Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬২

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬২

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬২
অরাত্রিকা রহমান

রায়ান মিরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর রুদ্র আর রিমির সেখান থেকে বের হয়ে যায়। মিরা সব শেষে আইস্ক্রিমের কথা উল্লেখ করেছিল বলে রুদ্র রিমিকে সে আইস্ক্রিম খাবে কিনা জিজ্ঞেস করলো-
“রিমি… আইস্ক্রিম খাবেন?”
রিমি হেঁটে রুদ্রকে ছাড়িয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে সোজা তাকিয়ে রুদ্রর উদ্দেশ্যে বলল-
“এর পরের বার আইস্ক্রিম খাবো কিনা জিজ্ঞেস না করে, কয়টা খাবো জিজ্ঞেস করলে ভালো হবে।”
রুদ্র রিমির কথা শুনে এক গাল হাসলো। রিমি পিছন থেকে রুদ্রর কোনো প্রতিক্রিয়া না বুঝে পিছন ফিরে তাকালো রুদ্রর দিকে। কিন্তু হঠাৎ করেই রুদ্র সেখানে আর নেই। রিমি ঘাবড়ে গিয়ে চারপাশে নজর ঘুড়িয়ে দেখলো কিন্তু সত্যিই রুদ্র আশে পাশে নেই। রিমির কাছে কোনো ফোন ও নেই যে রুদ্র কে ফোন করবে। বেচারি চিন্তিত হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করলো তারা কেউ তার পিছনে কোনো ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে কিনা, তবে এতে খুব একটা উপকার হলো না। রিমির মুখে এক ঝাঁক হতাশা নেমে এলো সাথে সাথে, চোখ দুটো তৎক্ষণাৎ ভয়ে ছলছল করে উঠলো। তখনি রিমি নিজের ঘাড়ের কাছে কারো নিঃশ্বাস অনুভব করতে পেলো যেন ঠিক তার পিছনেই কেউ দাঁড়িয়ে। মেয়েটা হকচকিয়ে ফিরে তাকাতেই একটা প্রসস্থ বুকের সাথে ধাক্কা খেলো।

-“আহ্, সরি সরি। আমি ইচ্ছে করে করি নি।”
-“সরি বলতে হবে না। মানুষ টা আগা গোড়া সম্পূর্ণ টাই আপনার। যা ইচ্ছে করতে পারেন।”
চেনা পরিচিত গলা শুনতেই রিমি মাথা উঁচু করে থাকলো। চোখে এখনো সুপ্ত একটা ভয় দেখা যাচ্ছে। রুদ্র রিমির চোখের দিকে তাকিয়ে খেয়াল করে রিমিকে উৎকণ্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“চোখ এমন ছলছলে হয়ে আছে কেন? আমি না থাকা কালীন কি কিছু হয়েছে? কেউ কিছু বলেছে? চোখে পানি কেন?”

রুদ্র কে দেখে রিমির ভয় কেটে গেছে কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের সেই শূণ্যতা তার মাঝে রয়ে গেছে। রিমি রুদ্র কে আঁতকা জড়িয়ে ধরলো। রুদ্র কিছু বুঝতে পারছে না, সে নিজের হাতে থাকা আইসক্রিম গুলো সামলে রিমিকে ওইভাবেই কোনো মতো নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে আদর মাখা গলায় জিজ্ঞেস করলো-
“কি হয়েছে? এই…আহা কি অদ্ভুত.. না বললে কিভাবে বুঝবো কি হয়েছে?”
রিমি রুদ্র কে জড়িয়ে ধরে থেকেই মিনমিনিয়ে বলল-
“কোথায় চলে গেছিলেন আপনি? আমি অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম।”
রুদ্র রিমির ভয়ের কারণ বুঝতে পেরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল-
“আমার পাগলি রে, আমি তো আপনার জন্য আইস্ক্রিম আনতে গেছিলাম। ভেবেছিলাম এসে সারপ্রাইজ দিবো এখন তো আমি নিজেই সারপ্রাইজড।”

-“আমি পাগলি?”
-“শুধু পাগলি বলি নি তো! আমার পাগলি বলেছি।”
-“আমাকে বলে যাওয়া যেত না?”
রুদ্রর হাত মাথায় পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই মাত্র বলল সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল সে এখন যদি বলেই যেত তাহলে সারপ্রাইজ আর কোথায় থাকলো! রুদ্র তাদের আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই ঘুরে ঘুরে তাদের দেখছে। বেচারা না চাইতেও রিমি কে মৃদু গলায় বলল-
“বলছি কি ম্যাডাম, এখনকার মতো ছেঁড়ে দিন আপনার বরটাকে। লোকে দেখছে। বাড়ি গিয়ে নাহয় আরামে যা করার করবেন তার সাথে।”

রিমি রুদ্রর কথায় বাস্তবতায় ফিরে এলো। আর তখনই রুদ্র কে ছেঁড়ে দিয়ে নিজেকে ঠিক করে নিয়ে সোজা হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ালো। রুদ্র রিমিকে লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখতে দেখে তার হাতের কোণ আইসক্রিম গুলো রিমির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল-
“আমার লজ্জাবতী, এইগুলো আপনার জন্য।”
রিমি চোখ তুলে দেখলো রুদ্রর হাতে মোট তিনটি আইসক্রিম। একটু অবাক হয়ে রিমি রুদ্রর দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“তিনটা কেন?”

রুদ্র রিমির হাতে আইসক্রিম গুলো দিয়ে একটু রিমির মুখ ববরাবর ঝুঁকে বলল-
“দুটো কারণ, এক- আনফরচুনেটলি আমি এর আগে কখনো আমার বউটা কে আইসক্রিম খাওয়ানোর সুযোগ পাইনি তাই জানি না তার কোন ফ্লেভার পছন্দ। আর দুই- আজ আমাদের বিয়ের তৃতীয় দিন।”
রিমি রুদ্রর বলা কারণ গুলো মনযোগ দিয়ে শুনলো। সে আবেগী হয়ে আইসক্রিম গুলোর দিকে তাকালো। মুচকি হেঁসে রিমি রুদ্র কে বলল-
“আপনার ফোনটা পেতে পারি?”
রুদ্র একটু অবাক-“আমার ফোন!”
রিমি উপর নিচ মাথা নেড়ে জবাব দিলে রুদ্র রিমির এক কথায় নিজের ফোনটা বের করে আনলক করে আর রিমির হাতে দেয়। রিমি ফোনটা নিয়ে তার হাতের তিনটা আলাদা ফ্লেভার আর আইসক্রিম এর ছবি তুলল। নিজের কাজ শেষ হলে ফোনটা রুদ্র কে ফিরত দিয়ে দিল। রুদ্র রিমিকে কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“আইসক্রিমের ছবি তোলার কি আছে?”
রিমি কোনো ভাবনা ছাড়া বলল-
“আমার নিজের পছন্দের যেকোন কিছুর ছবি তুলতে ভালো লাগে। পছন্দের খাবারেরও।”
রুদ্র কয়েক সেকেন্ড রিমির কথাটা শুনে কিছু একটা ভেবে রিমিকে বলল-
“আচ্ছা, একটা পোজ দিন তো।”
রিমি অবাক হয়ে রুদ্রর দিকে তাকাতেই রুদ্র আবার বলল-
“যা বলছি করুন না! তাড়াতাড়ি। সে চিজ..!”
রিমি তাড়াহুড়োয় একটু বানোয়াট হাসার চেষ্টা করলো। রুদ্র রিমির ছবি তুলল।
-“আপনি হঠাৎ আমার ছবি তুললেন কেন?”
রুদ্র ছবিটা দেখে বিড়বিড় করলো-“মাশাআল্লাহ।”
এরপর ফোনটা নিজের পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে বলল-

“হঠাৎ মনে পরলো আমারও নিজের পছন্দের যেকোন কিছুর ছবি তুলতে ভালো লাগে। নিজের পছন্দের খাবারেরও।”
রিমি হা হয়ে শুধু শুনলো। বুঝতে হয়তো আরো কিছু টা সময় লাগবে কারণ মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে-“সে কি তাহলে পছন্দে কিছু একটা..নাকি পছন্দের খাবার.. কি বুঝাতে চাইলো ছেলেটা?”
রুদ্র রিমি কে তাড়া দিয়ে বলল-
“খাওয়া শুরু করুন। গলে যাচ্ছে আইস্ক্রিম গুলো।”
অতঃপর, হাঁটতে হাঁটতে রিমি আইসক্রিম গুলো খাওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু ঠিক ভাবে খাওয়াও হয়নি তার। রুদ্র রিমিকে হঠাৎ বলল-
“রিমি কেনাকাটা অনেক বাকি। First thing first, আগে আপনার জন্য একটা ফোন নেওয়া প্রয়োজন। চলুন আগে ওইটা দিয়েই শুরু করি।”
এরপর আর কি রুদ্র রিমির হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল শপিং শুরু করতে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে কিন্তু এখনো যে যার যার মতো শপিং করতে ব্যস্ত। মিরা নিজের মতো জিনিস পত্র ঘেঁটে ঘেঁটে দেখছে আর রায়ান তার পিছন পিছন সঙ্গ দিচ্ছে শুধু- ছেলেটার চোখে মুখে বিরক্তির এক ফোঁটাও নেই। মিরা রায়ানের ধৈর্য দেখেও বেশ মুগ্ধ। এক পর্যায়ে মিরা নিজের জন্য একটা কুর্তি পছন্দ করে রায়ান কে দেখিয়ে নিজের গায়ের সাথে লাগিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“এটা কেমন?”
রায়ান মিরাকে দেখে সোজা বলল-
“নিয়ে নাও। তোমার শরীরে গেলে ভালো লাগবে।”
মিরা হতাশ হয়ে বলল-

“তার মানে জামা টা সুন্দর না, তাই তো?”
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরার কাছে গিয়ে কানে কানে ফিসফিস করে বলল-
“যে মানুষ টা তোমাকে জামা ছাড়া দেখতে পছন্দ করে তাকে এমন প্রশ্ন করলে উত্তর তো এমনি পাবে হৃদপাখি।”
মিরা রায়ানের দিকে রেগে বাঁকা চোখে তাকাতেই রায়ান ঠোঁট কামড়ে হেসে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সিরিয়াস হয়ে বলল-

“আর তা ছাড়া, it’s not the dress you know, being beautiful depends on who wears it..”
মিরা রায়ানের সাথে আর তর্কে না গিয়ে ওই ড্রেস টা নিয়ে নিল। এরপর আবার শপিং এর দিকে মন দিল। হঠাৎ রায়ানের একটা ফোন এলে রায়ান নিজের ফোন টা হাতে নিয়ে মিরাকে উদ্দেশ্যে করে বলল-
“Give me a second baby..তুমি দেখ যা নেওয়ার নিয়ে নাও। আমি কলটা নিয়ে আসছি।”
মিরা মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিলে রায়ান ফোনটা রিসিভ করে একটু দূরে যায় ভীর থেকে। রায়ান বাইরে থেকে মিরার দিকে নজর রেখেই কথা বলছিল। তখনি হঠাৎ রায়ানের পাশ কাটিয়ে তিনটে ছেলে নিজেদের মাঝে বলা বলি করে ঢুকলো-

“কই নিয়ে যাচ্ছিস?”
-“আরে আয় না, ওদিকেই আছে ওই মেয়েটা।”
-“কোন মেয়েটা?”
-“আয় দেখাচ্ছি। এতো সুন্দর মেয়ে আমি এর আগে কখনো দেখি নি। নীল রং এর ড্রেস পড়া।”
রায়ানের কপালে ভাঁজে একটু বিরক্তি দেখা গেলো মিয়াও আজ নীল কুর্তি পড়েছে। ছেলে গুলো ওই শপের ভিতরে ঢুকলো বলে রায়ান দ্রুত নিজের ফোনটা রাখলো-
“Ok ok..I have something important..I’ll catch up with you later.. Yeah by..”
রায়ান ঠিক ওই ছেলে গুলোর পিছন পিছন আবারো ওই শপের প্রবেশ করলো। বলা বাহুল্য ছেলে গুলো সত্যি মিরাকেই খোঁজার উদ্দেশ্যে সেখানে গেছে। রায়ান মিরার কাছে না গিয়ে ওই ছেলে গুলোর পিছনে দাঁড়িয়ে থেকেই তাদের কথা শুনলো।

একজন মিরার দিকে হালকা ইশারা করে অন্য জনকে বলল-“দেখ, ওই মেয়েটা কি সুন্দর।”
তার কথার সাথে অন্যজন সম্মতি ও দিলো -“সত্যিই রে, দেখে তো মনে হচ্ছে সিঙ্গেল।”
একটু আফসোস নিয়েই পরেরজন বলে উঠলো-“Her future husband would be the luckiest Bastard in the world..”
রায়ান এদের কথা শুনে এক গাল হেঁসে বিড়বিড় করলো-
“Luckiest bastard..! Yeah sure, I am.. Let me showoff a bit then..”
রায়ান ওই ছেলে গুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে বলল-
“মেয়েটা অনেক বেশি সুন্দরী তাই না?”
ওই ছেলে গুলো একটু অবাক হয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে ভাই ভাই সুলভ ভাবে নিয়ে বলল-
“হ্যাঁ ভাই, মাশাআল্লাহ।”

রায়ান একটু সিরিয়াস গম্ভীর গলায় বলল-
“আমি চাইলে মেয়েটাকে এখনি পটাতে পারি। Wanna bet?”
ছেলে তিনজন একে অপরের সাথে চোখাচোখি করলো। রায়ানের কথা তাদের বিশ্বাস হলো না। এতো তাড়াতাড়ি মেয়ে পটানো কিভাবে সম্ভব! তারাও রাজি হলো-
“Ok done bro.. go for it.. জিতে গেলে যা চাইবা তাই।”
রায়ান বাঁকা হেঁসে নিজের গায়ের কোর্ট টা ঠিক করে নিয়ে সোজা খটমট করে হেঁটে মিরার কাছে চলে গেল। মিরা রায়ানকে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“কথা বলা শেষ? কোনো ইম্পরট্যান্ট কাজ?”
ছেলে গুলো দূর থেকে শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। রায়ান তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মিরাকে আদেশ মূলক কন্ঠে বলল-

“Baby… Give me a kiss.. now…”
মিরা রায়ানের এমন হঠাৎ আবদারে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থেকে রায়ানকে নরম গলায় বলল-
“আপনার আবার হঠাৎ করে কি হলো? এটা পাবলিক প্লেস হাবি। বাড়ি ফিরে দিব, ওকে?”
রায়ান মিরার কাছে ঝুঁকে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল-
“তোমার মনে হয় বাড়িতে থাকলে আমি চাওয়ার প্রয়োজন বোধ করতাম? যা বলছি তা করো, Kiss me..here..right now..”
মিরা চার পাশের মানুষদের দিকে একটু খেয়াল করে তাড়াতাড়ি টুপ করে রায়ানের গালে একটা চুমু দিল যেন কেউ তেমন খেয়াল না করে। এরপর সাথে সাথে রায়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“শান্তি হয়েছে এবার? সরুন এখন।”

সামনের ছেলে গুলো দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে সম্পূর্ণ অবাক। এতো তাড়াতাড়ি একটা মেয়ের থেকে চুমু কিভাবে নেওয়া যায়! সবার মুখ হা হয়ে আছে।
রায়ান মুচকি হেঁসে মিরাকে এক হাতে জড়িয়ে নিয়ে তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল-
“তোমার সব নেওয়া হয়ে গিয়ে থাকলে চলে বিল পে করে দেই।”
মিরার আর কিছু কিনার ছিল না বলে তারা সোজা কাউন্টারে গিয়ে সব কিছুর বিল পে করে দিল। মিরাকে নিয়ে ওই ছেলে গুলোর সামনে থেকে যাওয়ার সময় রায়ান মিরাকে বলল-
“বেইবি, তুমি আগাও একটু আমি আসছি।”
মিরা দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এগিয়ে গেলে রায়ান ওই ছেলে গুলোর সামনে এসে দাঁড়ায়। ছেলে গুলো সম্পূর্ণ অবাক হয়ে রায়ান কে প্রশ্ন করলো-

“How did you do that bro.?!”
রায়ান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-
“Get a wife and do it bro..!”
ছেলে গুলো ভয়ে এক পা পিছিয়ে গিয়ে শুকনো ঢোক গিলতে শুরু করলে রায়ান নিজের হাত বাড়িয়ে বলল-
“Hi, It’s Rayan chowdhury, world’s Luckiest bastard..নজর আর মুখ একটু সামলে…”
ছেলে গুলো সাথে সাথে রায়ানের হাত ধরে নিজেদের দোষ স্বীকার করে মিনতি করে বলল-
“দুঃখিত ভাই। আমরা বুঝি নি। So sorry…!”
রায়ান একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল-
“বেট জেতার শর্ত অনুযায়ী যা বলবো তাই করা উচিত। তাই না?”
ছেলে গুলো নিজেদের মাথা ঝাকালে রায়ান শান্ত গলায় বলল-
“ভদ্রলোকের মতো আমার বউয়ের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলে বিষয় টা ভালো হবে।”
ছেলে গুলো একসাথে বলে উঠল-

“ঠিক আছে ভাই। আমরা ক্ষমা চাইতে রাজি।”
রায়ান তাদের সামনে থেকে যাওয়ার সময় আবার একটু হুমকি সূচক গলায় বলল-
“Remember to Call her ভাবি।”
রায়ান এগিয়ে গিয়ে গেল মিরার দিকে। আর পিছন থেকে ওই ছেলে গুলোও একসাথে এসে মিরার সামনে হঠাৎ দাঁড়িয়ে মিরার কে একাধারে বলতে লাগলো-
“আমরা দুঃখিত ভাবি। ক্ষমা করে দিন।…”
মিরার চোখে মুখে একদম অদ্ভুত আশ্চর্যতা ভেসে আছে-
“Excuse me.. কে আপনারা?”
রায়ান মিরার পাশে এসে দাঁড়িয়ে তার কমোর জড়িয়ে ধরে বলল-
“Let’s go baby.. আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
মিরা অবাক হয়ে রায়ান কে জিজ্ঞেস করলো-
“ওরা কারা? ক্ষমা চাইলো যে!”

-“ধুর বাদ দেও। ওসব পাগল ছাগল। কোত্থেকে আসছে কে জানে।”
মিরার সম্পূর্ণ বিষয়টাই অদ্ভুত লাগলো কিন্তু কিছু করার নেই। তাই আর মাথা ঘামালো না।
মিরা আগে আগে হাঁটছিল আর রায়ান ঠিক তার পিছন পিছন। মিরা খেয়াল করছিল যারাই তাদের পাশে দিয়ে যাচ্ছে সবাই কেমন কানাকানি করে কথা বলে বলে যাচ্ছে আর মেয়ে গুলো বারবার রায়ানের দিকে তাকাচ্ছে মিটিমিটি হেঁসে। মিরা বিরক্ত হয়ে নিজের হাঁটার গতি কমিয়ে রায়ান বরাবর দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করলো। এতেও তাঁর মনে শান্তি হচ্ছিল না বলে নিজেই রায়ানের বাহু জড়িয়ে ধরলো। রায়ান মিরার দিকে তাকালো কিন্তু মিরা এসেই দিকে নজর না দিয়ে ঠিক কিভাবে রায়ান কে নিজের বলে দাবি করা যায় সেই দিকে মন দিল। রায়ান শপিং ব্যাগ গুলো নিজের এক হাতে নিয়ে নিল যেন মিরা ঠিক মতো তার হাত ধরতে পারে, এতে মিরার সুবিধা হলো। মিরার নজর পড়লো সামনে থেকে যেই মেয়েই যাচ্ছে সবাই রায়ানের বুকের দিকে তাকাচ্ছে। মিয়াও তাদের নজর অনুসরণ করে তাকিয়ে দেখলো রায়ানের শার্টের উপরের দুটো বোতাম খোলা, যার দরুন তার পুরুষালি বুকের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। মিরা বিরক্তিতে নিজের ছোট ছোট করে করে নিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-

“কি একটা অবস্থা! এখন দেখা যাচ্ছে বরটাকে নিয়ে বেরও হওয়া যাবে না। কি এক যুগ পড়লো ছেলেরাও সেফ না বাইরে। উফ্, অসহ্যকর!”
মিরা রায়ানের হাত ধরে টেনে মলের সিঁড়ির দিকে নিয়ে গেল। রায়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“বেইবি ওই দিকে কোথায় যাচ্ছ? ওইটা সিড়ির সাইট। মলে এসে সিঁড়ি কে ইউজ করে?”
-“আমি করবো। সিঁড়ির বুঝি মন খারাপ হয় না যে ওকে কেউ ইউজ করে না!”
-“কিহ্! সিঁড়ির আবার মন খারাপ?!”

মিরা রায়ানের কথা না শুনে সত্যিই সিঁড়ির জায়গায় গিয়ে সিঁড়ির গেইট টা লক করে রায়ান কে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে দিলো। রায়ান বেচারা হতবাক। মিরা রেগে নিজের পায়ের পাতায় ভর দিয়ে উঁচু হয়ে রায়ানের কলার ধরে শার্টের খোলা বোতাম গুলো লাগিয়ে দিতে দিতে বলল-
“মিস্টার চৌধুরী, বডি থাকলেই সেটা দেখিয়ে বেরাতে হয়না। You have a beautiful wife… বউয়ের হোক নষ্ট করলে পাপ হবে। Your boby is mine to see and mine to Charis…”
রায়ান মিরার মুখে এমন কথা শুনে পুরোই অবাক। তার পিচ্চি বউ এমন হিংসুটে তা তো সে জানতো না। কিন্তু এতে তার মনে অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করলো। রায়ান হঠাৎ মিরার হাত ধরে ধরে তাকে আটকে দিয়ে আবার বোতাম গুলো খুলে দিয়ে বলল-

“কিন্তু এতো কষ্ট করে বডি বানিয়ে লাভ কোথায় ওয়াইফি? যদি শোঅফই না করি! Don’t you think your husband deserves some attention..?”
মিরা ভালোই বুঝতে পারছে রায়ান ইচ্ছে করে তাকে জ্বালাতে এই কথা গুলো বলছে। কিন্তু বউ হিসেবে স্বামীর দূর্বলতাও যে সে জানে। তার সুযোগ না নিলে কি আর হয়! মিরা এবার আর রায়ানের গলা জড়িয়ে বেশ রোমান্টিক গলায় ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ঠিক ঠিক। You deserve that..hubby, do you think I have a good figure..?”
রায়ান মিরার প্রশ্নে একটু দূর্বল হয়ে গেল। রায়ান শুকনো ঢোক গিলে চোখ নিচু করে মিরাকে সম্পূর্ণ দেখে হাতের শপিং ব্যাগ গুলো ফেলে দিয়ে নরম ছোঁয়ায় মিরার কোমর দুই হাতে জড়িয়ে ধরে মিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-

“You do baby..the hottest one…And now you are driving me crazy like hell…”
মিরা রায়ানের চুলে হাত রেখে রায়ান কে নিজের গলায় আরো একটু অধিকার দিয়ে রায়ান কে রাগাতে বলল-
“এতো কষ্ট করে মেইনটেইন করা ফিগার। আমার ও কি শোঅফ করা উচিত না?”
রায়ানের কানে কথা টা যেতেই রায়ান বুঝলো কথাটা কিসের প্রেক্ষিতে এসেছে। তবে রাগ হলো ষোলো আনা। রায়ান মিরার কোমরে নিজের হাতের স্পর্শ আরো শক্ত করতেই মিরা আর্তনাদ করে উঠলো-“আহ্, লাগছে।”
রায়ান মিরার গলা থেকে নিজের মুখ তুলে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল-
“আর কখনো উল্টো পাল্টা বললে, এরচেয়েও বেশি লাগবে। You are mine..even whatever you have belongs to me only..”
মিরা এবার ইচ্ছে করে রায়ান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“If you are done showing off, will you please shut those fucking buttons..! ”
রায়ান মিরার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে নিজের শার্টের বোতাম গুলো লাগিয়ে নিয়ে মিরার মাথায় হাত রেখে ট্যাপ করে বলল-

“দিন দিন সেইমলেস হয়ে যাচ্ছ তুমি হৃদপাখি।”
মিরা চোখ বাঁকিয়ে সোজা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে কবিতার লাইনের মতো বলল-
“Tum karo to sehi hum kare to…
Kiyu galat bat hey….?”
রায়ান হেঁসে উঠে শপিং ব্যাগ গুলো উঠিয়ে নিয়ে সিঁড়ির দিয়েই নামতে থাকলো মিরার পিছন পিছন আর মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“বাড়িতে চলো। ধীরে সুস্থে বোঝাবে- kiyu galat bat hey…”

এই একই সময়ে মাহির আর সোরায়া পুরো মল টা ঘুরে ঘুরে দেখছিল। তাদের তেমন কিছু কেনার ছিল না তবুও ঘুরতে ঘুরতে বেশ অনেক কিছুই কেনা হয়ে গেছে। সোরায়া বাচ্চা মানুষ তাই এখনো বিরক্তি তার চোখে মুখে দেখা যাচ্ছে না। সোরায়া নেচে নেচে চলাচল করছে মাহির এর সাথে। মাহিরের দুই চোখে একটা ছোট পরীর রাজত্ব চলছে আর এতে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। হঠাৎ করে সোরায়া থমকে দাঁড়ালো। মাহির ধীর পায়ে সোরায়ার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল-
“কি হলো? হঠাৎ থেমে গেলে কেন?”
সোরায়া মলের লিস্টের পাশে একটা ছোট্ট ফুড কার্ট এর দিকে তাকালো। মাহির সে দিকে তাকাতেই তার মাথায় এলো- এতক্ষণ সময় ধরে সোরায়া কিছু খায় নি। মাহির একটু সিরিয়াস হয়ে সোরায়ার দিকে ঝুঁকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“আমার জান বাচ্চার খিদে পেয়েছে?”
সোরায়া মাথা হ্যাঁ সূচক নেড়ে বলল-
“খিদে পায় নি। তবে…!”
-“তবে কি?”
সোরায়া আঙুল তাক করে দেখিয়ে বলল-
“ওইটা লাগবে।”
মাহির সেই দিকে তাকিয়ে দেখলো- চিজ স্টিক..!
মাহির সোরায়ার মাথায় হাত দিয়ে ট্যাপ করে বলল-
“লাগবে যখন চলো… দিচ্ছি।”
সোরায়া দাঁত বের করে হিহি করে হেঁসে মাহিরের সাথে ওই দিকে গিলো। ভীর ছিল বলে মাহির সোরায়া কে একটা খালি জায়গায় দাঁড়া করিয়ে দুই কাঁধে হাত রেখে বলল-

“তুমি চুপচাপ এখানে দাঁড়াও। আমি নিয়ে আসছি।”
সোরায়া মাথা ঝাঁকালো। এরপর মাহির ভীরের মধ্যে চিজ স্টিক কিনতে গেল। সোরায়া এক জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু মাহির কে দেখছে- মাহির কে তার জন্য এতো কিছু করতে দেখে সে বেশ খুশি। সোরায়া নিজের ফোনটা বের করে ক্যামেরা অন করে গোপনে মাহিরের ছবি তুলতে চেষ্টা করলো। মাহির সোরায়ার উপর নজর রাখতে যখনি ভীরের মাঝে থেকে সোরায়ার দিকে তাকায় সোরায়া তখনি চট করে ফোন নামিয়ে নেয় যেন মাহির না বুঝতে পারে। মাহির সোরায়ার দিকে তাকালে সোরায়া মুচকি হেঁসে অন্য দিকে চোখ ঘুরিয়ে নেয় বলে মাহির ও নিজের ফোনটা বের করে সোরায়ার ছবি তুলতে চেষ্টা করলো গোপনে। যানা সোরায়া তার দিকে তাকায় তখনি সে ফোন নিচে করে ফেলে। এভাবে করে তাদের লুকোচুরি খেলার এক পর্যায়ে মাহির গরম গরম চিজ স্টিক কিনে সোরায়ার কাছে এসে সোরায়ার হাতে সেটা দিলো-

“নিন ম্যাডাম। আপনার অর্ডার।”
সোরায়া উৎসাহিত হয়ে সেটা হাতে নিয়ে বলল-
“থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।”
সোরায়া খাওয়ার জন্য চিজ স্টিকটা কামড়ে মুখে নিতেই মাহির চেঁচিয়ে উঠলো-
“আরে ওটা গরম তো..!”
কথা বলতে বলতে সোরায়া সেটায় কোমড় দিয়ে মুখে একটু অংশ নিয়ে নিয়েছে। অতিরিক্ত গরমের জন্য মেয়েটার জিভ পুড়েই গেছে। সোরায়া গরমের জন্য চিৎকার করলো-
“আআআ, হুহুহুহু,…!”
মাহির তখন কি করবে বুঝতে না পেরে নিজের হাত আগে পেতে দিলো-
“বের করো, ফেল ওটা মুখ থেকে।”
সোরায়া স্তব্ধ হয়ে গেল, কি করবে? এভাবে কারো হাতে মুখের এঁটো কিছু কিভাবে ফেলবে! মাহির হাত আরো সোরায়ার মুখের কাছে ধরে বলল-
“আরে ফেলে না কেন? মুখ জ্বলে যাবে।”
সোরায়া তবু ফেললো না। উল্টো চোখ বন্ধ করে মাথা ডানে বামে নেড়ে না বলে চিৎকার করতে শুরু করলো-
“উউউমমম…!”

মাহির সোরায়ার চোখে পানি ছলছল করতে দেখে সাথে সাথে সোরায়ার চোয়াল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে সোরায়ার মুখ হা করে নিজের মুখের কাছে এনে ফু দিতে শুরু করলো। সোরায়ার শরীর বরফের মতো জমে গেছে রীতি মতো। মাহির এখন কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছে না কেবল লাগাতার সোরায়ার মুখে ফু দিয়ে যাচ্ছে। সোরায়ার চোখ একদম ছানাবড়া হয়ে আছে। সোরায়া মাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখলো মাহিরের চোখে মুখে অদ্ভুত গম্ভীরতা। সোরায়ার শরীর একদম ছেঁড়ে দিচ্ছে হঠাৎ করে। মাহির সোরায়াকে দূর্বল হতে দেখে ফু দেওয়া বন্ধ করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখলো। সোরায়ার শরীর হঠাৎ করে খুব কাঁপছে, চেহারা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মলিন হয়ে গেছে। মাহির সোরায়াকে শক্ত করে নিজের সাথে জাড়িয়ে নিয়ে তার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বলল-

“Relax, relax, it’s fine..আমি আছি।”
সোরায়া মুখের খাবার টুকু কোনো মতো গিলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাহিরের বুকে লেপ্টে থাকলো। হাত পা এখনো থরথর করে কাঁপছে। আশে পাশের কিছু মানুষ মাহিরকে বলল-
“ভাই উনাকে একটু সিঁড়ির দিকে নিয়ে যান। ওইদিকে কেউ যায় না। খালি যায়গায় একটু ভালো লাগবে হয়তো।”
মাহির তাদের কথা শুনে সোরায়া কে নিজের কোলে তুলে নিয়ে সিঁড়ির দিকে গেল। সোরায়া কিচ্ছু বলছে না। মাহির সিঁড়ির দিকে এসে সেখান কার দরজা লাগিয়ে দিয়ে সিঁড়ি যে বসলো সোরায়া কে নিয়ে। সোরায়া মাহিরের গলায় মুখ গুজে পড়ে আছে, সম্পূর্ণ স্থির। মাহির সোরায়ার মাথায় হাত রেখে বলল-
“এখানে কেউ নেই তো। কি হয়েছে জান? কথা বলো।”
সোরায়া আরো শিটিয়ে গেলো মাহিরের কোলে। ছেলে হিসেবে মাহিরের অবস্থাও খারাপ হওয়ার পথে। মাহির সর্বোচ্চ চেষ্টা করে নিজেকে সামলে সোরায়াকে বলল-

“জান কথা বলো। কি হচ্ছে তোমার? সমস্যা কোথায় আমাকে বলল।”
সোরায়া নিজের মুখ উঠিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় জিজ্ঞেস করলো-
“আপনি ওইভাবে কেন ফু দিলেন?”
মাহির চুপ হয়ে গেল। তখন তার মাথায় আর কি আসেই নি করার মতো। মাহির জবাবে একটু ধীর কণ্ঠে বলল-
“তোমাকে ওইভাবে দেখে আমার মাথায় আর কিছু আসে নি। তুমি তো আমার হাতে ফেললে না , আমি আর কি করতাম বলো? তোমার চোখের পানি দেখে ভয় পেয়ে গেছিলাম।”
সোরায়া মাহিরের দিকে তাকালে মাহির সোরায়ার চোখের অবশিষ্ট পানিটুকু মুছে দিয়ে বলল-
“I am sorry..so sorry..কাঁদে না।”
সোরায়া মাহিরকে আবারো জড়িয়ে ধরে মৃদু হেসে বলল –

“Thank you…”
মাহির পরিবেশ স্বাভাবিক করতে সোরায়ার সাথে মজা করে বলল-
“শুধু থ্যাংক ইউ?”
সোরায়া চোখ তুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে মাহিরকে দেখলো। আর পরেই নিজের হাতে থাকা চিজ স্টিক টা মাহফিলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল-
“এটা নিয়ে নিন আমি খাবো না।”
মাহির সোরায়ার হাত থেকে ওই টা নিয়ে পাশে যে ডাস্টবিন ছিলে সেটায় ছুড়ে ফেলে বলল-
“এটা আর খেতেও হবে না। তোমার আমিও খাবো না। আর এই থ্যাংক ইউ মোটেও এ্যাক্সসেপ্টেবল না।”
সোরায়া খুব চিন্তায় পড়ে গেল। কিন্তু এতো মুভি দেখে উপন্যাস পড়ার সুফল অনুযায়ী কিছু একটা ভেবে মাহিরের গলা জড়িয়ে ধরে টুপ করে তার গালে নিজের ঠোঁট রেখে একটা আলতো চুমু খেয়ে মাহিরের কোলে থেকে উঠে যেতে চাইলো। হঠাৎ করে ঘটায় মাহির কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না কিন্তু সাথে সাথে সোরায়ার কোমর আঁকড়ে ধরে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো আবারো। সোরায়া ধরা পড়ে যাওয়ার পর মাসুম চেহারা করে মাহিরের দিকে তাকিয়ে রইল। মাহির কয়েকবার পলক ফেলে সোরায়াকে জিজ্ঞেস করলো –

“কি করলে তুমি মাত্র?”
-“থ্যাংক ইউ বললাম।”
-“হয় নি..আবার…!”
-“কি আবার?”
-“ওই থ্যাংক ইউ…আবার দাও।”
সোরায়া লাজুক হেঁসে বলল-
“পারবো না।”
মাহির বেচারা বড্ড অসহায় মনে সোরায়াকে বলল-
“জান, সত্যি বলছি.. কসম। আমি একটুও প্রস্তুত ছিলাম না। প্লিজ আরেকবার।”
সোরায়া মাহিরের অবস্থা দেখে মনে মনে হাসছে। সে মাহিরের কোল থেকে নামার চেষ্টা করে বলল-
“আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে তো দিন আগে। বাচ্চাদের মতো কোলে নিয়ে বসে আছেন কেন?”
মাহির সোরায়ার কোমর আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল-
“জান এমন কেন করছো? একটু বোঝো আমাকে। আর বলবো না। I am fully prepared now..One more please…”

মিরা আর রায়ান পাঁচ তলা থেকে নামতে নামতে নিজেদের মতো কথা বলতে শুরু করলো। মিরা বাকিরা আলাদা আলাদা ঘুরছে বলে রায়ান কে বলল-
“আচ্ছা আমারা এসেছিলাম একসাথে ঘুরবো বলে আর এখন সবাই আলাদা আলাদা। রিমি আর রুদ্র ভাইয়া না হয় স্বামী স্ত্রী শপিং করছে। মাহির ভাই আর বনু কোথায়? একটু কল দিন না মাহির ভাই কে।”
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করলো-
“কি যে বলি! আমার নিজেরই চিন্তা হচ্ছে।”
তার পর মিরাকে নিশ্চিত করতে বলল-
“চিন্তা করো না মাহির দায়িত্ব ছেলে। সোরায়া নিরাপদে থাকবে। দাঁড়াও আমি কল করছি। তুমি এগোও।”
মিরা নিচে নামতে থাকলো রায়ান একটু দাঁড়িয়ে গেলো।

মাহির সোরায়াকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরে মিনতি করে বলল-
-“সোরা, প্লিজ! I am just a man… don’t do this to me..”
মাহিরের অনেক অনুরোধের পর সোরায়ার খুব মায়া হলো। তাই আবারো আলতো করে নিজের ঠোঁট জোড়া মাহিরের গালে ছোঁয়ালো। মাহির নিজের চোখ বন্ধ করে নিয়ে সেই মুহূর্ত টুকু অনুভব করলো। মাহির সোরায়ার মুখটা নিজের দুই হাতের মাঝে নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
“I love you… So so so much..”

আরো কিছু হওয়ার আগেই মাহিরের ফোনটা বাজলো। বলা বাহুল্য রায়ানই কল করেছে। মাহিরের ওই সময়ে আর রায়ানের কল ধরতে ইচ্ছে হলো না তাই ফোনটা বাজতে বাজতে কেটে গেল। মাহির সোরায়াকে নিজের কোল থেকে নামিয়ে দাড়া করানোর সাথে সাথে হঠাৎ কোথা থেকে রায়ান চেঁচিয়ে উঠলো-
“হৃদপাখি, মাহির আর সোরা ঠিক আছে আমার কথা হয়েছে।”
মাহির এক সিঁড়ি উপরে তাকালো‌। রায়ান পিছন থেকে মিরাকে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো এখানে দাঁড়িয়ে গেলে কেন? মাহির বলল ওরা এখানে কোথাও একটা আছে চলো।”
মিরা হতভম্ব হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে বলল-

“হুম, দেখতেই পাচ্ছি। এখানেই আছে।”
রায়ান মিরার দৃষ্টি অনুসরণ করে সোজা তাকিয়ে মাহির আর আর সোরায়াকে একসাথে দেখলো। মাহির মিরা আর রায়ানকে ওই অবস্থায় দেখে সম্পূর্ণ সক্ড। সোরায়া মিরার উপস্থিতিতে যেমন লজ্জিত তেমন ভয়ার্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মাহির সোরায়াকে দেখে তার হাত নিজের হাতে নিয়ে দাঁড়ালো। মিরা দুজনের হাতের বাঁধন দেখে রাগে যেন আরো ফেটে পড়ছে। রায়ান একবার সামনে মাহির আর সোরায়াকে দেখছে একবার মিরাকে। সোরায়া ভয়ে মাহিরের হাতে হাত রেখে তার পিছনে লুকিয়ে গেল। মাহির সোরায়াকে নিজের পিছনে আড়াল করে মিরাকে কিছু বলার চেষ্টা করলো-

“ভাবি, আপনি আমাদের ভুল বুঝবেন না প্লিজ। Let me explain us….”
মিরা মাহিরের কথায় নিজের হাত উঠিয়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে সোজা সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল যেন সে কিছু দেখেনি। রায়ান পিছন থেকে মিরাকে বোঝাতে চাইলো-
“হৃদপাখি, একবার আমার কথাটা শোনো তু..!”

রায়ানের আওয়াজ আসতেই মিরা পিছন ফিরে রায়ানের দিকে তাকালো যেন চোখ দিয়েই গিলে ফেলবে। তার চোখের রায়ানের জন্য কোনো বিশ্বাস নেই এখন। রায়ান আর কিছু বলতেও পারলো না একটু আগেই মিথ্যে বলেছে নিজের বন্ধুর জন্য। মিরা সোজা তাকিয়ে নিচে নেমে গেল একবার ও সোরায়ার দিকে তাকায়নি। মিরা নেমে গেলে রায়ান মাহিরের সামনে গিয়ে পিছনে উঁকি দিয়ে সোরায়া কে দেখে বিরক্ত গলায় মাহিরের উদ্দেশ্যে বলল-

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬১ (২)

“তুই আমার পিঠ পিছে আমার বোনকে পটাচ্ছিলিস?”
রায়ান মাহির সোরায়াকে পছন্দ করে জানলেও তাদের রিলেশন সম্পর্কে জানতো না। মাহির সোরায়ার হাত ধরে থেকেই রায়ান কে বলল-
“তোর সামনেই পটিয়েছি। তুই অন্ধ ছিলিস এখানে আমি কি করবো।”

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬৩