Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৮

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৮

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৮
Chadny islam

বিকাল পাচটা নাগাদ,
ইরা বোরকা পরে নিয়েছে সে এখন বাড়ির বাইরে যাবে সেই ব্লাকরোজ বাড়িতে! মূলত আদিল কে খুজতে” গত দুইদিন যাবত আদিল নিখুজ! তাকে কেনো ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না! তার লাস্ট লোকেশন যেহেতু ব্লাকরোজ বাড়ির কাছাকাছি বলছে! আপাতত সেখানে গিয়ে খোঁজ করলে ভালো হয়! ইরা বোরকা পরে রুম থেকে বের হয়ে যায়! ড্রয়িং রুমে অহনা সিকদার আশরাফ সিকদার আদিস সিকদার মাইমুনা সিকদার বসে আছেন! আর কিছু সারবেন্টরা নিজে দের মতোন কাজ করছে! এর মাঝে ইরা চলে আসে নিচে, ইরা কে অসময়ে বোরকা পরে আসতে দেখে আশরাফ সিকদার বললেন!!

____কোথায় যাচ্ছো আম্মু!!
ইরা আশরাফ সিকদার এর প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য কিছুটা এগিয়ে সামনে গিয়ে দাড়ালো, এবং মাথা নত করে বললো!!
____আসলে আব্বু!!
আশরাফ সিকদার ইরার দিকে তাকিয়ে রইলেন, ইরা কথা বলতে সংকোচ বোধ করছে! তাই দেখে অহনা সিকদার ইরার মাথায় হাত রেখে আদুরে গলাই বললেন!!
____কোথায় যাচ্ছো??
ইরা মাথা আরও নয়ে দিয়ে বেশ সংকোচ নিয়ে বললো!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

____আসলে আম্মু, গত দুইদিন যাবত আপনার ছেলে বাড়িতে আসছে না! তাই একটু বের হচ্ছিলাম ওনা কে খোঁজার জন্য!
আশরাফ সিকদার মূহতেই রেগে উঠলেন, দুইদিন যাবত বাড়িতে আসছে না মানে! আশরাফ সিকদার খিপ্ত মেজাজে হারিয়ে বললেন!!
___দুইদিন যাবত বাড়িতে না তাহলে কোথায় গিয়েছে তোমাকে কিছু বলেছে?? মানে তুমি কি কিছু জানে?
ইরা মাথা এদিক সেদিক নাড়িয়ে বললো!!
___না আব্বু আমাকে কিছু বলে নি! এবং আমি জানি ও ওনি কেথায় গিয়েছেন!
আশরাফ সিকদার ইরা কে বললেন!!
___তুমি দাড়াও আমি ও আসতেছি, তোমার সঙ্গে যাবো! বাইরের পরিবেশ একদম গ্রহণ যোগ্য নয়! কখন কার বিপদ হয়ে যায় বলা যায় না! আমি আর কোনো রিক্স নিতে চাই না মা! আমি সব হারিয়ে নিশ্ব হয়ে গিয়েছি! তুমি দাড়াও আমি আসছি!
ইরা কিছুটা অবাক হয়ে যায়,এই বয়সে কত চিন্তা, এই মানুষ টার,ইরা এবার মাথা নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করে বললো!!.

____আচ্ছা আব্বু!
আশরাফ সিকদার মিনিট পাচ এর মধ্যে রেডি হয়ে চলে এলেন! তারপর দুইজন বাসা থেকে বের হয়ে যায়!ঠিক যখন তারা গেট বরাবর যায়!ঠিক সেই সময় আদিল এর কালো BMW গাড়ি নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে! তাতে বেশ কিছুটা অবাক হয় ইরা এবং আশরাফ সিকদার!
আদিল নিদিষ্ট জায়গায় গাড়ি রেখে সোজা ভেতরে চলে যায়!আদিল আশরাফ সিকদার এবং ইরা কে কোনো রকম খেয়াল করে নি! খেয়াল করলে হয়তো একটু দাঁড়াতো! আদিল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই অহনা সিকদার খিপ্ত মেজাজ দেখিয়ে বললেন!

___কোথায় গিয়ে ছিলে???
আদিল অহনা সিকদার এর খিপ্ত মেজাজ দেখে বুঝে ফেললো, বাড়ির পরিবেশ বেশ জটিল, তাই পরিবেশ কে শান্ত করার জন্য বললো!!
____আমি আমেরিকা গিয়েছিলাম মম! কিছু ইমপোর্টেন্স কাজ এর জন্য! কোনো সমস্যা হয়েছে???
অহনা সিকদার বেশ জটিল তার সাথে প্রশ্ন করলেন!!
___তুমি আমেরিকা গিয়ে ছিলে, কি আশ্চর্য আমরা জানিই না! কি এমন কাজ ছিলো তোমার যে কাউকে না বলে হঠাৎ করে তোমাকে আমেরিকা চলে যেতে হলো! তাও আবার মাএ দুইদিন এর জন্য!
আদিল এর শান্ত মেজাজ টা মূহুর্তেই বিগড়ে গেলো, রাগে রিরিরি করে বলে উঠলো!!
___বিশ্বাস হয় না আমার কথা! তোমার কি মনে হয়, আমি মিথ্যা বলছি তোমাকে??
অহনা সিকদার চোখ গরম করে তাকালেন ছেলের দিকে, তার সাহস হয় কিভাবে নিজের মায়ের সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলার, অহনা সিকদার গম্ভীর গলাই কিছু একটা বলতে যাবেন! তাই আগেই আশরাফ সিকদার খিপ্ত মেজাজ ঝাঁঝিয়ে বললেন!!

____কি হচ্ছে অহনা তুমি ছেলের সাথে এমন আচরন করছো কেন??
আদিল এখন আর বাচ্চা নেই, যথেষ্ট বড় হয়েছে এই খানে ওর বউ দাড়িয়ে আছে! শান্ত হও!
আশরাফ সিকদার এর উওরে অহনা সিকদার মূহুর্তেই চুপ হয়ে গেলেন! আদিল নিজের রাগ কে কোনো ভাবে কন্ট্রোল করে চলে যায় রুমে! ইরা মাথা নত করে আশরাফ সিকদার এর পাশে দাড়িয়ে আছে! তার এই মূহুর্তে কাকে কি বলা উচিত সে একদম বুঝতে পারছে না! আশরাফ সিকদার ইরা কে এমন সংকোচ বোধ করতে দেখে বললেন!

___তুমি রুমে যাও আমি এই দিক টা সামলে নিবো!
ইরা সম্মতি জানিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ায়, মাথা তুলতেই দেখে অহনা সিকদার গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছেন! ইরার একদম ইচ্ছে করলো না অহনা সিকদার কে এমন ভাবে রেখে উপরে যেতে! তাই ইরা আগ বাড়িয়ে অহনা সিকদার এর সামনে গিয়ে দুহাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে বললো!!
____আম্মু প্লিজ ভুল বুঝবেন না! আমি দুঃখিত ওনার হয়ে, আমি মাফ চাইছি আপনার কাছে!
অহনা সিকদার এর ছেলের প্রতি রাগ থাকলেও ছেলের বউ এর প্রতি বিন্দু পরিমান ও রাগ ছিলো না! এবং থাকার কথা ও না! ইরা যথেষ্ট বুদ্ধিমতী গুনি একটি মেয়ে! সবাই কে ঠিক যতটা সম্মান করে আবার ততটাই ভালো ও বাসে! অহনা সিকদার ইরার থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে, ইরার মাথায় ভরসার হাত রেখে বললেন!!
___মায়েরা কখনো সন্তান এর প্রতি অভিমান রাখে না!

আমি সব সময় তোমাদের জন্য দোয়া করি তোমরা ভালো থাকো! আমরা আর কয়দিন বাচবো বলো! আমার আদিল বড্ড ছেলে মানুষ, ওর মন টাও ঠিক ততটাই নরম! ও ঠিক যতটা ভালোবাসতে পারে আবার ঘৃণা করে দূরেও সরিয়ে দিতে পারে!
হয়তো জীবনে আমার ছেলে কোনো ভালো কাজ করে ছিলো! যার বিনিময়ে তোমার মতোন একজন উওম জীবন সঙ্গী পেয়েছে!
অহনা সিকদার আর কথা বাড়ালেন না দূত জায়গা পরিবর্তন করে নিজের রুমে চলে গেলেন! ইরা এদিক সেদিক না তাকিয়ে সোজা চলে গেলো উপরে! একদম প্রস্তুতি নিয়ে হাটতে শুরু করলো, কিভাবে ঝগড়া করলে ভালো হয়!আজকে ছোট খাটো একটা ঘূর্ণিঝড় হলে ও মন্দ হয় না! ইরার ভাবনার ছেদ ঘটলো ঠিক রুমের সামনে গিয়ে, বিছানার উপর একটি প্যাকেট রাখা! কিন্তু চারপাশে আদিল নেই, ওয়াশরুমের ভেতর থেকে পানি আওয়াজ বলে দিচ্ছে আদিল ওয়াশরুমে!

ইরা বিছানার উপর রাখা প্যাকেট টাকে হাতে তুলে নিলো! কি সুন্দর করে প্যাকেট টাকে রেডি করে আনা হয়েছে দেখতে খুবি চমৎকার লাগছে! ইরার মনে অনেক কৌতূহল জাগলো, কি হতে পারে এই প্যাকেটে! কিন্তু ইরা প্যাকেট টা খুললো না, যেখানে ছিলো আবার সেই খানেই রেখে দিলো বিছানার উপর!
বেলকনির কার্ণিশ গেসে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো আদিল এর জন্য!হাজার টা প্রশ্ন মাথায় গুর পাক খাচ্ছে, সেসব উওর শুধু আদিল দিতে পারবে!

এর মাঝে আদিল নিজের সাওয়ার শেষ করে রুমের ভেতরে প্রবেশ করে! কি আশ্চর্য রুমের ভেতরে ইরা দাড়িয়ে তবুও কথা বলছে না! কার্বাড হতে কোনো জামা কাপড় বের ও করে নি! তবে কি ইরা রেগে আছে! হয়তো রেগে আছে, রেগে থাকারি কথা! আদিল সাওয়ার শেষ করে যে টাওয়াল জড়িয়ে ছিলো, আপাতত সেই টা পরে এগিয়ে যাচ্ছে বউ এর দিকে, মানে বউ এর রাগ ভাঙ্গাতে!
ইরা রুমে আসার পর ও নিজের বোরকা চেন্স করে নি! ইরার রাগ হলে সে সব সময় গাল ফুলিয়ে বসে থাকে! কিছুটা সময় নিয়ে আস্তে ধীরে সেই রাগ টাও প্রকাশ করে! ইরা এক ধীরে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে, আদিল এক সেকেন্ড ও সময় নিলো না! পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে দরলো বউ কে! তারপর একের পর এক চুমু দিতে থাকলো গাড়ে,গলায়! ইরা কিছু বললো না আগের মতোন চুপ করে দাড়িয়ে রইলো! তাকে দেখে মনে হচ্ছে তার শরীরে কোনো স্পর্শ না বরং আঘাত করা হচ্ছে! কিছু সময় পর আদিল ইরা কে নিজের দিকে গুরিয়ে নিলো, যখন ইরার কপালে আলতো করে চুমুর পরশ একে দিবে ঠিক তখন ইরা কর্কশ গলায় বলে উঠলো !!

____কোথায় গিয়ে ছিলেন??এখন আবার বলবেন না দয়া করে,আপনি আমেরিকা চলে গিয়ে ছিলেন!
আদিল শক্ত ডোক গিলে, মূহুর্তেই ছেড়ে দেয় ইরার শরীর, এরপর খুব স্বাভাবিক ভাবে অহনা সিকদার কে যেভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে ছিলো ঠিক সেই ভাবে ইরা কে ও বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলো!!
____বিশ্বাস করো না আমাকে??? তোমার কি মনে হয় আমি মিথ্যাবাদী!
ইরা আদিল এর চোখের ভাষা মূহুর্তেই পরে ফেলতে সক্ষম, তাই আদিল বার বার এড়িয়ে যাচ্ছে, তাকাচ্ছে না ইরার দিকে, এতে করে ইরার সন্দেহ টা হাজার গুন বেড়ে যায়!!
___আপনি ছলনা করছেন আমার সাথে, আমার বিশ্বাস নষ্ট করছেন!!!
আদিল বিষয় টাকে এড়ানোর সম্পূর্ণ চেষ্টা করতে লাগলো, হলোও তাই!!
____এত দিনে এই চিনলে নিজের স্বামী কে!

আদিল এই কথাটা বলে চলে গেলো ইরার সামনে থেকে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে ভিষণ রেগে আছে তার প্লান সাকসেসফুল, ইরা কে যা বুঝাতে চেয়ে ছিলে সেটাই বুঝিয়েছে!, মনে মনে সয়তানি হাসি হেসে কার্বাড হতে নিজের জামাকাপড় বের করে পরতে শুরু করলো!!
অন্যদিকে ইরা আদিক এর মিথ্যা ছলনায় ভুলে গিয়ে ভাবতে লাগললো,
যেখানে ইরার রাগ করার কথা, সেই খানে আদিল রাগ করে গাল ফুলিয়ে চলে আসে! এইটা দেখার পর ইরার মুখ থেকে একটাই কথা বের হয়!!

___এই টাই বাকি ছিলো, শুধু বছর নয় যুগ টাও পাল্টে দিলো এই লোক!
একদম ছ্যাচ্ছা ইডিয়েট! মেয়েদের মতোন করে গাল ফুলায়, এই লোক কে ” কে এখন বুঝাবে গাল ফুলানো এই সহজ কাজটা ছেলে দের জন্য নয়, বরং মেয়েদের জন্য বরাদ্দ কৃত!
শেষ মেষ কিনা মেয়েদের ইমোশনাল নিয়ে টানাটানি, এইটা মানা অসম্ভব! থাকুন আপনি গাল ফুলিয়ে, কে আপনার মতোন লোকের গাল ফুলানোর মতোন সস্তা কাজ করতে যাবে! ইরা মনে মনে “কিছু সময় বিরবির করে নিলো! এর মাঝে মনে মনে কয়েক শো বকা দিতেও ভুললো না! সে সাথে স্বামী কে মেয়ে দের মতোন শাড়ি পরাতেও ভুললো না!

ইরা কিছু সময় পর, মানে ইরা ভাবনার দৈঘ্য সীমানা পেরিয়ে তারপর গিয়ে নিজের বোরকা পাল্টে নিলো!
আদিব আগের থেকে এখন কিছুটা সুস্থ, আগে তো দিনে কয়েক বার অজ্ঞান হয়ে যেতো! কিন্তু এখন সে রকম কিছুই হয় না, তবে খুবি ডিপ্রেশনে দিন কাটাচ্ছে!এখন আর চেম্বারে যাওয়া হয় না, ইমারজেন্সি কাজ থাকলেও! নিজেকে সময় দিচ্ছে অনেক বেশি! আর রিমঝিম কেও, দিনের বেশির ভাগ সময় পরে থাকে রিমঝিম এর কবরের পাশে! রিফাত এখন আর আগের মতোন কথা বলে না! হয়তো মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে, কোনো রকম চিনতে পারে না কাউকে! শুধু কলির কবর জড়িয়ে সুয়ে থাকে! আদিব কে সেসব করতে দেখা যায় না! সে রিমঝিম এর কবর থেকে একটু দূরে বসে নীরবে চোখের পানি ফেলে!এবং রিমঝিম এর মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায় ভাবে!

আদিব এখন নিয়ম করে রিফাত এর জন্য খাবার নিয়ে আসে, রিফাত এর দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ অনেক খন! হাসি খুশি খুবি স্বাভাবিক একটি মানুষ কিভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছে! হয়তো আদিব এর ভালোবাসার থেকেও দ্বিগুণ ভালোবেসে ছিল কলি কে! আদিব সে তো অনায়েশে নিজের মনের সম্পূর্ণ কথা রিমঝিম কে জানাতে পেরে ছিলো! কিন্তু রিফাত সেইটা পারে নি! রিফাত আল্লাহ কে বলেছে, পরের জন্মে যেনো তাকে আর গরিব করে সৃষ্টি করা না হয়! আর যদি ও তার গরিব ঘরে জন্ম হয়ে, তবে যেনো কলির জন্ম টাও গরিব ঘরে হয়!
মানুষ এর রক্ত লাল হলেও, ভেদাভেদ অনেক! ছোট লোক বড় লোক এর বেপার সেপার!

কোথায় গিয়েছিলি, দুই দিন যাবত তোর ফোনটা বন্ধ ??
ঈশান কিছুটা বিরক্তি নিয়েই জিজ্ঞেস করলো আদিল কে, এমন কখনো হয় নি যে ঈশান কে না জানিয়ে আদিল কোথাও চলে গিয়েছে তাও আবার হঠাৎ করে! আদিল শান্ত গলাই বললো!!
___একটু কাজ ছিলো!
ঈশান কৌতূহল বশত জিজ্ঞেস করলো!!!
____কি সেই কাজ, বলা নিষেধ আছে নাকি??
আদিল গলার স্বর নামিয়ে নিচু করে বললো,যাতে ঈশান এর সন্দেহ না হয়, আদিল যে তাকে মিথ্যা বলছে ঈশান এর সেইটা বুঝতে এক সেকেন্ড ও দেরি হবে না!
____আমেরিকা গিয়ে ছিলাম, কিছু প্যারসোনাল কাজ ছিলো! ”
ইশান ঠাট্টা মেরে বললো!!!

____আমেরিকা তাও আবার প্যারসোনাল কাজ, ওই খানে তো তোর কোনো কোম্পানি ছিলো না!
আদিল বিরক্তি প্রকাশ করে বললো!!
____বোন বিয়ে দিয়েছিস বলে প্যারসোনাল প্রশ্ন করতে পারিস না!
____বোন বিয়ে দিয়েছি পরে, বন্ধু ছিলাম আগে, তাই বোন এর সম্পর্ক নিয়ে নয় বন্ধু হিসাবে জিজ্ঞেস করছি! মাইন্ড করার মতোন কিছু বলি নি আমি!
___আই নো, আমি মাইন্ড করি নি, কালকে সময় করে বাসায় আসবি সকালে!
___কেনো?? কোনো সমস্যা!
আদিল কিছুটা অসহায় কন্ঠে বললো!!
____না কোথাও ঘুরতে যেতে চাই, আমার মুড ঠিক করার জন্য!
ঈশান আদিল কে রাগানোর জন্য বললো!!
____তোর আবার কি হলো মুড এর ?? প্রেগনেন্ট নাকি! আলহামদুলিল্লাহ আমি মনে হয় আমি হয় মামা হয়ে যাচ্ছি!
ঈশান এর রাগানোর চিন্তা ভাবনা ঠিক ছিলো, তবে আদিল এর উওরে..

____সালা ছ্যাচরা, ছেলেরা প্রেগন্যান্ট হয় কেমনে? তুই কতবার প্রেগন্যান্ট হয়েছিস! জানালি না একবার, ছি ছি বন্ধু!
ঈশান বেশ অপমানিত বোধ করলো! এবং বললো!!
____সালা তোর মতোন বন্ধুর মা****রে বাপ…! ছ্যাচরা
আদিল মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো!!সিরিয়াস গলায়!!
___মনে হলো অপমান করার চেষ্টা করলি!
ঈশান একটু সিরিয়াস হয়ে গিয়ে বলোো!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৭

___তোর মনে হলো আমি অপমান করার চেষ্টা করছি!
আদিল একটু কনফিউজড সে কি বলবে, তারপর ও চিন্তা ভাবনা ছাড়া বললো!!
___হ্যা!!
ঈশান খিলখিল করে হাসতে হাসতে বললো!!!
____আলহামদুলিল্লাহ আমি স্বার্থক….!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৯