Home উপসংহারে তুমি উপসংহারে তুমি শেষ পর্ব

উপসংহারে তুমি শেষ পর্ব

উপসংহারে তুমি শেষ পর্ব
রুহানিয়া ইমরোজ

টেবিলের জগে পানি ছিল না। হাতের কাছেই রাখা ছিল পুদিনা পাতার জুস। নাওয়াফের ফেব্রেট বিধায় কোনোদিক না ভেবে ওটাতেই চুমুক বসিয়েছে সে। দৃশ্যখানা দেখে কলিজা হাতে চলে আসে চিত্রার।
জুসের গ্লাসটা মুখের কাছে নিতেই হালকা ভেষজ জাতীয় কিছুর গন্ধ পায় নাওয়াফ। গন্ধটা মাইল্ড একদম তাই মাথা ঘামায় না। ভাবে, হয়তো পুদিনা পাতা ফ্রেশ ছিল না। ওদিকে জুসের দিকে ওমন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকতে দেখে চিত্রার অলমোস্ট হার্ট এট্যাক করার মতো অবস্থা হয়। শাড়ির আঁচল খামচে ধরে বিড়বিড়িয়ে বলে,

–” বাঁচালে মেরে মওলা। 😭
ভাগ্য আজ সহায় ছিল চিত্রার। নাওয়াফ কিছু একটা মনে করে গ্লাস রেখে দেয়। চিত্রা তড়িঘড়ি করে পানি নিয়ে ছুটে আসে। নাওয়াফ বিনা বাক্যে সেটা পান করে বলে,
–” জুসটা আসলেই কেমন যেন ছিল। নেক্সট টাইম ড্রাইভারকে ফ্রেশ পুদিনা পাতা বেছে আনতে বলবে।
নাওয়াফের অনুধাবন শক্তি দেখে অবাক হয় চিত্রা। সামান্য ভেষজ গন্ধটা কীভাবে টের পেল এই লোক? চিত্রা আনমনে এসব ভাবলেও মুখে বলল,
–” আচ্ছা।
নাওয়াফ আর কথা বাড়াল না। দু’জনে পাশাপাশি বসে চা পান করল একটু সময় নিয়ে। এরমধ্যে নাওয়াফের ফোনে টুংটাং করে কিছু নোটিফিকেশন আসলো। মেইল ওপেন করতে করতে নাওয়াফ ধীর গলায় বলল,
–” তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো আমি কাজ শেষ করে আসছি।
চিত্রা উঠল না। থম মেরে বসে রইল। অনবরত বুক কাঁপছে তার। নাওয়াফের কীভাবে রিয়েক্ট করবে ভেবেই ভয়ে মরে যাচ্ছে। তাকে ওভাবে বসে থকতে দেখে নাওয়াফ ভ্রু কুঁচকে শুধাল,

–” কি হলো? বসে আছ যে? ঘুমাবে না?
চিত্রা দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে বলল,
–” ন্ না.. ভালো লাগছে না।
নাওয়াফের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। অনেক্ক্ষণ পানিতে ভিজেছে উপরন্তু ধকল গেছে। বেশি অসুস্থ বোধ করছে নাকি চিত্রা? ফোন সাইডে রেখে চিত্রার কপালে হাত ছোঁয়ায় নাওয়াফ। সন্দিহান গলায় বলে,
–” জ্বর নেই৷ অন্য কোনো সমস্যা হচ্ছে?
চিত্রা বোকার মতো তাকিয়ে থাকে শুধু। নাওয়াফের মাথায় অন্য ভাবনা উঁকি দেয়, ময়েটা ওর বাহু ঘেঁষে ঘুমিয়ে অভ্যস্ত। কথাটা ভাবতেই স্মিত হাসি ফুটে উঠে তার মুখে৷ অদ্ভুত শক্তি আছে এই মেয়ের, তার মৃতপ্রায় জীবনটাকে প্রাণবন্ত বানিয়ে দিচ্ছে আস্তে ধীরে। নাওয়াফ গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
–” এগারোটা বাজতে চললো। ঘুমিয়ে পড়তে হবে এখন নয়তো ফজরের নামাজ মিস যাবে। গেট আপ..
বলেই হাঁটা দিল নাওয়াফ। নিরুপায় চিত্রা বাধ্য হয়ে তার পিছু ছুটলো। এতক্ষণে জিরো রিয়েকশন দেখে ভাবল, হয়তো মাইল্ড ডোজটা তেমন কোনো ইফেক্ট ফেলেনি নাওয়াফের উপর। ভেবেই খুশিতে ঝকমক করে উঠল তার মুখখানা কিন্তু বেচারির ভুল ভাঙল কিছুক্ষণ পর৷

জুস খাওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যে নাওয়াফের মধ্যে অদ্ভুত অস্থিরতা দেখা গেল। ফর্সা মুখটা লাল হয়ে এসেছে। শ্বাস ফেলছে এলোমেলো ভাবে। গোছালো পরিপাটি ছেলেটাকে একদম বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। তার মুখপানে চেয়ে অপরাধবোধে ছেয়ে গেল চিত্রার মন। ভয়ও পেল কিঞ্চিৎ। কি করবে ভেবে না পেয়ে চুপসে গেল একদম।
ওদিকে নিজের পরিবর্তন দেখে হতভম্ব নাওয়াফ।এর পূর্বে কখনো এমন হয়নি তার সাথে। আশ্চর্যজনক ব্যপারটা! অপরপাশ ফিরে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে ধমকাল নাওয়াফ। এ কেমন অনাচার?
মোটামুটি আরও ঘন্টাখানেক নানানভাবে নিজেকে স্টেবল করার চেষ্টা করল নাওয়াফ কিন্তু ভাগ্য আজ তার বিপক্ষে। একপর্যায়ে পুরোপুরি মাতাল হয়ে গেল বেচারা। নিজের উপর কোনো কন্ট্রোলই রইল না তার। পাশে শুয়ে থাকা চিত্রা টের পাচ্ছিল ব্যপারটা কিন্তু ধরা খাওয়ার ভয়ে টু শব্দ করেনি।
তাকে অবাক করে দিয়ে নাওয়াফ তার দিকে ফিরে
নেশালো চোখে চেয়ে অস্পষ্ট গলায় বলল,

–” কীভাবে সেজেছ? একটুও সুন্দর লাগছে না তোমায়। আসো আমি সাজিয়ে দিই..
বলেই চিত্রার শাড়ির আঁচল টেনে ধরল নাওয়াফ। গতিবেগ এতটাই তীব্র ছিল যে চিত্রা এসে হুমড়ি খেল নাওয়াফের বুকে। এর পূর্বেও ওকে কাছে টেনেছে নাওয়াফ, গভীর থেকে গভীরতম স্পর্শে মাতোয়ারা করেছে কিন্তু এমন হিংস্র আচরণ করেনি৷ কিছুক্ষণ পূর্বের নাওয়াফের সাথে এই নাওয়াফকে মেলাতে পারল না চিত্রা। নিমিষেই শঙ্কিত হয়ে পড়ল৷
তার শঙ্কার সীমানা ছড়িয়ে বহুদূর এগিয়ে গেল নাওয়াফেরর হিংস্রতা। চিত্রাকে ধাতস্থ হওয়ার সুযোগ না দিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ল তার অধরোষ্ঠের উপর। সেই সাথে চললো হাতের অবাধ্য বিচরণ। খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে কাপড় সরাতে গিয়ে প্রায় ছিড়েখুঁড়ে ফেলল। সেই সাথে ক্ষতবিক্ষত হলো চিত্রা।
নাওয়াফের ভারে দমবন্ধ হয়ে আসে চিত্রার। মেয়েটা গুঙিয়ে উঠে নাওয়াফকে সরাতে চাইলে তার হাত দু’টো ব্লাউজের সাহায্যে বেঁধে ফেললো নাওয়াফ। এরপর তার গলা চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,
–” Don’t distract me! Now, i wanna lose myself in your beauty, soul, and everything that makes you unforgettable in my eyes.

শুরুর লাইনটা জোশ নিয়ে বললেও পরের অংশটুকু ধীমি গলায় চিত্রার ঠোঁটের উপর বৃদ্ধাঙ্গুলি স্লাইড করতে করতে বলল নাওয়াফ। চিত্রা বুঝল, আজ তার নিস্তার নেই তাই অহেতুক শক্তি খাঁটিয়ে নিজেকে নিঃশেষ করতে গেল না। ক্রমশ বেসামাল হয়ে ওঠা নাওয়াফের কাছেই আত্মসমর্পণ করল।
এতেও বিশেষ লাভ হলো না। সময়ের সাথে মানুষটা আরও হিংস্র হলো। চিত্রার গোঙানি চিৎকারে রুপ নিল রীতিমতো। অসহ্য যন্ত্রণায় দাপাতে লাগলো মেয়েটা কিন্তু নাওয়াফের তাতে কি? সে নিজের খায়েশ মেটাতে ব্যস্ত। পরপর দু ঘন্টা নারকীয় তাণ্ডব চললো। চিত্রা তখন পুরোপুরি জ্ঞানহীন। নাওয়াফের সে ব্যপারে অজ্ঞাত। একপর্যায়ে ক্লান্ত শরীরটা টেনে ধপ করে শুয়ে পড়ল চিত্রার পাশে।
অতঃপর দুনিয়াটা আঁধার হয়ে আসলো তার। সময় কতক্ষণ পেরোলো জানা নেই। ঘড়ির টিকটিক শব্দে চোখ মেলে তাকাল নাওয়াফ। মাথা ঝিম ঝিম করছে তার। অদ্ভুত এক দুর্বলতা অনুভূত হচ্ছে শরীরে।
কি হয়েছে জানতে আশেপাশে তাকিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করল। পাশে শয়নরত চিত্রার সাজ পোশাক দেখে রীতিমতো ধাক্কা খেল নাওয়াফ। হুট করে মনে পড়ে গেল মধ্য রাতের ঘটনাটা। মাথায় হাত দিয়ে থম মেরে বসে রইল ও।
কিছুক্ষণ পূর্বেই জ্ঞান ফিরেছিল চিত্রার। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও ছিল না শরীরে কিন্তু বহু কষ্টে ফ্রেশ হয়ে ব্যথার মেডিসিন নিয়ে তবেই শুয়েছে। অসুস্থ হয়ে নাওয়াফের গিল্ট বাড়াতে চায় না । সবে একটু চোখ বুঁজেছিল চিত্রা আচমকা নাওয়াফ এর বিমূর্ত প্রতিক্রিয়া দেখে ঘাবড়ে যায় বেচারি৷
চিত্রা কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই ঘাড় ঘুরিয়ে তার পানে তাকাল নাওয়াফ। চিত্রা ভাঙা গলায় শুধাল,

–” কিছু হয়েছে?
নাওয়াফ জবাব দিল না। মূর্তির মতো চেয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলল,
–” অপেক্ষা করো। আসছি..
বলেই টাওয়েল হাতে নিয়ে ধীর পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকল নাওয়াফ। তার শান্ত স্বর ভয় পাইয়ে দিল চিত্রাকে। মোটামুটি দশ মিনিট পরই বেরিয়ে এলো নাওয়াফ। ভেজা চুল নিয়েই গা এলিয়ে দিল নরম বিছানায়। তা দেখে চিত্রা বলল,
–” ভেজা চুল নিয়ে ঘুমালে ঠান্ডা লেগে যাবে। মুছে..
পুরোটা শেষ করতে পারার আগেই নাওয়াফ শুধাল,
–” ড্রাগস দিলে বুঝি তোমার প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে? কি মিশিয়েছিলে জুসে?
নিমিষেই কলিজা কেঁপে উঠল চিত্রার। মনে হলো, ওর পায়ের তলা থেকে কেউ জমিন সরিয়ে নিয়েছে। অবিশ্বাস্য নজরে নাওয়াফের দিকে তাকায় ও। চোখ দু’টো ভরে উঠে অশ্রুতে। সুখানুভূতি পাল্টে গেল শোকে। কোনো জবাব দিতে পারল না চিত্রা। নাওয়াফের ভাবান্তর হল না। পূর্বের ন্যায় শান্ত গলায় বলল,
–” দোষ তোমার নয়। আমি বরাবরই মানুষ চিনতে ভুল করি। যাকে ট্রাস্ট করি সে আদতে বিশ্বাসের যোগ্য হয় না। বেহুদা বলছি না। ইয়্যু নো? এন এস আইতে আবেদন করেছিলাম আমি। ট্রেনিংয়ের সময় এক ব্যাচ মেটের সাথে ভীষণ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়৷ উই ওয়ার লাইক আ জানে জিগার ফ্রেন্ড, অলসো বেশ ভালো প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলাম আমরা। সব টাস্কে হয় ও কিংবা আমি উইনার হতাম তবে ম্যাক্স টাইমে টাই হয়ে যেত আমাদের মাঝে।
বলে একটু থামল নাওয়াফ। চিত্রার ভয়কাতর মুখ পানে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় বলা শুরু করল নাওয়াফ,

–” এসব নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না কারোর। প্রফেশনাল সেক্টরের বাইরে বেশ জমকালো বন্ধুত্ব ছিল আমাদের। একই সাথে অনেকের হিংসার কারণ ছিল আমাদের বন্ড। ট্রেনিং যখন প্রায় শেষের পথে তখন মোটামুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে রাজন ফলস্বরূপ সে সময়কার প্রত্যেকটা টাস্কের উইনার হতে থাকি আমি। এই সফলতা সহ্য হয়নি আমার প্রাণ প্রিয় বন্ধুর। অন্যের প্ররোচনায় পড়ে আমায় হিংসা করতে শুরু করে ইভেন ক্ষতি করারও চেষ্টা করে। সবকিছু নোটিশ করা হতো উপরমহল থেকে৷ ওর এই নোংরা আচরণ এবং অমনোযোগীতার কারণে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় ওকে। ফলস্বরূপ, আমাদের বন্ধুত্ব এক ঘৃণিতে শত্রুতায় পরিণত হয়৷
আশ্চর্যের ব্যপার জানো? সবকিছু জেনেশুনেও শুধু মাত্র টাকার লোভে পড়ে তোমার বড় বোন চৈত্রিকা আমার সদ্য জন্মানো শিশুটাকে ফেলে ওই কু ত্তার হাত ধরে পালিয়েছিল। অথচ বিয়ের রাতে ওই নারী আল্লাহর কালামের কসম খেয়ে বলেছিল, সে কেবল আমারই থাকবে। শেষপর্যন্ত অবশ্য পালাতে গিয়ে এক্সিডেন্টে মৃত্যু হয় তার৷
সবথেকে শকিং নিউজটা হলো, ওই মা* টেরোরিস্ট আমার বাচ্চাটাকে পর্যন্ত ছাড়েনি। নাফিমের স্কুল বাসে সে-ই বোমা ফিট করেছিল৷ দুটো ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার ফলস্বরূপ গোটা জীবটাই তছনছ হয়ে গেছে আমার।
আঘাতে জখমী মনটা কাউকে বিশ্বাস করতে চাইত না। ক্ষতরা দগদগে স্মৃতি হয়ে সারাটাক্ষন সাবধান করে আমায় তবুও কীভাবে যেন তোমার বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম। দিনশেষে তুমিও প্রমাণ করে দিলে, আই শুড্যেন্ট ট্রাস্ট পিপল।
এতক্ষণ থম মেরে সবকিছু শুনছিল চিত্রা। নাওয়াফ থেমে যেতেই ফুঁপিয়ে উঠে বেচারি। আহাজারি করে বলে,

–” ভুল হয়ে গেছে আমার। প্রয়োজনে শাস্তি দিন তবুও এমন কথা বলবেন না প্লিজ…
নাওয়াফ মলিন হেসে সিলিংয়ের দিকে তাকায়। কেন যেন জবাব দিতে ইচ্ছে করছে না। চিত্রা থেমে থাকে না। ধীরেসুস্থে উঠে বসে নাওয়াফের পা জড়িয়ে ধরে কাতর গলায় বলে,
–” সম্পর্কটাকে সামনের দিকে আগাতে ছলনার আশ্রয় নিয়েছিলাম আমি..
নাওয়াফ তাকে থামিয়ে বলে উঠে,
–” অথচ তোমার সরলতা এবং সত্যবাদীতার প্রতি ঝুঁকেছিলাম আমি। তুমি অধিকারের দাবি নিয়ে দাঁড়ালে অমান্য করতাম না আমি কিন্তু তুমি বেছে নিলে প্রতারণার পথ। আফসোস!
হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠে চিত্রা। কোন কুক্ষণে অন্যের কথা শুনতে গেছিল কে জানে? ও হাউমাউ করে বলে উঠল,
–” একটিবার সুযোগ দিন। কখনো নিরাশ করব না আপনাকে। বিশ্বাস করুন, আমার অন্য কোনো মতলব ছিল না।
নাওয়াফ দারাজ গলায় শুধাল,
–” পাপের রাস্তায় হেঁটে কখনো নেকি কুড়ানো যায় না। নিয়ত পরিষ্কার থাকলে ছলনার কি দরকার ছিল?
কোনো জবাব দিতে পারল না চিত্রা। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নিশ্চুপ ভঙ্গিতে বসে রইল। নাওয়াফ ওর দিকে চেয়ে শান্ত গলায় বলল,

–” ধন্যবাদ আমার জীবনে আসার জন্য। একটা সুস্বপ্ন ভেবে তোমায় ভুলে যেতে চাই আমি৷ অনুগ্রহ করে, দ্বিতীয়বার আমার চোখের সামনে এসো না। প্রতারকদের সহ্য করতে পারি না আমি৷
কথাটুকু বলে সামান্য থামল নাওয়াফ অতঃপর চিত্রার ফ্যাকাশে মুখপানে চেয়ে কঠোর গলায় বলল,
–” একত্রে থাকার সময়সীমা শেষ। ডিভোর্সের জন্য এপ্লাই করব আমি। টিল দেন তোমার চাচার বাসায় আশ্রয় নিতে পারো। অন্যকেউ থাকলে সেখানেও যেতে পারো তবে সময়মতো কোর্টে উপস্থিত থেকো। এই দমবন্ধকর সম্পর্ক থেকে মুক্তি চাই আমার৷ নাও উইদাউট এনি ফার্দার ডিলে লিভ মাই হোম৷
নাওয়াফের চোখেমুখে ফুটে ওঠা ঘৃণাটুকু বিতৃষ্ণা ধরিয়ে দিল চিত্রার পানে। ও থম মেরে থেকে ভাবল,
কার জন্য কাঁদছে ও? যে তার সামান্য ভুল ক্ষমা করার এক্তিয়ার রাখে না তার জন্য? কোনো ভুলের শাস্তি এতটা অমানবিক হয়?
নাকি ও সুযোগ দিয়েছে বলে সবাই চড়াও হয়? এতটাই ফেলনা চিত্রা? নিঃস্বার্থ ভাবে সবার জন্য সবকিছু করার পরেও বোঝা ভাবা হয় তাকে। আর কত নিষ্ঠুর হবে নিয়তি? আর কত পরীক্ষা নেওয়ার পর তার উপর কিঞ্চিৎ দয়া হবে সৃষ্টিকর্তার?
সবটা অজানা তবে চিত্রা এতটুকু জানে, এই পাথর মানবের মন গলানোর সাধ্যি নেই তার। তাই সত্যটা বলার প্রয়োজনবোধ করল না। জানালো না, ওর জন্মদায়িনী মা বাধ্য করেছে এসব করতে। জোর করে সাজিয়ে গুছিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে জুসের গ্লাস। হুমকি দিয়ে গেছে শ’খানেক।
তাছাড়াও, আর কারও জীবনে বোঝা হাওয়ার ইচ্ছে নেই তার। সুতরাং অভিযোগ করা বেমানান। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড়াল চিত্রা,

উপসংহারে তুমি পর্ব ১৪

–” কি কপাল নিয়ে জন্মেছি আমি। আগমনে কেউ হাসেনি বিদায়কালেও কেউ কাঁদবে না।
ব্যপক হাসি পেল চিত্রার। মৃদুস্বরে হাসলও বটে। কত চমৎকার সব তকমা অর্জন করল এই ছোট্ট জীবনে। আফসোস করল না, অভিমান করল না, অভিযোগ করা তো বিলাসিতা৷ ধীর পায়ে বিছানা ছেড়ে নামল। শরীরটা ভেঙে আসছে ব্যথায়। পা ফেলতে গিয়ে দম ফুরিয়ে আসছে তবুও থামল না চিত্রা। এক পা দু পা করে এগিয়ে গেল।
ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে একবার তাকাল তার প্রিয় মানবের দিকে অতঃপর চিরতরের জন্য বিদায় নিল। না কোনো বার্তা না কোনো খোঁজ। এক রাতের ব্যবধানে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল চিত্রা। আর কখনো ফিরল না কারও জীবনে; বোঝা নামক তকমা পেতে।
শেষ রাতে বাসা ছেড়ে বেরোনোর পর চিত্রার সাথে কি হয়েছিল কেউ জানে না। শুধু এতটুকু জানে, দিন রাত এক করে খোঁজ চালানোর পরও তার কোনো সন্ধান মিলেনি। আক্ষরিকভাবেই সবাইকে মুক্তি দিয়ে অজানায় হারিয়েছে মেয়েটা।

সমাপ্ত

1 COMMENT

  1. আপু এটা ঠিক করলে না ভেবেছিলাম happy ending হবে কিন্তু তুমি তো sad ending দিয়ে দিলে আপু এটার সিজন ২ দাও না

Comments are closed.