আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৬
সুরভী আক্তার
মেঘা যেনো আকাশ থেকে পড়ে । স্তম্ভিত হয়ে যায় রমনী । রৌদ্রের এতোটা তীব্র আলিঙ্গনে জমে যায় নারীদেহ । রৌদ্র বিড়বিড়ায় আরো কিছু একটা । বেখেয়ালে তার ওষ্ঠ স্পর্শিত হয় একবিংশীর কোমল কাঁধের নিকট । ওষ্ঠাস্পর্শের পাশাপাশি খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি সুডৌল কাঁধের নরম ত্বকে বিদ্ধ হতেই শিরশিরে অনুভূতিতে মৃদু কুকিয়ে ওঠে রমনী । আপনা আপনি হাত ওঠে রৌদ্রের উদরের দু’পাশে । লোকটার জ্যাকেট খামচে ধরে মেয়েটা । চোখ খিচে নেয় ।
রৌদ্র বলে অস্থির হয়ে….
” সুইটহার্ট ,,, মরে যাচ্ছিলাম এতক্ষণ । কেনো এসেছিস আমায় ফেলে ?
শিকদার বাড়ির ড্রইং রুমে এ বাড়ির সবাই উপস্থিত । রেহানা শিকদার কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন । ইভা এ বাড়িতেই থাকে । সেও উপস্থিত এখানে ।
সবাই তাজ্জব বনে রৌদ্রের কান্ড দেখছে সরু দৃষ্টিতে । রেহানা শিকদার সন্দিহান হয়ে মুখ খুললেন….
” রৌদ্র ,, তুই ?
তার কন্ঠে ধ্যান কাটে রৌদ্রের । মেঘা কে আলগোছে ছাড়ে সে । এপাশ ওপাশ তাকায় । ফের তাকায় মেঘার দিকে । মেঘা এখনো মূক বনে চেয়ে আছে । ঠোঁট ফাঁক অবিশ্বাসে । রৌদ্র ওর এমন তাজ্জব মুখাবয়ব দেখে মৃদু হাসে ।
” হেয়য়য় সানি ,, ইটস্ মি,,, ইউর LP !
” রৌদ্র , তুই এখানে এতো রাতে কি করছিস ?
” আমার বউয়ের কাছে এসেছি আমি ।
মেঘার চোখে চোখ রেখে ভদ্রমহিলার প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর করলো রৌদ্র । রেহানা শিকদার মুখ ছোট করে ফেলেন ।
” জানলি কি করে মেঘা এখানে ? তোর বাপ তো ওকে লুকিয়ে রেখে গেছে ।
” আমার থেকে আমার প্রাণ পাখি কে লুকিয়ে রাখার সাধ্যি কার ?
এখনো চোখ সরে নি রমনীর চোখ থেকে । মেঘা এবার ছলকে চোখ সরায় । চিবুক নামিয়ে নেয় । মনে পড়ে যায় রৌদ্রের করা আঘাতের কথা । আবার এটাও মনে পড়ে , লোকটা নিজেকেও আঘাত করেছে দশগুণ বেশি । হাতের কি অবস্থা ? অবলোকনের জন্য ঝট করে নিচু দৃষ্টিতে লোকটার হাতের দিকে তাকায় মেঘা । ডান হাতটা কব্জি থেকে পুরোটাই সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো । মোটা ব্যান্ডেজে ফোলা ফোলা দেখাচ্ছে হাতখানা । আদ্র নিজে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে আসার আগে ।
মেঘা হাতটার মারাত্মক অবস্থা অনুমান করে আহত চোখে তাকায় । ওষ্ঠপূটে দাঁত চেপে দ্রুত পিছিয়ে আসে । ওরনা খামচে ধরে ছুটে যায় উপরে ।
রৌদ্র ওকে আটকালো না । যেতে দিলো । মুচকি হাসলো । কাউকে পরোয়া না করে লজ্জা হীন বললো সবার উদ্দেশ্যে…
” যে উপরে আসবে আমাকে আর আমার বউকে ডিস্টার্ব করার জন্য ,, তাকে বিনা টিকিটে উগান্ডা পাঠানোর দায়িত্ব আমার । মাইন্ড ইট…
রৌদ্র পা বাড়াতে গেলে রেহানা শিকদার ভারী গলায় বলেন…
” উপরে গিয়ে কি করবি তুই ?
” রোমান্স করবো ।
থতমত খান ভদ্রমহিলা ।
” দেখ রৌদ্র ,, তোর বাপ ওকে আমাদের হেফাজতে রেখে গেছে !
” আমার বউয়ের সবচেয়ে বড় হেফাজত খানা আমি ।
এই বলে নিজেও একবিংশীর পিছু নিলো তড়তড়ে পায়ে । সবাই অপ্রস্তুত । দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রৌদ্রের পা পড়েছে এ বাড়িতে । কেউই বোধহয় খুশি হলো না ওর উপস্থিতিতে । একমাত্র সারা ব্যতীত । সারা একটু বেশি খুশি হলো বোধহয় । ফুর্তিতে মুচকি হাসলো উচ্ছাস নিয়ে ।
রমনী সারার ঘরে ঢুকেছে । রাতের মেডিসিন নেওয়া বাকি । নিজেকে ব্যাস্ত দেখাতে টেবিলের উপর থেকে ঔষধের বক্স টা হাতে নিলো সে । দু পাতা মেডিসিন বের করলো । ওর বাম হাতে পাতলা ব্যান্ডেজ করা এখনো,, যাতে ঠান্ডা বসতে না পারে । প্রয়োজন ছিলো না , তবুও সারা জোর করে বেঁধে দিয়েছে আসার পর । ব্যাথা আছে হাতে ।
স্ট্রিপ প্যাক হতে ঔষধ খুলতে গিয়ে ব্যান্ডেজের দরুন বেগ পেলো রমনী । একহাতে খুলতে পারছে না । দুহাত লাগাতে গেলে জড়িয়ে যাচ্ছে । এদিকে বুক ধড়ফড় ঐ লোকের আবির্ভাবে । হাত পা কাঁপছে অনবরত ।
শিরশির করছে পায়ের তালু । ঠান্ডাতেও শিরদাঁড়া বেয়ে কেমন উষ্ণ তরল গড়াচ্ছে মনে হয় ।
মেডিসিন বের করার আগেই ওর হাত থেকে কেউ টেনে নিলো ঔষধের পাতা টা । মেঘা ধক্ করে পাশ ফেরে । বাম হাতের সাহায্যে বিস্টার প্যাক হতে ছোট ট্যাবলেট টা বের করে মেঘার দিকে বাড়িয়ে দিলো রৌদ্র ।
নাকের পাটা ফুলে আসে মেঘার । এই লোকটার সাহায্যের প্রয়োজন ছিলো না মোটেও ।
তবুও গ্রহণ করলো সাহায্য টুকু । ঝটকা মেরে ট্যাবলেট টা নিয়ে মুখে পানি তুলে খেয়ে নিলো । ওরনার কোণে ঠোঁট মুছে বিছানার পাশের ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগোলো । পথিমধ্যে খুললো পড়নের ভারী সোয়েটার । গলার ওরনা খাটের একপাশে রেখে চিরুনি তুলে নিলো হাতে । ডান হাত অক্ষত , বাম হাতে ব্যান্ডেজ । হাঁটু ছড়ানো চুল আঁচড়াতে বেগ পাওয়ার কথা না হলেও বেগ পেলো । একহাতে কি আর হয় নাকি ? এ চুল সামলাতে দুহাতেই হয়রানি এসে যায় । এখন তো একহাত ।
বিরক্ত হয়ে চিরুনি রেখে দিলো মেঘা । এক হাতেই কোনো রকমে কেশ গুচ্ছ জড়ো করার চেষ্টা করলো , কাঁধের কাছটায় কুন্ডলি পাকিয়ে হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে আটকে গিলো । এভাবেই শুয়ে পড়বে ,, নয়তো সারা আসলে ওর থেকে চুল আঁচড়ে বিনুনি গেঁথে নেবে একটা ।
পিছনে রৌদ্র । মেঘা ধ্যান দিলো না ।
রৌদ্র শান্ত হয়ে স্থির চোখে দেখছে রমনীকে । একবিংশী তাকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে তৎপর । রৌদ্র ধীর পায়ে এগোয় । দাঁড়ায় মেঘার পিছু । বাম হাত বাড়িয়ে রমনীর খোঁপায় আটকানো ক্লিপটা খুলে দেয় । অমনি গোছানো চুল গুলো অবিন্যস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আবার ।
বিব্রত হয় মেঘা । মাড়ি খিচে ঝট করে পিছু ফিরে তাকায় । কত কষ্টে একটা খোঁপা পেঁচালো । সেটাও সহ্য হলো না এই লোকের । কিন্তু মেঘা কথা বলবে না । কিড়মিড় করলো শুধু ।
রাগ দমিয়ে চোখ সরালো সে । পাশ কাটাতে গেলে রৌদ্র বাম হাতে টেনে ধরলো মেঘার হাত । ডান হাতে কসরত করে চিরুনি তুলে নিলো ।
মেঘা কে টেনে বসালো বিছানার উপর । ছটফট করে মেঘা । কথা বলবে না , গুঙ্গিয়ে প্রতিবাদ করে । রৌদ্র মুচকি হাসে । ডান হাত অচল । বাম হাতের সাহায্যে রমনীর চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে বলে হীম স্বরে….
” আমি করে দিচ্ছি । দেখি , সরে বসো…
মেঘার পিছনে বসলো সে । বিছানা জুড়ে রমনীর অবিন্যস্ত কেশরাশী ছড়িয়ে পড়েছে । এই চুলে চিরুনি চালানো বড্ড ধৈর্য্যের কাজ । মেঘা নিজেই হিমশিম খায় দুহাতে সামলাতে গিয়ে ।
সেখানে , রৌদ্র চেষ্টা করছে বাম হাতে । ডান হাতে জোর নেই , ক্ষত বিক্ষত । মেঘা বাঁধা দিয়ে উঠতে চাইলো । তবে উঠলো না । নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো নিশ্চল । চুলে জট নেই । বেশি আঁচড়ানোর প্রয়োজন হলো না । রমনীর সায় রয়েছে । রৌদ্র হাসে , রমনীর দিকে এগিয়ে যায় । কাঁধের কাছে থুতনি ছুঁই ছুঁই করে রমনীর লালিত অভিমানী আদলে দৃষ্টি গেঁড়ে বলে…
” বেনি করে দেবো ? কিন্তু আমি তো পারি না !
একবিংশী নিরুত্তর । মনে মনে ভেংচি কাটলো । দরদ দেখাতে এসেছে এই লোক ? রৌদ্র হাসি চওড়া করে ।
পিছিয়ে ফোন বের করে ইউটিউব ওপেন করে । চুলে কিভাবে বিনুনি করতে হয় , সেটা সার্চ দেয় । ফোন বালিশের কাছে রেখে সেটা দেখে দেখে চেষ্টা করে বিনুনি পাকানোর । এসব আয়োজন রমনীর অভিমান ভাঙানোর জন্য । বড্ড চড়ে আছে একবিংশী । সে কেবলই চোখ সরু করে দেখছে রৌদ্রের কান্ড । নীরব দুজনাই । রৌদ্র মাঝে একবার সুযোগ পেয়ে নাক ডুবিয়েছিলো রমনীর চুলের গোছে । মন ভরে নি । ঘ্রাণ টানা হয় নি বুক ভরে । আরেকবার সুযোগ করে নিতে হবে ।
ভিডিও দেখে কোনো রকমে লম্বা একটা বেনি পাকাতে পারলো যুবক । শেষে হাঁফ ছাড়লো ।
” হয়েছে MP । দেখতো ঠিকঠাক পেরেছি কি না !
কাজ শেষ হতেই উঠে দাঁড়ায় মেঘা চট করে । না দেখে , না তাকিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে ।
ততক্ষণ সেভাবেই বসে রয় রৌদ্র । এবার আর সইছে না এই নীরবতা । রৌদ্র কেমন কাতর হয়ে ডাকলো….
” ইভারা ,, রেগে আছিস এখনো ?
“…….
” আ’ম সরি সুইটহার্ট ,, বলেছি তো আর কখনো মারবো না । জীবনেও না । এরপর তোকে আঘাত করার আগেই যেন মরণ হয় আমার । এবার একটু তাকা আমার দিকে । রাগ কমা প্লিজ । তোর কাছে থাকতে দে আমায় । অনেক বাঁধা পেরিয়ে এসেছি তোর দারে ,, এভাবে ফিরিয়ে দিবি ? যদি চাস তাহলে তোকে ছোঁবো না , দেখবো শুধু । চোখ ভরে দেখবো । আর একটু ঘ্রান নেবো তোর চুলের । চব্বিশ ঘন্টা হয়ে গেলো , তোর চুলের নেশা থেকে বিরত আমি ।
তবুও নিশ্চুপ রমনী । মুখ মুছে শোয়ার প্রস্তুতি নিলো সে । রৌদ্র মিইয়ে যায়…
” এইইই ইভারা ,, আর কত পোড়াবি আমায় ? আমাকে এভাবে ব্যাথা দিয়ে মজা পাস ?
মেঘা রৌদ্র কে রেখেই উল্টো ফিরে শুয়ে পড়ে । ভারী কমফোর্টার টেনে মুখ অবধি ঢেকে আড়াল করে নিজেকে । এগারোটা পেরিয়েছে । ঘুমোনোর সময় হয়েছে তার ।
রৌদ্র অসহায় হয়ে চায় । কেমন ছ্যাঁচড়া লাগে নিজেকে । ও তো এমন নয় । গলা ঝাড়লো সে । ভার হয়ে বললো রমনীর প্রতিক্রিয়া দেখতে….
” ঘুম পাচ্ছে আমারো ,, দরজা লাগিয়ে আসি ?
“…..
রৌদ্র দরজা লাগিয়ে আসলো । জিজ্ঞেস করলো আবার ।
” পাশে শোবো ?
“…….
পাশেও শুয়ে পড়লো । একটু কাছ ঘেঁষে আসলো । মাথা তুলে রমনীর কানের কাছে মুখ নিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো….
” জড়িয়ে ধরে শুই ?
এবার তেড়ে ওঠে রমনী । এক ঝটকায় উঠে বসে গর্জায়….
” ইউউ রাইনো ,, জানে মেরে ফেলবো যদি আমার কাছে আসেন তবে ।
হেসে ফেলে রৌদ্র ।
” ইসসস্ সুইটহার্ট , জানে মরে গেছি তোর থেকে সাঁড়া পেয়ে । তোর কাছে গিয়ে আর মরতে চাই না । এটুকুই যথেষ্ট আজ । বাকিটা পরে বুঝে নেবো ।
ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ফেলে মেঘা । এবার পূর্ণ চোখে তাকায় রৌদ্রের দিকে । লোকটা কেমন নেতিয়ে পড়েছে । ভীষণ অবিসন্ন চেহারা । ঝুলে পড়েছে চোয়াল ।
আরেকটা কমফোর্টার হাতে নিয়ে উঠে গিয়ে বিছানার পাশের সোফাটায় ধপ করে শরীর এলিয়ে দিলো সে । শব্দ করে বিশাল হাঁফ ছাড়লো । কপালের কাছে আড়াআড়ি করে হাত রেখে চোখ বুজলো । শক্তি নেই আর । শরীর মানছে না ।
মেঘা তাকিয়ে রয় কিয়ৎকাল । রুদ্ধ গলায় ঢোক গেলে । আর বেশিক্ষণ চেয়ে রইলে কেঁদে ফেলবে ।
ভোর তখন তিনটে । সারা এ ঘরে আসে নি আর । নিজের ঘর ছেড়ে দিয়েছে ।
মেঘার ঘুম ভাঙ্গে । ঘুমোয়ই নি । অভিনয় করেছে ঘুমানোর । ভেবেছিলো ঘুমালে রৌদ্র হয়তো জ্বালাতন করবে , কিন্তু না । তেমন কিছুই করে নি রৌদ্র । সেই যে বেঢাল হয়ে শুয়ে পড়লো , জাগনা পায় নি আর ।
দূর্বলতা ঘিরে রেখেছে । বোধ নেই তার । রুমের লাইট জ্বলছে এখনো । মেঘা ধীরে ধীরে উঠে বসে । সোজাসুজি তাকায় রৌদ্রের দিকে ।
নেমে পড়ে বিছানা ছেড়ে । পা টিপে এগোয় । সোফাটা বড় । তার চেও লম্বাটে রৌদ্র । অতবড় গন্ডার স্বরুপ সুঠাম দেহি লোকটার জায়গা হয় নাকি সেখানে ? হেলে পড়ে আছে মাথা । এক পা মেঝেতে । অর্ধেক কম্বল মেঝেতে লুটোচ্ছে । ঠান্ডায় শরীর কুঁকড়ে নিয়েছে রৌদ্র । ঘুমোচ্ছে বেঘোরে । আজ শান্তির ঘুম । নতুবা কাল তো সারাটা দিন রাত অশান্তিতে কেটেছে । দু চোখের পাতা এক হয় নি । মেঘা নিঃশব্দে ধীরে হাঁটু মুড়ে বসে লোকটার সামনে । ঠোঁট ভেজায় জিভে । কম্বল টা তুলে ভালোভাবে ঢেকে দেয় রৌদ্রকে । মুখের সামনে মাছি তাড়ানোর ন্যায় হাত নাড়ায় একবার । গভীর শ্বাস ফেলছে যুবক । এই থেকে ঘুমের গভীরতা আন্দাজ করা যায় ।
ঢোক গেলে রমনী । রৌদ্রের মাথাটা আলগোছে তুলে বালিশের উপর গুজে দেয় ।
ছলছল চোখ পড়ে বেপরোয়া যুবকের ডান হাতের পানে । মোটা ব্যান্ডেজে মোড়ানো । প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মোটা করে ব্যান্ডেজ করেছে , যাতে রক্ত গড়ালেও ছোপ দাগ বাইরে না দেখা যায় । মেঘা ভয় পায় রক্ত ।
রৌদ্রের হাত দেখে ঠোঁট ভেঙে কান্না আসে তার । আলগোছে হাতটা তুলে নেয় নিজের দখলে ।
ধীরে হাত বোলায় ব্যান্ডেজের উপর । হুঁ হুঁ করে কেঁপে ওঠে বক্ষস্থল । কেমন কান্না পায় এ ক্ষত ঢেকে রাখা আবরন দেখে । না জানি ভেতরে কতটা দগ্ধ হয়েছে !
মেঘা বাঁধ মানে না । তালুর ব্যান্ডেজের উপর ঠোঁট চেপে ধরে নিজের । পরশ স্থায়ী রাখে দীর্ঘক্ষণ । ভুলেভালে এক ফোঁটা পানি গড়ায় চোখের কার্নিশ বেয়ে । ফিকড়ে ওঠে একবিংশী । ঠোঁট সরায় । মুহুর্ত পার না করে উন্মত্তের ন্যায় পরপর চুমু আঁকতে থাকে ক্ষত বিক্ষত হাতটার ব্যান্ডেজের উপর । চুমুর সংখ্যা বোধহয় শতাধিক ছাড়ালো । তবুও তৎপর রমনী ।
কাঁদে একপাশে । লোকটার জন্য করুনা হয় । থামে রমনী । রৌদ্রের হাতটা চেপে ধরে নিজের ডান কপোলের ধারে । অতঃপর বুকের সাথে । চোখ রাখে বেপরোয়া যুবকের মুখ পানে । কাছ ঘেঁষে আরো । লোকটাকে ঘুমন্ত অবস্থায় কতটা শান্ত লাগছে ! যেনো কত নিষ্পাপ । পাপড়ি কাঁপছে চোখের ।
মেঘা আনমনে মুচকি হাসে । ঝুঁকে পড়ে বেখেয়ালে । টুপ করে লোকটার ডান চোখের কার্নিশে ঠোঁট ছোঁয়ায় । দ্বিধা করে না বিন্দুমাত্র ।
সরে এসে বিড়বিড় করে নালিশের স্বরে….
” আপনি খুব খারাপ রাইনো মুখো ,,,
আমি ক্ষমা করবো না আপনাকে ! থাকুন আপনি বেপরোয়া হয়ে । মেরেছিলেন না আমায় ? এবার দেখবেন , আমি ক্ষমা করবো না সহজে । কথা বলবো না আপনার সাথে । কষ্ট পান আপনি ! আমাকে কষ্ট দিয়েছেন না ? ফিরিয়ে দেবো আমি আপনাকে এই কষ্ট ।
নাক টানে সে । ধীরে মাথা এলিয়ে দেয় রৌদ্রের বুকের পাশে । হাতটা আগলে রেখেই আবার বলে….
” আমি ঘৃণা করি আপনাকে । আই হেইট ইউ রাইনো মুখো.. ।
সকাল নয়টা । পাখির কিচিরমিচিরের ডাকে আজ আর ঘুম ভাঙ্গে নি । বরং চড়া ডাকে ধড়ফড় করে উঠে বসলো মেঘা…
” এই মেঘা ? উঠবি না এখনো ? সকাল হলো তো , আর কত ঘুমাবি ?
মেঘার মস্তিষ্ক এলোমেলো । সজাগ হতে সময় লাগে । মাথা চেপে ধরে এপাশ ওপাশ তাকায় । চোখ সরু করে সারা কে দেখে বলে ঘুমের ঘোরে….
” কি হয়েছে ?
” নয়টা বেজে গেছে ! এখনো ঘুমাচ্ছিস কেনো ? কি করেছিস সারা রাত ?
” ঘুম হয় নি ,,, আমি ঘুমাবো !
” ঘুমাবি মানে ? সারা রাত ঘুমোস নি ? ভাইয়া কোথায় ?
ধক্ করে ওঠে মেঘা । সম্বিতে ফেরে । ঘুমে আচ্ছন্ন চোখ জোড়া তড়াক করে বৃহৎ হয়ে আসে । ঝট করে সোফার দিকে তাকায় রমনী । ফাঁকা দেখে ধড়ফড়িয়ে খাটের উপরেই উঠে দাঁড়ায় । বিচলিত হয়ে বলে….
” উনি কোথায় ?
” আমি কি জানি ! তোর সাথেই তো ছিলো । ভাবলাম ঘুমোচ্ছিস দু’জনে । তাই সকাল থেকে ডাকিনি । এখন এসে দেখি দরজা খোলা । উঁকি দিয়ে দেখলাম রৌদ্র ভাইয়া নেই , তুই একা ঘুমোচ্ছিস । তাইতো ডাকলাম । ভাইয়া কোথায় ?
মেঘা ভ্যাবাচ্যাকা খেলো ।
অকস্মাৎ মনে পড়লো কালকের ঘটনা ।
ও বিছানায় আসলো কি করে ? মনে পড়ছে না । লাস্ট মনে পড়লো,, ও মাঝরাতে রৌদ্রের কাছে গেছিলো । বিলাপ করতে করতে ওখানেই সোফায় এলিয়ে দিয়েছিলো মাথাটা । তারপর ? তারপর কি হলো ? আর কিছু মনে নেই ? ওখানেই কি ঘুমিয়ে গেছিলো ?
ধক্ করে ওঠে রমনীর বক্ষস্থল । শুল্ক ঢোক গেলে । রৌদ্র ওকে দেখে ফেলেছে ওর কাছে ? নিশ্চয়ই দেখেছে ! বুকের কাছে হাত চেপে ধরে রেখেছিলো,এটাও দেখেছে নিশ্চয়ই ? ভাবতেই ওষ্ঠ উল্টালো মেঘা । ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে সারার দিকে তাকালো ।
” উনি বাড়িতে কোথাও নেই ?
” না তো । সকালে দেখিনি । আমি তো সেই কবেই উঠেছি । আম্মু ও দেখেনি । কিন্তু বললো , সদর দরজা নাকি খোলা পেয়েছে সকালে । ভাইয়া চলে গেছে হয়তো । বাই দ্যা ওয়ে ,, কেমন কাটলো ?
” কি ?
” রাত ?
সারার ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি । বুকে হাত গুটিয়ে ভ্রু নাচালো সে । মেঘা চোখ মুখ পাকিয়ে একটা বালিশ ছুড়ে মারলো ওর দিকে….
” বাজে বকবি না সারা ! আমি ওনাকে ঘৃণা করি…
” আচ্ছা ,, যাকে ঘৃণা করিস , তার সাথে দ্বিধা হীন এক ঘরে থেকে গেলি ? একটা বারও তো দ্বিমত করতে দেখলাম না । সেই যে ঘরে ঢুকলি , আর বেরোলিও না । সারা রাত কি এমনি এমনি কাটিয়েছিস ?
” সারা ,, বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু । সর তো…
মেঘা নেমে ওয়াশ রুমের দিকে এগোয় । ভেতরে ঢোকার আগেই কানে বাজে সারার কন্ঠ…
” সরিইই সুইটহার্ট !
ছ্যাত করে পিছু ফেরে মেঘা ।
” হোয়াট ?
কাঁধ উঁচিয়ে ওষ্ঠ উল্টায় সারা । চোখ তার ড্রেসিং টেবিলের পানে । দৃষ্টি অনুসরণ করে মেঘাও তাকায় । অমনি চোখ জোড়া বৃহৎ হয়ে আসে ওর । মিররের গ্লাসে লাল রঞ্জনে বড় বড় অক্ষরে লেখা ….“Sorry Sweetheart” ।
হা বনে যায় একবিংশী । রৌদ্রের কান্ড । বুঝতে বাকি নেই । সারা শুধোয়…
” এসব কে লিখলো ?
সারার সামনে অপ্রস্তুত অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রত্যুত্তর না করেই তড়িঘড়ি করে ওয়াশ রুমে ঢুকলো মেঘা । হাঁফ ছাড়লো বুকে হাত রেখে । ওয়াশ রুমের মিররেও এক অবস্থা । সাদা পেস্ট দিয়ে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা “ Sorry sweetheart” ।
দুদিকে মাথা ঝাঁকায় মেঘা । তড়িঘড়ি করে মুছে ফেলে আয়না ।
ডান হাতে ব্রাশ নিয়ে দেখে ,, ব্রাশে অলরেডি পেস্ট লাগানো । মেঘার যাতে প্রবলেম না হয়, তাই এ কাজ ।
আনমনে ঠোঁট প্রসারিত হয় রমনীর । ফ্রেশ হয়ে বের হয় । সারা ওকে নিচে নামতে বলে বেরিয়ে গেছে ।
মেঘা ফোন হাতে নিলো সময় দেখার উদ্দেশ্যে । স্ক্রিনে চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলো । ৯৯+ মেসেজ নোটিফিকেশন । ওপেন করতেই দেখতে পায় , সব এক নাম্বার থেকে এসেছে । একটাই বাক্য পূনরাবৃতি হয়েছে বারংবার…
মিনিট অন্তর অন্তর একটা করে মেসেজ….“ Sorry Sweetheart ” । বিষ্ময়ে মুখ ফাঁক হয়ে আসে রমনীর । এখনো ফোনটা কাঁপছে লাগাতার । মেসেজ এসেই চলেছে ক্ষণে ক্ষণে । গলা শুকিয়ে আসে ।
মেঘা ধড়ফড় করে ফোন রাখে । গায়ে পাতলা সোয়েটার জড়ায় । নিচে নামবে ,, দরজার দিকে এগোনোর আগে বেখেয়ালে নজর পড়ে টেবিলের উপর ।
একখানা পেপার রয়েছে । মেনিএচার দিয়ে চিপকে রাখা । কৌতুহল বশত সেটা লক্ষ্য করতে চায় রমনী । হাতে তুলতেই দেখতে পায় ,,,
“ Sorry Sweetheart ” ।
এন্ড , গুড মর্নিং ওয়াইফি….
ফাইনালি , উই শেয়ার্ড আ রুম টুগেদার ফর দ্যা ভেরি ফার্স্ট টাইম ।
এবার ফোঁস করে শ্বাস ফেললো সে । ভেংচি কেটে মুখ ফিরিয়ে নিলো । সে গলবে না সহজে ।
বিয়ের বাকি নেই আর ।
যেহেতু ঘরোয়া ভাবে বিয়ে । সেহেতু সেভাবে আয়োজন করা হচ্ছে না । কথা ছিলো আবিদ টুকটাক বিয়ের শপিং করে ইকরা’দের বাড়িতে পৌঁছে দেবে ।
কিন্তু আজ সকাল হতেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে । শিশির আর ইকরা কে শপিং মলের সামনে ডেকেছে সে । মেয়েদের পছন্দ অনুযায়ীই কেনাকাটা হবে ।
সেই মোতাবেক বিকেলের দিকে বাইরে বেরিয়েছে দুইবোন । শপিং মলের সামনে দেখা পেয়েছে আবিদের । ভেতরে ঢোকার আগেই বাঁধা দিলো সে । বললো কেউ একজন আসবে ।
শিশির কেমন নিভিয়ে যায় । আয়ান আসবে হয়তো । সেদিনের পর ঐ বাজে লোকটার সামনে দাঁড়াবে কি করে ও ? বারবার মনে ধরা দিচ্ছে সেদিনের সেই উশৃঙ্খল বিহেভিয়ারের কথা ।
চোখ নামিয়ে সিটিয়ে দাঁড়ায় রমনী । ক্ষণিকের ব্যাবধানে একটা চার চাকা গাড়ি এসে থামে পার্কিং লটের পাশে । ওরা পার্কিংয়েই দাঁড়িয়ে ছিলো । গাড়িটা চেনা মাত্রই আবিদ মুচকি হাসলো ,, বললো….
” এসে গেছে….
ইকরা আগ্রহী হয়ে তাকায় ।
শিশির চোখ তোলে ধীরে সুস্থে । চেনা লাগে গাড়িটা । অতঃপর গাড়ি থেকে দাম্ভিক ভঙ্গিতে যে নামে , তাকে আরো বেশি চেনা লাগে । শুধু চেনা নয় , ভীষণ পরিচিত মুখাবয়ব । তাজ্জব বনে যায় শ্যামলিনী । বড় বড় চোখে চায় । ততক্ষণে দাম্ভিক লোকটা এসে থেমেছে ওদের সামনে । এক পশলা হাসি সমেত আবিদের সাথে বুক মেলালো । পরিচয় করালো আবিদ….
” ইকরা ,,, ও আমার ফ্রেন্ড আদ্র ! আদ্রিয়ান কাবির আদ্র ।
ওর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ।
বিনয়ে মুচকি হাসে ইকরা । আবিদ আবার বলে….
” আদ্র,,, মিট মাই ফিয়ন্সে ,, ইকরা । আর ও শিশির । ইকরার বোন । চেনো নিশ্চয়ই ?
শিশির ,, চেনো আদ্র কে ? তোমার ভার্সিটির লেকচারার ! চেনার কথা !
এবার ইকরা প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে শিশিরের দিকে তাকায় । সাথে আবিদ, আদ্র । তিন জোড়া দৃষ্টিতে অপ্রস্তুত হয় মেয়েটা । আবিদের কথায় সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়ায় । ইকরা বলে….
” বলিস কি ,, উনি তোর প্রফেসর ? আর ,, আবিদ উনি আপনার ফ্রেন্ড ? হোয়াট আ কোইনসিডেন্স !
তাহলে তো আপনি শিশিরের স্যার ? আগে থেকেই চেনা আছে একে অপরকে ?
আদ্র শিশিরের দিক থেকে সরু চোখ সরিয়ে মলিন ছোট উত্তর করলো….
” হু ।
শিশির এখনো মূর্ত । এবার আন্দাজ হলো , আদ্র এ কারনেই আয়ানের সম্পর্কে এতো কিছু জানে ?
ওদের দুজনার কথা হলো না টু শব্দেও । মলের ভেতরে ঢুকে গেলো ওরা । দুই রমনীর শাড়ি কাস্টমাইজ ছিলো আগে থেকেই । শিশির আর ইকরা জানতো না । ওদের দেখতে না দিয়েই একটা শপে ঢুকে কতগুলো শপিং ব্যাগ নিয়ে বেরোলো আবিদ । দু’জনের বিয়ের শাড়ি আছে এখানে ।
শপ থেকে বেরিয়ে পাশাপাশি হাঁটার মাঝেই আচমকা ভারী গলায় মুখ খোলে আদ্র….
” আপনার বোনের যার সাথে বিয়ে দিচ্ছেন , তার খোঁজ নিয়েছেন ?
শিশির ভড়কায় । থমকায় সহসা । তড়াক করে চায় আদ্রের দিকে । ইকরা চোখ সরু করে । হাসি মুখে বলে…
” আবিদের ভাই ! আলাদা বাড়িতে তো বিয়ে হচ্ছে না । খোঁজ নেওয়ার কি আছে ? আমি আবিদ কে চিনি ।
” আয়ান কে তো চেনেন না । আবিদের ভাই হলেই যে, সেও ভালো হবে , তার গ্যারান্টি কোথায় ? যদি ছেলে খারাপ হয় ?
ইকরার মুখ ছোট হয়ে আসে । দুরু দুরু কাঁপে শিশিরের বুক । এই লোক চাইছে টা কি ? আবিদ নিরুদ্বেগ । ঠোঁটে চওড়া হাসি তার । সে নির্বিকার এসব প্রসঙ্গে । ইকরা মৃদু স্বরে বলে….
” মানে ?
আদ্র শিশিরের পানে চায় । চোখাচোখি হয় । ভয়ার্ত চোখে দুদিকে মাথা নাড়ায় মেয়েটা । ইশারা করে বোঝায় , যেনো আদ্র কিছু না বলে । বললেই যে সর্বনাশ । ইকরা এই মোক্ষম সময়েও সবটা ঘেঁটে দিতে দুবার ভাববে না । আদ্র মেয়েটার ইঙ্গিত বুঝে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে । প্রত্যুত্তর করে ইকরার প্রশ্নে ….
” ডোন্ট ওয়ারি । এমনি বললাম । আপনার বোনের যার সাথে বিয়ে হতে চলেছে , সে কিন্তু মন্দ নয় । খালি আপনার বোন বেয়াদবি না করলে হয় । তাই না আবিদ ?
উৎফুল্ল জবাব দেয় আবিদ….
” একদম ।
শিশির বুঝলো না । স্বস্তি পেলেও চোখ সরু করলো । ইকরা আর আবিদ আগেই পাশের জুয়েলারি দোকানে ঢুকেছে । ছেলেপক্ষ থেকে গহনা বানাতে দেওয়া হয়েছে এখানে ।
আদ্র দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে । শিশির একটু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ক্ষিণ স্বরে বুলি ফুটায়….
” থ্যাংক ইউ স্যার ।
” ফর হোয়াই ?
” আপু কে কিছু বলেননি তাই ।
” কি বলতাম ? যা বলার ছিলো তা তো বলেছি । মিথ্যে বলি নি ।
” মানে ?
” মানে তোমার ফিউচার হাসবেন্ড আসলেই খারাপ নয় । তুমি বেয়াদব । তাকে ভুল ভাবো !
” পাল্টি খাচ্ছেন কেনো ? আবিদ ভাইয়া আপনার ফ্রেন্ড, তাই ? এ কারনেই গুণগান গাচ্ছেন ? আয়ানকে….
” শাট আপ বেয়াদব ,,, আ’ম আদ্রিয়ান কাবির আদ্র । নট আয়ান !
আকস্মিক ধমকানো স্বরে শিশির চমকালো । ঝাঁকুনি দিয়ে পেছালো এক কদম ।
” আমি তো আপনার কথা বলছি না । আমি আয়ান….
” আবার এক কথা ! হু ইজ আয়ান ? টেল , আদ্রিয়ান ।
” আজব । আমি আপনার কথা বলছি না । আমি….
মেয়েটার কন্ঠ চড়েছে । তবু এবারো ওকে কথা শেষ করতে দিলো না আদ্র । রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে ঝাড়ি মারলো….
” বেয়াদব ,, আর একবার উল্টো পাল্টা নাম জবানে উচ্চারণ করলে জবান টেনে ছিঁড়ে ফেলবো । চুপ করে থাকো । নয়তো বিয়ের আগে তোমার হাসবেন্ড এর পরিচয় ফাঁস করতে বাধ্য হবো আমি ।
শিশির চোখ সরু করে । কি আজব । লোকটা পাগল হয়ে গেলো নাকি ? কি ভুলভাল বকছে ।
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৫
শিকদার বাড়িতে রাতের ডিনার হয় দেরিতে । এই দশটার দিকে খেতে বসে সবাই । এখন বসেছে খেতে ।
দশটা বেজে দশ মিনিট । খাওয়া মাঝপথে । এমন সময় কলিংবেল বাজে । রেহানা শিকদার দরজা খুলে দেন উঠে গিয়ে । সেই অপ্রত্যাশিত কাঙ্ক্ষিত মুখ ।
রৌদ্র ,, নাম বিড়বিড় করে দুদিকে মাথা নাড়ান ভদ্রমহিলা । এ ছেলের খোঁজ ছিলো না সারাদিন । কাবির ম্যানসনে রৌদ্রের এ বাড়িতে আসার খবর পাঠাননি কেউ । প্রয়োজন বোধ করেননি পাঠানোর । তাই বলে যে ও বাড়িতে কেউ জানে না , তা নয় ।
রৌদ্র ভেতরে ঢুকে আসে । ডাকে হাঁক ছেড়ে….
” হেয়য়য় জান পাখি ,,, এসে গেছি আমি ।
