Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩০

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩০

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩০
কায়নাত খান কবিতা

—- আমার হয়ে থাক রানি করে রাখবো, বেশি তেড়িবেড়ি করলে জ্যান্ড পুতে আসবো।’’
কিংশুকের শীতল মস্তিষ্ক থেকে ছুড়ে আসা ভয়ংকর হুমকিতে অরিন মুহূর্তে চুপসে যায়।
এক নিমিষেই তার চোখের কোণে জমে ওঠে অশ্রুর ছায়া। কিন্তু কাঁদলে কীই বা বদলাবে? ভাগ্য তার জন্য ঠিক করে রেখেছে এই নিষ্ঠুর পরিণতিটাই। অরিনের বড়ো জানতে ইচ্ছে করে। যেখানে স্বাধীনতার অস্তিত্ব নেই, সেখানে কি আদৌ কোনো ভালোবাসা টিকে থাকতে পারে?
অরিনের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এক দীর্ঘ, ভারী নিঃশ্বাস। কিংশুককে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার কাছে।

—- আমি আর পালাবো না কিং।’’
একফোঁটা ম্লান হাসি খেলে যায় কিংশুকের মুখে। অরিনের গ্রীবায় মুখ গুঁজে সে নিঃশব্দে তার চুলের ঘ্রাণে নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
—- সেটা তুমি চাইলে ও পারবে না বেবি গার্ল।’’
সময় যত গড়িয়ে যায়, অরিনের অস্বত্বি ততই স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। কিংশুকের তীব্র বাসনা ও স্পষ্ট হতে থাকে। কিংশুক ধীরে উঠে অরিনের বাহু ধরে দৃঢ় টানে তার মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়।
এক মুহুর্ত ও বিলম্ব না করে অরিনের স্কন্ধে মুখ গুঁজে দেয় কিংশুক। টুকরো টুকরো চু’মুতে ভরিয়ে দেয় অরিনের সম্পূর্ণ গ্রীবা।

অরিনের শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে ভারি হতে থাকে। কন্ঠদেশে কামড়ের অনুভূতি হতেই অজান্তেই অরিনের আঙুলগুলো শক্ত করে খামচে ধরে কিংশুকের স্কন্ধের অংশটুকু।
কিংশুকের হাতের বাঁধন আরো শক্ত হতে থাকে। অরিনের কোমর আরো শক্ত করে ধরে তার কন্ঠদেশে ছোটো ছোটো কামড় দিতে থাকে কিংশুক।
কিংশুকের এই অতিমাত্রায় বিলীন হয়ে যাওয়ার ভার সামলে উঠতে পারে না অরিন। মুখ থেকে অস্পষ্ট আর্তনাদ বেরিয়ে আসতে থাকে। অপরপ্রান্তে অরিনের এই অস্পষ্ট আর্তনাদ গুলো আরো মোহনীত করে তুলে কিংশুকের মনবাঞ্ছা গুলোকে।

—- কিং… কুল ডাউন।’’
মুখ তুলে তাকায় কিংশুক অরিনের পানে। কোনো প্রকার অগ্রীম সর্তকতা না দিয়েই দখল করে নেয় অরিনের উষ্ণ অধর যুগল।
তার অবাঞ্ছিত হাতের ছোঁয়া গুলো অরিনের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর অংশে চলে যায়। প্রচন্ড নাজেহাল করে তোলে অরিনকে।

কিংশুককে এতো ডেস্পারেট হতে কখনো দেখেনি অরিন।এতোটা অধৈর্য হতে কখনোই তাকে দেখা যায়নি।
কিংশুকের প্রবল আগেবের চোটে অরিনের জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়ে আসে।
এক মুহুর্তের জন্য ও কিংশুক ছাড়ে না অরিনের অধর যুগল। ওষ্ঠের সাথে ওষ্ঠের লড়াই ক্রমশো বাড়তে থাকে। এক হাতে অরিনকে হালকা উঁচু করে ধরে বেড সাইটে চলে যায় কিংশুক। হালকা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় অরিনকে বেডে।
দ্রুত পায়ে উঠে সব ইউন্ডো বন্ধ করতে থাকে কিং। অপরপ্রান্তে কিংশুককে সব কিছু বন্ধ করতে দেখে বুকটা ভারি হয়ে আসে অরিনের, এই বুঝি কোনো অঘটন ঘটলো।
দ্রুত পায়ে উঠে দরজার কাছে চলে যায় অরিন। আর এক মুহুর্ত ও নয়, কিন্তু পাসওয়ার্ড টাইপ করার আগেই পিছন থেকে শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে কিং।

—- নট টুডে বেবি গার্ল।’’
— কিং…!’’
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই অরিনকে কোলে তুলে নেই কিংশুক।
—– রেডি জান?’’
বিছানায় ছুঁড়ে মা রে কিংশুক অরিনকে। নিজের দুই হাতের ভর দিয়ে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করে অরিন। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কিংশুক তার পায়ে টান দিয়ে , তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।এবং নিজের শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে দেয় অরিনের ওপরে।এক হাত দিয়ে অরিনের দুই হাত শক্ত করে ধরে ফেলে। এতোটায় জোরে ছিলো যে হাত ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়ে এসেছিল। অরিন ব্যাথায় কাতরাতে থাকে।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২৯

—কিং?’’
— থামাতে পারবে না।’’
কিংশুকের মা দকাময় কন্ঠস্বর বলে দিচ্ছে আজকে আর তাকে আটকাতে পারবে না অরিন। তার সাধ্যি নেই কিংশুককে আটকানোর।
—- দিস ইজ মাই ফার্স্ট টাইম কিং।’’
—- এন্ড আই ওয়োন্ট বি জেন্টাল। সরি।’’

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩১