Home কার্নিশে আলতা মাখানো কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৭

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৭

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৭
তন্ময়ী তিতিক্ষা

নিস্তব্ধ, নির্বিকার চারপাশ। প্রকৃতির স্নিগ্ধ হাওয়া আপন গতিতে বয়ে চলেছে ধরনীতে। রাতের এই শীতল বাতাসে ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে আর্শির দেহ। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে একটু স্বস্তি পেতেই ছাদে এসেছে আর্শি। ছাদে এসে দাঁড়াতেই সারাদিনের চিন্তারা এসে ভীর জমালো মস্তিষ্কে। আজকে আযরানের থেকে অনেকটাই পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে সে। লজ্জা খুব একটা সামনে যেতে পারেনি। আযরানের কারনেই রাইসা আর প্রহরের বিয়েটা সম্পূর্ণ হয়েছে। তখন খবর আসার পরেই বাড়ির সকলে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। একটা মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ঠিক তখনই আযরান প্রহরের সাথে রাইসার বিয়ের কথা তুলে। রাইসা প্রহরের মামাতো বোন হওয়ার দরুন কেউই আর দ্বিমত করেনি। তবে বেঁকে বসেছিল প্রহর নিজেই। সে কিছুতেই রাইসাকে বিয়ে করবে কিন্তু শেষমেষ সকলের চাপে পড়ে রাইসাকেই বিয়ে করতে হয়েছে প্রহরের। আনমনে হাসি ছড়িয়ে পড়ল আর্শির ওষ্ঠ জুঁড়ে। সে জানে প্রহর আর রাইসা খুব সুখী হবে। আর সে চায়ও এমনটাই হোক। অভ্যন্তর ভেদ করে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো আর্শি। আকাশের পানে তাকিয়ে বড় একটা শ্বাস টেনে নিতেই পিছন থেকে শুনতে পেলো আযরানের মোহনীয় কন্ঠস্বর,

“এখানে এসে লুকিয়েছিস তাহলে?”
আর্শি চমকাল। তড়িৎ গতিতে পিছু ফিরে চাইলো। পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আযরান। চক্ষুদ্বয় ছোট ছোট করে তারই দিকে তাকিয়ে আছে। সূক্ষ্ম একটা ঢোক গিলল আর্শি। সারাদিন পালিয়ে বেড়িয়েছে। এখন যদি এটা নিয়ে আযরান কিছু বলে তখন? অধরযুগল ভিজিয়ে আর্শি কিছুটা থেমে থেমে বলে উঠল,
“লুকিয়ে কেন থাকবো? আ..আমি তো শান্তি খুঁজছিলাম।”
“তাহলে কি আমি চলে যাবো?”
“আমি কি বলেছি যেতে?”
আযরান দু’কদম এগোলো। ভরকে গেল আর্শি। আযরান এগোতে এগোতে বললো,
“থাকতেও তো বলিস নি। মনে হলো আমি আসায় বিরক্ত হলি?”
ধ্বক করে উঠল আর্শির অভ্যন্তর। ছটফট করে উঠল মন। তড়িঘড়ি করে আযরানের পানে চাইলো। চোখে চোখ স্থির করে অস্থির কন্ঠে আওড়ালো,

“চোখে হারাচ্ছিলাম তো। বিরক্ত কেন হবো?”
আযরান গভীর দৃষ্টিতে চাইল। শুধুই কি মেয়েদের হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে প্রিয় মানুষটার সান্নিধ্যে? উঁহু! ছেলেদেরও হয়। তার প্রমাণ আযরান নিজেই। আর্শির এই সামান্য বাক্যটুকু তাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। হাত বাড়িয়ে অতি যত্ন সহকারে আর্শিকে কাছে টেনে নিল আযরান। অপলক দৃষ্টিতে আর্শি তাকিয়ে রইল আযরানের পানে। খেয়াল হলো মোহমুগ্ধতায় আঁটকা পরে কতটা বেহায়া হয়েছে সে। হলেও বা কি? সামনে দাঁড়ানো সুর্দশন পুরষটা তো তারই স্বামী। নত মস্তকে কানের লতিতে ভেঁজা ওষ্ঠের স্পর্শ অনুভব হতেই বিমূঢ় হয়ে গেল আর্শি। কর্ণের অতি নিকট হতে শুনতে পেল আযরানের ফিচেল স্বর,
“কি বললি আরেকবার বল।”
“কই কি বললাম?”
“বললি তো মিস করেছিস।”
আর্শি সচকিত নয়নে তাকালো। ধরা পড়ে যাওয়া দৃষ্টিতে এদিক সেদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে বলল,
“কখন বললাম?”
“বলিস নি?”
কথাটা বলেই কোঁমড় আঁকড়ে আরও গভীরভাবে চেপে ধরল আর্শিকে। লজ্জায় আরও জড়োসড়ো হয়ে পড়ল আর্শি। পুরো শরীর শিরশির করছে। আযরানের হাতের মাঝে থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আমতা আমতা করে বলল,

“না..নাহ! ভুল শুনেছিস।”
আযরান আর কথা বাড়ালো না। প্রগাঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আর্শির পানে। চোখ দু’টো জুঁড়িয়ে গেল মুগ্ধতায়। আর্শির ভিতরটা কাঁপছে। গলায় শুষ্কতা অনুভব করল প্রচন্ডভাবে। আযরান আর্শির চেহেরায় চক্ষুদ্বয় বুলিয়ে স্মিত হাসল। আর্শিকে ঘুড়িয়ে রেলিং এ চেপে ধরে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে ফেলল নিমিষেই। আযরান কিছুটা এগোতেই শীতল স্রোত বয়ে গেল আর্শির শরীর জুড়ে। মিষ্টি একটা ঘ্রাণ এসে ঠেকলো নাসারন্ধ্রে! এটা কি আযরানের শরীরের ঘ্রাণ? আযরান ঝুঁকে বলল,
“একটা কথা বলব?”
“হুম।”
আঁখিদ্বয় খিঁচে দাঁড়িয়ে আছে আর্শি। লজ্জায় বক্ষস্পন্দন বেঁড়ে গেছে হাজারগুণ। কালকের পর থেকেই আযরানের মুখোমুখি হতে ভারী লজ্জা লাগছে তার। আযরান আরেকটু কাছে টেনে নিল আর্শিকে। পুরো মুখশ্রীতে চক্ষুদ্বয় বুলিয়ে লহুস্বরে বলে উঠল,

“নতুন করে আবার তোর প্রেমে পড়েছি মুটি। এই শাড়িটায় তোর সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেঁড়ে গেছে। চোখ ফিরানো দায়। তোকে কে বলেছে এত সুন্দর হতে?”
আর্শি লজ্জায় আরও জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়ালো। আযরানের কথায় দ্বিগুণ রক্তিম হলো গাল। প্রসঙ্গ পালটাতে আমতা আমতা করে বলল,
“তোর মনে হয় না দিন দিন তুই খুব অসভ্য হয়ে যাচ্ছিস?”
“আরও অসভ্য হওয়া বাকি।”
আর্শি কিংকর্তব্যবিমুঢ়। সচকিত দৃষ্টিতে চাইল আযরানের পানে। পরক্ষণেই মনে মনে আযরানকে খুব করে বকলো। অসভ্য ছেলে! যখন দেখো তাকে লজ্জা দিতে থাকে। আর্শির ভাবনার মাঝেই আযরান আর্শির চুলের দিকে তাকিয়ে বলল,

“তিনটা ফুল ছিলো না? এখন দুইটা কেন?”
তৎক্ষনাৎ খোপায় হাত দিলো আর্শি। দু’টো ফুল দেখে কিছুটা অবাক হলো বটে। কি ব্যাপার! আরেকটা ফুল কি কোথাও পরে গেল নাকি? নিমিষেই মনটা খারাপ হয়ে গেল তার। অনেকটা কষ্ট করেই ফুলগুলো জোগাড় করেছিল আর্শি। আযরান নির্লিপ্তভাবে তাকিয়ে রইলো আর্শি দিকে। আর্শির বদলে যাওয়া মুখশ্রী নজর এড়ায়নি। হুট করে পকেট থেকে কিছু একটা বের করল আযরান। তা আর্শির সামনে ধরে বলে উঠল,
“এটা খুঁজছিস।”
মাথা উঁচিয়ে চাইল আর্শি। মুহুর্তে অবাকের শীর্ষে পৌছে গেল। পরক্ষণেই ভ্রুঁ কুঁচকে চক্ষুদ্বয় ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইলো আযরানের পানে। সন্দিহান কন্ঠে বললো,,
“তুই নিয়েছিস তাই না?”
“হুহহ তো?”
আড়চোখে তাকালো আর্শি। অনেকটা রাত হয়েছে। রাতের আঁধারে আযরানের মুখশ্রী আর্শির চক্ষে জ্বলজ্বল করছে। আর্শি চোখ দু’টো ছোট ছোট করে বলল,
“চোর একটা। হুহহ!”
কথাটা বলেই ভেংচি কেটে মুখ ঘুরালো সে। সহসা আর্শির গাল চেপে নিজের দিকে ফিরালো আযরান। তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল,
“বড় চোর তো তুই? আমার মন চুরি করে এখনো ফেরত দিস নি।”
“তুই চুরি করেছিস। তুই অপরাধী।”
কথাটা বলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল আর্শি। লজ্জালু হাসি ফুঁটলো ঠোঁটের কোণে। মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে হাসল সে, যা আযরান চক্ষুগোচর হলো। আযরান এগিয়ে এলো। হাতে থাকা গোলাপটা স্বযত্নে আর্শির চুলে গুঁজে দিতে দিতে বলল,

“আমি অপরাধী?”
“অবশ্যই! আর এজন্য তোর শাস্তি পেতে হবে।”
“কি শাস্তি?”
“এখানে যতোদিন আছি তোর সাথে কথা বন্ধ। আমার থেকে দূরে দূরে থাকবি। যা দূরে যা!”
কোনো জবাব দিলো না আযরান। আর্শিকে টেনে কাছে নিয়ে এসে মুখ গুঁজলো আর্শির গলায়। আকস্মিকতায় শিউরে উঠল আর্শি। খাঁমচে ধরল আযরানের হাত। আযরানের দেহের উত্তাপে আর্শির দেহ ঘামতে লাগলো ক্রমাগত। আযরান দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস টেনে নিলো নিজের মাঝে। মোহনীয় কন্ঠে বিরবির করে বললো,
“এতো বড় শাস্তি? মেরে ফেলতে চাস নাকি?”

ছাদের দরজার কাছে নেত্রপল্লব বড় বড় করে তাকিয়ে আছে মেহর। তার থেকে কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে আযরান আর আর্শি। তাদের এমন রোমান্টিক মুহুর্তে এসে উপস্থিত হবে কল্পনাতেও ছিল না তার। হুট করে সামনে দাঁড়ানো দম্পতির এমন ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের সাক্ষী হয়ে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লো মেহর। সে মোটেও ইচ্ছে করে দেখেনি। বরং আর্শিদের ডাকতে এসেই এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পরে বোধবুদ্ধি হারিয়ে বসেছে। ড্যাবড্যাব করে সামনের দিকেই নজর স্থির করে আছে মেহর। কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। সে কি তাদের ডাকবে? নাকি চলে যাবে? আকস্মিক হাতে প্রচন্ড টান অনুভর করল মেহর। হ্যাঁচকা টানে কেউ একজন তাকে সরিয়ে আনলো দরজার কাছ থেকে। বুক ধ্বক করে উঠল মেহরের। ভয়ে কেঁপে উঠল সমস্ত অঙ্গ। ঠিক তখনই কর্ণে প্রবেশ করল কারো ফিসফিসে কন্ঠস্বর,
“এইটুকুনি মেয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে অন্যদের প্রেম দেখছো লজ্জা করে না?”
কথাটা হুরহুর করে মেহরের কর্ণে প্রবেশ করতেই হৃদয়ে গিয়ে কম্পন সৃষ্টি করল। মেহরের মনে হলো কেউ তার কর্ণে জ্বলন্ত লাভা ঢেলে দিয়েছে। এত নির্লজ্জ সে কি করে হলো? এতক্ষণ বলদের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এইসব দেখছিলো সে? ছিহ! কি লজ্জাজনক ব্যাপার! লজ্জায় চুপসে গেল মেয়েটা। মিহির খেয়াল করল মেহরের লজ্জায় রাখা মুখটা। মেহরকে অপ্রস্তুত হতে দেখে হুট করে মৃদুহাসি ছড়িয়ে পড়ল ঠোঁটজুঁড়ে। পরক্ষণেই হাসিটা সরিয়ে কিছুটা গম্ভীরস্বরে বললো,

“এখানে দাঁড়িয়ে ছিল কেন?”
মেহর আঁখিদ্বয় খিঁচে ফেলল। লজ্জায় মাটিতে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে একদম। না জানি মিহির কি ভেবে বসে তাকে। মিহির তাক করল মেহরের দিকে। অল্প গভীর হলো দৃষ্টি। মেহরের পুরো মুখে চক্ষুদ্বয় বুলাতেই নজর আঁটকালো মেহরের চোখের কোণে থাকা তিলটার দিকে। খানিকটা সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করল সেটা। বেখেয়ালে কখন অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছে সেদিকে খেয়াল নেই মিহিরের। চারিদিকে নিস্তব্ধতা অনুভব করে পলক ঝাপটিয়ে ধীরে ধীরে চক্ষুদ্বয় মেলে চাইলো মেহর। মিহিরকে এতটা কাছে দেখে মুহুর্তে মেহরের দুনিয়া থমকে গেল। নিদারুণভাবে কেঁপে উঠল বক্ষস্থল। ছোট্ট হৃদপিন্ডের বেসামাল স্পন্দন নিজের কান পর্যন্ত পৌছাচ্ছে। ঘাবড়ে গেল মেহর। অস্ফুটস্বরে আওড়ালো,

“মি..মিহির ভাই।”
চমকে উঠল মিহির। নিজেকে এতটা কাছাকাছি আবিষ্কার করে থমকে গেল। সে তো শুধু তিলটাই দেখতে গিয়েছিল। কিন্তু এতটা কাছে কখন গেল? নিজেকে ধিক্কার জানিয়ে ছিটকে সরে এলো মিহির। এক মুহুর্তও দাঁড়ালো সেখানে। বড়বড় পা ফেলে জায়গা প্রস্থার করল। মেহর তখনও নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। বুকের মাঝে হাত চেপে বুঝার চেষ্টা চালালো। হার্টবিট বেড়ে গেছে বহুগুণ। আরেকটু হলে নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতো। সূক্ষ্ম একটা ঢোক গিলল মেহর। মনে হুট করে প্রজাপতি উড়তে শুরু করল। ঠোঁটের কোণে ফুঁটলো মিষ্টি হাসি। কল্পনার জগতে বিচরণ করতে করতে কল্পনা করতে ব্যস্ত হলো। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ধাতস্থ কন্ঠে আনমনে বলে উঠল,
“কারো না কারো তো হইবাই। আমার হলে ক্ষতি কি? আমার হইয়ো….?”

”তোর যৌবনের কসম লাগে বোইন। কাছে আসিস না।”
কথাটা বলেই আরও চেপে গেল প্রহর। হাঁটু কাঁপছে থরথর করে। রাইসা যত কাছে আসছে বেচারার কাপাকাপি তত বেঁড়ে যাচ্ছে। হুট করে সেরওয়ানির কলার চেপে ধরল রাইসা। রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল প্রহরের দিকে। কলার ধরে টেনে নিয়ে ফেলল বিছানার ওপর। প্রহর হতভম্ব। এই বউ না অন্যকিছু? চক্ষুদ্বয় পিটপিট করে একটা শুকনো ঢোক গিলল প্রহর। রাইসাকে লেহেঙ্গার ওরনা কোমড়ে গুঁজতে দেখে একপ্রকার লাফিয়ে উঠল সে। ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলে উঠল,
“কি করতে চাইছোস? কোমরে ওড়না বাঁধোস কেন?”
“আদর করবো তাই।”

কথাটা বলতে দেরি রাইসার এগিয়ে আসতে দেরি হলো না। এগিয়ে এসেই তৎক্ষনাৎ দু’ঘা বসিয়ে দিলো প্রহরের পিঠে। ব্যথার কুঁকড়ে উঠল প্রহর। হতবাক হয়ে তাকিয়ে পিঠ ঢলতে ঢলতে বলল,
“এত শক্তি! মাগো আমার পিঠ শেষ।”
কথার মাঝে আরও কয়েকটা পড়লো গাঁয়ে। বেচারা না পারছে সহ্য করতে আর না পারছে বাঁধা দিতে। অসহায় চোখে তাকিয়ে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করল। ঠিক তখনই স্বশব্দে বেজে উঠল প্রহরের ফোনটা। কোনোমতে হাতিয়ে কল রিসিভ করতেই ওইপাশ থেকে ভেসে এলো মিহিরের দুষ্টু স্বর,

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৬

“কিরে বেডা! বাসর কেমন চলে?”
প্রহরের অসহায় দৃষ্টি আরও করুণ হলো। বন্ধুর কন্ঠ শুনে যেন বুকফাঁটা আর্তনাদ বেরিয়ে আসতে চাইছে। বুকে হাত চেঁপে তীব্র কষ্ট নিয়ে বলে উঠল,
“বাসররাতে নাকি মানুষ বিড়াল মারে। কিন্তু বিড়াল আমারে মারে দোস্ত। আমি ফাঁইসা গেছি মাইনকার চিপায়। বাঁচা আমারে প্লিজ।”

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here