আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ২০+২১+২২
ফারজানা মনি
বিকেল সাড়ে চারটা বাজে। খান বাড়ির ড্রয়িং রুমে বাড়ির সবাই বসে আছে। আবির গেটের সামনে বাড়ির গাড়িটি নিয়ে অপেক্ষা করছে। মূলত সেই আজকে তানভীর আর বন্যাকে স্টেশনে পৌঁছে দিবে। মেঘ অনেকবার জেদ করেছে আবিরের সাথে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আবির নিতে নারাজ।
তানভীর আর বন্যা সিঁড়ি দিয়ে নামছে । ড্রয়িং রুমের দিকে তাকিয়ে দেখলো , বাড়ির পুরুষরা আজকে একটু আগেই অফিস থেকে ফিরেছে। পাশে মহিলারাও দাঁড়িয়ে আছে তাদের অপেক্ষায়। মেঘ গাল ফুলিয়ে বসে আছে। মিম তার পাশে দাঁড়িয়ে।
তানভীর এসে মেঘের পাশে দাঁড়ালো বলল: বনু…
মেঘ অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে সে তানভীরকে দেখিনি। বন্যা এসে মেঘকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল : ননদিনী.. কি হয়েছে তোর??
তানভীর: কি হয়েছে বনু তোর? ভাইয়া কিছু বলেছে?
মেঘ: ভাইয়া.. আমি তোমাদের স্টেশনে পৌঁছে দিতে যেতে চাই। কিন্তু তোমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই আমাকে নিতে নারাজ।
তানভীর হাসলো। বলল: ভাইয়া তো তোর ভালোই চায়. তুই তো তা জানিস। তাছাড়া এই সময় বেশি বাহিরে যাওয়া উচিত নয়।
মেঘ: ভাইয়া তুমিও.. যাও যাও তোমাদের কারো সাথে আমার কোন কথা নেই।
বন্যা এসে বলল: বেবি.. ভাইয়াকে বলে দেব, এক সময় বিকেলে তোকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হতে। এখন প্লিজ রাগ করিস না। যাওয়ার সময় তোর রাগি চেহারা দেখে গেলে আমাদের কার ই ভালো লাগবে না।
বন্যার কথা শুনে মেঘ কি বুঝলো কে জানে। বন্যাকে জড়িয়ে ধরে বলল: হ্যাপি জার্নি বেবি।
উপস্থিত সবাই হাসলো। বন্যা একে একে সবাইকে বিদায় জানালো। আলী আহমেদ খান তানভীরকে ডেকে বলল: সাবধানে যাবে । বন্যার খেয়াল রাখবে । বন্যার মুখ থেকে যেন তোমার নামে কোন অভিযোগ না শুনি। মোজাম্মেল খান বলে উঠলো,, সারা জীবন ভন্ডামি তো অনেক করেছো। এখন অন্তত আমার বৌমার খেয়াল রেখো। বৌমার সামান্যতম কোন ক্ষতি হলে তোমাকে আমি আস্ত রাখবো না। দুই ভাই এর কথার মাঝে ইকবাল খান বলে উঠলো: ভাইজান.. ওদের এখন প্লিজ যেতে দিন.. যাওয়ার সময় অন্তত ছেলেটাকে আর বকবেন না। তানভীর ছোট চাচ্চুকে গিয়ে জড়িয়ে ধরল, কানে কানে ফিসফিস করে বলল: থ্যাংক ইউ চাচ্চু।
মেঘ ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল: সাবধানে যেও। আমার বেবিটার খেয়াল রেখো।
তানভীর হাসলো। মেঘ বন্যা কেউ জড়িয়ে ধরল। বলল: আমার ভাইয়ার খেয়াল রাখিস।
বন্যা: যথা আজ্ঞা ননদিনী…
তানভীর বন্যা বাহিরে এসে দেখল, আবির গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। তানভীর ড্রাইভিং সিটের পাশে বসতে চাওয়ায় আবির ইশারা দিয়ে বলল, পিছনে গিয়ে বন্যার সাথে বসতে।
আবিরদের গাড়িটা মুহূর্তেই খান বাড়ির গেট পেরিয়ে চলতে থাকলো। মেঘ মালিহা খানের কাছে গিয়ে বলল: আমার কফি খেতে ইচ্ছে করছে। প্লিজ আমি নিজে বানিয়ে খাই? এ কথা শুনেই হালিমা খান ছুটে আসলো, কিরে মেঘ… এই সময় তো তুই কফি খাস না তাহলে কি মাথা ব্যথা হচ্ছে? মেঘ বলল বিপদে, এখন মাকে কি করে বলবে যে সে উপন্যাস পড়ে কেঁদেছে । তাই তার মাথা ব্যথা করছে। অবশ্যই যাওয়ার আগে আবির বারবার জিজ্ঞাসা করেছিল যে মাথা ব্যথা করছে কিনা। সে কফি করে আনবি কিনা। কিন্তু মেঘ আবিরকে তা জানায়নি।
বর্তমানে আবির ব্যবসায়ের কাজে অনেক বিজি থাকে। তাই মেঘ চায়না, তার সামান্য কোন সমস্যা আবিরকে জানিয়ে টেনশনে ফেলতে।
হঠাৎ মালিহা খানের কথায় মেঘের ধ্যান ভাঙল । কিরে আবার কি ভাবছিস ? সোফায় গিয়ে বস, আমি কফি নিয়ে আসছি। মেঘ চুপচাপ গিয়ে সোফায় বসলো।
আদি আর মিম একটা চকলেট নিয়ে কারাকারি করছে। মেঘ উচ্চস্বরে দিল এক ধমক!! কিরে মিম তুই ও কি ছোট হয়ে গেছিস? চকলেট টা আদিকে দে। মেঘের ধমক শুনে মীম আদিকে চকলেট টা দিয়ে দিল। আদিতো মহা খুশি । মীমকে একটা ভেংচি কেটে চকলেট টা নিয়ে দৌড় দিল ।মিম বলল : দেখেছো আপু ,ও যে আমাকে ভেংচি কেটেছে এটা তো কেউ দেখে না।
মেঘ হাসলো। মিমকে কাছে ডেকে বসিয়ে বলল: আবির ভাইকে বলব তোকে অনেকগুলো চকলেট আর গিফট এনে দিতে..
মিম: মনে থাকে যেন..
মালিহা খান কফি এনে মেঘের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল:
শুধু কফি খেলে হবে না। ফল , ডিম, দুধ খেতে হবে। আমার নাতিপুতি যেন তোর মত কঙ্কাল না হয়। মেঘ বলল: বড় আম্মু… তুমিও কি তোমার ছেলের মত কথা বলছো?
আলী আহমেদ খান: কি হয়েছে মেঘ মামুনির?
মেঘ আলি আহমেদ খানের কাছে গিয়ে বলল: আব্বাজান.. সবাই মিলে কি শুরু করেছে দেখো। কেউ আমাকে কঙ্কাল বলছে। কেউ আবার বলছে আমাকে মেডিকেলে বেচে দেবে।
মোজাম্মেল খান এসে রাসভাড়ী কন্ঠে বলল: কার এত বড় সাহস আমার মেয়েকে মেডিকেলে বিক্রি করে দেবে?
বড় ভাবি তোমার ছেলেকে সামলাও,, আমার মেয়ে মোটেও কঙ্কাল না। বলেই মেঘের অগোচরে মুচকি মুচকি হাসলো।
হালিমা খান এসে বলল : তোমাদের আদরেই মেয়েটা ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করে না। দিন দিন শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে
রাত ৯ টা বাজে। আবির বাড়ি ফিরে রুমে ঢুকে দেখল, মেঘ বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। মেঘকে এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে দেখে আবির মেঘের কপালে, গালে , গলায় হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কিনা। নাহ জ্বর নেই।
আবির ফ্রেশ হয়ে এলো। এসেও দেখে মেঘ ঘুমাচ্ছে । তাই সে নিচে চলে গেল । নিচে মালিহা খান, হালিমা খান, আকলিমা খান সবাই একসাথে গল্প করছে। পাশেই মিম বসে টিভি দেখছে। আদি মাঝে মাঝেই মিমের হাত থেকে রিমোট কেড়ে নিচ্ছে । সেটা নিয়ে আবার দুই ভাই বোন মারামারিও করছে। আমি সবাইকে এক নজর দেখে রান্নাঘরের দিকে গেল। কফির জন্য গরম পানি বসাতে যাবে, তখনই মালিহা খান ডেকে বলল ; কিরে আবির কখন আসলি? আর আমরা সবাই এখানে থাকতে তুই কেন কফি করতে যাচ্ছিস?
আবির: সমস্যা নাই আম্মু.. তোমরা গল্প করো. আমি
করে নিতে পারবো।
এ কথা শুনে মালিহা খান সকলের সাথে আবার গল্পে মনোযোগ দিল। আবির কে নিচে দেখে মীম আর আদি কিছুটা শান্ত হয়ে গেছে। আবির তার মন মতো কফি বানাচ্ছে। কফি হাতে উপরে যাওয়ার সময় বলল: আম্মু…. মেঘ কি রাতে খেয়েছে??
মালিহা খান: না.. সন্ধ্যা বেলা বলল ; ভালো লাগছে না।
তাই উপরে চলে গেছে।
আবির: ঠিক আছে… ওর খাবারটা প্লিজ উপরে পাঠিয়ে
দাও।
আকলিমা খান: আবির তুমি উপরে যাও, আমি নিয়ে
আসছি । তোমারটাও কি উপরে নিয়ে
আসবো?
আবির: না কাকি মনি.. আমি একটু পর নিচে এসেই
খেয়ে নিব।
বলেই আবির সিঁড়ি বেয়ে বড় বড় কদম ফেলে উপরে চলে গেল। মিম আর আদি এতক্ষণ মনে হয় নিঃশ্বাস বন্ধ করে রেখেছিল। আবির যাওয়ায় একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে দুজন আবার রিমোট নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে। এ পর্যায়ে আকলিমা খান ধমকের সুরে বলল: এখনই টিভিটা অফ করে খেতে যাও।
মিম আর আদি দুজন দুজনকে ভেংচি কেটে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো। হালিমা খান মেঘের খাবারটা আকলিমা খানের হাতে দিয়ে বলল উপরে দিয়ে আসতে।
মালিহা খান মিম আদি কে খেতে দিচ্ছে। খাওয়ার মধ্যেই ওরা আবার ঝগড়া করছে। আকলিমা খান এক ধমক দিয়ে তারপর মেঘের রুমের দিকে চলে গেল।
আকলিমা খান দরজায় একটু ঠক ঠক করে বলল: আসবো?
ভিতর থেকে আবিরের কন্ঠ ভেসে আসলো: এসো কাকি মনি। ভিতরে এসো।
আকলিমা খান দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখলো আবির খাটের একপাশে হাতে ল্যাপটপ নিয়ে অফিসের কাজ করছে, পাশেই মেঘ বিভরে ঘুমাচ্ছে।
আকলিমা খান পাশের টেবিলে খাবারটা রেখে মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: আবির.. ওকে ডেকে খেয়ে নিতে বল। না খেয়ে ঘুমাতে দিও না।
আবির শান্ত কন্ঠে বলল: ঠিক আছে কাকিমণি।
আকলিমা খান চলে যেতেই আবির মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল: ম্যাম.. শুনতে পাচ্ছেন..
মেঘ কিছুটা নড়েচড়ে অন্যদিকে ফিরে আবার ঘুমিয়ে গেল। আবির মোহনীয় কন্ঠে আবারো বলবো: ম্যাম..
মেঘ একটু নড়েচড়ে সেই চিরচেনা কন্ঠে জবাব দিল: হুম ..
আবিরের ডাকে মেঘের ঘুম না বাঙ্গায়, আবির মেঘ কে কোলে তুলে ব্যালকনির সোফাতে নিয়ে বসালো।
হঠাৎ মেঘ চোখ খুলে হতবম্ব হয়ে গেল। আবির কখন এলো? আর সে সোফাতে কি করছে?
আবির শান্ত দৃষ্টিতে মেঘের হতভম্ব মুখের পানে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা একটু পাগল.. না অনেকটাই পাগল..
পাগল না হলে কেউ সোফায় কিভাবে আসলো সেটা নিয়ে এখন ভাবতে বসে। আবির হাসলো।
হঠাৎ আবিরের হাসির মৃদু শব্দে মেঘের ধ্যানমগ্ন হলো। আবিরের দিকে তাকিয়ে বলল : হাসছেন কেন?
আবির: ভাবছি..
মেঘ: কি ভাবছেন?
আবির: ভাবছি.. তোর মতো আরেকটা বউ থাকলে
আমার পাবনা যাওয়া কেউ আটকাতে পারবেনা।
মেঘ চোখ গোল গোল করে আবিরের মুখের পানে তাকিয়ে আছে। কি বলছে এসব আবির ভাই। তার আরেকটা বউ! এসব ভেবেই মেঘের মুখশ্রী কালো আঁধারে ঢেকে গেলো।
আবির আবারো হাসলো। বলল : সাধেই আমি তোকে তার কাটা বলি।
মেঘ গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। আবির খাবার মেখে মুখের সামনে ধরে বলল : অনেক কথা হয়েছে , এবার তো খেয়ে নে।
মেঘ কিছু বলছে না । বেলকনির বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। আবির মেঘের চিবুক ধরে টেনে তার দিকে ফিরালো। কিন্তু একি এত সামান্য ব্যাপারে মেঘ কান্না করছে। আবির শুনেছে এ সময় নাকি মেয়েদের মুড সুইং হয় । তাই কি মেঘ এমন করছে?
আবির মেঘকে কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল: সরি ম্যাম.. প্লিজ রাগ কইরেন না।
মেঘ আবিরের বুকে মাথা রেখেই ফুুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে দিল। একে কিছুটা শান্ত করার পর আবির মেয়েকে খাইয়ে দেওয়া শুরু করেছে। আজকাল মেঘ কিছুতেই খেতে চায় না। সবকিছুতেই অনীহা দেখায়। তাই ওকে খাওয়ানোর দায়িত্বটা আবিরেরই নিতে হয়। আবিরের এত যত্নের কারনে বাড়ির বাকিরাও একটু নিশ্চিন্তে থাকে। অবশ্য দুইদিন আগেও আবির মেঘের অসুস্থতা নিয়ে কিছুই জানতো না। মেঘের খাওয়ার অনীহা দেখে আবির খাইয়ে দিত।
আবির মেঘকে খাইয়ে দেওয়া শেষে, বিছানায় শুয়ে দিয়ে বলল: এখানে চুপ করে শুয়ে থাকো। আমি নিচে যাচ্ছি। মেঘ আবিরের এক হাত ধরে টেনে বলল: প্লিজ তাড়াতাড়ি আসবেন আমার একা একা ভালো লাগছে না।
আবির একটু হাসলো। বলল: ডিনার করেই চলে আসবো। বলেই আবীর মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। নিচে যেতে যেতে তানভীর কে কল দিল।
তানভীর: আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
আবির: ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছিস।
তানভীর: ভাইয়া.. তুমি বড্ড অদ্ভুত প্রশ্ন করো মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই
তো আমাদের দেখা হলো। এর মাঝে খারাপ কিভাবে
থাকবো ,, আগের মতই ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আবির: যেতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো?
তানভীর: না ভাইয়া.. যে কাজে তুমি তোমার ছোঁয়া দিয়েছো, সেখানে
কোন অসুবিধা হতেই পারে না ইনশাআল্লাহ।
আবির: হয়েছে.. আর চাপা মারতে হবে না। পৌঁছে কল দিয়ে জানাইস
আমাকে। আর শোন…
তানভীর: বলো ভাইয়া..
আবির: যেকোনো সমস্যায় আমাকে জানাতে ভুলবি না। বন্যার খেয়াল
রাখবি।
তানভীর: ভাইয়া তুমি শুধু শুধুই টেনশন করছো। তুমি মেঘের খেয়াল
রেখো। আমার বোনটা নিজেই এখনো বাচ্চা। ওকে কোন
কারনে রাগ দেখিও না প্লিজ।
আবির: আমার বউয়ের কথা চিন্তা না করে, তুই তোর বউয়ের কথা
চিন্তা কর।
তানভীর: মেঘ তোমার বউ হওয়ার আগে আমার বোন।
আবির : আমি বড় নাকি তুই বড়?
তানভীর: তুমি..
আবির: আমি বেশি জানি নাকি তুই বেশি জানোস?
তানভীর: তুমি..
আবির: তাহলে শোনেন সম্বন্ধী ভাই.. আপনার বোন আমার জন্মগত
বউ।
তানভীর: জন্মগত সমস্যা শুনেছি। কিন্তু বাপের জন্মেও জন্মগত বউ
শুনিনি।
আবির: তুই হানিমুন থেকে ফিরে ছোট বোনের জামাইয়ের কাছে ক্লাস
করতে আসিস। তোর অনেক কিছু শেখার আছে।
তানভীর হাসলো। এ পর্যায়ে তানভীরের হাসির শব্দ শুনে বন্যার ঘুম ভেঙে গেল। বন্যা একটু আগেই ট্রেনের কামড়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। হঠাৎ তানভীরে হাসির শব্দ শুনে সে তাড়াহুড়া করে উঠে বসল।
বলল: কি হয়েছে? বাড়ি থেকে কল দিয়েছে? সব ঠিক আছে তো?
বন্যার এমন ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠা এবং অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে তানভীর তো অবাক প্রায়। সে ঠান্ডা ও শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল: কি হয়েছে? কোন স্বপ্ন দেখেছো? পানি খাবে?
বন্যা একটু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল: এত রাতে কে কল দিয়েছে? মেঘ এবং বাড়ির লোক সবাই ঠিক আছে তো?
তানভীর মিটিমিটি হাসলো। বলল: সবাই ঠিক আছে, শুধু আমি ঠিক নেই।
বন্যা: কেন কি হয়েছে আপনার?
তানভীর একটু ফিসফিসিয়ে বলল: এক মিনিট ভাইয়া লাইনে আছে..
বন্যা জিভে কামড় বসিয়ে বলল: ছি_ছি_ আবির ভাইয়া কলে আছে.. কে জানে কতটুকু শুনতে পেরেছে..
তানভীর : হ্যালো ভাইয়া..
আবির: থাক আর কিছু বলতে হবে না। ছোট বোনের জামাই হয়ে সমন্ধির হানিমুনে কাবাবের হাড্ডি হওয়ার ইচ্ছে আমার নেই।
বাই.. হ্যাপি জার্নি..
তানভীর: বাই..
বন্যা: আপনি রাগী ভিলেন ছিলেন জানতাম কিন্তু ঠোটকাটা কবে থেকে হয়েছেন?
তানভীরের সহজ স্বীকারোক্তি.. তোমাকে ভালোবাসার পর থেকে..
বন্যা: উফফ.. আপনাকে নিয়ে আর পারিনা। আবির ভাইয়ার সামনে আমাকে লজ্জা না দিলে আপনার চলছিল না তাই না?
তানভীর:কেন কি এমন বলেছি?
বন্যা: ভাইয়া ফোনে লাইনে আছে জেনেও , আপনি কেন আমাকে বললেন আপনি ঠিক নেই।
তানভীর: ভুল কি বলেছি হুম.. এত সুন্দর রাত.. ট্রেনে জানালা দিয়ে শন শন করে বাতাস আসছে ভিতরে। ট্রেনের কামরায় আমি আর আমার নতুন বউ হানিমুনে যাচ্ছি.. উফফস.. হাউ রোমান্টিক..
ভাবতেই ভালো লাগে..
কিন্তু আমার কি কপাল.. আমার বউ ঘুমাচ্ছে আর আমি মশা মারছি।
বন্যা তানভীরের এমন পাগলামো মাখা কথা শুনে অন্যদিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। মনে মনে ভাবছে; এই মানুষটা কে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। সব সময় দেখেছি মেঘ আর আমাকে শাসন করতে, ধমকাতে, বকতে। কখনো বুঝতে পারিনি এই রাগী , বদ মেজাজি মানুষটার ভেতরে একটা ছোট্ট বাচ্চা সুলভ মন আছে। সত্যি ই আজ মনে হচ্ছে জীবনটা পরিপূর্ণতা পেলো।
তানভীরের সাথে কথা শেষ করে, আবির তাড়াহুড়া করে খাচ্ছে। হালিমা খান বলল: কিরে আবির .. তানভীরের সাথে কথা হয়েছিল?
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ১৭+১৮+১৯
আবির: জি মামুনি .. কথা হয়েছে। ওরা ট্রেনে আছে বলেছে পৌঁছে জানাবে।
মালিহা খান: কিরে সবকিছু এত অল্প অল্প করে খাচ্ছিস,?
আবির: আম্মু.. তোমার বৌমা ঘরে একা আছে।
উপস্থিত সবাই কিছুটা মুচকি মুচকি হাসলো। তাতে আবিরের কোন কিছু যায় আসে না। বিয়ের আগে মেঘকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখলেও, বিয়ের পর মেঘের প্রতি ভালোবাসা বা দায়িত্বে কোন কিছুতেই কোন কৃপণতা করেনি আবির।
তার মতে এই এক আবিরের জীবন এক মেঘেতেই সীমাবদ্ধ।
