আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৩ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি
গাড়িতে বসা দুজন সুকন্যা। যাদের সাহায্যদাতা একজন মাত্রই পুরুষ। সে পুরুষটি আবার পুলিশের কর্মকর্তা। অধিকাংশ বাঙালি পুলিশদের স্বভাবজাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমনটি হয়, এই অফিসার তার সম্পূর্ণই ভিন্ন প্রকৃতির যেন মাভিশার কাছে। ধারাল চোয়ালের সৌম্যদর্শন মুখটিতে উদগ্র গাম্ভীর্যভাব আর ভীষণ দাম্ভিকতা। কোমলতা না থেকেও অথচ বিনয়ী আচরণও প্রকাশ করে সে দারুণ কৌশলে। কিন্তু ভাবনা মূলত এসব নয় এ মুহূর্তে মাভিশার। ইয়াসিফ শেখ সম্পর্কে যেমন তথ্য পেয়েছিল সে, তাতে অপরূপা নারীদের হীরা পাওয়ার মতোই কদর ইয়াসিফের কাছে। এবং সে তথ্য অনুযায়ী সারা সময়ই তবে বিভিন্নরকম গল্পে মশগুল থাকার কথা এখন ইয়াসিফের। অথবা দুই নারীকেই ইমপ্রেস করার প্রচেষ্টা করবে সে। কিংবা সাহায্যের বিনিময়ে সুবিধা আদায় করে নিতে চাইবে। কিন্তু সেসবের কিছুই তো দেখা যাচ্ছে না ওর মাঝে! তবে কি ওই তথ্যগুলো সবই ভুল ছিল? একজনের থেকে তো এমন তথ্য মেলেনি, বেশ ক’জন মানুষ ওর সম্পর্কে একই কথা বলেছিল। প্রত্যেকেই নিশ্চয়ই মিথ্যা বলবে না? কিছু একটা ব্যাপার তো আছেই। হয় ইয়াসিফ নিজেকে সেভাবে মেলে ধরছে না ওদের কাছে কোনো কারণে। অথবা ইয়াসিফ পুরুষটি এমনই— নিজের সুর্দশনতার জন্য প্রচণ্ড অহংকার ওর।
গাড়িটা আচমকাই ব্রেক কষল। জাগ্রত মাভিশা চোখ বুজে ইয়াসিফকে নিয়ে এমন ধ্যানে ছিল যে, সে মাত্রাতিরিক্তই ভয় পেল অ্যাক্সিডেন্ট হলো কি না ভেবে। ঝট করেই চোখে খুলে সোজা হয়ে বসল। আতঙ্ক স্বরে সামনে দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করল, ‘কী হলো? এভাবে গাড়ি থামালেন কেন?’
ফ্লোরেন্স সিটে মাথা এলিয়ে নির্লিপ্ত চোখেই জানালার বাইরে চেয়েছিল সারা সময়। মাভিশার আতঙ্কিত কণ্ঠে ঘাড় সোজা করে সামনের দিকে চেয়ে দুজনকেই জিজ্ঞেস করল সে, ‘ইজ এভরিথিং ওকে?’
ইয়াসিফ পিছু ফিরে আশ্বস্ত করল, ‘অল ফাইন। মাভিশা আপা দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেয়েছে মনে হয়!’
-‘আপনার অ্যাড্রেস করার ধরনটা আমি একদমই পছন্দ করছি না।’ শক্তভাবে বলল মাভিশা।
ইয়াসিফ শুধু মুচকি হাসল এ কথায়। ওদের দুজনকে প্রস্তাব দিলো, ‘এই হালকা বৃষ্টি ওয়েদারে আপনাদেরকে টং দোকানের চা আর টোস্টবিস্কিট খাওয়াতে চাই। সেই সাথে বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ঠান্ডা বাতাস গায়ে মাখলেন, চোখে-মুখেও পানির ঝাপটা দিলেন৷ ভালো লাগবে কথা দিচ্ছি। বিশেষত ফ্লোরেন্স আপা।’ বলেই সে আরেকবার পিছু ফিরে তাকাল। তারপর বলল, ‘আমার এই সামান্য আতিথেয়তা গ্রহণ করেন প্লিজ।’
ফ্লোরেন্স চারপাশটা দেখল একবার৷ রাস্তাটা শুনশান খুব। রাতটাও গভীর। কিন্তু সামনেই একটা দোকান দেখা যায়। টিভিও চলছে সেখানে৷ তবে দোকানদারকে চোখে পড়ল না।
-‘নিশ্চয়ই করব৷ চলুন।’ স্মিত হেসে সম্মতি দিলো ফ্লোরেন্স।
কিন্তু নিমরাজি হলো মাভিশা, ‘এমন ফাঁকা জায়গায় আমাদের দুজনের নামাটা কি ঠিক হবে? বলা তো যায় না বিপদ ওঁত পেতে আছে কি না!’
-‘একটু ন্যাকামো মার্কা কথা হয়ে গেল না? যেখানে স্বয়ং আমি পাশে আছি।’ বিরক্তি নিয়েই বলে গাড়ি থেকে নামল ইয়াসিফ। ফ্লোরেন্সকে নামতে ইশারা করে মাভিশাকে বলল, ‘তুমি চাইলে ভেতরে বসেই খেতে পারো। নামতে হবে না।’
ফ্লোরেন্স কাঁধের ব্যাগটা থেকে পানির বোতল বের করে নিয়ে বাইরে এলো। পথঘাট তার অচেনা বলে জিজ্ঞেস করল, ‘আমরা এখন কতদূর ঢাকা থেকে?’
মাভিশার দিকে আড় নজরে একবার তাকিয়ে মোবাইল ফোনে সময়টা দেখে নিয়ে ইয়াসিফ জানাল, ‘আর ঘণ্টা দুইয়ের মতো লাগবে ঢাকা ঢুকতে। ভোর ছ’টার মধ্যে ঢুকে পড়তে পারব। চলেন এগোই আমরা।’
ফ্লোরেন্স মিষ্টি হেসে জানালার সামনে এসে মাভিশাকে ডাকল, ‘ওন্ট য়্যু কাম সিস্টার? লেটস গো।’
মাভিশা কিছুটা অপ্রতিভ হলো। কেননা, এতক্ষণ দুটো মেয়ে এক সঙ্গে গাড়িতে বসে। অথচ সৌজন্যবোধ থেকেও সে কোনো কথা বলার আগ্রহবোধ করেনি৷ কিন্তু বিদেশিনি মেয়েটা ঠিকই সহজভাবে কুশলতা দেখাল৷ ব্যাপারটা আসলেই ন্যাক্কারজনক। কী ধারণা পোষণ করবে মেয়েটা বাঙালি মানুষদের আন্তরিকতা নিয়ে? নাহ, একদমই উচিত হয়নি এমন অসামাজিক আচরণ করে। কিন্তু আবার এ মুহূর্তেও বাইরে বের হতে ভালো লাগছে না তার। তাকে নিয়ে ইয়াসিফের ওই ‘ডোন্ট কেয়ার’ অভিব্যক্তি অহংবোধে আঘাত করছে খুব৷ যার জন্য অত্যন্ত মেজাজ খারাপ তার ইয়াসিফের ওপর। তাই ইয়াসিফের ঢঙের আতিথেয়তাও গ্রহণ করার মতো প্রফুল্ল মন এই মুহূর্তে নেই। ফ্লোরেন্সকে হাসি ফিরিয়ে দিয়ে সে বলল, ‘থ্যাঙ্ক য়্যু, ফ্লোরেন্স। কিন্তু আমার খুব ঘুমঘুম পাচ্ছে। ঢাকায় পৌঁছনো অবধি ছোটো একটা ঘুম দিতে চাই৷ তাই আর চা খাবো না। তোমরা যাও, আমি বসি।’
ইয়াসিফ দাঁড়িয়ে ফোন দেখতে দেখতে দুজনের কথোপকথন সবটাই শুনছিল আর উপহাসের হাসি হাসছিল। বাঙালি আর অবাঙালি নারীদের মাঝে যে ব্যাপারটা আজ সে লক্ষ করল তা হলো আত্মম্ভরিতা আর আন্তরিকতা। কিন্তু পুরুষ মানুষ হলে কি ওরকম ভাব ধরে চুপচাপ বসে থাকতে পারত?
ফ্লোরেন্স এসে পাশে দাঁড়ালে ইয়াসিফ ফোনটা পকেটে পুরে হাঁটতে আরম্ভ করল। মধ্যবয়সী দোকানদার জলচৌকি পেতে শুয়ে আছে আর টিভিটা শুধু শুধুই আওয়াজ দিচ্ছে৷ অবশ্য খদ্দের ডেকে আনার বিশেষ কৌশলও বলা যায়।
-‘চাচা! দুই কাপ ঘন দুধের চা দেন তো। আর মচমচে ভালো স্বাদের টোস্ট সাথে।’
চোখ ডলতে ডলতে লোকটা মাথার টুপিটা ঠিক করে উঠে এলো চৌকি থেকে৷ মুখে কাঁচাপাকা দাড়িতেও একটু হাত বুলিয়ে চায়ের কেটলির কাছে এসে একবার ইয়াসিফ আর ফ্লোরেন্সের দিকে তাকাল৷ এমন রাত করে পরীর মতো মেয়েকে টিশার্ট, প্যান্টে দেখে দোকানদারের ঘুম উবে গেছে তাতে সন্দেহ নেই। ফ্লোরেন্সের মুখ না দেখেও দোকানদার কল্পনাতে মাধুরী দিক্ষিতকে সামনে দেখতে পাচ্ছে ভেবে নিয়ে ইয়াসিফকে জিজ্ঞেস করল, ‘ঘুরবার বাইর হইছেন আফনেরা?’
ইয়াসিফ মাত্রই সিগারেটটা বের করেছিল দোকানে ঝুলিয়ে রাখা গ্যাস লাইট থেকে আগুন ধরিয়ে নেবে বলে। আকস্মিক দোকানদারের অহেতুক কৌতূহল দেখে কর্কশ গলায় জবাব রাখল, ‘ঘুরতে বের হই আর চোর ধরতে বের হই! জানাতে আসছি তা তোমারে?’
ফ্লোরেন্স একটু ভড়কাল বোধ হয় হঠাৎ ইয়াসিফের রুক্ষ ভাষা শুনে। দোকানদারের দিকে তখন দৃষ্টি ছুঁড়ল একবার। সে কেমন কাঁচুমাচু মুখ করে চোরাচোখে তাকে দেখছে আবার চায়ের কাপগুলোও ধুচ্ছে। ঘটনা বুঝতে পেরে সে নিজ থেকেই দোকানের ছাউনি থেকে বেরিয়ে অন্য পাশে এসে দাঁড়াল। যে পাশটায় আঁধার। ইয়াসিফও তখন বিপরীত পাশে এসে দাঁড়িয়ে সিগারেটে টান দিতে দিতে আশপাশে নজর বুলাতে থাকল৷
মুখ থেকে কালো মাস্কটা খুলে প্যান্টের পকেটে রেখে বেশ ক’বার চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে নিতেই মনে পড়ল ফ্লোরেন্সের, ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে আনা হয়নি৷ ইয়াসিফের দিকে নজর গেল সে সময়ই।
অপ্রত্যাশিতভাবে ইয়াসিফেরও নজর পড়ল তখন তার দিকেই। দুজনের চোখে চোখ মিলতেই ইয়াসিফ আবছাভাবে ফ্লোরেন্সের বাঙালিয়ানা চেহারাটা আবিষ্কার করল৷ ইংল্যান্ডের জলবায়ুতে বসবাসের ফলেই হয়ত ফ্লোরেন্সের ত্বক, বর্ণ, চেহারার কাঠামো প্রথম নজরে বৃটিশদের মতোই লাগে। কিন্তু ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যায় আদতে সে বাঙালিই৷ আর হবে না-ই বা কেন? যেখানে বাবা-মা দু’জনই বাঙালি। ফ্লোরেন্সের শুভ্র, উজ্জ্বল ভেজা মুখটা দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই ইয়াসিফ মনেমনে আওড়াল ‘জলপদ্ম’।
ফ্লোরেন্সকে তাকিয়ে থাকতে দেখে দূর থেকেই জিজ্ঞেস করল, ‘কোনো সমস্যা?’
ফ্লোরেন্স মাথা নাড়িয়ে না জানালেও ও এগিয়েই এলো। চিন্তিত মুখ করতে দেখে ফ্লোরেন্স বলল তখন, ‘টিস্যু ফেলে এসেছি গাড়িতে।’
-‘ওহ, ব্যাপার না। দোকান থেকে নিয়ে দিচ্ছি এখনই।’
মাভিশা বসে বসেই গাড়ির ভেতর থেকে ওদেরকে দেখছিল। ইয়াসিফকে নিয়ে জল্পনা, কল্পনার সময় ও আসলে ভাবেইনি, এভাবে ওকে ফিরিয়ে দিতে পারে ইয়াসিফ৷ ছেলেটাকে ঘিরে ভালোবাসা না তৈরি হলেও আকর্ষণের পাশাপাশি প্রখর এক ঘন আবেগ তৈরি হয়েছিল ওর৷ সেই জায়গাটায় এখন ধীরে ধীরে ‘ইয়াসিফকে পেতেই হবে’ গুম হয়ে থাকা এমন একটা জিদ্দি মনোভাব গড়ে উঠছে। প্রত্যাখ্যান কত বড়ো অপমানসূচক শব্দ! যার ওজন বহন করার মতো ক্ষমতা আসলে ওর নেই। কখনও এই অনুভব গ্রহণ করতে হয়নি যে। তাই বলে আবারও গায়ে পড়ে সে নিজের মূল্যবান অনুভূতিকে ইয়াসিফের কাছে জাহির করতে যাবে না ভুলেও। কিন্তু এদিকে আত্মমর্যাদাপূর্ণ ওর কঠোর মনটাও কেমন বেহায়া হতে চাইছে। কী এক মুসিবত!
হাতে টিস্যুর প্যাকেট নিয়ে ইয়াসিফকে দোকানের পাশের আঁধার দিকটাই যেতে দেখে ঝুপ করেই চোখ বুজে নিলো সে। ছেলেটার চেহারায় কোমলভাব না থাকার পরও প্রচণ্ডভাবে মন কাড়ে ওর। তাই তো সেই মনটা বিশৃঙ্খল হতে পড়তে চায়৷ এরপর থেকে এত বেশি আর দেখবে না সে ওই অহংকারী অফিসারটাকে।
প্যাকেট থেকে টিস্যু বের করে ফ্লোরেন্সের হাতে তুলে দিয়ে ইয়াসিফ জিজ্ঞেস করল, ‘শুধু চা খাবেন? ক্ষুধা পেলে রুটি আর ডিমভাজিও খেতে পারেন। দোকানদার গরম গরম বানিয়ে দিতে পারবে এখনই।’
-‘না না, তেমন খিদে নেই। শুধু চা হলেই চলবে।’ মুখটা মুছতে মুছতেই বলল ফ্লোরেন্স।
তার ভেজা মুখে টিস্যু ছিঁড়ে গিয়ে চোখ আর ঠোঁটের কোনায় লেগে থাকতে দেখে ইয়াসিফ সেটা অবগত করতে চাইল। কিন্তু ফের দুজনের চোখের মিলন ঘটতেই ইয়াসিফের কল্পনাতে ভেসে উঠল তখন অন্য দু’জোড়া চোখ। ফ্লোরেন্সের ‘ক্লোজ সেট’ আকৃতির চোখে অপলক চেয়ে সে জানিয়েও দিলো, ‘য়্যোর আই’স আর লাইক ভেরি ফ্যামিলিয়ার আই’স।’
সে মুহূর্তেই ফ্লোরেন্সের দৃষ্টিও আটকাল ইয়াসিফের ছোটো ছোটো বাদামি বর্ণের চোখে। ওর কাঠিন্য, সুন্দর মুখেও নজর ঘুরে এসে থামল আবারও সেই চোখেই। জানতে চাইল, ‘সেটা কার মতো তবে?’
ইয়াসিফ উত্তর না দিয়ে তার ঠোঁটের কোনায় ইশারা করল, তারপর চোখের কোনাতেও। ফ্লোরেন্স সেই মোতাবেক ঠোঁটের কোনে আঙুল দিয়ে টুকরো টিস্যুর অংশ পেলেও চোখের কোনা থেকে তা উদ্ধার করতে পারল না৷ খুবই ক্ষুদ্র ছিল সেটুকু৷ সাদা রং বলেই আলো-আঁধারিতে তা ইয়াসিফের চোখে পড়েছে। তাই কাজটা দায়িত্ব নিয়ে সে-ই করল৷ ফ্লোরেন্স কেন যেন হাসল তখন৷ ইয়াসিফের নজরে পড়ল না তা৷ ওর দৃষ্টি নিবদ্ধ সে সময় ফ্লোরেন্সের চোখদুটোতে। কয়েক পল ওই চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই আশ্চর্যভাবে জাগতিকজ্ঞান কোথায় যেন হারিয়ে ফেলল ইয়াসিফ অজান্তেই৷ নিমেষহারা চাহনিতে ফ্লোরেন্সের সাধারণ চোখজোড়াতেই মাদকতায় খুঁজে পেল সে৷ ক্ষণিকেই আসক্তও হয়ে পড়ল বোধ হয় ওই মাদকতাতেই। মেয়েটির টিকালো নাক, গাঢ় গোলাপি পুরু অধরও নজর কাড়ল। এমনটা কেন হচ্ছে ওর সঙ্গে? ফ্লোরেন্স অজ্ঞাত এক সুশ্রী তরুণী। গোটা জীবনে যার দর্শন আজই পেল সে। যাকে দেখার পর মুগ্ধতা মনের আনাচে-কানাচে একটুও ছোঁয়নি। কারণ, এই জীবনে কর্মসূত্রে বহু লাস্যময়ী, রূপবতীদের সান্নিধ্য মিলেছে ওর, দর্শনও মিলেছে। তাই সুন্দর নারীতে এখন আর আগের মতো চোখ ধাঁধায় না।
মনটাও তাই মরুভূমির মতোই শুষ্ক, নীরস। যেখানে আজও তরুছায়ার সৃষ্টি হয়নি। কোনো নারী পারেওনি ওই মনের অন্তঃপুরবাসিনী হতে। কিন্তু কাছে থাকা এই মেয়েটির সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনে একদিনের জন্যও চেনা পরিচয় না থেকেও ইয়াসিফ এতটুকু মুহূর্তের মধ্যেই কী করে তার প্রতি ঝুঁকে পড়ল? তা কি দৈহিক কামনা থেকে কেবল? চুম্বকের মতোই তো নিয়ন্ত্রণহীন টানছে ওকে মেয়েটি। কী হচ্ছে ওর সঙ্গে হঠাৎ করে? নারীর প্রতি এমন দুর্বল অনুভূতির অধিকারী পুরুষ সে কখনই ছিল না। আর আজও না। তবুও কেমন করে এই অচেনা মেয়েটির মাঝে ভয়ঙ্করভাবে হারিয়ে যাচ্ছে?
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৩
ফ্লোরেন্স মৃদুস্বরে একবার ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলল ইয়াসিফকে। সেই শব্দগুচ্ছ ওর কানে ঠিকই পৌঁছল, কিন্তু ওর বোধশক্তি কোনো জাদুকরী যেন জাদুবলে কব্জা করে রেখেছে নিজের কাছে। মস্তিষ্কে ঘূর্ণিপাকের মতোই ফ্লোরেন্সের বলা কথাগুলো তোলপাড় চালাচ্ছে। কিন্তু ইয়াসিফের চৈতন্য সেদিকে গুরুত্বহীন। ফ্লোরেন্স থামতেই অজানিতভাবে তার গাঢ় গোলাপি পুরু ঠোঁটের কিনারায় বৃদ্ধা আঙুল ছুঁইয়ে ধরল। নিজের মুখটা তার খুব কাছে এগিয়ে এনে আবেশিত, মন্থর কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল, ‘একটা নিবিড় চুমুর আবদার আমার জলপদ্মের কাছে।’
