Home অবেলার প্রণয়ভেলা অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪৭

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪৭

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪৭
ফাহিমা ইসলাম

বেশ অনেকটা সময় সেভাবেই পার হয়ে গেছে। আর এই নিস্তব্ধতা ভেদ করে হঠাৎই রোদেলা নিজের ছোট্ট তালু দিয়ে রৌদ্রিকের ব্যান্ডেজ জড়ানো হাতটা আলতো করে চেপে ধরল। আবারও ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী স্বরে বলল-
“পাপা… তুমি এত ঘুমাও কেনু? মা অনেক কাঁতে। বেবি তো ওয়েত করছে, তবুও তুমি ওঠো না। আমাল সাতে কথা বলবা না?”
নিষ্পাপ অভিযোগগুলো বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই শয্যাশায়ী মানুষটার আঙুলে অতি সূক্ষ্ম কম্পন নড়ে উঠল। জিনিসটা কেউ লক্ষ্য করেনি, তবে ফের রৌদ্রিকের ডান হাতের আঙুলটা সূক্ষ্ম কম্পনে নড়ে উঠল। তূর্ণার এলেমেলো দৃষ্টি সেদিকে পরতেই,প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারল না। তারপর ধীরে অত্যন্ত ধীরে রৌদ্রিকের ভারী চোখের পাতা কেঁপে উঠল। এই দীর্ঘ আট দিনব্যাপী মৃত্যুর অন্ধকার সুড়ঙ্গ ভেদ করে কোনো ক্লান্ত পথিক অবশেষে আলোর মুখ দেখার চেষ্টা করছে।
ফ্যাকাশে ঠোঁট সামান্য নড়ে উঠল। চোখ দুটো অর্ধেক খুলতেই ঝাপসা দৃষ্টির প্রথম প্রান্তে ধরা পড়ল ছোট্ট রোদেলার মুখ। মুখে লাগানে অক্সিজেন মাক্সের কারণে কথা বলতে পারছে না, তারপর কোনো রকমে কয়েকটা বাক্য উচ্চারণ করে-

” র..রোদ!!”
শব্দটা কানে পৌঁছাতেই রোদেলার চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল। পরক্ষণেই আনন্দে চিৎকার করে উঠল সে।
“মা! পাপা উতেছে! পাপা আমানাকে ডাতছে!”
তূর্ণার বুকের ভেতর যেন আট দিন ধরে জমাট বেঁধে থাকা সমস্ত হাহাকার এক নিমিষে ভেঙে নদী হয়ে বেরিয়ে এলো। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। কাঁপতে কাঁপতে বিছানার কাছে ছুটে এসে রৌদ্রিকের মুখ দুহাতে আগলে ধরল।
” বর…!!”
একটি শব্দ শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করেই বাকিটুকু গলায় আটকে গেলো। অশ্রু এমনভাবে ঝরতে লাগল যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমস্ত অবরুদ্ধ যন্ত্রণা আজ মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে। হঠাৎই সম্বিৎ ফিরে পেয়ে তূর্ণা দরজার দিকে ছুটতে উদ্যত হলো।
“আমি… আমি ডাক্তারকে ডাকি”

বলেই বাহিরের দিকে এগোতে নিতেই, দূর্বল শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে রৌদ্রিক কষ্টে নিজের হাতটা সামান্য বাড়িয়ে দিল। তার আঙুলগুলো আলতো করে জড়িয়ে ধরল তূর্ণার কব্জি। ইশারায় যেতে না করলো, অতঃপর অতি দূর্বল ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হাতটা উঠিয়ে অক্সিজেন মাক্সটা খুলে ফেললো। শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী, তবুও কোনো রকমে কম্পতি স্বরে বলে-
“যেও… না…!!”
তূর্ণা স্থির হয়ে গেল। চোখভর্তি অশ্রু নিয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে। রৌদ্রিক দীর্ঘক্ষণ কিছু বলল না। অবসন্ন চোখে একবার তূর্ণার মুখ, তারপর রোদেলার শুকিয়ে যাওয়া গাল, মলিন চোখ আর কৃশকায় শরীরটা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করল। চোখের পাতা মেলে রাখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্ছে কেউ তার চোখের পা জোর করে বন্ধ করে রাখতে চাইছে। কিন্তু তূর্ণা আর রোদেলার কৃশকায় শরীর দেখে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। নিজের ক্ষতবিক্ষত শরীরের জন্য নয়, এই দুই প্রাণের অবস্থা দেখেই। কষ্টে কষ্টে ফিসফিস করে বলল-

“এ… কী অবস্থা… তোমাদের?”
তূর্ণা মাথা নাড়ল। কিছু বলতে গিয়েও পারল না। রৌদ্রিকের কণ্ঠ এবার আরও কঠোর হয়ে উঠল।
“খাওনি ঠিম মত… তাই না?”
তূর্ণা কিছু বলতে পারলো নাচ অপরাধে মাথাটা নুইয়ে ফেললো। কি বলবে সে? রৌদ্রিকের অনুপস্থিতি সে বা রোদেলা কেউ-ই ভালো ছিলো। অতটুকু বাচ্চা অব্দি বাবার শূন্যতায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে সে কি খাবে ঠিক মতো? আদৌও কি তার গলা দিয়ে খাবার নামার মত অবস্থা ছিলো? যতটুকু খেয়েছে বাড়ির সবার জোরাজুরিতে। নাহলে তার নিকট এই কয়েকদিন কয়েকটা ভাতের দানা পাথরের টুকরোর মতো লেগেছে। যাকিনা গেলাটা তার জন্য অসম্ভব ছিলো, তবে নিজের মধ্যে থাকা অপর প্রাণের কথা ভেবে এত নিষ্ঠুর হতে পারেনি।
তূর্ণাকে মাথা নুইয়ে রাখতে দেখে রৌদ্রিকের রাগ যেনো আরও বেড়ে গেলো। তার চোখের কোণে অদৃশ্য জল চিকচিক করে উঠল।
“আমি কি এসব দেখার জন্য বেঁচে ফিরলাম?”
তূর্ণা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। হাউমাউ করে কেঁদে উঠে রৌদ্রিকের বুকের ওপর মুখ গুঁজে দিল।
“আপনি না ফিরলে… আমরা বাঁচতাম কীভাবে?”
রোদেলা কিছুই বুঝল না।সে শুধু দেখল, তার মা আবার কাঁদছে। তাই ছোট্ট শরীরটা নিয়ে দুহাতে একসঙ্গে জড়িয়ে ধরল নিজের মা আর বাবাকে। তারপর অত্যন্ত গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল-

“কেউ কান্না করবা না। আমি আছি তো। এখন আমলা তিতজন একসাথে বাসায় যাবু… তারপল অনেক মজা করবো।
শিশুসুলভ ঘোষণা শুনে রৌদ্রিকের বিবর্ণ ঠোঁটে বহুদিন পর একটুকরো ক্লান্ত হাসি ফুটে উঠল।অপরদিকে তূর্ণা অশ্রুভেজা চোখেই হাসল। রৌদ্রিক কোনো রকমে রোদেলার মাথাটা নিজের বুকের সঙ্গে চেপে ধরে বলে-
” আমর রোদপাখি, এত শুঁকিয়ে কেনো গেছো? তুমি না আমার গুড গার্ল হুম, তাহলে এমন করেছো কেনো? পাপা না থাকলে বেবি আট বেবির মা’কে দেখে রাখার দায়িত্ব কার ছিলো?”
“ আমাল।”
“ তাহলে রাখোনি কেনো? বলেছিলাম না, নিজের আর বেবির খেয়াল রাখতে। তাহলে রোদ কেনো পাপার কথা রাখেনি?”
রোদেলা গাল ফুলালো, তারপর চুপটি করে রৌদ্রিকের বুকে মিশে থেকেই গাল ফুলিয়ে বলে-

“ তুমিও কতা রাখো নি। আতোনি কেনো? কত্ত ওয়েত করেতি আমি। সতালেও নাই, লাতেও নাই। আমাল খুব কত্ত হয়েতে পাপা। তোদেলা মিস পাপা সো মাচ।”
“ তাই বুঝি? কিন্তু আমি তো অন্যকিছু দেখতে পাচ্ছি। এইভাবে আমাকে মিস করলে, পাপা এই মিসকে নিবো না। আমার রোদ সব শোনে, কিন্তু তুমি তো শোনোনি।”
“ এইতো শুনতি, তুনি তো উতে গেতো। তোদ এখন সব শুনবে।”
তাদের কথার মাঝেই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে শ্রাবণ আর জবা সিকদার ভিতরে ঢুকলেন। ঢোকা মাত্রই পরিচিত কণ্ঠস্বর কর্ণকুহরে প্রবেশ মাত্রই জবা সিকদার আর শ্রাবণ সেদিকে তাকালো। রৌদ্রিকে রোদেলার সঙ্গে কথা বলতে দেখে তার অবাক হয়েছে। মনে হচ্ছে কত বছর পর রৌদ্রিক কথা বলছে। জবা সিকদার নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না ছেলের নিটক ছুটে গেলেন।
“ বাবা তুই ঠিক আছিসো তো? কষ্ট হচ্ছে তোর কোথাও?”
জবা সিকদারের কথায় হালকা হাসলো রৌদ্রিক। জবা সিকদারের চোখ-মুখ দেখে বুঝতে পারছে, তার মাও এই বাকি দুইটার মত অনিয়ম করেছে নিজের প্রতি।

“ আমি ঠিক আছি মা। কান্না বন্ধ করো, এইসব ভালো লাগছে না।”
“ আচ্ছা ঠিক আছে আর কাঁদবো না। আর কোনোদিন তাড়াতাড়ি করে গাড়ি চালাবি না, তোর কিছু হয়ে গেলে আমাদের কি হতো? রোদ আছে, তোর বউ-বাচ্চা সবাই আছে। তাই যা করবি ভেবেচিন্তে। এখন তুই একা নস!”
মায়ের শাসন শুনে রৌদ্রিকের ভালোই লাগছে। তাই নীরবে শুনছে, শ্রাবণ পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার অধর ভাজে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে। রৌদ্রিক শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে-
“ কি রাতে কি ঘুমাস না? সবার মুখের অবস্থা এমন কেনো? তোরও কি আগের মতো ছিঁচকাঁদুনে স্বভাব ফিরে এসেছে?”
শ্রাবণ নাকের পাটা ফুলিয়ে বলে-
“ চুপ কর ব্যাটা, অকাম করে বলছে এমন কেনো মুখের দসা হু! গু পরবে তোমার মুখে।”
শ্রাবণের কথায় হেসে ফেললো তূর্ণা আর জবা সিকদার। রৌদ্রিক চোখ-মুখ কুঁচকিয়ে বলে-
“ ছি শ্রাবণ এক বাচ্চার বাপ হয়েছিস। তারপর গু’টাকে ছাড়তে পারিসনি? সায়রাকে কোলে নিবি না, মামুণিটার গা’টা গন্ধ করবে গু গু!”
শ্রাবণ মুখ বাঁকাল, জবা সিকদার হেসে ফেললো।

” হয়েছে থাম এবার, কিসব কথা এইগুলো। তোরা থাক আমি বাড়ির সবাইকে জানাই ব্যাপারটা।”
জবা সিকদার বাহিরে চলে গেলেন। রৌদ্রিক শ্রাবণের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে-
“ হয়েছে এবার মুখটা ঠিক কর। নাহলে মছাও ঢুকবে না ওই মুখে। আর বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা কর।”
“ আরও একমাস এইখানে থাকার ব্যবস্থা করে আসি ওয়েট।”
বলেই মুখ বাঁকিয়ে চলে যায়। রোদেলা ঘুমিয়ে পরেছে বাবার বুকেই এত শব্দের মাঝেও। অনেকদিন পর বানার উষ্ণ আলিঙ্গন পেয়ে মেয়েটা নুইয়ে পরেছে। রৌদ্রিক মেয়েকে ঠিক মত শুইয়ে দিলো। তূর্ণা নীরব ভূমিকা পালন করছে। রৌদ্রিক অতন্ত্য গম্ভীর স্বরে বলে-
“ এইদিকে আসো তূর্ণা।”
তূর্ণার মনটা কিছুটা ভালো হয়ে গেলো। ভাবলো রৌদ্রিক আর রাগ করে নেই, তূর্ণা রৌদ্রিকের নিকটতম আসতেই রৌদ্রিক তূর্ণা কব্জি টান দিয়ে একদম কাছাকাছি এনলো। হঠাৎ এমনটা হওয়ায় তূর্ণা কিছুটা ভয় পেলো। পর মুহুর্তেই রৌদ্রিক নিজের হাতটা তূর্ণার উদরের উপর রাখলো। অতন্ত্য যত্নসহকারে সেখানটায় হাত বুলিয়ে আদুরে স্বরে বলে-

“ মাই বয়/গার্ল কেমন আছো? মা খুব পঁচা তাই না? আমার বেবির খেয়াল রাখেনি ঠিক মতো। নিশ্চয়ই খুদা পেয়েছে তোমার, মা খায়নি তাই তো? একবার পাপার কাছে চলে এসো তারপর আর তোমার মায়ের কাছে যেতে দিবো না। মা’টা খুব পঁচা, ছিঁচকাঁদুনে মা পেয়েছো বুঝলে?”
তূর্ণা মুখ ফুলালো, সে কাঁদতে কাঁদতে শেষ এই মানুষরা জন্য। এখন সেই লোকই তাকে কথা শোনাচ্ছে, সে কি সাধে ওমন করেছে।
“ হ্যাঁ সব দোষ এখন মায়ের। পাপার জন্য বেবির মায়ের কষ্ট হয়েছে সেটা দেখেনি। খালি বেবির কথাই বলছে, পাপার যে বউ আছে সেটার খবর নাই!”
অভিমানী কণ্ঠে কোনো রকমে কথাগুলো বলে থামলো তূর্ণা। রৌদ্রিক কিছু বললো না তূর্ণাকে,বেবির উদ্দেশ্যে বলে-

“ পঁচা বউয়ের খবর রাখে না পাপা। কষ্ট হচ্ছে বলে না খেয়ে থাকা কোন ধরনের কষ্ট দেখানোর নিয়ম বল?”
“ হ্যাঁ আমি যখন ম’রে যাবো তখন বুঝবেন কেমন ধরনের নিয়ম।”
কথাটুকু শেষ না হতেই বিশাল এক ধমকে তূর্ণার দেহাবশেষ কেঁপে উঠলো। রৌদ্রিক শক্ত চোখে তাকিয়ে আছে তূর্ণার দিকে। তূর্ণা ভয় পেলো কিছুটা সে কি ভুল কিছু বলেছে নাকি?
“ একদম মে’রে তক্তা বানাবো বেয়াদব মেয়ে। কি বলো ভেবে বলো?”
তূর্ণার ফুঁপিয়ে উঠলো। মানুষটা ওঠার পর থেকেই তাকে বলে যাচ্ছে।
“ হ্যাঁ বেয়াদব আমি আমি তো সভ্য।”
বলেই তূর্ণা কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। রৌদ্রিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে, এই প্রথম হয়তো এত জোরে ধমক দিয়েছে মেয়েটাকে। কিন্তু এমন কথা শুনলে যেকারো রাগ হওয়া স্বাভাবিক, একেই অপরাধ করেছে। মানুষ মরণশীল আজ হয়তো সে নাও থাকতে পারতো তখনো কি এইভাবে করলে চলতো? মানুষ যতোই বলুক ” আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না” এটা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কারণ মানুষটা খুব ভালো করেই বাঁচে। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না, থেমে যায় কিছু অনুভূতি,কিছু নিয়ম, কিছু বদঅভ্যাস আর সময় এছাড়া মানুষ দিব্যি বেঁচে থাকে। বরং খুব ভালো করে বাঁচে, হয়তো কেউ সামনে এগোতে পারে আবার কেউ পারে না। কেউ জীবনে নতুন বসন্তকে বরণ করে নেয়, আবার কেউ বসন্তকে প্রত্যাখ্যান করে দেয়। তবে জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না, সে অবিরাম স্রোতময়।

বেলা ঢলে পরেছে বহুক্ষণ আগেই, দিগন্ত জুড়ে মেঘবালিকারা দল বেঁধে বিদায় জানাচ্ছে সূর্যকে। পাখিরা ফিরছে নিজ নীড়ে, ব্যস্ত নগরীর বুক চিরে সিকদার বাড়িতে পর পর দু’টো গাড়ি ঢুকলো। গাড়ির শব্দ শুনতেই রুমা সিকদার আর রোমানা সিকদার,ইরা সায়রাকে নিয়েই বেরিয়ে এলো। পিছনের কাজের লোকরাও এসেছে, শ্রাবণ রৌদ্রিকের হুইলচেয়ার গাড়ি থেকে বসিয়ে দিয়েছে।
“ ঠিক আছিস তো রৌদ্র? ইসস কতখানি শুঁকিয়েছিস এই কয়েকদিনে।”
চিন্তিত গলায় রুমা সিকদার শুধালেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। রোমানা সিকদার সূরা পরে ফু দিয়ে দিলেন।
“ যাক অবশেষ আমাদের রৌদ্র বাড়ি ফিরলো।”
কথা বলতে বলতে সবাই রৌদ্রিকে নিয়ে ভিতরে চলে গেলো। তূর্ণা তখনের পর অভিমান করে রৌদ্রিকের ধারে-কাছে আসেনি, দূর থেকে দেখেছে শুধু। রৌদ্রিক এখন তার ঘরে অবস্থান করছে, পাশেই ঘুমন্ত রোদেলা। রাস্তাতেও তার কোলের উপর মাথা রেখে এসেছে৷ এক মুহুর্তও বাবার সান্নিধ্য ছাড়া হয়নি। ছোট পা’টা রৌদ্রিকে এক পায়ের উপর, রোদেলা হালকা ওজনের ভারের পায়ে তেমন ব্যথা লাগছে না তার। বরং ভীষণ ভালো লাগছে। কিছুখন পর সেখানপ তূর্ণা এলো চোখ-মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে কাঁদতে কাঁদতে। কোনো কথা ছাড়াই বাথরুমে দিয়ে ছোট বালতিতে করে পানি নিয়ে এলো। রৌদ্রিক নীরবে সবটা পর্যবেক্ষণ করছে কোনো বাক্য বিনিময় না করে। তারপর একটা টাওয়াল এনে সেটা পানিতে ভিজিয়ে নিচ্ছে। রৌদ্রিক বুঝতে পারলো তার শরীর মুছে দিবে, তাই সেভাবেই রইলো। তূর্ণা এসে তার গায়ে থাকা শার্টের বোতামগুলো খুলতে থাকে। সেটা দেখে রৌদ্রিক গম্ভীর স্বরে বলে-

“ আজ-কাল বাচ্চার মায়েরাও একজন অসহায় পুরুষের সুযোগ নিয়ে তাকে উলঙ্গ করে। কি দিন-কাল এলো আল্লাহ!”
রৌদ্রিকের কথা শুনে তূর্ণা জ্বলে উঠলো। সেকি অন্যকিছু করছে নাকি যে এমন কথা বলছে, তারপর কিছু বললো না চুপ রইলো। রৌদ্রিক এবার হালকা ব্যথা পাওয়ার ভান করতেই তূর্ণা বিচলিত হয়ে পরলো।
“ কোথায় ব্যথা পেলেন? বেশি ব্যথা করছে?”
” করছে তো! খুব, আমার সম্মান লুটে যাচ্ছে ব্যথা না পেয়ে কি করে থাকি?”

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪৬

তূর্ণা বেকুব বনে গেলো, তার আবেগে মু’তে দিলো এই লোকটা মনে হলো। চোখ গরম করে তাকিয়ে কোনে কথা কানে না তুলে দ্রুত রৌদ্রিকের সমস্ত শরীরটা ভেজা টাওয়াল দিয়ে মুছে ফেললো। রাগে ফুসফুসতে চলে যেতে লাগলেই পিছন থেকে ভেসে এলো~
“ ও টুনির মা, তোমার টুনি কথা শোনে না
যার তার লগে ডেটিং করে, আমায় চেনে না…”

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here