Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৭
সুহাসিনী

“প্রেম সুইটহার্ট কোথায় তুমি? আমি চলে এসেছি জান”
মুনমুন প্রেমকে ডাকতে ডাকতে এগিয়ে যাচ্ছে। এইদিকটা খুব অন্ধকার। কেউ নেই বললেই চলে। মুনমুন তো প্রেমের ডাকে চলে এলো কিন্তু এখন সে এখন প্রেমকে কোথায় খুঁজবে।ভাবতে ভাবতে এগিয়ে গেলো।
রাহি চুপি চুপি হাঁটছে মুনমুনের পিছনে। মুনমুন বোধহয় বুঝলো তার পেছনে কেউ আছে।সে পিছনে ঘোরে দেখতে চাইলো কিন্তু তার দেখার আগেই রাহি একটা পিলারের পিছনে লুকিয়ে পড়লো।
মুনমুন কাউকে দেখতে না পেয়ে আবার সামনে হাঁটা ধরলো।একটা রুমে আলো দেখতে পেয়ে মুনমুন সে দিকে গেলো।
রাহি চাদরের মত লম্বা একটা ফেব্রিক পেয়েছে এখানে আসার সময়।সেটায় সে গায়ে জড়িয়ে মুখ ঢেকে নিল।
মুনমুন রুমে ঢুকতেই রাহিও ওর পেছনে ঢুকে তাড়াতাড়ি দরজা লাগিয়ে দিল।
মুনমুন কিছুটা হকচকিয়ে গেল, অশান্ত গলায় বলল,

“এ.. এই মেয়ে কে তুমি? দ…দরজা লাগালে কেনো?প্রেম কোথায়?”
রাহি শক্ত কণ্ঠে বললো,
“তোর মুখ তো বেশি চলে ছেমরি।তোর মুখে প্রেম শব্দটা আমার কানে বিষের মতো লাগছে।আগে তোর ওই মুখ বন্ধ করতে হবে।”
বলেই রাহি মুনমুনের গা থেকে এক টানে উড়না খুলে নিয়ে মুনমুনের মুখ গুঁজে দিল। ঘটনাটা কয়েক সেকেন্ডের মাঝে ঘটায় মুনমুন কিছু বুঝলো না।সে শুধু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।এর মাঝেই রাহি ওই রুমে থাকা আর একটা কাপড় নিয়ে ওর হাত পিছনে নিয়ে বেঁধে দেয়।
মুনমুনের একটা অভ্যাস আছে,সে যদি হালকা ভয় পায় তাহলে তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। শুধু কান্না আসে। এখনো তাই হচ্ছে না ।
রাহি মুনমুনকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। মুনমুনের চারপাশে ঘুরছে আর চিন্তা করছে।

“আচ্ছা বুইড়া আফা,বলেন তো আপনাকে কি শাস্তি দেওয়া যায় আমার জামাই এর গায়ে ঢলে পড়ার জন্যে?”
মুনমুন এর মুখে কাপড় বাঁধা,কথা বলতে পারছে না।রাহি কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,
“ওহ্,আপনি তো আবার কথা বলতে পারবেন না।দাঁড়ান আমিই একটা সুন্দর ঝাকানাকা উপায় বের করি।”
আবার চিন্তার সাগরে ডুব দিল রাহি। প্রায় মিনিট খানেক পরে উৎফুল্ল হয়ে বলল,
“পেয়েছি পেয়েছি।আপনি তো আমার জামাই এর বাঁধাকপি, মানে বান্ধবী। তার মানে আপনি বয়সে আমার থেকে ঢের বড় তাই আপনার উপর তো আর হাত তুলতে পারিনা। ওয়েট শাস্তির প্রসেস শুরু করছি আমি।”
বলেই মুনমুনকে কাতুকুতু দেওয়া শুরু করলো। বেচারী মেয়েটা কান্নার মাঝেই হেসে লুটিয়ে পড়ছে।
রাহিও বেশ মজা পাচ্ছে। একবার হাতের নিচে তো আরেকবার পেটে।এভাবে সারা শরীরে হাত বিচরণ করতে লাগলো রাহি।

হাসতে হাসতে মুনমুনের পেতে খিল ধরে গেছে।কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আর চোখে ক্ষোভ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
অনেকক্ষণ মুনমুনকে এভাবে জ্বালানোর পর রাহী বলল,
“কি রে অন্যের জামাই এর গায়ে টাচ্ করার স্বাদ মিটেছে?নাকি আরও একটু আদর করবো সোনাপাখি”
মুনমুন অনবরত মাথা দু পাশে নাড়াতে থাকল।রাহি বললো,
“তার মানে বোঝাতে চাচ্ছেন আপনার শিক্ষা হয়ে গেছে।”
মুনমুন উপর নিচ মাথা নাড়ালো।
তখনই দরজায় কেউ করাঘাত করছে।রাহি এবার কিছুটা ঘাবড়ে গেলো। দরজার বাইরে কোনো পুরুষালি কণ্ঠ শুনা যাচ্ছে। প্রেম বাইরে থেকে ডাকছে রাহিকে,

“এই মেয়ে দরজা খোল বলছি। এক্ষুনি দরজা না খুললে কিন্তু এখানে ফেলেই বাসায় চলে যাবো।”
রাহি ভ্রু কুচকালো।ভাবলো প্রেম জানল কীভাবে সে এখানে।রাহি গিয়ে ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দিলো।
প্রেম আর শান্ত হম্বিতম্বি করে রুমে ঢুকলো।মুনমুনের এই অবস্থা দেখে তাদের দুজনের চোখই কপালে।এই মেয়ে করেছেটাকি। শান্ত গিয়ে তাড়াতাড়ি মুনমুনের বাঁধন খুলে দিলো।
ছাড়া পেয়েই মুনমুন আবার দৌঁড়ে এসে প্রেমকে জড়িয়ে ধরলো। কান্না করতে করতে বলল,
“প্রেম তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে?এই মেয়েটা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে জান।”
প্রেম কিছু বলার আগেই রাহি মুনমুনের হাত ধরে টেনে তার দিকে ঘুরিয়ে শরীরের সব শক্তি দিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“ভেবেছিলাম তোর গায়ে হাত তুলবো না।কিন্তু তুই সোজা হলি না। কথায় আছে না কুত্তার লেজ কখনো সোজা হয় না।তুই তো কুত্তী।তোর লেজ তো কুত্তার চেয়েও ত্যাড়া।”
রাহির রাগ দেখে শান্ত প্রেমকে বললো,

“প্রেম তুই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছিস,আটকা রাহিকে। মুনমুন যদি ওর বাবাকে বলে তাহলে কিন্তু বড় ঝামেলা হয়ে যাবে। ওর বাবাও কিন্তু এমপির।”
প্রেম ভাবলেশহিন ভাবে জবাব দিল,
“তো?আমি কি ভয় পায় নাকি?আমার বউ যেমন কাউকে ভয় পায় না ,আমার বেলায় ছোট বড় মানে না আমিও তেমন আমার বউ এর বেলায় ছোট বড় মানি না।”
মুনমুন রাগে বললো,
“এই মেয়ে অনেকক্ষণ ধরে তোর যন্ত্রণা সহ্য করছি।এবার আর নাহ্।”
এরপর প্রেমের কাছে গিয়ে বলে,
“প্রেম তুমি ওকে কিছু বলছো না কেনো?ও নিজেকে তোমার বউ বলছে কেনো?”
শান্ত বলে,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৬

“তিন কবুল পড়া বউ নিজেকে বউ বলবে না তো কি খালা বলবে?”
রাহি আর মুনমুনকে সুযোগ দিলো না। ধড়াম করে দুইটা কিল বসিয়ে দিল মুনমুনের পিঠে।
“আরও আমার জামাই এর কাছে ঘেষবি বল।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৮