এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৩
ফাতেমা তুজ জোহরা
ইনান আষ্টে*পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে রুশভিয়ানের গ*লা।
ইনানের শ*রী*র এ*ক*টু*ক*রো সু*তো টুকু নেই…..
ভাইয়া, বাইরে থেকে কাঁপা কাঁপা গলায় ডেকে উঠলো আমির। রুশভিয়ান রা*গে ফোঁস ফোঁস করছে। বুক দ্রুত উঠানামা করছে, চোখ দুটো এখনো র*ক্তি*ম আকার ধারন করে আছে। আর ইনান মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছে,হয়তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে । পিঠ চা*ম*ড়া উঠে র*ক্তে*র ধারা বইছে। আমির বাইরে থেকে আবারো রুশভিয়ান কে ডেকে উঠলো। রুশভিয়ান ক্ষু*ব্ধ স্বরে বলল,” কি হইছে, ডাকতাছিস ক্যান?
আমির আর আওয়াজ এলো না। হয়তো ছেলেটা তার ভাইয়ের রুক্ষ কন্ঠ শুনে ভ*য়ে পেয়ে গিয়েছে। আমির আবারো কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,” ভাইয়া ওই ছেলেটা…. যে ভাবিরে নিজের প্রেমিকা কইতেছিলো তার জ্ঞান ফিরেছে। তাকে গুদাম ঘরে আ*টকে রাখা হইছে । তার খুব খা*রা*প অবস্থা। কিন্তু বারবার কইতাছে তোমার লগে জরুরি কথা আছে।
রুশভিয়ানের রা*গ*টা আবার বেড়ে গেল রকির কথা শুনে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো আবারো ধানক্ষেতের দৃশ্য। রুশভিয়ান হাতদুটো মুঠ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ইনানের র*ক্তা*ক্ত মুখের দিকে তাকালো। তার মনের মধ্যে এতটুকু অনু*শোচনা হলো না। না এগিয়ে গেল ইনানের দিকে। একমুহূর্ত চুপ থেকে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। পিছনে পড়ে রইলো ইনানের। জ্ঞান হীন শরীরটা।
রুশভিয়ান দরজা খুলে বেরিয়ে যেতেই আবারো দরজাটাকে শক্ত করে আটকে দেয়। ভেতরে ইনানের কাপড়ের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আর এখানে তার ছোট ভাই দাঁড়িয়ে আছে।
রুশভিয়ান আমিরের দিকে তাকিয়ে গমগমে স্বরে বলল,” একজন মহিলা ডাক্তার নিয়া আয়, আর হ্যাঁ এই ঘরে ভুলেও কোন ছেলে যেন প্রবেশ না করে ” কথাটুকু বলে রুশভিয়ান এগিয়ে গেল গুদাম ঘরের দিকে। আর আমির ভাইয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভেতরকার দমবন্ধ কর বাতাসটাকে বের করে প্রস্থান করলো। তাড়াতাড়ি করে মহিলা ডাক্তার আনতে হবে।
রত্নকুঞ্জের বিশাল প্রসাদ যেন অস্বাভাবিক নীরব হয়ে গিয়েছিলো। করিডরজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লাঠিয়ালদের কেউ একটি শব্দ উচ্চারন করতে পারলো না। রুশভিয়ান করিডর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার প্রতিটি পদক্ষেপ লাঠিয়ালদের মনে ভ*য়ে*র সৃষ্টি করছে। সকলের মনে শুধু এটাই ভ*য় হচ্ছে এরপর তাদের কি হবে।
রুশভিয়ান ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো। কড়িডোরের শেষ প্রান্তে থাকা ভারী সেগুন কাঠের দরজাটার সামনে দুজন লাঠিয়াল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দরজার গায়ে ঝুলছে মোটা তালা। রুশভিয়ানকে দেখা মাত্রই তারা মাথা নিচু করলো। রুশভিয়ান কোন উত্তর দিলো না। শুধু একবার দরজার দিকে তাকাতেই একজন লাঠিয়াল তাড়াতাড়ি করে তালা খুলতে আরম্ভ করলো। কড়কড়ে শব্দ তুলে দরজাটা খুলে গেল।
ভেতরের বাতাস ভারী পুরনো স্যাঁতসেঁতে গন্ধে পুরো কক্ষ ভরে আছে।
রকির দুইহাত শক্ত করে বেঁ*ধে চেয়ারের সাথে বাঁ*ধা আছে। মাথার ব্যান্ডেজ র*ক্তে ভিজে গিয়েছে। মাথাটা একদিকে এলিয়ে পড়ে আছে, মুখ দিয়ে লালা ঝড়ছে। মুখে অসংখ্য মা*রে*র দা*গ। তবু ও শু*কনীর মতো চোখ খুলে আছে। মুখে ভ*য়ে লেশমাত্র নেই তার। দরজা খোলার শব্দ পেয়ে রকি মাথা উঁচু করলো। ঠোঁটের কোনে র**ক্ত জমে কালচে হয়ে আছে। তবুও তার চোখে একরকম উদ্ধত হাসি।
রুশভিয়ান লুঙ্গিটাকে হাত ধারা উঁচিয়ে গিঁট মে**রে এগিয়ে গেল রকির দিকে। রকির সামনে দাঁড়িয়ে রুশভিয়ান আপাদমস্তক পরোক্ষ করলো রকিকে। রকি ও ঠোঁটে শয়*তানি হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে রুশভিয়ানের দিকে। দুজনের মাঝখানে নেমে।এলো নিরবতা। কয়েক মুহূর্তের পর রুশভিয়ান বরফশীতল কন্ঠে বলল,” শুনছি আমার লগে দেখা করোনের লেইগা ধড়ফড় করতাছিস?
রকি শুকনো হাসলো।তারপর মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝিয়ে বলল,” দরকার তো আছে, আপনি আমার হবু স্ত্রীকে নিজের সম্পদ ভেবে আ*ট*কে রাখতে পারেন না?
রকির কথা শুনে রুশভিয়ানের মুখে এতটুকু পরিবর্তন হলো না। সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রকির মুখের দিকে।
রকির শুকনো করে কেশে বলল,” আপনি জিজ্ঞেস করেন ইনান কে আর কিছু দিন পর আমাদের বি..….. রকি বাকি কথাটুকু বলতে পারলো না। রুশভিয়ান তার আগেই রকির বুক বরাবর লা*থি মে*রে মেঝেতে ফেলে দেয়। রকির চেয়ার নিয়ে হুড়মুড় করে মেঝেতে গড়িয়ে পড়তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো আ*র্ত*না*দ।
রুশভিয়ান তেড়েফুঁড়ে গিয়ে আরেকটা লা*থি বসিয়ে দিলো রকির বুকে। এবার চেয়ারের একটা পা ভে*ঙে রকির মাংস পেশিতে ঢু*কে গেল। রকি গ*গ*ন**বি*দা*রী চি*ৎ*কা*র করে উঠলো। তার চি*ৎ*কা*রে পুরো গুদাম ঘর কেঁপে উঠলো, প্রতিধ্বনিত হলো তার আ*র্ত*চিৎ*কার। রুশভিয়ান থামলো না এগিয়ে গিয়ে রকির শার্টের কলার ধরে বলল,” ওর তোর হবু বউ, আর ও আমার তিন কলেমা পড়ে বিয়া করা বউ। যার মাথার চুল থেইকা,পায়ের নখ পর্যন্ত এই রুশভিয়ান মির্জার। । আর একবার ওর নাম মুখে আনলে জবান ছিঁ*ড়ে কু*ত্তা*রে খাও*য়ামু শা*লা” রুশভিয়ান কথাটুকু বলে ভাঙা চেয়ারের কাঠ তু*লে আরেক পা*য়ের মাংশপেশীতে গেঁ*থে দিলো। রকি এবার চি*ৎ*কা*র দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে যাবে তার আগেই রুশভিয়ান রকির গো*প*ন*অ*ঙ্গে দিলো এক লা*থি। সাথে সাথে রকির পুরো দুনিয়া ঘুড়ে উঠলো। দুইহাত দিয়ে আ*কড়ে ধরে মেঝেতে পড়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
রুশভিয়ানের ঠোঁটে ফুটে উঠলো ক্রুর হাসি সে বিরবির করে বল, ” ওর জীবনে একমাত্র এই রুশভিয়ান থাকবো আর বাকি পুরুষ ওর লেইগা বি*ষা*ক্ত। আর বি*ষা*ক্ত পুরুষের ধ্বং*স আমি করমু ” কথাটুকু বলে রুশভিয়ান হো হো করে হাসতে লাগলো। তার হাসির শব্দ শুনে লাঠিয়ালদের কপালে ঘাম বেরিয়ে এলো। আলগোছে মুছে আবারো রোবটের মতোন দাঁড়িয়ে গেল।
রুশভিয়ান হুং*কা*র ছেড়ে বলল,” এই তোরা এদিকে আয় ” ডাকার সাথে সাথে বাতাসের গতিতে ছুটে এলো দুইজন লাঠিয়াল। রুশভিয়ান শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলল,”
বড় ক*ড়াইয়ে তে*ল দিয়ে এই বে*জ*ন্মা টা*রে ভে*জে নিয়ে আসবি। খুব সুন্দর কইরা মরিচ,হলুদ লাগাবি। যেন দেখে আমার মনটা শান্তি পাই?
লাঠিয়াল গুলো মাথা নাড়ালো। আর এদিকে রকি চেখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। কিছু বলতে যাবে তার আগেই রুশভিয়ান ঘর থেকে বের হয়ে গেল। রকির দিকে এগিয়ে এলো দুজন লাঠিয়াল।
রত্নকুঞ্জের বিশাল ফটকের সামনে এসে থামল ঘোড়ার গাড়ি। গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে এলো মধ্যবয়সী এক মহিলা চিকিৎসক ডা,সায়েরা বেগম। সাদা ধূসর ওড়নায় মাথা ঢাকা। কাঁধে চামড়ার পুরনো ব্যাগ। রত্নকুঞ্জে বহুবার এলেও আজকের রাতের পরিবেশটা অন্যরকম লাগছে তার কাছে। চারদিকে নিস্তব্ধতা।, এরইমধ্যে আমির বেরিয়ে এলো রত্নকুঞ্জের অন্দরমহল থেকে এসে বলল,” তাড়াতাড়ি আইসেন আপা। ডা সায়েরা কোন প্রশ্ন করলেন না। দ্রুত পায়ে আমিরের সঙ্গে এগিয়ে গেলেন
আমির ধীরে ধীরে দরজা খুলে সরে আসলো বাইরে। আর এগিয়ে গেল না ঘরের দিকে। তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এলো চায়ের দোকানের মেয়েটি। সায়েরা বেগমের হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে ঢুকে গেল ঘরে। দরজাটা পুনরায় লাগিয়ে দিলো। সায়েরা বেগম সামনে তাকাতেই এক মুহূর্তের জন্য ধমকে গেল।
বিশাল কক্ষের মাঝখানে নি*স্ত*ব্ধ হয়ে পড়ে আছে ইনান। মেঝের সাদা মার্বেলে ছড়িয়ে আছে তার দীর্ঘ কালে চুল। নিঃশ্বাস চলছে ঠিক, কিন্তু ক্ষীন দূর থেকে বোঝার উপায় নেই। ছায়াটা হাঁটু উপরে উঠে আছে, আর পিঠ পুরোটাই দৃশ্যমান হয়ে হয়ে আছে। চা*বু*কে*র আ*ঘা*তে*র কারনে পিঠের ব্লাউজ ছিঁ*ড়ে গিয়েছে।
পো*শাক এলোমেলো দেখে মেয়েটা তাড়াতাড়ি করে বিছানায় থেকে একটা কম্বল টেনে এনে ইনানের গায়ে দিয়ে দে। সায়েরা বেগম ইনানের পাশে বসে পড়লেন। প্রথমে আলতো করে কব্জি ছুঁয়ে নাড়ি পরীক্ষা করলেন। তার পর কপালে হাত রাখলেন। চোখের পাতা তুলে দেখলেন। কয়েক মুহূর্ত নিরব থেকে গভীর নিঃশ্বাস টেনে টেনে বলল, ” আল্লাহ!শব্দটা অজান্তে বেরিয়ে এলো ভেতর থেকে। তিনি এর আগে অনেক চিকিৎসা করছেন কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতি পরেনি।
মেয়েটার চোখ ছলছল হয়ে গিয়েছে ইনানের এইরকম অবস্থা দেখে। সায়েরা বেগম মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,” একটা পরিষ্কার বিছানা প্রস্তুত করো? কুসুম গরম পানি, পরিষ্কার সুতির কাপড়, তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো? মেয়েটা আগে বিছানা ঠিকঠাক করে সায়েরা বেগমের সাথে অত্যন্ত সাবধানে ইনান কে মেঝে থেকে তুলে বিছানায় শুয়েই বাইরে চলে গেল।
কিয়তক্ষন পর মেয়েটা পরিষ্কার কাপড়, আর গরম পানি নিয়ে এলেন। সায়েরা নিজের হাতে ভেজা কাপড় দিয়ে ইনানের মুখের র*ক্ত গুলো পরিষ্কার করতে লাগলো।তারপর খুব যত্ন করে আ*ঘা*ত পাওয়া জায়গা গুলো পরিষ্কার করতে লাগলেন। অ*বচেতন অবস্থা ইনান মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছিলো। ঠোঁট নেড়ে অস্ফুটস্বরে বলল,
আম্মা…..
আমি আর পারতেছি না….. আমার খুব ক*ষ্ট হচ্ছে আম্মা। আমাকে নিয়া যান!
সায়েরা বেগমের হাত একমুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তার বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে উঠলো। সে ইনানের কপালে আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল,” চুপ কর মা, কিছু বলিস না!
সব ক্ষ*ত পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিলেন। তারপর ইনানের শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁটে আলতো করে পানি ছোঁয়ালেন। সবশেষে তার ব্যাগ থেকে ইনজেকশন বের করে ইনানের দুই হাতে পুশ করে দিলো। এগুলো ব্যা*থা*র ইনজেকশন খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।
সায়েরা বেগম তার ব্যাগটা নিয়ে ঘর থেকে বের হতেই আমির তার পথ রোধ করে দাঁড়িয়ে বলল,” কেমন আছে ভাবী?
সায়েরা ধীরে ধীরে বলল,” এখন ভালো আছে, আমি ওষুধ আর ইনজেকশন দিয়ে দিয়েছি। তবে জ্ঞান ফিরতে সময় লাগতে পারে। আবার জ্বর ও আসতে পারে। আমি ওষুধ লিখে দিয়েছি জ্বর আসলে ওগুলো খাওয়াবে ” কথাগুলো বলে সায়েরা বেগম কিছুপথ এগিয়ে গিয়ে আবার থেমে বলল,” রুশা এতটা খা*রা*প ছিলো না আমির, আসলে আমার ভাবতে খুব ক*ষ্ট হয় তোমরা তিনজন ভাই প*শু*র অধম হয়েছো। একজন তো পাগল হয়ে গেছে আরেকজনের কথা না বললাম” কথাগুলো বলে আমির দিকে ঘুরে তাকিয়ে আবার ও বলল,” তুমি ও একটা প*শু*র থেকে কম নাও আমির। তোমার ভাই একটা বাচ্চা মেয়ের উপরে অ*ত্যা*চা*র করছে আর তুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছো কোন প্রতি*বাদ করছো না?
প্রতিবাদ কইরা কি হইবো আপা? কথাটা বলল রুশভিয়ান এগিয়ে আসতে আসতে। সায়েরা ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। না আছে তার চোখে ভ*য়, না আছে বিস্ময়তা। আমির ঘাড় ঘুরিয়ে তার ভাইয়ের দিকে তাকালো।
রুশভিয়ান একহাতে সিগা*রেট ধরে আছে ঠোঁটে, আরেক হাতে লুঙ্গি ধরে আছে। রুশভিয়ান সায়েরা বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে জিভ দিয়ে গালটাকে ঠেলা দিয়ে আবার বলল,” প্রতিবাদ কইরা কি হইবো আপা?
সায়েরা বেগম কাটকাট গলায় বলল, ” একবার নিজের দিকে তাকাও রুশান ” কথাটুকু শেষ করার আগেই রুশভিয়ান ধমক দিয়ে বলল,” চুপ করুন আপনি, এই নাম ধইরা আমারে ডাকবেন না। এই নামটায় অ*ভি*শ*প্ত, চুপ করুন ” রুশভিয়ান কথাগুলো বলে কানে হাত চাপালো শক্ত করে।
সায়েরা বেগম মুচকি হেঁসে বলল,” এত নিজের অতীতকে ভ*য় পাও রুশান? আবার সেই অতীতকে নিজের অজান্তে বাড়ীতে ঠাঁই দিয়েছো?
ব্যাস একটা কথায় রুশভিয়ান কান থেকে হাত নামিয়ে সায়েরা বেগমের দিকে তাকায়। সে বুঝতে পারলো না কোন কিছু। আর বুঝবে কেমন করে এই মহিলা অর্ধেক কথা বলে আর বাকি অর্ধেক নিজের পেটে চেপে রাখে।
রুশভিয়ান কপালে গাঢ় ভাঁজ ফেলে বলল,” মানে?
সায়েরা বেগম শব্দ করে হাসতে লাগলো। তার হাসির শব্দ শুনে আমির ভরকে গেল। এই মহিলার বরাবরই সাহস বেশি। যেখানে সবাই তার ভাইকে ভ*য় করে চলে আর এই মহিলা বুকে কোন ভ*য় নেই। আমির শুকনো ঢোক গিলে তার ভাইয়ের দিকে তাকালো।
সায়েরা কোনমতে হাসি থামিয়ে বলল,” সব বুঝতে পারবে, শুধু এতটুকু বলতে চাই চোখ দুটো খোলা রাখো সব পরিষ্কার দেখতে পাবে ” সায়েরা কথাগুলো বলে হাঁটতে লাগলো সামনের দিকে। পিছনে পিছনে এগিয়ে গেল আমির।
রুশভিয়ান কিছুক্ষণ সেখানেই নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। চেয়ে থাকলো সায়েরা বেগমের যাওয়ার পথের দিকে। রুয়ভিয়ানের কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো সায়েরার কথাগুলো। কপালের শিরা টনটন করে উঠলো। সিগা*রেটে একটান দিয়ে ঠোঁট থেকে নামিয়ে মেঝেতে ছুড়ে ফেলল। তারপর ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলো। কেন জানি আজকে তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুত লাগছে। এক ঝটকায় চোখ খুললো সে। বিরবির করে বলল,” আম্মা…. রুশভিয়ান কথাটুকু বলে বাইরে চলে গেল।আর ঘরের দিকে পা বাড়ালো না, দেখলো না মেয়েটা কেমন আছে।
রুশভিয়ান ইনানকে নিয়ে বাথটবের পানিতে শুয়ে আছে। ইনান আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে রুশভিয়ানের গলা । ইনানের শ*রী*রে এক টুকরো সু*তো টুকু নেই আর রুশভিয়ানের ও শ*রী*রে এতটুকু কা*পড় নেই। রুশভিয়ান তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত ইনানের মুখের দিকে তাকিয়ে। কিছুক্ষণ থেমে চু*মু খাচ্ছে ইনানের মুখে।
রুশভিয়ান প্রায় রাত তিনটার দিকে তার ঘরে ফিরে এসে ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। পাশে যে একটা মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে তাতে বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। এভাবে কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর রুশভিয়ান একটানে ইনানকে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতেই চমকে উঠে। ইনানের গায়ের প্রচুর তাপমাত্রা,যেন শরীর দিয়ে আ*গু৬ন বের হচ্ছে। রুশভিয়ান ইনানকে কোলে তুলে এগিয়ে গেল বাথরুমের দিকে। ইনানের শরীরে ব্লা*উ*জ আর ছা*য়া। মুখটা কালচে বর্ণ ধারন করে আছে।
রুশভিয়ান গিজার অন করে আস্তে আস্তে ইনান কে কোলে নিয়ে বাথটব ভরা পানিতে শুয়ে গেল। জ্বরের শরীরে পানির স্পর্শ পেতেই ইনানের সারা শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠে। আনমনে আকড়ে ধরে রুশভিয়ানের গলা। রুশভিয়ান আস্তে আস্তে ইনানের শরীর থেকে ব্লা*উ*জ খু*লে নেয়, তারপর ছা*য়া। ইনান শরীরে তাপমাত্রা আস্তে আস্তে ঠিক হতে লাগলো।
আর রুশভিয়ান ইনানের গ*লা*য় মু*খ ডুবিয়ে একভাবে শুয়ে আছে। এরইমধ্যে ইনান পিটপিট করে চোখ খুলে নিজেকে এমন একটা অবস্থা দেখে আবার ও চোখ বন্ধ করে নেয়। তার অবচেতন মন বলছে এটা স্বপ্ন।কিছুক্ষণ পর আবারো চোখ খুলে রুশভিয়ানের মুখ দেখে আঁ*ত*কে উঠলো। ইনান কে চোখ খুলতে দেখে রুশভিয়ানের ঠোঁটে ফুটে উঠলো বাঁকা হাসি।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১২
সে আরো জোরে চেপে ধরলো ইনানকে নিজের সাথে। ইনানের শরীর দূর্বল হওয়া সে নড়াচড়ার প্রয়াস টুকু করলো না,তার থেকে আজকে রুশভিয়ান কে খুব ভ*য় হচ্ছে তার তাই নিজেকে আরো গুটিয়ে নিলো।
রুশভিয়ান একঝটকায় ইনানকে নিয়ে পানির নিচে চলে গেল। ইনান হকচকিয়ে গেল, সে আরো শক্ত করে আকড়ে ধরলো রুশভিয়ানের গলা………
