অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৩৬
ফাহিমা ইসলাম
নতুন দিবাকরের সূত্রপাত ঘটেছে। নীলিমার বুকে মেঘেগুচ্ছরা, হাওয়াই মিঠাইয়ের মত দলবদ্ধ হয়ে উড়ে চলেছে দূর দেশে। পক্ষীরাজদের কিচিরমিচিরে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠেছে। সূর্যের আলো ক্ষীণ ভাবে পরছে ধরণীর বুকে। দূর্বল দেহাবশেষটা নেতিয়ে আছে, পাশেই রৌদ্রিক বসে আছে। লজ্জাশ তূর্ণা চোখ তুলে তাকাতে পারছে না, অথচ রৌদ্রিক নির্লিপ্ত! যেনো কোনো লজ্জা কিংবা কোনো অনুভূতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আর না স্পর্শ করার দুঃসাহস করেছে। রোদেলা তূর্ণার গ্রীবাদেশ শক্ত করে আঁকড়ে ধরে সেখানটায় নিশ্চিতে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। তূর্ণাও নেত্রপল্লব খিঁচিয়ে বদ্ধ করে রেখেছে। রৌদ্রিক নিত্যদিনের মতোই অতি শান্ত কণ্ঠে তূর্ণার দিকে মেডিসিন বাড়িয়ে দিয়ে বলে-
“ খেয়ে নাও, খাবার খাওয়ার পর জ্বরের খেয়ে নিবে। রাতে আমার কিছু ফ্রেন্ড আসবে। রেডি থেকো।”
তূর্ণার লজ্জায় হাত বাড়িয়ে মেডিসিনটুকু নিতে পারছো না। দূর্বল শরীরটা যেনো আরও দূর্বল হয়ে পরেছে। রৌদ্রিক তূর্ণার লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে থাকা লাজুক মুখশ্রী পানে চেয়ে বলে-
“ আমার সান্নিধ্যে আসতে চাও, অথচ একবার সান্নিধ্যে এসেই তাকাতে পারছো না। এরজন্যই বলেছিলাম মেয়ে, দূরত্বই ঠিক আছে।”
তূর্ণা লজ্জায় কোনো রকমে রৌদ্রিকের হাত থেকে পেনকিলার নিয়ে সেটা পানি;দিয়ে গিলে নিয়ে আবারও নিজেকে ঢেকে নিলো। রৌদ্রিক সেটা শব্দ করে হেসে ফেললো, যার ফলে তার গালে বরা টোলটা আবার দৃশ্যমান হলো। কিন্তু তূর্ণা সেই মনোমুগ্ধকর হাসিটা দেখতে পেলো না। বরাবরের মতই মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকতে পারলো না; রৌদ্রিক এগিয়ে এসে নিদ্রামগ্ন রোদেলার ললাটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে, একই ভাবে তূর্ণার ললাটেও ঠোঁট ছুঁইয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। রৌদ্রিক চলে যাওয়ায় প্রায় খানিক মিনিট পর তূর্ণা মুখটা বের করে সারা রুমে চোখ বুলালো। রৌদ্রিকে না দেখে বড় একটা নিশ্বাস ফেললো; রোদেলারও ঘুম হালকা হয়ে হয়ে এসেছে। কিছুসময় আড়মোড়া ভেঙে, ঘুম জড়ানো নেত্রপল্লব মেলে তূর্ণার দিকে তাকায়। তার ছোট্ট হাত তূর্ণার গালে রেখে অভিমানী স্বরে বলে-
“ তোমলা আমায় নাওনি কেনু? একাই মতা করেতো পাপা আল তুনি।”
রোদেলার কথা শুনে না চাইতেও ভীষণ লজ্জা লাগলো। মজা! ভাবতেই মনে মনে ছিঃ বলে উঠলো। রোদেলা এবার অভিমান করে সড়ে আসতে চাইলে, তূর্ণা রোদেলাকে নিজের মিশিয়ে নিয়ে কাতুকতু দিয়ে বলে-
“ পুতুলকে ছাড়া মা কি একা মজা করতে পারে? তোমার পাপাকে ধর সে কেনো তোমায় নেয়নি।”
“ তাহুলে কি কলেতো? আনি কত ডাকতাম। কেই তুনোনি তোমলা আমাল কতা।” মুখ ফুলিয়ে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে।
“ আর হবে না পুতুল। তোমার পাপা খুব পঁচা, আমাকে কাঁদিয়েছে খুব!”
মুখ ফঁসকে বলতেই জ্বীভে কামড় বসায়। নিজের বোকামিতে নিজেকেই থাপ্প’ড়াতে ইচ্ছে করছে। তূর্ণার কথা শুনে রোদেলা পিট পিট চোখে তাকিয়ে বলে-
“ কি করেতে পাপা? কেনু কেঁদেতো?”
তূর্ণা কোনো রকমে উঠে বসে, রোদেলাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে বলে-
“ কিছু না পুতুল, চল ফ্রেশ হই।”
বলেই রোদেলাকে কোলে নিয়ে উঠে পরলো। ছোট্ট শরীরটা ব্যথায় টনটন হয়ে আছে। কোনো রকমে রোদেলাকে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
সন্ধ্যা আজ ধীরে ধীরে অবতরণ করছে নগরীর বুকে। পশ্চিমাকাশে অস্তমান দিবাকরের রক্তিম আভা মিশে গেছে মেঘস্তূপের গাঢ় নীলচে আবরণে। বাতাসে কেমন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা; আয়নার সম্মুখে নীরবে বসে আছে রূপা। গাঢ় মদির লাল রঙের শাড়িটা তার শরীরজুড়ে এমনভাবে জড়িয়ে আছে, যেন সন্ধ্যাতারার আলো রক্তিম আবরণ হয়ে নেমে এসেছে তার অবয়বে। পিঠ সমান কেশরাশি অর্ধেক খোলা, অর্ধেক আলতো খোঁপায় আবদ্ধ। কপালের ক্ষুদ্র কালো টিপটা তার শুভ্র মুখাবয়বের মাঝে এক রহস্যময় সৌন্দর্যের জন্ম দিয়েছে। আঁখিদ্বয়ে গাঢ় কাজলের রেখা, অথচ সেই চোখে কোনো উচ্ছ্বাস নেই, বরং আছে অব্যক্ত অভিমান আর অভ্যস্ত নীরবতার ছাপ। হঠাৎ দরজায় মৃদু শব্দ হলো। রূপা আয়নায় চোখ তুলতেই দেখতে পেলো,তূর্য।
শুভ্র পাঞ্জাবির উপর কালো কোট, গম্ভীর মুখাবয়ব, আর সেই চিরচেনা স্থির দৃষ্টি। মানুষটা যেন অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করতে জানে না। তূর্য ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করলো। কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রূপার দিকে। অথচ মুখে কোনো প্রশংসা নেই, কোনো বিস্ময় নেই। শুধু এক গভীর নীরবতা। তূর্য মৃদু গম্ভীর স্বরে বললো-
“ দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
রূপা আর কথা না বাড়িয়ে উঠে পরলো। এই মানুষটার সঙ্গে তার বিবাহিত সম্পর্ক আছে,কাগজে, সমাজে, বাস্তবে। অথচ তাদের মাঝখানে এখনো অদৃশ্য দূরত্বের এক বিশাল প্রাচীর দাঁড়িয়ে আছে। না আছে অভ্যাসগত ভালোবাসা, না আছে স্বাভাবিক দাম্পত্যের সহজ উষ্ণতা। আছে শুধু নীরব সহাবস্থান। রূপা উঠে দাঁড়াতেই আচমকা তার শাড়ির আঁচল চেয়ারের কোণায় আটকে গেলো। ভারসাম্য হারিয়ে সামনের দিকে হেলে পড়ার পূর্বেই তূর্যের শক্ত হাত তার বাহু আঁকড়ে ধরলো।মুহূর্তেই রূপার নিঃশ্বাস আঁটকে গেলো। এত কাছ থেকে মানুষটার মুখ সে খুব কমই দেখেছে। তূর্যের ধূসর চোখদুটো গভীর, স্থির তবুও আজ সেখানে ক্ষীণ এক অস্থিরতা লুকিয়ে আছে।
“ সাবধানে।”
একটি মাত্র শব্দ উচ্চারণ করলো। রূপা কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। তারপর অত্যন্ত ধীর কণ্ঠে বললো-
“ আপনি সবসময় এত কম কথা বলেন কেনো?”
তূর্য কয়েক সেকেন্ড নীরব রইলো। তারপর আলতোভাবে তার শাড়ির আটকে থাকা আঁচল ছাড়িয়ে দিয়ে নিচু স্বরে বললো-
“ বেশি কথা বলে কোনো লাভ আছে?”
রূপা বিরক্ত হলো। লোকটা তার দিকে ঠিক মত তাকিয়েছে কি? না তার দিন দিন মনে হচ্ছে, সে আস্ত একটা রোবটের সঙ্গে সংসার করছে। তূর্য এরপর আর কিছু বললো না। শুধু দরজার দিকে অগ্রসর হয়ে থেমে গেলো। তারপর পিছন না ফিরেই বললো-
“ চলো।”
রূপা আর কথা না বাড়িয়ে তূর্যের সঙ্গে পা বাড়ালো। জানা নেই কোথায় যাচ্ছে, এই প্রথম তূর্যের সঙ্গে কোথাও বের হচ্ছে। তাই না চাইতেও তার অন্তঃকরণে অদ্ভুত ভাবে ধুকপুক করছে! শত হোক এই গম্ভীর পুরুষটাই তার স্বামী, স্ত্রীর কোনো অধিকার দেয়নি। অথচ ডিভোর্স দিবে না এই লোক! প্রচন্ড রকমে ত্যাড়া এই লোক।
অল্পক্ষণ পূর্বেই মাগরিবের আজান স্তব্ধ হয়েছে।গোধূলির শেষ রক্তিম আভাটুকু ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গিয়ে চারদিক জুড়ে নেমে এসেছে নীলচে ধূসর এক আবছায়া। উপরতলার প্রশস্ত কক্ষের বিশাল আয়নার সম্মুখে নিস্তব্ধ হয়ে বসে রয়েছে তূর্ণা।গাঢ় জামরঙা শাড়ির আঁচল নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়েছে মেঝেতে।চুলের অর্ধেকাংশ খোলা,অবশিষ্টাংশ মুক্তোর ক্ষুদ্র পিনে বাঁধা।চোখে কাজলের গাঢ় রেখা থাকা সত্ত্বেও দৃষ্টিতে লুকিয়ে রয়েছে এক অদৃশ্য সংশয়।রৌদ্রিক বের হওয়ার তৈরি হয়ে থাকতে বলেছিল৷ তাই সে তৈরি হয়েছে, তবে জানা নেই কিসের জন্য তৈরি হতে বলেছে। নিজের সঙ্গে মিলিয়ে রোদেলাকেও একই রকম জামরঙা গোল ফ্রক পরিয়ে দিয়েছে,ফর্সা শরীরের বাচ্চাটাকে জীবন্ত পুতুল লাগছে! তূর্ণা এমনি এমনি রোদেলাকে পুতুল ডাকে না৷ তার মেয়েটা সত্যি একটা জীবন্ত পুতুল! রোদেলা চুলগুলো সুন্দর করে বেঁধে দিয়ে, সারামুখে চুমুতে ভড়িয়ে দিয়ে বলে-
“ আমার মা’কে আস্ত একটা পুতুল লাগছে৷ ইসস! এত মিষ্টি কেনো আমার পুতুলটা? ইচ্ছে করে এখনিই বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখি। ”
তূর্ণার কথা শুনে রোদেলার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। হেসে উঠলো খিলখিল করে! তারপর একই ভাবে রোদেলাও তূর্ণাকে আদর করে দিয়ে বলে-
“ তুনিও তো কত তুন্দল মা! একদত পুতু পুতু!”
নিমিষেই দরজার বাহিরে কয়েকজনের আগমনী শব্দ শোনা গেল।তূর্ণার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেন আরও প্রবল হয়ে উঠলো।কয়েক মুহূর্ত বাদেই পরিচারিকার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো-
“ বড় বউ,অতিথিরা চলে এসেছে। রৌদ্রিক বানা নিচে ডাকছে।”
রোদেলাকে কোলে নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো বাহিরে। বুকটা ধুকপুক করছে তার! রোদেলার হাস্যজ্বল মুখশ্রীটা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। সে খুবই আগ্রহী কে এসেছে দেখার জন্য। নিচতলার বিশাল হলরুম ইতোমধ্যেই আলো,হাসি আর কথোপকথনের শব্দে মুখরিত।রৌদ্রিকের বন্ধুমহল একে একে জড়ো হয়েছে সেখানে।
তূর্ণা অতি সাবধানে নিচে নামতেই, অপরিচিত কতগুলো মুখশ্রী দেখতে পেলো।যারা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে ব্যস্ত! বেশ অনেক কয়েকজন রয়েছে। তূর্ণাকে দেখা মাত্রই রৌদ্রিক এগিয়ে এলো৷ রোদেলা টপ করে পাপার কোলে চলে গেলো। তূর্ণাকে দেখা মাত্রই একজন মেয়ে এগিয়ে এসে ঝাপটে ধরলো তাকে। আকস্মিক ভাবে এইভাবে কিছুটা ঘাবড়ালো সে!
“ ওয়াও! ভাবি মাশাল্লাহ! রৌদ্রিক তুই তো জিতেছিস।”
রৌদ্রিক কিছু বললো না, মৃদু হাসলো শুধু। মেয়েটা তূর্ণাকে ধরে তাদের বসালো৷ এইদিকে তারদিকে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রূপা! তূর্ণা চোখ তুলে তাকাতেই, নিজের সামনে রপাকে দেখে আতঙ্কে উঠলো। রক্ত হিম হয়ে এলো তূর্ণার।আঙুলগুলো শীতল হয়ে উঠলো মুহূর্তেই।অতীতের নির্মম স্মৃতিগুলো বিষাক্ত সর্পের ন্যায় কুণ্ডলী পাকিয়ে জেগে উঠলো মস্তিষ্কে।অন্ধকার রুমে আটকে রাখা,অকারণ অপমান,তাচ্ছিল্যের হাসি,আর প্রতিনিয়ত শুনিয়ে দেওয়া সেই নিষ্ঠুর বাক্যগুলো এখনো কানে বাজে তার। শ্বাস ভারী হয়ে এলো তূর্ণার।ঠিক তখনই দরজার ওপাশে ভেসে এলো এক পরিচিত গম্ভীর পদধ্বনি। রূপা কল্পনাও করেনি তূর্য যে রৌদ্রিকের বন্ধু হতে পারে। এখানে আসার পর সে নিজেই একই ভাবে বিস্মিত হয়েছে। রৌদ্রিক তূর্ণার আতঙ্কিত মুখশ্রীটা দেখে কিছু একটা আন্দাজ করে। তাই এগিয়ে এলো, তূর্ণা মুহুর্তেই উঠে রৌদ্রিকের নিকট ছিটিয়ে গেলো।রৌদ্রিক অত্যন্ত ধীরতায় তূর্ণার কাঁপতে থাকা হাত নিজের মুঠোয় আবদ্ধ করলো।রৌদ্রিক রূপার দিকে একনজর তাকিয়ে, সকলের উদ্দেশ্যে বলে-
“ মিট মাই বেটার হাফ,মিসেস রৌদ্রিক সিকদার।”
রৌদ্রিকের কথায় রূপা মাথাটা নিচু করে ফেললো৷ হয়তো কিছু একটা তাকে এই কাজটা করাতে বাধ্য করেছে৷ তূর্য শান্ত,গম্ভীর দৃষ্টিতে রূপার নিচু হওয়া মুখশ্রীটা দেখলো। তূর্ণার শরীরে বয়ে বলা কম্পন, উপলব্ধি করতে পারছে। তাই নিচু স্বরে বললো-
“ এভাবে ভীত হয়ে আছো কেনো? নরমাল হও, আমি আছি তো তোমার সঙ্গে!”
তূর্ণা উত্তর দিলো না।শুধু কাঁপা দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে।তূর্ণার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠলো।
সবার দৃষ্টি এখন তূর্ণার উপর নিবদ্ধ, সোফার একপাশে বসে থাকা রূপার ঠোঁট শক্ত হয়ে উঠলো।চোখেমুখে জমাট বাঁধলো অবিশ্বাস।যে পুরুষ একসময় তার জন্য নির্ধারিত ছিল,সে আজ অন্য এক নারীর হাত এমন সযত্নে ধরে রেখেছে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু সেটিই।রৌদ্রিক নির্বিকার ভঙ্গিতে সকলের সামনে তূর্ণাকে নিজের পাশে বসালো। বন্ধুমহল একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো।কারণ তারা জীবনে প্রথমবার দেখছে,রৌদ্রিক নামক শীতল,নিষ্ঠুর পুরুষটি কারো প্রতি এতটা যত্নশীল হতে পারে। রৌদ্রিক কোনোদিন তার অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করেনা, রৌদ্রিক কেমন সেটা তারা কম-বেশি সবাই জানে। তাই নতুন রৌদ্রিকে দেখে কিছুটা অবাক সঙ্গে খুশি হয়েছে।
অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৩৫
আর দূরে বসে থাকা রূপা অনুভব করলো বুকের ভেতর অদ্ভুত এক দহন।কারণ যাকে সে অবহেলায় ফেলে গিয়েছিল,আজ সেই মানুষটাই অন্য এক নারীর প্রতি এমন দুর্বল,এমন সুরক্ষাপ্রবণ।যা তার অহংকারকে নির্মমভাবে চূর্ণ করে দিচ্ছে। তার এত সাজ যেনো ফিকে লাগছে! তাই মাথা নিচু করে রয়েছে৷ সবাই তূর্ণাকে নিয়ে মেতে আছে।
