Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৫+৬৬+৬৭

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৫+৬৬+৬৭

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৫+৬৬+৬৭
ফারজানা মনি

তানভীর: হ্যালো..
ফোনের ওপারে তানভীরের কন্ঠ পেয়েই বন্যা ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো..
বন্যার কান্নার শব্দ পেয়ে তানভীর শান্ত কন্ঠে বলল: বন্যা.. প্লিজ শান্ত হও। সব ঠিক হয়ে যাবে।
বন্যা ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল: আপনি কোথায়? কেমন আছেন?
তানভীর: আমি রাজশাহীতে। ভালো আছি। তুমি প্লিজ একটু শান্ত হও।
বন্যা: রাজশাহীতে কেন? সেখানে তো আবির ভাইও আছে.. উনি কি জানেন মেঘের এই অবস্থা?

তানভীর: না জানে না.
বন্যা: কেনো? আপনারা কি তাকে কিছু বলেননি?
তানভীর: না.
বন্যা: কেন বলুন তো..
তানভীর: কারণ সে এখন শোনার অবস্থাতে নেই।
কথাটা কর্ণ কুহরে পৌঁছাতেই বন্যা আতকে উঠে জিজ্ঞাসা করল: কি হয়েছে আবির ভাইয়ার?
তানভীর চুপচাপ। ফোনের উপার থেকে আর কোন কথা শোনা যাচ্ছে না।
বন্যা: বলুন না.. কি হয়েছে আবির ভাইয়ার… প্লিজ আমাকে সবটা খুলে বলুন।
তানভীর কথা বলতে পারছে না। মনে হচ্ছে কন্ঠ ভেঙে ভেঙে আসছে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল: বন্যা.. আমি এত কিছু আর সইতে পারছি না। একদিকে ভাইয়া এক্সিডেন্ট করে হসপিটালে ভর্তি অন্যদিকে বনুর অবস্থাও ভালো না।
বনুর কাছে তো তোমরা সবাই আছো। কিন্তু ভাইয়ার কাছে আমরা মাত্র কয়েকজন। আমি না পারছি বনুর টেনসনে রাজশাহী থাকতে। আর না পারছি ভাইয়াকে ছেড়ে ঢাকা ফিরতে। ওদের দুইজনের করুন অবস্থা ভেবেই আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।

বন্যা: আপনি প্লিজ শান্ত হন। আবির ভাইয়ের কি হয়েছে আমাকে একটু পরিষ্কার করে বলবেন প্লিজ..
তানভীর গলা খাঁখানি দিয়ে বলা শুরু করল: ভাইয়া বনুর কথা চিন্তা করে সব কাজ তাড়াতাড়ি করে শেষ করে ফেলেছিল। আমাকে কল দিয়েও বলেছিল সে তাড়াতাড়ি ফিরবে এবং বনুকে সারপ্রাইজ দিবে।
কিন্তু রাজশাহী থেকে ঢাকা রোডে ভাইয়াদের গাড়িটা এক্সিডেন্ট হয়। যেহেতু ভাইয়া আমার সাথে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই এক্সিডেন্টটা ঘটেছিল। তাই এক্সিডেন্টের পর ভাইয়ার ভাঙাচোরা ফোন থেকে কনলিস্টে প্রথমে আমার নাম্বারটি পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী রাস্তার একজন লোক বিকেলে আমাকে কল করলেন এবং ভাইয়ার এক্সিডেন্টের খবর দিলেন।
খবরটা পেয়েই আমি , রাকিব , রাসেল ও আসিফ ভাইয়া যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব স্পটে পৌঁছাই। পৌঁছে দেখি ইতিমধ্যেই ভাইয়াকে রাজশাহী সদর হসপিটালে নেওয়া হয়েছে। ভাইয়া মাথায় এবং পিঠের মেরুদন্ড তে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে।

তানভীরের এত দীর্ঘ কথা শুনে বন্যা আবারো ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। বলল: এখন আবির ভাইয়া কেমন আছে?
তানভীর: ভালো না… আই সি ইউ তে আছে। ঘন্টাখানেক আগে অনেক কষ্টের পর ডক্টর জ্ঞান ফিরাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর থেকেই ভাইয়া বারবার বনুকে খুঁজছে। বলছে, তানভীর.. প্লিজ আমাকে মেঘের কাছে নিয়ে চল। আমার কেমন যেন লাগছে। আমি আমার মেঘের কাছে ফিরে চাই।
ভাইয়াকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এতে তার পাগলামি আরো বাড়ছে.. বারবার বলছে: মেঘের কাছে গেলেই আমি ভালো হয়ে যাব। এখানে থাকতে আমার মন সাড়া দিচ্ছে না।
আমরা কিছুতেই ভাইয়াকে সামলাতে পারছিলাম না। অবশেষে ডক্টর বাধ্য হয়ে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেয়।
এখন আপাতত ভাইয়া ঘুমাচ্ছে। কিন্তু জানিনা জ্ঞান ফিরলে তাকে কিভাবে সামলাবো।
বন্যা: সাবধানে থাকবেন, আবির ভাইয়ার খেয়াল রাখবেন।
তানভীর: বন্যা.. শুনো… ওই দিকটা তোমরা প্লিজ সামলে নিও। আর হ্যাঁ আরিফ সবটাই জানে। কোন কিছুর প্রয়োজন পড়লে আরিফ কে বলবে। আর আবির ভাইয়ার এই অবস্থার কথা কাউকে বলার প্রয়োজন নেই।
বন্যা: হুম।

ওইদিকে মেঘ এখনো ঘুমাচ্ছে। রাত বাজে প্রায় চারটা। এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। তাই ডক্টর আশা রাখছে, হয়তো সবটা সামলে নিবে।
খান বাড়ির কিছু সদস্য বাড়িতে গেছে। আর কিছু সদস্য হসপিটালে মেঘের কেবিনের সামনে অপেক্ষা করছে। খান বাড়িতে আদি একা আছে। ছেলেটা হয়তো আজ এই ভয়ংকর রাতে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গিয়েছিল। তাই জানতেই পারলো না তার ঘুমের মাঝেই খান বাড়িতে ঘটে গেছে কত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আদির কথা ভেবে মোজাম্মেল খান আকলিমা খানকে বাড়িতে চলে যেতে বললেন। যদিও আকলিমা খান যেতে চায়নি, কিন্তু বড় ভাসুরের আদেশ কি করে সে ফেলবে।

রাতের আঁধার কাটিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটবে ফুটবে ভাব। ঠিক তখনই শোনা গেল আবারো মেঘের আর্তনাদ। সকলেই ছুটে গেল মেঘের কেবিনের দিকে।
এসে দেখল আবারো ব্লেডিং শুরু হয়েছে। আরিফ ও ইকবাল খান ছুটে গেলো ডক্টরের কাছে। ডক্টর এসে সব টা দেখে আলি আহমেদ খানের দিকে তাকিয়ে বললেন:
সরি মিস্টার খান… আমাদের হাতে আর কিছুই নেই। আপনারা আল্লাহকে ডাকুন এবং পেশেন্টকে অতি তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেলে শিফট করার ব্যবস্থা করুন। আই এম সরি।
বলেই ডক্টর কেবিন থেকে বেরিয়ে চলে গেল।

আলী আহমেদ খান হঠাৎ দাঁড়ানো থেকে বসে পড়ল। আরিফ ছুটে এসে আগলে ধরল তার বড় মামাকে।
ইকবাল খান হঠাৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে হাতে থাকা মেঘের রিপোর্ট এর ফাইল দিয়েই আলী আহমেদ খানকে বাতাস করা শুরু করল। আলী আহমেদ খান অঝরে ঘামছে। মিম পানি নিয়ে এসেছে তার বড় আব্বুর জন্য।
ভাইজান.. তুমি একটু শান্ত হও। দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন।
মোজাম্মেল খানের ভাঙা কণ্ঠস্বর শুনে আলী আহমেদ খান চোখ মেলে তাকালো।
কাতর কণ্ঠে বললো: তোরা কেউ আমার আবিরকে খবর দে..
ইকবাল খান: তুমি চিন্তা করো না ভাইজান। আবিরের সাথে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

আরিফ অসহায় দৃষ্টিতে সকলের মুখের পানে তাকিয়ে আছে। সে চাইলেও এই পরিস্থিতিতে কিছু বলতে পারছে না । আবির কোথায় এবং কেমন আছে সেটা জানলে হয়তো পরিস্থিতি আরো অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যাবে।
বন্যা এক নজর আরিফের দিকে তাকিয়ে তারপর বাকি সবার দিকে তাকালো। কি অসহায় সেই দৃষ্টি। সবকিছু জানার পরেও চুপ করে মুখ বুজে থাকার কষ্ট বন্যা কে তিলে তিলে ক্ষয় করছে।
ভাই এম্বুলেন্স রেডি , ভাবিকে এখনি নিয়ে যেতে হবে। এলাকার এক ছোট ভাইয়ের কণ্ঠ শুনে আরিফ পিছন ঘুরে তাকালো। তারপর সবাইকে নিয়ে পা দিল আরেক নতুন গন্তব্যে, যার নাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল।
তানভীর.. এই তানভীর…
আবিরের চিৎকার শুনে তানভীর ,রাকিব, রাসেল ও আসিফ ছুটে আসলো। আবিরের ঘুম ভেঙেছে। আল্লাহ জানে এখন আবার কি কি প্রশ্ন করে….

তানভীর: কি হয়েছে ভাইয়া? কিছু লাগবে?
আবির: তোকে কতবার বলেছি আমি বাড়ি ফিরতে চাই, ব্যবস্থা কর জলদি।
তানভীর: কিন্তু ভাইয়া তুমি তো অসুস্থ।
আবির: আমি ঠিক আছি। ইমিডিয়েটলি আমার ঢাকা ফেরার ব্যবস্থা কর।
তানভীর এবার উত্তেজিত কন্ঠে বলল: ভাইয়া প্লিজ শান্ত হও.. অতিরিক্ত উত্তেজনা ও টেনসনে তোমার মাথার ক্ষতস্থান থেকে আবারও রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
আবির:হোক.. তাও আমি বাড়ি ফিরতে চাই।
আবির বেডের আশেপাশে তার নিজের ফোনটাকে খুজলো। দেখলো সাইট টেবিলের এক কর্নারে তার ভাঙ্গাচূড়া ফোনটা পড়ে আছে। আবির চোখ ঘুরিয়ে তাকালো তানভীরের দিকে।
তানভীর তোর ফোনটা দে তো.. আবিরের কন্ঠ শুনে তানভীরের সারা শরীর ভয়ে কাঁপুনি দিয়ে উঠলো। তানভীর জানে, আবিরকে উল্টাপাল্টা বোঝানো বা থামানো এত সহজ না।
কাঁপা কন্ঠে বলল: ভাইয়া আমার ফোনে চার্জ নেই। ফোন অফ।

আবির: কতক্ষণ ধরে তোর ফোন অফ?
তানভীর: গতকাল ছয়টার দিকে ফোন অফ হয়ে গিয়েছিল।
আবির: আর আমার এক্সিডেন্ট কয়টায় হয়েছিল?
তানভীর: সাড়ে চারটা নাগাদ..
আবির: ওহ মাই গড.. আমার ফোনটা দীর্ঘ 13 ঘন্টা যাবত ছুইচ অফ!!! আমার মেঘ তো এতক্ষণে পাগল হয়ে গেছে। এই রাকিব.. তোর ফোনটা দে মেঘকে কল দেই।
এই এখানে এত চিৎকার চেঁচামেচি কেন হচ্ছে? পেশেন্টকে একা থাকতে দিন। বলেই ডক্টর এহসান বের হওয়ার পথে পা রাখলো। হঠাৎই কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে পেছনে তাকিয়ে আবীর কে বলল: প্লিজ আপনি কোন দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার মাথার ক্ষত টা অল্প দেখা গেলেও ভিতরে ইন্টার্নাল ড্যামেজ হয়েছে অনেক।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা চিন্তা করলে তা প্যানিক এট্যাকেও রূপ নিতে পারে। বলেই ডক্টর এবার বেরিয়ে গেল।

প্রতিদিনের ন্যায় সকালের আকাশে আজ রক্তিম সূর্যটা উঠেছে, তেজও আছে প্রতিদিনের মতই। কিন্তু প্রতিদিনের মতো খান বাড়ির মানুষের মনে শান্তি নেই , সকালের স্নিগ্ধতা নেই, নেই কোন নাস্তা খাওয়া বা অফিস যাওয়ার তাড়া।
আজ অতি ভয়ংকর একটা সকালের সাক্ষী হলো খান পরিবার। কিছুক্ষণ আগেই মেঘকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একটা নার্স বারবার চেষ্টা করছে মেঘের শরীর থেকে এক সিরিজ ব্লাড নিয়ে টেস্ট করার জন্য। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হচ্ছে না। ব্লাড নেওয়ার জন্য নার্স শরীরে কোন সঠিক শিরা খুঁজে পাচ্ছে না।
এদিকে ব্লাড টেস্ট করে ব্লাড দেওয়া অতি জরুরি। ইতিমধ্যেই খান পরিবার ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী সাত ব্যাগ রক্তের যোগান দিয়েছে। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হচ্ছে না।
এতক্ষণে মেঘের পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। মেয়েটা ব্যথায় কুকরে আছে। ঝাপসা চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না, তাও তার বন্ধ দুচোখ ব্যর্থ চেষ্টা করছে আবিরকে খোজার।

চোখ বন্ধ করে বারবার একটা কথাই বলছে… আমার আবির ভাইকে এনে দাও কেউ।
মিটিং চলছে গত এক ঘণ্টা ধরে। ১৫ জন ডক্টরের একটা টিম কাজ করছে মেঘের সমস্যা নিয়ে।
হালিমা খান বারবার অজ্ঞান হচ্ছে। মোজাম্মেল খান ও আলী আহমেদ খান স্তব্ধ হয়ে এক জায়গায় বসে আছে।
মালিহা খান ও মিম হালিমা খানকে সামলাতে ব্যস্ত।
গতকাল বন্যা ও আকলিমা খান “খান বাড়িতে” ফিরে
গিয়েছিল।
সকাল হতে না হতেই বন্যা ফোন দিয়ে মীমকে জানিয়েছে তারা ডিরেক্ট ঢাকা হসপিটালে আসছে। মাহমুদা ও জান্নাত কিছুক্ষণ আগেই এসেছে।
৩০৫ নাম্বার কেবিনের পেশেন্টের বাড়ির লোক কে আছেন?
ডক্টরের কণ্ঠ শুনে সবাই সামনের দিকে তাকালো। আরিফ ,মাহমুদা খান ও ইকবাল খান দ্রুত ডক্টরের সামনে এগিয়ে গেল।

আরিফ: ডক্টর ,আমরা আছি।
ডক্টর: আপনি কি হন পেশেন্টের?
আরিফ: ভাই।
ডক্টর: পেশেন্টের হাজব্যান্ড কই?
আরিফ: উনি আপাতত শহরের বাহিরে আছে। কি হয়েছে প্লিজ আমাদেরকে বলুন। ওনার অবর্তমানে আমরাই পেশেন্টের গার্ডিয়ান। এখানে পেশেন্টের বাবা, মা, শ্বশুর-শাশুড়ি ,ভাই ,চাচা, চাচি সবাই আছে।
ডক্টর: সরি মিস্টার.. পেশেন্টের হাজবেন্ডকে আমাদের লাগবে..
আরিফ: কেন ডক্টর কোন গুরুতর সমস্যা? প্লিজ আমাদের কে বলুন।
ডক্টর: ঠিক আছে আপনারা যেকোন দুই জন আমার কেবিনে আসুন।
ডক্তরের পিছু পিছু আরিফ ও ইকবাল খান কেবিনে ঢুকলো।
ডক্টর: বসুন।
আরিফ ও ইকবাল খান চেয়ার টেনে বসলো।

ডক্টর: দেখুন মিস্টার.. পেশেন্টের অবস্থা অনেক ক্রিটিকাল… এই অবস্থায় সিজার করা অতি জরুরি।
তাছাড়া পেশেন্টের পেটে টুইন বেবি… যার কারনে পেশেন্টের শারীরিক ঝুঁকি অনেক বেশি।
আরিফ ও ইকবাল খান অবাক দৃষ্টিতে দুজন দুজনের দিকে তাকালো। মেঘের সকল রিপোর্ট আবিরের কাছেই থাকে। মেঘের টুইন বেবির কথা বাড়ির কেউই জানতো না। হয়তো আবির কোন কারনে কাউকে কিছু জানায়নি।
পেশেন্টের হাজবেন্ডকে খবর দিন। পেশেন্টের ব্লিডিং কমানোর জন্য জরায়ুর একটা অপারেশন অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেই অপারেশনের কারণে পেশেন্ট পরবর্তীতে আর কখনো বাচ্চা নিতে পারবে না। পেশেন্টের হাজবেন্ডের অনুমতি থাকলে, আমরা পেশেন্টকে সিজার ও জরায়ুর অপারেশন একসাথেই করব কিছুক্ষণের মধ্যে।
ডক্টরের কথা শুনে ইকবাল খানের ধ্যান ভাঙলো। বলল: ডক্টর… জরায়ুর অপারেশন টা কি না করলে হয় না?
ডক্টর অনেক নিষ্ঠুর ভাবে উত্তর দিলেন: যদি আপনাদের মেয়েই বেঁচে না থাকে, তাহলে পরবর্তীতে বাচ্চা কিভাবে নিবে। জরায়ুর এই অপারেশনটা না করলে পেশেন্টকে বাঁচানো হয়তো আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
এখন পছন্দ আপনাদের…

ইকবাল খান: ঠিক আছে, আমি বাহিরে পেশেন্টের আরও গার্ডিয়ান আছে তাদের সাথে আলোচনা করে আপনাকে জানাচ্ছি।
ডক্টর: যারা এই অপারেশন টার ক্ষেত্রে অন্য কারো মতামত গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে হাজবেন্ডের স্বাক্ষর অবশ্যই লাগবে। আপনারা পেশেন্টের হাসবেন্ডকে দ্রুত আনার ব্যবস্থা করুন।
হঠাৎই বাহিরে কারো অনেক চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে…
আরিফ আর ইকবাল খান ছুটে গেল বাহিরে। দেখলো রাসেল আর রাকিব আবিরকে জড়িয়ে ধরে আছে। আর বারবার বলছে শান্ত হতে। আবির তানভীরের কলার ধরে আছে। আবিরের মুখে একটাই শব্দ… আমার মেঘের এই অবস্থা তুই আমাকে আগে বলিস নি কেন? আমাকে কেন মিথ্যে সান্ত্বনা দিয়ে হসপিটালে আটকে রেখেছিলি?
তানভীর বারবার পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করছে.. কিন্তু আবির তা শুনতে নারাজ।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬২+৬৩+৬৪

আরিফ ও ইকবাল খান এগিয়ে গেলো আবিরের দিকে।
তানভীর: ভাইয়া তুমি প্লিজ শান্ত হও। বুনু সুস্থ হয়ে যাবে।
তুমি এত অশান্ত হলে, আল্লাহ না করুক তোমার কোন বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
তানভীরের কথা শুনে আবিরের মেজাজ যেন আরো তুঙ্গে চড়ে গেল। শক্ত হাতে থাবা দিল তানভীরের গলায়।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৮+৬৯+৭০