এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৯
সুহাসিনী
দর্শকের সামনের সারিতে ভিআইপি চেয়ারে বসে আছে এমপি তাহির খান প্রেম,তার পাশে বসে আছে লিয়ন। দুজনের চোখই স্টেজে নাচতে থাকা দুই তরুণীর পানে স্থির।
প্রেম তার হাত দিয়ে লিয়নের চোখ বন্ধ করে দিলো। গম্ভীর গলায় বলল,
“একদম তাকাবি না আমার বউ এর দিকে।নিজের ভাবির দিকে কেউ এভাবে তাকায়?ভাবি হচ্ছে মায়ের সমতুল্য। জানিস না।”
“ভাবি মায়ের সমতুল্য মানলাম ভাই কিন্তু ভাবির বান্ধবী তো বউ এর সমতুল্য হতেই পারে। অন্তত তাকে দেখতে দিন।”
প্রেম হাত সরিয়ে নিলো।রাহিকে তার দিকে তাকিয়ে নাচতে দেখে প্রেম বুকের বাঁ পাশে নিজের হাত চেপে ধরে বলল,
“আমার বুকটা কেমন চিনচিন করছে লিয়ন।বউটাকে খুব করে কাছে পেতে ইচ্ছে করছে।মন চাইছে ভালোবাসা দিয়ে ওকে ধ্বংস করে দিতে। ওকি বুঝে না আমার আমার ওকে এভাবে দেখলে কষ্ট হয়।মনের ভেতরটা কেমন উথাল পাথাল করে।”
প্রেমকে এভাবে বুকে হাত দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাহি ভয়ে নিজের নাচ থামিয়ে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।নিপা ওকে এমন করতে দেখে নাচের মধ্যেই হালকা ধাক্কা দেয়।ঘোর থেকে বেরিয়ে রাহি তাড়াতাড়ি নাচ শেষ করে।
নাচের পুরোটা সময় রাহির আত্মা কেঁপেছে।এখন আল্লাহু জানে তার ভাগ্যে কি আছে। একে তো নেচেছে তার উপর আবার শাড়ি পরে।
অনুষ্ঠান শেষ হতে আরও ঢের বাকি।প্রেম এখানে চিফ গেস্ট হিসেবে এসেছে।প্রেম তাদের এই ছোট অনুষ্ঠানে আসাতে স্কুলের টিচারদের খুশি দেখে কে।
প্রেম লিয়নকে বললো অনুষ্ঠান যেনো শেষ করে দেয়।তার কাজ আছে আর সে নিজে নাচের পুরস্কার তুলে দিতে চায়।
টিচাররাও রাজি হয়ে প্রেমকে পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য স্টেজে ডাকলো।প্রেম স্টেজে উঠতেই তাকে একটা চিরকুট দেওয়া হলো।এখানে নাচের প্রথম স্থান অধিকারীর নাম লেখা আছে।প্রেম চিরকুটটা একবার দেখে ফেলে দিয়ে মাইকে শান্ত স্বরে বলল,
“নাচে প্রথম হয়েছে রাহি ও তার দল। দয়া করে স্টেজে আসুন আপনারা।”
যেই টিচার প্রেমকে চিরকুট দিয়েছিলেন তিনি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন।কারণ চিরকুটে অন্য কারো নাম ছিল।রাহি মাঝখানে নাচ থামিয়ে দেয়ায় তাদেরকে তৃতীয় স্থান দেওয়া হয়েছিল।লোকটা কিছু বলতে যাবে তখনই প্রেম চোখ গরম করে তাকায় উনার দিকে।তিনি আর কিছু বলার সাহস পায়নি।
লিয়নও উঠেছে স্টেজে।সে প্রেমকে ফিসফিস করে বললো,
“ভাই আমার না আপনার কাছে একটা আবদার আছে।”
“বল।”
“ভাবীকে পুরস্কারটা আপনি দেন আর ভাবির বান্ধবীদের আমি দেয় প্লীজ।”
“বান্ধবী তো দুইটা কাকে দিবি?”
“দুইজনকেই, যাকে পটাতে পারি। দুজনের মধ্যে থেকে একজন পটলেই হলো,আবার দুইজন একসাথে পটলেও সমস্যা নেই, আই উইল ম্যানেজ।”
শেষের কথাটা লজ্জার সহিত বলল লিয়ন।লিয়নের এই ধরনের কথা শুনে প্রেম কেশে উঠলো। রাহিরা চলে এসেছে পুরস্কার নিতে।তাই আর কথা বাড়ালো না প্রেম।
লিয়ন আগে রাহির দুই বান্ধবীকে পুরষ্কার দিলো।তারা নেমে যাচ্ছে।প্রেম রাহিকে পুরস্কার দেওয়ার সময় রাহি ফিসফিস করে বলল,
“সরি এমপি সাহেব, আর কখনো আপনার অবাধ্য হবো না।এখন থেকে বাধ্য বউ এর মতো চলবো।”
প্রেমও ফিসফিস করে বললো,
“আজ বাড়িতে চলুন ম্যাডাম।আমার অবাধ্য হওয়ার এমন শাস্তি আপনাকে আজকে দিবো যেনো প্রতি রাতে আপনি এমন শাস্তি পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকেন।”
রাহি প্রেমের কথার অর্থ বুঝলো না।প্রেম ঠোঁট কামড়ে হাসলো।কিন্তু সেটা কারো চোখে পরার মতো না।
রাহি আর দাঁড়ালো না নেমে গেলো স্টেজ থেকে।
রাহি প্রেমের সাথে বাড়ি ফিরছে।তাকে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত দেখতেও দিলো না।রাহি আর প্রেম পাশাপাশি বসে আছে।প্রেম কোনো হেলদুল নেই।রাহি ভয়ে কোনো কথাও বলছে না।ওইদিন শাড়ি পড়া নিয়ে যেমন রাগ দেখিয়ে ছিল প্রেম টা ভাবতেই তার শরীরে কাটা দিয়ে উঠে।সে প্রেমের খারাপ ব্যবহার নিতে পারে না।
বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামে।রাহি গাড়ি থেকে নামতে গেলে প্রেম তার হাত ধরে নেয়।তারপর লিয়নকে বলে,
“সামনে যেনো কারো চোখ খোলা না থাকে।”
লিয়ন সাথে সাথে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।নিজের সাথে ড্রাইভারেরও চোখ হাত দিয়ে ঢেকে দেয়।
রাহি বুঝতে পারছে না প্রেম কি করতে চাইছে।প্রেম রাহিকে টেনে নিজের দিকে এনে গালে হালকা করে একটা শুকনো চুমু খায়।এর পর মুখ কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“রাতে ইউনিক শাস্তি পাওয়ার জন্য রেডী থাইকেন বেগমজান। ছোটো বলে আপনাকে আর ছাড় দিতে পারছি না, সরি বেগমজান।”
রাহির কানের লতিতে আস্তে করে একটা কামড় বসায় প্রেম।
রাহির সারা শরীরে শিহরণ বয়ে যায়। সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে।মনের কোণে কিছু একটা উকি দিচ্ছে তাঁর।তার এখন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে মন চাইছে, এ কেমন অনুভূতি।
রাহিকে কোলে করে গাড়ি থেকে নামিয়ে দরজার কাছে দিয়ে এসে প্রেম রাতে ফিরবে বলে চলে যায়।
লজ্জায় রাহি তখন থেকে মাথা নিচু করে আছে যে আছেই।প্রেম চলে যাওয়ায় পরও তার লজ্জা কমছে না।লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।লজ্জার তোপে কলিংবেল দিতেও ভুলে গেছে।তার পরণে এখনও সেই স্কুলে পড়া শাড়ি।
হঠাৎ দারোয়ানের কোথায় তার হুশ ফিরলো,
“এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো আপামনি?”
“কিছুনা, এমনিই”
রাহি কলিং বেল চাপলো।কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির মেড এসে দরজা খুলে দিলো।রাহি কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা রুমে গেলো।
রুমে ঢুকতেই তার বুকে কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।চোখের সামনে নিজের অতি পছন্দের জিনিস গুলো ভেঙে চুরমার হয়ে আছে।মুহূর্তেই চোখ জোড়ায় পানি জমলো তার।ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো।
নিজের হাতে এতো যত্ন করে বানানো জিনিসগুলো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলো ।কান্নার যেনো আজ বাঁধ মানছে না।শত চেষ্টা করেও আটকে রাখতে পারছে না।
কিছুটা এগিয়ে যায় রাহি।তার শখের মেকআপ বক্স টুকরো টুকরো হয়ে আছে।রাহির মাথায় আসছে না এরকম কে করতে পারে।
হঠাৎ তার পায়ে কিছু একটা বিধলো।চোখ মুছে তাকিয়ে দেখলো তার সবচেয়ে প্রিয় চুড়ি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে।এবার মুখ চেপে কেঁদে উঠলো রাহি। কষ্ট হচ্ছে খুব ।কান্না করতে করতে বারান্দায় গেলো সে।সেখানে গিয়ে আরেক ধাক্কা।
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৮
গাছ গুলো কেমন থেতলে আছে ফ্লোরে। রাহি কি করবে বুঝতে পারছে না।হঠাৎ তার শরীর কেমন অস্বাভাবিক ভাবে কাপতে লাগল। খিঁচুনি আরম্ভ হচ্ছে আস্তে আস্তে। খেঁচতে খেঁচতে এক পর্যায়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে সে,, জ্ঞান হারায়। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে অনবরত।
এরকম অ্যাটাক এটাক এর আগেও অনেকবার হয়েছিল রাহির।রাহির মা যখন মারা যায় তখন থেকেই শুরু হয় তার এই রোগ।নিজের কোনো প্রিয় জিনিস হারালে সহ্য করতে না পেরে প্যানিক অ্যাটাক
শুরু হয় মেয়েটার।
