Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭
সুরভী আক্তার

রাত্রি দুটো বেজে চল্লিশ মিনিট ।
মেঘা কে পাশে বসিয়ে শুনশান রাস্তায় ধীর গতিতে ড্রাইভ করছে রৌদ্র । মাঝরাত, জনবহুল রাজধানী নীরব ‌। রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য । এধার ওধার গুটি কয়েক গাড়ির চলাচল । নিঃশব্দে চলছে সবে ‌।
এই মধ্য রাতে মেঘা কে ঘুম থেকে তুলে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে সে । ঘুমে টাল একবিংশী । আচ্ছন্ন দুচোখ । পুরোপুরি বেঢাল হয়ে পড়ে আছে সিটে গা এলিয়ে । দুবার জিজ্ঞেস করেছে কোথায় যাওয়া হচ্ছে , রৌদ্র উত্তর করে নি । এদিকে শান্তি হচ্ছে না ‌। কোনো রকমে টেনে টুনে চোখের ভার পাপড়ি যুগল ফাঁক করলো মেঘা । নিভু নিভু চোখে জানালা ভেদে বাইরে তাকালো একবার । অতঃপর ঘাড় ঘুরিয়ে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আধো আধো স্বরে জানতে চাইলো তৃতীয় বারের মতো……

” কোথায় যাচ্ছি আমরা ?
” গেলেই দেখতে পাবে !
” বলুন না , কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন এতো রাতে ? ঘুম পাচ্ছে আমার । ঘুমাবো । এভাবে বসে থেকে আরাম পাচ্ছি না একটুও ।
কিছুটা বিরক্তি মাখানো স্বর । রৌদ্র শান্ত চোখে তাকালো । এক হাতে স্টিয়ারিং সামলে মুচকি হেসে অপর হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো ঠান্ডা স্বরে….
” বুকে এসো তাহলে…..আরাম পাবে ।
রমনীর আধো চোখ জোড়ায় এক পশলা হাসি খেলে গেলো এহেন কথায় । ঠোঁট ঠেলে চমৎকার হাসলো সে । মুহুর্ত পার করলো না । দ্রুত ডান দিকে সরে আসলো । রৌদ্রের বাহুডোরে সঁপে দিলো নিজেকে । বেশ আয়েশ করে শরীর এলিয়ে দিলো বেপরোয়া যুবকের বুকের বাম পাশে । বেশ অদ্ভুত ভাবে প্রশান্তি খুঁজে পেলো সে । গা ম্যাজ ম্যাজে বিরক্তি টুকু মিলিয়ে গেলো নিমিষেই ।
রৌদ্র পরম আবেশে নরম হাসে । হীম হয়ে যায় বক্ষস্থল । আজকাল মেঘা বড্ড প্রশ্রয় দেয় ওকে । এই প্রশ্রয়ের সঠিক ব্যাবহার করাটা উচিত নয় কি তার ?
রৌদ্র আলগোছে ওর কাঁধ জড়িয়ে নিলো । চেপে ধরলো বুকের মাঝে । আলতো করে চুলের ভাঁজে ঠোঁট ছোঁয়ালো । মেঘা আরামে চোখ বুজে নেয় ।
কিছু সময়ের মধ্যে ওদের গাড়িটা এসে থামে সিরাত দের নতুন ফ্ল্যাটের সামনে । এ বাড়িতে কেউ নেই । ইভেন্টের জন্য কাবির ম্যানসনে গিয়েছিলো আহিয়ান আর সিরাত । আজ আর ফেরা হয় নি । থেকে গেছে ওখানেই ।
আসার আগে রৌদ্র চাবি নিয়ে বেরিয়েছে । গাড়ি পার্ক করে মেঘা কে ডাকলো আলতো স্বরে…..

” ইভারা !
” হু ?
” ওঠো , এসেছি !
” কোথায় ?
” আপুর ফ্ল্যাটে ।
মেঘা চোখ খোলে । বোধ পায় না কিছু বলার । গাড়ি থেকে নেমে মেঘা কে নামালো রৌদ্র । টলছে একবিংশী । রৌদ্র ঝুঁকি না বাড়িয়ে ওকে চট করে কোলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দিকে হাঁটা ধরলো । মেঘা কেবলই মিঠে হাসে ।
চাবি ঘুরিয়ে বাড়িতে ঢুকলো ওরা । মেঘা কে বেসিনের সামনে নামিয়ে দিয়ে রৌদ্র বলে……
” চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে নাও একটু ।
তাই করলো মেঘা । ঠান্ডা পানির ঝাপটায় ঘোর কেটেছে অনেকটা । মুখ মুছতে মুছতে বললো হাই তুলে…..

” এই রাতে এখানে আসলাম কেনো ?
রৌদ্র হাসলো এক গাল…
বেশ নরম হাসি । অবসাদ কিছুটা ।
” বাড়িতে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো । তাই….
” তাহলে আমাকে নিয়ে আসলেন কেনো ?
” তোমার কাছে আমার অক্সিজেন খুঁজে পাই । তুমি না থাকলে দম নেবো কিভাবে ?
” বড্ড কথা শিখেছেন রাইনো মুখো । শুকনো কথায় পেট ভরবে না । খিদে পেয়েছে আমার !
চোখ কুঁচকায় রৌদ্র ।
বিরক্তি আসে না একবিন্দুও ।
” ওয়েট, কিচেনে কি আছে দেখছি ।
সে চললো কিচেনের দিকে । পিছু নিলো মেঘা ।

সিরাত’রা সেই গত পরশু ও বাড়িতে গেছে । তালাবদ্ধ করে রেখে গেছে এ বাড়ি । ফ্রিজে ফ্রেশ কোনো খাবার নেই । ফ্রুট আছে টুকটাক । খিদে পেটে সেসবে রুচি কুলালো না । ম্যাগি আছে কেবিনেটে । মাঝরাতে মেঘার এটা খাওয়ার অভ্যাস আছে , রৌদ্রের জানা এটা ।
সে লেগে পড়লো ঝটপট ম্যাগি তৈরিতে । মেঘা বাঁধা দিলেও শুনলো না । বরং মেঘাকে তুলে পা ঝুলিয়ে কেবিনেটের উপর একপাশে বসিয়ে দিলো ।
সে রাধতে পারে একটু আধটু । তবে ম্যাগি বানানো হয় নি কখনো । তবুও দক্ষ হাতে সবটা করতে পারছে । শিখিয়ে দিচ্ছে মেঘা । রৌদ্র ওকে হাত লাগাতে দেয় নি । কেবলই নির্দেশনা নিয়েছে । দশ মিনিটের ব্যাবধানে ওদের রান্না শেষ ।

এ বাড়িতে মোটে চারটা ঘর । নিচ তলায় ড্রইং রুমের পাশাপাশি একটা ঘর আছে । আর দোতলায় বাকি তিনটে । ঘরে না গিয়ে ড্রইং রুমে টিভি ছেড়ে সোফায় পায়ে পা তুলে বসলো মেঘা । পাশে রৌদ্র । সে খাবে না । মেঘা একাই খাচ্ছে । দৃষ্টি টিভির পর্দায় । খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে রৌদ্রের কাঁধে মাথা এলিয়ে দিচ্ছে বারংবার । রৌদ্র বেশ চিন্তিত । খচখচ করছে কিছু একটা নিয়ে । মন নেই আশেপাশে কোথাও ।
মনে ঘুরছে হাজারো উল্টো পাল্টা চিন্তারা । পুরো ওলট পালট করে দিচ্ছে বেপরোয়া যুবককে ।
মনের চিন্তা মনে রেখেই দুদিকে মাথা নাড়ায় রৌদ্র । চোরা চোখে মেঘার নরম নির্ভেজাল মুখাবয়বের দিকে তাকায় । রমনী আপন মনে খাচ্ছে । সে তো সবে মানতে শুরু করেছে রৌদ্র কে । রৌদ্র যদি ভুলচুক করে ফেলে , তাহলে মেঘা ওকে ভুল বুঝবে । না না , রৌদ্র এমনটা করতে পারে না ।
সে বিড়বিড় করে দুদিকে মাথা নাড়ালো অনবরত । তার বিড়বিড়ানো মেঘার কানেও পৌঁছেছে । খাওয়া ফেলে নুডলসের বাটি সামনে রাখলো রমনী । পূর্ণ ধ্যান দিলো রৌদ্রের দিকে , সন্দিহান হয়ে শুধালো……

” রাইনো মুখো, কিছু বললেন আপনি ?
” হু ? একটা কথা বলি ?
” হাজারটা বলুন !
” আমার সাথে যাবে ?
” কোথায় ?
” অনেক দূরে ! যেখানে পরিচিত কেউ থাকবে না, কেউ চিনবে না তোমায়–আমায়,, তোমাকে আমার থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য কেউ থাকবে না সেখানে , কেবল তুমিই আর আমি থাকবো ,,, যাবে আমার সাথে এমন কোথাও ?
সুইজারল্যান্ড ? যাই ওখানে ? ওখানে সব আছে ! শুধু তোমার অভাব । আমরা থাকবো ওখানে ! একলা থাকবো । কোনো ভাগিদার থাকবে না । সম্পুর্ন তুমি শুধু আমার হয়ে থাকবে ওখানে । পুরো একটা সংসার আছে তোমার । সব সাজানো , সাজিয়েছি আমি । যা যা বাকি আছে , সব এনে দেবো তোমায় । যা চাইবে, যেভাবে চাইবে , সেভাবে চলবো । বাধ্য হয়ে তোমার কথা শুনবো । তবুও একটাবার আমার কথা শোনো । চলো আমার সাথে ।

” আমি তো আপনার সাথেই আছি এখনো । এই দেখুন , আপনার কাছে । খুব কাছে আছি । অদূরে যাওয়ার প্রয়োজন কি ? এখানে আমাদের সবাই আছে । মা-বাবা, মনি-বাবাই , ভাইয়া,শাফাহ্, শিশির, মেহের আপু , আরো সবাই । এদের ছেড়ে অতদূরে যাবো কেনো আমরা ?
” ওখানে না গেলে যদি এখান থেকেও হারিয়ে ফেলি তোমায় , তখন ?
” কিসব পাগলামো করছেন সেই থেকে ? কোথায় হারাবেন ? কোথায় যাবো আমি আপনাকে ছেড়ে ? বলেছি তো যাবো না কোথাও । তবুও কেনো করছেন এমন ? এইতো কাছে আছি , আর থাকবো সারাজীবন !
রৌদ্র পাল্টা কিছু বললো না ।
শুল্ক ঢোক গিললো । ঘাম ছুটছে চিবুকের ধারে । মেঘার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলো সে । রমনী ওর বাহু জড়িয়ে রেখেছে , রৌদ্র ওর থেকে ছাড়িয়ে নিলো নিজেকে । দূরত্ব বাড়িয়ে লম্বা শ্বাস টেনে বললো….

” ঘুমাও গিয়ে !
” আর আপনি ?
” আছি এখানে , একটু পর আসছি । তুমি রুমে যাও ।
” রাগ করলেন ?
” উহু ! রাগের কোনো কারন নেই !
” তাহলে দূরে গেলেন কোনো ? এভাবে কথা বলছেন কেনো ?
” ইভারা , প্লিজ উপরে যাও । তোমার থেকে একটু দূরে থাকা প্রয়োজন এ সময় । শোনো আমার কথা ।
মেঘা শুনলো না । বরং জেদ খাটিয়ে আরো কাছ ঘেঁষে সেখানেই বসে রইলো । রৌদ্র ওর থেকে দূরত্ব বাড়ায় আবার । ফাঁক হয়ে বসে ‌। তা দেখে কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ে একবিংশীর । ওষ্ঠ উল্টে আবার কাছে যায় । রেগে বলে….

” হয়েছে টা কি ? বারবার দূরে যাচ্ছেন কেনো ?
” কাছে যাওয়া টা মঙ্গলজনক হবে না তোমার জন্য । রুমে যেতে বলেছি , যাও ।
” উঁহু , যাবো না । আপনার সাথেই থাকবো আমি ! ভয় পাচ্ছেন আমাকে হারানোর , তাহলে কাছে আসছি বলে সরিয়ে দিচ্ছেন কেনো ?
রৌদ্র সংযত থেকে চোখ নামায় । পরপর ঢোক গেলার সাথে সাথে কন্ঠ মনির বিচরণ হয় উপর নিচ ।
” এভাবে বারবার কাছে আসছো যে , ভুল করেও যদি নিয়ন্ত্রণ হীন কোনো ভুল করে ফেলি , তাহলে ভুল বুঝবে আমায় ! আর সেই ভুল বোঝাবুঝির জেরে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে । আমি চাই না তুমি আমায় ছেড়ে যাও । নিয়ন্ত্রণে আছি , থাকতে দাও । যাও তুমি ! নয়তো অঘটন ঘটে যাবে ! বাড়ি ফাঁকা, অঘটন দেখা বা আটকানোর কেউ নেই ।
ঠোঁট কাটা কথায় মেঘা আকস্মিক একটুখানি লজ্জা পেলো । আলগোছে মাথা নামিয়ে রৌদ্রের বুকের বা পাশে রাখলো । চোখ বুজে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো…..

” বুঝবো না ভুল !
চোখ সরু করে রৌদ্র । এই মেয়ের মতিগতি দূর্বোধ্য । নাকি বুঝেও অবুঝ রৌদ্র ?
” তুমি কি ইন-ডাইরেক্টলি আমাকে উস্কে দিচ্ছো ? চাইছো ভুল করি ?
মেঘা নিরুত্তর । মুখ লুকিয়ে সিটিয়ে গেলো আরো বেশি । লাজুকতার আবরনে ঢলে পড়লো তার নির্মল কায়া । রৌদ্র নিরব সম্মতি পায় । হাসে ওষ্ঠ পিষে । হাস্কি টোনে ধীরে ডাকে ফিসফিসিয়ে…..
” সুইটহার্ট ?
” হু !
” ডু ইউ ওয়ান্ট মি ?
একটু থামলো ,, নিজেকে শুধরে বললো…..
” উঁহু , ভুল মানুষ একবারই করে । আজ আর জিজ্ঞেস করবো না । পালাতেও দেবো না কিন্তু । জেনে বুঝে কাছে আসো , নয়তো ফল ভালো হবে না । বলে রাখলাম….
নীরব হুমকি তার । ভড়কায় একবিংশী । দ্রুত সরে আসে রৌদ্রের থেকে । উঠে দাঁড়িয়ে ঘন পলক ফেলে এপাশ ওপাশ । ঠোঁট ভিজিয়ে চটপট স্বরে আমতা আমতা করে বলে……
” আ….না ,,,,, আমি ঘুমাবো । উপরে যাচ্ছি ।

সে এলোমেলো কদম বাড়াতে নিলো । এক কদম এগোলেও দ্বিতীয় কদম মেঝেতে পড়লো না । তার আগেই টান পড়লো হাতে । কেবল তাতেই শেষ নয় ‌। হেঁচকা টানে মেঘা কে সোফায় এনে ফেললো রৌদ্র । হুবড়ি খেয়ে টাল হারিয়ে পড়লো রমনী । তুলতুলে তুলোয় তলিয়ে গেলো তার ছিপছিপে নারী তনু । তিরতির করে কেঁপে উঠলো সাথে সাথে । তড়াক করে বড় বড় চোখে চাইলো । মুহুর্ত বিলম্ব হলো না । রৌদ্র ওর খুব কাছে চলে যায় । ঝুঁকে পড়ে মেঘার দিকে । ভয়ে শুল্ক ঢোক গেলে রমনী । চিবুক নুইয়ে গলায় মেশায় । শিহরণ বয়ে যায় তার সর্বাঙ্গে । রৌদ্র তর্জনী দিয়ে তার নোয়ানো চিবুক উঁচিয়ে ধরে , আধো কাতর স্বরে জানতে চায়….

” সত্যি ঘুমাবে ? আজ না ঘুমালে হয় না ? রোজ তো ঘুমাও ।
মেঘা স্তব্ধ । বাকরুদ্ধ হয়ে থ বনে চেয়ে আছে । একই ঘোরে মশগুল হলো সে নিজেও , এক দৃষ্টি তার । তবুও নিজেকে ধাতস্থ করে রৌদ্রের ক্রুর মুখাবয়ব দেখে ভীত স্বরে ঠোঁট নাড়ায়…..
” ক…কি করছেন ?
” জানি না । শুধু জানি প্রশ্রয় দিয়েছো তুমিই , আগ বাড়িয়ে এসেছো নিজেই । আমি কেবলই প্রশ্রয়ের সঠিক ব্যাবহার করবো । রাইট নাউ , আই নিড ইউ ডেসপারেটলি…
আই কান্ট কন্ট্রোল মাইসেলফ ।
মেঘা ভড়কায় । শুকিয়ে যায় কন্ঠনালি । রৌদ্রের দৃষ্টি অদ্ভুত । মারাত্মক ঘোর সেখানে । হাঁসফাঁস তার অবস্থা । রমনী কুল কিনারা হারায় । খুঁজে পায় না দিশা ! রৌদ্রের বুকে হাত ঠেসে আলতো ধাক্কা দেয় , ভেজা কন্ঠ চিরে বুলি ফুটায় জোর পূর্বক……

” রৌদ্র ,, না প্লিজ ।
” ইভারা , প্লিজ !
কন্ঠ ভীষণ কাতর । তীব্র আকাঙ্ক্ষা উপচে পড়ছে । শেষ মুহুর্তেও নিজেকে সংবরণের যথেষ্ট চেষ্টা চালিও ব্যার্থ হলো বেপরোয়া যুবক । আর সম্ভব নয় ।
” আমাকে আগে আবার বিয়ে করুন তারপর !
রৌদ্র কে রুখতে নিরর্থক বাহানা বোকা নারীর । ঝটপট পাল্টা তাড়াহুড়ো প্রত্যুত্তর রৌদ্রের জবানে…..
” কাল আবার বিয়ে করবো , প্রমিস ! বাট নাউ আই নিড ইউ ।
” আ…আমি এখনো প্রস্তুত…
” ইভারা,, প্লিজ জানপাখি…..

কথা শেষ হওয়ার আগেই পরম উৎকণ্ঠিত ডাকে দমে যায় একবিংশী । নতুবা রৌদ্র কে দমানোর সাধ্য নেই তার । শক্তি নেই ক্ষণ মাত্র । হার মেনে নেয় সে । শুল্ক ঢোক গেলে কেবলই । রৌদ্র ঝুঁকে ওর মসৃন কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় উন্মাদনা সামলে । নাকের ডগায় জমা বিন্দু বিন্দু নোনা জল কনা শুষে নেয় গাড় চুম্বনে । নাকফুল সহ আঁখি লতার সেই কাঁটা দাগে ঠোঁট ছোঁয়াতে ভোলে না । একে একে দুচোখের পাতা, ছাপিয়ে পুরো মুখশ্রী জুড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরশ বুলিয়ে যায় বেপরোয়া যুবকের নিয়ন্ত্রণ হীন অধর । মেঘা সুপ্তানুভুতিতে চোখ খিচে নেয় ‌। দম নিতে ভুলে যায় সে । লাল হয়ে ওঠে দুধে আলতা মুখাবয়ব । তা দেখে এক পর্যায়ে থামে রৌদ্র । ধাতস্থ হয়ে গাঢ় দৃষ্টি স্থির করে একবিংশীর কম্পিত রক্তিম মুখাবয়বে । রমনীর আঁখি দ্বয়ের নেভানো পত্র যুগল কাঁপছে ঝিরিঝিরি ।
রৌদ্র নিঃশব্দে ঠোঁট ঠেলে হাসে মৃদুমন্দ । প্রেয়সীর গোলাপ বর্ন অধরের বাম কোণে শক্ত চুম্বন এঁকে কপালে কপাল ঠেকিয়ে প্রশ্ন সূচকে ফিসফিস করে…..
” অ্যাম আই কম্পেলিং ইউ ?
নেভানো পত্র যুগল টেনে হিঁচড়ে আলাদা করলো মেঘা । দমে রাখা শ্বাস টানলো ধক্ করে । সে এতক্ষণে সমর্পণ করে দিয়েছে নিজেকে ‌। তার দৃষ্টিতেও অবাধ্য ঘোর । কন্ঠ চিরেও টু শব্দও উচ্চারণ সম্ভব নয় । তাই , ঢোক গিলে আশকারা সূচকে না বোধক মাথা নাড়ালো সে । বিপরীতে ক্রুর হাসে রৌদ্র । সায় পায় । অবাধ্য হয় চূড়ান্ত । রমনীর সুঢৌল গলার ভাঁজে মুখ গুজে হাস্কি টোনে বিড়বিড়ায়…..
” সরি সুইটহার্ট । খুব বেশি অবাধ্য হবো আজ ।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের দূরত্বে জন্মানো সব অভিমান, অভিযোগ, ঘৃণার দেওয়াল ভেঙে চূর্ণ হয় বেসামাল রৌদ্রের নিবিড় ভালোবাসার জোয়ারে ।

সকাল আটটা । নিচে সবাই উপস্থিত খাওয়ার টেবিলে । ইয়াশ গেস্ট রুম থেকে বেরিয়েই আদ্রের মুখোমুখি হয়েছে । আদ্র ওকে দেখে এক ফালি হাসে….
” গুড মর্নিং ইয়াশ ।
” মর্নিং !
” তোমার সাথে তো কথা হলো না সেভাবে । রাতে প্রবলেম হয় নি তো ?
” উঁহু ।
” নিচে চলো , ব্রেকফাস্টের সময় হয়েছে ।
” যাও , যাচ্ছি ।
ইয়াশের ছোট ছোট উত্তর । আদ্র ওর অস্বস্তি বুঝে বেশি কথা বাড়ালো না ।
সে প্রস্থান করতেই করিডোর থেকে নিচে তাকায় ইয়াশ । চোখ ছোট করে সবাইকে অবলোকন করে । মেঘা নেই , আর না রৌদ্র । পাশ ফিরে মেঘার রুমের দিকে তাকালো । দরজা চাপানো । হয়তো এখনো ঘুম থেকে ওঠে নি । শ্বাস ফেলে মেঘার রুমের দিকে এগোয় সে । দরজার কাছে থেমে কড়া নাড়ে….

মিনিটের মাথায় চাপনো দরজা খুলে বেরিয়ে আসে শাফাহ্ । ঘুম ঘুম চোখে কপালে বিস্তর ভাঁজ ফেলে বিরক্ত নিয়ে সম্মুখ পানে তাকায় চঞ্চলা রমনী । ইয়াশ কে দেখে অকস্মাৎ শিথিল হয় ললাটের ভাঁজ । থতমত খায় কিছুটা । ভ্যাবাচ্যাকা স্বরে বলে…..
” আ.. আপনি ?
ইয়াশের চোখ সরু । না চাইতেও শাফাহ্’র দিকে আগাগোড়া নজর বুলিয়ে নিলো । কি এলোমেলো একটা মেয়ে ! রাতে ঘুমিয়ে ছিলো , নাকি যুদ্ধ করেছে কে জানে ? কি উস্কো খুস্কো চুলগুলো । এলোমেলো গায়ের পোশাক । নজর সামলে নেয় যুবক । কড়া কন্ঠে বলে…..
” মেঘা কোথায় ? ওঠে নি ?
শাফাহ্’র ধ্যান ভাঙ্গে । কেমন আহম্মক হয়ে ভ্যাট ভ্যাট তাকিয়ে ছিলো লোকটার পানে । কড়া কন্ঠে ঘোর ছুটে যায় । দ্রুত তাকায় ঘরের ভেতরে ‌। মেঘা নেই । বলে বোকার মতো…..

” মেঘা তো ঘরে নেই !
” ঘরে নেই মানে ? কোথায় ?
” তা তো জানি না । রাতে তো আমার পাশেই ছিলো । উঠেছে কি না দেখিনি ।
ইয়াশ চোয়াল খিচে নেয় । কান্ড জ্ঞান হীন একটা মেয়ে । ভীষণ বিব্রত হলো সে । কর্কশ স্বরে বললো দাঁত পিষে…..
” এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো তাহলে ? নিচে যাও , গিয়ে দেখো মেঘা কোথায় । খুঁজে পেলে বলবে আমি ডাকছি ।
শাফাহ্ চমকায় । ওকে উত্তর বা প্রস্থানের সময় সুযোগ না দিয়েই আবার ধমকায় ইয়াশ….
” কি হলো যাও !
” যাচ্ছি তো । এভাবে ধমকাচ্ছেন কেনো ?

শাফাহ্ ছটফট পায়ে নিচে নামলো । মেঘার খোঁজ করে দেখলো মেঘা বাড়িতে নেই । রুমে, ছাদে, বারান্দায় কোথাও নেই । ফোন ঘরে পড়ে আছে ।
এ কথা ইয়াশের কানে যাওয়া মাত্রই গুমোট ক্ষোভে ফেটে পড়লো সে । বুঝতে বাকি রইলো না কিছু । রৌদ্র ঘরে নেই , সেটা দেখেছে মেঘার খোঁজ করার পর পরই । ওদের সম্পর্কটা যে অনেক দূর এগিয়েছে , তাও বুঝতে বাকি নেই এতক্ষণে । কিন্তু এটা তো হতে দেওয়া যায় না । সে হতে দেবে না । কিছুতেই না । চোয়াল খিচে ঘরে পায়চারি করছে ইয়াশ । রাগে ফেটে যাচ্ছে মাথা । গজগজ করতে করতে কাউকে কল লাগিয়ে কানে ফোন চেপে ধরলো । ওপাশ থেকে রিসিভ হতেই চড়া গলায় এক প্রকার আদেশ করলো……
” আগামী কালের মধ্যে সব পেপার হাতে চাই আমি । চব্বিশ ঘন্টা , জাস্ট চব্বিশ ঘন্টা হাতে আছে আপনার । সব পেপার তৈরি করে যত দ্রুত সম্ভব পাঠিয়ে দেবেন ‌। যদি আজ সম্ভব হয় , তাহলে আজকেই । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই আইনি ঝামেলা চোকাতে চাই আমি । ব্যবস্থা করুন সবকিছুর ।

সকালের মিঠে রোদ বারান্দার ফাঁক গলিয়ে ঘরে এসে আছড়ে পড়েছে । ঝিরিঝিরি রোদের ঝলকানি । তীর্যক রশ্মি মেঝেতে ঢেউ খেলে চিকচিক করছে অর্ধচন্দ্রের ন্যায় । মৃদুমন্দ পবনে ঝাপটাচ্ছে বারান্দার পর্দা গুলি ।
একবিংশী এখনো ঘুমে বিভোর । রৌদ্রের লোমশ বুকের মাঝে সেপ্টে ঘুমিয়ে আছে সে । তার ভারী উষ্ণ শ্বাসে উত্তাল ঢেউ পড়ছে বেপরোয়া যুবকের বক্ষের অন্তরালে । ঘুম যে হরেছে তার চোখে । সারাটা রাত কেটেছে নির্ঘুম । ভোররাত থেকে এভাবেই একবিংশী রমনীকে শান্তনায় চেপে রেখেছে নিজের বুকের মাঝে । সে তো এখন ঘুমোচ্ছে আয়েশে । অথচ ঘুম কেড়ে নিয়েছে রৌদ্রের নেশাময় আঁখি যুগলের । তার খবর কি রাখে রমনী ?

রৌদ্র একাধারে নিজেকে সামাল দেয় ‌। রমনীর চুলের ভাঁজে আঙ্গুল চেপে আলগোছে হাত নাড়ায় । ক্ষণে ক্ষণে শক্ত চুমু আঁকে ঘুমন্ত মেমেটার কপালে, সিঁথিতে ।
ভেজা চুলে নাক ডুবিয়ে সুঘ্রাণ টানে বুক ভরে । এতে নিয়ন্ত্রণ হীন হয়ে পড়ে আরো বেশি । কি নেশা তার ! মদের নেশায় নেশাগ্রস্ত রৌদ্র কে পরিবর্তন করে নিজের নেশায় নেশাগ্রস্ত করে ছাড়লো এই মেয়ে ।
রৌদ্রের মনে পড়ে সেই প্রথম দিনের কথা , যেদিন সে মেঘা কে প্রথম দেখলো । কি পিচ্চি একটা ননীর পুতুল ছিলো তখন । আর এখন সেই ননীর পুতুল তার ঘরের ঘরনী ।
তার ভালোবাসায় সিক্ত অনুরাগিনী ।
এই মেয়ে এখন সম্পূর্ণ রুপে ওর নিজের ! একান্ত রৌদ্রের ! আর কোনো ফাঁক,পরোয়া নেই । বিরহের দূরত্ব ঘুচে গেছে পুরোপুরি । রৌদ্রের উত্তাল ভালোবাসার জোয়ারে স্বয়ংসম্পূর্ণ একবিংশী । এই সম্পুর্নাকে কোথায় লুকিয়ে রাখবে ও ? ইচ্ছে তো করছে বুকের মাঝে খুব করে মিশিয়ে নিতে । নিয়েছেও খুব করে । তবুও মন ভরে নি ।
মনকে শান্ত করতে নিষপিষ হাতের বাঁধন শক্ত করলো রৌদ্র । খুব নিবিড়তার গভীরতা বাড়িয়ে কঠিন ভাবে জড়িয়ে ধরলো মেঘাকে ।
এতে মেঘার বিভ্রান্তি হয় নিদ্রায় । শক্ত আলিঙ্গনে দম ফুরিয়ে আসে । চোখ মুখ কুঁচকে ঘুমের ঘোরে রেগে যায়….

” রাইনো মুখো ,, ব্যাথা পাচ্ছি তো !
তৎক্ষণাৎ বাঁধন আলগা করে রৌদ্র । হালকা করে জড়ায় । পিটপিট করে চোখ খোলে মেঘা । মাথা উঁচিয়ে রৌদ্রের দিকে তাকায় সরু নিভু চোখে । ঠোঁট কামড়ে হাসে রৌদ্র । বালিশ থেকে মাথা তুলে টুপ করে একখানা পরশ বোলায় একবিংশীর রক্তিম ওষ্ঠপূটে । পরপর আওড়ায় ঠান্ডা স্বরে…
” শুভ সকাল আমার হৃদয়েশ্বরী । প্রনয়ের প্রিয়সীনি । নতুন এই তৃপ্ত সকালে স্বাগত আপনাকে….
রৌদ্রের সাথে দৃষ্টি বিনিময় হতেই এক রাশ লজ্জা পেলো মেঘা । ধক্ করে উঠলো তার কোমল হৃদয় । ছলাৎ করে দৃষ্টি নামিয়ে লাজে রাঙা হয়ে মুখ লুকিয়ে ফেললো লোকটার গ্রীবার ভাঁজে । তৃপ্তিময় লজ্জায় রক্তবর্ণ ধারণ করলো একবিংশীর ফর্সা আদল । সংকুচিত হয়ে মিলিয়ে গেলো সে ‌। ঠোঁটে কুন্ঠিত হাসি ।
একবিংশীর এমন হ্রীকাতর বেহাল দশা দেখে আবেশে শীতল হাসলো রৌদ্র । বাম কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে বিড়বিড় করলো….
” লাভ ইউ সুইটহার্ট ! এন্ড থ্যাংক ইউ…এগেইন থ্যাংক ইউ ফর ফিলিং মাই হার্ট উইথ সাচ বিউটিফুল জয় !
একবিংশী ভারী বিড়ম্বনায় পড়লো লোকটার এমন আবেগঘন কণ্ঠে । ত্রপায় মিইয়ে গেলো পুরোপুরি । মুখ লুকিয়েই লোকটার উদরের ধারে শক্ত চিমটি কেটে বললো কোনো রকমে……

” অসভ্য, নির্লজ্জ, রাইনো মুখো, খবরদার আমার সাথে কথা বলবেন না । জানেন কি, আপনি একটা নির্লজ্জ লোক । আই হেইট ইউ…..
” বাট আই লাভ ইউ সভ্য মেয়ে । প্রমাণ দেই আরেকটু ? খুব আলগোছে ।
” খবরদার না ‌। দূরে যান !
” এ জীবনে আর দূরে যাচ্ছি না । বরং বারবার কাছে আসবো ।
মেঘা বিড়বিড় করে বকলো রৌদ্র কে । লোকটা তাকে নাজেহাল করে ছেড়েছে । লজ্জার আবডালে নিজেকে লুকিয়ে নিয়েছে রমনী । সে আর এই লোকের মাখো মাখো কথায় গলবে না কিছুতেই ।
রৌদ্র নিঃশব্দে হেসে এক পর্যায়ে দৃষ্টি ফেরায় দেয়াল ঘড়ির দিকে । সাড়ে দশটা প্রায় । সময় দেখে শুল্ক ঢোক গিললো । আর্দ্র স্বরে ডাকলো….
” কটা বাজে খেয়াল আছে ? উঠবে না ?
মেঘা ঝটপট মাথা তুলে ঘড়ির দিকে তাকায় । চক্ষু চড়কগাছ হয় অমনি । বাঁধন ছাড়িয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে ।

” এ কি,,, দশটা বেজে গেছে ! আর আমরা বাড়িতেও নেই । নিশ্চয়ই সবাই জেনে গেছে এতক্ষণে । রাইনো মুখো , আপনি আগে ডাকবেন না আমায় ?
ব্যাস্ত হয়ে পড়লো মেঘা । এদিকে ওকে উদগ্রীব দেখে মিটিমিটি হাসছে রৌদ্র । শাওয়ারের পর সিরাতের কাবাড থেকে একটা ড্রেস বের করে পড়ে নিয়েছে মেঘা । সিরাতের ড্রেস অনেকটা ঢিলে তার ছিপছিপে অঙ্গে । কাঁধের কাছটায় ঢিলে হয়ে খসে পড়ছে এক প্রকার । রমনীর উন্মুক্ত ফর্সা গ্রীবা দৃশ্যমান । দৃশ্যমান ফর্সা ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ গুলো । যা রৌদ্রের দেওয়ার উন্মত্ত ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে বসে গেছে এ বেলায় ।
ঘোরের বশে দেওয়া তৃপ্ত আঘাত । এখন সে আঘাতের চিহ্ন দেখে কিছুটা রাগ উঠলো নিজের প্রতি ।
অস্থির মেঘা কে টেনে কাছে আনলো । গলা থেকে জামাটা একটু নামিয়ে পূর্ন দৃষ্টিতে লক্ষ্য করলো । ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লালচে ক্ষতের উপর আরামে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো অপরাধী কন্ঠে….
” সরিই !
মেঘা খানিক লাজুক হাসে । চোখ নামিয়ে আবার চোখ তোলে । রৌদ্রের গলায় নজর দেয় । সেখানটায় তার দেওয়া কামড়ের দাগ গেঁথে নিয়েছে রৌদ্র । মেঘা সন্তর্পণে কালো ট্যাটু চিহ্নের উপর ওষ্ঠাস্পর্শ এঁকে নিজেও বলে মৃদুভাষী হয়ে……

” আমিও সরিই !
হেসে ওঠে রৌদ্র । মেঘা কে চেপে ধরে শক্ত করে চুমু খেয়ে বলে…..
” লাভ ইউ MP !
মেঘাও তাই করলো । তবে তার পরশ ছিলো আলতো । রৌদ্রের ঠোঁটজোড়ায় টুপ করে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো লাজুকতায় চোখ নুইয়ে…..
” লাভ ইউ ঠু , মাই LP ।

ওরা কাবির ম্যানশনে ফিরতে ফিরতে দুপুর গড়িয়েছে ।
ভয়ে বুক দূরু দূরু মেঘার । আনচান করছে ভীষণ । রৌদ্রের পিছু পিছু পা টিপে টিপে বাড়িতে ঢুকলো সে । লাঞ্চের পর ড্রইং রুমেই বসে আছেন সকলে । মেঘা সবাইকে একসাথে দেখে শুকনো ঢোক গেলে । লুকিয়ে যায় রৌদ্রের পিছে । রৌদ্রের শার্ট খামচে ধরে ওষ্ঠ উল্টায় । না জানি ওদের দেখে সবাই কি ভাববে !
মেঘা সবার মাঝে ইয়াশ কে খুঁজলো । পেলো না । তবে হাঁফ ছাড়লো এতে ।
রৌদ্রের ধুপধাপ পায়ের শব্দে সবার নজর পড়লো ওদের দিকে ‌। সিরাত ছিলো টেবিলের পাশে । চোখ বড় বড় করে তাকালো সে‌ । মেঘার পড়নে নিজের ড্রেস , আর রৌদ্রের পড়নে আহিয়ানের শার্ট প্যান্ট দেখে চরম আশ্চর্য ভাব ফুটলো মুখাবয়বে । মুখ ফাঁক হয়ে আসলো আপনা আপনি । বসে ছিলো , বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো । চোখে ফেললো ঘন পলক ।
সবার দৃষ্টি নিজের দিকে অনুমান করা মাত্রই ভড়কালো মেঘা । একটু দাঁড়িয়ে জড়োসড়ো হয়ে নখ খুঁটলো । চোখ তুলে তাকানোর হিম্মত পেলো না ভীত রমনী । অথচ সেই নির্লজ্জ লোকটার কোনো হেরফের নেই ।
মেঘা দাঁড়াতে পারলো না । সবার নজর থেকে বাঁচতে রৌদ্র কে ফেলে এলোমেলো কদমে ছুটলো সিঁড়ি বেয়ে ।
সিরাতের বুঝতে বাকি নেই । ফিক করে হাসলো সে । হাসি চেপে নিজেও পিছু নিলো মেঘার ।
রুবিনা কাবির চোখ সরু করে দেখলেন দু’জনকে । কন্ঠ চড়িয়ে ছেলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লেন…..

” দুটোতে কোথায় ছিলি সকাল থেকে ?
রৌদ্র হাসে অদ্ভুত । ওষ্ঠপূটে দাঁত চাপে ,, আঙ্গুলের ডগায় গাড়ির চাবি ঘুরিয়ে নির্লজ্জের ন্যায় গা ছাড়া জবাব দেয়……
” সকাল থেকে না তো, রাত থেকে ! দুটোতে মিলে আপুর ফ্ল্যাটে ছিলাম ।
ক্ষণকাল বাদ অর্থ বুঝে থতমত খেলেন ভদ্রমহিলা । চোখ নামিয়ে স্বামীর দিকে কটমট করে তাকালেন । আহম্মক বনলেন তোফায়েল কাবির । তার দিকে এভাবে রেগে তাকানোর কি আছে ? তিনি কি করলেন ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৬

স্বামীর ভ্যাট ভ্যাট দৃষ্টিতে ফোঁস করে শ্বাস ফেললেন রুবিনা কাবির । মুখ ফিরিয়ে হাসলেন বোধহয় । রৌদ্র এপাশ ওপাশ তাকায় , গলা উঁচিয়ে প্রশ্ন করে টেনে টেনে….
” মম , আদ্র কোথায় ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৮