কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৫
তন্ময়ী তিতিক্ষা
অশ্রুসিক্ত হয়ে আছে মেহরের নেত্রপল্লব। বুকের মাঝে বিরাজ করছে তীব্র হাহাকার। এই হাহাকার মেহরের নিজের জন্য নয়। এই বুকফাঁটা হাহাকার মাঠে বসে চিৎকার করে কাঁদতে থাকা মিহিরের জন্য। গলা ফাঁটিয়ে চিৎকার করে যাচ্ছে ছেলেটা। প্রকৃতির মাঝে বিলিন করে দিচ্ছে নিজের চাপা কষ্ট গুলো। মেহর মুখ হাত চেপে ফুঁপিয়ে উঠল। বিন্দুমাত্র সাহসে কুলালো না সামনে যাওয়ার। গাছের আড়ালে থেকেই চাপা কান্নায় ভেঙে পড়ল মেয়েটা। হুট করে সমস্ত শক্তি দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে থাকলো মিহির। আর্তনাদ মিশ্রিত অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠল,
“আমার সাথে কেন এমন হতে হবে? বন্ধুত্বটা থেকে ভালোবাসায় রূপ নিলে বুঝি এমনই হয়?”
আর কিছু বলতে পারলো না মিহির। আকস্মিক হাতের মাঝে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠল। মাঝে মাঝে অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বলে চলেছে যা মেহরের কানে পৌছালো না। অপলক চেয়ে রইল মেহর। চেয়ে রইলো নিনির্মেষ দৃষ্টি ফেলে। ব্যথিত নয়নজোড়া মিহিরের ব্যথায় ব্যথিত। কিন্তু মিহিরের কাছে যেতে না পারার আফসোসও যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তাকে। একটু এগিয়ে গিয়ে ভরসা দিলে লোকটা রাগ করবে? হয়তো করবে! আর সাহসে কুলালো না মেহরের। অন্তরস্থ পীড়ন নিয়ে চেয়ে রইলো সামনে থাকা মানুষটার পানে। নেত্রপল্লব বেয়ে টুপটুপ করে গড়িয়ে চলেছে অশ্রুবিন্দু। মিহিরকে দেখে মেহরের মনে একটা কথাই বাজতে থাকল,
“আমরা যাদের ভালোবাসি..তারা কেন আমাদের ভালোবাসে না?”
মুখে একগাদা হলুদ নিয়ে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে রাইসা। মুখে লেপ্টে আছে দুঃখ দুঃখ ভাব। এক তো আজ তার গায়ে হলুদের আগের এমন ঝড়। তার উপর একটা বন্ধুরও দেখা নেই। বন্ধুদের কথা মনে হতেই একরাশ মন খারাপ ছুঁয়ে গেল রাইসাকে। মন কুঠুরিতে অভিমান এসে ভীরল বন্ধুদের প্রতি। তার এমন স্পেশাল দিনে কোথায় তারা? কোথা থেকে প্রহর এসে দুঃখের সাগরে আরও দুই ফোঁটা দুঃখ ঢেলে দিল। হাত ভর্তি হলুদ এনে লেপ্টে দিলো রাইসার পুরো মুখে। ভ্যাবলার মতো কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো রাইসা। একে তো মনের দুঃখ তার উপর প্রহরের করা এই কান্ড! নিমিষেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল মেয়েটা। রাইসাকে ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠতে দেখে প্রচন্ড অবাক হলো প্রহর। কন্দনরত রাইসাকে দেখে যেন আকাশ থেকে পড়ল সে। একটু হলুদই তো মাখিয়েছে। এর জন্য এভাবে কাঁদে কে? তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এলো প্রহর। দু’হাতের সাহায্যে হলুদ মুছে দিতে দিতে বলে উঠল,
“কাঁদিস না মেরি মা! আমার ভুল হইছে। আগে জানলে জীবনেও হলুদ দিতাম না। আরে বেডি চুপ কর না বাল!”
রাইসা থামল না বরং আওয়াজ জেনে বাড়ল। আশেপাশের সকলে অবাক হলো বিয়ের কনেকে এভাবে কাঁদতে দেখে। প্রহর যেন পড়ল বিপাকে। এবার টিস্যু নিয়ে ঘষতে ঘষতে রাইসার মুখের মেকআপ উঠিয়ে ফেলল। প্রহরের কাণ্ড দেখে আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন হতবাক হয়ে গেল। প্রহরের এক কাজিন কিছুটা উচ্চস্বরে বলে উঠল,
“প্রহর ভাই মুখ মুছতে যেয়ে মেকআপই তো তুলে ফেললে।”
কথাটা কানে যেতেই প্রহর থমকে গেল। টিস্যু হাতে নিয়ে কয়েকবার পলক ফেলল। চক্ষুদ্বয় পিটপিট করল কয়েকবার। বাঘিনীর মতো চেয়ে আছে রাইসা। এক্ষুনি পারলে গিলে ফেলবে প্রহরকে। প্রহর সূক্ষ্ম একটা ঢোক গিলে কিছু বলতে যাবে এর পূর্বেই রাইসা চেঁচিয়ে উঠল,
“তোরা সবগুলা হারামি। আমার বন্ধু নামের শত্রু। তোদের সবগুলাকে আমি ঝাটাপিটা করবো আমার হলুদ বরবাদ করার জন্য।”
তড়িৎ বেগে লাফিয়ে উঠল প্রহর। আর এক মুহুর্তও এখানে থাকলে সিউর মারা পড়বে। যেই ভাবা সেই কাজ একমূহুর্ত বিলম্ব না করে দৌড়ে পালালো স্টেজ থেকে। যাওয়ার পূর্বে রাইসার হাতে গুঁজে দিল কাঠগোলাপের একটা গাঁজরা। ভ্রুঁ যুগল কুঁচকে গেল রাইসার। কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো গাঁজরাটার দিকে। তারপর কিছু না ভেবেই হাতের প্যাঁচিয়ে নিল সেটা।
আর্শি বারান্দার দরজা লাগিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে আধঘন্টা যাবত। লজ্জায় পুরো মুখশ্রী লালাভ আভায় ছেয়ে আছে। কি থেকে কি করবে ভেবে উঠতে পারছে না আর্শি। আর না পারছে আযরানের মুখোমুখি হতে। ইশশ! বড়ই বিভ্রান্ত, লজ্জাজনক বিষয়। বাইরের যাওয়ার জন্য মন তাগিদ দিচ্ছে কিন্তু লজ্জায় – সংকোচে ঘামটি মেরে বসে রইল আর্শি। বাইরে থেকে হুট করে নীলার কন্ঠ আর্শির কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই দরজার খুলে উঁকি দিল আর্শি। সামনে নীলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চক্ষুদ্বয় নামিয়ে নিল সংকোচে। সবটাই লক্ষ্য করল নীলা। ভ্রুঁ নাঁচিয়ে দুষ্টু হাসি ফুঁটিয়ে চেয়ে রইল আর্শির পানে। আর্শির পানে তাকিয়ে দু্ষ্টুমির স্বরে বলে উঠল,
“কি দোস্ত দিনকাল ভালো?”
আর্শি আড়চোখে চাইল। কিছু বলল না শুধু চক্ষুদ্বয় রাঙিয়ে শাশালো নীলাকে। পরক্ষণেই আরেকটু উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করল রুমের ভিতর। তখনই নীলা হামি তুলে বলল,
“আয় আয় বেরিয়ে আয়। তোর জামাই নাই। আমাকে কল দিয়ে এনে উধাও হয়ে গেছে।”
অভ্যন্তর ভেদ করে স্বস্থির নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো আর্শির। নীলার দিকে আরেকবার চোরা চাহনি নিক্ষেপ করে ধীর কদমে বেরিয়ে এলো বারান্দা থেকে। নীলা ঠোঁট টিপে হাসল। হাতে থাকা শাড়িটা বাঁড়িয়ে দিল আর্শির দিকে। টিটকারি করে বলে উঠল,
“নিন ভাবী আপনার জন্য শাড়ি। মানুষ কম আছে চলুন কাজ সেরে ফেলা যাক।”
থতমত খেয়ে গেল আর্শি। এই ফাজিল মেয়ে যে ইচ্ছে করে মজা উড়াচ্ছে বুঝতে বাকি নেই তার। কিভাবে লজ্জা দিয়ে চলেছে মেয়েটা। কেন যে বিয়ে করল সে? না বিয়ে হতো আর না এত এত লজ্জা পেতে হতো। চোখ বুঁজে ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলল আর্শি। এই বদমাশকে পরে দেখে নিবে সে। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতি থেকে বের হবে কি করে? এইটা ভাবতেই মুখশ্রী অসহায়ের মত হয়ে গেল আর্শির। ইতস্তত করে তাকালো নীলার দিকে। মৃদুস্বরে বলে উঠল,
“হেল্প কর বান্ধুবী।”
আর্শির মনের অবস্থা বুঝতে ফেলে ঠোঁট কাঁমড়ে হাসল নীলা। মেয়েটা অকারণেই হেসে চলেছে। যা আর্শিকে লজ্জায় ফেলছে বারবার। অসভ্য মেয়ে! হুট করে নীলা বেরিয়ে গেল। বোকার মতো তার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো আর্শি। কোথায় হেল্প করতে বলল আর এই মেয়ে কিনা চলেই গেল? মুখশ্রী আঁধারে ছেয়ে গেল আর্শির। অসহায়ের মতো চেয়ে রইলো দরজার পানে। কিছুক্ষণ পরেই ফিরে এলো নীলা। হাতে বেশখানিকটা হলুদবাটা। হুট করে এগিয়ে এসে আর্শির শাড়িসহ পুরো শরীর মাখামাখি করে ফেলল হলুদে। আর্শি কিংকর্তব্যবিমুঢ়। কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে বলে উঠল,
“কি করছিস?”
নীলা দাঁত বের করে হাসল। তারপর দুই হাত কোমড়ে রেখে ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,
“তোরে বাঁচাচ্ছি।”
“মানে?”
“মানে খুবই সিম্পল। এখন কেউ যদি জিজ্ঞেস করে কেন শাড়ির এই অবস্থা। কেন ফ্রেশ হতে যাচ্ছিস? তখন বলবি গায়ে হলুদ লেগে গেছে। তাই ফ্রেশ হতে যাচ্ছি। গ্রামের বাড়ির এই বিশাল গোয়েন্দা বাহিনীকে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না।”
কথাটা বলেই আবারও খিলখিল করে হেসে উঠল নীলা। আর্শি হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইল। তারপর নিজের শাড়ির দিকে তাকাতেই মাথায় হাত চলে গেল। হলুদের দাগে প্রায় পুরো শাড়িটাই নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ইশশ! এত সুন্দর শাড়িটা শেষ কিনা নষ্ট হলো। বড্ড মায়া হলো আর্শির। কিন্তু আর কোনো উপায় না দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আপনমনে।
বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে মিহির। রাতের আকাশ অন্ধকারে ঢেকে থাকলেও আজকে পুকুরের পাশসহ চারপাশ আলোকিত। যতই হোক বাড়ির আদরের মেয়ের গায়ে হলুদ বলে কথা। কিছুক্ষণ পূর্বেই মিহির নিজেকে স্বাভাবিক করেছে বহুকষ্টে। কিন্তু অভ্যন্তরে চলমান ঝড় থেমে যায়নি। বরং কিছুক্ষণ পরপরই যন্ত্রণারা এসে হানা দিচ্ছে। জ্বলে পুড়ে শেষ করে দিতে চাইছে তাকে। ভুলটা হয়তো তারই ছিল। নীলা তাকে বন্ধু ভেবে এসেছে এতগুলো বছর আর সে কি করলো? বন্ধুত্ব ভুলে ভালোবেসে ফেলল? ছিহ! নীলা যদি কোনোভাবে জেনে গিয়ে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় তখন? নাহ! সে কখনো জানতেই দিবে না কাউকে তার অনুভুতি সম্পর্কে। কোথা থেকে হুট করে আযরানকে টানতে টানতে নিয়ে আসলো প্রহর। মিহির সোজা হয়ে দাঁড়ালো। বন্ধুদের দেখে যেন মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে গেল সবকিছু। নিজেও ছুটে গিয়ে একপাশ থেকে ঝাপটে ধরল আযরানকে। আযরান ভ্রুঁ কুঁচকে নিজেকে ছাড়ানো চেষ্টা চালাচ্ছে অনবরত। এবার ধমক দেওয়া কন্ঠে বলে উঠল,
“ছাড়! কি করছিস তোরা।”
“বাসর মোবারক দোস্ত।”
কথাটা বলেই দাঁত ক্যালালো মিহির। আযরান থেমে গেল সহসা। আঁড়চোখে তাকিয়ে চক্ষুদ্বয় ফিরিয়ে নিল সাথে সাথে। বিরবির করে দু’টোকে গালি দিতে ভুলল না। পুকুরের একদম শেষ সিঁড়িতে এসে থেমে গেল মিহির আর প্রহর। পরক্ষণেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে একত্রে চিল্লিয়ে উঠল,
“বিসমিল্লাহ!”
ঝপাআআঙ!”
পুকুরের পানি ছিটকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। পানি ফুঁড়ে মাথা বের করল আযরান। চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। চোখ মুখে চরম বিস্ময়। অবিশ্বাস্য চাহনি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে রইলো বন্ধুদের দিকে। হুট করে দুজনেই ঝাপিয়ে পড়ল পানিতে। পুকুরের নিকটে থাকা কিছু আত্মীয় অবাক হলো। একজন ভদ্রমহিলা তো প্রশ্ন করেই বসল,
“তোমরা এমন ধাপাধাপি করো ক্যারে?”
“অনেক গরম পড়ছে তো চাচী।”
“গরম? কই গরম?”
মহিলা যেন আকাশ থেকে পড়ল প্রহরের কথায়। মিহির বিরক্ত হলো প্রচুর। এত প্রশ্নের কি আছে? কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। পরক্ষণেই ঠোঁট কোণে হাসি ফুঁটিয়ে বলল,
“শরীরের কারেন্টের গরম চাচী। আপনি বুঝবেন না।”
মহিলা কি বুঝলো কে জানে। কিন্তু নাক মুখ কুঁচকে তাকিয়ে রইলো মিহিরের দিকে। বিরবির করে কিছু একটা বলেই মুখ ঘুরিয়ে হাঁটা ধরল সামনের দিকে। তৎক্ষনাৎ আযরানের দিকে ফিরল মিহির আর প্রহর। দু’জনের মুখেই ফিচেল হাসি। আযরান ভ্রুঁ কুঁচকাল। যদিও বুঝতে পেরেছে দুই বাঁদর তাকে সাহায্যের জন্যই পুকুরে ফেলেছে। কিন্তু মিহির আর প্রহরকে এভাবে হাসতে দেখে এবার নিজেও একটু থতমত খেল আযরান। তবে উপরে নিজের স্বাভাবিক রেখে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। মিহির এগিয়ে এলো। হুট করে কাঁধে হাত রেখে ভ্যাবলাকান্তের মতো হাসল। ভ্রুঁ নাচিয়ে বলল,
“দোস্ত! শুনলাম আর্শি নাকি তোর ইজ্জত লুটে নিয়েছে। সত্যি নাকি?”
আযরান গলা খাঁকারি দিল। রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“উল্টো পাল্টা কথা বলবি তো মাইর খাবি। চল হলুদের অনুষ্ঠানে যেতে হবে।”
“আরে যাবো তো। আগে একটু গল্প সল্প করি। আর্শি কাজটা একদম ঠিক করলো না। কতটা সহজ সরল ভেবেছিলাম মেয়েটাকে।”
কথাটা বলেই বুকে হাত চেপে হাহাকার করে উঠল প্রহর। তার সঙ্গে যোগ দিলো মিহির নিজেও। দু’জনের নাটকীয় ভঙ্গিতে আযরান তেঁতে উঠল। ঠাস করে থাবা বসালো দু’টোর পিঠে।থাবা খেয়ে একসাথে “উফফ!” বলে উঠল মিহির আর প্রহর। কিন্তু দুইজনের মুখের ফিচেল হাসি বিন্দুমাত্র কমল না। প্রহর নাটকীয় ভঙ্গিতে নিজের পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,
“দেখছিস মিহির? সত্য কথা বললেই মানুষ মারধর করে।”
মিহির সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আফসোসের স্বরে বলে উঠল,
“ভালোবাসার পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর রে বন্ধু।”
গায়ে হলুদের আসর প্রায় জমে উঠেছে। আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ। তখন কান্না করলেও রাইসার মুখ থেকে যে হাসি সরছেই না। হাসি, কোলাহলে মুখর পুরো বাড়ি। স্টেজের একপাশে দাঁড়িয়ে আর্শি। মুখে লাজুক ভাব বিদ্যমান। লজ্জায় মাথা নিচু করেই একপ্রকার হাসফাঁস করছে। তার হাসফাঁস করার একমাত্র কারন কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আযরান। ছেলেটা সেই কখন থেকে তারদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। চোখের পলকও যেন ফেলছে না। আর্শির অবস্থা আরও করুণ হলো। নিজেকে এখন অসহায় ব্যতীত আর কিছুই মনে হচ্ছে না। আঁখিদ্বয় উঁচিয়ে একবার আযরানের দিকে তাকিয়েই তড়িঘড়ি করে দৃষ্টি সরিয়ে নিল আর্শি। মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল কানদুটো। আযরান ভ্রু তুলল। আর্শি আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়ালো না। ঘুরে গিয়ে মেহরের পাশে গিয়ে নিজেকে আড়াল করে দাঁড়াল। মেহর চমকে পাশ ফিরল। আর্শিকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। হুট করেই কিছু একটা লক্ষ্য করে মেহর বলে উঠল,
“আপু তোমার গলায় লাল লাল কি হয়েছে?”
“হুহহ?”
একদম চুপসে গেল আর্শি। লজ্জায় উদ্ধিগ্ন হয়ে উঠল নিমিষেই। কোনোপ্রকার উত্তর না দিয়ে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে সরে গেল সেই জায়গা থেকে। মেহর বুঝলো না। কীয়ৎক্ষণ কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইল। আকস্মিক নিজের বোকামি বুঝতে পেরে মুখে হাত চেপে ধরল মেহর। পরক্ষণেই চুল টেনে চোখ খিঁচে দাঁতে দাঁত চেপে নিজের সাথেই বলে উঠল,
কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৪
“বলদ মেহরের বাচ্চা। তুই কি ছোট? ইশশ! আপুকেও লজ্জায় ফেললি সাথে নিজেও পেলি। ছিঃ ছিঃ।”
“লজ্জা পেলে তো আপনাকে দারুন লাগে।”
পুরুষালি কন্ঠস্বর কর্ণে প্রবেশ করতেই ধপ করে চোখ মেলল মেহর। কন্ঠটা বেশ অপরিচিত। অজ্ঞাত ব্যাক্তিটাকে দেখার শরীর হেলিয়ে মাথা ঘুরিয়ে পিছু ঘুরলো সে।
