আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১১
সুরভী আক্তার
সায়ান যেহেতু সন্ধ্যায় এসেছে । তাই ওকে আর ফিরতে দিচ্ছে কে ? রাতের ডিনার এ বাড়িতে করিয়ে তবেই ওকে ছাড়বে এ বাড়ির লোক ? রাজশাহী থেকে ফিরেই সোজা এ বাড়িতে এসেছে । বাড়িতে বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করে নি ।
আটটার দিকে ডিনারে বসেছে সকলে । আজ একটু তাড়াতাড়ি । রৌদ্র ফিরেছে খানিক আগে । আর যেই ফেরা সেই কাজ । লম্বা শাওয়ার নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে । ভেজা শরীরে পাতলা একটা টিশার্ট জড়িয়ে ধুপধাপ পা ফেলে নিচে নামলো সে । চুল গুলো খানিক ভেজা, অগোছালো । কপাল ছাড়িয়ে চোখে এসে পড়েছে । টেবিলে মোটামুটি সবাই বসেছে খেতে । ছেলেরা একজোট হয়ে খাচ্ছে । বড়রাও আছে । নেই মেঘা আর শাফাহ্ । রৌদ্র নামতে নামতে সরু চোখে একে একে সকলকে পরখ করলো । কাঙ্ক্ষিত মুখটা খুঁজে না পেয়ে কপাল কুঁচকালো । ছেলেকে নামতে দেখে রুবিনা কাবির ডাকলেন….
” খেতে বস !
রৌদ্রের দিকে তাকায় সকলে । সিঁড়ির সামনে সটান দাঁড়িয়ে রৌদ্র । সায়ান ওকে দেখলো এতক্ষণে । কতদিন,কত বছর পর দেখলো ।
কখন ফিরেছে দেখে নি । এক গাল হেসে উদ্বেগাকুল হয়ে বললো সায়ান…
” রুডি , হোয়াটসঅ্যাপ ব্রো ? কত বছর পর দেখলাম তোকে !
হাসার চেষ্টা করে রৌদ্র । গুরুগম্ভীরতা লুকিয়ে মেকি আন্তরিকতা দেখিয়ে বলে গম্ভীর মুখে….
” ভালো । তুমি ?
” এইতো চলছে ।
বস , আমরাও শুরু করলাম সবে ।
রৌদ্র কিছু বললো না । আরো একবার একে একে সবাইকে দেখে নিলো । ও বরাবর আলাদা সবার থেকে । আজও তাই । কেউ ওর অপেক্ষায় খাবার ফেলে বসে থাকে না টেবিলে । সবাই খেতে বসার পর রৌদ্র যোগ দেয় সবার সাথে ।
নিঃশব্দে তাচ্ছিল্য হাসলো রৌদ্র । ঘুরে দাঁড়িয়ে ফের সিঁড়ির দিকে উঠতে গেলে রুবিনা কাবির ডাকলেন….
” আবার উঠছিস কেনো ? খাবি না ?
” সবাইকে খাওয়াও আগে । আমার খোঁজ আগে করো নি , এখন কেনো করছো ? ইচ্ছে হলে খাবো, নয়তো নয় ।
ধুপধাপ পা ফেলে উঠে গেলো সে ।
নিজের ঘরে ঢুকলো না । কড়া নাড়লো শাফাহ্’র ঘরের দরজায় । ভেতর থেকে অনুমতি পেতেই ধীর পায়ে ঘরে ঢুকলো । শাফাহ্ বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন ঘাটছে । মিটিমিটি হাসছে রিলস দেখে । ও ব্যাতিত ঘরে আর কেউ নেই । এদিক ওদিক চঞ্চল নয়নে চোখ বোলায় রৌদ্র । শাফাহ্ ফোন থেকে চোখ তুলে রৌদ্র কে দেখা মাত্রই থতমত খেলো খানিক । উঠে বসে থতমত স্বরে বলল…
” ভাইয়া ? তুমি ? আমি ভেবেছিলাম মেঘা ।
তুমি এখানে আমাদের ঘরে ! কিছু বলবে ?
রৌদ্র সহসা জবাব দিলো….
” তোকে দেখতে আসলাম ! পায়ের অবস্থা কেমন তোর ?
” ভালো । ব্যাথা নেই আর ।
” খেয়েছিস ?
” না ! নিচে তো যেতে পারছি না । সবার খাওয়া হলে আম্মু আমাদের খাবার নিয়ে ঘরে আসবে ।
চোরা চোখে এপাশ ওপাশ তাকায় রৌদ্র । হয়তো কাউকে খোঁজে আকুল দুচোখ । খুঁজে না পেয়ে ব্যার্থ হয় । শাফাহ্ একটু আগে বললো , রৌদ্র কে সে মেঘা ভেবেছিলো । তার মানে সেই মেয়ে ঘরে নেই । নিচেও তো নেই । তাহলে কোথায় ?
ভ্রু জড়ো করে ফেললো রৌদ্র ।
শাফাহ্ ভ্যাট ভ্যাট করে চেয়ে আছে জড়তায় । রৌদ্র বেরোতে বেরোতে বললো….
” যা করছিলি , তাই কর । আমি আসছি ।
ঘর ছাড়লো সে । লম্বাটে করিডোরের ডান বাম দেখলো । পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে পা চড়ালো ছাদের দিকে ।
রাতের অন্ধকারে আশপাশ তলিয়ে । আকাশ কালো । চাঁদ, তাঁরা নেই কোনো । দরজার পাশের দেয়ালে একটা লাইট জ্বলছে । ডান দিকে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মেঘা । আজ বাতাস উঠেছে । মিটমিটে হাওয়া বইছে । শিরশির করে লাগছে শরীরে ।
ডান হাতের সাহায্যে কানে ফোন গুঁজে মুখ অভিমানী করে রেখেছে মেঘা । ফোনে অডিও কলে কেউ যুক্ত । সে বকওয়াজ ঝাড়ছে , আর মনযোগ দিয়ে শুনছে মেঘা । এক মুহুর্ত পর ওষ্ঠ উল্টে হাসলো । ওপাশের জনের কথা শেষ হতেই বললো নিচু শান্ত স্বরে….
” ওকে ! তবে তাড়াতাড়ি ! আই এম ওয়েটিং ফর ইউ । এন্ড আই মিস ইউ এ্যা লট ।
ওপাশের জন প্রত্যুত্তরে কিছু একটা বলতেই আবার হাসলো মেঘা । উদাস মনে কান থেকে ফোন নামিয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে শ্বাস টানলো ।
রেলিংয়ে হাত রেখে ধীরে ধীরে ধার ঘেঁষে একটু হাঁটাহাঁটি করলো । ফোনের স্ক্রিনে তাকালো এবার । সাড়ে আটটা বাজতে চললো । সেই কখন ছাদে উঠেছে । নিচে নামতে হবে এখন । তড়িঘড়ি করে দরজার দিকে পা বাড়ালো মেঘা ।
এদিকে সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে শব্দ হীনা ছাদে উঠছে রৌদ্র । দরজার কাছে দু’জনেই মুখোমুখি হলো । মেঘা চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পেলো কপাল কুঁচকানো রৌদ্র কে ।
ঢোক গিলে চোখ আড়াল করলো । দাঁড়িয়ে গেছে রৌদ্র । মেঘা চোখ নামিয়ে পাশ কাটিয়ে আসতে নিলে সামন বরাবর হাত বাড়িয়ে পথ রোধ করলো রৌদ্র । থামলো সে । চড়াও করে তাকালো আবার । সহসা ভরাট কন্ঠে শুধালো রৌদ্র…
” এতো রাতে ছাদে কি করছিলি ?
” আপনাকে বলতে বাধ্য নই ।
” অবাধ্যতা আমার পছন্দ নয় ।
” আপনার পছন্দ কে গুরুত্ব দিতে বয়েই গেছে আমার ।
চোয়াল খিচে আসে রৌদ্রের । এই মেয়ের এতো কড়া কড়া কথা কেনো শুনবে ও ? কিসের এতো দেমাগ এই মেয়ের ? অবাধ্য দুচোখ কেনো খুঁজে মরছিলো এই ইডিয়ট টাকে ? নিজের উপর চরম ক্ষুব্ধ হয় রৌদ্র । মুখ বিকৃত করে ধমকায়….
” শাট আপ ইডিয়ট । মুখে মুখে তর্ক করবি না ।
” পথ ছাড়ুন তাহলে !
” ছাড়বো না , কি করবি ?
মেঘা তীক্ষ্ণ ছোখে তাকায় । সাথে রৌদ্র ও !
এই মেয়েটার মাঝে এমন কঠোরতা মোটেও আশা করে না সে । এই কি সেই ভিতু মেয়েটা , যাকে পাঁচ বছর আগে ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক বিয়ে করেছিলো সে ? পাঁচ বছর আগে তো এই মেয়ের এমন ঔদ্ধত্যতা ছিলো না । চুপসে যাওয়া ভিজে বেড়াল ছিলো একটা । আর এখন ? এখন এতো দহন ?
এই দহনেই কি ক্ষয়ে ক্ষয়ে পোড়াচ্ছে রৌদ্র কে ? এমন কেনো লাগে রৌদ্রের ? এ কেমন অনুভূতি ? কেমন লাগে ,তা সে নিজেও জানে না । মাঝে মাঝে প্রচন্ড বিরক্তি আসে নিজের প্রতি ।
রৌদ্র খপ করে মেঘার বাম হাতের কব্জি চেপে ধরলো । টেনে ছাদের দিকে পা বাড়াতেই খেকিয়ে উঠলো মেঘা….
” আরে কি করছেন ? ছাড়ুন আমার হাত !
ছাড়লো না । টেনে হিচড়ে নিজ শক্তিতে ছাদের এক কোণে কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়ালো । অতঃপর হাত ছেড়ে আঙ্গুল তুলে শাশ্বিয়ে বললো…
” চুপচাপ এখানটায় দাঁড়িয়ে থাকবি ! যতক্ষণ আমি এখানে থাকবো ততক্ষণ তোকেও এখানে থাকতে হবে । এক পা নড়লে পা ভেঙ্গে ঘরে বসিয়ে রাখবো । তখন তোর এতো তেজ কোথায় থাকে তাই দেখবো আমি ।
মেঘা অবাক হয়ে চায় । ভেতর ভেতর তেঁতে ওঠে । রৌদ্র পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করতেই চড়া গলায় বলে ফুঁসে উঠে…
” সিগারেট ধরালে থাকবো না এখানে ।
রৌদ্র থমকায় । সিগারেটের প্যাকেট টার দিকে তাকায় এক পলক । মুঠোতে পিষে বলে….
” ধরাবো না । তবুও দাঁড়িয়ে থাক ।
পিনপতন নীরবতা দুজনের মধ্যে । পুরো ছাদ জুড়ে ।
মেঘা নরম চোয়াল খিচে ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো এক দিকে তাকিয়ে আছে । রৌদ্র বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে অন্তর অন্তর । এক পর্যায়ে মুখ খুললো নীরবতা ছেদ করে….
” কিছু প্রশ্ন করি তোকে ?
ওও সরি , কিছু প্রশ্ন করি তোমায় ?
মেঘা সহসা কপাল গুটিয়ে নেয় । আস্তে ধীরে তাকায় । কেমন অদ্ভুত ভাবে চোখাচোখি হয় দুজনের । এই লোকের মুখে ফুল চন্দন ফোঁটে মাঝে মাঝে ।
মুখ ঝামটায় মেঘা । দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নেয় । রৌদ্র ফের কঠোর হয় , বলে নরম সত্ত্বা কে দূরে ঠেলে…
” ঠিকঠাক অ্যান্সার দিবি ।
পাঁচ বছর আগে কি ঘটেছিলো , আই হোপ ভুলে যাস নি ?
মেঘা চোখ খিচে নেয় তিক্ততায় । কান রি রি করে ওঠে ওর । পিছিয়ে যায় একটু । রৌদ্র বলে আড় চোখ স্বাভাবিক করে…
” তখন তো পিচ্চি ছিলি । এতোটা বড় হয়ে গেলি কবে ? এই ক বছরে ? বড় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমাকে ভুলে গেছিস ? পাঁচ বছর আগে কি হয়েছিলো মনে নেই ?
বিয়ে করতে চাইছিলি না বলে, আমার হাতে একটা থাপ্পড় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছিলি,এটা মনে আছে ? নাকি আর একটা থাপ্পর মেরে মনে করাবো ? এখন তো আবার থাপ্পড় খেলে গাল ফুলিয়ে বসে থাকিস ।
আচ্ছা , ভালো মতো আমার প্রশ্নের উত্তর দে তো ? সেদিন আমি না হয় নেশায় ছিলাম । তুই তো ছিলি না । তাহলে আমার কাছে এসেছিলি কেনো ? ভাইয়া ডেকেছিলি কেনো আমায় ? তোর মুখে শুনতে চাই আমি ? ঐ বাস্টার্ড টা , ওটাকে চিনিস কি করে তুই ? ওর সূত্রেই তো ভাইয়া ডেকেছিলি ? এম আই রাইট ?
মেঘা টু শব্দও করলো না । পেছাতে পেছাতে অনেকটা দূরত্ব তৈরি করলো । রৌদ্র পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো এবার । ওকে এভাবে দূরে যেতে দেখে বিরক্তি মাখা কন্ঠ চড়া করে বলল…
” এভাবে দূরে যাচ্ছিস কেনো ? কিছু করেছি তোকে ?
আমি কাছে গেলে পার পাবি না । সো , নিজের ভালো চাইলে পাশে এসে দাঁড়া আমার ।
মেঘা শুনলে তবে তো । ও তো পালানোর পথ খুঁজছে । এখানে এই লোকটার কাছাকাছি দম বন্ধ লাগছে ওর । মেঘা কথা না শুনলে রেগে বলে রৌদ্র….
” ইভারা , কাছে আয় । আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিবি আজ । তোর থেকে অনেক কিছু জানার আছে ।
মেঘা অনেকটা দূরত্ব বাড়িয়ে ফাঁক পেয়ে তড়িতে পিছু ফিরলো । এক ছুট লাগালো দরজার দিকে । নিজেকে বাঁচিয়ে নিলো রৌদ্র আর ওর করা প্রশ্নের সম্মুখ থেকে । ওকে এভাবে ছুটতে দেখে অনেকটা রেগে যায় রৌদ্র । দাঁত পিষে উচ্চারণ….
” ইডিয়ট , ছাড়বো না তোকে ।
রাত্রি পেরিয়ে নতুন একটা ভোরের সূচনা । আজ বুধবার । বাড়ির কর্তারা বাড়িতেই আছেন আজ । সকাল থেকে রটনা ছড়িয়েছে । আজ শুভ্রের বিয়ের ডেট ফিক্সট করতে যাওয়া হবে সায়ান দের বাড়িতে । এই নিয়ে তোড়জোড় চলছে বেশ । এনগেজমেন্ট হয়ে আছে অনেক আগ থেকেই । দুই পরিবারের সম্পর্ক ও খুব ঘনিষ্ঠ । এই নতুন সম্পর্ক জোড়া লাগানোর মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে আরো । বিয়েটা এক প্রকার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বলা চলে । বেশ ক বছর আগ থেকেই এই বিয়ে নিয়ে টুকটাক কথা হয় । মেহের তখনো ছোট । কাবির পরিবারের বড়দের বেশ পছন্দ চিলো ওকে । সায়ানের দিক থেকে অনেক বার মেহের কে দেখেছিলেন তারা । শুভ্র কে কিছু না জানিয়েই দুই পরিবারের বড়দের মাঝে এই নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছিল সেই বহু বছর আগেই ।
বছর দুয়েক আগে শুভ্র সহ মেহের কে জানানো হয় এসব । শুভ্র প্রথমে চরম দ্বিমত করেছিলো । সে কিছুতেই মেহেরের সাথে এই সম্পর্ক টা মানতে পারবে না । বড্ড নারাজ সে । মেহের কে কখনো সেই চোখে দেখাই হয় নি । কিন্তু দ্বিমত করে খোলসা ভাবে নিজের মতবাদ প্রকাশ ও করতে পারে নি সে । ও বরাবরই পরিবারের বাধ্য ছেলে । এই বাধ্য হওয়ার পরিচয় দিয়েছ এবারও ।
আজ অফিসে বেরোবেন না বাড়ির কর্তারা । দুপুরে সায়ান দের বাড়িতে যাবেন এ বাড়ির সবাই । শুভ্র একাই অফিসে বেরিয়েছে । সেখান থেকে সোজা ও বাড়িতে যাবে সে । আর বাকি রইলো বাড়ির বাকিরা । মোটামুটি সবাই যাবে । শাফাহ্ যেতে পারবে না দেখে সকাল থেকে গাল ফুলিয়ে বসে ছিলো । ওর একমাত্র বড় ভাইয়ের বিয়ে ঠিক করা হবে আজ , আর ও সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবে না ?
তবে নিজের দিকে তাকাতেই আফসোস লেগেছে । ওর নিজের যা অবস্থা, পা মেলতে পারছে না । যাবে কি করে ?
সেই সকালেই ব্রেকফাস্টের টেবিলে ঠিক হয়েছে , কে যাবে আর কে যাবেনা । সিরাত যেতে পারবে না রামিশা কে নিয়ে । শাফাহ্ ও যেতে পারবে না । ওদের দুটোর বডিগার্ড হিসেবে এ বাড়িতে থেকে যাবে মেঘা । বাচ্চা সামলাতে হিমশিম খাবে সিরাত । মেঘা নিজে থেকেই বলেছে ও যাবে না । বাকিরা সবাই যাচ্ছে ।
বাকি রয় রৌদ্র , সে তো এসব আলোচনায় নীরব দর্শক ছিলো । সেই যে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে । ফিরবেও না রাত না গড়ালে । ওর কথা কেউ গন্য করলো না ।
মেঘা , শাফাহ্ , আর সিরাত কে রেখে দুপুরের পর বেরিয়ে পড়েছে সকলে । ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা গড়াবে । বাড়িতে একাই তিন রমনী । সদর লাগিয়ে যে যার ঘরে । রামিশা ঘুমোচ্ছে । ওকে ঘুমে রেখে শাওয়ার নিতে ঢুকেছে সিরাত । টুকটুকি ও শুয়েছে ঘুমানোর জন্য । কি আর করার আছে ? মেঘা সিরাতের রুমে । রামিশার পাশে গুটিয়ে বসে আছে এক মনে ।
সদর দরজার কলিং বেল বাজতেই ধ্যানে ব্যাঘাত ঘটলো মেয়েটার । হতচকিত হয়ে নড়েচড়ে উঠলো । এই সময় আবার কে আসতে পারে ? রামিশার দিকে শেষ পলক চেয়ে ধীরে বিছানা ছাড়লো মেঘা । ঘর ত্যাগ করে নিজ ঘরে গিয়ে একটা ওরনা গায়ে জড়ালো । ভেঁজা চুল গুলো মুঠোতে পেঁচিয়ে খোপা করে একটা কাঁটা দিয়ে আটকে নিলো । কলিং বেল বেজেই চলেছে লাগাতার ।
নামতে নামতে লাগাতার শব্দে বিরক্ত হলো মেঘা । গেইটে দারোয়ান আছে । এই সময় নিশ্চয়ই বাইরের কেউ নয় ।
মুখ বিকৃত করে দরজার দিকে এগিয়ে ঠাস করে খুললো দরজা খানা । ঠিক সোজাসুজি রৌদ্র দাঁড়িয়ে শিথিল হয়ে । মেঘা ওকে দেখেই কপাল খানায় আরো বেশি বিরক্তির ভাঁজ ফেলে ফোঁস করে শ্বাস ফেললো । এই লোক আজ এ সময় বাড়িতে কেনো ?
কিছু না বলে দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো মেঘা । ওর দিকে তাকিয়েই ভেতরে ঢুকলো রৌদ্র । বললো আদেশের স্বরে…
” কিছু খেতে দে তো , খিদে পেয়েছে ।
দরজা আটকাতে আটকাতে বিড়বিড় করলো মেঘা….
” ঠেকা পড়ছে আমার ।
রৌদ্র শুনেই পদ যুগল থমকায় । ঘাড় কাত করে পিছু ফেরে । পরিবর্তন না হয়েই বলে…
” তোর কি পড়েছে কি পড়েনি , তা তো দেখতে চাই নি । খেতে চেয়েছি , খেতে দে ।
” পারবো না ।
” অবাধ্য হবি না !
দরজা আটকে ঠাস করে উত্তর করলো মেঘা…
” হাজার বার হবো । কে আপনি , যে আমাকে আপনার বাধ্য হতে হবে ?
রৌদ্র ওষ্ঠ পিষে হাসে । তর্জনীর সাহায্যে কপালের পাশ চুলকায় । উল্টো ফিরে মেঘার দিকে পা বাড়িয়ে বলে…..
” আমি ? আমি তোর LP ।
” হোয়াট ?
” ইয়েস সুইটহার্ট । অর , ইউ আর মাই MP । মাই সানি ।
মুখ বাঁকালো মেঘা । রৌদ্র কে নিজের দিকে এগোতে দেখে নীরবে ঢোক গিললো । পাশ কাটিয়ে সরতে চাইলে টেনে ধরলো রৌদ্র । বাম হাত খপ করে চেপে ধরলো প্রত্যেক বারের মতো । ওর স্পর্শে শিউরে ওঠে মেঘা । শিহরণ লুকিয়ে টাটিয়ে বললো….
” অসভ্য লোক । ছোঁবেন না আমায় ।
” সভ্য মেয়ে । চেঁচাবি না আমার উপর । ঔদ্ধত্যা পছন্দ নয় আমার ।
ওদের দুটোর কথা কাটাকাটির মাঝেই উপর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো । মেঘা চকিতে তাকালো উপরের দিকে । খানিক আতঙ্কে বিড়বিড় করলো অস্ফুটে….
” বেবি ??
” ইয়েস বেবি !
তড়িতে রৌদ্রের দিকে ফিরে মুখ কুঁচকে ফেললো মেঘা । রৌদ্র ওষ্ঠ বাঁকিয়ে চেয়ে আছে । চোখের দিপ্তী অদ্ভুত । মেঘা হাত মুচড়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো….
” ছাড়ুন আমায় । বাবু কাঁদছে । উঠে পড়েছে ঘুম থেকে…
” বাবুর কাছে বাবুর মা আছে । আমার কাছে কেউ নেই । তোকে লাগবে আমার । একবারও বাগে পাই না তোকে । কাল ছাদ থেকে পালালি কেনো , হ্যাঁ ? বলেছিলাম না তোর সাথে আমার কথা আছে ! শুনিস না কেনো আমার কথা ?
মেঘা ঝটকা মেরে বলে তিরিক্ষি স্বরে….
” উফফফ , ইরিটেটিং লোক । ছাড়ুন আমায় । আপু ওয়াশ রুমে । বেবি রুমে একা আছে ।
রৌদ্র সহসা ছাড়লো ।
মেঘা ফোঁস করে শ্বাস ফেলে এক মুহুর্ত অপেক্ষা করলো না । দ্রুত পদে ছুটলো সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে ।
হুড়মুড়িয়ে ঢুকলো সিরাতের ঘরে । বাচ্চা কাঁদছে অবিরাম । মেঘা তড়িঘড়ি করে আলতো হাতে কোলে নিলো রামিশা কে । যদিও ও এখনো অবধি সেভাবে কোলে নেয় নি ভয়ের দরুন । ছোট্ট তুলোর ন্যায় শরীর টা আলগোছে ধরতেও হাত কাঁপে । আজ ভয় ডর ভুলে কোলে নিলো । বিছানাতে বসেই আলতো করে ঝাঁকা ঝাঁকি করলো । কিন্তু কান্না থামার নাম নেই । কেঁদেই চলেছে একাধারে । ছোট্ট শরীর টা ঠিকড়ে উঠে কেমন লালচে হয়ে গেছে ।
মেঘা কপালে বিস্তর ভাঁজ ফেললো । হাত কাঁপছে কেমন । বসে থাকলে থামানো যাবে না এই বাচ্চা কে । ধীরে উঠে দাঁড়ালো মেঘা । অস্বস্তিতে কাঁপলো কেমন । দাঁড়াতেই পায়ের তালু সমেত হাঁটু কেঁপে উঠলো । হ্যালুসিনেশন হলো , এই যেনো কোল থেকে ফসকে পড়ে যাবে আদুরে কোমল নব কলেবর । বাচ্চা সামলাতেও জানে না সে । বড়রা কি সব গল্প,কথা বলে বাচ্চা দের থামায় । মেঘা তো সেসব কিছুই জানে না ।
মেঘা ধীরে পা বাড়ালো , ঠোঁট ভিজিয়ে কেঁপে কেঁপে বললো…
” আলে বাবালে , কাঁদে না সোনা । এইতো আন্নি এসে গেছে । আন্নির কোলে উঠেছো তুমি । কাঁদে না সোনা । এই চুপ করো । সোনা আমার , চুপ হয়ে যাও । মাম্মা আসছে তো । গুলু গুলু সোনা আমার । খিদে পেয়েছে তোমার ? কাঁদে না গুড গার্ল । মাম্মা এসে এক্ষুনি খাওয়াবে তোমায় ।
কান্না থামা তো দূর । বরং বেড়ে গেলো আরো বেশি । ভয়ে তটস্থ হয়ে গেলো মেঘা । হাত পা শিরশির করছে কেমন । পা বাড়াতেও পারছে না । ঠাঁয় দাঁড়িয়ে গেলো । ঢোক গিলে আবার বললো…
” থেমে যাও বেবি , প্লিজ । ভয় লাগছে আমার । তোমাকে তো কোলে নেই নি আমি । ইনফ্যাক্ট আজ অবধি কোনো বাচ্চা কে কোলে নেই নি । কি কিউট তুমি । যদি গলে পড়ে যাও আমার কোল থেকে ? কাঁদে না বেবি প্লিজ…
বাচ্চা থামলে তবেই তো ! ওর কথা বোঝার মতো জ্ঞান নেই এই ছোট্ট ছানার । মেঘা মুখ মলিন করে ওয়াশ রুমের দিকে তাকালো । সিরাতের বের হওয়ার নাম নেই ।
এতক্ষনে রৌদ্রের আগমন । ঘরে ঢুকেই বিচলিত হয়ে বললো তড়িঘড়ি করে পা বাড়িয়ে….
” ইডিয়ট , রামিশা সেই কখন থেকে কাঁদছে । থামাতে পারছিস না ওকে ?
মেঘা অসহায় চোখে চায় । অনুভূতি হীন অস্ফুটে বলে…
” থামছে না তো ।
একটু থেমে আবার বললো কাঁপা স্বরে….
” আ..আমার ভয় করছে । পড়ে যাবে ও । একটু কোলে নিন না । আপনি তো ওকে সামলাতে পারেন । কান্না থামিয়ে দিন প্লিজ । আপু ওয়াশ রুমে আছে , এক্ষুনি চলে আসবে । কাঁদছে ভীষণ । আপনি সামলে নিন না একটু ।
মেয়েটার এমন আদুরে ধরা গলায় রৌদ্র কেমন করে তাকায় । তীক্ষ্ণ করে চোখ । নজর বোলায় মেঘার মুখশ্রীতে । অবয়ব কেমন তিরতিরিয়ে কাঁপছে । কেনো যেনো হাসি পায় রৌদ্রের । কপালের ভাঁজ নিয়েই খানিক হাসে । ঠোঁটের ভিড় জমানো হাসি টুকু ঠেলে ফেলে এক মুহুর্ত বাদ । এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে কোমল স্বাভাবিক কন্ঠে বলে…
” আমাকে দাও ।
মেঘা ঝিলমিলিয়ে ওঠে । ভয় ঠেলে তড়িঘড়ি করে বাচ্চা কে তুলে দেয় রৌদ্রের কোলে । এক গাল হেসে বলে…
” থ্যাঙ্ক ইউ !
” বাচ্চা সামলাতে পারিস না , ইডিয়ট !
মেঘা কানালো না । বরাবরের মতো রাগলো না । ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বললো….
” আমি পারবো কি করে ?
রৌদ্র বিড়বিড়য়ে আবার বললো আড়চোখে চেয়ে….
” ইডিয়ট ।
পরিপ্রেক্ষিতে চোখ উল্টিয়ে একই ভাবে বিড়বিড় করে মেঘা….
” রাইনো মুখো ।
সায়ান দের বাড়িতে হুড়োহুড়ি পড়েছে মেহমান নিয়ে ।
সব দিক বিবেচনা করে আগামী সোমবার বিয়ের দিন তারিখ ধার্য করা হলো । হাতে আছে মাঝে মোটে পাঁচটা দিন । দু’পক্ষের সম্মতিতে বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে । অক্টোবরের সতেরো তারিখ । শুভ্র ও বাড়িতে পৌঁছেছে বিকেলের পর, সন্ধার আগে । ততক্ষণে ডেট ফিক্সট করা শেষ । ও তো গিয়ে সারপ্রাইজড । বড়রা ড্রইং রুমে বসে এখনো গল্পে মেতে আছেন । আদ্র নেই । সে বেরিয়েছে বাইরে কোথাও । বড়দের মাঝে থেকেই বা কি করবে । শুভ্র বাড়িতে ঢুকতেই ওকে নিয়ে তোড়জোড় শুরু । নতুন জামাই হিসেবে এখন থেকেই ট্রিট পাচ্ছে সে ।
অফিস থেকে ফিরেছে , ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন আগে । সায়ান সবার থেকে আলাদা করে ওকে টেনে নিয়ে নিজের ঘরে গেছে । ওর ঘরেই ফ্রেশ হয়ে নিলো শুভ্র । ততক্ষণে নিচ থেকে সফট ড্রিংকস পাঠিয়েছেন সায়ানে মা #সায়রা_বেগম । শুভ্র হাত মুখ মুছে বিছানার একপাশে বসলো । ড্রিংসের গ্লাস হাতে তুলে চুমুক বসিয়ে বললো…
” তোর বোন কোথায় ?
ফোনে দৃষ্টি রেখে গম্ভীর গলায় উত্তর করলো সায়ান….
” রুমে !
” ওকে একটু ছাদে উঠতে বল । ওর সাথে কথা আছে আমার ।
” ছাদে কেনো ?
” তো ? ওর রুমে যেতে বলছিস ?
” গেলে ক্ষতি কি ?
হাত থেকে গ্লাস নামানো শুভ্র । উঠে দাঁড়িয়ে শ্বাস ফেলে বললো….
” তোর বোন আজকাল অক-ওয়ার্ড ফিল করে আমাকে দেখলে ।
” ইটস নরমাল । ওকে তুই যেমন স্বাভাবিক ভাবে ভেবে নিয়ে এসেছিস এতো কাল , ও নিজেও ঠিক তেমনই ভেবে এসেছে তোকে নিয়ে । এখন সম্পর্ক বদলাচ্ছে ।
শুভ্র বেশি কিছু শুনতে চাইলো না । সায়ান আরো কিছু বলার আগেই বাঁধা দিয়ে পা চালিয়ে বললো….
” বস, আমি আসছি ওর সাথে কথা বলে ।
বেরিয়ে গেলো শুভ্র ।
দুটো ঘর পেরিয়ে করিডোরের শেষ ঘরটা মেহেরের । দরজায় নক করলো শুভ্র । সাঁড়া পাওয়া গেলো না । দুবার নক করে নিজেই ঘরে ঢুকলো সন্তর্পণে । দরজা চাপিয়ে এদিক ওদিক চোখ বোলালো । রুম ফাঁকা , কেউ নেই । কপাল কুঁচকে ফেললো শুভ্র ।
চাওয়া চাওয়ি করার মাঝেই ওয়াশ রুম থেকে বেরোলো মেহের । মুখোমুখি রুমের দরজার সামনে শুভ্র কে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খায় । পড়নের শাড়ির আঁচল টা খপ করে খামচে ধরে দ্রুত চোখ নামায় মেয়েটা । বিষম খেয়ে কেশে ওঠে । ওর দিকে সরু চোখে তাকায় শুভ্র । গাঢ় নীল রঙের একটা শাড়ি পড়েছে মেয়েটা । আঁচল খানা খানিক এলোমেলো । তড়িঘড়ি করে আঁচল সামলে ঠিক করে নেয় মেহের । চোরা চোখ তুলে তাকায় এক পলক । সেভাবেই চোখাচোখি হতেই চোখ নামায় তড়িতে ।
শুভ্র চোখ সরায় না । এক দৃষ্টে তাকিয়ে এগোয় । টেবিলের পাশের লম্বা সোফাটায় বসে । পা তুলে পায়ের উপর রাখে । বলে..
” ওখানেই শংয়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবি , নাকি এদিকে আসবি ?
নড়েচড়ে উঠলো মেহের । ঢোক গিলে মাথা নত করে একটু এগিয়ে খাটের পাশে দাঁড়ালো জড়োসড়ো হয়ে । শুভ্র ডাকলো..
” এদিকে আয় !
মেহের কোনো রকমে উচ্চারণ করে….
” ক.. কিছু বলবে ?
” কাছে আয় বলছি ।
সটান দাঁড়িয়ে থেকে একটু পর এগোয় মেহের । চোখ নামিয়ে সিটিয়ে দাঁড়ায় সোফার পাশে । শুভ্র পাশে ইশারা করে বলে….
” বস ।
অগত্যা বসে মাঝে চার ফুট দূরত্ব রেখে ।
শুভ্র ওর জড়তা দেখে দুদিকে মাথা নাড়ালো । চার ফুট দূরত্ব ঘুচে এক ধাক্কায় এগিয়ে আসলো মেহেরের দিকে । কাছ ঘেঁষে বসতেই ছিটকে দূরে সরতে চাইলো মেহের , তবে জায়গা সংকুলান হাওয়ায় পারলো না সরে যেতে । দম খিচে নিলো । নিজের সাথে শুভ্রের সংস্পর্শ পেতেই শ্বাস রোধ হওয়ার দশা ওর । শুভ্র কে তো ও এখনো কম্ফোর্টেবলি ভাবতেই পারে না । কেমন জড়িয়ে আসে সবটা ।
ওদের এনগেজমেন্টট হয়েছিলো আজ থেকে এক বছর আট মাস আগে । তখন থেকেই বিয়েটা ঝুলে আছে । এখন সেই ঝুলে থাকা বিয়েটা সম্পন্ন হবে । তবে বিয়েটা ঝুলিয়ে রেখে মন্দ হয় নি ।
এতে করে শুভ্র মেহেরের সাথে জড়িয়েছে খানিকটা । অনেক টাই বলা চলে । দেখার দৃষ্টি ভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে । এই দেড় বছরের অধিক সময়ে মেহের কে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনুধাবন করেছে সে । আগে কখনো সেভাবে তাকানোই হয় নি । বন্ধুর বোন হিসেবে নিজের ও বোন বিবেচনা করে এসেছে বরাবর । তবে আংটি বদলের পর থেকে বিবেচনায় পরিবর্তন এসেছে । এখন বউ ভাবতে ইচ্ছে করে এই মেয়েটা কে ।
মেহের দম খিচে রেখে লাল হয়ে গেছে । ফর্সা মুখটা রাঙা হয়ে উঠেছে । শুভ্র ওকে এভাবে ইতস্তত দেখে খানিক হাসলো । একটু দূরত্ব বাড়িয়ে বসে বললো….
” শ্বাস নে গাধা । নয়তো মরবি । বিয়ে,বাসরের আগে বউ হারিয়ে বিধবা হতে চাই না আমি ।
দূরত্ব পেয়ে হাঁফ ছাড়ে মেয়েটা । বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানে । শুভ্র শুধোয়….
” শাড়ি পড়েছিস কেনো ?
” আম্মু পড়তে বলেছিলো !
” আমাকে দেখানোর জন্য, নাকি আমার পরিবার কে দেখানোর জন্য ?
” ……
” আচ্ছা বাদ দে । সুন্দর লাগছে শাড়িতে । আমাদের বিয়ের ডেটটা যেনো কবে ঠিক হলো ?
” সতেরো তারিখ ।
” ওও , তার মানে সতেরো তারিখের পর তুই আমার বউ হবি ? আর আমি তোর হাসবেন্ড । যদিও এটা আগে থেকেই ঠিক করা । এখন পরিপূর্ণতা পাবে শুধু । আমাকে স্বামী হিসেবে মানতে পারবি তো ?
মেহের চোখ তুলে তাকালো । ইতস্ততা ভুললো এক মুহুর্ত….
” না মানলে বিয়েটা আটকাবে , নাকি ?
রাগলো শুভ্র । ধমকালো….
” শাট আপ ! বেশি কথা বলতে বলেছি ? লাজুক ছিলি , লাজুকই থাক । তোকে এভাবে লজ্জা পেতে দেখতে ভালোই লাগছে ।
মেহের চোখ নামিয়ে নীরবে মুখ বাঁকায় । ভেংচি কাটে । বলে ক্ষিণ স্বরে…..
” কি বলবে বলো ?
” যা বললাম তাই । লাইফ পার্টনার মানে বুঝিস নিশ্চয়ই ? সেই লাইফ পার্টনারের স্থলে আমাকে বসাতে হবে কদিন পর ।
বিড়বিড় করে মেয়েটা….
” সেই কবেই বসিয়ে ফেলেছি ।
শুভ্র না বুঝে শুধালো….
” হুম ? শুনিনি ।
” কিছু না ।
” আমি কিন্তু তোর হাসবেন্ড হবো …
” আর আমি তোমার বউ হবো । তুই তুকারি বাদ দাও এবার…
আকস্মিক কথায় ফিক করে হেসে উঠলো শুভ্র ।
হাসি চেপে বললো….
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০ (২)
” লজ্জা পা বেয়াদব । যেভাবে সবসময় পাস সেভাবে ।
মুখের উপর কথায় সত্যি সত্যিই লজ্জা পায় এবার । চিবুক গ্রীবায় ঠেকিয়ে মুখ আড়াল করে ।
শুভ্র পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো । চিবুক গলায় ঠেকানো বিধায় রাঙ্গা মুখখানা দেখতে পারলো না ঠিকভাবে । নিচু হয়ে ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করে সে । বলে কৌতুক স্বরে….
” বাহ্ রে , লজ্জা পেলে তোকে তো পুরোই লাল টমেটোর মতো লাগে ।
” ভাইয়া , দরকারি কিছু বলার থাকলে বলো, নয়তো যাও তো এখান থেকে ।
” ওওও হ্যালো , হু ইজ ভাইয়া ? সাইয়া বল গাধা । দুদিন পর বিয়ে হবে তোর আর আমার । আর দরকারি কথা এখন কেনো বলবো ? বলবো তো বিয়ের পর । এখন বলা শুরু করলে তোকে এখানে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না । তুই যা লাজবতী ।
মেহের আর পারে না । এই লোকটা জেনে বুঝে আরো বেশি লজ্জা দিচ্ছে ওকে ।
আচ্ছা আন্দাজ করুন তো , LP আর MP এর পূর্ণরুপ কি ?
