Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬২+৬৩+৬৪

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬২+৬৩+৬৪

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬২+৬৩+৬৪
ফারজানা মনি

বিকেল ৫ টা বেজে ৩০ মিনিট । প্রচন্ড গরমে ঘেমে এইমাত্রই তানভীর বাড়িতে ফিরেছে। রুমে এসেই বন্যা কে বলল: বন্যা… আমার ফোনটা চার্জে দাও। আমি শাওয়ার নিয়ে আসছি। বলেই তানভীর ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।
তানভীরের কথা অনুযায়ী বন্যা ফোনটা চার্জে দিয়ে নিচে চলে গেল কফি আনতে।
ফোন বাজছে তার আপন গতিতে। কে যেন একটার পর একটা কল দিয়েই যাচ্ছে। তানভীর অধৈর্য হয়ে ওয়াশরুম থেকেই বন্যাকে ডাকা শুরু করলো। কিন্তু মেয়েটার কোন সাড়া পেল না।
কিছুটা বিরক্ত ভঙ্গিতে গায়ে সাবান নিয়েই বাহিরে বের হয়ে কল রিসিভ করল তানভীর।
দিনের শুরুতে আবির ভাইয়ের জন্য মনটা ছটফট করলেও বাকিটা সময় খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল মেঘের। দুপুরের পর থেকে বন্যা মিমের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই বাকিটা সময় পার করেছে মেঘ। এই যে এখনও ড্রয়িং রুমে বসে সবার কাজকর্ম দেখছে।

বন্যা: ননদিনী… কফি খাবি?
মেঘ: না…. তুই খা…
বন্যা: আমিও খাব না। তোর ভিলেন ভাইয়ের জন্য বানাতে যাচ্ছি। খেলে বল..
মেঘ কোন উত্তর দেওয়ার আগেই সবার নজর পড়লো সিঁড়ির দিকে। তানভীর কানে ফোন চেপে ধরে তাড়াহুড়া করে নামছে। ওকে দেখে বোঝা যাচ্ছে কোথাও বের হচ্ছে। কিন্তু কোথায় তা বন্যা জানেনা। তাই সামনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি কোথাও বের হচ্ছেন? কফি বানাচ্ছি খেয়ে যান।
তানভীর: না এখন খাব না। আর শোনো, একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাচ্ছি। ফিরতে লেট হবে। এমনকি রাতে নাও ফিরতে পারি। আব্বু জিজ্ঞাসা করলে বলো, খুব ইম্পরট্যান্ট তাই যেতে হবে।
বন্যা আর কিছু বলার আগেই তানভীর হন্ততন্ত পায়ে খান বাড়ির গেট পেরিয়ে গেল। মেঘ আর মিম সোফায় বসে তাকিয়ে আছে।
মেঘ বন্যার দিকে জিজ্ঞাসু তাকিয়ে বলল: বেবি… ভাইয়া কোথায় যাচ্ছে?
বন্যা ঠোঁট উল্টে জবাব দিল: কি জানি!!!

সারাদিনে আবিরের সাথে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে মেঘের। দুপুরে খাওয়ার আগেও আবির কল দিয়েছিল। ছেলেটা শহরের বাহিরে থেকে আরও বেশি যত্ন নিচ্ছে মেঘের। ফোন দিয়ে দিয়ে খাবার, ওষুধ সবকিছুর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। মেঘ এতে বরং খুশিই হয়েছে। মনেই হচ্ছে না, আবির ভাই শহরের বাহিরে এত দূরে আছে।
এসব ভাবনার মাঝেই মেঘের হঠাৎ মনে হলো, লোকটা তো বলেছিল যে… কাজ সেরে বিকেলের মধ্যেই ফেরার জন্য গাড়িতে উঠবে। তাহলে এখন নিশ্চয়ই গাড়িতেই আছে। ভেবেই মেঘ খানিকটা মুচকি হেসে ফোনটা হাতে নিয়ে আবিরকে একটা টেক্সট করলো।

প্রায় ২ মিনিট হয়ে গেছে কিন্তু ফোনের ওই পাশ থেকে কোন রিপ্লাই আসলো না। মেঘ মনে মনে ভাবল, তাড়াতাড়ি ফিরবে বললেই কি আর ফিরা যায়… হয়তো আবার কোন কাজে আটকে গেছে। তাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সময় চলছে সময়ের গতিতে। তাকে আটকে রাখার ক্ষমতা এই পৃথিবীর কারো নেই। ঘড়ির কাটা গিয়ে ঠেকলো রাত 9 টার কাটায়। মেঘ হালিমা খানের রুমে, মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। নিজের রুমে আবির নেই তাই রুম টাকে আজ বড্ড বেশি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। হালিমা খান মেয়ের মাথায় কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে দিয়ে। রুমে গিয়ে ঘুমাতে বললেন। কিন্তু মেঘের একটাই কথা আজ সে মায়ের সাথে ঘুমাবে।
একপ্রকার বাধ্য হয়েই হালিমা খান নিজেও মেঘের সাথে চলে গেল ওর রুমে ঘুমাতে। মেঘের শরীরটা আজ একটু বেশিই ক্লান্ত লাগছে। রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ল।

ঘুমের মাঝেই কেমন যেন লাগছে মেঘের। দুর্বল শরীরে চোখ মেলে তাকালো সামনের দিকে। মেঘের বরাবর সামনেই বড় দেয়াল ঘড়ি। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রাত ১১ টা বেজে ৭ মিনিট। হঠাৎ করে কেন জানি মনে হচ্ছে , ঘড়ির সময় টা যেন ঝাপসা হয়ে উঠছে মেঘের চোখে। মাথাটাও ঘুরাচ্ছে। মাথা বললে ভুল হবে। শুয়ে থাকা অবস্থায় মনে হচ্ছে মেঘের পুরো দুনিয়াটাই ঘুরছে।
মুখে কিছু বলার যেন শক্তি পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে যোনি দিয়ে গড়িয়ে ভেসে যাচ্ছে কোন তরল পদার্থ। মেঘ ঝাপসা চোখেই পাশে হাত রাখল।
মেঘের হাতের স্পর্শ পেয়ে হালিমা খান মেঘের দিকে ফিরে আবার ঘুমিয়ে পরল। মেঘ কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল:
আম্মু…. এই আম্মু….

কিন্তু হালিমা খান যেন আজ কিছুই শুনতেই পাচ্ছে না। এমন সময় এই বাড়ির কেউ কখনোই ঘুমায় না। আজ হয়তো মেঘের সাথে হালিমা খান এতক্ষণ শুয়েছিল বিধায় ঘুমিয়ে গেছে। মেঘ আবারও কাঁপা কাঁপা হাতে হালিমা খানকে ডেকে উঠলো: আম্মু..
হালিমা খান পিটপিট করে মেঘের দিকে তাকালো। হঠাৎ যেন ঝাটকা মেরে ওনার দু চোখের ঘুম উধাও হয়ে গেছে।
মেঘের খিচুনি উঠেছে। কেমন যেন কাঁপছে। হালিমা খান মেয়েকে বুকে নিয়ে চিৎকার করে সবাইকে ডাকল। তার চিৎকারে সবাই এসে হাজির হলো মেঘের রুমে। মেঘ কেমন যেন করছে। পুরো বিছানা ভেসে গেছে লাল তরল রক্তে। মালিহা খান এসে এসব দেখেই যেন থমকে গেছে।
স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল দুই মিনিট। তারপর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আকলিমা খানের দিকে তাকিয়ে বলল: আকলিমা…. তানভীর কে গিয়ে বল এক্ষুনি গাড়ি বের করতে।

মেঘের রুমের বাইরে আরিফ দাঁড়িয়ে আছে। মিম ছুটে গেল ভিতরে। আকলিমা খান ও বন্যা মেঘের পরনের ড্রেসটা চেঞ্জ করে দিল। যা ইতিমধ্যেই লাল রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছে।
সবকিছু ঠিকঠাক করে আকলিমা খান আরিফকে ভেতরে ডাকলো। আরিফ কিছুটা ইতস্তত করে মেঘের মুখের পানে তাকালো । মেঘের অবস্থা অনেক খারাপ। মুহূর্তেই কেন যেন আরিফের বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠলো। মনে মনে ভাবল, আবির ভাই যদি একবার দেখতো তার কাদম্বিনীর এই অবস্থা। তাহলে হয়তো তাকে আর সামলানো যেত না। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস.. দেশের দুই প্রান্তে দুইজন। কেউ কারো অবস্থা জানতেই পারলো না।
আরিফের ভাবনার মাঝে হালিমা খানের কান্নার শব্দে ধ্যান ভাঙল। হালিমা খান কাঁদতে কাঁদতে বলল: বাবা… আমার মেয়েটাকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে চলো। আমি ওর এই অবস্থা আর দেখতে পাচ্ছি না।

আরিফ কিছুটা ভেবে বলল: কিন্তু মামি.. আপুকে স্ট্যাচারে করে এ অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নামালেতো আরো সমস্যা বাড়বে। বাকি সবাই কিছু বলার আগেই মিম হঠাৎ করে বলে উঠল: আরিফ ভাইয়া… আপনি আপুকে কোলে নিয়ে প্লিজ তাড়াতাড়ি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। আপুর অবস্থা ভালো না, এই সময় এত কিছু ভাবনা চিন্তা করার সময় নেই।
মিমের কথা শুনে আরিফ আশ্বাস পেল। খানিকটা ঝুঁকে মেঘকে কোলে তুলে ছুটে চলল অ্যাম্বুলেন্সের দিকে।
মেঘ ঝাপসা চোখে কাউকেই তেমনভাবে দেখতে পাচ্ছেনা। কিন্তু সবার কথাই শুনতে পাচ্ছে। আর একটু পর পর বলছে আমার আবির ভাইকে এনে দাও। আবির ভাই আপনি কই..
মেঘ আরিফের কোলে থাকার কারণে আরিফ এসব কথা খুব সহজেই শুনতে পেল। আরিফ মেঘকে আশ্বাস দিয়ে বলল: ভাবি ভাইয়া আসবে, আপনি চিন্তা করবেন না।

মেঘকে এম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে আরিফ পাশের ছেলেকে কি যেন বলে নিজেও গিয়ে বসলো পাশে। সাথে গেল মালিহা খান ও হালিমা খান। আকলিমা খানকে বলে গেল, বাড়ির পুরুষেরা ফিরলে তাদের সাথে যেন হসপিটালে যায়। মুহূর্তেই এম্বুলেন্সটা ভয়ংকর শব্দ জানিয়ে খান বাড়ির গেট পেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আলী আহমেদ খানের গাড়িটা বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। মিম ছুটে গিয়ে নিজের আব্বুকে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকলো। ইকবাল খান সকল কথা শুনে, সবাইকে নিয়ে হসপিটালের পথে রওনা হলো।
একটা নিস্তব্ধ রাত , কিন্তু অতি ভয়ঙ্কর। দুই শহরের দুইটা হসপিটালে চলছে জীবন মৃত্যুর খেলা। যে মানুষ দুইটার আত্মা এক জায়গায়, সেই মানুষ দুইটার দেহ আজ পড়ে আছে আলাদা দুইটা হসপিটালের বিছানায়। কিন্তু কেউ জানতেই পারলো না।

রাত ২ টা।
ডক্টর দীর্ঘ এক ঘণ্টা চেষ্টার পর মেঘের খিঁচুনি কমাতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্লিডিং ও কিছুটা কমে এসেছে।
ইমারজেন্সি রুম থেকে ডক্টর বেরিয়ে আসতেই খান বাড়ির সদস্যরা এগিয়ে আসলো। ইকবাল খান ডক্টর কে প্রশ্ন করলেন: ডক্টর.. মেঘের অবস্থা এখন কেমন?
ডক্টর: এখন মোটামুটি ভালো.. খিচুনি ও ব্লেডিং দুইটাই কমে এসেছে। পেশেন্ট কে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। আপাতত পেশেন্টের রেস্ট এর প্রয়োজন।
ডক্টরের মন্তব্য শোনার পর আরিফ প্রশ্ন করল: আমরা কি এখন ভাবির সাথে দেখা করতে পারি?
ডক্টর: হুম পারেন। কিন্তু একসঙ্গে সবাই যাবেন না এবং ভেতরে কোন কথা বা কান্নাকাটি করা যাবে না। আর হ্যাঁ,
দুইজন দায়িত্ববান অভিভাবক আমার কেবিনে আসুন।
বলেই ডক্টর কেবিনের দিকে চলে গেল। ইকবাল খান আলী আহমেদ খানের উদ্দেশ্যে বললেন: ভাইজান.. সবটাই তো শুনলে। তোমরা মেঘের সাথে দেখা করতে যাও। আমি আর আরিফ ডক্টরের কেবিনে যাচ্ছি।
আলী আহমেদ খান: ঠিক আছে।

এবার আলী আহমেদ খান মোজাম্মেল খান এর উদ্দেশ্যে বললেন: মোজাম্মেল আর কতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকবে? চলো মেয়েকে দেখতে যাবে।
মোজাম্মেল খান ভাইয়ের কথার কোন উত্তর না দিয়ে, উঠে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে দিলেন।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন: ভাইজান.. আমার একটা মাত্র মেয়ে। ওর কিছু হলে আমি সইতে পারবো না। ভাইজান.. ডক্টর কে বলেন বেস্ট চিকিৎসাটা দিতে যত টাকা লাগে আমি দিবো। বলেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
আলী আহমেদ খান মোজাম্মেল খান কে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি নিজেও তো হার্টের রোগী। একবার স্ট্রোক করেছেন।

ইকবাল খান মোজাম্মেল খান কে সরিয়ে এনে একটা চেয়ারে বসালো। মোজাম্মেল খান ইকবাল খানের দিকে তাকিয়ে মেজাজি কন্ঠে বলে উঠলো: কোথায় তোমাদের গণধর ছেলে আবির? আমি ওকে আমার মেয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলাম.. বাড়িতে যেকোনো সময় মেঘের বিপদ হতে পারে জেনেও সে কেন ফোন অফ রেখেছে? তাকে এক্ষুনি খবর দেওয়ার ব্যবস্থা কর.. বলো রাজশাহী থেকে এই রাতের গাড়িতেই বাড়ি ফিরতে।
বাড়ির সকলেই অবাক লোচনে তাকিয়ে আছে মোজাম্মেল খানের দিকে। কথায় আছে পুরুষ মানুষকে কাঁদতে নেই। কিন্তু আজ যেন মোজাম্মেল খান সেই নিয়ম মানতে নারাজ। সব সময় শক্তপোক্ত হয়ে থাকা মানুষটাও আজ মেয়ের শোকে কাতর। একমাত্র মেয়ের এই অবস্থা দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারছে না। এসব দেখে হালিমা খান মুখে আচল দিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
আসবো? আরিফের কন্ঠ পেয়ে ডক্টর সামনে তাকিয়ে দেখল আরিফ ও ইকবাল খান দাঁড়িয়ে আছে।
ডক্টর: আসুন..

ওরা সামনে এগিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসলো।
ডক্টর ইকবাল খান এর উদ্দেশ্যে বললেন: দেখুন মিস্টার খান… সত্যি এটাই যে, আপনাদের পেশেন্টের অবস্থা খুব একটা ভালো না.. আপনারা নিশ্চয়ই আগে থেকেই অবগত আছেন, পেশেন্টের প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার প্রবলেম আছে। মূলত সেই কারণেই এত রক্তক্ষরণ। আপনারা অতি শীঘ্রই রক্তের ব্যবস্থা করুন।
ডক্টরের কথার মাঝেই আরিফ বলল: রক্তের ব্যবস্থা করা আছে। ডক্টর রক্ত কখন লাগবে শুধু জানাবেন।
ডক্টর: ঠিক আছে। পেশেন্ট আজ রাত এই হসপিটালে অবজারভেশনে থাকুক। যদি এর মাঝে কোন সমস্যা না হয় তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু যদি আবারো ব্লেডিং শুরু হয়। তাহলে সম্পূর্ণ ব্যাপারটা আমাদের হাতের বাহিরে চলে যাবে।

ইকবাল খান চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন: তাহলে উপায় কি ডক্টর?
ডক্টর: আমি ইতিমধ্যেই, আমাদের সিনিয়র ডক্টর এর সাথে যোগাযোগ করেছি। উনি রেকমেন্ড করেছেন যে, পরবর্তীতে আবারো কোন সমস্যা হলে ঢাকা হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই সমস্যায় বেস্ট চিকিৎসা ওই জায়গায়ই পাওয়া যাবে। ঢাকা হসপিটালে অনেক সিনিয়র ডক্টর আছে, যারা আমাদের থেকেও অনেকটা বেশি পারদর্শী। আপনারা আল্লাহকে ডাকুন, যেন সমস্যা আর না বাড়ে। আমরা এখনো শিওর না.. but পেশেন্টের অবস্থা যদি উন্নত না হয়। তাহলে হয়তো পেশেন্টের ৮ মাসেই সিজার করানো লাগতে পারে।
ডক্টরের কথা শুনে আরিফ আর ইকবাল খান কেবিনের বাহিরে চলে আসলো। ইতিমধ্যে সকলেই মেঘের সাথে দেখা করে চলে এসেছে।
চঞ্চল মেয়েটা আজ কোন কথা বলছে না.. তার নিথর দেহটা হসপিটালের বিছানায় পড়ে আছে। শুধু নিঃশ্বাসের ওঠা নামা ছাড়া পুরো দেহ নিস্তব্ধ।

ইকবাল খান ও আরিফকে দেখে খান পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে জানতে চাইলেন ডক্টর কি বলেছে? ইকবাল খান ওদের তেমন কিছুই জানালেন না। শুধু বললেন: সবাই আল্লাহকে ডাকো। মেঘ যদি সকালের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়, তাহলে তাকে ঢাকা হসপিটালে শিফট করা হবে।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৫৯+৬০+৬১

এই কথা শুনে সকলেই চোখে জল ফেলছে। ওইদিকে বন্যা বারবার তানভীর কে কল দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বরাবরের মতো এখনো ফোনটা বন্ধ। বাধ্য হয়ে এবার রাকিবের ফোনে কল দিলো বন্যা।
বন্যার কন্ঠ পেয়ে রাকিব ফোনটা তানভীর এর কাছে নিয়ে দিল।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৫+৬৬+৬৭