অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২ (৩)
রুপা
মেহেদী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সরকার বাড়ির সামনের খালি জায়গায়। বড় করে স্টেজ বানানো হয়েছে। গান-বাজনা, খাবার, সাজসজ্জা—কোনো কিছুরই কমতি রাখা হয়নি। সিমরানকে স্টেজে বসানো হয়েছে। তার পরনে জমকালো কাজ করা বটল গ্রিন গর্জিয়াস গাউন, যেখানে খুব সুন্দর করে চুমকি ও সুতা দিয়ে কাজ করা হয়েছে। মানানসই মেকআপের সাথে মানানসই গহনা দিয়ে সাজ পূরণ করা হয়েছে। দেখতে মাশাআল্লাহ! তবে এত কিছুর পরেও সিমরানের ঠোঁটে হাসি নেই। হাসি থাকলে বোধহয় সৌন্দর্য আরও বেশি বেড়ে যেত।
মেহেদী আর্টিস্ট এসে সিমরানকে মেহেদী পরানো শুরু করে। মেহেদী পরানো শেষ করে যেই না জিজ্ঞেস করে, ‘কি নাম লিখবে?’ তখন সিমরান উদাসীনভাবে বলে—
– যার নাম ভাগ্যে লেখা নেই, তার নাম হাতে লিখে কী করব? হাতে নাম লিখলেই কি মানুষটাকে আমার করে পাবো?
বউয়ের মুখে এমন কথা শুনে মেহেদী আর্টিস্ট যেন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে ভুলে যান। ‘ভাগ্যে লেখা নেই মানে? এই বিয়েতে কি রাজি নয়?’—প্রশ্নটা মনে আসলেও তিনি আর করেন না, কারণ এটা তাদের প্রফেশনের সাথে যায় না। সিমরান এক টুকরো বিষাদের হাসি হেসে বলল—
– প্রয়োজন নেই কোনো নাম লেখার!
মেহেদী আর্টিস্ট আর কিছু লিখে দেননি। এদিকে তাদের পেছনে থাকা ইভান কথাগুলো শুনে অবাক হয়। তার মানে মেয়েটা বিয়েতে খুশি নয়, তার থেকে মুভ অন করতে পারছে না! এটা ভেবে ইভান নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে যায়। সে নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে, অথচ তার থেকেও বেশি আরও একজন চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর। ইভান অগোচরে সেখান থেকে সরে গেল।
অন্যদিকে, সারা এসব থেকে দূরে থাকতে চাইছে। সে পারলে এই বিয়েবাড়ি থেকে এক্ষুনি চলে যেত, কিন্তু পুষ্পর জন্য পারছে না। তবে বিয়েবাড়িতে থেকেও আনন্দের লেশমাত্র নেই তার মাঝে। অথচ তার পেছনে লোক লাগিয়ে তার সব খবরাখবর নিচ্ছে স্নিগ্ধ। হঠাৎ সেখানে শিফা আসে—স্নিগ্ধর চাচাতো বোন। শিফা জোর করে সারাকে মেহেদী স্টেজে নিয়ে যায়। সবাই মেহেদী দিচ্ছে, তাহলে সে কেন দেবে না? সারা অনেক বারণ করলেও সে শোনে না। আসলে এই বাড়িতে এসে সারা আর শিফার মধ্যে বেশ সুন্দর একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে; এটা শিফারই ক্রেডিট। চঞ্চল সারা বিয়েবাড়িতে এসে মন খারাপের মাঝে যখন চঞ্চলতা হারিয়ে ফেলছিল, তখন শিফা সারার মতোই অনর্গল বকবক করে তার সাথে বন্ধুত্ব করে নিয়েছে—যে রকম সারা কলেজে পুষ্পর সাথে করত।
মেহেদী আর্টিস্ট কোনো নাম লিখতে হবে নাকি জিজ্ঞেস করলে সারা অন্যমনস্ক থাকায় খেয়াল করে না। এই সুযোগে শিফা কিছু একটা বলে, আর মেহেদী আর্টিস্ট সেটাই লিখে দেয়। এদিকে সারা মেহেদী দেওয়া শেষে আর কোনো কিছু না বলেই বাড়িতে ঢুকে যায়। এই মুহূর্তে তার দমবন্ধ লাগছে! একসময় যে মানুষটিকে ভালোবেসে সে আগে পিছে ঘুরে বেড়াত, যার সাথে বিয়ের স্বপ্ন দেখেছিল, আজকে তার বিয়ে ঠিকই হচ্ছে—কিন্তু তার সাথে নয়, সে এখানে অতিথি হয়ে এসেছে! সে চাইছে কষ্ট না পেতে, ভুলে যেতে চাইছে; কিন্তু চাইলেই কি আর সব ভোলা যায়? পারছে না তো! উল্টো শুরু থেকে সবকিছু তার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ভেসে উঠছে।
সারা সিমরানের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে বসে কাঁদতে লাগল। নিজেকে শক্ত রাখার অনেক চেষ্টা করেও পারছে না। সে এতো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কেন? সে তো লোকটাকে ঘৃণা করতে চায়। ওই লোকটার জন্য সে তার মাকে হারিয়েছে, সে ঘৃণা করতে চায়—তাহলে কেন পারছে না ঘৃণা করতে? আরও কষ্ট কেন হচ্ছে ওই লোকটা অন্য কাউকে বিয়ে করছে ভেবে? কেন সহ্য হচ্ছে না সিমরান আপুকে বিয়ের সাজে দেখে? সিমরান আপু ওই লোকটার জন্য বউ সাজবে—কেন সে এটা মেনে নিতে পারছে না?
– “আই হেট ইউ, মিস্টার স্নিগ্ধ সায়ান আই হেট ইউ। বাট স্টিল আই লাভ ইউ! সহ্য হচ্ছে না আপনার বিয়ে অন্য কারও সাথে, দমবন্ধ হয়ে আসছে।”
কথাগুলো বলতে বলতে এবার সারা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তার এই কষ্ট কবে শেষ হবে? আদৌ কি শেষ হবে?
শাওয়ারের নিচে পুষ্পকে দাঁড়িয়ে রেখেছে আর্য। পুষ্প পানির নিচে ছটফট করছে, ভিজে জুতুবুতু হয়ে গেছে, চোখ খোলা রাখতে পারছে না পানির কারণে। পুষ্পর সারা শরীরে অস্বাভাবিক উত্তাপ ছড়িয়ে আছে, যেন ভেতরে আগুন জ্বলছে। অথচ পুষ্পর হুঁশ নেই! এই অবস্থায় বউয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ হলে যদি বউয়ের কিছু মনে না থাকে, তখন তো আর্যর জীবনটাই লস হয়ে যাবে—প্রথমবারের মতো বউকে আদর করে যদি বউয়ের কাছে স্মরণীয় করে না রাখতে পারে? এদিকে পুষ্প বারবার বলেই যাচ্ছে—
– “আমি আপনাকে খাবো!”
– “ফ্লাওয়ার, তুমি তোমার হুঁশে নেই! এখন আমাকে খেলে তোমার কিছুই মনে থাকবে না! যখন হুঁশ আসবে, তখন না হয় খেও!”
– “নাহ্, আমি আপনাকে এক্ষুনি খাবো!”
আর্য অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে রেখেছে। কিন্তু পুষ্পর কথায় বারবার নিজের কন্ট্রোল হারাতে চাইছে সে। পুষ্পর শাড়ি পুরোটা ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে, নারী দেহের প্রতিটা অঙ্গের গঠন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আর্য সেদিকে তাকিয়ে শুধু ঢোক গিলছে। এই মুহূর্তে সে কিছু করতে ইচ্ছুক নয়, কারণ যদি সকাল হতেই বউ সবকিছু ভুলে যায়। কিন্তু নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছে তার। চোখ দুটো অস্বাভাবিকভাবে লাল হয়ে উঠেছে, কপালের রগ নীল হয়ে ফুলে উঠেছে। নিজের হাতের মুঠি শক্ত করে পাকিয়ে রেখেছে, যাতে হাতের পেশি ফুলে উঠেছে—যেন টি-শার্টের হাতা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে। নিজের চোখের সামনে নিজের প্রিয় নারীর এমন আকর্ষণীয় শরীর উন্মুক্ত হয়ে থাকলে কোন পুরুষ নিজেকে সামলাতে পারবে?
আর্যর সংযমের বাঁধ ভাঙার জন্য পুষ্প আরও একধাপ এগিয়ে গেল, বুক থেকে শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে দিল। মুহূর্তেই আর্যর সামনে উন্মুক্ত হলো নারী দেহের আকর্ষণীয় বক্ষস্থল। এবার আর্য যেন পুষ্পর মতোই হুঁশ হারাতে চাইল। আর্য এক টানে পুষ্পকে শাওয়ারের নিচ থেকে নিজের বুকে আছড়ে ফেলল। আর্যর শরীরের সাথে লেপ্টে রইল পুষ্প, দুজনের মাঝে এক সুতো পরিমাণ দূরত্বও রইল না। পুষ্প কিছু বলে না, সে এবার ঠান্ডায় কুপোকাত। ভেতরে আগুন জ্বললেও অনেকক্ষণ পানির নিচে থাকার কারণে উত্তাপ কিছুটা কমে যায় এবং শরীর নিজের প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে, ঠান্ডা লাগতে শুরু করে।
পুষ্প দুই হাতে আর্যর গলা জড়িয়ে ধরতে চাইল, আর্য সেটা হতে দেয় না। সে নিজের ওপর থেকে পুরো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। সে এবার দুই হাতের আজলায় রমনীর ভেজা মুখটা তুলে নিল, ফিসফিস করে বলল—
– “আমি খাবো নাকি আমাকে খাবে—চয়েস ইজ ইউর, ফ্লাওয়ার? বলো, খাবে নাকি খাবো?”
আর্যর কথা যেন পুষ্পর কর্ণগোচর হলো না। সে তো স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর্যর মুখের দিকে—কী রকম সম্মোহিত চোখে তাকিয়ে আছে আর্যর ঠোঁটের দিকে! রমনীর হঠাৎ কী হলো কে জানে, জীবনের প্রথম বারের মতো আকস্মিক এক ঘটনা ঘটাল। দুই পায়ের পাতায় ভর দিয়ে একটু উঁচু হয়ে আর্যর পুরুষালি সিগারেটে পোড়া কসকসে ঠোঁট দুটিতে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াতে চাইল। তবে আর্যর চেয়ে একটু খাটো হওয়ায় পা উঁচু করেও আর্যর ঠোঁট বরাবর পৌঁছাতে পারে না রমনী, ফলস্বরূপ রমনীর অধর ছুঁল আর্যর চিবুকে। এতে রমনীর চেহারায় বেশ অসন্তোষের দেখা মিলল, সে আর্যর দিকে ঠোঁট উল্টে তাকাল। আর্য সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসল।
কোনো সতর্কতা ছাড়াই পুষ্পকে ধরে নিজের কোলে তুলে নিল আর্য। দুই হাতে রমনীর কোমর জড়িয়ে ধরে। পুষ্প দুই পা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল আর্যর কোমর, হাত দুটো আপনাআপনি চলে গেল আর্যর গলায়। আর্য আর কালবিলম্ব না করে রমনীর ওষ্ঠযুগল দখল করল নিজের ওষ্ঠাধর দ্বারা, গভীরভাবে শুষণ করতে লাগল রমনীর অধরসুধা। এদিকে এসবে আনাড়ি পুষ্প আর্যর সাথে পেরে ওঠে না। না পেরে একটু বিরক্ত হয়ে আর্যর ঠোঁটে নিজের দাঁত দ্বারা দংশন করে, তবুও আর্য থামে না! সে যেন হুঁশজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে, ইতিমধ্যে রমনীর ঠোঁটে এতটাই মত্ত হলো যে ভুলেই বসেছে সামনের রমনী নিজের হুঁশে নেই। এদিকে এবার আর্য নিজেও রমনীর অধরে নিজের দাঁত দ্বারা দংশন ঘটায়। রমনী এবার ছটফট করতে থাকে ছাড়া পাওয়ার জন্য, আর্যর কোল থেকে নামতে চায়; কিন্তু আর্য তা হতে দেয় না। সে পুষ্পর কোমরে থাকা হাত দুটো আরও চেপে ধরে নিজের সাথে আরও মিশিয়ে নেয়।
অনেকক্ষণ পরে আর্য পুষ্পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে লাগল। পুষ্প নিজেও বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে, আর একটু হলে মনে হয় দমবন্ধ হয়ে যেত! ঠোঁট দুটো জ্বলছে ভীষণ। রমনী টলমলে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকাল আর্যর দিকে। আর্য রমনীর অশ্রুসিক্ত চোখ দেখে কিছুটা থমকায়। এর মধ্যে পুষ্প ঠোঁট উল্টে অভিমানী কণ্ঠে বলল—
– “আমি বলেছিলাম, আমি আপনাকে খাবো; কিন্তু এখন আপনি আমাকে খাচ্ছেন?”
রমনীর ঠোঁট উল্টানো দেখে আর্য আবারও ঢোক গিলল। বউ যদি এমন আদুরে হয়, সে না খেয়ে থাকবে কী করে? তার ওপর আবার কী রকম ঠোঁট উল্টাচ্ছে দেখো! নিজে সিডিউস করছে, আবার জিজ্ঞেস করছে খাচ্ছে কেন? তবে মুখে বলল—
– “তুমি খাও কিংবা আমি, টেস্ট তো একই পাবে, ফ্লাওয়ার!”
– “নাহ্, আমারটা আমি খাবো!”
– “আচ্ছা!”
আর্যর ‘আচ্ছা’ বলতে দেরি হলেও আর্যর ঠোঁটে দাঁত বসাতে দেরি হলো না পুষ্পর। আর্য কিছু বলল না, সে এমনিতেই নিজের মধ্যে নেই, তার ওপর পুষ্পর কাণ্ডে নিজের হুঁশ আরও হারিয়ে বসেছে। রমনী দাঁত বসিয়ে আবার আদুরে চুমু দিতে লাগল, আর্যর ঠোঁটে আর্যও সব ভুলে ডুবল তার ফ্লাওয়ারের অধরসুধা পান করায়। সে আর দেরি করল না, পুষ্পকে সেভাবেই কোলে নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গেল।
পুষ্পকে নিয়ে ঠাঁই নিল নরম তোশকের বিছানায়। পুষ্পর পরনে এই মুহূর্তে শুধু পেটিকোট আর ব্লাউজ ছাড়া কিছুই নেই, বারোহাত লম্বা শাড়ির স্থান হয়েছে ওয়াশরুমের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে।
আর্য পুষ্পকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজের পুরো শরীরের ভার ছেড়ে দিল রমনীর ছোট নাজুক শরীরের ওপর। এদিকে আর্যর দানবীয় শরীরের ভার রমনীর নাজুক দেহ নিতে পারলো না ফলস্বরূপ হাঁসফাঁস করতে লাগল পুষ্প। সে কিছু বলবে, তার আগেই আর্য নিজের ওষ্ঠাধর দ্বারা আকড়ে ধরল রমনীর ওষ্ঠযুগল। অনেক্ষণ অধরের মধু শুষণ করে পুষ্পর ঠোঁট ছেড়ে দেয় আর্য। মুখ তুলে পুষ্পর মুখের দিকে কী রকম কামুক দৃষ্টিতে তাকাল! রমনী আর্যর সেই দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলাতে পারল না, চোখ নামিয়ে নিল। সে একবার চোখ বন্ধ করছে তো একবার খুলছে। আর্য এই মুহূর্তে নিজের মধ্যে নেই, সে এই মুহূর্তে এক ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। তার আজ এই মুহূর্তে তার ফ্লাওয়ারকে চাই—সম্পূর্ণ নিজের করে, গভীরভাবে চাই। আর্য শেষবারের মতো ঘোর লাগা কণ্ঠে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল—
– “আমি কে, জান?”
আর্যর প্রশ্নে রমনী বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে, জড়তাহীন কণ্ঠে, মায়াবী হেসে সরল কণ্ঠে উত্তর দিল—
– “আমার সরকার সাহেব!”
রমনীর উত্তর শুনে আর্যর ঠোঁটে ফুটে উঠল মায়াবী এক হাসি। দুজনের মাঝে আর কোনো কথা হলো না। আর্য একে একে রমনীর শরীরের শেষ বস্ত্রও হরণ করে নিল, এক টানে নিজের টি-শার্ট খুলে ফেলল। দুজনের বস্ত্র জায়গা পেল ঘরের মেঝেতে। কিছুক্ষণের মধ্যে শোনা গেল নারী কণ্ঠে আর্তচিৎকার ও মৃদু কান্নার শব্দ, বিপরীতে এক গম্ভীর আদুরে কণ্ঠে ভেসে এল—
– “এই তো জান, এক্ষুনি সব ঠিক হয়ে যাবে, শুধু একটু কষ্ট হবে! বেশি কষ্ট হলে ইউ ক্যান বাইট মাই শোল্ডার। বি আ মাই গুড গার্ল, ওকে?”
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২
ঘরে আর কোনো শব্দ-আদানপ্রদান শোনা গেল না, ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল। সেই গভীর নিস্তব্ধতার মাঝে শোনা গেল মৃদু গোঙানির শব্দ, দুজন নরনারীর শ্বাসপ্রশ্বাসের অবিচল ছন্দ। ঘড়ির কাঁটা কখন বারোটার ঘর পেরিয়ে গেছে, খবর নেই দুজনের কারও! বাইরে মেহেদী অনুষ্ঠানের নাচে-গানে জমজমাট উৎসব যেন রুমের ভেতরে কোনো প্রভাব ফেলতে পারল না। এক যুগল যেন ব্যস্ত নিজেদের এক মায়াবী রূপকথার জগতে।
