Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২০

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২০

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২০
সুহাসিনী

বিকাল সাড়ে চারটে,
প্রেম নিজের কেবিনে বসে ফাইল দেখছে। এর মাঝেই ফোন বেজে উঠলো তার। ফোনের স্ক্রিনে আয়েশার নাম জ্বলজ্বল করছে। প্রেম কল রিসিভ করলো।
“হুম বল”
ওপাশ থেকে আয়েশার অস্থির কণ্ঠ শোনা গেল,
“ভাইয়া তুমি কোথায়?তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যাও, রাহির অবস্থা ভালো না। ওর কি জানি হয়েছে।”
কান্নার তোপে কথা বের হচ্ছে না আয়েশার।প্রেম স্তব্ধ হয়ে গেছে আয়েশার কথা শুনে।দুপুরেই তো সে হাসি খুশি অবস্থায় বাসায় রেখে আসলো রাহিকে এর মধ্যে এমন কি হলো যে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
প্রেম আর কিছু ভাবতে পারলো না।সে আয়েশার কাছে হাসপাতালের ঠিকানা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়লো।
আয়েশা বিকাল দিকে রাহিকে ডাকতে এসেছিল। দুপুরে খাওয়ার জন্যে নিচে নামেনি দেখে আফরোজা বেগম তাকে পাঠিয়েছিল।রুমে এসে রুমের এমন মুমূর্ষ অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায় সে।রাহিকে রুমের কোথাও খুজে না পেয়ে বারান্দায় যায়। বারান্দায় রাহিকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে সবাইকে জানায়।
আফরোজা বেগম দারোয়ান আর কিছু গার্ডের সাহায্য নিয়ে রাহিকে হাসপাতালে আনে।

হাসপাতালের করিডোরে বসে আছে আমজাদ খান আর আফরোজা বেগম। উনাদের চেহারায় চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।
প্রেম কেমন অগোছালো ভাবে ছুটে এসে ওর মাকে অস্থির কণ্ঠে বললো,
“ও কোথায় আম্মু?কি হয়েছে ওর?”
ওর মা কিছু বলার আগেই প্রেম ওর বাবার কাছে গিয়ে একই ভাবে বললো,
” কি হলো কেউ কোনো কথা বলছ না কেনো?ওকে হসপিটালে আনা হয়েছে কেনো? দুপুরেও তো ঠিক ছিল আমার সাথে।প্লীজ কথা বলো তোমরা, স্পিক আপ।”
তখনই ডাক্তার বেরিয়ে আসলো কেবিন থেকে।প্রেমকে দেখে ডাক্তারের ভ্রূ কুঁচকে গেল। এই এলাকার এমপি হসপিটালে কি করছে।মুখে কিছু না বলে আমজাদ খান এর দিকে এগিয়ে গেলো।
প্রেম ডাক্তারকে বললো,
“কি হয়েছে ওর ডক্টর?”
ডাক্তার স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিলো,
“প্যানিক অ্যাটাক,হয়তো কোনো কিছুতে উনি বেশি অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন। যখন কোনো প্রিয় জিনিস হারিয়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক সেটা “হুমকি” হিসেবে নেয়।

তখন শরীরের fight-or-flight response চালু হয়।উনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।আশেপাশে কেউ থাকলে হয়তো এতো গুরুতর অবস্থা হতো না। উনার সাথে কথা বললেই আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যেতো।অনেকক্ষণ অজ্ঞান থাকায় শরীর কিছুটা দুর্বল।তবে ভয়ের কিছু নেই।এর পর থেকে উনার প্রিয় জিনিস গুলো যেন নষ্ট না হয় বা হারিয়ে না যায় সেই দিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে মিস্টার প্রেম।”
প্রেম উত্তরে কিছু বলল না।চিন্তার সাগরে ডুব দিল।ডাক্তার কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,
“বাই দ্যা ওয়ে উনি কে হয় আপনার?”
“এভরিথিং”

বলেই কাউকে কল করতে সাইডে চলে গেলো।ডাক্তার কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে ভাবলো হয়তো বোন হয়।তাই বেশি না ভেবে আমজাদ খান রাহি এখন বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন বলে চলে গেলো।
আমজাদ খান আর আফরোজা বেগম টাশকি খেয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।যেই ছেলে সবসময় বলে বউ মানি না বউ মানি না।আজকে সেই ছেলে সবার সামনে সেই বউকেই নিজের সবকিছু বলে দাবি করছে।সেই বউ এর জন্যই কেমন অস্থির হয়ে গিয়েছিল।পাগলের মতো আচরণ করছিল।
আমজাদ খান ছেলের মুখে এই কথা শুনে খুশিতে আফরোজা বেগমকে জড়িয়ে ধরে লাফিয়ে বলে উঠে,
“মেনেছে,আমার ছেলে রাহিকে বউ বলে মেনেছে,শুধু বউ না রাহিকে নিজের সবকিছু বলেছে।আমি আজ স্বার্থক প্রেমের মা।”
আফরোজা বেগম রাগে লজ্জায় আমজাদ খানকে ধাক্কা মারেন। তাল সামলাতে না পেরে আমজাদ খান চেয়ারে গিয়ে বসে পড়েন।কিছুটা ভয় পেলেও মুখ থেকে উনার হাসি সরে না।তখন প্রেম এসে গম্ভীর স্বরে বলল,
“ছিঃ আব্বু,একটু তো লজ্জা পাও,এটা হাসপাতাল তোমার বেডরুম না।”
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে আমজাদ খান থতমত খেয়ে গেলেন। আফরোজা বেগম রাহির কাছে চলে গেলেন।

রাহি খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে।একটু আগেই আফরোজা বেগম এসে নিজে হাতে তাকে খাইয়ে দিয়ে গেছেন।রাহি বুঝতে পেরেছে তার প্রিয় জিনিস গুলোর সাথে এমন করেছে আশা।কারণ এই বাড়িতে আশা ছাড়া আর কেউ তার শত্রু না।
আয়েশার রুমে আছে এখন রাহি।সে নিজের রুমে যেতে চায়নি বিধায় তাকে আয়েশার রুমেই রাখা হয়েছে আপাতত।রাহিকে মন খারাপ করে থাকতে দেখে আয়েশা বলে,
“মন খারাপ করো না রাহি।আব্বু বলেছে রাতে খাওয়ার সময় সবাইকে এক সাথে জিজ্ঞেস করবে যে কে করেছে এমন কাজ।আমিও তো বাসায় ছিলাম না,আশা আপুও শপিং এ গিয়েছিল।আম্মু ছিল আমার সাথে আর ফিরোজা আন্টি তো সারাদিন সিরিয়াল নিয়েই থাকে।তাহলে কে করতে পারে এমন জঘন্য কাজ।বাসার মেড দেরও তো এত সাহস হবে না।”

“প্লীজ আপু এসব কথা এখন বাদ দাও,যা হবার হয়ে গেছে।এসব আবার মনে করে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে চলো আমি আর তুমি মিলে লুডু খেলি,তাহলেই মন ভালো হয়ে যাবে আমার।”
রাহির কথায় সায় দিল আয়েশা।দুজনে মিলে লুডু খেলতে শুরু করলো।
রাহির মন খেলায় নেয়। সে খুব অভিমান করেছে তার এমপি সাহেব এর উপরে।সে এতো অসুস্থ অথচ তার একটা খবর পর্যন্ত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না লোকটা।তাকে এতোই ঘৃণা করে যে অসুস্থ অবস্থায়ও একবার তার খোঁজ নেওয়া যায় না।এসব ভাবতে ভাবতেই রাহির চোখের কোণে পানি জমলো।সেটা আয়েশার চোখে পড়ার আগেই নিখুঁত ভাবে টা আড়াল করলো মেয়েটা।তার এই গুণ ভালোই আছে বলতে হবে।কখনও কারও কাছে নিজের কষ্ট প্রকাশ হতে দেয় না সহজে। সবসময় নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রেখে সবার সামনে হাসিখুশি থাকে।

এখন রাত আটটা,
রাহি ঘুমিয়ে গিয়েছিল সন্ধ্যায়। তীব্র ফুলের সুবাস এসে নাকে বারি দিচ্ছে বার বার।রাহির ঘুম ছুটে গেলো। পিটপিট করে চোখ খুললো।নিজেকে প্রেমের রুমে আবিষ্কার করে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো।পরমুহূর্তে চিন্তা করলো,সে তো আয়েশার রুমে ঘুমিয়েছিল তাহলে এখন প্রেমের রুমে কি করছে।
রুমটা অন্ধকার। রাহি উঠে লাইট জ্বালালো।রুমের অবস্থা দেখে তার চোখ কপালে। পুরো রুম কাঁচা ফুল দিয়ে সাজানো, এবং কি সে যে বিছানায় ঘুমিয়েছিল সেটাও কাঁচা ফুল দ্বারা সুসজ্জিত। হঠাৎ রাহির চোখ পড়লো বারান্দার দিকে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৯

সে তাড়াতাড়ি বারন্দায় গেলো। পুরো বারান্দা নানা ধরনের গাছে ভর্তি।অনেক বড় বড় এলোভেরা গাছ।আগে যত ধরনের গাছ ছিল তার চেয়েও বেশি গাছ। এখানে এমন জাতের গাছ আছে যা রাহি চিনে না, আগে কখনো দেখেওনি।
হঠাৎ পেছন থেকে কেউ রাহিকে জরিয়ে ধরলো,প্রেম শীতল কণ্ঠে বললো,
“মন ভালো হয়েছে বেগমজান?”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২১