দিকের তিলটাতে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। তারপর আবার আর্যর একদম নাকে চুমু খেল। এরপর আপন মনে কিছু একটা ভেবে বিড়বিড় করে বলল—
– “আমি আপনার নাকে চুমু দিয়েছি। এতে কি আপনি রাগ করবেন? আবার বকবেন আগের মতো?”
জিজ্ঞেস করে কোনো উত্তর না পেয়ে রমণী নিজেই বলল—
– “কিন্তু আমি কী করব? আপনাকে দেখে আমার একদম তুলতুলের মতো আদর করতে ইচ্ছে করছে, শুধু আদর করে চুমু দিতে ইচ্ছে করছে!”
হঠাৎ রমণী ঝুঁকে আর্যর চওড়া কপালে ঠোঁট ছুঁয়াল। দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিয়ে ঠোঁট সরিয়ে নিল, তারপর সরল কণ্ঠে বলল—

– “এটা আপনাকে কেন দিয়েছি জানেন? কারণ সব আদর থেকে কপালে দেওয়া আদর স্পেশাল হয়। ওটাতে মমতা, মায়া, আদর—সব থাকে। আব্বু-আম্মু মারা যাওয়ার পরে আমাকে এত দিন কেউ ওভাবে দেয়নি, কিন্তু আপনাকে বিয়ে করার পরে ফুফুমণি রোজ কপালে মমতা নিয়ে চুমু দেয়। এখানে আসার পরে আপনিও দেন। তাই আজকে আমি আপনাকে দিলাম।”
রমণীর কথা শুনে আর্যর খুশির আর সীমা রইল না! পুষ্পর প্রথম থেকে সব কথাই শুনেছে আর্য। বোকা রমণী আর কী কী বলে এবং করে, সেটা দেখার জন্যই সে ঘুমের ভান ধরে ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রমণীর ঠোঁটের ছোঁয়া পেয়ে অনেক কষ্টে সে নিজেকে সামলে রেখেছিল, কিন্তু রমণীর কথা শুনে অজান্তেই মানবের ঠোঁট প্রসারিত হলো। হুট করে সে বলে উঠল—
– “আমি তো তোমাকে অনেক কিছু দিই, ফ্লাওয়ার। তার পরিবর্তে তো আরও অনেক কিছু পাওয়ার কথা!”
হঠাৎ আর্যর কণ্ঠে রমণী চমকে উঠল! চোখ বড় বড় করে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল—যেন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে! রমণীকে এদিক-ওদিক তাকাতে দেখে আর্য দুই হাতে রমণীর মুখ ধরে নিজের দিকে ফেরাল, তারপর গভীর কণ্ঠে বলল—

– “আমি যা যা আমার ফ্লাওয়ারকে দেবো! আমার ফ্লাওয়ারও কি আমাকে তা দেবে?”
আর্যর কথা শুনে রমণী কী উত্তর দেবে বুঝতে পারল না। সে কীভাবে দেবে? সরকার সাহেব তাকে কত কিছু দিয়েছেন—জামাকাপড়, জুতা, কসমেটিকস; এগুলো সে কীভাবে দেবে? তার কাছে তো টাকা নেই! সবকিছু ভেবে রমণী মিনমিন করে বলল—
– “আপনি তো আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন, তা আমি আপনাকে কীভাবে দেবো? আমার তো টাকা নেই!”
রমণীর কথা আর্যর ভালো লাগল না। “নেই” মানে কী? যা আমার, তা আমার ফ্লাওয়ারেরও—সব আমাদের। সে কি টাকার কথা বলেছে নাকি? তবে সে রেগে না গিয়ে খুব সুন্দর করে বলল—
– “উঁহু, ভুল বললে ফ্লাওয়ার। কে বলল তোমাকে তোমার টাকা নেই? তোমার সরকার সাহেবের নিজের কোম্পানি আছে, অনেক টাকা আছে—যা দিয়ে আমাদের দুজনের একটা জীবন খুব সুন্দরভাবে কেটে যাবে অনায়াসে।”

– “কিন্তু ওগুলো তো আপনার!”
– “আমার বলতে কিছু নেই; যা আমার তা আমার ফ্লাওয়ারের, সব আমাদের। আর আমার ফ্লাওয়ারকে একটা সুন্দর জীবন দিতে যা যা করা প্রয়োজন, সব করবে তার সরকার সাহেব।”
আর্যর কথা শুনে রমণী কিছু বলল না। কী বলবে বুঝতে পারছে না সে। এভাবে তো কেউ কোনোদিন বলেনি, কেউ এত গুরুত্বও দেয়নি! তাই হয়তো বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছে না। তবুও সে মিনমিন করে বলল—
– “কিন্তু আপনার টাকা দিয়ে আপনাকে কিছু দিলে সেটা কি আমার দেওয়া হবে?”
আর্য দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এতক্ষণ কী বলল সে? সব আমাদের! ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল—
– “প্রথমত, আমার আর তোমার বলতে কিছু নেই—সব আমাদের। আর আমি কি টাকা দিয়ে কিছু কিনে দেওয়ার কথা বলেছি?”

– “তাহলে কিসের কথা বলছেন?” সরল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল রমণী।
– “আমি টাকা দিয়ে কেনা ছাড়াও তোমাকে আরও অনেক কিছু দিই। ভবিষ্যতে আরও দেবো, একদম ইউনিক!”
আর্যর কথা রমণীর বোধগম্য হলো না। সে সহজ গলাতেই বলল—
– “তাহলে কী কী দেন? আমাকে বলুন, আমার কাছে থাকলে আমিও দেবো!”
রমণীর কথা শুনে আর্যর ঠোঁটে দেখা দিল দুষ্টুমিভরা এক হাসি। কোনো সতর্কতা ছাড়াই সে রমণীর অধর আঁকড়ে ধরল নিজের অধরের সাথে। আকস্মিক ঘটনায় রমণীর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। পুরো শরীর শিরশির করে উঠল, শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল এক হিমস্রোত। অজানা এক অনুভূতি গ্রাস করতে লাগল রমণীর তনু-মন। রমণী এবার নিঃশ্বাসের অভাবে ছটফট করতে লাগল। আর্য কিছুক্ষণ পর পুষ্পর ওষ্ঠযুগল ছেড়ে দিল। বাম হাতের তর্জনী দিয়ে রমণীর ঠোঁট মুছে সেটা নিজের ঠোঁটে ধরল, যেন আঙুলে লেগে থাকা রমণীর ঠোঁটের অবশিষ্ঠ ছোঁয়াও সে নিজে নিয়ে নিচ্ছে। রমণী চোখ তুলে তাকাতে পারল না, লজ্জায়-অস্বস্তিতে চোখ নত করে রাখল।
আর্য নিজের আঙুল দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছে আবারো দুষ্টুমি ভরা কণ্ঠে বলল—

– “এবার তোমার পালা ফ্লাওয়ার! আমি যা দিয়েছি, সেটা আমাকে দাও। এটা দিতে কিন্তু কোনো টাকা লাগবে না।”
আর্যর কথা শুনে রমণী হাঁসফাঁস করে উঠল। লজ্জায় যেন কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে, গালে ছড়িয়ে পড়ল রক্তিম আভা—যেন কেউ দুহাতে লাল রঙ মেখে দিয়েছে। রমণী আঁখিজুগল তোলার সাহস পেল না। এর মধ্যেই তীক্ষ্ণ শব্দে বেজে উঠল আর্যর মোবাইল ফোন। আর্য মহা বিরক্ত হলো ফোনের শব্দে। এই সময় কে ফোন করছে? সব তার শত্রু! বউয়ের কাছে নিজে থেকে চুমু পেতাম একটু হলে, কিন্তু সেটা কার সহ্য হলো না কে জানে! সে হাত টেনে ফোনটা নিতে গেল, রমনী আর্যর বুক থেকে উঠতে চাইল; তবে আর্য তা হতে দিল না। এক হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে ফোন নিয়ে নিজের সামনে ধরতেই ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল— “আম্মু”। আর্যর বিরক্তি যেন আকাশ ছোঁয়াল! সে কী করে ভুলে গেল, তার আর ফ্লাওয়ারের মাঝের সুন্দর মুহূর্তগুলোতে তার মা ছাড়া আর কে আসবে? বিরক্তি নিয়ে ফোন রিসিভ করে লাউড স্পিকার অন করে এক পাশে রেখে হ্যালো বলবে, তার আগেই ওপাশ থেকে শেহনাজ সরকারের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল—

– “আর্জেন্ট বাড়িতে আসবে আজকে, হ্যাঁ-না কিছুই শুনতে চাই না।”
শেহনাজ সরকারের কথা শুনে আর্য পুষ্পকেসহ নিয়ে উঠে বসল। রমণীর জায়গা হলো আর্যর কোলে; আর্য একহাতে রমণীর কোমর আঁকড়ে ধরে অন্যহাতে ফোন নিয়ে লাউডস্পিকার অফ করে দিয়ে কানে ধরে জিজ্ঞেস করল—
– “কী হয়েছে আম্মু? কোনো এমার্জেন্সি হয়েছে?”
ওপাশ থেকে শেহনাজ সরকারের কণ্ঠ শোনা গেল—
– “বাড়িতে অনুষ্ঠান আছে, তাড়াতাড়ি আসো।”
– “আমি আসব না!”
– “আসবে না মানে কী? বাড়িতে বিয়ে হবে। বাড়ির ছেলেমেয়ে না থাকলে কী ভাববে মানুষ?”
– “বিয়ে দিচ্ছো, দাও না—আমি কি বারণ করেছি? আমাকে লাগবে কেন?”
– “ঠিক আছে, তোমাকে লাগবে না। আমার মেয়েকে দিয়ে যাও।”
মা যে ‘মেয়ে’ বলতে পুষ্পকে বুঝিয়েছেন, তা বুঝতে অসুবিধা হলো না আর্যর। সে মাকে শুধরে দিয়ে বলল—

– “মেয়ে নয়, বলো ছেলের বউ! আর হ্যাঁ, আমাকে না লাগলে আমার বউকেও লাগার কথা না। স্বামী ছাড়া বউ কী করবে?”
– “আর্য, তুমি বাড়াবাড়ি করছো! চুপচাপ পুষ্পকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসবে, তাও সন্ধ্যার আগে।”
– “আসব না। আমাকে কী পাগল পেয়েছো? বউকে কাছে পেয়েও কোন দুঃখে ওই বাড়িতে যাবো, যেখানে গেলেই আমার বউকে নিয়ে টানাটানি শুরু করে?”
ছেলের কথায় ওপাশে শেহনাজ সরকার বেজায় বিরক্ত! সেভাবেই বিরক্ত কণ্ঠে বললেন—
– “যেমন কর্ম করবে, ফলও তো তেমন ভোগ করবে!”
– “আগের কর্ম বাঘে খেয়েছে, তাই তার ফলও বাঘকেই খাওয়াও! এক কথা, শেষ কথা—আমি কিংবা আমার বউ কেউ আসব না।”

– “সন্ধ্যার আগে যেন পুষ্পকে বাড়িতে দেখতে পাই আমি!”
কথাটা বলে আর্যর কথা শোনার প্রয়োজন মনে করলেন না শেহনাজ সরকার, ফোন কেটে দিলেন। এদিকে আর্য কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারল না, কানে এল ফোন কাটার শব্দ। বেজায় বিরক্ত হলো সে! বউকে নিয়ে একটু শান্তিতেও থাকতে দিচ্ছে না তার মা। সেও যাবে না ওই বাড়িতে—গেলেই বউ আবার তার হাতছাড়া হয়ে যাবে! এখনো তার ফ্লাওয়ার স্বামীভক্ত হয়েছে কিনা কে জানে? যে ভয়টা কেটেছে, তার বুকে ঘুমাচ্ছে, তার হাতে খাচ্ছে—ও বাড়িতে গিয়ে যদি আবার শাশুড়ির কাছে চলে যায়? শাশুড়ির পেছন পেছন ঘুরঘুর করে, শাশুড়ির হাতে খায়? নাহ্‌ নাহ্‌, সে এত বড় ঝুঁকি নেবে না! বউকে একেবারে তার জন্য পাগল বানাতে হবে—যেন কেউ নিতে চাইলেও বউ থাকতে না পারে, ছুটে তার কাছে চলে আসে! তারপর যাবে ওই বাড়িতে।
আর্যর ভাবনার মাঝেই পুষ্প ডেকে উঠল—

– “সরকার সাহেব!”
আর্য নিজের ভাবনা নিজের মধ্যে চেপে রেখে জবাব দিল—
– “হুম!”
– “ফুফুমণি কী বলেছেন?”
রমনীর কথা শুনে আর্য গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “কিছু না!”
হঠাৎ আর্যর এই পাল্টে যাওয়া গম্ভীর কণ্ঠে ভড়কে গেল রমণী, তবুও কোনো রকমে বলল—
– “কিন্তু আমি শুনেছি ফুফুমণি আমাদের বাড়িতে যেতে বলছেন!”
– “বললেই যেতে হবে নাকি?”
আর্যর কথা শুনে পুষ্পর মুখটা কালো মেঘে ঢেকে গেল। যাবে না কেন? ফুফু মনি ডাকছেন নিশ্চয় কোনো কারণে ডেকেছেন। রমণী এখনো আর্যর বুকেই লেপ্টে আছে; বুক থেকে মাথা না তুলেই ডাকল—একদম নরম ও সরল কণ্ঠে ডাকল—

– “সরকার সাহেব?”
রমণীর ডাকে অলক্ষ্যে সাড়া দিল—
– “হুম!”
– “চলুন না, বাড়িতে ফিরে যাই! হতেও তো পারে বাড়িতে কোনো ঝামেলা হয়েছে, তাই ফুফুমণি ডাকছেন, নাহলে তো এতদিন ডাকেননি।”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৩

সরকার বাড়ির সবাই একটু ব্যস্ত প্রতিদিনের চেয়ে। হবে নাই বা কেন? সরকার বাড়ির একমাত্র আদরের মেয়ের বিয়ের তারিখ ঠিক করতে পাত্রপক্ষের পরিবার আসছে! তাই তো পরিবারের সবাই তার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু সবাই আনন্দে আয়োজন করলেও যার বিয়ে, তার কোনো খোঁজ নেই!
নিজের রুমের বারান্দায় মনমরা হয়ে বসে আছে সিমরান। চোখ-মুখ বেশ ফুলে আছে—হয়তো সে কেঁদেছে! নাহলে চোখের পাপড়িগুলো এখনো ভেজা কেন? একটার সাথে আরেকটা লেপ্টে আছে কেন? সবকিছুর পেছনে রয়েছে গত কালকের ঘটনা…

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৫