আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৫ (২)
সুরভী আক্তার
সকাল থেকে হাঙ্গামা শুরু হয়েছে আরো বেশি । সবাই ব্যস্ত । কেউই ফ্রি নেই । শাফাহ্ ঘুম থেকে উঠেছে দশটা নাগাদ । সেন্টার বাদে সায়ান’দের বাড়িতেই বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছে । এ বাড়ি হতে বরপক্ষ বেরোবে সন্ধ্যার পর পর । সন্ধ্যা গড়ানোর পরপরই ও বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ।
এখন বিকেল পেরোতে চললো । মেঘা আর শাফাহ্’র রুমে তাড়াহুড়ো পড়ে গেছে শাফাহ্’র সাজগোজ নিয়ে । বরপক্ষ বেরোবে ঘন্টা দুয়েকের অন্তরে । তারও কম সময় হাতে ।
সবাই যে যার মতো তৈরি হতে ব্যস্ত । শাফাহ্ একখানা অফ হোয়াইট রঙের গাউন কিনেছিলো সেদিন । কোনো কিছু পছন্দ হচ্ছিলো না তার । অপছন্দের তালিকা হতেই মনকে মানিয়ে দুটো ড্রেস কেনা হয়েছিলো । পরে সায়ান আলাদা করে ওকে নিজে পছন্দ করে আরো একটা ড্রেস কিনে দিয়েছিলো । এটাই সেই ড্রেস । গর্জিয়াস কাজের একটা গাউন । বাকি দুটো শাফাহ্’র মনে লাগছিলো না । এটা আজ একটু ভালো লাগলো । এটাই পড়বে এখন । চটপট করে চেঞ্জ করে আসলো সে ।
মেঘা সেই থেকে রৌদ্রের মুখোমুখি হয় নি এপর্যন্ত । সকাল থেকে দেখা মেলে নি রৌদ্রের ।
নিজের জন্য নিজে কেনা শাড়িটা গায়ে জড়িয়েছে সে । মিররের সামনে শাফাহ্ দাঁড়িয়ে । মেকআপ করতে ব্যস্ত । মেঘা ঠান্ডা হয়ে স্থির বসে রইলো কিছুক্ষণ ।
শীতল চোখে শাফাহ্’র দিকে তাকিয়ে রইলো । শাফাহ্ আনমনে কতো কি বলছে আর সাজগোজ করছে । ওর বকবক শুনে শব্দহীন হাসলো মেঘা । বিছানা থেকে নামতে নামতে বললো….
” আমি একটু আসছি আপুর রুম থেকে । শাড়ির কুঁচি গুলো গুছিয়ে নিতে হবে । তুই তো ব্যস্ত । আমি বরং আপুর কাছেই যাই ।
” মেকআপ করবি না ?
” এসে করবো ।
” একেবারে করে তারপর বের হ । একসাথে বেরোবো প্লিজ । আমাকে রুমে একা রেখে যাস না ।
” তুই আমাকে জায়গা দিচ্ছিস ? পুরো মিরর টাই দখলে নিয়ে বসে আছিস । আমি বরং আপুর কাছেই যাই , গিয়ে দেখি বাবু কে নিয়ে রেডি হলো কি না ।
মেঘা টুকটাক ঝাড়ি দিয়ে ঘর হতে বেরিয়ে আসলো । ঢুকলো সিরাতের ঘরে । সিরাত রুমে একা । রামিশা’কে নিয়ে বসেছে বিছানার একপাশে । মেঘা ঢুকেই এক গাল হেসে বললো….
” কি করছো আপু ? বাবু ঘুমিয়েছে ?
” ঘুমোচ্ছে । তুই এখনো রেডি হোস নি ?
” হয়েছি তো ? শুধু কুঁচি গুলো ঠিক করা বাকি । ঠিক করে দাও তুমি ।
সিরাত মুচকি হাসলো । মেয়েকে শোয়ালো একপাশে ।
” সাজবি না ?
” সাজগোজ ভালো লাগে না আমার । টুকটুকির সাজগোজ ও শেষ হবে না আজ । ও রুমে সিরিয়াল নেই । তুমি শাড়িটা ঠিক করে দাও শুধু । আমি চুল আঁচড়ে নিচ্ছি এখানেই ।
সিরাত মেঘা কে টেনে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসালো । জোর খাটিয়ে বললো…
” চুপচাপ বসে থাক । তোকে কিছু করতে হবে না । আমি একটু সাজিয়ে দিচ্ছি তোকে ।
” হেভি মেকআপ ? না আপু , আমি ওসব মেকআপ করবো না । ফেসে প্রবলেম হয় আমার ।
” চুপ , সেটা আমি বুঝবো । তুই বসে থাক শুধু । হেভি মেকআপ করাবো না । কোনো প্রবলেম হবে দে দেখিস ।
মেঘা চুপসে বসে রইলো ।
সিরাত টুকটাক সাজালো ওকে । বাঁকা সিঁথি করে চুল গুলো খোলা রেখে নিজেই আঁচড়ে দিলো অতিযত্নে । বাম কানের পাশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চুলগাছি গুঁজে দিয়ে একখানা তাজা গোলাপ আটকে দিলো কানের কাছে । খুব হালকা করে মেকআপ বসিয়ে দিলো নিখুঁত উজ্জ্বল মুখ খানায় । গত দিনের ন্যায় কাজল লাগিয়ে দিলো রমনীর টানা হরিণী দু চোখে । তবে আজ গাঢ় করে লাগিয়েছে ।
ঠোঁটেও গাঢ় ঠোঁট রঞ্জন । মেঘার কানে দুটো স্বর্ণের দুল ছিলো । সিরাত অনুমতি নিয়ে সে দুটো খুলে ছোট ছোট দুটো ঝুমকো পড়িয়ে দিলো ।
মেঘার পড়নের শাড়িটা হালকা রঙের । সেই সাথে মিলিয়ে হালকা করেই ওকে সাজালো সিরাত । সবশেষে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে হাঁফ ছেড়ে ঠোঁট প্রসারিত করলো ।
আয়নার সামনে থেকে সরে গিয়ে মেঘার মুখ প্রতিবিম্বে ভাসিয়ে বললো ভ্রু নাচিয়ে….
” নিজেকে কেমন লাগছে বল ?
দর্পনে ভেসে ওঠা নিজের প্রতিবিম্বের পানে তাকায় একবিংশী । সহসা শব্দহীন হাসে নিজেকে দেখে । সাজগোজ ওর কোন কালেই পছন্দ নয় । সেভাবে সাজগোজ করা হয় নি কখনো ।
আজ এটুকু সাজেই নিজেকে দেখতে নিজের কাছেই বেশ ভালো লাগলো । হাসি প্রসারিত করে বললো….
” উমমম , তুমি খুব সুন্দর সাজাতে পারো ?
” সাজাতে পারি না । চেষ্টা করেছি তোর উপর । তুই সুন্দর তো , তাই এটুকু সাজেই খুব খুব সুন্দর লাগছে তোকে । একেবারে পরীর মতো ।
মেঘা হেসে ফেলে । বলে আবারো নিজেকে খুটিয়ে দেখে….
” চুল গুলো খোলা রাখবো আপু ? ভীষণ গরম ! বেঁধে দাও না ।
” খোলা চুলে তোকে আরো বেশি সুন্দর লাগে । খোলাই থাক …
মেঘা ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলে উঠতে উঠতে….
” আচ্ছা , তাহলে শাড়িটা ঠিক করে দাও এখন । এলোমেলো লাগছে , জড়িয়ে যাচ্ছে পায়ে । মনে হচ্ছে কালকের মতো খুলে যাবে আবার ?
সিরাত ভ্রু গুটায় , তীক্ষ্ণ স্বরে বলে না বোঝার ভঙ্গিতে….
” কাল তোর শাড়ি খুলে গেছিলো ?
ওওও হ্যাঁ তো , তাইতো রৌদ্র তোকে কোলে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলো সবার সামনে দিয়ে । লক্ষ্য করেছি আমি । কিন্তু পরে কি হলো ? তোকে তো আর দেখিনি কাল ? খেয়াল ছিলো না । নিচেও নামিস নি বোধহয় । ডিনারেও দেখিনি তোকে । কোথায় ছিলি ?
মেঘার মুখখানা বদলে যায় অমনি । হাস্যোজ্জ্বল মুখে আঁধারের ছাপ নেমে আসে । কপালে পড়ে সূক্ষ্ম ভাঁজ । কন্ঠ চড়াও হয়….
” কোথায় আবার থাকবো । রুমেই ছিলাম । এখন আমি নিচে যাই একটু । বেরোনোর সময় হয়ে গেছে । এক্ষুনি তো বেরোবে সবাই । আমি গিয়ে দেখি কতদূর হলো ।
বলেই আর কিছুতে কান না দিয়ে সিরাতের ঘরে হতে বেরিয়ে আসলো মেঘা । সিরাত হাসলো ওষ্ঠ পিষে ।
শাড়ির কুচি খানিক উঁচু করে সিঁড়ি বেয়ে সাবধানে নিচে নামলো একবিংশী । ড্রইং রুমে নতুন বর কে ঘিরে রেখেছে সবাই । শুভ্রের সব ফ্রেন্ড’রা এসেছে । মোটে ছয় থেকে সাত জন হবে । তবে বেস্ট ফ্রেন্ড অনুপস্থিত । সায়ানের শূন্যতা বড্ড অনুভব করছে শুভ্র । আদ্রও আছে ওদের সাথে । শুভ্র কে খুঁটিয়ে দেখছে সকলে ।
শুভ্রের পড়নে সাদা ধবধবে শেরোয়ানি । কাঁধ গলিয়ে খয়েরী পাতলা স্টোল ভাঁজ করা ।
সম্পুর্ন তৈরি সে । মেঘা ওকে দেখেই হাসি প্রগাঢ় করলো । এগিয়ে এসেও ফাঁক পেলো না কাছাকাছি যাওয়ার । এতো গুলো ছেলের ভিড়ে যেতেও চাইলো না জড়তায় । দূর হতে ডাকলো চিকন স্বরে…
” ভাইয়া ??
আদ্র আর শুভ্র চকিতে চায় । সাথে বাকি ছেলে গুলোও । মেঘা এক চিলতে হেসে আর একটু এগোতেই আদ্র গলা চড়িয়ে বললো তৎক্ষণাৎ….
” এখানে কি চাই ?
ভ্যাবাচ্যাকা খেলো মেঘা । দ্রুত থেমে মাথা চিবুক বরাবর নোয়ালো গুটিসুটি হয়ে । আদ্র পাশের বাকিদের দিকে এক পলক করে চাইলো । সকলের চাহনি মেঘার দিকে । সকলকে পরখ করে নিয়ে মেঘার প্রতি কন্ঠ একটু নরম করে বললো….
” উপরে যা মেঘ ।
সহসা বাধ্যের ন্যায় তড়িঘড়ি করে উঠতে লাগলো মেঘা । আদ্রের ধারনা মোতাবেক ও পা বাড়াতেই ছেলেগুলোর মধ্যে একজন বলে উঠলো মেঘার চলার পানে তাকিয়ে….
” আরে ভাই , এটা আবার কে ? নতুন আমদানি মনে হচ্ছে ? এলো টা কোথা থেকে ? আগে তো কখনো দেখিনি । ভাইয়া বললো , কি রে ? ও কি তোদের বোন ?
আদ্র খানিক গম্ভীর দৃষ্টিতে শুভ্রর দিকে তাকায় । শুভ্র এক মুহুর্ত চোখ বুজে দমন রেখে বলে কাঠ স্বরে…..
” হ্যাঁ , বোন হয় আমার ? তোকে বা তোদের ওদিকে নজর দিতে বলে নি কেউ । মাইন্ড ইউর আইসাইট ।
একই জন ঘাড় ডলে বললো বিপরীতে….
” সামলাবো কি করে ভাই । তোর বোনটাকে তো আগে দেখিনি । এটাই তাহলে তোর বোন ? অনেক শুনেছি ওর কথা । পুরোই জোস্ তো । এই জন্যই তাহলে সায়ান এতোটা পাগল হয়েছে তোর বোনের প্রতি ? মারকাটারি ফিগার বলতে হবে তোর বোনের ।
আদ্র দাঁত খিচে হাত মুঠো করে নেয় । কুৎসিত ইঙ্গিত সূচক বাক্যের অর্থে ক্ষোভের তোটে দপ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার উপক্রম হয় । শাফাহ্ , মেঘা , দুজনকেই খারাপ ইঙ্গিতে বর্ননা করা হলো উক্ত তুলনার দ্বারা । মেঘা কে শাফাহ্ ভেবে সায়ানের কথা উল্লেখ হলো এখানটায় । আদ্র এটাই ভেবেছিলো । এই ছেলেগুলোর মধ্যে গুটি দুয়েকের স্বভাব ওর জানা । শুভ্রর সব ফ্রেন্ড আদ্রের পরিচিত । এ দুটোর সাথে শুভ্রর সম্পর্ক গাঢ় নয় । ইনফ্যাক্ট এখানকার কারোর সাথেই তেমন ক্লোজ নয় সে । শুধুমাত্র সায়ান ওর জীবনের সব । বিয়ের খাতিরে এগুলোকে ইনভাইট করা হয়েছিলো দায় সারা । এরা যে এভাবে দলবেঁধে ডিরেক্ট বাড়িতে হামলা দেবে, তা শুভ্রর ধারনাতেও ছিলো না ।
এখন এই মুহূর্তে মেঘার উপর এমন কুৎসিত ইঙ্গিত সূচক তকমা লাগাতেই আদ্র ফোঁস করে উঠলো । বললো রাগ দেখিয়ে….
” ভাইয়া , নিজের ফ্রেন্ড দের সামলাও । দৃষ্টি সংযত করতে বলো ওদের । আদার-ওয়াইজ আমি ভুলে যাবো ওরা ইনভাইটেড ।
শুভ্র সংযত হয়ে বললো সব ছেলে গুলোর উদ্দেশ্যে….
” বাইরে যা তোরা ।
” হোয়াট হ্যাপেন্ড দোস্ত ? বাইরে যাবো কেনো ? আর আদ্র , তুই এভাবে কেনো কথা বলছিস ? রেগে গেলি কেনো হঠাৎ ? খারাপ ভাবে নিস না ব্রো , আমি তো শুধু তোদের বোনের প্রশংসাই করলাম । সিরিয়াসলি ও ভীষণ সুন্দ…..
বাকি কথা টুকু কন্ঠ নালি ভেদ করলো না ।
ছেলেটার বাহুতে টান পড়লো । শক্ত পোক্ত শরীরটা কেউ হিড়হিড়িয়ে টেনে ছুড়ে ফেললো সদরের বাইরে । ভড়কালো উপস্থিত সকলে ।
ছেলেটা পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো , নিজেকে সামলে দাঁড়ালো কোনো রকমে । তাজ্জব নজরে চেয়ে বুলি ফুটালো বিরক্তি প্রকাশ করে….
” রুডি , এটা কি ধরনের বিহেভিয়ার ?
” শাট আপ ! বিহেভিয়ারের দেখেছিস টা কি ? এই মুহূর্তে বাড়ির ছেলের বিয়ে না হলে , বাড়ির বউয়ের ফিগার আর সৌন্দর্যের দিকে নজর দেওয়ার জন্য এতক্ষণে চোখ উপড়ে হাতে ধরিয়ে দিতাম । ইউ লেচার ,,, বাড়ির ভেতরে আর এক পা তুলে আনার চেষ্টা করলে ঠ্যাং ভেঙে রাস্তায় বসিয়ে দেবো । বিয়ে খেতে এসেছিস , বাড়ির বাইরে থেকেই আউট হবি । দ্বিতীয় বার ভুল করেও ওর দিকে চোখ তুললেও এবারের ফেলে রাখা কাজটা সেই দ্বিতীয় বারই সেরে ফেলবো বলে রাখলাম ।
কথা টুকু শেষ করেই সদর চাপিয়ে পিছু ফিরে গজগজ করে উপরে উঠে গেলো রৌদ্র । শুভ্র আর আদ্র চাওয়া চাওয়ি করলো একে অপরের দিকে ।
মেঘা উপরে উঠে একে একে সবার ঘরেই উঁকি দিয়েছে । সবাই তৈরি । ফিনিশিং টেনে এক্ষুনি বেরোবে । শাহিনা কাবির নিচে নেমেছেন । মেঘা তাকে দেখতে পায় নি ঘরে গিয়ে । তার ঘর থেকে বেরিয়ে করিডোরে হাঁটা কালিন কয়েকজন অতিথির মুখোমুখি হয় সে । সবাই শুভ্রর নানু বাড়ির মেহমান । তৈরি হয়ে নিচে নামছিলেন সবাই । মেঘা কে দেখা মাত্রই আনতারা বেগম মুচকি হাসলেন । মুগ্ধ নয়নে চেয়ে উজ্জ্বল হেসে বললেন….
” বাহ্ মেঘা , তোমাকে তো ভারী সুন্দর লাগছে । কারোর নজর না লাগুক !
মেঘা লাজুক হাসলো । এ অবধি যার সামনে পড়েছে , সবাই এক কথাই বলেছে । সকলে স্নিগ্ধ প্রশংসায় পঞ্চমুখ রমনীর শুচি শুভ্র সৌন্দর্যে । মেয়েটা হাসি লুকিয়ে বললো কোমল সুরে….
” থ্যাংক ইউ মামি । আপনারা তো রেডি ? নিচে যান , সবাই ওয়েট করছে ।
” তুমি যাবে না ? চলো ,
” আপনারা যান । আমি রুমে যাবো একটু । টুকটুকির হলো কি না দেখে আসি গিয়ে ।
আনতারা বেগমের দুই সন্তান । #সাবা আর #আয়াজ । আয়াজ তার ছোট ছেলে । বয়স বছর সাতেক হবে । মেঘা কে বেশ চেনে সে । আনতারা বেগমের হাত ছেড়ে মেঘার হাত ধরলো ছেলেটা । বললো বাচ্চা সুলভ স্বরে….
” আমিও তোমার সাথে যাবো আপ্পি । চলো….
মেঘা মুচকি হেসে ওকে নিয়ে ঘরে ঢুকলো ।
শাফাহ্ ঘরে নেই । কপাল গুটিয়ে নিলো মেঘা । ঐ মেয়ে কি নিচে নেমে গেছে ?
কতক্ষন ধরে ঘরে আসা হয় নি । হয়তো রেডি হয়ে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে নেমে গেছে । আয়াজ কে নিয়ে আবার ঘর হতে বেরোলো মেঘা ।
নিচে হৈচৈ । শুভ্রর গাড়ি বেরিয়ে পড়েছে এতক্ষণে । বাকিরা একে একে বেরোবে । টুকটুকি নিচ হতে চেঁচিয়ে ডাকলো মেঘা কে । মেঘা সাঁড়া দিয়েই আয়াজের হাত চেপে তড়িঘড়ি করে নিচে নামতে লাগলো । করিডোরের শেষ প্রান্তে রৌদ্রের সম্মুখে পড়লো ওরা দুজন । এতক্ষণে মেঘা কে পুরোপুরি দেখলো রৌদ্র ।
নতুবা তখন মেঘা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় পেছন থেকে একটু আধটু দেখেছিলো শুধু । তবে ক্ষিপ্ত নয়নে । তখন ঐ ছেলেটার কথা শুনে নিজেকে সামলানো দায় হয়ে পড়েছিলো । ওকে কিছু করতে না পারলেও মেঘা সহসা সামনে পেলে নিশ্চিত থাপ্পর মারতো ওভাবে সেজে গুজে সবার সামনে যাওয়ার জন্য । এই মেয়ে এতক্ষণ ধরে সেজে গুজে সবার সামনে টইটই করে ঘুরে বেড়িয়েছে । সবাই দেখেছে রৌদ্রের আগে । রৌদ্র দেখলো এই এতক্ষণে । মন শিথিল হলেও চোখ জোড়া হলো না । প্রকাশ করলো না চক্ষু দ্বয়ের প্রশান্ত শিথিলতা । মেঘার থেকে দৃষ্টি নামিয়ে নিচে তাকালো আয়াজের দিকে । পরক্ষনে মেঘার হাতের দিকে । এই ছেলেটা ইভারার হাত ধরেছে ? তিরিক্ষি হয়ে জ্বলে উঠলো রাগান্বিত শিরা উপশিরা, একেই রেগে আছে সে । সেই রাগ বজায় রেখেই ধমকালো ….
” এইইই ব্যাঙের পোনা ,, হাত ছাড় ওর ।
চমকে এক নিমিষেই ঝট করে নিজের হাতটা মেঘার থেকে ছাড়িয়ে নিলো ছেলেটা । পিছিয়ে গেলো এক কদম । আবার সশব্দে ধমকালো রৌদ্র….
” যা এখান থেকে ।
মুহুর্তেই বাচ্চাটা ছোট ছোট পদক্ষেপে ছুটলো ভয় পেয়ে ।
মুখ কুঁচকালো মেঘা । বিব্রত হলো কিছুটা । এই লোকের হাবভাব বোঝা দায় হলেও বুঝতে যথেষ্ট সক্ষম তার তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক । তবে প্রকাশে অনিচ্ছুক ।
রৌদ্র এ পর্যায়ে আবার পূর্ণ দৃষ্টিপাত করলো মেঘার দিকে । রাগ দেখিয়ে গর্জালো…..
” ইডিয়ট , এভাবে কোথায় যাচ্ছিস তুই ?
মুখ বাঁকিয়ে মৃদু স্বরে ভেঙ্গিয়ে উত্তর করে রমনী…..
” জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাচ্ছি , যাবেন ? গেলে পরে চৌরাস্তা থেকে আপনাকে জাহান্নামের ভেতরে ধাক্কা দিয়ে আমি পালিয়ে আসবো । অন্তত এতে করে মুক্তি পাবো আপনার মতো ইরিটেটিং পার্সোনের থেকে । যত্তসব , কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে হঠাৎ হঠাৎ…
” ইডিয়ট , থাপ্পর মেরে জাহান্নামের চৌরাস্তার পথ ভুলিয়ে দেবো । যাতে করে আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো চিন্তা না আসে মাথায় । চল এখান থেকে…
রৌদ্র হাত বাড়িয়ে খপ করে মেঘার ধরতে গেলে দ্রুত পিছিয়ে যায় মেঘা । ঝাইঝাই করে চিবিয়ে ওঠে….
” খবরদার ছোঁবেন না আমায় । কোথায় যাবো আমি আপনার সাথে ?
” উল্টো পথে । যে পথে আমার থেকে মুক্তি মিলবে না সে পথে । যে পথে দৌঁড়ালে আমার কাছাকাছি আসবি সে পথে । যে পথে নিয়ে গেলে অন্যের লোলুপ দৃষ্টির সীমানা থেকে দূরে সরে আমার তৃষ্ণার্ত দৃষ্টির সীমানায় সীমাবদ্ধ হবি সে পথে । খুব তো ঢ্যাং ঢ্যাং করে সেজে গুজে রং তামাশা দেখিয়ে বেড়াচ্ছিস ইডিয়ট , তোর এই সাজগোজ ছুটাবো আমি । চল আমার সাথে…
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৫
তৎক্ষণাৎ পালানোর পথ বন্ধ করে মেঘার ডান হাতের কব্জি শক্ত করে নিজের খড়খড়ে হাতের মুঠোয় চেপে ধরে রৌদ্র । হিড়হিড়িয়ে টেনে নিয়ে যায় ঘরের দিকে । মেঘা পা চিপকে আটকাতে চাইলেও পারে না পুরুষালি শক্তির বিপরীতে । রৌদ্রের হাতের উপর নিজের অপর হাত রেখে আটকানোর চেষ্টা করে ঝেড়ে বললো….
” রাইনো মুখো , ছাড়ুন আমায় ।
সবাই ওয়েট করছে আমার জন্য । দেরি হয়ে যাচ্ছে । ছাড়ুন অসভ্য লোক ।
