Home ইশকে দে ফানিয়ার ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩২

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩২

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩২
মেহজাবিন নাদিয়া

যে মানুষকে তিনি বহু বছর আগে মৃত বলে জেনে এসেছেন, সে আজ রক্ত-মাংসের শরীরে তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে!দেলোয়ার ধীর পায়ে সোলেমান শেখের দিকে এগিয়ে গেলেন।ঠোঁটের কোণে ঝুলে আছে তার ক্রূর হাসি। সোলেমান শেখের ঠিক কানের কাছে মুখটা নামিয়ে অত্যন্ত নিচু, ফিসফিসানি কণ্ঠে তিনি বললেন,
_”অবাক লাগছে, তাই না? আমাকে জীবিত দেখে খুব চমকে গেছ দেখি?”
সোলেমান শেখ তখনো বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। তার স্তব্ধতার মাঝেই দেলোয়ার নিজের ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে একটা ‘চুপ’ করার মতো শব্দ করলেন। তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন,
_”আফসোস! এত তাড়াতাড়ি আমি মরতে পারলাম না।”
সোলেমান শেখ নিজের ভেতরের ভয়টাকে কোনোমতে আড়াল করে, গলা চড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
_”তোমরা এখানে আমাকে আটকে রেখেছ কেন? আমার সাথে তোমাদের কিসের শত্রুতা? আমাকে যেতে দাও এখান থেকে!”

পাশ থেকে আনতারা মৃধা এবার এগিয়ে এলেন। চোখের চাউনি এই মুহূর্তে কোনো সাধারণ মানুষের মতো নয়, যেন এক হিংস্র শিকারির মতো। তিনি সোলেমান শেখের কথার পিঠে শীতল গলায় বললেন,
_”যেতে তো তোমায় অবশ্যই দেব সোলেমান।তবে সোজা উপরে!”
সোলেমান শেখের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তিনি মরিয়া হয়ে বললেন,
_”মা… মানে? আমি তোমাদের কী ক্ষতি করেছি? আমাকে যেতে দাও!”
আনতারা মৃধা এবার ওনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন,
_”ক্ষতি করতে কতক্ষণ? বেশি কথা না বলে এটা বলো যে,ওই লকেটটা কোথায় রেখেছো?”
_”কিসের লকেটের কথা বলছ তুমি? কোন লকেট?”
_”নাটক বন্ধ করো তোমার! জাহরিমা মারা যাওয়ার আগে তোমার কাছেই সেই লকেটটা রেখে গিয়েছিল। ওইটা আমাদের লকেট, ওইটা আমাদের ফিরিয়ে দাও। তাহলেই তোমাকে ছেড়ে দেব। নয়তো ডাইরেক্ট উপরে পাঠিয়ে দেব!”

আনতারা মৃধার মুখে জাহরিমার নাম এবং লকেটের কথা শুনে সোলেমান শেখের স্মৃতিপটে পুরোনো সেই ভয়াবহ দিনটি ভেসে উঠল। জাহরিমার আকস্মিক কার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিলো! মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে রক্তাক্ত জাহরিমা ওনার হাতে একটা লকেট গুঁজে দিয়েছিল।ব্যাস এইটুকুই। কিন্তু লকেটটা কিসের বা এর গুরুত্ব কী।তা জানার আগেই জাহরিমাকে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।এবং সেখানেই সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

জাহরিমার এমন আকস্মিক মর্মান্তিক মৃত্যুতে সোলেমান শেখ মানসিকভাবে তখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রীর সেই স্মৃতি ওনাকে বারবার তাড়া করে ফিরত। আর সেই তীব্র মানসিক কষ্ট থেকে বাঁচতেই তিনি ছোট্ট জেবাকে আরিশান মৃধার আশ্রয়ে রেখে, নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে পাঁচ বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে সেই লকেটটি তিনি আরিশান মৃধার কাছেই আমানত হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। এত বছর পার হয়ে যাওয়ায় এবং জীবনের নানা ঝড়ে সেই সামান্য লকেটটির কথা ওনার মনেই ছিল না।
তবে সোলেমান শেখ এইমূহর্তে বুঝতে পারলেন, এটা কোনো সাধারণ লকেট নয়। একটা সামান্য জিনিসের জন্য এই মানুষগুলো এতটা সুক্ষ্ম প্ল্যান করে ওনাকে এখানে ধরে এনেছে মানে, নিশ্চয়ই ওই লকেটে এমন কোনো বড় রহস্য আছে, যা এদের খুব প্রয়োজন।
এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সোলেমান শেখ বানিয়ে মিথ্যা বললেন,

_”আমার কাছে কোনো লকেট নেই।”
আনতারা মৃধা ওনার দিকে চোখ রাঙিয়ে বললেন,
_”দেখ, যদি বাঁচতে চাস তবে সত্যিটা বলে ফেল। আমরা খুব ভালো করেই জানি,তোর কাছেই ওই লকেট আছে!”
সোলেমান শেখ এবার কিছুটা শক্ত গলায় বললেন,
_”থাকলেই বা কী? আমি সেটা কেন দেব?”
এযাবত ধরে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনুপমা সবকিছুই শুনছিলো এবং মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষন করছিলো।মনে মনে এতক্ষনে মেজাজ ধরে রাখলেও এবার আর তা রাখতে পারল না। দেলোয়ারের দিকে তাকিয়ে ক্ষিপ্ত গলায় বলে উঠল,

_”বাবা! এই বুড়ো এত সহজে মুখ খুলবে না। একে অন্য উপায়ে সোজা করতে হবে। অন্য ব্যবস্থা করো!”
মেয়ের কথা শুনে দেলোয়ার ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। তিনি কোনো কথা না বলে শূন্যে হাত তুলে একটা তুড়ি বাজালেন।সাথে সাথেই ফ্যাক্টরির ছাদের অন্ধকার কোণ থেকে দুটো মোটা রশি সশব্দে নিচে নেমে এল। সোলেমান শেখ কিছু বুঝে ওঠার আগেই রশি দুটো ওনার গলায় শক্ত করে পেঁচিয়ে গেল এবং মুহূর্তের মধ্যে ওনাকে ওপরের দিকে টেনে ঝুলিয়ে দিল!
সোলেমান শেখের পা মাটি থেকে উঁচুতে উঠে গেল।দম আটকে আসতে লাগল তার। দুই হাত দিয়ে গলার দড়িটা ধরে বারবার বাঁচার চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্তু দড়িটা এতটাই শক্ত যে একটুও নড়াতে পারলেন না। ওনার ছটফটানি আর ব্যর্থ চেষ্টা দেখে দেলোয়ার উচ্চশব্দে হেসে উঠলেন। বললেন,
_”চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই সোলেমান। ভুলবশত হাত ফসকে গেলে এই জায়গাতেই তোমার মৃত্যু হবে।”
গলায় ফাঁসের তীব্র যন্ত্রণায় সোলেমান শেখ এবার সত্যিই হাল ছেড়ে দিলেন। ওনার এই অসহায় অবস্থা দেখে দেলোয়ার বাঁকা হেসে বললেন,

_”লকেটের বিনিময়ে তোর প্রাণটা ভিক্ষা দেব। তবুও বল, ওই লকেট কোথায়?”
সোলেমান শেখ আরিশান মৃধার নাম নিতে যেয়েও বললেন না।কিছু একটা ভেবে ফেললো ওনার চতুর মস্তিক। আজ মরে গেলেও ওনি ঐ লকেটের ব্যাপারে কিছুই বলবেনা বলে ডিসাইড করে নেয়।
_”বলবো না।আগে সত্যিই টা জানতে চাই আমি।”
সোলেমান শেখ এবারও কোনো উত্তর দিলেন না। যন্ত্রণায় ওনার চোখ দুটো উল্টে আসতে লাগল, শরীর ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়তে লাগল। গলায় ফাঁসের চাপ বাড়তে বাড়তে একসময় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলো।মাথাটা একদিকে ঝুঁকে পড়ল।সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে গেলেন।সোলেমান শেখকে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখে দেলোয়ার হোসেন হাতের ইশারায় দড়িটা নিচে নামানোর নির্দেশ দিলেন। দড়ির বাঁধন আলগা হতেই সোলেমান শেখের অচেতন দেহটা ধপাস করে মাটিতে পড়ে রইল।আনতারা মৃধা ওনার দিকে তাকিয়ে কিছুটা চিন্তিত গলায় বললেন,

_”ও আমাদের ব্যাপারে সবকিছু বাইরে জানাজানি করার আগেই ওকে আমাদের শেষ করে দিতে হবে।”
দেলোয়ার শান্ত গলায় জবাব দিলেন,
_”এখনই নয় আনতারা, সময় আসুক। আগে সেই লকেটটা খোঁজার ব্যবস্থা করো। আমাদের হাতে আর বেশি সময় নেই, মাত্র এক বছর সময় আছে। এর মধ্যে লকেট না পেলে আমাদের সব প্ল্যান শেষ হয়ে যাবে।”
অনুপমা মাটিতে পড়ে থাকা সোলেমান শেখের দিকে ইশারা করে বলল,
_”তাহলে এই অজ্ঞান বুড়োটাকে নিয়ে এখন কী করব?”
দেলোয়ার শীতল গলায় আদেশ দিলেন,
_”ওকে একটা চেয়ারে দড়ি দিয়ে শক্ত করে এখানেই বেঁধে রাখো।যেন কোনোভাবেই এখান থেকে পালাতে না পারে।”

ভোরের মৃদু আলো বেডরুমের জানালার পর্দা গলে ঘরের ভেতর এসে পড়ছে,ভেতরের পরিবেশটা বড্ড থমথমে।সারিমের মাএ ঘুম ভাঙল,সকালের আলো বেশ স্পষ্ট। আড়মোড়া ভেঙে ও পাশে তাকাতেই দেখল, অরি কম্বলের নিচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। ওর পুরো শরীর কম্বলে ঢাকা, শুধু মাথাটুকু বের হয়ে আছে। আর সেই অবয়ব থেকে অনবরত এক ফিসফিসানি কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। অরি নিঃশব্দে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে, ওর পুরো শরীরটা কান্নার বেগে কাঁপছে।সারিম সেটা লক্ষ করতেই নিমেষে জেগে উঠল।রাতের কথা মনে পড়তেই সারিম আলতো করে এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে অরিকে নিজের শক্ত দুহাতে জড়িয়ে ধরল।
সারিমের স্পর্শ পেতেই অরি যেন এক ঝটকায় কেঁপে উঠল।প্রচণ্ড অভিমানে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সারিমের হাতটা ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিল। সারিম দমে গেল না; ও আবার ওর হাতটা অরির কোমরের ওপর রাখল। অরি এবারও ছটফট করে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। নিজের শরীরটাকে মোচড় দিয়ে সারিমের বাঁধন থেকে মুক্ত হতে চাইল, কিন্তু সারিমের শক্ত পেশিবহুল বাহুর সামনে ওর এই চেষ্টা ছিল বড্ড দুর্বল।

অরির অনবরত এই ছটফটানিতে সারিম কিছুটা বিরক্ত ও একই সাথে ব্যথিত হলো।বউকে সারারাত ওভাবে কষ্ট দিয়েছে ভেবেই বেশ অনুশোচনা হলো। সারিম জোর করে অরির দুটো হাত নিজের এক হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে ফেলল এবং ওকে পুরোপুরি পেছন থেকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে লেপ্টে নিল। অরি আর নড়াচড়া করতে পারল না। শুধু ওর পিঠটা সারিমের চওড়া বুকের ওঠানামার সাথে কাঁপতে লাগল।
সারিম অরির রেশমি চুলে আর মাথায় পর পর কয়েকটা নরম চুমু এঁকে দিল। তারপর ওর কানের কাছে মুখ নামিয়ে অত্যন্ত অপরাধবোধ জড়ানো, ফিসফিসানি কণ্ঠে বলল-
_”আই অ্যাম সরি, জান!…খুব সরি!”

সারিমের এই অপরাধবোধ অরির ভেতরের অভিমান গলাতে পারল না।সে আগের মতোই ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে লাগল। বউয়ের এই একটানা কান্না সারিমের বুকটাকে যেন চিরে ফেলছিল।সারিম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। এক ঝটকায় ও অরিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। অরি কিছু বুঝে ওঠার আগেই, সারিম ওর চোখে, নাকে, কপালে আর গালে নিজের ঠোঁটের পাগলাটে স্পর্শ দিতে লাগল। ইচ্ছেমতো চুমু খেয়ে ও অরির কান্নার বেগ থামানোর চেষ্টা করল।
চুমু দেওয়া শেষ করে সারিম অরির লাল হয়ে যাওয়া চোখের দিকে তাকাল। অরির কান্না তবুও থামছে না দেখে সারিম ওর দুই গাল নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আকুল হয়ে বলে উঠল-
_”সরি তো চন্দ্রিমা! আর কখনো এমন হবে না, প্রমিস। এবার একটু কান্নাটা অফ করো সোনা, প্লিজ…”
অরি তবুও চোখের জল ফেলছে। সারিম এবার নিজের এক হাত আলতো করে অরির গাল থেকে নামিয়ে ওর বাদামী চুলগুলোতে বিলি কেটে দিতে দিতে অত্যন্ত নরম গলায় জিজ্ঞেস করল

_”বেশি ব্যথা দিয়ে ফেলেছি, তাই না?”
অরি কান্নার মাঝেই আলতো করে মাথা ওপর-নিচ করল, অর্থাৎ ও সত্যিই খুব কষ্ট পেয়েছে। সারিম বুক কাঁপানো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল-
_”কোথায় পেইন হচ্ছে খুব বেশি?”
অরি সারিমের বুকের দিকে মুখটা লুকিয়ে, ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলল-
_”সবাঙ্গে… সারা শরীরে ব্যথা করছে…”
স্ত্রীর মুখে এই অসহায় স্বীকারোক্তি শুনে সারিমের নিজের ওপর তীব্র ধিক্কার জন্মাল। প্রচণ্ড খারাপ লাগল। মনে মনে নিজেকেই গালি দিল সে-কী এমন হতো যদি রাতের সেই চরম মুহূর্তে নিজেকে একটু কন্ট্রোল করতে পারত!ওর এক মুহূর্তের অবাধ্য কামনার জন্য ওর চন্দ্রিমার আজ এই অবস্থা,অরি এতটা কষ্ট পাচ্ছে, তা সারিম কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না।

সারিম মুহূর্তও আর কথা বাড়িয়ে অরিকে বিরক্ত করল না। কম্বলটা সরিয়ে অত্যন্ত সাবধানে অরিকে নিজের পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল।অরিকে বিছানা থেকে তোলার সাথে সাথেই সারিমের চোখ গেল সাদা চাদরটার একপাশের দিকে। গাঢ় লাল রঙের রক্তের দাগ লেগে আছে।দাগটা দেখামাত্রই সারিমের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। তীব্র অনুশোচনা আর অপরাধবোধ ওকে গ্রাস করল। অরির কপালের মাঝখানে গভীর ভালোবাসায় দুটো চুমু এঁকে দিয়ে আবার ফিসফিস করে বলে উঠল-
_”আই অ্যাম সো সরি, চন্দ্রিমা… সো সরি।”

সারিম অরিকে কোলে নিয়েই সোজা ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে ও বাথটাবে হালকা গরম পানি চালু করল। অরি ব্যথার ঘোরে এবং ক্লান্তিতে চোখ বুজে দুনিয়া ভুলে বসে আছে। সারিম পরম যত্নে, অত্যন্ত আলতো হাতে অরিকে বাথটাবের কুসুম কুসুম গরম পানিতে বসিয়ে দিল এবং নিজের হাতে ওকে শাওয়ার করিয়ে দিল। গরম পানির স্পর্শে অরির শরীরের ক্লান্তি আর ব্যথা কিছুটা লাঘব হলো।শাওয়ার করানো শেষ করে সারিম অরিকে একটা নরম টাওয়েলে জড়িয়ে বাইরে নিয়ে এল। এরপর আলতো হাতে অরির একটা আরামদায়ক ড্রেস পরিয়ে দিল। ভেজা চুলগুলো নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে, হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে খুব সাবধানে শুকিয়ে দিল, যাতে ওর ঠান্ডা না লেগে যায়। এরপর অরির হাত-পায়ে নরম করে লোশন মাখিয়ে দিল।সর্বশেষ শরীরের ভেতরের সেই নির্দিষ্ট ক্ষতের জায়গায় অত্যন্ত সাবধানে মেডিসিন লাগিয়ে দিল।
সারিম যখন অরিকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল,সেই ফাঁকেই বুয়া এসে ওদের ঘরের বিছানার চাদরটা বদলে দিয়ে গেছে। আর অরি আর সারিমের জন্য ব্রেকফাস্ট টেবিলে বানিয়ে রেখে চলে গেছে। সারিম অরিকে খুব সাবধানে বিছানার বালিশে হেলান দিয়ে শুইয়ে রাখল।সব কাজ শেষ করে সারিম এবার নিজের দিকে তাকাল। ও নিজেও এখনো ফ্রেশ হয়নি।সে অরির দিকে তাকিয়ে বলল-

_”তুমি এখানে একটু শান্ত হয়ে শুয়ে থাকো। আমি জাস্ট পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
কথাটা বলেই সারিম যেই না একটু দূরে সরতে চাইল, ঠিক তখনই অরি ওকে অবাক করে দিয়ে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে সারিমের হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলল।ভাবভঙ্গি এমন সে সারিমকে কোথাও যেতে দিবে না। সারিম বেশ অবাক হলো বউয়ের এহেন কাজে।ভ্রু কুঁচকে নরম গলায় বলল-
_”কী হলো চন্দ্রিমা? আমি তো ফ্রেশ হতে যাচ্ছি।”
অরি কোনো কথা না বলে, নিজের চোখ দুটো সারিমের চোখের ওপর স্থির রাখল। ওর ঠোঁট দুটো তখনো সামান্য কাঁপছে।মাথা নেড়ে বলল-

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩১

_”না…”
সারিম কিছু বুঝে ওঠার আগেই, অরি আচমকা বিছানায় একটু উঠে বসল এবং নিজের দুহাতে সারিমের মুখটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। সারিম কিছু বুঝে উঠার আগেই, অরি নিজের কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটো সরাসরি সারিমের ঠোঁটের ওপর চেপে ধরল।
অরির এই আকস্মিক কাণ্ডে সারিম কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল। মেয়েটা এইমাত্র ব্যথায় কাঁদছিল, সে-ই এখন অধিকার খাটিয়ে স্বামীকে এভাবে আটকে রাখছে!

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here