এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৪১
নুসরাত ফারিয়া
রাতে সকল কাজ শেষ করে, হোটেল থেকে চেক আউট করে আধার। প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে গাড়িতে উঠে তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে পড়ল ঢাকার উদ্দেশ্য। সে মূলত সিলেটে এসেছিল। ঢাকা থেকে আনুমানিক সাত-আট ঘন্টার পথ। জ্যামে আটকা না পড়লে ভোরের আগেই পৌঁছাতে পারবে। সে আগেই ঠিক করেছিল—সকালে গিয়ে মেয়েটাকে সারপ্রাইজ দিবে। কিন্তু সন্ধ্যা বেলায় অপ্রত্যাশিত কিছু দৃশ্য দেখে সে নিজের সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করেছে। তার এখন শরীর, মন দুটোই ওই বিচ্ছু মেয়েটাকে চাচ্ছে। অথচ আগে কখনো এমনটা হয়নি তার সাথে। কতবার মেয়েটাকে গভীরভাবে দেখেছে! তখন মনটা এত অস্থির হয়নি, যতটা আজ হচ্ছে। প্রেমে পড়লে বুঝি এমনই হয়, জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায়। না চাইতেও হৃদয়টা বেইমানি করে বসে।
আধার জোরে শ্বাস নিয়ে একহাতে ফোনের লক খুলে স্ক্রিনের দিকে তাকায়। যেখানে আলোর হাস্যজ্জল ছবিটা জ্বলজ্বল করছে। এই ছবিটা সে লুকিয়ে তুলেছিল। মেয়েটা বাগানে টুনা-টুনিকে নিয়ে খেলছিল আর খিলখিল করে হাসছিল। আধার একদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ফোনটা নিজের বুকের মাঝে চেপে ধরে অস্ফুটস্বরে বিরবির করল,
-“আধার খানের পুরো অস্তিত্ব জুড়ে রয়েছো তুমি, প্রতিটা নিঃশ্বাসে তোমাকে অনুভব করি। এই চারটা দিন আমার কাছে চারবছর সমান মনে হয়েছে। সে খবর কি তুমি রাখো মেয়ে? তুমি কি জানো? তোমার পঁচা স্যার, তোমাকে ঠিক কতটা চায় আর ভালোবাসে? যদি জানতে, তাহলে আমাকে এইভাবে প্রতিনিয়ত তড়পাতে না। কখনো কি ভেবেছিলাম? যাকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করি, তাকেই একসময় পাগলের মতো ভালোবাসবো? তুমি আমার অন্ধকার জীবনে এক মুঠো চাঁদের আলো হয়ে এসেছিলে। আর আজ আমি সেই আলোতেই সুখ খুঁজে পাই। তোমার মতো একটা আধপাগল মেয়েটাকে কবে এত ভালোবেসে ফেললাম বলো তো? এটার উত্তর আমার কাছেও নেই। শুধু জানি, আলো বিহীন আধার থাকতে পারবে না, কিছুতেই পারবে না।”
ভোর পাঁচটার দিকে খান বাড়ির মেইন গেট দিয়ে একটা প্রাইভেট কার প্রবেশ করল। গাড়ি থেকে আধার নেমে একহাতে ল্যাগেজ নিয়ে ভেতরে চলে গেল। কাছে ডুপ্লিকেট চাবি থাকায়, ভেতরে ঢুকতে অসুবিধা হলো না। ড্রয়িংরুম পেরিয়ে সোজা দোতলায় উঠে যায়। ব্যস্ত হাতে কোট খুলে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে দরজার সামনে এসে থামে। নক করতে গিয়ে অনুভব করল দরজা খোলা। এটা দেখে দাঁতে দাঁত পিষলো। এই মেয়েটা কখনো ভালো হবে না। সে বড় বড় পা ফেলে দরজা খুলে রুমের ভেতর প্রবেশ করতেই কপাল কুঁচকে গেল। মেয়েটা কম্ফোর্টার জড়িয়ে, পুতুল চেপে ধরে ঘুমাচ্ছে। এটা দেখে আধার ফোঁস করে তপ্ত শ্বাস ছেড়ে, দরজা বন্ধ করে একপাশে ল্যাগেজ রেখে দিল। অতঃপর কোট, শার্ট সোফার মাঝে ছুঁড়ে মা’রল। সে এই মেয়েটাকে বলেছিল—জেগে থাকতে। অথচ এখন ম’রার মতো ঘুমাচ্ছে। কোথায় স্বামীর জন্য শাড়ি পরে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে নতুন বউয়ের মতো বসে থাকবে, তা না করে মহারানী নাকে তেল দিয়ে ঘুমে ব্যস্ত! আধার একপলক ঘুমন্ত মাসুম চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে আলমারি খুলে ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
লম্বা একটা হট শাওয়ার নিয়ে এসে মাথার চুলগুলো মুছে তোয়ালে রেখে বিছানায় এল। ঘুমন্ত মেয়েটার বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরল এবং পুরো চেহারায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে, বুকে মুখ গুঁজে দিল। উমম…এখন শান্তি, শান্তি লাগছে। সাথে অশান্ত মনটাও কিছুটা শান্ত হয়েছে। পুরো রাত নির্ঘুম থাকায়, মূহুর্তেই লালচে চোখের পাতায় রাজ্যের ঘুম এসে হানা দেয়। আধার মেয়েটাকে ডিস্টার্ব করতে চায় না। তাই সে অর্ধাঙ্গিনীকে আলিঙ্গন করা অবস্থায় চোখদুটো বুজে নিল এবং একসময় ঘুমের দেশে হারিয়ে গেল।
আলোর ঘুম ভাঙল সকাল সাতটার দিকে। একটু নড়াচড়া করতে গিয়ে অনুভব করল—তার উপর ভারী কিছু একটা রয়েছে। আধোআধো চোখে তাকাতেই ভরকে গেল। লোকটা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। তারমানে লোকটা সত্যি সত্যিই চলে এসেছে? সে তো ভেবেছিল, মানুষটা এমনিই বলেছিল। কিন্তু এখন? এখন তো সশরীরে হাজির। তাও আবার তার উপরই শুয়ে আছে। আলো হাসফাস করে উঠল। সে আবারো আজ চ্যাপ্টা হয়ে গেল।
-“উমমম…জান। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি!”
স্যারের ঘুমু ঘুমু কণ্ঠস্বর শুনে আলো ফিদা হলো। তবে আপাতত শরীরের ব্যথার কাছে সেটা নিয়ে ভাবল না। সে হাসফাস করতে করতে বলল,
-“উঠুন স্যার! আমি চ্যাপ্টা হয়ে গেছি।”
আধার যেন আজ অবাধ্য হলো। সে আরো গভীরভাবে আলিঙ্গন করে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“শুধু চ্যাপ্টা কেন? ভেঙেচুরে গুড়িয়ে যাও।”
-“সাত সকালে আপনার সাথে ঝগড়া করার মুড নেই আমার। এখন আমার উপর থেকে সরুন।”
-“উঁহুম! ঘুমাব আমি।”
-“তো ঘুমান না? কে আপনাকে বাঁধা দিচ্ছে? শুধু আমাকে ছাড়ুন।”
-“কোলবালিশকে ছাড়া ভালো ঘুম হবে না।”
এহেন কথা শুনে আলোর চোখদুটো বড়বড় হয়ে গেল। সে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
-“আমাকে দেখে আপনার কোলবালিশ মনে হচ্ছে?”
আধার বুকে নাক ঘষাঘষি করে বিরবির করল,
-“ইয়েস জান! ইউ আর মাই সফট কোলবালিশ। উমম…জীবন্ত কোলবালিশ!”
আলো দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-“ওয়াশরুমে যাবো।”
-“যেতে হবে না।”
আলো হতাশ হলো। মাঝেমধ্যে এই লোকটার কি হয় কে জানে! তবে হুটহাট এমন পাগলামি তার ভালোই লাগে৷ সে আনমনে হেঁসে মানুষটাকে জড়িয়ে ধরল। আধার কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা তুলে কাছে এগিয়ে এসে কপালের মাঝে ঠোঁট ছুঁয়ে, সরে যায়। কিন্তু আলো চলে গেল না। সে সামান্য উঠে স্বামীর দিকে ঝুঁকে মাথার চুলের ভাঁজে বামহাত গলিয়ে দিয়ে শুধাল,
-“ঘুম পারিয়ে দিবো?”
আধার কিছু না বলে দু’হাতে কোমর জড়িয়ে ধরে নরম বুকের মাঝে মুখ গুঁজে রাখল। আলো মুচকি হেঁসে আলতো হাতে চুলে বিলি কেটে দিতে লাগল। কিন্তু লোকটার গরম নিঃশ্বাসের জন্য তার শরীরটা শিরশির করছে। আলো ওসবে পাত্তা না দিয়ে স্বামীর মাথার মাঝে ঠোঁট ছুঁয়ে বিরবির করল,
-“পঁচা স্যারের, পঁচা স্বভাব।”
আজ বিকেলে তিথিকে দেখতে এসেছে মির্জা বাড়ির লোকজন। মূলত আধারই ডেকেছে। শাহ্ পরিবারকে তারা না করে দিয়েছে। যেখানে মেয়ের মত নেই, সেখানে জোর করে বিয়ে দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। শুধু শুধু তিনটে জীবন নষ্ট করা। পরিবারের সকলেই ড্রয়িংরুমে উপস্থিত। তাহমিনা খান প্রথমে আপত্তি করলেও এখন মির্জা বংশের সবকিছু জেনে রাজী হয়ে গেছে। তার মেয়েটা যে বেছে বেছে খাঁটি সোনা নিজের জন্য চুজ করেছে, এটা ভাবতেও গর্বে বুক ফুলে উঠছে।
দুই পরিবার মিলে আলাপআলোচনা করে সামনের সপ্তাহে এনগেজমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিহানের লেখাপড়া শেষে এবং ও অফিসে জয়েন হওয়ার একমাস পর বিয়ে দেওয়া হবে দুজনকে। এতে কারোরই কোনো আপত্তি নেই। বরং সবাই খুশি। বিশেষ করে তিথি আর তিহান!
-“সো ম্যাডাম? ফাইনালি আপনার পরিবারের মন জয় করতে পারলাম, হুম?”
তিহানের কথা শুনে তিথি মাথা নিচু করে হাসল। ছেলেটা তিথির দু’পাশে দেয়ালের ওপর হাত রেখে বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিল। তারপর ঝুঁকে এসে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“বিনিময়ে কিছু পাবো না?”
তিথি সরু চোখে তাকিয়ে বলে,
-“এই পুরো আস্ত আমিটাকেই তো পাচ্ছো, সেখানে আবার তোমার কি চাই?”
-“তোমাকে নিজের করে পেতে এখনো বহু দেরি আছে।”
-“তো?”
-“তো….এখন একটা কিস চাই।”
তিথির দুগালে রক্তিম আভা ফুটে উঠল। সে লজ্জায় এদিকওদিক তাকাতে তাকাতে বলল,
-“চট্টগ্রাম থেকে এখানে আসার সময় কিস করেছিলে। তাহলে এখন আবার কেন, হুহ্?”
তিহান রমণীর লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটের দিকে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,
-“এখন চলে যাবো, তাই।”
তিথি চোখ বুজে দু’হাতে পরণের শাড়ি খামচে ধরল। আর তিহান হারিয়ে গেল তার প্রেয়সীর কোমল ঠোঁটের মাঝে।
ওইদিকে আলো ননদের রুমের দরজা খুলে কিছু বলতে যাবে, তখনই সামনের দৃশ্য দেখে কথা গলায় আঁটকে গেল। বেকুব মেয়েটা চোখ বড় বড় করে সামনের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তখনই একজোড়া হাত এসে তার চোখ চেপে ধরে ওখান থেকে নিয়ে গেল।
-“কোন শালারে এইভাবে চোখ ধরেছে?”
-“শালা নয়, তোমার স্বামী।”
আলোর ছটফটানি বন্ধ হয়ে যায়। চোখের ওপর থেকে হাত সরাতেই সে কয়েকবার পল্লব ঝাপটিয়ে সামনে তাকায়। হালকা ঝাপসা ঝাপসা দেখছে। সে দু’হাতে চোখ কচলিয়ে বিরক্তিকর কণ্ঠে বলল,
-“কি সমস্যা আপনার?”
আধার প্যান্টের পকেটে দু’হাত গুঁজে এক ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“ওইভাবে হা করে কি দেখছিলে তখন?”
-“ক…কই? কিছু না তো।”
-“একদম মিথ্যে বলবে না। অন্যের রোমাঞ্চ দেখতে লজ্জা করে না?”
-“আরে ধুর বাল! আমি ইচ্ছে করে দেখেছি নাকি?”
আধার কটমট করে তাকায়।
-“ভাষা ঠিক করো বেয়াদব!”
-“শুরু থেকে আমার ভাষা এমনই ছিল স্যার।”
-“তুমি কি আমার সাথে ঝগড়া করতে চাচ্ছো?”
আলো হেঁসে মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“রাইট স্যার। আপনার সাথে বহু দিন ধরে ঠিকমতো ঝগড়া করা হয়নি। আমার তো মুখ নিসপিস করছে ঝগড়া করার জন্য।”
-“আমারো মুখ নিসপিস করছে।”
-“তাহলে আর কি? চলুন নিজের মুখের ইচ্ছেটাকে পূরণ করা যাক। কি বলেন?”
আধার বাঁকা হেঁসে ধীর পায়ে এগিয়ে আসতে আসতে হিসহিসিয়ে বলল,
-“ওকে ডান।”
আলো লম্বা শ্বাস নিয়ে ঝগড়া করার জন্য মুখ খুললো। কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। বরং তার ঠোঁট জোড়া লোকটার দখলে। আলো আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে রইল। সে কি ভেবেছিল, আর এই লোকটা কি করছে?
-“আ…আপনি! আপনি আমার দামী লিপস্টিক খেয়ে ফেলেছেন। এখন হাজার টাকার নোট বের করুন।”
অনেকটা সময় পর মেয়েটার ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দেয় আধার। তখন আলো জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে নিজের ফুলে ওঠা ঠোঁটে হাত ছোঁয়ায়। এবং উপরোক্ত বাক্যগুলো বলে ওঠে।
আধার রুমাল বের করে নিজের ঠোঁট মুছতে মুছতে চোখমুখ কুঁচকে বলল,
-“লিপস্টিক এত তিতা কেন? ইয়াক! নিশ্চয়ই কোনো সস্তার দোকান থেকে নিয়েছো।”
আলো ধরা পড়েও দাঁত কেলিয়ে বলল,
-“একদম ঠিক হয়েছে। আপনি যেমন তিতা করলার রস, এখন খান বউয়ের লিপস্টিকের তিতা রঙ!”
আধার চলে যাওয়ার সময় দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
-“যদি পেট খারাপ হয়, তাহলে আপনার কপালে ভয়ানক শাস্তি রয়েছে, মিসেস খান।”
পিছন থেকে আলো চিল্লিয়ে উঠল,
-“কেন? কেন? আমি কি বলেছিলাম ঝগড়ার বদলে চুমু খেতে? আপনিই তো নিজ থেকে তেড়ে এলেন। এখন সব দোষ আমার, তাই না?”
আধার ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁতে দাঁত পিষলো,
-“হ্যাঁ, সব দোষ তোমারই। এই বেয়াদব তুমিটার জন্যই আধার খান এখন চুমুখোর হয়েছে। ডিজগাস্টিং!”
একটু থেমে মনে মনে আওরাল,
-“এখন শুধু কন্ট্রোললেস হওয়া বাকী।”
অতিথিরা সন্ধ্যার সময় বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছে। জগতের বুকে রাত্রির আধারের ছায়া নামার সাথে সাথে আকাশটাও হুট করেই নিজের স্বাভাবিক রূপ পাল্টে ফেলেছে। চারিদিকে মেঘ জমা হয়েছে। মাঝেমধ্যে শুকনো আকাশ গুড়গুড় করছে। লোকালয়ে জানান দিচ্ছে, মেঘেদের বুক চিঁড়ে সচ্ছ জলবিন্দু পতিত হবে যেকোনো মূহুর্তে। পাখিরা ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে চলেছে নিজেদের নীড়ে ফেরার পথে। রাস্তার কুকুরবিড়াল ঠাই নিয়েছে কোনো ভাঙাচোরা পুরাতন বাড়ি, দোকান, ভ্যানগাড়ির নিচে কিংবা কোনো বন্ধ ছাউনির চায়ের দোকানে। মানুষজন দোকানপাট গুছিয়ে বন্ধ করার চেষ্টায় রয়েছে, কেউ কেউ নিজেদের ব্যক্তিগত কারে রওনা দিয়েছে বাড়ির উদ্দেশ্যে। আবার অনেকেই রিকশায় করে যাচ্ছে। ততক্ষণে ব্যস্ত শহরের বুকে একফোঁটা, দুফোঁটা করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে।
চোখের পলকে আবহাওয়া বদলে যায়। বৈশাখ মাসের শেষের দিকের ঝড়বৃষ্টি বলে কথা। একটুআধটু তান্ডব না করলে জমে? এসময়টাতে গ্রামগঞ্জে ছেলে-মেয়েরা অনেকেই আম কুড়াতে যায়। এটাতে একটা আলাদাই আনন্দ রয়েছে। চারিদিকে হিম শীতল বাতাসের ঢেউ বইছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং আকাশটা ক্ষিপ্ত বাঘের ন্যায় গর্জন তুলছে। মুষলধারে বৃষ্টির বর্ষণে শহরটা ধুয়েমুছে গেল।
শীতল পরিবেশেও আলোর মেজাজ গরম হয়ে আছে। সে মূলত আজ আকাশের ওপর অভিমান করেছে। মেঘ জমতে দেখে কত শখ করে শাড়ি পরেছিল। উদ্দেশ্যে ছিল—ছাঁদে গিয়ে প্রিয় মানুষটির সাথে বৃষ্টি বিলাস করার। এটার জন্য সে একঘন্টা যাবত লোকটার পিছু পিছু ঘুরে কোনোমতে রাজী করিয়েছে। কোন গান গেয়ে স্বামীর সাথে ডান্স করবে সেটাও ভেবে রেখেছিল। কিন্তু, শেষ পর্যায়ে এসে তার পরিকল্পনাতে দমকা হাওয়া, বাজ পড়া ঢেলে দিয়েছে। আকাশের এমন ভয়ানক তান্ডবের মধ্যে যদি সে ছাঁদে গিয়ে নাচের তান্ডব শুরু করে, তাহলে দেখা যাবে সে বিনাটিকেটে সোজা উপরে চলে গিয়েছে। আর এত সহজে আকাশের বাসিন্দা হতে চায় না সে। তাই বুকে পাথর চাপা দিয়ে নিজের ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রেখেছে। আজকের এত সুন্দর সাজগোছ তার সব বৃথা গেল।
ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত এগারোটা ছুঁইছুঁই। খারাপ আবহাওয়ার কারণে লোডশেডিং হয়েছে। এইদিকে খান বাড়িতে জেনারেটরও কাজ করছে না, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে। দিন ছাড়া এখন ঠিক করাও যাবে না। আধার আর রাত, তাহমিনা খান ও সোবহান খানের রুমে মোমবাতি জ্বা’লিয়ে দিয়েছে। তিথির রুমেও দেওয়া হয়েছে। রাত একটা মোমবাতি নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। আধারও হাতে জ’লন্ত মোমবাতি নিয়ে রুমে এল। সে নিঃশব্দে হেঁটে এসে টি-টেবিলের ওপর মোমবাতিটা রাখল। শার্টের দুটো বোতাম খুলে সোফার মাঝে শরীরটা এলিয়ে দিয়ে ঘাড় কাত করে অদূরে দাঁড়িয়ে থেকে, মনোযোগ সহকারে মোমবাতি জ্বা’লাতে থাকা রমণীর পানে তাকায়।
মেয়েটার ধবধবে সাদা শরীরে তার নিয়ে আসা জর্জেটের বেবি পিংক রঙা পাতলা শাড়ি। সে কখনো সাদা-কালো ছাড়া অন্য কোনো রঙের পোশাক নেয়নি, পছন্দও করত না। তবে এই মেয়েটার জন্য নিজের পছন্দ বদলেছে। মার্কেটে গিয়ে খুঁজে খুঁজে মেয়েটার জন্য ড্রেস, শাড়ি নিয়েছে। সাথে কসমেটিকও!
শাড়ির লম্বা আঁচল এলোমেলো ভাবে কাঁধের ওপর তুলে রেখেছে মেয়েটা। ফলস্বরূপ কোমর, মেদহীন পেট অনেকটাই উন্মুক্ত! একপাশে সব চুল এনে রাখা। মেয়েটা ডান দিকে ঘাড় সামান্য কাত করে মোমবাতি জ্বা’লিয়ে রুমের এদিক-সেদিক রাখছে। হাঁটার তালে তালে নূপুর জোড়া রিনঝিন শব্দ তুলছে। মোমবাতির হলদেটে আলোয় মেয়েটাকে ভীষণ আবেদনময়ী লাগছে। রমণীর অতুলনীয় সৌন্দর্যে আধারের চোখদুটো ঝলছে যাচ্ছে। বারবার তার বেহায়া নজর রমণীর উদরের মাঝে আটকাচ্ছে। বাহিরে ঝড় হলেও এখন তার মনের মাঝে উথাল-পাথাল শুরু হয়েছে।
আলো নিজের কাজ শেষ করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে, কানের দুল ও দু’হাতের চুড়িগুলো খুলে রেখে দিল। খোলা চুলগুলো হাত খোঁপা করে আলমারি খুলতেই শুনতে পেল,
-“চেঞ্জ করতে হবে না।”
আলো আলমারি বন্ধ করে এক ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
-“কেউ একজন বলেছিল, আমাকে শাড়িতে পেত্নীর মতো লাগে! তাহলে এখন মানা করা হচ্ছে কেন?”
-“অনেকদিন পেত্নীকে দেখিনি। তাই আজ দেখতে ইচ্ছে করছে!”
আলো মুখ ভেংচি কেটে আঁচল ঠিক করে দরজার দিকে যেতেই আধার উঠে এসে, পিছন থেকে খপ করে আঁচল টেনে ধরল। আলো একটু আগেই পিন খুলে রেখেছে। যার ফলে তার আঁচল খুলে গেল। সে তড়াক করে পিছনে ফিরে ঝাঁঝাল কণ্ঠে বলল,
-“এই আপনার সমস্যা কি? শুধু এটা-সেটা ধরে টানাটানি করেন কেন?”
আধার প্রতিত্তোরে কিছু বলে না। শুধু অপলক নয়নে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। নজর সরিয়ে নিতে চাইলেও পারছে না। সে এত আপত্তি করছে কেন? এই মেয়েটা তো তার-ই। শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত বউ। তাহলে দেখায় যায়।
অন্যদিকে, আলো নিজের ওপর মানুষটার গভীর দৃষ্টি অনুভব করে পিছনে ঘুরে দাঁড়ায়। আঁচল ধরে টানাটানি করার সময় আধার নিজ থেকেই ছেড়ে দিল। জিজ্ঞেস করল,
-“কোথায় যাচ্ছিলে?”
আলো আঁচল ঠিক করতে করতে জবাব দিল,
-“ঘুম ধরছে না, তাই ভাবলাম চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখব।”
-“তুমি রুমে থাকো, আমি বানিয়ে আনছি।”
একথা বলে আধার চলে গেল। ফিরল কিছুক্ষণ পর। বউয়ের হাতে চায়ের কাপ দিয়ে, নিজে কফির মগ নিয়ে সোফায় বসল। আলো ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিয়ে মুচকি হেঁসে বলল,
-“বৃষ্টির সময়ে এমন মজাদার চা পেলে মন্দ হয় না, স্যার।”
আধার কফির মগে লম্বা চুমুক দিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“ঠিক আছে। আজ থেকে না-হয় বৃষ্টির সময়ে তোমাকে চা বানিয়ে খাওয়ানোর দায়িত্বটুকু আমার!”
-“আপনি খুব ভালো।”
আলো একগাল হেঁসে কথাটি বলে বারান্দায় চলে গেল। আধার সেদিকে তাকিয়ে থেকে এক নিঃশ্বাসে কফি শেষ করল। তারপর বিরবির করে বলল,
-“আজ যদি একটু খারাপ হই, তাহলে কি খুব বেশি ক্ষ’তি হয়ে যাবে?”
কোনো জবাব এল না। আধার দু’হাতে মাথার চুল খামচে ধরে বসে থাকল। সে মেয়েটাকে আরো সময় দিবে নাকি নিজের সূক্ষ্ম চাহিদাকে পূরণ করবে ঠিক বুঝতে পারছে না। তার মনটা বড়োই ছটফট করছে, মেয়েটাকে একান্তেই কাছে পাওয়ার জন্য। অথচ মাথামোটা বউটা তার কিছুই বুঝে না! শুধু শুধু সে অসহনীয় যন্ত্রণায় পু’ড়ছে।
আলো বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে বৃষ্টি দেখছে আর চা খাচ্ছে। ইচ্ছে তো করছে ভিজতে! কিন্তু বজ্রপাত ও ঝড়ঝাপটার জন্য ইচ্ছেটা গায়েব হয়ে যায়। এই খারাপ আবহাওয়াতে ভিজলে দেখা যাবে বিদ্যুৎতের ঝটকা খেয়ে, কাইল্লা ভুত হয়ে আকাশে উড়াল দিয়েছে৷ তাই আপাতত সে এই ঝুঁকি নিতে নারাজ! আলো বাম হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির সচ্ছ পানি ছুয়ে দিল। বাতাসের দাপটে পানি উড়ে এসে তার সর্বাঙ্গ ভিজিয়ে দিচ্ছে। মৃদুভাবে শাড়ির আঁচল, খোলা চুল
উড়ছে। একমনে বৃষ্টির ভয়ংকর সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করছিল আলো। তখন উন্মুক্ত কাঁধে গরম নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ল। তবে সে পিছনে ফিরে তাকায় না। কারণ সে জানে, এই মানুষটা কে হতে পারে।
-“মিসেস খান?”
-“উমম?”
-“বৃষ্টি তোমার খুব প্রিয়, তাই না?”
-“খুউউউউব!”
আলো হেঁসে জবাব দিল। একটু পরই নিজের উদরের মাঝে শক্তপোক্ত পুরুষালী দু’হাতের গাঢ় স্পর্শে কেঁপে উঠল তার নারীদেহ। আলো চায়ের কাপ শক্ত করে চেপে ধরল। আধার অনেকটা সময় নিয়ে অর্ধাঙ্গিনীকে জড়িয়ে ধরে, খোলা চুলে মুখ ডুবিয়ে রইল। তারপর ধীর কণ্ঠে আওরাল,
-“আজ এই মূহুর্তে যদি আমি ভীষণ অবাধ্য হই, তাহলে কী তুমি মাইন্ড করবে?”
আলো বুঝতে পারল না। তাই সে জিজ্ঞেস করল, -“মানে?”
আধার চোখ বুজে ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“আজকের রাতটা একটু স্পেশাল ভাবে উপভোগ করতে চাই।”
-“তা করুন না। আমি কী আপনাকে বেঁধে রেখেছি? না বস্তায় পুরে রেখেছি?”
-“আজ রাতের সঙ্গী হবে আমার?”
আলো পিছনে ফিরে চোখদুটো ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করল,
-“আমি না হলে কী অন্য কাউকে সঙ্গী বানাবেন?”
-“উমম…ভেবে দেখতে পারি!”
প্রিয় মানুষটির কথা শুনে আলোর মুখটা ভার হয়ে গেল। সে গম্ভীর কণ্ঠে বলার চেষ্টা করল,
-“আপনি যদি অন্য কারোর সাথে বৃষ্টি উপভোগ করেন, তাহলে আমিও বাহিরে গিয়ে অন্য কারোর সাথে ঘুরব ফিরব, নাচবো, আড্ডা দিবো, হুহ্।”
আধার ঠোঁট কামড়ে হাসল। ঝুঁকে এসে কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁয়ে হিসহিসিয়ে বলল, -“আমি আজ যা করব, সব তোমার সাথেই।”
-“বাট….আই অ্যাম নট ইন্টারেস্টেড!”
আধার কিছু একটা ভেবে আলোকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কপালে স্লাইড করতে করতে বিরবির করে বলল,
-“ভেবেছিলাম আজ তোমাকে একটা চমৎকার সারপ্রাইজ গিফট দিবো। বাট….এখন আর ইচ্ছে নেই।”
সারপ্রাইজ গিফটের কথা শুনে আলোর চোখদুটো চিকচিক করে উঠল। সে চায়ের কাপ দোলনায় রেখে এসে জানতে চাইল, -“কী গিফট?”
-“জানি না।”
আলো থমথমে মুখে বলল, -“এটা আগে তো বলবেন। আচ্ছা, আমি আপনার সঙ্গী হবো। আজ পুরো রাত আপনার সাথে বৃষ্টি উপভোগ করব, ওকে?”
আধার মনে মনে বাঁকা হাসল। সে এগিয়ে এসে রমণীর কোমর চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“যা বলছো, ভেবে বলছো তো? আজ কিন্তু পুরো রাত আমাকে দিতে হবে। চাইলেও ছাড়া পাবে না।”
আলো ঠোঁট কামড়ে ভাবতে লাগল—একটা রাতই তো জেগে থাকতে হবে। প্রিয় মানুষটির পাশে বসে থেকে কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে বৃষ্টি উপভোগ করার ভাগ্য ক’জনের হয়? তাই সে অত কিছু না ভেবে রাজি হয়ে যায়। তারপর বলে,
-“এখন আমার গিফট দিন!”
আধার ফিচেল হেঁসে প্রিয়তমার গালে বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে হাস্কিস্বরে বলল,
-“দেবো। আজ তোমাকে এমন একটা সারপ্রাইজ দিবো যেটা তুমি চাইলেও কখনো ভুলতে পারবে না। বিশেষ করে আজকের এই রাতটা! বাকিদের কাছে আজ রাতটা
বৃষ্টিময় হলেও তোমার কাছে হবে সুখময় রাত।”
আলো মুচকি হেঁসে স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরে শান্ত গলায় বলল, -“আপনি আমার পাশে থাকলে আমি সবসময়ই সুখী!”
আধার মাথা নিচু করে ঠোঁটের কোণে শব্দ করে চুমু খেয়ে ঠান্ডা গলায় শুধাল, -“সারপ্রাইজ গিফট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, মিসেস আধার খান?”
আলো খুশিতে বাক-বাকুম। তার গিফট পেতে প্রচুর ভালো লাগে। আর সেটা যদি হয়—ভালোবাসার মানুষটির তরফ থেকে, তাহলে তো আর কথাই নেই। তাই সে জলদি মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“হ্যাঁ, হ্যাঁ! আমিও দেখতে চাই, আপনি আমাকে এবার কী দেন। তবে যেটাই দিন না কেন, আমি খুউউউব খুশি।”
আধার কিছুক্ষণ অপলক নয়নে মেয়েটার হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে, চট করে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে রুমের দিকে পা বাড়ায়। পুরো রুম জুড়ে তখন মোমবাতির সোনালী আলোয়, আলোময় হয়ে আছে। বাতাসে জানালার পর্দারগুলো এলোমেলো ভাবে উড়ে চলেছে। হালকা বৃষ্টির ঝাপ্টাও আসছে। পিঠের নিচে নরম বিছানার স্পর্শ পেতেই আলোর ভ্রু কুঁচকে গেল। সে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তখনই অনুভব করল, এক জোড়া কোমল পুরু ঠোঁটের মাঝে তার ঠোঁটজোড়া হারিয়ে গেছে।
আলোর চোখদুটো বিস্ময়ে ইয়া বড়বড় হয়ে গেল। সে আদৌ কেমন রিয়াকশন দিবে ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। ওইদিকে এক জোড়া ঠোঁট ক্রমশই তার ঠোঁটের ভাঁজে প্রবেশ করে চলেছে৷ আলো দু’হাতে বিছানার চাদর খামচে ধরে চোখ বুজে নিল। একপর্যায়ে এসে শ্বাস নিতে না পেরে ছটফটিয়ে উঠল। তবে আধার আজ তাকে একটুও ছাড়ল না, উল্টো আরো গাঢ় ভাবে চুম্বন করতে উন্মাদিত হলো।
-“আ….আপনি, আ-আপনি…!”
আলো জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু পারছে না। আর একটু হলেই সে নির্ঘাত দম আঁটকে মা’রা যেত। সে একটু সময় নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে কিছু বলবে, তখনই খেয়াল করল—লোকটা কেমন নেশাভরা চোখে তাকিয়ে থেকে ব্যস্ত হাতে শার্টের বোতামগুলো খুলছে। আলো অজান্তেই ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা গলায় জানতে চাইল,
-“ও-ওমন করে তাকিয়ে আছেন কেন? আর….আর শার্ট-ই বা খুলছেন কেন? আপনি না একটু আগে বললেন, বৃষ্টি উপভোগ করবেন? তাহলে?”
-“করব তো। বাট….বৃষ্টি নয়! তোমাকে।”
আলো আঁতকে উঠল। তড়িঘড়ি করে কিছু বলতে যাবে তখন-ই আধার ঝুঁকে এসে ঠোঁটের মাঝে তর্জনী আঙুল রেখে হিসহিসিয়ে বলল,
-“চুপ! একদম চুপ। কোনো কথা বলবে না। শুধু আমাকে অনুভব করবে। আজ এই মূহুর্তে যা কিছুই হয়ে যাক না কেন, তবুও আমাকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা একটুও করবে না। কারণ আজ আমি ভীষণ অবাধ্য হবো। যতটা অবাধ্য হলে তোমার মাঝে নিজেকে সম্পূর্ণ বিলীন করতে পারব, ঠিক ততটাই অবাধ্য হতে চাই।”
একটু থেমে পুনরায় আওরাল,
-“কষ্ট হলেও আজ রাতটা আমাকে সহ্য করে নাও, জান!”
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৪০
একথা বলে আধার নিজের সমস্ত ভার আলোর ছোট্ট শরীরের ওপর ছেড়ে দিল। এক হাতে ঘাড় চেপে ধরে প্রিয়তমার রক্তিম ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরল। অপর হাতে কম্ফোর্টার টেনে দুটো শরীরকে ঢেকে নিল আবরণের আড়ালে!
সময়ের সাথে সাথে আধার খান ভদ্রলোকের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এল। অতঃপর আজ দুটো দেহ, প্রাণ একে অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার হলো। দু’জনের মাঝে সমস্ত দূরত্ব ঘুচল, উন্মাদনা বাড়ল, শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হলো। একই সাথে দু’জনের মধ্যকার অদৃশ্য দেয়াল ভেঙেচুরে নতুন জীবনের সূচনা ঘটল। তাদের এই সুন্দর গভীর মিলনের সাক্ষী হয়ে রইল—একটি বৃষ্টিময় রাত!

porar porbo ta dio plz apu……