এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৯
সেঁজুতি আক্তার
মাইরা চুপি চুপি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল। হাজেরা বেগম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। নাক ডাকছে জোরে জোরে।
মাইরা মুখ চেপে হাসল। আস্তে করে নিজের ওড়নাটা তুলে গায়ে জড়িয়ে নিল। তারপর একবার দাদির দিকে তাকাল। দাদি গভীর ঘুমে আছেন দেখে পা টিপে টিপে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
– ঠিক তখনই হাজেরা বেগম বলে উঠলেন এই ছুড়ি! কই যাস?
-মাইরার পা জোড়া থেমে গেল। তড়িৎ গতিতে পিছনে ফিরে তাকাল।
-হাজেরা বেগম চোখও মেলেননি। ঘুমের ঘোরেই কথাটা বলে আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়েছেন।
মাইরা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ওপর হাত রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। উফ্! দাদি তো ভয়ই পাইয়ে দিল।
–আস্তে করে দরজাটা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো মাইরা।
বাইরে এসে দেখল আকাশটা মেঘলা হয়ে আছে। হালকা বাতাস বইছে। গাছের পাতাগুলো হালকা বাতাসে দুলছে। মনে হচ্ছে যেকোনো সময় ঝুম বৃষ্টি নেমে আসবে।
–মাইরা ধীর পায়ে শেহরানের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। মূলত দেখতে এসেছিল মানুষটা কী করছে। দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই দেখতে পেল, শেহরান বিছানায় নেই। ঘরের ভেতর অস্থিরভাবে পায়চারি করছে।
মাইরা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। মানুষটাকে এমন অস্থির লাগছে কেন? হঠাৎ মাইরার মনে পড়ল, রাতে তো শেহরান কিছুই খায়নি। মাইরার মনটা খারাপ হয়ে গেল। বেচারা সারাদিন কিছু খায়নি। কী যেন একটা চিন্তা হলো তার শেহরানকে এভাবে না খাইয়ে রাখা যাবে না। যেই ভাবা, সেই কাজ। মাইরা পা টিপে টিপে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। রান্নাঘরে ঢুকে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। হঠাৎ একটা ঝুড়ির দিকে চোখ পড়তেই দেখল সেখানে কয়েকটা নুডুলসের প্যাকেট রাখা। ছোট চাচি হয়তো বাচ্চাদের জন্য রেখেছেন।
— মাইরা কিছুক্ষণ দ্বিধা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মনে মনে বলল,একটা নিলে কী আর হবে! ফ্রিজ খুলে দুটো ডিম আর কয়েকটা কাঁচা মরিচ বের করল। রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখল বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। মাইরা আর দেরি করল না। তাড়াতাড়ি নুডুলস রান্না করে ফেলল। রান্না শেষে সবকিছু আগের মতো গুছিয়ে রাখল। তারপর লাইট বন্ধ করে নুডুলসের বাটিটা হাতে নিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে আসলো। কিছুক্ষণ পর শেহরানের রুরের সামনে দাঁড়াল। একবার লম্বা শ্বাস নিল। তারপরে দরজায় নক করল।
–ভেতর থেকে শেহরানের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল,কে?
–মাইরা মিনমিনে গলায় বলল,আমি আসতে পারি?
–মাইরার কণ্ঠ শুনেই শেহরান থমকে গেল। তারপর আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। দ্রুত দরজার কাছে এসে দরজার পাল্লা খুলতেই হঠাৎ মাইরার হাত ধরে এক ঝটকায় তাকে নিজের কাছে টেনে নিল।
–মাইরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নুডুলসের বাটিটা শক্ত করে ধরে শেহরানের বুকের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ল।
–শেহরান এক হাত দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে অন্য হাত দিয়ে মাইরাকে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরল।
–সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে মাইরা কিছু বুঝতেই পারল না। কয়েকটা মুহূর্ত এভাবেই কেটে গেল। তারপর শেহরান ধীরে ধীরে মাইরাকে ছেড়ে দিল।
–মাইরা কয়েক পা পিছিয়ে গেল। জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল। আরেকটু হলেই যেন তার জান বেরিয়ে যেত! লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে।
–শেহরানও হালকা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ মাইরার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,তুমি এখানে কী করছো এত রাতে?
–মাইরা কোনো উত্তর দিল না। শুধু হাতে থাকা নুডুলসের বাটিটার দিকে ইশারা করল। আপনার জন্য নিয়ে এসেছিলাম। রাতে তো কিছু খাননি মনে হয়।
–শেহরান বাটিটার দিকে তাকিয়ে নির্বিকার কন্ঠে বলল,আমি খাব না। তুমি তোমার নুডুলস নিয়ে যাও।
–মাইরা চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। সত্যি আপনি খাবেন না?
শেহরান কিছু বলার আগেই শেহরানের পেটে শব্দ হলো।
–মাইরা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে হেসে ফেলল।
–শেহরান অপ্রস্তুত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
–মাইরা হাসি থামানোর চেষ্টা করেও পারল না।
–শেষ পর্যন্ত শেহরান আর কিছু না বলে মাইরার হাত থেকে নুডুলসের বাটিটা নিয়ে নিল। তারপর চুপচাপ খেতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর এক চামচ নুডুলস মাইরার দিকে এগিয়ে দিল।
–মাইরা মাথা নাড়িয়ে বলল,না।
–শেহরান আর জোর করল না। নিজেরই প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছিল। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো নুডুলস শেষ করে ফেলল।
বাটিটা টেবিলের ওপর রেখে দিল।
–মাইরা অবাক চোখে সামনে বসে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইল। এই মানুষটাই তার স্বামী। একদিকে অদ্ভুত ভালো লাগা। অন্যদিকে জমে থাকা অভিমান। দুটো অনুভূতি একসঙ্গে বুকের মধ্যে এসে দলা পাকিয়ে আসছে।
–শেহরানও মাইরার দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটা তার বউ।
কথাটা মনে আসতেই অজান্তেই ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
–মাইরা টেবিলের ওপর থেকে বাটিটা হাতে তুলে নিল।
তারপর বলল,আচ্ছা। তাহলে আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। আমি যাই।
–শেহরানের ভ্রু কুঁচকে গেল। কোথায় যাচ্ছো? মাইরা থেমে গেল। তারপরে মিনমিনে কন্ঠে বলল দাদির কাছে।
–না।
–মাইরা অবাক হয়ে বলল না মানে?
–শেহরান শান্ত গলায় বলল, তুমি এখানেই আমার সাথে ঘুমাবে।
–মাইরা ফট করে তার দিকে তাকাল। কি বলছেন আপনি?
–শেহরান ভ্রু তুলে বলল, এইভাবে তাকানোর কিছু নেই। আমি আমার বউকে বলেছি আমার সাথে থাকতে। পরনারীকে না।
–কথাটা শুনে মাইরার হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে ফেলল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে মিনমিনে গলায় বলল,
দাদি জেগে গেলে সমস্যা হবে।
–কোনো সমস্যা হবে না। আমি দাদিকে বোঝাবো। শেহরান একটু থেমে বলল,তুমি এখানে এসে বসো। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
–মাইরা আর কিছু বলল না। ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে শেহরানের পাশে বিছানায় বসল।
–শেহরান কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আলতো করে মাইরার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল।
–মাইরা সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠল। হৃদস্পন্দন যেন আরও বেড়ে গেল। ও কি লজ্জা পাচ্ছে? ভাবতেই গাল দুটো আবার লাল হয়ে উঠল। তবে লজ্জার পাশাপাশি একটা কৌতূহলও তৈরি হলো।
উনি কী বলতে চান?
–শেহরান মাইরার হাতের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
তোমাকে আমি কিছু কথা বলব। আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। কথাটা বলে শেহরান মাথা তুলে মাইরার দিকে তাকাল।
মাইরা গোল গোল চোখে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। শেহরান সামান্য হাসল। তারপর ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল।
মাসটা সম্ভবত আষাঢ়। ঘন বর্ষণের এক রাত। সেদিন বনানী থেকে সাভারের দিকে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় চারপাশটা প্রায় ফাঁকা মুষলধারে বৃষ্টি পরছে। হঠাৎ রাস্তার এক পাশে চোখ পড়তেই দেখলাম একটা মেয়ে বসে আছে। প্রথমে আমি বিষয়টা খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু এত রাতে, এমন বৃষ্টির মধ্যে একটা মেয়ে রাস্তার পাশে একা বসে আছে বিষয়টা অদ্ভুত লাগল।
কৌতূহল হলো। বাইক থামিয়ে নেমে মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেলাম। কাছে যেতেই দেখলাম মেয়েটা বসে বসে কাঁদছে। আমি ওর সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, এই মেয়ে, কী হয়েছে? তুমি কান্না করছো কেন?
মেয়েটা আস্তে করে মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল।
চোখজোড়া পানিতে ভরা। আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম, তুমি এই রাতের বেলায় এখানে বসে কী করছো? এখন কত রাত, কোনো ধারণা আছে তোমার? কোনো বিপদ-আপদ হলে?
–মেয়েটা ফেল ফেল করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর ফুঁপাতে ফুঁপাতে বলল,আমার ব্যাগটা চুরি হয়ে গেছে।
মেয়েটা আবার বলল,আমি এই শহরের নতুন। আজই এসেছি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। বাস থেকে আমার ব্যাগটা চুরি হয়ে গেছে। মেয়েটার কথা শুনে আমার বেশ মায়া,হলো।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমার বাসা কোথায়?
–মেয়েটা ভীতু কন্ঠে বলল,আমার বাসা সিলেট।
–তো তুমি কার কাছে এসেছো?
প্রশ্নটা করতেই মেয়েটা আবার কান্না করে দিল। এই শহরে আমি আমার বাবার চিকিৎসার জন্য এসেছি। আমার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। আমি বললাম, ওহ! তাহলে চলো। তোমাকে হাসপাতালে আমি পৌঁছে দিচ্ছি।
—সেদিন আমি ওকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলাম।
শেহরান একটু থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
-মাইরা এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। আর চুপ থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করল,তারপর কী হলো? ওই মেয়েটার সাথে আপনার আর দেখা হয়েছিল?
শেহরান আবার বলতে শুরু করল,হ্যাঁ। আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। তারপর থেকে ওই মেয়েটার সাথে মাঝে মাঝেই রাস্তাঘাটে দেখা হতো।একদিন ওকে জিজ্ঞেস করলাম, ওর বাবা কেমন আছে। ও বলল, ভালো আছে। আর ওরা নাকি এই শহরে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। কথাটা শুনে সেদিন আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম।
–কারণ?
–আমার জীবনে ওলি ছিল প্রথম মেয়ে, যার সাথে আমি খুব ফ্রেন্ডলি হয়ে কথা বলতাম। ওর সাথে কথা বলতে ভালো লাগত।
ওর সাথে দেখা হলে ভালো লাগত। ওকে দেখলে মনে হতো, এই ব্যস্ত শহরের মধ্যে অন্তত একজন মানুষ আছে, যার সাথে আমি নিজের মতো করে কথা বলতে পারি। একসময় ওকে আমি একটা মোবাইলও কিনে দিয়েছিলাম। কথাটা বলতে বলতে শেহরান হেসে ফেলল। তখন কতই না বোকা ছিলাম তখন!
–মাইরার বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠল। এতক্ষণ পর্যন্ত সে শুধু শুনছিল। কিন্তু এবার তার মনে হলো। তাহলে ওর সন্দেহটা সত্যি? ওর আগেও শেহরানের জীবনে অন্য একটা মেয়ে ছিল।
ওই ছবির মেয়েটাই কি সেই ওলি? মাইরা কিছু বলল না।
শুধু চুপ করে শেহরানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
শেহরান আবার বলল, ধীরে ধীরে অলির সাথে আমার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। লুকিয়ে চুরিয়ে দেখা করতাম মাঝে মাঝে। ওর জন্য বাবার কাছ থেকে কত মিথ্যা বলেছি, কত টাকা নিয়েছি তার কোনো হিসাব নেই। তখন আমার মনে হতো। আমি ওকে নিয়ে যেটা অনুভব করি, ওরও হয়তো আমাকে নিয়ে ঠিক একই অনুভূতি। আমি বিশ্বাস করতাম ওকে। ভেবেছিলাম, ওলি আমাকে সত্যিই ভালোবাসে।
–মাইরা চুপ করে শুনছিল।
শেহরানের কণ্ঠে এবার একটা চাপা তিক্ততা চলে আসলো কিন্তু মানুষকে চেনা যায় কখন জানো?
–মাইরা তাকাল শেহরানের দিকে।
–শেহরান মৃদু হেসে বলল, যখন সে তোমার বিশ্বাসটা ভেঙে দেয়।
শেহরান কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলতে শুরু করল, একদিন ওলি আমাকে দেখা করতে ডাকল। আমিও গেলাম। কিন্তু সেদিনই ও আমার জন্য ফাঁদ পেতেছিল। বর্তমানে যে আমার বিপক্ষ দলের নেতা ইলহাম শিকদার। তখন সে শুধু একজন মেম্বার ছিল। ওলি আমাকে ওর এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে গিয়েছিল। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। ও আমাকে একটা রুমে বসতে বলল। আমি বসে পড়লাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বুঝলাম, ওর বান্ধবীরা মিলে আমাকে নিয়ে একটা পরিকল্পনা করেছে।
ওরা আমাকে আর ওলিকে একটা রুমের মধ্যে আটকে দিল।
তারপর বাইরে থেকে লোকজন জড়ো করল। কিছুক্ষণ পর লোকজন এসে ভাঙচুর করে দরজা খুলল। আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো বিচারসভায়। সেদিন আমার কথা কেউ বিশ্বাস করেনি। সেখানে আমার বাবা-মাকেও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা তখন দেশের বাইরে ছিল। তাই আসতে পারেনি। পরে আমি বাবাকে অন্য একটা বিষয় বলে পুরো ঘটনাটা ধামাচাপা দিয়েছিলাম। ওনারা কেউই আজ পর্যন্ত এই ব্যাপারে কিছু জানেন না।
শেহরান কিছুক্ষণ থামলো আর সেই ইলহাম শিকদার সে সেদিন আমার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছিল। দশ হাজার টাকা।
–মাইরা নিঃশব্দে শেহরানের দিকে তাকিয়ে রইল।
শেহরান ধীরে ধীরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেদিন অনেক কষ্টে সেখান থেকে ছাড়া পেয়েছিলাম। আর সেদিনই মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।
–মাইরা আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, কী প্রতিজ্ঞা
–আমি রাজনীতি করব।
শেহরান ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি এনে বলল, ওই লোকটাকে একদিন উচিত শিক্ষা দেব। কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে নীরবতা নেমে আসলো । বাইরে জোরে বৃষ্টি পড়ছে।
এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৮
–মাইরা চুপচাপ বসে শেহরানের দিকে তাকিয়ে আছে।
শেহরান একটু এগিয়ে আসলো মাইরার দিকে। মাইরা এখনো শেহরানের দিকে তাঁকিয়ে আছে।
শেহরান বলল। আমাকে একটু সময় দেবে মাইরা। আমি কথা দিচ্ছি আমি সব ঠিক করে দিব। তোমার কষ্টের দিন আর বেশি দিন নেই। বলেই মাইরাকে নিজের বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নিল। মাইরাও চুপটি বিড়াল ছানার ন্যায় স্বামীর বুকে মুখ গুজে পড়ে রইল।
