Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৮

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৮

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৮
সুরভী আক্তার

শাফাহ্ ঘরে ছিলো আনমনে । মেঘা হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে ছুটে গিয়ে আচমকা ওকে জড়িয়ে ধরলো । অদ্ভুত রহস্যময় ভালোলাগায় হাঁসফাঁস করছে একবিংশী । শাফাহ্ কিছু বোঝে না , বরং গাল ফুলিয়ে বলে…..
” কোথায় গেছিলি তুই ?
মেঘা ওকে ছাড়লো না । জড়িয়ে রেখেই দম ফেলে বললো….
” একটু বাইরে !
” ওটা তোর ভাই , নাকি জোম ? কি রগচটা মেজাজ তার ! এমন কেউ করে ? তুই বাড়িতে নেই , এটা জানানোর পর চার বার ধমক দিয়েছে আমায় । তোর ভাইকে বলে দিবি , কারোর রাগ আমার সহ্য হয় না । উনি বাইরের লোক, জানেন না এসব , তাই রাগ দেখালেও কিছু বলিনি । সহ্য করে নিয়েছি । কিন্তু এরপর সহ্য করবো না বলে রাখলাম । কান্না করে দেবো কিন্তু ।
কাঁদো কাঁদো স্বর শাফাহ্’র । মেঘা ওর মুখোমুখি হতেই কাঁদো কাঁদো মুখখানা দেখে ফিক করে হেসে উঠলো । হাসতে হাসতে বলল মুখ চেপে….

” ভাইয়া তোকে ধমকেছে ? সিরিয়াসলি ? এটাও সম্ভব ? আমার ভাইয়ার রাগ নেই একটুও । আমি তো কখনো দেখিনি ! আর তুই কিনা বলছিস তোকে চারবার ধমকেছে ?
” ধমকেছে তো , গিয়ে জিজ্ঞেস করে নিস ।
প্রত্যুত্তরে মেঘা কিছু বলার আগেই সিরাতের উঁচু বাক্য ভেসে আসলো পেছন থেকে….
” মেঘা ,, এই ঘোর আমার দিকে ।
দেখি দেখি , আমার ড্রেস তোর পড়নে কেনো ?
থতমত খায় মেঘা । ভড়কায় । অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে আমতা আমতা করতে আড়ম্ভ করে । এদিক ওদিক ঘন পলক ফেলে ।
সিরাতের বুঝতে বাকি নেই । সে ভীষণ খুশি এই ভেবে, যে মেঘা আর রৌদ্রের মাঝে সব ঠিকঠাক । মেঘা চলে যাবে না এ বাঁধন খুলে । রৌদ্রের মতিগতি তো আগে থেকেই বোঝা ছিলো । এখন মেঘার দিকটাও পরিষ্কার ভাবে নিশ্চিত হলো সে । খুশিতে চিকচিক করে উঠলো চোখ দুটি । মেঘা চিবুক নামিয়ে লাজ ঢাকে । সিরাত উত্তেজিত হয়ে বেফাঁসে প্রশ্ন করে বসে…..

” তারমানে তোদের মাঝে সব ঠিকঠাক ?
মেঘা আর পারলো । পিছু ফিরে দুহাতে মুখ ঢেকে নিলো ।
” আপু , ভালো হচ্ছে না কিন্তু ।
সিরাত পেছন থেকে জাপটে ধরলো ওকে….
” কি ভালো হচ্ছে না শুনি ? বরং যা হচ্ছে, হয়েছে , তাই সবচেয়ে বেশি ভালো হচ্ছে । উফফফ মেঘা , আই এম সো হেপি । আমি জানতাম তোদের মাঝে একদিন না একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে । আর তাই হলো । এবার আমার ভাইটাকে একটু আঁচলে বাঁধ । গুছিয়ে নে ওকে । দেখিস , ও তোর সব কথা শুনবে । আমি জানি , তোর দিক থেকে চিনেছি ওকে । ও পাগল তোর জন্য । ঐ পাগল টাকে আগলে রাখিস একটু ।
মেঘা মৃদু হাসে তার কথায় ।

আজ ভার্সিটিতে একা বেরিয়েছিল আদ্র । রৌদ্রের সাথে দেখা হয় নি তাই । কাল ১৪ ফেব্রুয়ারি । পহেলা ফাল্গুন । ভার্সিটিতে টুকটাক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে । নতুন করে সাজবে সকলে । বাড়ি ফেরার পথে তিন রমনীর জন্য তিনটে বাসন্তী রঙের শাড়ি সহ ম্যাচিং হিজাব আর চুড়ি নিয়ে ফিরেছে আদ্র । ফিরেই মেঘা আর শাফাহ্ কে ওদের দুটো দিয়ে বাকি আরেকটা নিয়ে ঘরে ঢুকেছে । শাওয়ার নিতে নিতে দেরি হয়ে গেছে আজ । বাজে প্রায় বিকেল চারটা । ঘরে ঢুকেই শিশির কে ভেজা চুল মুছতে দেখে কপালে ভাঁজ পড়লো আদ্রের । এগিয়ে গিয়ে বললো কন্ঠ নরম রেখে…..
” এতো দেরি করে শাওয়ার নিয়েছো কেনো ? ঠান্ডা লেগে যাবে তো !
চকিতে চায় শিশির । মিষ্টি হেসে বলে……

” লাঞ্চের পর ঘুমিয়েছিলাম একটু । তাই দেরি হয়ে গেছে ।
পরিপ্রেক্ষিতেও মিষ্টি হাসলো আদ্র । হাতের ব্যাগটা সহ এগিয়ে গেলো । শাড়ি খানা বের করে শিশির কে ফেরালো আয়নার দিকে । নিজে দাঁড়ালো ঠিক পেছনে । লাল পেড়ে বাসন্তী রঙের শাড়িটা শ্যামলিনীর গায়ে ধরে চোখ সরু করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে খুঁটিয়ে অবলোকন করলো ওকে । বললো ভাবুক হয়ে……
” সুন্দর লাগবে ভীষণ ! কাল পড়বে এটা ?
শিশির ঘাড় ঘোরালো…..
” আমি ? এটা পড়ে ভার্সিটিতে যাবো ?
” হু !
” পারমিশন দিচ্ছেন ?

” কেনো নয় ,,, কি ভাবছো ? কেউ দেখবে না তোমায় ! তোমায় দেখার জন্য শুধু আমি আছি । ঘরেও আর বাইরেও । অন্যদের দৃষ্টি থেকে তোমাকে হেফাজতের দায়িত্বও আমার । ডোন্ট ওয়ারি । মেঘা আর টুকটুকিও পড়বে ‌। তুমি বাদ যাবে কেনো ? তোমাকে বুঝি শাড়িতে মনমতো দেখার ইচ্ছে জাগে না আমার ?
শিশির অপ্রস্তুত হয়ে ঘাড় ফেরায় । আদ্র মুচকি হাসে । পকেট থেকে বাদাম ভর্তি একটা ঠোঙা বের করে শিশিরের হাতের মুঠোয় গুজে দিলো । অতঃপর ফ্রেশ হওয়ার জন্য পা বাড়ালো ওয়াশ রুমের দিকে । বাদাম গুলো চেপে ধরে পেছন থেকে শিশির ডেকে বলে…..
” রোজ রোজ বাদাম নিয়ে আসেন কেনো ?
আদ্র থামলো । ঘাড় ঘোরালো ….
” তোমার পছন্দ তাই ।
” আমার পছন্দের এতোটা কদর ?
” একটু বেশি কদর আছে । যা দেই তা তুলনামূলক কমই ।
দু-বাক্য শেষ করে পা বাড়াতে গিয়ে আবার থামলো । আকুল হয়ে পিছু ফিরলো । বললো কাতর স্বরে…..

” পছন্দের তালিকায় আমি যুক্ত হবো কবে , শুনি ? তাহলে রোজ রোজ এভাবেই নিজেকে পেশ করতাম তোমার কাছে !
শিশির বেখেয়ালে কপাল গুটিয়ে মৃদু হাসলো । সেকেন্ড কয়েক অপেক্ষার পরও উত্তর না পেয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকেছে আদ্র । সে চক্ষু গোচর হতেই শ্যামলিনী বিড়বিড় করে নিজের মাঝে…..
” আপনি যে আমার অপছন্দ, তা তো বলিনি কখনো । পছন্দ কি না তা বুঝে নেওয়া আপনার দায়িত্ব । আমি বলবো কেনো ? আপনি কি সব বলেছেন আমায় ?

মেঘা লাগাতার ইয়াশের ফোনে কল লাগিয়েও কোনো হোদিশ পাচ্ছে না ওর । সেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে । এখনো অবধি দেখা মেলেনি । রাত আটটা বাজতে চললো । ডিনারের সময় হয়ে গেছে । তবুও খোঁজ নেই ।
রৌদ্র ও ছিলো না বাড়িতে । সে ফিরলো আটটার আগে আগে । খাওয়ার টেবিলে আদ্রের মুখোমুখি হয়েছে রৌদ্র । একেই তো খুঁজছিলো সে । পৈশাচিক আনন্দে চিকচিক করে উঠলো বেপরোয়া যুবকের চোখজোড়া । কিছুতেই নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলো না । ঠোঁট ফাঁক করে লকলকে জিভে উচ্চারণ করলো মায়ের উদ্দেশ্যে…..

” মম , আমি বড় না আদ্র বড় ?
রুবিনা কাবির সবে খেতে বসেছেন । ছেলের অহেতুক প্রশ্নে চোখ কুঁচকে সোজাসুজি উত্তর করলেন…..
” আদ্র বড় । তেইশ সেকেন্ডের ।
” ছ্যাহহহহ্ ,, লজ্জা থাকা উচিত ।
এবার চোখ পাকিয়ে তাকালো আদ্র । প্রসঙ্গ না বুঝে বললো খাবার চিবিয়ে…..
” কি হয়েছে ?
” যেটা তোর হয়নি !
” কি হয় নি আমার ?
” যেটা আমার হয়েছে ।
” তোর কি হয়েছে ?
” যেটা হয়েছে সেটা তোর হয়নি !
” আরে,,, কি হয়নি ?

আদ্রের কন্ঠে চাপা বিরক্তি । রৌদ্রের ঘোর প্যাঁচ কথায় বিভ্রান্ত হলো খানিক । উপস্থিত সবাই চোখ ছোট করে দুই ভাইয়ের দিকে দৃষ্টি ফেরালেন এ বেলায় । তোফায়েল কাবিরের পাশে বসে আনমনে খাচ্ছিলো মেঘা । ভাবখানা এমন যেনো রৌদ্র কে চেনে না সে । তাকায় নি একটাবার । সেও তাকালো এবার । রৌদ্রের সাথে চোখাচোখি হয় আলগোছে ।
রৌদ্র ফিচেল হাসলো । চোখ সরিয়ে আদ্রের দিকে সরে এসে ফিসফিস করলো……
” বাসর !
অকস্মাৎ ভ্যাবাচ্যাকা খায় আদ্র । মুখের খাবার গলায় আটকে কেশে ওঠে খুকখুক করে ।
হুট করে ওর‌ এমন কাশিতে বিচলিত হয়ে পড়লেন রুবিনা কাবির । উঠে গিয়ে পানি বাড়িয়ে দেওয়ার আগেই শিশির আপন দায়িত্বে একগ্লাস পানি এগিয়ে দিলো । ব্যাস্ত হাতে আদ্রের পিঠে হাত বোলাতে লাগলো সে । আদ্র তাল সামলে ঢকঢক করে গ্লাস খালি করে । জোরে জোরে শ্বাস টেনে কটমট করে তাকায় রৌদ্রের দিকে ।
রৌদ্রের গা ছাড়া ভাব । খাওয়ায় ব্যাস্ত সে । শিশির বললো উদ্বিগ্ন হয়ে……

” ঠিক আছেন ?
আদ্র উত্তর করার আগেই আগ বাড়িয়ে ভেঙ্গিয়ে উত্তর করলো রৌদ্র…..
” না কুয়াশা ‌, ঠিক নেই মোটেও । তুমি বরং পানি না দিয়ে অন্য কিছুও দিতে পারো । তাহলে যদি ঠিক থাকে একটু ।
” রুডি ,,, বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু । সেকেন্ড গুনে হলেও আমি তোর বড় ! জবানে লাগাম টান ।
” তাইতো বলছি , লজ্জা থাকা উচিত বড় ভাই । সেকেন্ড গুনে হলেও বড় বলে কথা ।
শুভ্র ও দুটোর চাপা স্বরের কথা কাটাকাটি দেখে জিজ্ঞেস করলো পুরু কন্ঠে….
” কি হয়েছে তোদের ?
” তোদের না ,,, জিজ্ঞেস করো কি হয়েছে তোর ! কারন হয়েছে তো শুধু আমার । আদ্রের কিছুই হয় নি এখনো । তাই না আদ্র ?
আদ্র কিড়মিড় করে দাঁত পেষে রৌদ্রের কথায় । এই ছেলে এমন নির্লজ্জ ঠোঁটকাটা হলো কি করে ? শুভ্র চোখ ছোট করে পূণরায় শুধোয়….

” কি হয়েছে ? আর কি হয় নি ?
জিভ পাতলা রৌদ্র বলতে গেলো নির্লজ্জের ন্যায়…..
” আর বলো না ব্রো ,, আদ্র অলওয়েজ লেজি ! বাট আমি ফাস্ট । তাইতো ওর থেকে ছোট হয়েও অনেক আগে বিয়ে করে নিয়েছি । ইনফ্যাক্ট তোমার ও আগে । বাট কম্পিটিশন তোমার সাথে নয় । ওর সাথে । ও আমাকে কাল একটা বিষয়ে খোঁটা দিয়েছে । ট্রাস্ট মি ,, গায়ে লেগেছিলো ভীষণ । এখন আমি ওকে খোঁটা দিচ্ছি । শোধ বোধ । হুহহহ ,,,,,
” কিসের খোঁটা ?
শাহিনা কাবিরের আগ্রহী প্রশ্ন । রৌদ্র আকস্মিক কেমন লাজুক হাসলো । চিবুক নামিয়ে কিছু একটা বলার প্রস্তুতি নিলো । তার আগেই ধমকালো আদ্র……

” রুডি চুপপ ,,,
আর একবার বেফাঁস কথা বলেছিস তো মার খাবি বলে রাখলাম । ভুলে যাস না আমি তোর বড় ‌। তোকে মারতে পারি আমি ।
গা দুলিয়ে শব্দ করে হাসলো রৌদ্র ।
” তুই ভুলে যাস না এটা , যে তুই আমার বড় । সালাম নেবেন তেইশ সেকেন্ডের বড় ভাই । কিছু টিপস্ লাগলে জানাতে ভুলবেন না । তবে একটা টিপস্ দিচ্ছি এক্সট্রা ,, মাঝরাতে বউকে নুডুলস বানিয়ে খাওয়াতে পারেন । কাজে আসবে ।
বলেই উঠে দাঁড়ালো রৌদ্র । কোনো রকমে ঠুকরে খাওয়া শেষ । বেসিন থেকে হাত ধুয়ে হেলে দুলে সিঁড়ির দিকে এগোলো । পিছু ফিরে আদ্রের দূর্বোধ্য আহম্মক মুখ পানে তাকিয়ে হাসি সংবরন করলো ঠোঁট পিষে ,, বিড়বিড়ালো…..

” ছ্যাহহহহ্ ,, লজ্জা থাকা উচিত !
ফোঁস করে শ্বাস ফেলে আদ্র ।
রৌদ্র উপরে উঠে যায় । সবার চোখের আড়ালে গিয়ে করিডোর থেকে চিল্লায়…..
” সুইটহার্ট , রুমে এসো । ঘুম পাচ্ছে আমার ।
ফের রৌদ্রের কন্ঠ । এবার মেঘার গলায় খাবার আটকালো । না গিলতে পারলো , আর না উগলে দিতে । কেবলই ভ্যাট ভ্যাট করে চেয়ে রইলো সবার মাঝে বসে । রৌদ্র হঠাৎ নুডলসের কথা বললো কেনো ? বেশ চিন্তায় পড়লো একবিংশী ! আদ্র হাঁফ ছেড়ে কপাল চাপড়ায় ! এটা কি আদোতে ওর ভাই ? নিজের ভাইই তো ? তাহলে এমন হলো কেন ?

ঘরে হন্তদন্ত হয়ে পায়চারি করছে মেঘা ‌। এগারো টা বাজে প্রায় । হাতে ফোন । লাগাতার কল লাগাচ্ছে ইয়াশের ফোনে । ছেলেটার খোঁজ নেই ‌। ফোন বন্ধ । চিন্তায় টাল একবিংশী । কোথায় গেলো ইয়াশ ?
মেঘা ঘরে থাকতে পারলো না আর । চুপিসারে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে করিডোরে এপাশ ওপাশ উঁকি দিলো । ফাঁকা পেয়ে পা টিপে টিপে আদ্রের ঘর পেরিয়ে এক ছুটে ঢুকলো রৌদ্রের ঘরে । দরজা খোলা ছিলো । মেঘা ঘরে ঢুকে আলগোছে চাপিয়ে দিলো দরজাটা । ছিটকিনি অবধি হাত পৌঁছালো না ‌। পিছু ফিরতেই তাজ্জব বনলো । রৌদ্র ঘুমিয়ে । মেঘা কে ডেকেছে বেশ কবার । একে ইয়াশের চিন্তা , তার উপর শাফাহ্’র ঘুমের অপেক্ষায় ছিলো মেঘা । কিন্তু রৌদ্র ওর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে টলে পড়েছে ঘুমের রাজ্যে । বিছানার একপাশে মেঘার জন্য জায়গা ছেড়ে অন্যপাশে নিজের জায়গা করে নিয়েছে । পূর্ব রাতে ঘুম হয় নি । বেজায় লেগে এসেছিল দু’চোখ । জেগে থাকতে পারে নি অধিক ক্ষণ । মেঘা চিন্তিত ভার মনেই হাসলো এক পশলা । উবে গেলো সব ভাবনার ছাপ । ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে এসে রৌদ্রের মাথার পাশে বসলো । লোকটা ঘুমোলে কি নিষ্পাপ লাগে ! অবশ্য পাপি নন তিনি ।

নিষ্পাপই বটে । ঘুমোলে বরং মায়া লাগে বেশি । আকর্ষণীয় লাগে বড্ড । কি সুন্দর লোকটা । মেঘা গলে গেছে তার উপর । কবে, কখন, কিভাবে , তা সে নিজেও জানে না । সে তো ঘৃণা করতো এনাকে । তাহলে এভাবে লোকটার ফাঁদে জড়িয়ে গেলো কবে ? ভেবে পায় না মেঘা । ঘুমন্ত বেপরোয়া যুবকের মুখ পানে তাকিয়ে আরামে ঠোঁট ঠেলে হাসে । লোকটার মাথাটা তুলে নেয় নিজের কোলে । চুলের ভাঁজে আঙ্গুল ডুবিয়ে দেয় । ঝুঁকে ঠোঁট ছোঁয়ায় কপালে, অতঃপর নাকের ডগায় । নাক টেনে মৃদু স্বরে ফিসফিস করে একান্তে……
” রাইনো মুখো, আপনি মোটেও রাইনো মুখো নন ,
শুনেছেন ? খুব সুন্দর আপনি । ভীষণ ভীষণ ভীষণ সুন্দর । এতো সুন্দর কেন হতে হবে আপনাকে ? ভালোবেসে ফেললাম যে ! ভালোবেসে ভীষণ ভাবে ফেঁসে গেলাম । এখন কি হবে আমার ? এতো ভালোবাসা রাখবো কোথায় ? ইশশ্, কি সুন্দর আপনি ! এই সুন্দর পুরুষ টা আমার বুঝি ? আই লাভ ইউ সুন্দর পুরুষ ।

” আই লাভ ইউ ঠু সুইটহার্ট !!
হঠাৎ প্রত্যুত্তরে রৌদ্রের এমন ঠান্ডা আবেশিত কন্ঠে কেঁপে উঠলো একবিংশী । শিহরণ বয়ে গেলো সর্বাঙ্গে ।
ঝট করে স্বাভাবিক হয়ে বসলো । ভড়কালো অনেকটা । রৌদ্র মাথা তুলে ভার পাপড়ি যুগল আলাদা করে তাকায় । ঠোঁটে ভরা হাসি । মেঘা অপ্রস্তুত থতমত খায় । কিছু বুঝে ওঠার আগেই রৌদ্র সরে এসে একটানে ওকে বিছানায় ফেললো । বিলম্ব হীন শক্ত করে উদর পেঁচিয়ে নিলো । রমনীর কোমল গ্রীবার ভাঁজে মুখ গুঁজে ঠোঁট ছোঁয়ালো ,, নরম ত্বকে নাক ঘষে আবারো ফিসফিস করলো হাস্কি টোনে……

” লাভ ইউ ঠু সুন্দরী তমা । এই সুন্দরী রমনী আমার বুঝি ? ইশশ্ , কি সুন্দর আমার রৌদ্রময়ী ।
মেঘা জমে যায় । শিউরে উঠে লোমকূপ । অবাক হয়ে বলে…..
” আপনি ঘুমোন নি ?
” তুমি ঘুমোতে দিচ্ছো কই ?
” আমি আবার কি করলাম ?
” এইযে পাগল বানালে আমায় !

আজ পহেলা ফাল্গুন । আরো আছে , ভ্যালেন্টাইন আজ । কাপলদের ভালোবাসা দিবস । তবে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কম হলেও ভার্সিটি প্রাঙ্গণ আজ সেজেছে পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে ‌। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে এ দিনে । পড়াশোনার তাগিদে আসে নি কেউ । এসেছে উৎসবে মুখর হতে ।
সকাল এগারোটা । জমে উঠেছে উৎসব মুখরতা । ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে বেশ । ভার্সিটির মূল ফটক থেকে মঞ্চ অবধি, প্রবেশদ্বারেও আলপনা । চারুকলার আদলে তৈরি মূল মঞ্চ ।
খোলা আকাশের নিচে আয়োজন সবের । এলোমেলো সব শিক্ষার্থী । তবে যেনো বাসন্তী রঙের মেলা বসেছে ‌প্রাঙ্গন জুড়ে । সবার পড়নে এক থিম । রমনীদের লাল পাড় বাসন্তী শাড়ি , অন্যদিকে যুবকদের লাল পাঞ্জাবি । চোখ ঝলসায় এক রঙের ভীড়ে । এক সারিতে স্টল বিভিন্ন ।

মঞ্চে উদ্বোধনী নৃত্যের পরপর ভার্সিটির গেইট পেরিয়ে প্রফেসর আদ্রিয়ান কাবির আদ্রের গাড়ির আবির্ভাব ঘটে । দেরি করে ফেলেছে আসতে আসতে । পার্কিংয়ে গাড়ি পার্ক করে প্রথমেই নামলো আদ্র । পরক্ষনে ব্যাক সিট থেকে নামলো একে একে তিন রমনী । ইয়াং প্রফেসরের আগমনে গুটি কয়েক হরিণী দৃষ্টি নিমিষেই নিক্ষিপ্ত হয়েছে এদিকে । আদ্রের পড়নে ব্যাতিক্রম কিছু আজ । সবার সাথে মিলিয়ে না হলেও ফর্মাল ছেড়েছে আজ । পড়নে অফ হোয়াইট পাঞ্জাবি টানটান । গোছানো চুল সেটে রাখা অতি যত্নে । ঠিক যেনো ভীষণ পরিপাটি । বরাবর তেমনই সে । এ বেলাতেও তার অতুলনীয় পুরুষালি সৌন্দর্য আঁচড় কাটলো কিছু অঙ্গনার হৃদয়ে । কিছু জোড়া দৃষ্টি মূর্ত বনে গেলো ।

তিন রমনী শাড়ি পড়েছে । সাথে হিজাব আছে । হালকা পাতলা প্রসাধনীতে সজ্জিত মুখাবয়ব । আদ্র অপরাপর কারোর দৃষ্টি তোয়াক্কা করলো না । রমনীদের কাছে এসে ঠান্ডা স্বরে বলল…
” ঠিক আছিস , প্রবলেম হচ্ছে না তো ?
মাথা নাড়ালো তিনজন । আদ্র ইশারা করতেই শাফাহ্ আর মেঘা এগিয়ে যায় । শিশির বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে । কেমন খচখচ লাগছে শাড়িতে । তার উপর সবার দৃষ্টি এদিকে বুঝে সে তড়িঘড়ি করে আদ্র কে পাশ কাটাতে চাইলো । তৎক্ষণাৎ ভেসে আসলো মোলায়েম কন্ঠ……
” শাড়ি সামলাবে । আর নিজেকেও । এভাবে মুখ কালো করে আছো কেনো ?
শিশির থামে । ঘাড় না ঘুরিয়ে জবাব দেয়…
” তেমন কিছু না । আমি আসছি । দেখছে সবাই ।
তড়িতে প্রস্থান করলো সে ।

পেরিয়েছে কিছুটা মুহুর্ত । মঞ্চের নিচে টিচার দের বসার জায়গা । মাথার উপর সূর্যের মিঠে রোদ ।
পেছনে সারি সারি আরো চেয়ার । নাচগান শেষে রম্য নাটিকা হচ্ছে । আদ্রের ধ্যান নেই সেদিকে । এক মনে পায়ে পা তুলে বসে ফোন টিপছে সে । শিশির, শাফাহ্ আর মেঘা , ওরা ফটো বুথের দিকে ছবি তুলছে টুকটাক । এমন সময় ওদের কাছে ফারিনের আগমন । সাথে আরো দুজন । ভারী মেকআপের ঠেসে মুখ শক্ত করে রেখেছে । কড়া দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষক করছে শিশিরকে । কে এই মেয়ে ? এতো গায়ে পড়া কেনো ? রোজ রোজ আদ্রের গাড়ি থেকে নামে কেনো এই মেয়ে ? আর সবসময় চিপকে থাকে মেঘা আর শাফাহ্’র সাথে । বিয়ে তো হয়েছে , তবুও আদ্রের পিছু ছাড়ে নি ও !
ফারিন এসেই দাঁত পিষে হাসলো জোর পূর্বক ।

” মেঘা, শাফাহ্ , কেমন আছো তোমরা ? আজকাল ভার্সিটিতে আসো না তেমন ! কেনো ?
শাফাহ্ চরম বিরক্ত হলো । বললো মেকি স্বরে….
” এমনি গো‌, বিয়ে ছিলো বাড়িতে !
ফারিন চকচকে চোখে প্রশ্ন করে….
” কার বিয়ে ?
” তোমার না হওয়া সতিনের !
থতমত খেলো ফারিন । মেঘা ফিক করে হেসে উঠলো । আর বেশি কিছু বলার আগেই শিশির ইঙ্গিতে চুপ করালো শাফাহ্’কে ।
” মানে ?
আগ বাড়িয়ে উত্তর করে শিশির….
” তেমন কিছু না ফারিন । তুমি বলো , কেমন আছো ? বেশ সুন্দর লাগছে তোমায় ।
” আমি সুন্দর , সুন্দরকে তো সুন্দর লাগবেই ।
বেশ ঠেস দেওয়া কথা । মুখ কুঁচকে ফেললো শিশির । মেঘা দুজনের হাত চেপে ধরে । হেসে বলে…..

” হোয়াটেভার,, আমরা স্টেজের দিকে যাই । বায়….
বলেই চলে গেলো সে ।
ফারিন গজগজ করলো । মঞ্চের দিকে সবার বেগতিক চলাফেরা । একপাশে বসলো তিনজনে ।
শিশির এদিক ওদিক তাকায় । মিষ্টি খেয়েছে আসার পর । পানি খাওয়া হয় নি । ডানদিকে জুসের স্টল । শিশির উঠে দাঁড়িয়ে বললো…..
” তোরা বস , আমি একটু পানি খেয়ে আসছি ।
শাফাহ্ আবদার ছুড়লো……
” আমার‌ জন্যেও একটু নিয়ে আসিস প্লিজ । উঠতে পারবো না ।

মুচকি হেসে সায় দিয়ে চলে গেলো শিশির । তৃষ্ণা মিটিয়ে শাফাহ্’র জন্য একটা আলাদা বোতল নিয়ে পিছু ফিরলো । কুঁচি সামলে এক পা বাড়ালো সবে । দ্বিতীয় পা বাড়ানোর আগেই পা জড়ালো কোনো কিছুতে । শাড়ির সাথে তালগোল পাকাতেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না শ্যামলিনী । সবার সামনেই ধপ করে পড়লো মাটিতে । হাতের বোতলটা ছিটকে পড়লো সামনের দিকে । বেকায়দায় শক্ত খিটখিটে মাটিতে পড়ার সাথে সাথে ঝরঝর করে ভাঙলো কব্জির কাঁচের চুড়ি গুলো । ব্যাথায় আহ্ সূচক আর্তনাদে কুকিয়ে উঠলো মেয়েটা । পেছন থেকে চিকন হাসির শব্দ শোনা যায় । কন্ঠটা পরিচিত । আর এভাবে হুট করে পড়ে যাওয়ার হেতুটাও আন্দাজে ধরা দিলো । তবে তৎক্ষণাৎ শিশিরের মস্তিষ্ক কাজ করলো না । খিচে নিলো দু’চোখ ।
ওর কুকিয়ে ওঠার শব্দে মেঘা ধক্ করে ওঠে , গলা চিরে ডেকে ওঠে….

” শিশির !
ছুটে যায় দুই রমনী ।
কিছুটা ভিড় জমে সেখানে । হইহই আওয়াজে চোখ কুঁচকে পিছু ফেরে আদ্র । সকলের গায়ের ফাঁক গলিয়ে শিশির কে দেখে ছ্যাত করে ওঠে ।
উঠে দাঁড়িয়ে এলোমেলো কদমে ছুটে যায় ।
রমনীকে মাটিতে অমন অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখে যেতে যেতেই দূর হতে গলা ছাড়ে…..
” শিশির,,, হোয়াট হ্যাপেন্ড ? আর ইউ ওকে ?
তার উচ্চ বাক্য । চকিতে সকলে তাকায় তার দিকে । সবার দৃষ্টি ছাপিয়ে আদ্র তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়ে শিশিরের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে । বাহুডোরে আগলে নেয় রমনীকে । চুড়ির কাঁচ ভেঙ্গে হাতে ফুটে গেছে । ব্যাথার সাথে সাথে লজ্জায় মুখ নামিয়ে খিচে নিয়েছে শিশির । আদ্র বিচলিত হয়ে পড়লো……

” শিশির ,, কি হয়েছে ? পড়লে কি করে তুমি ? দেখি , ব্যাথা পেয়েছো ?
সবার দৃষ্টি চড়কগাছ । শিশিরের খুব কাছে আদ্র । এমনকি রমনীর বাহু জড়িয়ে নিয়েছে সে । বড় সড় বাজ পড়লো সবার সামনে । গুরুগম্ভীর প্রফেসর আদ্রিয়ান কাবির আদ্র একটা সাধারণ মেয়েকে এভাবে আগলে নিয়েছে ? তাও কি না নিজের স্টুডেন্ট কে ? এতোটা বিচলিত তার হাবভাব ! মেয়েদের দৃষ্টিতে ঘোর । চমকানো অবিশ্বাস্য ভাবমূর্তি তাদের । শোরগোল পড়লো কিছুটা ।
শিশির আধো স্বরে নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে……
” আমি ঠিক আছি , স্যার । এ সময় ছাড়ুন প্লিজ । সবাই দেখছে । ভুল ভাববে আমাদের !
আদ্র শুনলে তবেই তো ! কব্জির কাছে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসেছে কয়েক ফোঁটা । আদ্র উঠে দাঁড়ালো । অতঃপর আলগোছে শিশির কে টেনে তুললো নিজ দায়িত্বে । মেয়েটার শাড়ি এলোমেলো । খুলে গেছে কুঁচি । আঁচল ও এলোমেলো । উদরের একাংশ বেরিয়ে এসেছে । তা লক্ষ্য করে তড়িঘড়ি করে শিশির কে নিজের দিকে টেনে আগলে নিলো আদ্র । উন্মুক্ত উদরে হাত চেপে ধরে আবডাল করলো ।

এতে হৈচৈ বাড়লো বই কমলো না । কানাঘুষো শুরু হলো প্রফেসরের এমন অস্বাভাবিক কান্ডে । মেয়েরা কিংকর্তব্য বিমূঢ় হলেও কানাকানি করতে ভুললো না ।
সবাইকে আরো তাজ্জব বানিয়ে আকস্মিক শিশির কে টেনে কোলে তুললো আদ্র । বজ্রপাত হলো যেনো । এবারে স্তব্ধ হয়ে গেলো পুরো ক্যাম্পাস । টিচার স্টাফদের নজর ও এদিকে । তবে খুব একটা প্রতিক্রিয়া নেই তাদের দৃষ্টিতে । শিশির এমন লজ্জা জনক পরিস্থিতিতে ভ্যাবাচ্যাকা খায় । চোরা চোখে এদিক ওদিক তাকিয়ে মুখ লুকিয়ে নেয় লোকটার গলার ভাঁজে । শাড়ির অবস্থা বেহাল । বলতেও পারছে না কিছু । তবুও জিভ নাড়ালো….
” কি করছেন ? সবাই দেখছে তো !

” দেখুক ! তবে শাড়ি খুলে গেছে , এটা না দেখুক । সেটা দেখবো কেবল আমিই ।
শিশির ভারী লজ্জায় মিইয়ে যায় । আদ্র নীরবে হাসে প্রত্যুত্তর করে । উপস্থিত সব স্টুডেন্টের ভ্যাট ভ্যাটে দৃষ্টি দেখে চোখ কুঁচকায় । পা বাড়ানোর আগেই বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করে…..
” স্টুডেন্ট’স ,,, ওয়াট ইজ দেয়ার টু লুক অ্যাট লাইক দ্যাট ? আই’জ ডাউন, অল অফ ইউ ! সি ইজ মিসেস আদ্রিয়ান কাবির ! মাই প্রিটিয়েস্ট ওয়াইফ ।
আর থামলো না । গটগটিয়ে চলে গেলো নিজের একান্ত অফিস রুমের দিকে । পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রেখে গেলো দমে যাওয়া এক নিস্তব্ধতা । সকলের মুখ পুরো দেখার মতো । বিশেষত মেয়েদের । ছেলেরা মেয়েদের দশা দেখে হাসছে মিটিমিটি ।‌ ফারিন তাজ্জব । চোখ ছানাবড়া ,, হা বনে গেছে পুরো । মুখে মাছি ঢুকবে সময়ের ব্যবধানে । অস্ফুটে অবিশ্বাসে উচ্চারণ করলো…..
” শিশির, আদ্র স্যারের ওয়াইফ ? সিরিয়াসলি ? হাউ ইজ ইট পসিবল ?
মেঘা আর শাফাহ্ হাসে আনমনে ।
আদ্র শিশির কে নিয়ে করিডোর পেরিয়ে অফিস রুমে ঢুকেছে । ডোর চাপিয়ে শিশির কে ডেস্কের উপর নামিয়ে বসালো । মেয়েটার চিবুক গলায় মেশানো । গাল দুখানি টুকটুকে লাল । আদ্র চোখ সরু করে পর্যবেক্ষণ করে । জানতে চায় ভারী গলায়……

” পড়ে গেলে কি করে ?
শিশির জানা সত্ত্বেও চেপে গেলো সবটা । কাঁচুমাচু হয়ে মিথ্যে বললো….
” জানি না । শাড়িতে পা জড়িয়ে গেছিলো হয়তো ।
কিন্তু আপনি এটা কি করলেন ? সবাই কি ভাবলো ?
” ভুল ভাবলেও ভুল ধারণা মিটিয়ে এসেছি । তুমি যে আমার বউ , সেটা জানিয়ে এসেছি !
চোখ তুললো শিশির ।
” বাকিদের কথা ছাড়ুন , টিচার’রা কি ভাবলেন ?
” তারা সবাই আগে থেকেই জানেন । তোমাকে বিয়ে করার পর পরই জানিয়েছি ।
শিশির অবাক হলো ।
একজন স্টাফ এসে ফার্স্ট এইড বক্স দিয়ে যায় । শিশিরের কব্জির কাছটায় গড়িয়ে পড়া রক্ত মুছে আলগোছে মলম লাগিয়ে দিলো আদ্র ।
অতঃপর পূর্ণ ধ্যান দিলো শ্যামলিনীর পানে । পড়নের শাড়ির বেহাল দশা দেখে কোমরে হাত ঠেসে তপ্ত শ্বাস ফেললো । বললো…..

” নেমে এসো ।
শিশির নেমে দাঁড়াতেই গুঁজে রাখা কুঁচি খুলে পড়ে মেঝেতে । আঁচলের অবস্থা নাজেহাল । পুরো শাড়ি এলোমেলো । নিজের এমন বেগতিক অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে ঝট করে আদ্রের দিকে চায় শিশির । অমনি চোখাচোখি হয় । আদ্রের অদ্ভুত দৃষ্টি । শিশির ঝটপট আঁচল সামলায় । চোখ নামিয়ে শুল্ক ঢোক গেলে । বলে জবানের বাঁধ ঠেলে…..
” আ….আমি শাড়ি ঠিক করে নিচ্ছি । আপনি চোখ সরান ।
মিটিমিটি হাসলো আদ্র । চোখ সরাতে নারাজ সে । ঠোঁট বাঁকালো । ভরা দৃষ্টিতে আগাগোড়া পরখ করলো শিশিরের । কেমন মিইয়ে গেছে মেয়েটা । লজ্জায় নত শরীর ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭

অবস্থা আসলেই নাজেহাল । এলোমেলো দৃষ্টি আদ্রের । সে নিজেও অস্বস্তি বোধ করলো এক পর্যায়ে । বেসামাল হচ্ছে না তো আবার ? গলা শুকিয়ে আসতেই ভেজালো ঢোক গিলে । অধর ভিজিয়ে হুট করেই এগিয়ে গেলো । ঝট করে পেছালো শিশির । ডেস্কের সাথে বারি খেলো থামলো । তড়াক করে দৃষ্টি তোলা মাত্রই দেখলো , আদ্র অনেকটা হেলে এসেছে ওর দিকে । শিশির কে বন্দি করে নিজের দুহাত ডেস্কের দুদিকে ঠেসে ধরলো সে । পরপর ঢোক গিলে কেমন অদ্ভুত স্বরে বলল…..
” তোমাকে শাড়ি ঠিকমতো সামলাতে বলেছিলাম , বেয়াদব ! আমাকে বেসামাল করতে বলিনি ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৯