Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৬

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৬

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৬
Chadny islam

গাড়ি চলছে নিজ গতিতে! আদিব দখ্য হাতে ডাইভিং করছে, অন্যদিকে কলি পাশের সিটে জানালার এক সাইটে মাথা রেখে সুয়ে আছে! গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ করে থেমে যায়, একটি বড় পার্ক এর সামনে! আদিব গাড়ি এক সাইডে পার্কিং করে রাখে,তার পর কলি কে ডেকে তুলে! কলি ঘুমঘুম চোখে বলে উঠলো!!
____আরেক টু ঘুমাতে দাও না আম্মু!!
আদিব রাগে হিসহিসিয়ে উঠে,দাঁতে দাত চেপে বলে উঠলো!!
____উষ্ঠা খাওয়ার আগে ঘুম থেকে উঠ! তোর বাড়ী না এইটা,এইটা হলো আমার গাড়ি!
আদিব এর কথা কানে পৌঁছাতেই, কলি তড়িগরি করে গাড়ি থেকে উঠে যায়।চোখ ডলতে ডলতে বড় বড় নয়নে আদিব এর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো!!
___আমি আব্বু কে বলে দিবো,তুমি কথায় কথায় আমাকে বকা দাও! বাড়ি ঘর নিয়ে আমাকে অপমান করো!
আদিব চোখ রাঙ্গিয়ে বলে উঠলো!!
___তুই শুধু বকা না শুধু উষ্ঠা খাওয়ার কাজ করিস,উঠ তাড়াতাড়ি।
কথা শেষ করে আদিব গাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো, আদিব এর পেছন পেছন কলি ও হেটে চলতে লাগলো, এলো মেলো পায়ে।

প্রায় মিনিট পাঁচেক হেঁটে যাওয়ার পর! হঠাৎ করে কলির চোখে পরলো চেনা পরিচিত একটি মুখ। ছোট একটি চেয়ারে কাচামাচু হয়ে বসে আছে, পাশেই একটি ছেলে দাড়িয়ে তাকেও কলি বেশ ভালোভাবে চিনে! তবে এই অসময়ে এদের সাথে দেখা হবে সেটা স্বপ্নে ভাবে নি। কলি এলো-মেলো পায়ে এগিয়ে গেলো সামনের মানুষ টির দিকে। আদিব পাশের ফুলের দোকান থেকে বড় সড় একটা ফুলের তোরা হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো সামনপর দিকে।
আদিল ইরা কে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসেছে ঘন্টা খানেক আগে, এখন যাচ্ছে রিজ লুমান এর সাথে দেখা করতে! জুরুরি কাজ আছে নাকি, কথা বলবে! তাই আদিল ৩০ মিনিট এর ভেতরে চলে যায়, চেনা জানা রেস্টুরেন্টে।যেখানে অনেক আগে থেকেই রিজ লুমান অপেক্ষা করছিলো আদিল এর জন্য! আদিল এগিয়ে গেলো রিজ লুমান এর দিকে আদিল কে দেখে আশে পাশে স্টাফ সহ সবাই যথেষ্ট সম্মান এর সাথে কথা বলতে শুরু করলো! যেহেতু আদিল এমপি তার পাশাপাশি একজন সফল বিজনেস ম্যান! রিজ লুমান এর পাশের চেয়ারে ইয়ান রোশান বসে আছে! হয়তো রোশান ও অপেক্ষা করছিলো আদিল এর জন্য, কিন্তু অপেক্ষা করছিলো কেন? কারন টা বেশ অজানা আদিল এর। আদিল এগিয়ে গেলো তাদের দিকে, আদিল কে দেখে লুমান সহ রোশান হাত মিলিয়ে সহমত প্রকাশ করলেন! আদিল চেয়ারে বসতেই দুইটা ওয়েটার এসে কফি দিয়ে গেলেন। রিজ লুমান রোশান কে উপেক্ষা করে আদিল কে বলে উঠলো!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

___ফ্যান্স থেকে কল করে ছিলো, ইমিডেটলি সব নারী তাদের চাই! সেই সাথে গোপনীয় কিছু অস্ত্র আর….
লুমান কথা শেষ করার আগেই আদিল বলে উঠলো!!
____আমি বলে ছিলাম, ইমারজেন্সি কোনো কাজের ওডার আমি নিবো না! তুই আমাকে জিজ্ঞেস না করে কেনো নিয়েছিস??? ক্যান্সেল করে দে!
রিজ লুমান এর পাশে আরও দশ থেকে পনেরো জন বডিগার্ড! ঠিক তেমনি রোশান এর পাশেও! শুধু আদিল এর পাশে কেউ নেই! তার কখনো প্রয়োজন পরে না বডিগার্ড বা এক্সটা লোক মুটেও তার কাম্য নয়।সে রাজার মতোন একাই চলতেই পছন্দ করে! রোশান কে দেখে আদিল কর্কশ গলায় বলে উঠলো!!

____মানুষ এর কলিজায় এত সাহস দেখে মনে হয়, কলিজা টা ভুনা করে খেয়ে ফেলি! হয়তো সেই টেস্ট হবে! আমার আবার কলিজা ভুনা খাওয়ার ভিষণ ক্বেবিং হচ্ছে।
রোশান অল্প হাসলো লুমান এর দিকে তাকিয়ে ! রোশান বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছে, আদিল এর কথার মানে। তবে সে চাইছে না কোনো রকম ঝগড়াই জড়াতে। শএু হলেই যে যুদ্ধ করতে হবে বা খতি করতে হবে এমন টা কোথায় লেখা নেই। শএু এমন ভাবে হওয়ার উচিত, যেনো একে অপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলতেও রুহু পর্যন্ত কেঁপে ওঠে! রোশান কে চুপ করে থাকতে দেখে আদিল শক্ত গলাই বলে উঠলো!!
_____আমার পেছনে পরে না থেকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করলেই হয়!.
রোশান নাক ঘসতে ঘসতে বলে উঠলো!!

___অবশ্যই করবো! তোর বউ কে পেয়ে গেলে!!
আদিল দাঁতে দাঁত পিসে হিসহিসিয়ে তেড়ে গিয়ে বলে উঠলো!!
___আদিল সিকদার এর ব্যাবহার করা টিস্যু টাও কেউ ব্যবহার করতে সাহস পায়না, আর তুই কিনা এখনো আমার বউ এর অপেক্ষায় বসে আছিস!হাস্যকর!
রোশান দীর্ঘ শ্বাস টেনে ফের বললো!!
____আমার হওয়ার কথা ছিলো তো, তোর হয়ে গেলো কিভাবে??
আদিল হাত দিয়ে আলতো করে নিজের কপাল মেপে নিয়ে অল্প হেসে বললো!!
__ভাগ্য বলতেও একটা জিনিস আছে, হয়তো ইরা আমার ভাগ্যে ছিলো!
রোশান বেশ অনেক টাই কনফিডেন্স নিয়ে বললো!!
__যদি ছিনিয়ে নেই তোর ভাগ্য কে?
আদিল কিছুটা শাসিয়ে বলে উঠলো!!

___স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া এই পৃথিবীর বুকে আর কারোর সাধ্য নেই, আমার থেকে ইরা কে আলাদা করার।
__ভালোবাসিস কি তাহলে??
আদিল এক রাশ আবেগ অনুভূতি মিশিয়ে বলে উঠলো!!
___হুম ভালোবাসি! অনেক ভালোবাসি, নিজের বউ কে ভালোবাসি, হালাল করে ভালোবাসি, সম্পূর্ণ ভাবে ভালোবাসি!
রোশান কিছুটা ঠেস মেরে বললো!!
___তাহলে কি দরে নিবো! আদিল সিকদার এর বউ তার দূর্বলতা??
আদিল বেশ স্বাভাবিক ভাবে বলে উঠলো!!!
___না! ভালোবাসা কখনো দূর্বলতা বয়ে আনে না!বরং পরম সুখ শান্তি বয়ে আনে! যা আমি প্রতি মূহুর্তে ফিল করি!
___ভালো লাগলো! আমার না হওয়া মানুষ টা অনন্ত তোর কাছে ভালো আছে!
__হুম ভিষণ ভালো আছে। ইনশাআল্লাহ সারা জীবন ভালো থাকবে।
রোশান দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললো!!
____আমি শেষ বারের জন্য ইরাবতীর সাথে দেখা করতে চাই!
আদিল বেশ বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো!!
___যদি সুযোগ টা না দেওয়া হয় তোকে??
রোশান দীর্ঘ শ্বাস টেনে, অসহায় দৃষ্টিতে বলে উঠলো!!
__তাহলে হয়তো মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত ছটপট করবো একটি বার চোখের দেখা দেখার জন্য!
আদিল খানিক টা রাগে তঠষ্ত হয়ে বলে উঠলো!!
__°শএুর জন্য এমন মৃত্যু মঞ্জুর হোক!ভালো থাক…
কথা শেষ করে আদিল এক সেকেন্ড ও দাড়ালো না বরল এলোমেলো পায়ে এগিয়ে বেরিয়ে আসলো রেস্টুরেন্টে থেকে।

রিমঝিম এক পলক কলি কে দেখে দৌড়ে এসে চাপটে জড়িয়ে দরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। রিমঝিম কেনো এত কাঁদছে, ভিষণ টা কলির জন্য সম্পূর্ণ ভাবে অজানা! কলি রিমঝিম কে এমন মরা কান্না কাঁদতে দেখে, কলি রিমঝিম এর বাহু দরে নিজের দিকে তাক করিয়ে মায়া ভরা কন্ঠে বলে উঠলো!
___কি হয়েছে তোর, এমন মরা কান্না কাদছিস কেনো আমি কি মরে গেছি নাকি!
রিমঝিম হাতের ডগা দিয়ে চোখের পানি মুছে এদিক সেদিক সবাই কে দেখলো! বিশেষ করে আদিব কে, তারপর রিফাত কে! এবার সবার থেকে চোখ ফিরিয়ে তাকালো কলির দিকে, যে এই মূহুর্তে সুন্দর কালো চুড়িদার পরে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু রিফাত ভাইয়া যে বললো, কলির এক্সিডেন হয়েছে কিন্তু কলি তো পুরো পুরি স্বাভাবিক তাহলে কি সবাই মিলে তাকে বোকা বানালো! রিমঝিম রাগে কটমটিয়ে উঠলো এবং রিফাত কে উদ্দেশ্য করে বললো !!

____ভাইয়া আপনি যে বললেন, কলির এক্সিডেন হয়েছে, কিন্তু আমি তো দেখতে পাচ্ছি কলি একদম স্বাভাবিক। তবে আমাকে মিথ্যা কেনো বললেন?
রিফাত কলির প্রশ্নের উত্তর করলো না, বরং তাকালো আদিব এর দিকে। যে এই মূহুর্তে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে আছে রিমঝিম এর দিকে। রিফাত কে কোনো উওর করতে না দেখে,রিমঝিম আরও অনেক টাই রেগে গিয়ে বলে উঠলো!!
___আমাকে মিথ্যা কেন বললেন ভাইয়া??
রিফাত কে বার বার অসহায় দৃষ্টিতে তাকাতে দেখে আদিব হিসহিসিয়ে বলে উঠলো!!
____আমি বলেছি তোমাকে, এই খানে নিয়ে আসতে তাই নিয়ে আসছে।
কলি রাগে কটমটিয়ে উঠলো!
___তাই বলে আমার এক্সিডেন এর কথা বলে,নিয়ে আসতে হলো?? আমি এখনি বড় আব্বুর কাছে বিচার দিবো তোমার নামে!
রিমঝিম মূহুর্তেই রেগে গেলো আদিব এর উপর! তাকে মিথ্যা বলে কেনো এই খানে নিয়ে আসতে হবে! বুঝিয়ে বললে সে নিশ্চয়ই এই খানে আসতো! রিমঝিম ভিষণ রেগে গেলো আদিব এর উপর, এবং কর্কশ গলায় বললো!!

____আপনার সাহস হলো কিভাবে আমাকে মিথ্যা কথা বলে এই খানে নিয়ে আসার! আপনি কিনা একটি সিরিয়াস বিষয় নিয়ে প্রাংঙ্ক করছেন আমার সাথে! ছি ” আমি আপনার থেকে এই টা আশা করি নি!
রিমঝিম এর এমন ভাবে সব দুষ আদিব কে দেয়া ঠিক হচ্ছে কি আজো! হয়তো কোনো কারন ছিলো তাকে এই খানে নিয়ে আসার, তার জন্য এই খামে নিয়ে আসছে। কিন্তু এই মেয়ে তো তাকে খুন করার আগেই খুনি বানিয়ে দিলো! আদিব গম্ভীর গলাই বললো!!
____ইমপোর্টেন্স কথা আছে তার জন্য এনেছি! তাছাড়া আমি তো তোমাকে আর বাসা থেকে তুলে আনেনি তাই না??
রিমঝিম রাগে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো!!

____আপনার থেকে কোনো কথা সুনতে আমি ইন্টারেস্ট নয়!
কলি প্রথম থেকে সব টা বুঝতে না পারলেও, এখন বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারছে, আজকে আদিব এর এই খানে কলি কে কেন নিয়ে আসা। তাছাড়া এত সুন্দর একটা চুড়িদার কেনো গিফট করলো, রিমঝিম কে কেনো এই খানে নিয়ে আসলো। সব কিছুই একদম পরিষ্কার, তবে আদিব এর একটাই ভুল রিমঝিম কে মিথ্যা ছলচাতুরী করে বোকা বানানো। এর জন্য রিমঝিম খিপ্ত হয়ে আছে। মানুষ এক্সিডেন এর মতোন সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কেউ কি মজা করে?কলি একবার নজর বুলিয়ে দেখে নিলো আদিব কে, যে এই মূহুর্তে অপবাদ বুদে চুপ করে দাড়িয়ে আছে, তার হাতে একটা ফুলের তোরা নিয়ে। তার ঠিক একটু পাশে রিফাত ও দাড়িয়ে আছে কাচুমাচু হয়। কলি রিফাত এর দিকে এক পলক তাকাকেই চোখে চোখ পরতেই দূত চোখ সরিয়ে নিলো।রিফাত এর জন্য অজানা ভালোবাসার উদ্তাল ঢেউ ভয়ে চলছে প্রতি সেকেন্ডে, কলি এবার রিমঝিম কে কনডেন্স করার চেষ্টা করলো!! কিন্তু রিমঝিম এত বেশি রেগে আছে যে, কলির কথা টাও শুনতে চাইছে না এখন। রিমঝিম বাসায় চলে যাবে, তাই কলির হাত ছেড়ে এলোমেলো পায়ে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করতে লাগলো! তার আগেই আদিব রিমঝিম এর এক হাত দরে নিজের কাছে টানলো!রাগে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো!!

_____এই মেয়ে সমস্যা কি তোমার! দাম দেখাও আমাকে! নাকি আ্যটিটিউট???
রিমঝিম মূহুর্তেই আদিব এর কথা শুনে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো, তাকে তো একটু ভালোবাসা দিয়েও মানানো যেতো,সবার সামনে এই ভাবে কথা বলতে হবে কেনো?, নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টো রাগ দেখানো হচ্ছে! রিমঝিম রাগে কটমট করে মাথা নত করে রেখেছে। আদিব যে তার জন্য এত সুন্দর একটা পাঞ্জাবি পরে এসেছে হয়তো সে এতখনে দেখেই নি! তাই আদিব রিমঝিম কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
____আমাকে কেমন লাগছে দেখতে??

রিমঝিম ভিষণ অবাক হয়, একটু আগে কত গুলা থমক দিলো বাজে ব্যবহার করলো। আর এখন কি না কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করছো। আচ্ছা পুরুষ মানুষ কি এমনি তাড়ছিড়া হয়???
রিমঝিম এক পলক দেখে নিলো আদিব কে, পা থেকে মাথা পর্যন্ত, তারপর আবার মাথা নত করে ফেলো!সে বুঝতে পারছে না, কিভাবে তাকে সৌন্দের এর প্রশংসা করলে সে খুশি হবে! তাকে দেখতে যে বড্ড সুন্দর লাগছে! আচ্ছা ওনি আজকে হঠাৎ পাঞ্জাবি পরে এসেছেন কেন! আজকে কি কোনো স্পেশাল দিন আছে?? আদিব রিমঝিম কে বার বার মাথা নত করে থাকতে দেখে ভিষণ রাগ হলো। তবে প্রকাশ করলো না বরং হাঁটু মুড়ে বসলো রিমঝিম এর সামনে, আদিব কে এমন হাঁটু ভেঙে বসতে দেখে সবাই বড় বড় নয়নে ছলছল করে তাকিয়ে রইলো! রিমঝিম নিজেও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আদিব এর দিকে! আদিব টাইম ওয়েষ্ট করলো না, বরং মনের ভেতরে অজানা সব ভালোবাসা প্রকাশ করে ফেললো, আদিব এক বুক আবেগ অনুভূতি মিশিয়ে বলে উঠলো!!

__Will You Be My Queen…?
রিমঝিম আদিব এর বলা প্রতিটি শব্দে তঠষ্ত হয়ে উঠলো!মনের মাঝে এক দল ঝিঝি পোকারা ডেকে উঠলো। সেই সাথে মনের গহীনে উওাল পাওাল ঢেউ খেয়ে চলছে! হাজার হাজার আবেগ অনুভূতি সব হেলে দুল খাচ্ছে মনের অহীন গহনে! রিমঝিম এত কিছুর পর ও কি বলবে জানে না, হাত সহ পুরো শরীর কাঁপা-কাঁপি করছে! রিমঝিম কে এমন তঠষ্ত দেখে কলি আদিব তোরা থেকে একটা ফুল নিয়ে হাটু ভেঙে বসে পরলো আর বললো!!
____বি মাই সিস্টার ইন ল। ওয়ল ইউ ম্যারি মি মাই ব্রাদার??
কলির এমন কাজে রিমঝিম ফিক করে হেসে ফেললো, পাশে রিফাত ও হাসলো এবং সব টাই দেখলো! রিমঝিম আদিব এর থেকে নয়, বরং কলির হাত থেকে ফুল টা নিয়ে বুক ভরা সাহস নিয়ে বললো!!
___ইয়েস, আই ওইল ম্যারি ইউর ব্রাদার!!
মূহুর্তেই সবার মুখ ঝকঝক কর উঠলো! কলি আদিব কে ঠেসে বললো!!
___দেখছো কিভাবে প্রপোজ করতে হয়! কিছু তো শিখো আমার থেকে??
আদিব গম্ভীর মুখে রিমঝিম এর দিকে তাকিয়ে বললো!!
____হুম দেখলাম!

আদিব পকেট থেকে একটা গোল্ড এর রিং বের করে কলির হাতে দিয়ে বললো,পরিয়ে দে?
আদিব যে রেগে রেগে কথা গুলো বলছে রিমঝিম বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারলো। তাই রিমঝিম এগিয়ে গেলো আদিব এর কাছে, আদিব এর হাত থেকে ফুলের তোরা টা নিজের হাত তুলে নিলো !!
___ধন্যবাদ, এত সুন্দর একটি মূহুর্ত আমাকে উপহার দেয়ার জন্য।তবে…
আদিব কৌতূহল নিয়ে বললো!!
____তবে কি রিমঝিম??
রিমঝিম খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো,!
___রিং টা আমি, আপনার হাত থেকে পরতে চাই ডক্টর সাহেব!
মূহুর্তেই আদিব এর গম্ভীর মুখটা চকচক করে উঠলো,তার ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি বলে দিচ্ছে সে ঠিক কতটা খুশি হয়েছে রিমঝিম এর কথাই । হয়তো এতখন এর অপেক্ষায় ছিলো আদিব! আদিব গোল্ড এর রিং টা বক্স হতে খুলে রিমঝিম এর হাতে পরিয়ে দিলো বেশ যত্ন সহকারে ।

মিনিট পাঁচ এক পরে,
আদিব এবং রিমঝিম কে পারসোনাল টাইম কাটানোর জন্য,কলি এবং রিফাত পার্ক এর এক পাশ দিয়ে হাঁটছে! কলি আগের তুলনায় অনেক টাই রিফাত এর পিছু পিছু গুরাঘুরি করা বন্ধ করে দিয়েছে! কলি রিফাত এর থেকে বেশ কিছু টা আগে আগে হাঁটছে, রিফাত ঠিক কলির পেছন পেছন। কলি কে এমন ভাবে দেখে রিফাত এর বেশ বিরক্ত লাগলো, তাই রিফাত একটু এগিয়ে গিয়ে পায়ে পায়ে পা মিলিয়ে চলতে লাগলো। রিফাত গম্ভীর মুখে বলে উঠলো!!
____কি হয়েছে তোমার! ইগনোর করছো কেনো আমাকে??

আদিব এর কথা কানে ভেসে আসতেই, কলির ঠোটে নিলিপ্ত হাসি, কিন্তু কোনো উওর নেই, হয়তো কলি জানে, ভালোবাসতে না পারলে অনন্ত দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন!
জোর করে কি ভালোবাসা হয়!না হয় না! হয়তো কলি চাইলে কোনো ছল চাতুরি করে ঠিক নিজের করে নিতে পারতো। তাতে কি সত্যি কারের ভালোবাসা টা থাকবে তাদের মধ্যে! এত হাহা কার ঘটিয়ে কি আর একটি শুদ্ধ ভালোবাসার দৃষ্টি হবে?? কলি কে এক মনে কিছু একটা ভাবতে দেখে রিফাত বলে উঠলো!!
____কিছু বলছি তো তোমাকে,তুমি কি শুনতে পাচ্ছো না??
কলি বেশি সময় নিলো না, বরং স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
___জ্বি শুনতে পাচ্ছি বলেন!!
__ইগনোর করছো কেনো আমাকে??
__আপনি হয়তো ভুল ভাবছেন, আমি আপনাকে ইগনোর করছি না!
__তাহলে এত অভিমান কিসের??
___যেখানে চাওয়া পাওয়ার কোনো মূলায়ন নেই, সেই খানে রাগ অভিমান অভিযোগ সব কিছুই মূল্যহীন!
__তাহলে কি বলতে চাইছো ঘণা করো আমায়??
কলি অল্প হেসে চোখে চোখ রেখে নিলিপ্ত গলায় বললো!!
____আমি কাউকে ঘৃণা করি না, বরং নিজেকে ঘৃণা করি! আমার সমস্ত ঘৃণা জমে আছে আমার ভাগ্যের উপর! যেই ভাগ্য আমাকে ভালোবাসা দিয়ে ছিলো,

আবার কেড়েও নিয়েছে, ফেলে দিয়েছে এক শূন্যতায়।
আমি ঘৃণা করি আমার আবেগ কে, আপনার প্রতি আমার দূর্বলতা কে! আর সব থেকে বেশি ঘৃণা করি আমি নিজেকে, কারন আমি নিজেই বার বার নিজেকে ঠকিয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি!
বলেই কলি ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো, হয়তো তার ইমোশনাল মূহুর্ত টাকে প্রকাশ করতে চাই নি৷ কিন্তু আজ যেনো কোনো ভাবে লুকিয়ে ও রাখতে পারলো না! ভিষণ ব্যার্থ মনে করলো নিজেকে। রিফাত করুণ দৃষ্টি মেলে বেশ কিছু খন কলির প্রানে চেয়ে রইলো। আচ্ছা তার কি উচিত কলির চোখ থেকে ঝরে পরা অশ্রু ফোঁটা টা কে মুছে দেয়া৷ আচ্ছা এই অধিকার টা কি আজ ও তার আছে! রিফাত কি বলবে জানে না, তবে খুব ইচ্ছে করছে কলি কে শক্ত করে জড়িতে দরতে বুকের বাহু পেশির সাথে ঝাপটে দরে কপালে একটা আলতো চুমু খেতক। কিন্তু কিভাবে, জীবনে কি একবার হলেও আসবে এই সুযোগ! কলি কে পাবে নিজের করে। রিফাত অসহায় কন্ঠে বলে চাইলো কিন্তু পারলো না তবে মনে বেশ হতাশা নিয়ে বললো!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৫

___তোমাকে বলতে না পারা কথা গুলা বুকে জমতে জমতে আজ আমি ভিষণ অনুভূতি হীন!!
রিফাত কে এত সময় চুপ করে থাকতে দেখে কলি বাঁকা হেসে বললো!!
___আপনাকে পাওয়ার ইচ্ছে টা আমার অপূর্ণ রয়ে গেলো! একদিন ঠিক দেখবেন, এই অপূর্ণতা থেকেই আমি অন্য কারোর বউ হয়ে যাবো!!
কলি হাসতে হাসতে বলা চরম সত্যি কথাটা, ঠিক যেনো রিফাত এর বুকে গিয়ে লাগলো।ঠিক ধারালো ছুরির মতোন! মনে হলো তার বুকে এই বুঝি ধারালো ছুরি ডুকিয়ে দেয়া হলো। বার বার নিঃশ্বাস আটকে যাওয়ার মতোন যন্ত্রণা হলো বুকের বাম পাশ টাই!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৭