কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২৭
তন্ময়ী তিতিক্ষা
সবে স্কুলের যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বের হয়েছে মেহর। কাঁধে ব্যাগ চাপিয়ে কিছুটা লাফিয়েই সামনে এগোলো চঞ্চলা মেয়েটা। হুট করে উপরে কোনো ছেলেকে উঁকি ঝুঁকি দিতে দেখে পদযুগল নিমিষেই থেমে গেল তার। ভ্রুঁ কুঁচকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা চালাল ব্যাপারটা। আরে! এটা তো তার আর্শি আপুদের বাসা। কিন্তু এই ছেলে কে? বেশ খানিকটা অবাকতা নিয়েই নিজের পথ ঘুরালো মেহর। গুটিগুটি পায়ে উঠে এলো দোতালায়। এখনও ছেলেটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুটা একটা করছে। ছেলেটার পিছনের অংশ দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে একটা যুবক বয়সী ছেলেই হবে। মেহর কিছুটা কৌতূহল নিয়েই এগিয়ে গেল। উচ্চস্বরে বলে উঠল,
“এই আপনি কে? এমন উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছেন কেন? চুরির মতলব আছে নাকি?”
ছেলেটা কিছুক্ষণ নড়লো না। যা দেখে কপালে কয়েকটা ভাঁজ পড়ল মেহরের। এবার সে সিউর এটা চোরই হবে। নাক ফুলিয়ে কিছুটা চিল্লিয়ে বলে উঠল,
“এই চোর। চুরি করার সময় পান না? আমি এক্ষুনি চিল্লিয়ে মানুষ জোড়ো করব।”
এবার মানুষটা ঘুরলো। ঘুরতেই মেহরের দৃষ্টি যেন স্থির হয়ে গেল সামনে থাকা মানষটার ওপর। এতদিন বান্ধুবীদের ক্রাশ খাওয়ার গল্প বহুবার শুনেছে সে। কিন্তু এই প্রথম বুঝি সেও ক্রাশ খেয়েই ফেলল? কথাটা ভেবেই ড্যাবড্যাব করে সামনের মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইলো মেহর। ইশশ! সামনের ছেলেটা কত সুন্দর!
আযরান মিহিরকে সকাল সকাল আসতে বলেছিলো। কি প্রয়োজনীয় কথা আছে নাকি। কিন্তু এসে দরজায় তালা ঝুলানো দেখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আযরানকেই কল দেওয়ায় ব্যস্ত ছিল মিহির। আকস্মিক কোনো মেয়ের কন্ঠে চুরির কথা শুনে কিছুটা থমকে ছিলো সে। কিন্তু পরক্ষণেই সরাসরি চোর অপবাদ দেওয়ায় প্রচন্ড রাগে যেন মস্তিষ্ক জ্বলে উঠে তার। সাথে সাথে ঘাড় বাঁকিয়ে চাইল মিহির। কিন্তু সামনে স্কুল ড্রেস পরিহিত একটা মেয়েকে হা করে তাকিয়ে থাকে দেখে কপাল কুঁচকে গেল তার। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। কিন্তু মেয়েটার কোনো হেলদোল না দেখে এবার খানিকটা বিরক্ত হলো। কিছুটা ঝাঁঝালো স্বরে বলে উঠল,
“এই মেয়ে! তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে চোর বলার?”
হুশ ফিরল মেহরের। এতক্ষণ হ্যাবলার মতো একটা ছেলের দিকে তাকিয়ে ছিল ভেবেই সামান্য লজ্জা পেল খানিকটা। মনে মনে থাপ্পড়ও বসালো নিজের গালে। মিহিরকে দেখে যেন মেহরের গলা দিয়ে শব্দও বের হচ্ছে না। ঘুরে ফিরে শুধু চোখ আঁটকে যাচ্ছে সামনে থাকা ছেলেটার দিকে। এবার কিছুটা গলা খাঁকারি দিল মেহর। এমন ভাব করল যেন কিছুই হয়নি। পূর্বের রূপে ফিরে গিয়ে পুনরায় বলে উঠল,
“ঠিকই তো বললাম। আপনি আর্শির আপুদের বাসায় উঁকি দিচ্ছেন কেন যদি চুরি করার উদ্দেশ্যই না থাকে?”
“উঁকি কোথায় দিচ্ছিলাম অদ্ভুত। আর্শি আর আযরান আমার ফ্রেন্ড। ওরা বাসায় নেই দেখে এখানে দাঁড়িয়ে কল দিচ্ছিলাম।”
মেহর জিভে কামড় দিল । ইশশ! কি ভুলটা করে ফেললো। নিমিষেই জোড়পূর্বক হাসি ফুঁটিয়ে তুলল ঠোঁটের কোণে। মাথা নিচু করে কিছুটা আমতা আমতা করে বলে উঠল,
“ইয়ে..মানে! আসলে সরি ভাইয়া। আমার বুঝার ভুল ছিল।”
এবার মেহরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত চক্ষুদ্বয় বুলালো মিহির। মেহরের পরনে স্কুল ড্রেস। দু’পাশে দু’টো বেনি ঝুলছে। যার কারনে হয়তো কিছুটা বাচ্চা বাচ্চা লাগছে মেয়েটাকে। যদিও এই বয়সের মেয়েকে বাচ্চা বলা চলে না। নজর ঘুরিয়ে ফেলল মিহির। কথা বাড়াতে চাইলো না আর। শুধু বলে উঠল,
“ইটস ওকে।”
আঁড়চোখে একবার সামনে দাঁড়ানো ছেলেটাকে দেখে নিলো মেহর। বুকের ভেতরটা কেমন কেমন করছে। পায়ের পাতায় যেন কিছুটা একটা সুড়সুড়ি দিচ্ছে তার। নামটা জানতে পারলে মন্দ হতো না। এইসব ভেবেই কথা বাড়ানোর উদ্দেশ্য মেহর নিচু কন্ঠে বলে উঠল,
“আযরান ভাইয়া আর আপু তো ভার্সিটিতে গেছে। আসতে হয়তো দুপুর হবে।”
“আচ্ছা।”
কথাটা বলেই জায়গা প্রস্থার করল মিহির। এত দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ায় থতমত খেয়ে গেল মেহর। অপ্রভিত হয়ে গেল নিমিষেই। অবাক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইলো মিহিরের যাওয়ার পানে। এত ভাব? তার সাথে ভাব নিয়ে চলে গেলো? এতো রীতিমতো তাকে অপমান।
সূর্যের অতি রশ্মিতে উত্তপ্ত জনসমাজ। তীব্র তাপদাহে প্রত্যেকের বেহাল দশা। ভার্সিটির মাঠে বিশাল বটগাছের ছায়াতলে আজ আড্ডার আসর বসিয়েছে পুরো বন্ধুমহল। অনেকগুলো দিন পরে সকলে একসাথে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সকলের। খালি বোতলটা ছুঁড়ে ফেলে খোলা মাঠের খোলা ঘাসে শুয়ে পড়ল মিহির। মাথার নিচে হাত দিয়ে পা দু’টো তুলে দিলো নীলার ওপর। কিছুটা আফসোস করতে করতেই বলে উঠল,
“শালার যেই গরম পড়ছে। বউয়ের মুখে দেখার আগেই সূয্যিমামা মনে হয় টপকাই দিবে।”
“সূর্য মামা পরে। তুই পা সরা নয়তো তোকে আমি এক্ষুনি টপকে দিবো।”
সকলে একবার ফিরে চাইলেও পুনরায় নিজেদের কথায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সকলে মিলে প্ল্যান করছে রাইসার বিয়ে উপলক্ষে গ্রামে যাওয়ার। আর্শি আযরানের নিকট মানুষ বলতেই এই বন্ধুমহল। তাই তারাও পুরোদমে সামিল হয়েছে প্ল্যান করতে। তাদের কাজে পুনরায় বাগড়া দিল মিহির। আফসোসের স্বরে নিজের বুক চাঁপড়াতে চাঁপড়াতে সকলের উদ্দেশ্যে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠল,
“ওরা কিসের বন্ধু ভাই। এই যে আমি সিঙ্গেল মরছি তোদের কি মায়া হয় না? তোরা তো পারিস এই পেত্নীর সাথে ধরে বেঁধে আমার বিয়েটা দিয়ে দিতে?”
আর্শি বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে মিহিরের কপালে টোকা মেরে বলল,
“চুপ কর ভাই। আমরা এখানে সিরিয়াস প্ল্যান করছি, আর তুই শুরু করছিস বিয়ে বিয়ে নাটক।”
“নাটক না রে আর্শি, এটা আমার অন্তরের আর্তনাদ।
বুকের ওপর হাত রেখে কাতর মুখে বলল মিহির। নীলা রাঙালো। পা ঝাঁকিয়ে মিহিরের পা সরিয়ে দিল নিজের কোল থেকে। কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল,
“এটা অন্তরের আর্তনাদ না, তোর হরমোনের আর্তনাদ।”
“এই দেখ বন্ধু! কেমনে অপমান করে। আমি তো শুধু একটা শান্তশিষ্ট, ভদ্র, লাজুক মেয়ে চাই।”
এতক্ষণ চুপচাপ গম্ভীরমুখে বসে ছিল আযরান। আর্শির মিহিরকে টোকা মারার ব্যাপারটা তার পছন্দ হয়নি। ভিতরে ভিতরে কেমন জ্বলে উঠছে। সকলের চোখের আড়ালে কোমড় আঁকড়ে ধরল আর্শির। আর্শি চমকাল, ভরকাল। চক্ষুকোটর বেরিয়ে আসার জোগান। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ঘুরিয়ে পাশ ফিরে চাইল সে। আযরান একদম ভাবলেশহীন বসে রয়েছে। যেন কিছুই হয়নি। আর্শি কোমড় থেকে হাত সরানোর চেষ্টা করতেই তা আরও জোড়ালো ভাবে আঁকড়ে ধরল আযরান। সামনে দৃষ্টি রেখেই গম্ভীরস্বর আর নিচু স্বরে বলে উঠল,
“চুপচাপ বসে থাক।”
ভ্রুঁ কু্ঁচকে সন্দিহান দৃষ্টিতে আর্শি আযরানের দিকে তাকিয়ে আছে মিহির। আর্শির মুখে উদয় হওয়া লজ্জাটাই তার সন্দেহের কারন। আকস্মিক পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মনে মনে কিছুটা হাসল মিহির। পরক্ষণেই নাটকীয় ভঙ্গিয়ে চিল্লিয়ে উঠল,
“বন্ধুউউউ!”
মিহিরের আওয়াজে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে পড়ল আর্শি। নিমিষেই কিছুটা ছিটকে দূরে সরে গেল আযরানের নিকট হতে। আযরান ভ্রুঁ কুঁচকে চাইতেই পাল্টা চোখ রাঙালো। মুহুর্তে আযরানের চক্ষুদ্বয় যেন শীতল হয়ে গেল। কিছু না দৃষ্টি সরিয়ে নিল। হুট করে মিহির ঝাঁপিয়ে পড়ল পাশে বসা প্রহরের ওপর।ধাক্কা খেয়ে প্রায় কাত হয়ে গেল প্রহর। বিরক্ত মুখে মিহিরকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করতেই সে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল প্রহরকে। তারপর করুণ স্বরে চিৎকার করে উঠল,
“দেখ! বন্ধু দেখ! দুই বন্ধু প্রেম করছে! আমরা কি করলাম বল? বুকে ব্যথা বেড়ে গেলো গো।”
আযরান কোনো প্রতিক্রিয়া করল। শুধু চক্ষুদ্বয় নাঁড়িয়ে কিছু একটা ইশারা করল নীলাকে। ব্যাস! সাথে সাথে নীলা গলা চেপে ধরল মিহিরের। অতঃপর মিহিরকে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে উঠল,
“মিহিরের বাচ্চা মিহির। এত কথা কেন বলিস। তোর জন্য আমরা কেউ একটু শান্তিতে থাকতে পারি না। তোকে তো আজকে…”
বন্ধুদের হাসি মজায় কেটে গেল অনেকটা সময়। সকলে ঠিক করল পরশু রওনা হবে রাইসাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। সেখানেই রাইসার বিয়ের পুরো সময়টা উপভোগ করবে। বাকি সকলের মুখভঙ্গি আনন্দিত হলেও আযরান কিছুটা চিন্তিত। একে তো আর্শিকে টাকা হারানোর কথা জানানো হয়নি। তার উপর ওইখানে গেলে আবার খরচ। আর্শির আনন্দিত মুখটা দেখে ভিতরটা অদ্ভুত ব্যথায় চিনচিন করে উঠল আযরানের। সে চায় না আর্শির আনন্দটা মিলিয়ে যাক। তবুও সেও নিরুপায়। আপনমনে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করল আযরান। পরক্ষণেই নিজেকের স্বাভাবিক করে বলে উঠল,
“তোরা যা! আমি আর আর্শি বিয়ের দিন চলে যাবো।”
নিরবতায় ছেঁয়ে গেল পুরো জায়গাটা। আর্শি প্রগাঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আযরানের পানে। হয়তো কিছু একটা আন্দাজ করার চেষ্টা করছে। আযরানের কথা প্রেক্ষিতে রাইসা কিছুটা অবাক হয়ে বলল,
“কিরে আযরান হুট করে কি হলো? আর তোর কি মনে তোদের ছাড়া আমি এনজয় করতে পারবো?”
“পারবি। অন্যরা তো যাচ্ছে।”
“কিন্তু তোরা কেন যাবি না?”
উত্তরের আশায় ঠাঁই বসে রইল আর্শি। ভ্রুঁ যুগল কুঁচকে আছে কিঞ্চিৎ। আকস্মিক তার দিকে চাইল আযরান। দৃষ্টিতে কি ছিল আর্শি জানে না। তবে মন বললো আযরানের সাথে সাঁই দিতে। তাই এবার আর্শি কিছুটা থমথমে স্বরেই বলে উঠল,
“আসলে দোস্ত! আযরান তো নতুন চাকরী নিয়েছে। তাই ওকে এতদিন ছুটি দিবে না।”
“কিন্তু!”
রাইসা কিছু বলতে যাবে এরপূর্বেই ফোঁড়ন কেটে প্রহর বলে উঠল,
“কিন্তু ফিন্তু পরে। মামা উঠ!”
কথাটা বলেই মিহিরকে ইশারা করল। আযরান কিছু বুঝে উঠার আগেই মিহির আর প্রহর মিলে আযরানের দুইপাশে এসে দাঁড়াল। পরক্ষণেই প্রহর আযরানের কাঁধে হাত রেখে আয়েশি ভঙ্গিতে দাঁড়ালো। আযরানের ভ্রুঁ যুগল কুঁচকে গেল মুহুর্তে।
“কি?”
“তোকে একটু দরকার।”
“কিন্তু আমার দরকার নেই।”
কেউ কথা শুনলো না। বরং একপ্রকার টেনে হিঁচড়ে আযরানকে দাঁড় করাল। তাদের কাজের মাঝেই আর্শি বলে উঠল,
”কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস ওকে?”
মিহির দাঁত বের করে হাসল।
“জাতীয় পুরুষ কমিশনের গোপন মিটিং। মেয়েদের প্রবেশ নিষেধ।”
“মিহির!”
আর্শি দাঁতে দাঁত চেপে বলল। দৃষ্টি এমন যেন এক্ষুনি খেয়ে ফেলবে মিহিরকে। মিহির এবার বোকার মতো হেসে বলে উঠল,
“উফফ! এত টেনশন করিস না মা। তোর জামাইরে বেচে-বর্তেই ফিরায়া দিমু।”
আর্শিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মিহির আর প্রহর আযরানকে একপ্রকার টেনে নিয়ে গেল। মাঠে বসে থাকা তিনজন একে অপরের দিকে তাকালো। পরক্ষণেই রাইসা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“এই বয়েজ পার্টির কি যে হয় কে জানে।”
নির্বাক, বিমূঢ় হয়ে বসে রয়েছে আর্শি। আশেপাশে উপস্থিত অনেক মানুষ। ছোটখাটো একটা জটলা বলা চলে। আর্শির চক্ষুদ্বয় একদম অনুভূতিশূন্য। বুকের ভিতর থাকা হৃদপিন্ড নামক যন্ত্রটা যেন স্পন্দন থামিয়ে দিয়েছে। ফাঁকা ঢোক গিলল আর্শি। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কপাল বেঁয়ে অঝরে ঝড়ছে রক্তিম বর্ণের তরল স্রোত। নিজের অশ্রুসিক্ত স্তব্ধ চক্ষুদ্বয় পুনরায় সামনে তাক করল আর্শি। তার থেকে কিছুটা দূরেই পড়ে আছে আযরানের নিথর দেহটা। রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। সেদিকেই তাকিয়েই নেত্রপল্লব ঝাপসা হয়ে এলো তার।
কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২৬
মস্তিষ্কও যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে এগোলো আর্শি। আযরানের রক্তাক্ত মস্তকটা কাঁপা হাতে তুলে নিলো নিজের কোলে। মুহুর্তে রক্তে ভিজে গেল আর্শির হাত দু’টো। আর্শি দম নিতে চাইলো। রক্তভেজা হাত দিয়েই চাপড় দিল আযরানের গালে। বন্ধ হয়ে আসার নিঃশ্বাস ত্যাগ করে কাঁপা গলায় ডেকে উঠল,
“আয..আযরান। এই আযরান। উঠ না রে। দেখ তোর মুটি ডাকছে।
